প্রচলিত শিষ্টাচারের সম্মান দিতে রাজনীতি বিসর্জনের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপিত।
(রুহুল আমিন
মজুমদার)

         বাংলাদেশের সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কাউট প্রতিষ্ঠা বাধ্যতামূলক হলেও অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনও তা গড়ে উঠেনি।যদিও প্রতিষ্ঠান কতৃপক্ষ নিয়মিত প্রত্যেক বছরই একবার স্কাউটিং ফি ছাত্র ছাত্রী ভর্তির সময়েই আদায় করে নিয়ে যায়।স্কাউটিং বিশ্বব্যাপি স্বীকৃত স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পয্যায়ে একটি কল্যানমূলক, মানষিক, শারিরীক, আত্মপ্রত্যয়ী, শৃংখলাবদ্ধ, অধ্যবাসায়ি, মানবিক প্রশিক্ষন  প্রতিষ্ঠান। স্কাউটিং ছাত্রাবস্থায় নিয়মানুবর্তিতা, অধ্যবসায়, কায়িকশ্রম, প্রাকৃতিক দুযোগ মোকাবেলা, মানবসৃষ্ট দুয্যোগ মোকাবেলা সহ শহর বন্দরে ট্রাপিক নিয়ন্ত্রন, শীতবস্ত্র বিতরন, জনদুর্ভোগ লাগব সহ সকল সেবাধর্মী কাজের প্রশিক্ষন আয়ত্ব করার শিক্ষালয় বটে।
      আইনশৃংখলা বাহিনী সহ দেশরক্ষায় নিয়োজিত নিয়মিত বাহিনীর অনুসরনে এখানেও সকল ধরনের প্রশিক্ষনের ব্যাবস্থা আবহমান কাল থেকে প্রচলিত রয়েছে। মানব তৌরন, মৃত্যুকূপ, মিশরের পিরামিড, ভয়াবহ ঝাম্পিং, অগ্নিনির্বাপন সহ অমানবিক বহু প্রশিক্ষনই দেয়া হয়ে থাকে আবহমান কাল থেকে।রোভার স্কাউটিংয়ে মেয়েদের সংখ্যাধিক্য লক্ষনীয় ছিল প্রশিক্ষনের সহজতায় কিন্ত্যু B. N. C. C. প্রশিক্ষন সেনা প্রশিক্ষনের ন্যায় কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরন করেই দেয়া হয়ে থাকে।
স্কাউটিং এর স্তর বিন্যাস রয়েছে। স্কুল পয্যায়ে যে প্রকারের প্রশিক্ষন দেয়া হয় কলেজ পয্যায় বিভাগ অনুযায়ী আরো উন্নততর  প্রশিক্ষন  দেয়া হয়। ইহা অনস্বিকায্য নয় যে--'স্কুল কলেজের প্রত্যেক ছাত্র/ ছাত্রী স্কাউটিংয়ে অংশ গ্রহনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।' এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই--'স্কাউটিং করার জন্য শারিরীক যোগ্যতা একটি অন্যতম অনুসঙ্গ'। এমন  অনেক ছাত্র /ছাত্রী আছে-তাঁরা অনেকে জানেও না তাঁদের স্কুল বা কলেজে স্কাউটিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। স্কুল কলেজের শ্রেনী কায্যক্রম শুরু করার অনেক আগেই তাঁদের প্রশিক্ষনের কায্যাদি শেষ করা হয় অথবা স্কুল,কলেজ ছুটির পর কায্যক্রম শুরু হতে দেখা যায়।শিক্ষাক্রম বহিভুত নিয়োগকৃত প্রশিক্ষক স্কাউটিংয়ের প্রশিক্ষন দিয়ে থাকে। অনেক প্রতিষ্ঠানে স্কাউটিংয়ের জন্যে আলাদা ভবনের ব্যবস্থাও চোখে পড়ে।
 স্কাউটিং ছেলে মেয়েদের সেনাবাহিনীতে ভর্তি যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতায় কমিশন কর্মকর্তায় উন্নতি ভর্তি পরবর্তি প্রশিক্ষন ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক ভুমিকা পালন করে। ইন্টারমেডিয়েট পাস করার আগে বা পরে সরাসরি সেনাকর্মকর্তা  ভর্তির জন্যে শারিরীক যোগ্যতা সম্পন্ন স্কাউটিং ছেলে মেয়েরা অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে। এখানে আমার প্রশ্ন 'শারিরীক যোগ্যতা সম্পন্ন মাধ্যমিক স্কুল বা কলেজ পড়ুয়া ছাত্ররা কি আদৌ শিশু'? কোন কোন পত্রিকা "স্কুল পড়ুয়া শিশুদের দ্বারা মানব নির্মিত "পদ্মা সেতু"র উপর দিয়ে আওয়ামীলীগ নেতার হেঁটে যাওয়াকে  অমানবিক আখ্যায়িত করার প্রয়াস লক্ষনীয় ভাবে তুলে ধরেছে!!  পদ্মা সেতুর গুরুত্বের প্রতি জনমনে বিরুপ ধারনা তৈরির এহেন প্রয়াস অবশ্যই নিন্দনীয়, হুলুদ সাংবাদিকতার উৎকৃষ্ট প্রমান--'আমি মনে করি'। ঐ সমস্ত পত্রিকা কি জানেনা স্কাউটিং কখন, কিভাবে, এবং ইহার আদর্শ উদ্দেশ্য কি?
মুলত: স্কাউটিং চালু হওয়ার প্রাক্কালে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা দুরের কথা ভারতীয় উপমহাদেশ ব্যাপি কোন বড় সেতুও নির্মিত হয়নি।বাঁশের সাঁকো অথবা নৌকাই নদী পারাপারের একমাত্র মাধ্যম ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২৫ ই মার্চ কাল রাতে পাক সেনা কতৃক আক্রান্ত হলে রোভার স্কাউট এবং 'বি, এন সি, সি'র ছেলেমেয়েরাই প্রশিক্ষনের জন্যে রক্ষিত গাঁদা বন্দুকের সাহায্যে প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। তাঁদের প্রশিক্ষন এতই যদি হালকা হ'ত ঐদিনের  প্রতিরোধ যুদ্ধ কি  আদৌ সম্ভব হ'ত?
উল্লেখিত মানব সেতু, মিশরের পিরামিড, মানব তৌরন প্রশিক্ষনের ক্ষেত্রে নতুন আবিস্কার নয় এবং কি আওয়ামী লীগ নেতার জন্যে আলাদা আবিস্কৃত কোন নতুন ইভেন্টও নয়। আবহমান কাল থেকে স্কাউটিং, সেনা, নৌ, বিমান, বিজেপি,পুলিশ বাহিনীতে এইরুপ অমানবিক, কষ্টদায়ক বহু বিকৃত প্রশিক্ষন ও শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।ঐ সমস্ত প্রশিক্ষন ও শাস্তি লোক চক্ষুর অন্তরালে সংঘটিত হওয়ার কারনে  আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়নি।
বন্দুকের ম্যাগাজিন লোড, ট্রিগারের উপর চাপ দেয়া শিখলেও যুদ্ধ করা সম্ভব। অযথা দেশে বিদেশে লাগাতার অমানবিক প্রশিক্ষনের কি আদৌ প্রয়োজন আছে? ১৭/১৮ বছরের তরুনেরা কেন শীতের মধ্যে ব্যারাকে না থেকে শীতকালিন মহড়ার নামে কাঁদাপানিতে ছোটাছুটি করবে? অযথা কেন ২০০/২৫০ কেজি ওজনের ভর নিয়ে মাইলের পর মেইল হামাগুড়ি দিতে হবে।গুলি বর্ষনের ক্ষেত্রে আদৌ কি উক্ত ওজন বহন করার প্রয়োজন হয় কখনও ? দাদা, বাবা ছেলে, ছেলের নাতি-পুতি  অবসরের পরেও যুদ্ধ করার প্রয়োজন নাও হতে পারে-অযথা কেন কষ্ট দেয়া, ভুলের কারনে অমানবিক শাস্তি মেনে নেয়া, আদরের শিক্ষিত মেধাবি ছেলেটির--! কার হাতে শাস্তি ভোগ করে জানেন? -অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত হাবিলদার বা সুবেদারের ! তিনিই সেনা কর্মকর্তা সাহেবের প্রশিক্ষক--! ইহা কি অমানবিক, অযাচিত, ভারসাম্যহীন নয়? ঐ ছেলেতো বাবার একটা গরুও নেড়েছেড়ে দেখেনি কোনদিন।
মিশরের পিরামিড তৈরীতে এক বা একাধিক ছেলের উপর কয়জন ছেলের ভর উঠে--'কেউ কি জানেন?  তৌরন নির্মানে অ-প্রশিক্ষন প্রাপ্ত এক বা একাধিক ছেলের উপর কয়জন ছেলের ভর উঠে কেউ কি দেখেছেন ?  সামান্য ভুলের কারনে নিয়মিত বাহিনীর তরুন প্রশিক্ষন গ্রহনকারি ভাইটি কিরুপ শাস্তিভোগ করে,--বলতে পারেন? প্রশিক্ষনকালে  কি ধরনের বিকৃত, অমানবিক, অমানষিক শাস্তির অ-লিখিত অনুমোদন প্রাপ্ত হন প্রশিক্ষক--'কেউ বলতে পারেন?'  ঐ তুলনায় অনেকের উপর পায়ে পায়ে একজনের হেঁটে যাওয়া প্রশিক্ষন প্রাপ্ত ঐ ষড়যন্ত্রকারি পত্রিকার ভাষ্যনুযায়ী কথিত শিশুদের জন্যে একেবারেই নস্যি--"কারো বুঝার বাকি থাকার কথা নয়"।
বিদ্যালয় কতৃপক্ষ, এলাকাবাসি তাঁদের বক্তব্যে স্বীকার করেছেন এইরুপ মানব সেতু বহু আগ থেকেই তাঁদের বিদ্যালয়ে প্রচলিত আছে। প্রধান শিক্ষক নীজেই বলেছেন আমার আগের প্রধান শিক্ষক উক্ত সেতুর উপর দিয়ে হেঁটেছেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্কাউটিং করা বহু স্কুল কলেজে আরো ভয়াবহ ইভেন্টের উপস্থীতি বহুকাল আগে থেকেই রয়েছে, ইহা কারো অজানা নয়।
মুজিব সেনাদের উপলব্দিতে থাকা উচিৎ- সরকারের উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তা হওয়ার জন্যে ইউনিভারসিটির সর্বশেষ ডিগ্রির প্রয়োজন, নিদেনপক্ষে দেশে বিদেশে বেতন ভাতাসহ প্রশিক্ষনের প্রয়োজন হয়।সফল ব্যাবসায়ী হ'তে কিছু পুজি এবং অধ্যবসায়ের প্রয়োজন। সাহিত্যিক, কলামিষ্ট, বুদ্ধিজীবি হতে প্রয়োজন সাধনা এবং জ্ঞান। কিন্তু একজন কর্মীকে নেতায় রুপান্তরে বহুকর্মীর ত্যাগ, জীবনহানী, সম্পদহানী, পরিবার পরিজন এবং কি অনেকক্ষেত্রে অনেক কর্মীর জৈবিক তাড়নাও বিসর্জনের দিতে হয়েছে।প্রতিষ্ঠিত নেতাও তাঁর জীবনের স্বর্ণময় সময়গুলী দল, দেশ এবং রাজনীতির জন্যে ব্যয় করেছেন। নেতা অনেকক্ষেত্রে সংসারধর্ম পালন করতেও পারেননি।আজীবন চিরকুমারব্রত  পালন করার উদাহরন আমাদের চারপাশেই আছে।  সময়ে নেতা কেরানী পদে চাকুরি নিলেও অফিসার হয়ে অবসর নিয়ে পরিবারের সুখ শান্তির মধ্যমনি হতে পারতেন--"কিন্তু তিনি সেই পথে যাননি একমাত্র--কর্মী, দল, রাজনীতির মোহে-ই।" এক্ষেত্রে হয়তবা কদাচিৎ ব্যতিক্রম থাকতে পারে-- তবে সর্বাংশে নয়।
      আমি বহুবার তথ্য প্রমান দিয়ে বলতে চেয়েছি- বর্তমান সময়ে অপ-লাইনের পত্র পত্রিকা, ইলেকট্রোনিক মিডিয়া, সরকারের গোয়েন্দাবাহিনী সহ অপরাপর মাধ্যমগুলীর চাইতে অনেক গুন বেশী শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে আবিভুত হয়েছে "সামাজিক মাধ্যম পেইজ বুকিং।"অদ্য পয্যন্ত এই মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টিকারি কোন ঘটনাই কতৃপক্ষের নজর এড়িয়ে যায়নি। যথাযথ ব্যবস্থা গৃহিত হওয়ার বহু উদাহরন তুলে ধরে বলার চেষ্টা করেছি এবং বলেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আত্মীয়ও এক্ষেত্রে বাদ যায়নি।সুতারাং এই মাধ্যমটিতে সার্বক্ষনিক কাজ করা প্রত্যেক ইউজার বন্ধুদের আরো দায়িত্বশীল, বিষয়বস্তুর সম্পর্কে সম্যক ধারনা লাভ, ঘটনার উৎপত্তি, কারন ইত্যাদি সম্পর্কে আগেভাগে সম্যক জ্ঞান নেয়া প্রয়োজন মনে করি। হুজুগে অন্তত: মুজিব সেনারা জড়িয়ে পড়া উচিৎ নয়। সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার চক্রান্তে গা ভাসিয়ে দিয়ে দল, সরকার, নেতাকর্মী, শুভাকাংক্ষি, শুভানূধ্যায়ীদের সমুহ  বিপদগ্রস্ত করা থেকে বিরত থাকা প্রত্যেকের নৈতিক এবং আদর্শিক দায়িত্ব--"আমি দৃডভাবে ইহা বিশ্বাস করি।"
ruhulaminmujumder27@gmail.com
"জয়বাংলা    জয়বঙ্গবন্ধু"

  লক্ষ করুন স্কাউটের পিঠের উপর আওয়ামীলীগ নেতা কোথাও একবারও বলা হয়নি,বলা হয়েছে ছাত্র / শিশুর পিঠে আওয়ামী নেতা বা উপজেলা চেয়ারম্যান।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg