একদল মৌলভি মসুলমানদের নৈরাশ্যবাদে উদ্ভোদ্ধ করে ইসলামকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে----"প্রকৃত আলেম ওলামা সাহেবেরা কি চেয়ে চেয়ে শুধুই দেখবে?"
   (রুহুল  আমিন  মজুমদার)
 
        আমগাছে ওয়াজ মাহফিলের মাইক বাঁধতে  দেয়নি বিধায় আমগাছটি পাতা, কান্ড, ফুল, কলি ঝরা ধরেছিল।গৃহস্ত ভুল বুঝতে পেরে মাদ্রাসার বড় হুজুরের হাতে পায়ে ধরে পানি পড়া এনে দেয়ার পর সাথে সাথে পাতা ঝরা, ফুল ঝরা বন্ধ হয়ে গাছ জ্যান্ত হয়ে উঠেছে।
  মাদ্রাসার ছাত্রদেরকে পাশের বাড়ীর টিউব ওয়েল থেকে পানি আনতে দেয়নি, মাদ্রাসার বড় হুজুরের বদ-দোয়ায় উক্ত টিউবওয়েলের পানির স্তর নীছে নেমে গেছে, পানি উঠেনা। গৃহস্ত বড় হুজুরের হাতে পায়ে ধরে মাফ চাওয়ার পর হুজুর দোয়া করে দেন। সাথে সাথে টিউব ওয়েলের পানি গড়গড় করে পড়া শুরু করেছে।
  বড় হুজুরের মুখের লালা দোয়া হিসেবে কবুল হয়। যে কেউ খেতে পারলে পেটের রোগ বালাই দূর হয়ে যায়।অনেকেই উপকৃত হয়েছেন। হুজুর বড় বুজর্গান--"বদ-দোয়ায় সর্বনাশ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে"।
    ত্রিশবছর আগে মাদ্রাসার ছোট হুজুর মৃত্যুবরন করেছিলেন।তিনি ছিলেন আল্লাহভক্ত নেককার সহী আলেমদের মধ্যে অন্যতম একজন। ত্রিশ বছর পর ছোট হুজুরের লাশ কবরে "তরতাজা" পাওয়া গেছে।ছোট হুজুর মাদ্রাসার বড় হুজুরকে স্বপ্নে দেখায়, তাঁর লাশ তুলে পূনরায় নতুন কাপড় দিয়ে দাপন করার জন্যে।বুজর্গান ব্যাক্তিদেরকে মাটি স্পর্ষ করতে পারেনা, কাপড় মাটিতে মিশে গেছে কিন্ত্যু পূর্ণাঙ্গ শরীর তরতাজাই রয়েছে--"কাপড় পরিবর্তন করতে গেলে দেখা যায় হুজুর যেন জীবিত এবং হাঁসছেন"।
    বন্ধুগন উল্লেখিত বক্তব্যগুলি আমার নয়--"আমার পাশ্ববর্তি গ্রামের ওয়াজ মাহফিলের মাইক থেকে আমার নীজকানে শুনতে পাওয়া হুজুরের বয়ানের অংশ বিশেষ মাত্র।" এই ধরনের লক্ষলক্ষ বাস্তব উদাহরন তুলে ধরে কতিপয় মাওলানা ওয়াজ করে থাকেন। ভিডিওতে একটি ওয়াজ মাঝে মাঝে অনেকেই শুনেছেন, আমিও শুনেছি। তিনি কিন্তু নামকরা এক ওয়ায়েজিন মাওলানা (নাম এই মহুর্তে আমার মনে আসছেনা, স্থান ব্রাম্মনবাড়িয়া)।তিনি ইন্ডিয়াতে ওয়াজ করতে গিয়েছিলেন।সেখানে তাঁর জীবনের চরম পরিণতির বর্ণনা শুনে উপস্থিত শ্রোতাগন অঝোরে চোখের পানি ফেলে দিতে দেখেছিলাম। মাওলানা সাহেব শেষ পয্যন্ত হিন্দু এবং মুসলিম ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বের বাহাসে জিতে এক হিন্দু বৃদ্ধ ঠাকুর কতৃক জেলমুক্তি ঘটাতে সক্ষম হয়েছিলেন। পরবর্তিতে সে বৃদ্ধ ঠাকুর ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছিল কিনা আমার শুনা হয়নি।
      প্রকাশ্য ওয়াজ মাহফিলের নামে নৈরাশ্যবাদ, জাতিগত হিংসা, ধর্মকে অতিরঞ্জন, আলৌকিক কাহিনীরুপে তুলে ধরার চরম, ব্যাপক প্রচারযজ্ঞের মহা উৎসব চলছে একশ্রেনীর ওলামা, মাশায়েখ কতৃক প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা কেন্দ্রিক ওয়াজ মাহফিলে। যাহা ইসলাম ধর্মে আদৌ স্বীকৃত নয় বরঞ্চ নবীজির জামানায়ও হারাম, ধর্মদ্রোহী, মোনাফেকি হিসেবে ঘোষিত হয়েছিল।বাস্তবতা বিবর্জিত কোন কিছুই ইসলামে স্বীকৃত নয়, ইহা আমাদের মনে রাখা উচিৎ।
    প্রিয় পাঠক বন্ধুরা- বর্তমান যুগ ডিজিটাল যুগ-।মগজে যখন লেখার উপজিব্য কিছু আসেনা---একা একা ভালও লাগেনা, তখন কোটি কোটি পেইজবুক ব্যবহারকারি ক্ষুদে সাংবাদিক উপস্থিত যাহাই সামনে পায় তার ছবি পোষ্ট করে বন্ধুদের জানিয়ে দেয়--"আমি আছি তোমাদের সাথে"। ঘরের লাল মোরগটি কয়টা ডিম দিল তাও বন্ধুরা পোষ্ট করতে ভুলেনা।বাচ্চা মেয়েটির পাতলা পায়খানা দেখা দিলে ষ্টেটাস দিয়ে বন্ধুদের নিকট চোখের মণির জন্য দোয়া কামনা করে থাকে।সকালে ঘুম থেকে উঠার পর চেহারা কেমন দেখায়, বিকেলে সুর্য্যের কিরন হেলে পড়লে ছবিটা কেমন হয়, লাল শাড়ীতে কেমন মানিয়েছে ইত্যকার পাতিলের খবর তৎক্ষনাৎ বন্ধুমহলে ছড়িয়ে দিতে ভুলেনা।
    দু:খ্যজনক হলেও সত্য--"মাওলানা সাহেবরা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি আনুগত্যতার কারনে মহান আল্লাহ এমন বুজর্গী দান করেছেন, তিনি যখন যাহাই কামনা করবেন আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাকে তাই দান করে থাকেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে উনারা প্রতিনিয়ত  এমন সব হাজারো কেরামতির নিদর্শন স্থাপন করার পরও কোটি কোটি পেইজবুক ইউজার  বন্ধু, শতশত সাংবাদিক, পত্রপত্রিকা, ইলেকট্রিক মিডিয়া  হিংসাবশত: প্রতিনিয়ত এমন হাজারো খবর প্রকাশ করেনা।
          বাংলাদেশের বুজর্গান মাওলানা ভারতে ওয়াজ মাহফিলে অংশ নিতে গিয়ে জীবনহানীর সংশয় দেখা দেয়া সত্বেও অপ-লাইনের পত্রিকা বিদ্বেশ বশত: খবরটি চাপায়নি।বাংলাদেশ এম্বেসিও বুজর্গান মহান হুজুরের জেলমুক্তির জন্যে এগিয়ে আসেনি। বাংলাদেশের নাস্তিক অথর্ব সরকার প্রতিবাদ দূরে থাকুক অন্তত: ভারতীয় হাইকমিশন থেকে খবর নেয়ার প্রয়োজন ছিল-তাও নেয়নি। বড়-ই দু:খ্য লাগে জেলখানায় তাঁদের দেশীয় কয়েদীদের তিনটা রুটি ডাল, মাংস খাবার দিলেও বাংলাদেশের হাজতি হুজুরকে মাত্র একটি শুকনা রুটি বরাদ্ধ দিয়েছে, সাথে পানিও দেয়নি।পানির কষ্টে আমাদের বরেন্য মাওলানা সাহেব চটপট করে মৃত্যু কোলে ঢলে পড়ার উপক্রম হলেও পাষান কাফের একফোঁটা পানি দেয়নি। এহেন অমানবিক আচরন কোন অবস্থায় মেনে নেয়া যায় না মানতে পারিনা। অথছ এই অমানুষিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কোন ধর্মীয় সংগঠন প্রতিবাদি মিছিল মিটিং করার উদ্যোগ নেয়নি। দৈবশক্তিতে জানা হয়ে গিয়েছিল মিছিল সমাবেশ নাস্তিক সরকার করতে দিবেনা।
         বে-নামাজী, বে-কেয়ামী, বে-রোজাদার, বুঝ-জ্ঞানহীন, খোদাদ্রোহী, পাপিষ্ট যুবক ছেলেপেলে, সাংবাদিক, পত্রপত্রিকা, জনসমক্ষে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের একাধিক বদখবর চাপিয়ে লাখ লাখ উলামা মাশায়েখের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে কার্পন্য করেনা।অথছ আল্লাহর কুদরত প্রাপ্তির খবর এড়িয়ে যায়।
     আল্লাহ তাঁর প্রেরিত পবিত্র পাককালামে বারবার সতর্কবানী দিয়ে বলেছেন---"জেনে, শুনে, বুঝে যদি কেউ তাঁর পাককালামের অর্থের বিকৃতি ঘটায়, মিথ্যা বলে, মোনাফেকি করে তাঁদের শাস্তি পৃথিবীতে এবং কেয়ামতের মাঠে অবধারিত। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অনুধাবন করার নিমিত্তে, সম্যক ধারনা লাভের জন্যে বহু উদাহরন মানুষের চোখের সামনে ধরে রেখেছেন। দুনিয়াতে যত পাপকাজ মানুষ করে সব পাপ আল্লাহ হয়তো বা মাফ করে দিবেন কিন্ত্যু তিনি মিথ্যা যারা বলে তাঁদের মাফ করবেন না।" মিথ্যা বলা 'মহাপাপ' বলে তিনি ঘোষনা করেছেন। দুনিয়াতে যত নবী বা রাসুল আল্লাহ পাঠিয়েছেন সবাই নবী এবং রাসুল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন কিন্তু হযরত মহাম্মদ (স:) শেষনবী এবং তিনি শ্রেষ্ঠ নবী তিনিই একমাত্র 'মহানবী'। তদ্রুপ সব পাঁপের সেরা পাঁপ অ-কষ্টকর, সহজে উচ্চারন সম্ভব একমাত্র মিথ্যাকে "মহাপাঁপ"--মিথ্যাবাদীকে "মহাপাঁপী" ঘোষনা করেছেন আল্লাহ।
    মহাপাঁপি মানুষদেরকে মহান আল্লাহ তাঁর চারপাশের পরিবার পরিজন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের নিকট দুনিয়াতেই 'লানত' দিয়ে লজ্জিত করে শাস্তি দিয়ে থাকেন। সাময়িক বিপদ আপদ ইমান পরিক্ষার আওতায় পড়ে। মৃত্যু যন্ত্রনা বা সমপয্যায়ের কষ্ট লানতের মধ্যে পড়েনা--আল্লাহ তাঁর খাস বান্দাদের মৃত্যু যন্ত্রনা বা তৎসম কষ্ট  দিয়ে  বা তাঁর আগে কঠিন শারিরীক রোগের দু:খ্য, কষ্ট, যন্ত্রনা দিয়ে গুনাহ হালকা করে, তাঁকে পাকপবিত্র করে তিনি উঠিয়ে নেন।কেয়ামতের মাঠে যেন আল্লাহর নেকবান্দা অন্য বেহেস্তি বান্দাদের নিকট লজ্জিত না হতে হয়।
    অন্যদিকে ধোঁকাবাজ, আল্লাহর হুকুমের সর্বাপেক্ষা বিকৃতকারি সর্বাধিক বিকৃত অনুগত বান্দাদের তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে এমন কঠিন বদভ্যেস ফয়দা করে দেন, সেই বদভ্যেসের জ্বালায় লোকটি বদকাজ কখন, কোনসময়ে, কোনস্থানে করতে উদ্যত হয়--সে নিজেই টের পায়না। ফলে জনসমক্ষে পরহেজগার নামাজি, অহরাত্র ইবাদতকারি,  ইমানদার, সম্মানী ব্যাক্তি হিতাহীত জ্ঞান শুন্যবস্থায় ধরা পড়ে--লোকসমাজে লজ্জিত হওয়ার ন্যাক্কারজনক উদাহরণ সৃষ্টি হ'তে দেখা যায়। লক্ষ করলে দেখা যায়--"মহান আল্লাহর এমন ধারার সত্যতার হাজারো উদাহরন আমাদের চারপাশে ঘটেনি, এমন সময় আমরা কদাচিৎ পার করেছি।মুলত: লজ্জার চেয়ে বড় শাস্তি আর কিছুই নেই--,ইহাও সত্যি।
   
     "লানৎ" শব্দটি ছোট কিন্তু তাৎপয্য বহুবীদ। সর্ব উচ্চস্থানে থেকেও কোন বদকাজের জন্যে জনসমক্ষে হেয়প্রতিপন্ন হওয়া,পরিবারের নিকট হেয় প্রতিপন্ন হওয়া,  লজ্জিত হওয়ার কারনে আত্মহত্যা করে নীজকে বিলীন করে দেয়ার ইচ্ছা পোষনের ন্যায় কাজগুলিকে "লানৎ"  বলা যেতে পারে।মহান আল্লাহ ঐ সমস্ত বান্দাকেই লানৎ" দিয়ে থাকেন যারা আচার, আচরন, কথা বার্তায়, ইবাদত বন্দেগীতে জনসমক্ষে সর্বত্তম অথছ সম্পূর্ন আল্লাহ, আল্লাহর রাসূল এবং কোরানের নির্দেশীত পথের বিকল্প।
    "লানতের" সর্বাপেক্ষা উত্তম উদাহরন হ'তে পারে "বলৎকার", সমকামিতা, ভিক্ষাবৃত্তি, বেশ্যাবৃত্তি, লুচ্চামী, পরকিয়া শব্দগুলি। সমলিঙ্গের সহবাস নিশ্চয়ই বদভ্যাসের এমন একটি--"মদ, মাদক, সুপেয় খাদ্য, বিপরীত লিঙ্গের যৌনকর্ম, স্ত্রী সহবাস ইত্যাদি ছেড়ে দেয়া সম্ভব কিন্তু সমলীঙ্গের যৌনতা তাঁদের ছেড়ে দেয়া সম্ভব হয়না। ইহা আল্লাহ প্রদত্ত একটি কঠিনতম গজব বলা যেতে পারে। ভালভাবে লক্ষ করলে দেখা যায়--এই কঠিন রোগটির সর্বাধিক আক্রান্ত ব্যাক্তিদের মধ্যে নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসীদের মধ্যে অনেকের এবং একশ্রেনীর উলামা মাশায়েখ, অতিধার্মীক, পরহেজগার ব্যাক্তিদের অনেকের মধ্যে দেখা যায়, এবং কি প্রমানীত সত্যে পরিণত হয়েছে।
    তবে হ্যাঁ ব্যাতিক্রমও আছে--ব্যাতিক্রম নেই বা সাধারনে নেই এমন বদ অভ্যেস আমি কখনই বলছিনা---কতিপয় ব্যাতিক্রম সর্বক্ষেত্রেই বিরাজমান থাকে, থাকবে। তবে উল্লেখিত দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে নজরে আসে, এবং ইহা প্রমানীত সত্য। সরকারি মাদ্রাসার আলেম--সাধারন মসুলমান, অন্যান্ন ধর্মালম্বি সাধারন মানুষের মধ্যে বেশির ভাগ উক্ত হীনকাজকে অত্যান্ত ঘৃনা এবং "কবীরাহ গুনাহ" হিসেবে বিবেচনা করে। সাধারনত আমার ব্যাক্তিগত নজরে অদ্যাবদি সরকারি মাদ্রাসার কোন আলেমের এহেন ঘৃনিত বদভ্যেস চোখে পড়েনি।  খুববেশী জনসমক্ষে লজ্জিত হওয়ার তেমন কোন উদাহরনও আমার সংগ্রহে নেই।
     অতিধার্মীকদের পরিণতি নবী করিম (স:) এর জীবিতবস্থায়ও এমন একাধিক উদাহরন আমরা দেখি। আমি দৃডতার সঙ্গে বিশ্বাস করি--"নবী তাঁর জীবদ্দশায় যা কিছু করেছেন, সব কিছু আল্লাহর হুকুমেই করেছেন।" কথিত আছে এবং বিভিন্ন ভাবে হাদিছেও এসেছে--"নবী করিম (স:) যখন পথে বের হ'তেন তাঁকে আগে কোন 'সাহাবী' সালাম দিতে পারতেন না, নবীজি আগেই সালাম দিতেন। "আবু লা'হাব" সাহাবীদের মধ্যে খুবই ইমানদার, পরহেজগার এবং নবীজির প্রিয় সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন। তিনি নবীজি কেন, কিভাবে আগে সালাম দিতে পারেন এই সম্পর্কে পরিক্ষা করার জন্যে একদিন নবীজি যে পথে প্রতিনিয়ত বের হন, সেই পথের ঝোঁপের আড়ালে বসে রইলেন-। নবীজিকে আগে সালাম দিতে পারেন কিনা, পরিক্ষা করার উদ্দেশ্যে।
     নবীজি যথারীতি বের হয়ে উক্ত স্থানে আসামাত্রই "আবু লাহাব" লাফ দিয়ে উঠে নবীজিকে সালাম দিলেন।নবীজি সাথে সাথে আবু লাহাবকে ইসলাম থেকে 'খারেজ' করে দিয়ে বলেছেন "আবু লাহাব মানুষরুপি শয়তান"। পবিত্র কোরানেও এই ঘটনার বিবরণ যথাযথভাবে এসেছে।নবীজি তাঁর উম্মতদের সতর্ক করে বলেছেন---"একদল ইসলামধর্ম রক্ষক, প্রচারক বের হবে, তাঁরা দেখতে প্রকৃত ইসলামের অনুসারীর মতই হবে, সাদা বকের চাইতেও সুন্দর পাগড়ী পড়া উক্ত ধর্মপ্রচারক গন মসুলমানদের ইমান আ'কিদা, বিশ্বাসে চিড় ধরানোর যাবতীয় উপাদান তাঁদের মধ্যে দেখা যাবে, তাঁরা আর কেউ নন- আবু লাহাবের অনুসারী'--"ইসলামের দলত্যাগী বা খারেজ বা খারেজী হিসেবে পরিচিতি পাবে।"
    উক্ত ঘটনার কিছুকাল পর খলিফা শেরে আলীর সময়কার একটি যুদ্ধেও তাঁর সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হতে দেখা গেছে।একদল মুসলিম হযরত আলীর শাষনামনে যথাযথ ভাবে ইসলাম ধর্ম রাষ্ট্রীয় পয্যায় হযরত আলী অনুসরন করছেনা--মর্মে তাঁর রাজত্বে বিদ্রোহ করেন।হযরত আলী (র:) তাঁদেরকে দমন করার জন্যে সৈন্যসামন্ত সহকারে সেখানে গিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হলেন। প্রচন্ড যুদ্ধ চলার পর বিদ্রোহী বাহিনী নাস্তানাবুদ হয়ে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হলে, শয়তানীর ভাব জেগে উঠে তাঁদের মধ্যে। শয়তান "বিদ্রোহী ইসলামী সৈন্যদের দলনেতা" উপায়ন্তর না দেখে "বর্শার মাথায়" পবিত্র কোরান বেঁধে "যুদ্ধবিরতির আহব্বান জানালেন।
    সেই দিনটি ছিল শুক্রুবার, যুদ্ধটিও হচ্ছিল গভীর জঙ্গলের পাশে খোলা ময়দানে। যেহেতু পবিত্র কোরান উঁচিয়ে যুদ্ধ বিরতির আবেদন জানিয়েছে সেহেতু উক্ত আহব্বানকে অমান্য করে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কোন অবস্থায় মুসলিম বাহিনীর সমচিন নয়। "হযরত আলী" যুদ্ধ বিরতির ঘোষনা মেনে নিয়ে, সৈন্যদের জুমার নামাজের প্রস্তুতি এবং খাবার প্রস্তুতের নির্দেশ দিলেন। হযরত আলীর সেনাবাহিনী দীর্ঘদিনের যুদ্ধের ক্লান্তি নিয়ে এদিক সেদিক ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল, কেউ কেউ রান্নাবান্নার কাজে মনযোগ দিল, অনেকেই  জুম্মার নামাজের প্রস্তুতির ব্যাস্ততায় মগ্ন। এমনি সময় ইসলামের মুখোশধারী শয়তান আলেমদের পক্ষ থেকে সাড়াশি আক্রমনের মাধ্যমে মুসলিম সৈন্যদের অকাতরে হত্যা, লুটপাট করে চরমভাবে পরাজিত করে বীরত্ব প্রকাশ করে। তাঁরা আর কেউ-ই নয়--"নবীজি কতৃক ইসলাম থেকে খারেজ হওয়া "আবু লাহাবের অনুসারী অতিধার্মীক "খারেজী"র বংশ বা অনুসারী শয়তান।ইসলামের ইতিহাসে বেঈমানী, মোনাফেকি, শতানের এই যুদ্ধ " জুম্মাতুল জঙ্গল" নামে বিধৃত হয়ে মসুলমানদের নিকট অনুকরনীয় হয়ে রয়েছে।
   
      ইসলামে নৈরাশ্যবাদ, অতিরঞ্জন, গলাবাজি,ঠোঁটবিক্রির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ, ভিক্ষাবৃত্তি কোনবস্থায় স্বীকৃত নয়, বরঞ্চ হারাম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এমনকি কাফের শাষিত রাষ্ট্রে বসবাসকারি ইসলাম ধর্মের অনুসারিদের "রাষ্ট্রীয় আইনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ সম্পূর্ণ নিষেদ" করেছেন। কাফের শাষন মেনে জীবন যাপন করার নির্দেশনা দিয়ে  "পবিত্র জুমাবার" অতিরিক্ত নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মহান সৃষ্টি কর্তার নিকট "কাফের শাষন থেকে মুক্তির আরজ" করার জন্যে বলা হয়েছে।এর ব্যাত্যায় আল্লাহ তাঁদের বংশানুক্রমে লানৎ দিয়ে পৃথিবীতে অনুসরনের জন্যে উদাহরন সৃষ্টি করে রাখার হাজারো কৃর্তি আমাদের চোখের সামনেই আছে।কিন্তু আমরা তা দেখেও নাদেখা বুঝেও না বুঝার ভান করে থাকি।
      জাতি, ধর্ম, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারিগন নবীজির শাষনামল এবং কি খলিফাদের শাষনামলেও ধিকৃত হয়ে বংশ পরস্পরায় দায় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হয়েছে, আজো হচ্ছে। যেমনটি নবীজির শাষনামলে আবু লাহাবের অনুসারীগন আজো ইসলামে 'খারেজী' হিসেবে চিহ্নিত হয়ে মুসলিম সমাজে ধীকৃত, অপাংক্তেয়। নবীজির সাহাবী শাষনামলে বিশ্বস্ত সাহাবী "মোয়াবিয়া পুত্র ইয়াজিদে"র "কারবালা ময়দানে"র ঘটনা পৃথিবীর আলো বিকিরন যতদিন থাকবে ততদিন ঘৃনাভরে উচ্ছারীত হবে "অতিধার্মীক ইয়াজিদের" নাম। খলিফাদের শাষনকালে হাজারো উদাহরন দেয়ার উপকরন রয়েছে।
    ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম শাষক নবাব সিরাজদৌল্লার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারি মীর জাপর আলী খাঁন,  মীর কাশেম আলী খান সহ আরো অনেক নাম ইতিহাসে ঘৃনার উপাদান হয়ে থাকবে অনন্তকাল।
    পাকিস্তান শাষনামলের প্রথম দিকেই তথাকথিত ধর্মবাজ মাওলানা মওদু'দীর "ফেৎনাবাজির শাস্তি মৃত্যুদন্ড প্রাপ্তি" এবং পরবর্তীতে তাঁদের রক্ষক ফেৎনাবাজ সৌদি শাষক "আল-সৌদ"  কতৃক মানবিক আবেদনের প্রেক্ষিতে মুক্তির ইতিহাস লিখা থাকবে ইসলাম ধর্মভিত্তিক দলের ইতিহাসে ঘৃনার সাক্ষি হয়ে।
      বাঙ্গালী জাতির মুক্তির আকাংখাকে ধর্মের আবরনে ঢেকে গনহত্যা সংগঠিত করার অপরাধে দেরীতে হলেও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বিচার অনুষ্ঠিত হচ্ছে।শাস্তি প্রাপ্ত প্রত্যেক অপরাধীর নামের আগে রাজাকার সংযুক্তি ঘটবে। তাঁরা সকলেই বংশানুক্রমে ঘৃনার আধাঁরে পরিনত হয়ে ধরা থেকে একসময়ে উচ্ছেদ হ'তে বাধ্য হবে- যেমন অতীতে হয়েছিল।জাতির জনকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী খোন্দকার মোস্তাক গংদের নাম জাতি চিরদিন ঘৃনাভরে উচ্চারন করবে।
    আল্লাহ নীজেই তাঁর পবিত্র কোরানে বার বার বলেছেন--"তাঁর প্রেরীত পবিত্র গ্রন্থ "কোরানের রক্ষনকারী" তিনি নিজেই।পবিত্র কোরান রক্ষার অর্থই হচ্ছে ইসলাম রক্ষা।যেহেতু ইসলাম সার্বজনীন ধর্ম, শান্তির ধর্ম সেহেতু আল্লাহর ঘোষনার সম্মান রক্ষা, ওয়াদা রক্ষার স্বার্থেই তিনি বলেছেন--"তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করিও না।"
    masterruhulamin@gmail.com

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg