বর্তমান যুগে একমাত্র নিয়ন্তর গনতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে "বিশ্বমানবতার মুক্তির ধর্ম ইসলাম" প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
   (রুহুল আমিন মজুমদার)

    গনতন্ত্র আসলে কি? বিভিন্ন রাষ্ট্রনায়ক থেকে দার্শনিক, মনীষিরা গনতন্ত্রের সংজ্ঞা যেভাবে দিয়েছেন ঐ সংজ্ঞাও যদি বিশ্লেষন করি তাহলেও গনতন্ত্রের আগে পরে কোন বিশেষনের প্রয়োজন হয়না।জনকল্যান মূখি রাষ্ট্রব্যাবস্থা গঠনকল্পে গনতন্ত্রে নেই এমন কোন  নীতি অবশিষ্ট নেই।যতসব ভাল,উন্নত, সমৃদ্ধ গুনাবলি সব ভাল গুনাবলি গনতন্ত্রে উপস্থিত।শুধুমাত্র একটা দিক খারাপ বলা যেতে পারে, গনতন্ত্রের অন্যতম একটি বাহন জনগনের সরাসরি মতামতে বা ভোটে নেতা নির্বাচনে অনেক সময় খারাপ লোকও নির্বাচিত হয়ে যেতে পারে।
    জনগনের সরাসরি ভোটে বলতে কি উপস্থিত সকলের? না, সকলের নয়- ম্যাজরিটির বা বেশীর ভাগ উপস্থিতির। ম্যাজরিটির মতামতকে মাইনোরিটি মেনে নিতে হয়। বৃহদাংশের মত ক্ষুদ্র অংশের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে  বলা হলেও গনতন্ত্র অর্থহীন।সকলের মত কোন অবস্থায় এক হয়না,একক যেহেতু হয়না গ্রহন করার প্রশ্নই উঠেনা। সকলের ভিন্ন ভিন্ন অভিমত  গ্রহন করতে গেলে শৃংখলাই থাকেনা।বৃহদাংশের মতামতকে মেনে নিতে শৃংখলিত করার রীতিকেই বলে 'গনতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা'।'গনতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা' সফল করার নিমিত্তে প্রথমেই প্রয়োজন সহনশীলতা। সহনশীলতা সাধারনত: ব্যাক্তির চরিত্রে একদিনে বা একাধিক বছরেও অর্জিত হয়না,  ব্যাক্তির চরিত্রে ধারন করার জন্যেও প্রয়োজন হয় নিবিড় চর্চার।

উনিশ শতকের মাঝামাঝি সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদ বিশ্বব্যাপি তরুন সমাজকে নাড়া দিতে পেরেছিল। বিশ শতকের মধ্যভাগে ‘সমাজতন্ত্রের’ জনপ্রিয়তা আকাশচুম্ভি আকার ধারন করেছিল।এমনও ভাবা হ'ত প্রকৃত সমাজতন্ত্র হচ্ছে গণতন্ত্রের উচ্চতর রূপ। কোন কোন দেশে অতি গনতান্ত্রিক বা সমাজতান্ত্রিক বুঝানোর অর্থে গনতন্ত্র বা সমাজতন্ত্রের আগে পরে যুৎসই অন্য একটা শব্দ যোগ করে দিতেন।পরবর্তীতে দেখা গেছে গনতন্ত্রের উচ্চরুপ সমাজতন্ত্রতো নহেই গনতন্ত্রের ধারে কাছেও নেই।উক্ত বিশেষন সম্পুর্ণ ফ্যাসিষ্ট শাষনকেও হার মানায়। উদাহরণ হিসেবে উত্তর কোরিয়ার কথা বলা যায়। দেশটির মুলত: নাম "ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়া।" উত্তর কোরিয়ায় কেমন ডেমোক্রেসি আছে বা কয় জন পিপল রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে অংশ নিতে পারে, কমবেশি আমরা সবাই জানি।  গালভরা বুলি কপচে যতই তন্ত্রমন্ত্রের গুণগান করা হোক না কেন, তা যে আসলেই কত ঠুনকো, অন্তঃসারশূন্য, তা এ ধরনের দেশের হালচাল দেখলেই বোঝা যায়।

  আমাদের অত্যান্ত নিকটের দেশ শ্রীলঙ্কা।সাংবিধানিক  নাম "ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক অব শ্রীলঙ্কা।" বাইরে থেকে আমরা অনেকেই ওই দেশের ভেতরের খবর জানি না বা রাখি না। ওই দেশের অনেক নাগরিক মনে করেন ওখানে গণতন্ত্রের ছিটেফোঁটাও নেই। সমাজতন্ত্র তো নির্বাসনে গেছে অনেক আগেই। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে মানবাধিকারের রেকর্ড তলানিতে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কাই সবার আগে বিদেশি পুঁজির জন্য দরজা খুলে দিয়েছিল। শাষনব্যবস্থার ভুলের কারনে বিদেশী ঋণের ভারে দেশটির অর্থনীতি অনেকটাই নিস্তেজ হয়ে পড়েছে।

       একসময় বিশ্বের দেশে দেশে রাজা-রানিদের শাসন ছিল। এখন অবশ্য বিশ্বব্যাপি না থাকলেও অঞ্চলভেদে দেখা যায়। আরব দেশগুলোতে এখনো রাজা-বাদশাহরা দণ্ডমুণ্ডের কর্তা, কিন্তু ইউরোপের দেশগুলোতে রাজা-রানিরা সংবিধানের আলোকে অলংকারমাত্র, কিন্তু প্রজা সাধারন যথেষ্ট সম্মান ভক্তি বজায় রেখেছে। প্রজাতন্ত্র হলেই যে প্রজাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্রজাতন্ত্রের নামের আড়ালেও স্বৈরশাসন থাকতে পারে, বাংলাদেশ তাঁর যুৎসই উদাহরন হতে পারে।বিগত চল্লিশ বছরে দুই সরকারের দাপুটে মন্ত্রী ব্যারিষ্টার মওদূদ নীজেই স্বিকার করে বলেছেন --বাংলাদেশে গত চল্লিশবছর গনতন্ত্র এবং সুশাষন ছিলনা।উল্লেখ্য কথিত চল্লিশ বছরের মধ্যে তাঁর শাষিত  দল বিএনপি, জাতিয় পার্টির শাষনই ছিল ত্রিশ বছরের অধিক।

  আমরা আলংকারিক শব্দ বা বিশেষন যুক্ত শব্দসমষ্টি ভালবাসি। সংবিধানে কোন শব্দটি আছে বা নেই, কোনটা ঢুকল বা বাদ পড়ল, তা নিয়ে আমরা তুলকালাম করি। ১৯৭২ সালে আমাদের সংবিধানের প্রস্তাবনায় 'পরম' 'পবিত্র' খাঁটি মসুলমানি শব্দরাজির ব্যবহার ছিল। ‘রাষ্ট্রীয় মূলনীতি’ গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা আর জাতীয়তাবাদ ছিল। এখনও আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষ এই শব্দগুলোর অর্থ বোঝেন কি না বা ব্যাখ্যা জানেন কি না, তা নিয়ে আমার মনে ঘোরতর সন্দেহ আছে। তারপরও আমরা এই শব্দগুলো নিয়ে কতই-না হইচই করি, হাঙ্গামা বাধাই।

     গনতন্ত্র একটি সম্পুর্ণ শাষন ব্যবস্থা আগেই বলেছি। পরবর্তিতে সমাজতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতার কি প্রয়োজন ছিল? গনতন্ত্রের উচ্ছতর রুপ সমাজতন্ত্র মেনে নিলে সমাজতন্ত্রের কোন প্রয়োজনীয়তা থাকেনা।তেমনি ধর্ম, বর্ণ, গোষ্টি, লিঙ্গ, জাতিভেদ যেহেতু গনতন্ত্রে কোন স্থান নেই ধর্মনিরপেক্ষতার কি প্রয়োজন থাকতে পারে? জাতীয়তার ব্যাপারটি স্বতন্ত্র জাতি সত্বার উম্মেষ এবং কখনই এই জাতির শাষন ক্ষমতা, স্বাধীনসত্বা ছিলনা বুঝাতে প্রয়োজন ছিল কিন্তু সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার প্রয়োজন ছিলনা--'তথাপি সংযোজিত হয়েছিল'।

   বর্তমানে একদল মানুষ গনতন্ত্র পুর্ণোদ্ধারের সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন।তাঁরা সকলেই '৭২এর পবিত্র সংবিধানে 'রাষ্ট্রধর্ম এবং বিসমিল্লাহ সংযোজনকারি।' রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম বহাল রাখার জন্যে শহিদ হতেও প্রস্তুত কিন্তু গনতন্ত্র পুণো:দ্ধারের সংগ্রামও চালিয়ে যাচ্ছেন। গনতন্ত্রের সংজ্ঞায় বা গনতন্ত্রে ধর্ম, জাতি, লিঙ্গ ভেদাবেদ সমর্থন করে? নিজেদেরকে  বহুদলীয় গনতন্ত্রের প্রবক্তা কেন বলেন? গনতন্ত্র কি একদলীয়?

      একদল মৌলভি নতুন করে বের হয়েছেন--তাঁদের জম্ম ১৯৭১ ইং সালে।- বাঙ্গালী জাতি যখন তাঁদের স্বাধীকারের লড়াইয়ে, মুক্তির লড়াইয়ে পাকিস্তানি উপনিবেশিক শাষক শোষকের বিরুদ্ধে মরণপণ লড়াইরত: ছিল; তখন চুপিসারে চট্রগ্রামের পটিয়ায় মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। উক্ত মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারেও নানাহ কাহিনী উক্ত জনপদে প্রচলিত আছে। আমি সেদিকে যেতে চাইনা---"তাঁরাও গনতন্ত্র চান, আবার ভাস্কায্য সরানোর আন্দোলনও করেন"।

      গনতন্ত্রের শিক্ষাই হচ্ছে সৃজনশীল কাজের উৎসাহ প্রদান, শিল্প, সংস্কৃতির লালন।গনতন্ত্র চাইলে ভাস্কায্য কেন সরাতে হবে? গনতন্ত্রই যদি চান নারী কেন হিজাব পড়বে, ভাইয়ের সমান সম্পত্তি বোন পাবে না কেন বা নারী তাঁর অর্জিত সম্পদের মালিক হতে পারবে না কেন? এককথায় ইসলাম সমর্থন করেনা--এই তো?

     সমর্থন করেনা বলেই তো ইসলাম গনতন্ত্র চর্চা করাকেও হারাম বলে। আপনি কেন গনতন্ত্র মেনে আন্দোলন সংগ্রাম, বক্তৃতা, বিবৃতি দেন? আপনি কি ইসলাম ধর্মের মধ্যে আছেন?বলতে পারেন গনতন্ত্র মানিনা--"গনতন্ত্র যদি নাইবা মানেন বিবৃতি প্রকাশ করেন কোন শাষনাধীনে, কিভাবে? কোন শাষনাধীনে, কিভাবে গনতন্ত্রকে অনুসরন করে মিছিল মিটিং, সভা, সমাবেশ, অবস্থান ধর্মঘট করেন? আপনারাই-তো বলেন--"ইসলাম ধর্মে  গনতন্ত্র অনুসরন, অনুকরন, বিশ্বাস, লালন সম্পূর্ণ হারাম"। তাহলে আমরা বলতে পারি--"আপনারা নিশ্চয়ই ইসলাম ধর্মভিত্তিক কোরানের আলোকে, নবী প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের লক্ষে পবিত্র ধর্ম ইসলামকে পরিচালিত করছেন না।"

      সৌদি আরব ইসলাম ধর্মের তীর্থভূমি।সৌদি বাদশাহ'র এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় ভাস্কায্য উম্মোচিত হতে পারলে বাংলাদেশে কেন সরাতে হবে? বাংলাদেশে কি কোরানের শাষন কায়েম করা হয়েছে? সরকার বলে গনতান্ত্রিক শাষন কায়েম করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি- আপনারা চাইতেছেন গনতন্ত্র পুর্ণোদ্ধার, মৌলবি সাহেবেরা গনতা। সকল পক্ষ যেহেতু গনতন্ত্রের পূজারি--সেহেতু ভাস্কায্য পেতে পারে সকল পক্ষের সম্মান, আন্দোলন হতে পারে তাঁর ভাবগাম্ভিয্য রক্ষার--তাই নয় কি?

   গ্রেট বৃটেনকে গনতন্ত্রের রাজা-রাণীর দেশ বলা হয়,শতববছর গনতন্ত্র চর্চা অব্যাহত রেখেছে বৃটেন।সেখানে গনতন্ত্রের বিধিবিধান অনুসরনের জন্যে লিখিত সংবিধানের প্রয়োজন হয়নি তাঁদের। দীর্ঘ দিনের প্রচলিত রীতিনীতিই তাঁদের জনগনের মনে স্থায়ি প্রভাব সৃষ্টি করে--অলঙ্ঘনীয় সংবিধানে পরিণত করেছে। কোনপক্ষ কতৃক প্রচলিত প্রথা বা রীতিনীতি ভঙ্গ করার উদাহরনও দেখা যায়না। সেখানে তাঁদের বিশ্ব শাষন করার ঐতিহ্য রাজপরিবারকে যথাযথ মায্যদায় লালন করে, রাজপরিবারের শাষনতান্ত্রিক ক্ষমতা উহ্য।গনতন্ত্র চর্চায় রাজ পরিবার বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।

     "গনতন্ত্র" মানব সৃষ্ট এমন একটি শাষন ব্যবস্থা-"যে শাষন ব্যবস্থা মানব কল্যানে তাঁর অন্তনিহিত সকল শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কল্যান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নিয়ন্তর চেষ্টা অব্যাহত রাখে। গনতন্ত্র ধর্ম, জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ, ধনি, গরিব, কাল, সাদা ইত্যাদি সকল বিষয়ে অন্ধ।কোন একটি বিষয় তাঁর উপর প্রভাব বিস্তারের অধিকার রাখেনা। গনতন্ত্রের কোন বিশেষন নেই, কোন অলংকার নেই, রঙ, রুপ, গন্ধ কিছুই নেই। সাদাকে সাদা, কালোকে কালো, হিন্দুকে হিন্দু, মুসলিমকে মুসলিম মেনে নিয়ে সকলের জন্যে সমমায্যদা রক্ষা করে নিজের ধর্ম সৃষ্টি করেছে "মানবধর্ম।" সুয্য যেমন তাঁর আলোতে পৃথিবীর সব কিছুতে সমভাবে আলো বিকিরণ করে; গনতন্ত্র তাঁর নিজের আলো "বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে মানবসেবার" উজ্বল আলোকরস্মির দ্বারা সবাইকে সমভাবে আলোকিত করে।
   সুতারাং মহান সৃষ্টিকর্তা ঘোষিত যুগের সাথে তালমিলিয়ে সকল জটিলতার মিমাংসা পূর্বক ইসলামকে আধুনিকায়ন ও যুগ উপযোগী করার লক্ষে কোরান ও হাদিসের আলোকে এগিয়ে নেয়াই হবে ধর্মীয় ব্যাক্তিত্বদের সময়ের দাবী পূরনের অন্যতম দুরদর্শিতার পরিচায়ক।
         ruhulaminmujumder@gmail.com


 

   

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg