মার্কিনীদের আরধ্য বাংলাদেশ--তাঁবেদার, অ-শুভশক্তির সম্মিলীত লুটপাটের বাংলাদেশ।
(রুহুল আমিন মজুমদার)

     গতকালই লিখেছিলাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের--বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে তাঁর বিচিত্র উপলব্দি নিয়ে। ৩৫ বছরের কূটনৈতিক জীবনে এমন রাজনৈতিক বেসামাল বিচিত্রদেশ দেখেননি তিনি। অদ্য একই ব্যাক্তির উপর পুনরায় লিখতে হবে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি।অদ্য তিনি আর একধাপ এগিয়ে বলছেন---"বাংলাদেশের বাক ও ব্যাক্তি স্বাধীনতা, গনতন্ত্র ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে"। আসলে কেমন বাংলাদেশ মার্কিনীদের উপলব্দিতে ছিল? আসুন দেখে আসি অতীতের কিছু স্মৃতি----

 আপনার উপলব্দিতে ছিল যাহা জনাবা বার্ণিয়াকট।

   -গত পাঁছ/সাত বছর আগেও বাংলাদেশের মানুষ রেডিও, টিভি, এবং সংবাদ পত্রের উপর নির্ভর ছিল-খবরাখবর জানার জন্যে। তখনও সর্বসাকুল্যে দশ থেকে পনর লক্ষ মানুষ রাজনৈতিক হালচাল সম্পর্কে খবরাখবর রাখতেন। রাজনৈতিক দলের সর্বশেষ কর্মসূচি এবং দলের মনোভাব জানার জন্যে জেলা /উপজেলা শহরে কেন্দ্রীয় নেতাদের জনসভার সময় পয্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন হ'ত। অথবা দলের কায্যকরি কমিটির সভা অনুষ্ঠান পয্যন্ত অপেক্ষার প্রহর গুনা ছাড়া উপায় ছিলনা।

      বাংলাদেশের এমন বহু অঞ্চল ছিল পত্রিকা পৌঁছাতেই এক দুইদিন সময় পেরিয়ে যেত। তাও সর্বসাধারনে পত্রিকা বা বই কিনে পড়ার অভ্যেস কখনই বাংলাদেশের মানুষের মননে  গড়ে উঠেনি। স্থানীয় বাজার, হাট, ক্লাব, বিদ্যালয়, শিক্ষক, রাজনীতিবীদ, রাজনৈতিক সচেতন কিছু মানুষ পত্রিকা রাখতেন, সেখান থেকেই পত্রিকা পড়ার তৃঞ্চা মিটাতে হ'ত গ্রামের বেকার যুবক, স্বল্প লেখা পড়া জানা মানুষের মধ্যে একটা অংশের। যেহেতু অধিকাংশ গ্রামে এবং কি কোন কোন ইউনিয়ন পয্যায়ও বিদ্যুত সংযোগ ছিলনা-- টিভিও  সর্বসাধারনের দেখার সুযোগ ছিলনা। যাহাই ছিল তাতেও অহরাত্র টিভি প্রোগ্রাম চালু ছিলনা।  "টকশো ধরনের অ-বাস্তব কল্পকাহিনী নিয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত" প্রদান করে জনগনকে বিভ্রান্ত করতে পারে--"এমন কোন অনুষ্ঠান প্রচারের রীতি তখন পয্যন্ত টিভি প্রোগ্রামে গড়ে উঠেনি"।

বর্তমানের বিচিত্রতা জনাবা বার্ণিয়াকট।

       অনেকের তিরস্কৃত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানের সুযোগে   বিগত পাছ/সাত বছরের মধ্যে অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে।বিদ্যুত উৎপাদন বেড়েছে গানিতিক হারে- বিদ্যুতায়নের আওতায় এসে গেছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল। সাইবার ক্যাবলের সুবিধা নিয়ে ইন্টারনেটের ব্যবহার ছড়িয়ে পড়েছে অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, শিক্ষিত, নারী পূরুষ, আবাল, বৃদ্ধবণিতা সর্বত্র। শুনে আশ্চায্য হওয়ার মতই তথ্য--"বাংলাদেশের ১১কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যাবহারের সুযোগ গ্রহনরত: রয়েছে।"
    ১১কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারির মধ্যে আটকোটি নরনারী পেইজবুক, গুগুল, টুইটার সহ অন্যান্ন সামাজিক মাধ্যমের সাথে সরাসরি সংযুক্ত।এই সমস্ত সামাজিক মাধ্যমে হাজার হাজার অন-লাইন পত্রিকা, পোর্টাল, ওয়েভ পেইজ--তাঁদের স্ব-স্ব বিশ্বাস, আদর্শ প্রচারের উদ্দেশ্যে চালু রেখেছে।সেকেন্ডের মধ্যে বিশ্বের কোথায় কি ঘটছে--"তৎক্ষনাৎ লাইভ ফুটেজ, ভিডিউ ফুটেজ, বন্ধুদের ষ্টেটাস, পোষ্টের মাধ্যমে সরাসরি দেখা এবং জানার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
    এমন শতশত লাইভ ভিডিও পোর্টাল চমকপ্রদ শিরোনাম ব্যবহার করে পোর্টালে প্রবেশে আগ্রহী করে তোলে যাহা বাস্তবতায় সেই পোর্টাল বা লাইভ ভিডিওতেই বলা হয়নি ।এমন লাইভ পোর্টালের মধ্যে আমার এই মহুর্তে স্মরনে আসা অন্যতম "ক্রোম" লাইভ পোর্টাল একটি--"যে লাইভ চ্যানলটি মনে হয় জম্মেও ভুয়া।"
    এনটিভি, চ্যানেল আই ইত্যাদি তো রয়েছেই।কেন্দ্রীয় নেতাগন সপ্তাহ বা মাসে একবার নীজ এলাকার নির্বাচক মন্ডলী নিদেনপক্ষে নেতাকর্মীদের সাথে লাইভ এ সংযোগ রক্ষা করে চলেছেন। গ্রামের সদ্য তরুন লাইক দিয়ে রেখেছে তাঁর প্রিয় কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা বা নেত্রীকে। নীজের অভিমত প্রকাশ করছে প্রীয় নেতার সৃজিত পেইজ, পোর্টাল, ইমেইল, ম্যাসেঞ্জারে। বরেন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সংযোগ বা সান্নিধ্য পাওয়ার সহজ সুযোগ ৫/৭ বছর আগে কেউ কল্পনাও করেনি।

     কোন নেতা কখন কি বলে, দলীয় কর্মসূচি কি, কার কি মনোভাব,  কার কি গতিবীধি, সরকারের কোন মন্ত্রনালয়ে কর্মকাণ্ড কি, নিজের এলাকায় কি প্রজেক্ট  আছে, এলাকার কোন বড় রাস্তাটি এই বছরই পাকা হবে, দেশের কোথায় কি এই মহুর্তে ঘটছে, সরকারের ভুমিকা কি, বিরুধী দলের করনীয় কি ইত্যাদি তৎক্ষনাৎ জানার সুযোগ প্রত্যেকের হাতের মুঠায়।

    "এমন সময়ে বার্ণিয়াকটের উক্তি বাক ও ব্যাক্তি স্বাধীনতা, গনতন্ত্র সংকোচিত হয়ে আসছে।"বিচিত্র রাজনীতি" তাঁর ৩৫ বছরের কূটনৈতিক জীবনে কখনই কোন দেশে দেখেননি।"আসলেই তাই, দেখেননি সত্য-এত দ্রুত ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে হাঁটা দেশ ভিক্ষা দেয়ার পয্যায় পৌঁছে যেতে পারে--!!!

আসলেই বিচিত্র বাংলাদেশ ম্যডাম বার্ণিয়াকট।

        মুলত: বার্ণিয়াকটের উক্তির সত্যতা কেবলই নিছক মন্তব্য বলে ধরে নেয়ার কোন কারন নেই।'৭২-৭৫' সালের বাংলাদেশ এবং তাঁর সরকারের যে সামর্থ্যটি ছিলনা ; সেই সামর্থ্যটি বর্তমান সরকারের নেই চিন্তা করাটাতেই তাঁর বিচিত্রতার অনুসন্ধান করা প্রয়োজন মনে করি। গুজব, ষড়যন্ত্র, আগাম রাজনৈতিক কৌশল ইত্যাদি নতুন দেশের নতুন সরকারের সামর্থ্যে থাকার কথাও ছিলনা।
      ৭২-৭৫ সালে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব ছিল গুটি কয়েক দেশের সঙ্গে, ফলে খাদ্যের চালান ফেরৎ নিয়ে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি সম্ভব হয়েছিল।বর্তমানে বন্ধুত্বের পরিধি বেড়ে  হাজার গুনে বৃদ্ধি পেয়েছে। তখন খাদ্যের জাহাজ ফেরৎ নিয়ে খাদ্য সংকট সৃষ্টি করতে পারলেও এখন বাংলাদেশের তৈরি পোষাকে শুল্ক আরোপ করে রপ্তানী ব্যবসায় ধ্বস নামানো সম্ভব হচ্ছেনা।
     বিগত সরকার তাঁদের তাঁবেদার ছিল বিদায় যা চেয়েছেন তাই পেয়েছেন--- বর্তমান সরকার তাঁদের চাওয়ার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করতেও কার্পন্য করছেনা। আগের সরকারের মন্ত্রীরা তাঁদের রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাকে "ইয়েস স্যার ইউর একসিলেন্সি" সম্ভোধন করে সম্মান জানালেও বর্তমান সরকারের মন্ত্রীরা "চার আনার মন্ত্রী' বলে উপহাস করে।আগের সরকার গুলি সাহায্যের জন্যে ধনাঢ্য সাতজাতির বৈঠকে চেয়ারের পিছনে দাঁড়িয়ে মৌ'সাহেবি করে সুদৃষ্টি কামনা করলেও বর্তমান সরকারকে আগাম নিমন্ত্রন জানিয়ে, বিমানের টিকেট পাঠিয়ে, "পয্যবেক্ষন ও বাংলাদেশের সাফল্যের কাহিনী শুনা"র অনুরুধ জানাতে হয়। আগের সরকার গুলিকে ঋন দিয়ে ব্যবহার করা শেখানোর জন্যে সেই অফিসের ঝাড়ুদার, পিয়নকে উচ্চমুল্যে বেতন দিয়ে অফিসার বানিয়ে আনার প্রয়োজন হ'ত--বর্তমান সরকারের সময়ে ঋন দেয়ার জন্যে বাংলাদেশে এসে সরকারের উচ্চ পয্যায়ে নিয়মিত মৌ'সাহেবি করার প্রয়োজন  হয়।

আরো আছে ম্যাডাম বার্ণিয়াকট।

        শেখ কামাল ব্যাংক ডাকাতি করেছে গুজব ছড়িয়ে তখন গেলানো সম্ভব হলেও এখন সজিব ওয়াজেদ জয়ের একাউন্টে 'ত্রিশলক্ষ ডলার' জমা আছে গুজব ছড়িয়ে চেলেঞ্জের মুখে পিছু হটে লজ্জা পেতে হয়। বঙ্গবন্ধুর ছেলের বিয়ে 'সোনার মুকুট' পরিধান করে সম্পন্ন হয়েছে গুজব বিশ্বাস করানো গেলেও এখন পদ্মাসেতুর ঘুষ কেলেংকারীর গুজব আন্তজাতিক আদালতে মিথ্যা, ষড়যন্ত্র, গুজব প্রমানিত হলে গুজবের জম্মদাতা 'রাজপথে বের হওয়া সংকট হয়'।

 আপনার সরকারের তাঁবেদারির বদন্যতার নমুনা 'জানাবা বার্ণিয়াকট'।

  বাংলাদেশকে বহিবিশ্ব ঋন, ভিক্ষা, সাহায্য দেয়ার জন্যে উন্নত দেশ ও সাহায্য সংস্থাগুলীর কর্মচারীদের দিয়ে একটি কমিটি করে দিয়েছিলেন। প্যারিসভিত্তিক উক্ত সাহায্য, ভিক্ষা, ঋন বরাদ্ধের কমিটির নাম ছিল "প্যারিস কনসোটিয়াম।" আপনাদের ইশারায় তাঁরাই নির্ধারন করতেন বাংলাদেশের কি পরিমান ঋন, সাহায্য, লাগবে এবং কি পরিমান ভিক্ষা দিতে হবে। এতই অবহেলিত ছিল বাংলাদেশ--"উন্নত দেশের সরকার প্রধানদের সাথে এই সমস্ত ঋন, সাহায্য, ভিক্ষা খোঁজার সুযোগও আপনারা দিতেননা"। আপনাদের উন্নত দেশের রাজকর্মচারি নিয়োগ দিয়ে রেখেছিলেন বাংলাদেশকে ভিক্ষা দেয়ার জন্যে। বছরে একবার প্যারিসে উক্ত কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হ'ত। সেই বৈঠকে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারন করা হত। ধনাঢ্য সাহায্যদাতা দেশের কর্মচারি, আন্তজাতিক সাহায্য সংস্থাগুলীর নিম্নশ্রেনীর কর্মকর্তারাও সেখানে; বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে যাওয়া উচ্চ পয্যায়ের প্রতিনীধি দলকে সামান্য এদিক সেদিক ভুলের কারনে চোখ রাঙিয়ে শাসাতেন।
বলে রাখা ভাল--"শুধুমাত্র বাংলাদেশকে সাহায্য করার জন্যেই ঐ বৈঠক অনুষ্ঠিত হত প্রতি অর্থ বছর শেষে।"  "অন্যান্য দেশের সাহায্য, ঋন সরকারি পয্যায় এবং দাতা সংস্থাগুলি বনাম সরকার" আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে হলেও বাংলাদেশের সেই সুবিধা ছিলনা। বৈঠকে সকল সদস্যের উপস্থীতি নিশ্চিত করার জন্যে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীকে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হ'ত।

সে দিন কি আর আছে--মাননীয়া বার্ণিয়াকট ম্যাডাম---?

 বিগত আট বছরের মধ্যে প্যারিস কনসোটিয়াম সদস্য বৃন্দ  জীবিত আছে নাকি মৃত্যুবরন করেছে--তাঁর খবরও নেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি বর্তমান সরকার। ২০০৯ ইং সালেই তাঁদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেছে বর্তমান সরকার। কোন দেশের সাহায্য নেয়া দুরের থাকুক, সাহায্য দেয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ--"ইতিমধ্যে তা প্রমানও করেছে বাংলাদেশ।"
 আপনাদের সরকার প্রধান গঙ্গার পানি আনতে ভুলে গেলেও বর্তমানের মুক্তিযুদ্ধের সরকার প্রধান আন্তজাতিক আদালতে মামলা করে "সাগর" আনতে জানে। বিগতদিনে শতকরা নব্বই টাকা বিদেশী সাহায্য, ঋন, ভিক্ষা নিয়ে বাজেট প্রনয়ন করা হলেও বর্তমানে তাঁর উলটো নব্বই টাকাই নিজস্ব রাজস্ব আয়ের টাকায় বাংলাদেশের বাজেট প্রনীত হয়।বাকি শতকরা দশ টাকা ঋনের উপর নির্ভরশীল রয়েছে তবে "সাহায্য এবং ভিক্ষা" যাদুঘরে পাঠিয়ে দিয়েছে বর্তমান সরকার। তখন ব্যাংক রিজার্ভ প্রায়শ: শুন্য থাকলেও এখন এশিয়ার বৃহৎ দেশগুলীর চাইতেও বেশী টাকা প্রত্যহ রিজার্ভ জমা রাখতে জানে বাংলাদেশ।

বিচিত্র রাজনীতি উপলব্দির আরো কারন আছে জনাবা ম্যাডাম বার্ণিয়াকট।

আগের প্রধানমন্ত্রী নির্দিষ্ট হারে করদিয়ে কালটাকা সাদা করলেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আগেও কোনদিন এইরুপ কল্পনা করেনি এখনও করেনা। আগের অশিক্ষিত যুবরাজ 'হাওয়া ভবন' বানিয়ে পার্সেন্ট সংগ্রহ করলেও বর্তমান আইটি বিশেষজ্ঞ সুশিক্ষিত যুবরাজ সরকারের 'আইটি উপদেস্টা' হয়েও সরকার থেকে বেতন, ভাতা, গাড়ীর জ্বালানী নেয়ার প্রয়োজন মনে করেনা। আগের প্রধানমন্ত্রী নামমূল্যে অথবা জোরপূর্বক রাষ্ট্রীয় সম্পদ দখল করে বসবাস করলেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পিতৃসম্পদ রাষ্ট্রকে দান করে দিয়ে সর্বস্বহারা হতে জানে। আগের প্রধান মন্ত্রী ছেড়া গেঞ্জী, ভাঙ্গা স্যুটকেস থেকে কোটি কোটি টাকার সম্পদ, কোকো জাহাজ, ডান্ডি ডাইং এর মালিক হলেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জম্মেই জমিদারঘরে হওয়া সত্বেও অদ্যবদি ঢাকায় কোন বাড়ী বা কারখানার মালিক হতে পারেননি।

সবশেষ কারন কি বলি জনাবা বার্ণিয়াকট--?

আপনাদের তাঁবেদার সরকারের শাষনামলে বুকের তাজারক্ত ঢেলে দাবী আদায় করা নিয়মে পরিণত হয়েছিল। বর্তমানে তা আর দরকার হয়না, রাজপথে কেউ না থাকলেও সকলের পরামর্শে নির্বাচন কমিশন নিয়োগ হয়। বিগতদিনে বিরুধীদল সার্বক্ষনিক সক্রিয় থেকেও গনতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি ; বর্তমানে বিরুধীদলের সর্বত্র অনুপস্থীতি, নিস্তেজ, আন্দোলন বিমূখ প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সর্বাত্মক অসহযোগীতায়ও গনতন্ত্র সাবলিল থাকে আগামীতেও থাকবে।
   যথারীতি যথাসময়ে নির্বাচন হবে,জনগনের রায় নিয়ে সরকার গঠিত হবে;ষড়যন্ত্রের সরকার আর বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করতে পারবেনা। আপনাদের বিচিত্রতার কারন  সেই নির্বাচনে আপনাদের তাঁবেদার সরকার ক্ষমতায় আসবেনা--তাঁরা এখন জনগন থেকে বিচ্ছিন্ন। জনগন মনে করে ষড়যন্ত্র, নাশকতা, অস্থিরতা, পরনির্ভরশীল, স্বাধীনতা বিরোদী,অশুভশক্তির সম্মিলীত জোট বাংলাদেশের মঙ্গল চায়না।তাঁদের উদ্দেশ্য লুটেপুটে নীজের সম্পদ বৃদ্ধি করে আরাম আয়েশে দিনযাপন।
ক্ষমতায় আসবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল।সেই দলের নেতৃত্বে পরিচালিত সরকার উৎযাপন করবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি ইনশাল্লাহ। ততদিনে স্বীকৃত হবে বাংলাদেশ এখনথেকে আর নিম্নমধ্য বিত্ত নয় 'মধ্যম আয়ের দেশ।"
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আরাধ্য স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।

ইহাই কি নয় আপনার বিচিত্র উপলব্দি  জনাবা বার্ণিয়াকট--?
    "জয়বাংলা       জয়বঙ্গবন্ধু"
  ruhulaminmujumder27@gmail.com

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg