বাঙ্গালী মুসলিম সমাজ নিজেদের দর্শনও মানেনা, আল্লাহর নবীর শাষনও মানেনা----"মানে শুধু ইহুদি, ইংরেজ তথা পাশ্চাত্যের শাষনব্যবস্থা।"                                              
(রুহুল আমিন মজুমদার)

মানব সমাজের সভ্যতা বিকাশের প্রথমার্ধে ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব ঘটে। যখন মানব সমাজের প্রত্যহিক চাহিদা পূরনার্থ্যে চারিদিকে হিংসা, হানাহানি, জাতি গোষ্টিগত বিরোধ, একে অপরের উপর প্রধান্য বিস্তারের লক্ষে এক গোষ্টি অন্য গোষ্টিকে নি:শেষ করে দেয়ার চেষ্টারত: থাকায় চারদিকে ঘোর অন্ধকার নেমে এসেছিল ঠিক তখনই আল্লাহ তাঁর মনোনীত ধর্ম গ্রন্থ আল-কোরান নবী করিম (স:) এর মাধ্যমে সমগ্র মানব জাতির কল্যানে পৃথিবীতে প্রেরন করেন। আল্লাহ প্রেরীত আল-কোরান এবং নবী (স:) এর উপর বিশ্বাস স্থাপন কারীগন ইসলাম ধর্মের অনুসারি হিসেবে পরিচিত হন। আল্লাহ তাঁর প্রেরিত কিতাব সমগ্র মানব সমাজের কল্যানে এবং ইসলামকে সমগ্র মানব জাতির অনুসরনীয় করে সার্বজনীনতা ও সাম্যের ধর্মরুপে স্বীকৃতি প্রদান করেন।

মহান আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী নবীকরীম (স:) এর জীবনাচারকে অনুকরনীয় করে রাখার উদ্দেশ্যে সকল গুনাবলী তাঁর মধ্যে অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে মহামনবে রুপান্তর করেন। তিনি যেমন আল্লাহ প্রেরীত কোরানের ধারক তেমনি উহার বিস্তারের জন্যে প্রচারক, যেমনি নতুন সমাজ সৃষ্টিকারক তেমনি নতুন সমাজের শাষক, যেমন আল-কোরানের আলোকে রচিত হাদিসের মাধ্যমে কোরান এবং মানব সমাজে নিত্যনতুন সমস্যার সমাধান দিয়ে ধর্ম সংস্কারক হিসেবেও অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ছিলেন। তখনকার যুগে এমন কোন বিষয় ছিলনা যাহা ঘটেনি এবং নবী (স:)কোরানের আলোকে সমাধান দেননি।

তাঁর সৃষ্ট ইসলামী রাষ্ট্রের শাষনকর্তা হয়ে তিনিই প্রথম কোরানের আলোকে রাষ্ট্র শাষন ব্যবস্থা "মদিনা সনদ" রচনা করেন। তাঁর আগে বৃহত্তর কোন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ছিলনা এবং ছোট ছোট 'নগর রাষ্ট্র' সমূহ শাষনের কোন রুপরেখাও ছিলনা। তাঁর মৃত্যুর পর কিভাবে পরবর্তী প্রজম্ম ইসলাম ধর্মের প্রসার, ইসলামী সাম্রাজ্য বিস্তার ও শাষন করবেন--"তাঁর রুপরেখাও তাঁর ওফাৎ এর আগে সর্বশেষ মসুলমানদের বৃহত্তর মিলনমেলা "হজ্বের অনুষ্ঠানে" ভাষনের মাধ্যমে দিকনির্দেশনা দিয়ে যান।" তাঁর আগে কোন রাষ্ট্র শাষকের ভাষন দেয়ার রীতিও প্রচলন ছিলনা। তাঁর শেষ ভাষনকে পরবর্তীতে মানব জাতির ইতিহাসে 'সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ভাষন' স্বীকৃতি দিয়ে "বিদায়ী হজ্বে''র ভাষন হিসেবে নামকরন করা হয়েছে।

নবী (স:) রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তন করে শাষক নিয়োগের রীতিও প্রচলন করে গেছেন। তৎসময়ের অভিজ্ঞ সাহাবীদের বেশীরভাগ 'সাহাবী'র মতামতের মাধ্যমে শাষনকর্তা নিয়োগের বিধান তিনিই দেখিয়েছেন।পরবর্তীতে খলিফাদের শাষনে নীতিটি পুর্ণাঙ্গ অনুসরনকল্পে সমাজের সর্বস্তরের অভিজ্ঞ সাহাবীদের বৈঠকে বেশীরভাগ 'সাহাবী'র মতামতের ভিত্তিতে" সকল প্রকার বিতর্ক এড়িয়ে 'খলিফা' নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছিল। এইরুপ আধুনিক নেতা নির্বাচনের পদ্ধতি ও রীতিটি সর্বযুগের শ্রেষ্ঠ রীতিরুপে "আল্লাহ নবীজির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন"।

নবীজির জীবিতবস্থায় মানব সমাজের দৈনন্দিন উন্নতি ও সভ্যতার ক্রমবিকাশের ফলে উদ্ভোত নতুন নতুন সমস্যা ও জটিলতা নিরসন কল্পে নির্দিষ্ট রুপরেখাও বলে দিয়েছেন। ইসলাম ধর্ম যেহেতু সর্বযুগের শ্রেষ্ঠধর্ম, বিশ্বমানবতার শান্তির ধর্ম এবং ইসলামী শাষন 'সার্বজনীন শাষন' সেহেতু যুগের সাথে তালমিলিয়ে আল-কোরানের নির্দেশনা অমলিন রেখে, হাদিসের আলোকে পরিবর্তন, পরিবর্ধন, আধুনিক, যুগোপযোগী করার লক্ষে সাহাবীদের পরবর্তী তাবেঈন-তাবেতাবেঈন সর্বশেষ ধর্মীয় জ্ঞানে অভিজ্ঞ আলেম উলামাদের উপর দায়িত্ব দিয়ে গেছেন।

যেহেতু ইসলাম সার্বজনীন ধর্ম এবং আল-কোরান সমগ্র মানব জাতির কল্যানে আল্লাহ প্রেরন করেছিলেন সেহেতু নবীজির প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রে "রাষ্ট্র ধর্ম" ছিলনা। যেহেতু নবীজির বিদায়ী হজ্বের ভাষন ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠিবেদে সমগ্র মানব জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষন ছিল সেহেতু ঐ ভাষনের প্রারম্ভে কোরানের পবিত্র আয়াত 'বিছমিল্লাহ' বলে নবীজি শুরু করেননি।আল্লাহ যেহেতু তাঁর কোরান সমগ্র মানব জাতির কল্যানে এবং ইসলাম ধর্মে ইমান আনার জন্যে সমগ্র মানব জাতির উদ্দেশ্যে আহব্বান রেখেছেন সেহেতু নবীজির সকল কর্মকান্ড "আল্লাহ' সমগ্র মানব জাতির নিকট অ-বিতর্কিত রেখেছেন।"

 আল্লাহ তাঁর কোরানে মানব জাতি  এবং জ্বিনের বিচার করবেন উল্লেখ করায় নবীজি ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেদ করেছেন।--"সঙ্গে স্ব-স্ব ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দিয়েছেন"। তিনি সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমানদের শাষনে সংখ্যালুঘু অন্যান্ন ধর্মের নাগরীকদের সুরক্ষার নীতিও সুস্পষ্টভাবে "নীজের শাষনে' উদাহরন রেখেছেন এবং পরবর্তীতে যারা শষন করবেন তাঁদেরকেও অনুসরন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ইসলামের সৌন্দয্য, ভাতৃত্ববোধ, মহত্ব, সাম্যের রীতি যতদিন অব্যাহত ছিল মসুলমানদের বিজয় ততদিন আল্লাহ অব্যাহত রেখেছিলেন। ইসলামের অভ্যন্তরে "অতিধার্মীক" নবীজির জীবিতবস্থায়  বহি:স্কৃত করা খারেজদের  হাতে একে একে তিন খলীফার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর ইসলামের অগ্রযাত্রা  থেমে যায়। সার্বজনীন ইসলামের অনুসারী মসুলমান এবং নবীজির নির্দেশ অমান্যকারি "কেন্দ্রিভুত ইসলামের অনুসারী"দের অভ্যন্তরীন কোন্দলে নবীজির আদরের দৌহিত্র "হাসান এবং হুসাইন"কেও কারবালার ময়দানে জীবন দিতে হয়েছিল।

অতিধার্মীকগন নবীজির শাষনের "সংখ্যা গরীষ্টের মতামতে নির্বাচিত শাষন প্রথা খেলাফত" বাতিল করে বংশ পরস্পরায় শাষন ব্যবস্থা "বাদশাহী" শাষন কায়েম করেন। সার্বজনীন "ইসলামী শাষন" খেলাফতের শাষনকে শুধুমাত্র মুসলিম শাষন "বাদশাহী শাষনে" রুপান্তরীত করে ইসলামের সৌন্দয্যহানী ঘটানোর প্রক্রিয়া তখনই চালু করেন। পরবর্তীতে সেই শাষনব্যবস্থাই আরো বেশী শাষক, শোষক, দখলবাজীর রুপ ধারন করে "সম্রাট শাষন" নাম ধারন করে ভারতীয় উপমহাদেশ পয্যন্ত বিস্তৃতি ঘটে। একের পর এক জনপথ করায়ত্ত হয়েছিল ঠিকই কিন্তু ইসলাম ধর্মের প্রচার, প্রসার বিস্তৃতি আর ঘটেনি। সংখ্যাতত্বের দিকে নজর দিলে যে কোন সচেতন ধার্মীক ব্যাক্তি আমার কথার যুক্তিকতা খুঁজে পাবেন--আশা করি।

আমাদের অত্র ভারতীয় উপমহাদেশেও 'বাদশাহী দখলবাজী শাষনে'র আগে 'খেলাফতের শাষনামলে' "সূফি সাধক, দরবেশ" গনের আগমনে যতটুকু ইসলাম ধর্মের বিস্তৃতি ঘটেছিল পরবর্তী "বাদশাহী, সম্রাটি" শাষনামলে ইঞ্চি পরিমানেও বিস্তৃতি ঘটেনি। বরঞ্চ শাষনকায্য নি:স্কন্টক রাখার উদ্দেশ্যে ইসলামের বিপরীতে অতিধার্মীক শাষক কতৃক প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে "দীন- ই- এলাহী" ধর্মের প্রবর্তন করতেও দেখা যায় (ইতিহাসে)। অতিধার্মীকগন লেবাজের গুনে সাধারন মসুলমানদের বিভ্রান্ত করে "সার্বজনীন  শান্তি, সাম্যের ইসলামী খেলাফতের শাষনের বিপরীতে  জোর, জুলুম, দখল, লুটপাট, শোষন, শাষনের "বাদশাহী, সম্রাটি" ইসলামী শাষনের প্রবর্তন করে ইসলামকে করেছে বিশ্বময় প্রশ্নবিদ্ধ, অগ্রযাত্রা দিয়েছে থামিয়ে, হিংসা হানাহানী দিয়েছে বাড়িয়ে।

লেবাজী ইসলাম ধর্মের ধারাবাহিকতা থেকে ইসলাম রক্ষিত না হয়ে আজকের দিনে আরো ব্যাপক শক্তি সঞ্চয় করে বহুগুন প্রভাব নিয়ে তাঁরা আবির্ভুত হয়েছে। অবশ্য নবী (স:) তাঁর জীবিতবস্থায় লেবাজী ধর্মধারী, অতিধার্মীক ও তাঁদের চেনার উপায় এবং কি প্রভাব বিস্তারের লক্ষন সম্মন্ধে মসুলমানদের সতর্ক করে দিয়ে গেছেন। লেবাজধারী আলেমগন তাঁদের আচার, আচরন, ধর্ম পালনের আনুগত্যতা দিয়ে খেলাফত যুগেও মসুলমানদের বিভ্রান্ত করে খলিফা হত্যা ও নবীজির বংশবিনাশ করতে পেরেছিল-বর্তমানেও সেই ধারাই তাঁরা অক্ষুন্ন রেখে ইমানদার সাধারন মসুলমানদের বিভ্রান্ত করে ইসলামকে অতিরঞ্জন, নৈরাশ্যবাদের অতলতলে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। এরা সম্পূর্ণ আবু লাহাব, মোয়াবিয়া, ইয়াজিদের পথ অনুসরন করছে কিনা প্রকৃত আলেম সমাজের ভেবে দেখা প্রয়োজন।

বর্তমান বিশ্বের ইসলাম ধর্মের নিয়ন্ত্রন এই শ্রেনীর হাতেই রয়েছে অনুমেয়। সৌদী আরব সহ অন্য কোন মুসলিম প্রধান দেশেই নবীজির শাষনামলের রীতিনীতি অনুসৃত হওয়ার উদাহরন দেখা যায়না। সৌদী আরব বহুকাল আগে থেকে আল্লাহ এবং তাঁর নবীর বিরুধী "বাদশাহী শাষন" অব্যাহত রয়েছে। মিশরে দাঁড়ি রাখার উপর কড়া নিষেদাজ্ঞা জারি আছে এবং কি নবীজির আচার আচরন অনুসরনে প্রচুর ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। ইরানে যদিও আপাত: দৃষ্টে ইসলামী শাষন নিয়ে একশ্রেনী গর্ব অনুভব করতে দেখা যায় তাঁরা মুলত: ইসলাম ধর্মের বিকৃতকারি, সর্বনাশকারি। ইরানের  শাষক শ্রেনী শিয়া ধর্মালম্বি এবং শিয়া মতবাদের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন।ইরাকে ইহুদী শাষক আমেরিকা কতৃক সাদ্দাম সরকারকে উৎখাতের মাধ্যমে ইসলামী শাষনের যৎকিঞ্চিত ধারা লক্ষনীয় ছিল তাও তিরোহিত করেছেন।

পাশ্চাত্যের ইহুদী, খৃষ্টানগন "ইসলামের সৌন্দয্যের এককনা মাত্র' "নেতা নির্বাচনের পদ্ধতি"কে আর এককদম বাড়িয়ে সর্বস্তরের জনগনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনীধি কতৃক নির্বাচিত পদ্ধতি "গনতন্ত্র" নাম দিয়ে শান্তি, সমৃদ্ধি, শৌয্য, বিয্য, আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক সুখী সমৃদ্ধ দেশের অধিকারি হয়েছেন। সমাজতন্ত্রীরা নবী (স:) এর শুধুমাত্র "নেতা নির্বাচনের কেন্দ্রিকতা"কে গ্রহন করে কালজয়ী থিসিসের ধারক বাহক হয়েছেন--"চীন, সৌভিয়েত সহ বিশ্বের অর্ধেক শাষন করার কৃতিত্বের অধিকারি হয়েছেন"।

মসুলমানদের হাতে নবীজির সমগ্র জীবন দর্শন, আল-কোরান, নবীজির শাষনকালের দৃষ্টান্ত, নেতা নির্বাচনের "খেলাফতের" সমগ্র পদ্ধতি, শাষন করার নীতি "মদীনা সনদ', সংখ্যালুঘু ধর্মীয় গোষ্টি রক্ষায় "বিদায় হজ্বের ভাষন' থাকা সত্বেও বিশ্বের কোথাও ইঞ্চি পরিমান শাষন করার জায়গা নেই। এতেই বুঝা যায় প্রকৃত ইসলাম ধর্মের অনুসারিদের হাতে ইসলাম নেই। রাষ্ট্র শাষনে নবীজির পথ খেলাফত তিরোহিত হওয়ার পর ইসলামের প্রচার, প্রসার, বিস্তৃতি রুদ্ধ হয়ে গেছে এবং সেই রুদ্ধতা আজও অব্যাহত ও দৃশ্যমান।
মুসলিমগন খলীফা শাষনের পর হতে বিশ্বময় ইহুদী নাসারাদের হাতে অপমান, অপদস্ত, রাজ্যহারা, রাষ্ট্রহারা হওয়ার ধারাবাহিকতা থেকে রক্ষা পায়নি। ইহা আল্লাহ প্রদত্ত শাস্তি কিনা আলেম সমাজের ভেবে দেখার সময় হয়েছে। নচেৎ খেলাফতের শাষনামলের "অর্ধ পৃথিবীর শাষন" আজকের আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক, গনতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায়  বিশ্বময় কোথাও ধুলিকনায়ও অবশিষ্ট নেই কেন--"তাঁর ব্যাখ্যা আলেম ওলামাদের দেয়া প্রয়োজন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু খেলাফত, মদীনা সনদের সমগ্র গ্রহন করে বাকশাল" গড়ে তুলেও দেশ শাষন করতে পারেননি। খেলাফতের শাষন-- "কোরান, হাদিসকে অক্ষুন্ন রেখে এবং সেই আলোকে মসুলমানদের একক শাষন অব্যাহত রাখার নিমিত্তে বিভিন্ন কর্মে নিয়োজিত ধর্মীয় জ্ঞানী ব্যাক্তিদের সংখ্যা গরীষ্টের মতামতে নেতা নির্বাচিত হওয়ার বিধান ছিল।

 "বাকশালেও সংবিধানের মূলনীতি অক্ষুন্ন রেখে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার নির্বাচিত প্রতিনীধি কতৃক সংখ্যা গরিষ্টের ভোটে নেতা নির্বাচনের বিধান ছিল"(বর্তমান নির্বাচিত জেলাপরিষদ পদ্ধতির কাছাকাছি)। যাতে কোন প্রকারেই স্বাধীনতা বিরুধী, অশুভ শক্তি নির্বাচিত হতে না পারে তজ্জন্য নির্দিষ্ট নির্বাচিত প্রতিনীধি পদ্ধতি গ্রহন করা হয়েছিল। দেশে বিরাজমান হিংসা হানাহানী, হত্যা, গুম, লুটতরাজ বন্ধ করে---"শান্তি, শৃংখলা, উন্নতি, সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষে সমগ্র  জাতিকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে একক 'জাতীয় দলের' অন্তভূক্ত করার "অভিনব রাষ্ট্র শাষন পদ্ধতির নাম "বাকশাল"।

অন্যদিকে--ইসলামী শাষনকে সার্বজনীন, সাম্যের, শান্তির শাষনে রুপান্তরে এবং ইসলামী শাষনের অভ্যন্তরে অন্য জাতিগোষ্টির অনুপ্রবেশ ঠেকানোর লক্ষে শুধুমাত্র ইসলামী জ্ঞানসম্পন্ন নির্দিষ্ট ব্যাক্তিদের নির্বাচনে সংখ্যা গরিষ্টের অভিমতে খেলাফতের উত্তরাধিকার মনোনীত করার বিধান ছিল।
পার্থক্য শুধুমাত্র একটি মনুষ্য সৃষ্টি "বাংলাদেশের বাঙ্গালী জাতির কল্যানে" অন্যটি নবীজির সৃষ্টি "বিশ্বমানবতার কল্যানে সৃজিত ছিল।"বাঙ্গালী জাতি দৃশ্যত নিজেদের পদ্ধতিও মানতে রাজী নয় নবী (স:) এর শাষন ব্যবস্থার প্রতিও আগ্রহি নয়।

অশুভ শক্তির অব্যাহত উত্থানে আমরা না পারছি নিজেদের উদ্ভাবীত রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যাবস্থা গড়ে তুলতে না পারছি মহান ধর্ম ইসলামের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সহযোগীতা দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে অনন্তকালের বাসস্থানে সুখে, শান্তিতে থাকার নিশ্চয়তার ধারে কাছে ঘেঁষতে।আমরা বাঙ্গালী মুসলিম সমাজ খোদাবিরুদ্ধ সংখ্যালুঘু নিয্যাতন এবং ইহুদী আবিস্কৃত "জোর যার রাজ্য তার" নীতি তথাকথিত পুতিগন্ধময়  রাষ্ট্রব্যবস্থা "গনতন্ত্রের" প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের মাধ্যমে নীজ জাতিকে নিয়ে যাচ্ছি অন্ধকারে, ধর্মকে করছি অপমান, অপদস্ত, নবীজিকে দিচ্ছি প্রতিনিয়ত দু:খ্য, আল্লহকে করছি নারাজ।"
ruhulaminmujumder27@gmail.com

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg