নারী স্বাধীনতায় দৃশ্যমান অর্জনের ক্ষেত্রে নারী সংগঠন গুলীর কোন কৃতিত্ব চোখে পড়ে না।
  (রুহুল আমিন মজুমদার)

  আজকের লেখার প্রারম্ভিকতা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার কয়টি চরন উল্লেখ করে শুরু করতে চাই।কবির জীবিতবস্থায় বঙ্গের নারীদের বঞ্চনা এবং বর্তমান আধুনিক সভ্যসমাজের অন্তভুক্ত বঙ্গ সমাজের নারীদের বঞ্চনার মধ্যে গুনগত, ,প্রথাগত, আচরগত পার্থক্য অনুধাবনে পাঠকদের কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।

 দেবতাগো জিজ্ঞাসি দেড়শত কোটি সন্তান এই বিশ্বের অধিবাসি,
কয়জন পিতামাতা ইহাদের হয়ে নিস্কাম ব্রতি?
 পুত্রকন্যা কামনা করিল কয়জন সৎ-সতী,
কয়জন করিল তপস্যা ভাইরে-সন্তান লাভ তরে?
কার পাঁপে কুটি দুধের বাচ্ছা আতুড়ে জম্মে মরে?
স্রেফ পশু ক্ষুদা নিয়ে হেতা মিলে নরনারি যত,
 সে কামনার সন্তান মোরা তবুও গর্ব কত।
শুন ধর্মের ছাঁই জারজ কামজ সন্তানের মধ্যে কোন প্রভেদ নাই।
অসতি মাতার সন্তান যদি জারজ সন্তান হয়,
অসৎ পিতার সন্তানও নিশ্চয়ই জারজ সন্তান হয়।
 (কাজী নজরুল ইসলাম)

 কবিতায় হয়ত বা কিছু ভুল থাকতে পারে, অনেক দিন আগের পড়া-স্মৃতি থেকে নেয়া। তবে প্রতিপাদ্য বিষয় সম্পুর্ণ সঠিক রয়েছে। বিশ্বব্যাপি দেড়শ কোটি মানব সন্তানের বসবাসের সময়কার কবিতায় কবির তখনকার সমাজ ভাবনা, নারীদের প্রতি পুরুষদের অবহেলা, নারীদের উপর পুরুষদের আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে অবলা, অসহায়, নির্ভরশীল করে রাখার  বিরুদ্ধে কবি তাঁর স্বভাবজাত ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ঘটিয়েছেন।তুলনামূলক সেই যুগের স্বল্প সংখ্যক মানব মানবী-- বিশাল বিশ্বে বসবাস সত্বেও, গৃহকোনে আবদ্ধ নারীদের উপর বৈশম্যমূলক আচরন কবির দৃষ্টি এড়াতে পারেনি। তিনি তাঁর কবিতায় সুন্দর ভাবে তাঁর সচেতন মনোভাব তুলে ধরেছেন সেই যুগেও।

    অবরুদ্ধ যুগের  অন্দর মহলে বসবাস করা সত্বেও বেগম রোকেয়া নারী জাগরনে অসামান্য অবদান রেখে নারী সমাজের মুক্তির  অগ্রদুত হিসেবে নীজকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন।নারীদের পক্ষে তাঁদের অত্যাচার, অনাচার প্রতিরোধের লক্ষে তাঁদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পথে অন্তরায় দূর করার নিমিত্তে তাঁর লেখনি অত্র ভারতীয় উপমহাদেশে বিশেষ করে বাঙ্গালী নারী সমাজের মননে,চিন্তায়, চেতনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ধারা সৃষ্টি করতে পেরেছিল। মহিয়ষী নারী বেগম রোকেয়ার নির্দেশীত পথে নিয়ন্তর সংগ্রাম অব্যাহত  থাকা সত্বেও কাঙ্ক্ষিত মায্যদা বা অগ্রগতি  আজও  লাভ করতে পারেনি নারী সমাজ?

      এক্ষেত্রে পুরুষদের দাবিয়ে রাখার মানষিকতা অন্যদিকে  নারীদের মুক্তির আক্ষাংকা--দুইয়ের মাঝে নারীদের কাঙ্ক্ষিত মায্যদা লাভে প্রকৃতিগত এবং তাঁদের নীজেদের নেতিবাচক কিছু দৃষ্টিভঙ্গিও দায়ী। শিশুবস্থায় যেমন নারীশিশু চরিত্রে সাজসজ্জার প্রতি প্রকৃতিগত আগ্রহ লক্ষনীয় ভাবে পরিলক্ষিত হয় তেমনি বয়:সন্ধিকাল পরবর্তি প্রত্যেক নারী  নীজকে লোভনীয়, আকর্ষনীয় ভাবে তোলে ধরার প্রয়াসও  সুস্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়। একশ্রেনীর নারী তো রয়েছেই নিজেদের প্রকৃতি প্রদত্ত সৌন্দয্যকে পণ্যে পরিণত করে বিলাসী জীবনযাপনের অদম্য আক্ষাংকা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায়। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত, স্বাবলম্বি নারীও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সৌন্দয্য প্রদর্শনের নিমিত্তে সুপ্তবাসনা  প্রকাশে পিছিয়ে থাকেনা। পুরুষদের নজরে আসার প্রানান্তকর এই চেষ্টাও অনেক ক্ষেত্রে নারীদেরকে যথার্থ মায্যদা পাওয়ায় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। নারী এবং পূরুষ একে অপরের পরিপূরক ভাবনাটি তাঁদের মধ্যে তীরোহিত হয়ে পুরুষের বিলাসি পণ্যে রুপান্তরের ভাবনাটি তখন তাঁদের অনেকের মননে প্রধান্য পেতে থাকে।

      বর্তমান জনবহুল বিশ্বের আধুনিক সভ্য সমাজ ব্যবস্থায় বৃহদাংশ নারী ঘর থেকে বেরিয়ে পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে নিয়ন্তর সংগ্রাম অব্যাহত রাখা সত্বেও তাঁদের উপর  বলদর্পি পরুষতন্ত্রের আধিপত্যের মাত্রা  আদৌ কমাতে পারেনি। সভ্যতার জোয়ারে সংখ্যাতত্বের হিসেবে আপাত: দৃষ্টে যদিও মনে হয় অনেকটাই কমেছে কিন্তু শিক্ষা, বিজ্ঞান, সমাজ সচেতনতা, বহি:বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ, অর্থনৈতিক উন্নতি, পারিবারিক জীবন যাপন, অর্থনৈতিক স্বাবলম্ভিতা, নীজ নীজ ক্ষেত্রে নারীদের সফলতার ধারাবাহিক উন্নতি বিবেচনায় দেখা যায়--" পূরুষের ধ্যান ধারনায় নারীর মায্যদা প্রাগ ঐতিহাসিক যুগের সেই তিমিরেই রয়ে গেছে।"

     প্রায় প্রত্যেক নারী স্বভাবজাত ভাবে চিন্তা করে, পুরুষই তাঁদের জীবন জীবিকা এবং চলার পথে একমাত্র অবলম্বন। কথাটার বিপরীত চিন্তা কি অ-গ্রহন যোগ্য? নারীর ক্ষেত্রে পুরুষের যেমন প্রয়োজনীয়তা অবশ্যাম্ভাবী পুরুষের ক্ষেত্রে নারীও তদ্রুপ। নারী এবং পূরুষের অর্থনৈতিক বৈসম্য দূর হলে অনেকেই মনে করেন--"নারী নিয্যাতন, নারীদের প্রতি সহিংসতা অনেকাংশে কমে আসবে।" কথাটা অ-গ্রহনযোগ্য নয় তবে সামগ্রিক মুক্তি আসবে বলা যায়না। আমি মনে করি--'নারীরা যতদিন  পুরুষনির্ভর মানষিকতা পরিহার করতে পারবেনা, মানব কূলের অন্যতম অপরিহায্য অংশ ভাবতে পারবেনা  ততদিন সার্বিক নারীমুক্তি আশা করা যায়না'।

    পুরুষতান্ত্রিক সমাজ--নারী তাঁর স্বাভাবিক জীবনাচার, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা, সম্পদ অর্জন, রাজনীতি, সামাজিকতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে অগ্রগামীতাকে কখনও মেনে নিতে পারেনি, ভবিষ্যতেও মেনে নেয়ার কোন লক্ষন নেই।যে কয়জন নারী তাঁদের সার্বিক মুক্তির সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছে, অধিকার দাবি করেছে, অধিকার প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে বিদ্রোহ করেছে---"সেই কয়জন নারী পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ধারাবাহিক সামাজিক বঞ্চনার শিকারে পরিণত হয়ে নষ্টা, ভ্রষ্টা ইত্যাদি অসম্মান সূচক অপবাদের তীরে বিদ্ধ হয়ে মানষিক পীড়ায় জর্জরীত হয়েছে।" বিপরীতে নারীরা পুরুষের চক্রান্তের সেই নষ্টা, ভ্রষ্টার পক্ষ না নিয়ে পুরুষদের পক্ষে সুর মিলিয়ে তাঁর বঞ্চনার গতি দ্বিগুন বাড়িয়ে দিতে দেখা গেছে। নারীরা কখনই অনিষ্টকারি পুরুষের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি।অনিষ্টকারি সেই বলদর্পি পূরুষ ঠিকই সমাজে মাথা উঁচু করে দ্বিগুনশক্তির সমাহার ঘটিয়ে প্রত্যহ নারী নিয়ন্ত্রনের নিত্যনতুন সামাজিক রীতিনীতি প্রনয়ন ও প্রয়োগে সচেষ্ট রয়েছন।

        নারী সুরক্ষায় এযাবত যতটুকুই অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তাঁর কৃতিত্ব উচ্চপয্যায়ের নেতৃত্বে দীর্ঘবছর নারীনেতৃত্বের শক্তিশালী অবস্থানের কারনে----সুদীর্ঘকাল নারী মুক্তি আন্দোলনের কারনে নয়। নারীরা এযাবৎ  এমন কোন আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলতে পারেনি--"যার ফলশ্রুতিতে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ তাঁদের ন্যায্য দাবী মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে"। ফলে উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া নারীদের প্রতি সরকারের বদন্যতা পুরুষের মানষিক পরিবর্তন, মুল্যবোধ, চিন্তাচেতনায় কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। নারী-পুরুষ একে অপরের পরিপূরক ধারনায় কোন প্রকার উন্নতি সাধিত হয়নি।

       আবহমানকাল থেকে গড়ে উঠা আমাদের বর্তমান সমাজব্যবস্থায়--'যে পুরুষটি নারী স্বাধীনতার জন্যে আন্দোলনরত:, মিছিল মিটিং, সভা সমাবেশে সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব প্রদান করে, তাঁর পারিবারিক ক্ষেত্রেও নারীরা সমমায্যদায় অনেকটা পিছিয়ে। সেখানেও নারী তাঁর ইচ্ছানুযায়ী কর্ম সম্পাদন করতে পারেনা, ইচ্ছা পূরণে সর্বদা পূরুষ সদস্যদের দ্বারা বাঁধাগ্রস্ত হয়। এইরুপ বাঁধা কিন্তু ঐ পরিবারের পুরুষ ব্যাক্তিটির ইচ্ছায় নয়---আবহমান কালের পুরুষ নিয়ন্ত্রিত তাঁদের প্রয়োজনে এবং চাহিদা অনুযায়ী গড়ে উঠা এবং স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত সামাজিক রীতিনীতির কারনে।

      যতই আইন প্রনয়ন করা হোক-কায্যক্ষেত্রে সেই আইন নারী সুরক্ষায় কোন কাজে আসেনা। নারীনিয্যাতন বন্ধ, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, সর্বক্ষেত্রে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রনিত আইন প্রায়োগিক ক্ষেত্রে পুরুষদের চরিত্রগত পৌরষত্বে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে। স্বাধীনতার পর নারীসমাজ অবাধ সুযোগ পাওয়া সত্বেও যুগের পর যুগ পুরুষ শাষনে নিগৃহিত, নিস্পেষিত, অবহেলীত, সর্বক্ষেত্রে বঞ্চিত এবং পূরুষদের ভোগের সামগ্রি মানষিকতার কারনে সর্বক্ষেত্রে নারীর অবস্থান, অস্তিত্ব শুন্যের ঘর পার হতে পারে না।

বিধাতার কৃপায় মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে বিশেষ করে উচ্চ পয্যায়ে নারী নেতৃত্বের বিগত দুই যুগেরও অধিক সময় শুন্য থেকে গানিতিক হারে উন্নতি ও অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে। ধর্মান্ধতার কাল আবরন উপেক্ষা করে চিরায়ত সামাজিক কাঠামোকে তোয়াক্কা না করে সরকার ধারাবাহিক চেষ্টার বিনিময়ে কতিপয় আইন প্রনয়ন, অনেকক্ষেত্রে একতরফা আইন সৃজন করে নারীদের উন্নতি, সার্বিক অগ্রগতির সূচনা করেছেন। নারীকুলের সার্বিক অংশগ্রহনের অপ্রতুলতা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ অর্জন সুদুর পরাহতই থেকে যাচ্ছে। বলতে গেলে ভাগ্য গুনে পাওয়া 'নারী নেতৃত্ব' আন্তরিক চেষ্টা অব্যাহত রাখা সত্বেও  কায্যকরন ক্ষেত্র পয্যন্ত নারীদের পৌঁছাতে ব্যার্থ্যই হচ্ছে।

   অদ্যাবদি অব্যাহত চেষ্টার পরেও প্রশাসনের উচ্চস্তরে নারী প্রশাসক হাতে গুনে বলে দেয়া সম্ভব। সরকারের নীতি নির্ধারনী পয্যায় যারা উঠে আসতে পেরেছেন তাঁদের সংখ্যা এত কম যে--'সারা দেশের মানুষ তাদের নাম জানে'।স্থানীয় সরকার, সংসদ, মন্ত্রী সভা, চাকুরী সর্বত্র সংরক্ষিত এবং কোটা নির্ধারন করেও তাঁদের কাঙ্ক্ষিত অগ্রসরতায় গতি আনতে পারছেনা। উচ্চশিক্ষা, আধুনিকতা, বিজ্ঞানের অগ্রসরতায় নারীদের চিন্তা, চেতনা, মানষিকতায় যতটুকু পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল ততটুকু পরিবর্তন আসেনি। শুধুমাত্র প্রথাগত অভ্যস্ততা পরিহারে নারীদের  অনিহা এবং প্রয়োজনীয় মহুর্তে সাহষিকতার অভাবে।

         তৃনমূল ইউনিয়ন পরিষদে 'সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নির্বাচন--"নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সামাজিক নেতৃত্বে নারীর অবস্থান সুনিশ্চিত করার লক্ষে নেয়া সরকারের সাহষি পদক্ষেপ।" এখানেও বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে  বলদর্পি অধিকতর সচেতন পিতৃতান্ত্রিক পরিবার প্রধান পূরুষ। অধিকতর শিক্ষিত, মার্জিত, রুচিসম্পন্ন, তুলনামূলক সচ্ছল পরিবারের নারীগন--"কৌশলি নারী নেতৃত্ব বিদ্বেসী পরিবার প্রধান পুরুষ সদস্যেদের বাঁধার মুখে নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে পারছেন না। প্রথাগত অভ্যস্ততাহেতু 'মহিলারাও পূরুষ নির্ভরতার কারনে পিতৃতান্ত্রিক বাঁধা উপেক্ষা করার সাহষ দেখাতে পারছেনা। তদস্থলে নিরিহ গরীব, অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, স্বামী পরিত্যাক্তা, বিধবা মহিলাগন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তাঁরা কর্মস্থলে সংখাধিক্য পুরুষ সদস্য নিয়ন্ত্রিত ইউনিয়ন পরিষদ এবং  বাসস্থল নীজ সমাজে অধিকতর প্রভাবশালী পিতৃতান্ত্রিক পরিবারগুলির উপর কোনরুপ প্রভাব সৃষ্টি করতে পারছেনা।

     তৃনমূলে নারীদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সামাজিক নেতৃত্বে নারীদের অবস্থান নিশ্চিত" করার প্রয়াস "শিক্ষিত পিতৃতান্ত্রিক পরিবারের সদস্যদের "পৌরষত্বের অহমিকায় বড় ধাক্কা"। নারীমুক্তি, নারী স্বাধীনতা এবং নারী জাগরনের ক্ষেত্রে "নীরব  সামাজিক বিপ্লব"। নারীদের সচেতনতার অভাবে পূরুষগন তাঁদেরকে কৌশলে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে কাংক্ষিত স্বাধীনতা, সার্বিক মুক্তির বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সুফল ভোগে বাধাগ্রস্ত করে চলেছে।--"নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক নেতৃত্বে নারীর অবস্থান নিশ্চিতে "নীরব বিপ্লবের" বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহন করেছে নারীর স্ব-গৃহের পিতৃতান্ত্রিক পরিবারের বলদর্পি পূরুষ।"

     শহরকেন্দ্রিক নারী আন্দোলন বা নারী জাগরন গ্রামে বসবাসরত: : কোটি নারীর মনে রেখাপাত করতে পারেনি।নারী আন্দোলনের হাওয়া গ্রামে পৌছাতে ব্যার্থতা নারী জাগরনে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য বাস্তবের মুখ দেখেনি। নারীদের শহরকেন্দ্রিক আন্দোলনে সর্বশ্রেনীর নারীর অংশগ্রহনের শূন্যতা সার্বিক আন্দোলনের আবহ সৃষ্টিতে সক্ষম না হওয়াও অন্যতম কারন বটে।নারীর অগ্রগামীতায় যতটুকুই অগ্রসরতা অর্জিত হয়েছে তাও পূরুষের বদন্যতার ফসল। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ বছর উচ্চস্তরে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে নারীর লাগাতার অবস্থানের বদন্যতার ফসল বর্তমানের যৎকিঞ্চিত প্রাপ্তি---কোন অবস্থায় নারী সমাজের আন্দোলনের ফসল নয়।

      বর্তমানের যৎকিঞ্চিত অর্জনকে সংরক্ষন করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পুর্বশর্ত নারী সমাজের ঐক্যবদ্ধ সাংগঠনিক ভিত্তিতে আন্দোলন ব্যাতিরেকে সম্ভব নয়। দাবি আদায়, সংরক্ষন, বাস্তবায়ন, নারীমুক্তি, সহিংসতারোধ যাহাই বলিনা কেন তৃনমূল পয্যন্ত আন্দোলনের বিস্তৃতির প্রয়োজনে সাংগঠনিক শক্তিকে ইউনিয়ন, গ্রাম পয্যন্ত বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার কোন বিকল্প নেই। শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষন, হত্যা, গুমের বিরুদ্ধে শহরকেন্দ্রিক সাময়িক প্রতিবাদী ভুমিকা সামগ্রিক নারী সচেতনতা বা নারী আন্দোলনে কোন ভুমিকা বা প্রভাব রাখা সম্ভব নয়।
ruhulaminmujumder27@gmail.com

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg