গনতন্ত্র--ধর্ম নিরপেক্ষতা____রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম!------ __________________________________________ __________________________________________ মহান মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গিকার পুরনে "মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ" সরকার সমুহ অঙ্গিকারাবদ্ধ থাকার কথা ছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যানে অনেক কিছু করার চাইতে তাঁদের ত্যাগ, শহীদি রাস্তা বেচে নেয়ার কারন, আপামর জনগনের মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে অসম যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার পিছনের অঙ্গিকার ইত্যাদি আশা আখাংকা পুরন অগ্রাধিকার পাওয়া উচিৎ ছিল। দু:খ্যজনক হলেও সত্য '৭৫এর পট পরিবর্তনের পর ক্ষমতা দখলকারি শাষকবর্গ বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ধ্যান-ধারনায় নিয়ে যায়। যে কারনে পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারন করেছে বাঙ্গালী-সেই কারনের গর্তেই ফেলে দেয় বাংলাদেশকে। শাষক শ্রনীর মধ্যে একজন মেজর জিয়া প্রথম উদ্যোগক্তা এবং অন্যতম। রাজাকার পুর্নবাসনের, সংবিধান সংশোধনের-সকল প্রক্রিয়া তাঁর হাতেই সমাপ্ত করেন তিনি। অথছ তাঁর দল তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে স্বাধীনতার ঘোষক প্রতিষ্ঠায় আপ্রান চেষ্টায় ব্রতি হয়। তিনি নিজেই তাঁর প্রকাশিত বইয়ে উল্লেখ করে গেছেন বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষন শুনেই আমরা স্বাধীনতার রেড সিগন্যাল পেয়ে যাই। সে যাই হোক-মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এক অঙ্গিকার ছিল ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। মুক্তিযুদ্ধে জয়ী হলে নতুন দেশ বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয় হয়,বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে স্বিকৃতি লাভ করে। জাতির জনক পাকিস্তানের জেল খানা থেকে মুক্ত হয়ে নতুন বাংলাদেশের সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহন করেন। বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গিকারকে প্রাধান্য দিয়ে সর্বাজ্ঞে দেশ পরিচালনায় লিখিত সংবিধান তৈরী করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। অখন্ড পাকিস্তানের ২৩ বছর শাষনতন্ত্র ছাড়াই দেশ পরিচালনা করা হয়েছিল। শুধু ধর্মকে ব্যবহার করেছিল-পুর্ব বাংলাকে শাষন শোষন করার উদ্দেশ্যে।অবশ্য পাকিস্তানের উৎপত্তিও হয়েছিল ধর্মকে প্রাধান্য দিয়ে। অথছ তাঁরা অর্থাৎ শাষক শ্রেনীর কেহই ব্যাক্তি জীবনে ধর্ম পালন করতেন না,পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন। সে যাহাই হোক মুল কথায় আসা যাক--জাতির জজনক বঙ্গবন্ধু তাঁর সরকারের রচিত সংবিধানে চার মুলনীতির মধ্যে অন্যতম নীতি ধর্ম নিরপেক্ষতা সংবিধানে সংযোজন করে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন।আপামর জনগনের আশা-আখাংকাকে মুল্য দিয়েছিলেন। তাঁর পরবর্তি সরকার গুলী সংবিধান থেকে নীতিটি সংশোধন করেন।সেনাশাষক এরশাদ তাঁর বিরুদ্ধে গন আন্দোলন তুঙ্গে গেলে সাম্প্রদায়ীক গোষ্টি সমুহকে হাতে নেয়ার উদ্দেশ্যে তড়িগড়ি 'ধর্ম''কে হাতিয়ারে রুপান্তর করে জনরোষ থেকে বাঁচার অপকৌশল গ্রহন করেন। একান্তই জনগনের সঙ্গে প্রতারনা করে ক্ষমতায় টিকে থাকার অংশ হিসেবেই পবিত্র "ইসলাম"কে তড়িগড়ি "রাষ্ট্রধর্ম" হিসেবে সংবিধানে সংযোজন করেন। এতেও কিন্তু তাঁর শেষ রক্ষা হয়নি,জনগন ঠিকই বুঝতে পেরেছিল তার চক্রান্তের কৌশল। জালিম সরকারকে বাংলাদেধের মানুষ ক্ষমতা থেকে টেনে নামিয়ে আনেন ঢাকার রাজপথে,আজও তিনি রাজপথেই আছেন-সিংহাসন আর দেখেননি। স্বৈরাচার এরশাদ অত্যান্ত নেক্কারজনক ভাবে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হন। উল্লেখ্য--সেনা শাষকেরা ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ারে পরিনত করেছেন একমাত্র সাধারন ধর্মানুরাগী, মানুষের ধর্মের প্রতি একাগ্রতাকে পুঁজি করে ফ্যাসিষ্ট শাষন অব্যাহত রাখার স্বার্থে--ধর্মের উন্নতি, অগ্রগতি প্রচার,প্রসার, পালনের স্বার্থে করেননি। বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের সরকারে থেকে ধর্ম নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরন করেও ইসলামের প্রচার প্রসারে মাত্র সাড়ে তিন বছরে যতটুকু অবদান রেখে গেছেন- তাঁর সিকিভাগ কাজও তথাকথিত ধর্মদগত ৪০/৪২বছরের বাংলাদেশের ইতিহাসে হয়নি। ধর্মকে সংবিধানে সংযোজন করলেই ইসলাম রক্ষা পাবে-নাকরলে নয় এইরুপ যারা চিন্তা করেন, তাঁরাই মুলত:ইসলামকে বিক্রি করে স্বার্থ উদ্ধারে ব্রতি হওয়ার জন্যই বলেন। সাড়ে তিন বছরে ইসলামের মুল কাজ গুলি যদি ধর্ম নিরপেক্ষ সরকারের শাষনে হতে পারে-৪২ বছর 'রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম' সংবিধানে থাকার পরে ও সিকিভাগ কাজ হলনা কেন? মুসলিম অধ্যুষিত দেশ সমুহে রাষ্ট্রধর্ম না থাকার কারনে কোন দেশে ধর্ম পালনে মুসলমান সমাজ বাধাগ্রস্থ্য হচ্ছে? ধর্ম পালনকে রুপক দৃষ্টিতে যারা দেখেন তারাই ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা পছন্দ করেন। নামাজের জন্য এয়ার কন্ডিশন মসজিদের প্রয়োজন চিন্তা করেন।ধর্ম ধারন করার বিষয়-লোক দেখানোর বিষয় নয়। লক্ষনীয় বিষয়টি হচ্ছে ভারতীয় উপমহাদেশে যত রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রক্ষমতায় ধর্মকে ব্যবহার করে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন ব্যাক্তিজীবনে তাঁরা একজনও ধর্ম পালনতো করেনইনা,-বাহ্যিক ধর্মীয় অনুশাষন গুলীও মেনে চলতে দেখা যায়না বা দেখা যায়নি। বাংলাদেশের ধর্মানুরাগী মানুষকে বোকা বানিয়ে ধোঁকা দেয়া ছাড়া -তাঁদের উদ্দেশ্য আর কি হতে পারে? ইসলামী শাষন কায়েমের জন্য ইসলামী বিপ্লবের প্রয়োজন অথবা সাচ্ছা ইসলামী দলের রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন। নির্বাচনের মাধ্যমেও যাওয়ার সুযোগ আছে-বিপ্লব করেও সুযোগ আছে।সে দিকে মনোযোগি না হয়ে গনতান্ত্রিক গনসংগঠনের কাঁধে ভর দিয়ে ইসলামের চিন্তা করা আর বোকার স্বর্গে বাস করা সমান কথা। "রাষ্ট্রের কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ইসলামের ছোঁয়া থাকবেনা- অথছ সংবিধানে থাকবে, ধর্মকেও প্রতারনার হাতিয়ার বানাতে চায় গোষ্টিটি। রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হোক নয়তো ধর্ম নিরপেক্ষ থাকুক-আল্লাহর সাথে প্রতারনা করা কোন অবস্থায় সঠিক নয়।" ধর্মের বিরুধীতা নয়, সকল ধর্মের সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই ধর্মনিরপেক্ষতার মুল কথা।অর্থাৎ ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার-এই নীতিতে দেশ শাষনকরার নামই ধর্মনিরপেক্ষতা। ইহাকেই সাম্প্রদায়িক গোষ্টি ধর্মহীনতার অভিযোগে অভিযুক্ত করে অপপ্রচার করার কৌশল অবলম্বন করে। এই পয্যায়ে স্বার্থান্বেষি মহল ইসলামের প্রথম যুগের শাষন ব্যবস্থাকেও বিবেচনায় আনতে চায়না। তাঁদের থেকেও ধর্ম বিষয়ে বেশি জ্ঞানের অধিকারি চিন্তা করে নিজেদের। আর একশ্রেনীর মানুষ ইদানিং দেখা যায় অন্যধর্মের প্রতি ঘৃনারভাব ছড়িয়ে, ঘৃনার উদ্রেক ঘটিয়ে, গালাগাল করে ইদলাম ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান করার দিকেই মনোযোগি।তাঁরা মনে করে ধর্ম পালন না করে,ধর্মীয় অনুশাষন না মেনেও অন্য ধর্মের প্রতি ঘৃনা পোষন করে বেহেস্তে যাওয়া যাবে। এই শ্রেনীর লোকেরা আবার ধর্ম সম্পর্কেও কিছু জানেনা- ধর্ম পালন বা ধারন কিছুই করেনা।ধর্মধারন করার পরেইতো পালনের বিষয়টি আপনা আপনি আল্লাহ ভীতি চলে আসে মনে।তখন মসজিদে না গিয়ে উপায় থাকেনা। স্বার্থান্বেষি মহলটি একদিকে বলে গনতন্ত্রের কথা-অন্যদিকে বলে ধর্মের কথা। ধর্মীয় শাষন আর গনতান্ত্রিক শাষনে আকাশ পাতাল ব্যবধান তাও তাঁরা ভুলে যায়।"গনতন্ত্রের চর্চা করতে গেলেইতো ধর্মের কথা বাদ দিতে হবে --ধর্মীয় শাষন কায়েম করতে গেলে গনতন্ত্র থাকেনা।" "বর্তমান গনতন্ত্র মনুষ্য সৃষ্ট বা পশ্চিমা ইহুদীদের সৃষ্ট একটা আধুনিক শোষন শাষনের দলিল। একদিকে সেই দলিল রক্ষার কথা বলে---অন্যদিকে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম চায়।" ইসলামী শাষন হচ্ছে--"আল্লাহ নির্দেশিত সর্ব উত্তম শাষন পদ্ধতি।" এই সর্ব উত্তম শাষন পরিচালনার জন্য সর্বত্তম ইসলামী জ্ঞান সমৃদ্ধ দলের প্রয়োজন, ইসলামের আলোতে আলোকিত সর্ব উত্তম নেতার প্রয়োজন। আল্লাহ কখনও দুই মুখী নীতির বান্দা পছন্দ করে না। দৌদল্ল্যমান ব্যাক্তি না পায় বেহস্ত -না পায় দোযগ। "সেই দিকে মনোযোগি না হয়ে-মসজিদে নামাজরত: মুসল্লিদের উপর বোমা মেরে মুসল্লি হত্যা করে- ঐ একই বোমায় নীজেও আত্মহত্যা করে। উভয় মৃত্যুর জন্য আল্লাহ নিকৃষ্ট দোজগ বরাদ্ধ করে রেখেছেন।"তাঁরাও নাকি ইসলাম কায়েমের জন্য জেহাদে অংশ নিয়েছে।আল্লাহর রাসুল মসুলমানদের বাণী এবং ইসলামের রীতিনীতি শিক্ষা দিয়েছেন।বিধর্মীদের কাছে ইসলাম প্রচার করেছেন-খলিফাদের শাষনামলে বিধর্মীদের সাথে ধর্ম যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন জয়ী হয়ে ইসলামের পতাকাতলে তাঁদের আসার আহব্বান জানিয়েছেন। জোর পুর্বক কাউকে ইসলাম ধর্মগ্রহনে বাধ্য করার উদাহরন তো পাওয়া যায়না। বরঞ্চ ইসলামের সৌন্দয্যে মুগ্ধ হয়ে দলে দলে কাফের, ইহুদি, খ্রিষ্টান বিভিন্ন জাতি গোষ্টির মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছেন। যারা গন সংগঠনের অধিনে, গনতান্ত্রিক শাষন বহাল থাকাবস্থায় ইসলামের কথা বলে জনমনে বিভ্রান্তি ঘটানোর অপ্প্রয়াস চালায় তারাই বর্নবাদি, সাম্প্রদায়িক, ইসলাম ধ্বংসকারী, ইসলামের অপব্যাখ্যাকারি। সরলমনা বাঙ্গালী মসুলমানদের বিভ্রান্ত করে স্বার্থ উদ্ধার করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। ইসলাম রক্ষা করা তাঁদের উদ্দেশ্য মোটেই নয়। আল্লাহ নীজেই বলেছেন,"তাঁর প্রেরীত কোরান তিনি নিজেই হেফাজত করবেন।" সেখানে কারা বলে ধর্মরক্ষার কথা, কোরান হেফাজতের কথা--যারা আমাদের মহানবীর বিশ্বস্ত সাহাবাদের শাষনকাল "খোলাফায়ে রাশেদীনের" চার খলিফার মধ্যে তিন খলিফাকেই হত্যা করেছিলেন--ইসলামের কথা বলে তাঁরা। যারা আমার নবী মোহাম্মদ মোস্তফা (স:) এর আদরের দৌহিত্র হাসান -হোসেনকে কারবালায় হত্যা করেছিল তাঁরা। তাঁরা নীজেদের ইসলামের বড় পন্ডিত চিন্তা করে, ইসলামের ধারক বাহক মনে করে নীজেদের। তাঁরা নবী বংশের চেয়ে বেশি জ্ঞানী মনে করে নীজেদের। কথায় কথায় মানুষকে কাফের বলা যাদের মজ্জাগত দোষ---কথায় কথায় মানুষকে নাস্তিক বলা যাদের রোগ তারা"। এই শ্রেনী থেকে বাংলাদেশের বাঙ্গালী মসুলমানদের রক্ষা করতে হবে-তাঁদের অশুভ চক্রান্ত থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে হবে।অশুভ, ভন্ড, বক ধার্মীকদের থেকে দেশ জাতিকে রক্ষা করতে হলে ৭২' এর সংবিধান অবিকল পুর্ণবহালের বিকল্প কিছুই নেই, কিছুই থাকতে পারেনা। মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালী মসুলমানদের চিন্তাচেতনার প্রতি লক্ষ রেখেই এই সংবিধান রচনা করেছেন। তাঁর সময়ে ধর্মপালনে কোন অসুবিধা হয়েছিল এমনটি আজও কেউ বলতে পারেনি, তাঁর আমলে ইসলামের প্রচার প্রসারে যে অগ্রগতি উন্নতি সাধিত হয়েছিল-- তথাকথিত রাষ্ট্রধর্ম প্রনেতাদের এবং দাবিকারীদের সময়ে তার চেয়ে বেশি কাজ ইসলামের জন্য হলে জাতি'৭২এর সংবিধান বাস্তবায়নের দাবী প্রত্যাহার করবে। ধর্মীয় শাষন কায়েম করতে না পারলে অন্তত--সকল ধর্মকে অন্তর দিয়ে রক্ষার জন্যে হলেও ৭২'এর সংবিধান অবিকল পুর্ণবহাল করার চেয়ে অদ্যাবদি কোন বিকল্প দর্শন এখনও আবিস্কৃত হয়নি। ৪০ বছর পর জাতি মর্মে মর্মে অনুধাবন করছে --জাতির জনকের প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি সিদ্ধান্ত ছিল সুদুর প্রসারী চিন্তা চেতনার ফসল--বাঙ্গালী জাতির স্বার্থে--বাংলাদেশের স্বার্থে। সুতারাং উপসংহারে বলতে চাই, আর কালবিলম্ব নয়-'৭২ এর সংবিধান পুর্ণবহাল করে মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গিকার এর পুর্নাঙ্গরুপ দিতে সরকার ব্যবস্থা গ্রহন করবে। জাতির আশা আখাংকার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মাকে সম্মান জানাবে, ,বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সর্বস্তরে প্রাধান্য দিবে-- বাঙ্গালী জাতীর একান্ত প্রত্যাশা বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জাতির জনকের কন্যা দেশরত্ম শেখ হাসিনার নিকট। _________________________________ শুভশক্তির উদয় হোক- অশুভশক্তি নিপাত যাক জয়বাংলা বলে আগে বাড়ো জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু জয়তু জাতির জনকের কন্যা ♥দেশরত্ম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা♥

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg