এই প্রথম বাঙ্গালী জাতি তাঁদের মননশীলতার সর্ব্বৃহৎ মাসব্যাপি অনুষ্ঠান মালা সর্বপ্রকার ভয়মুক্ত, শান্তিপূর্ণ, আশংকামুক্ত, পরিবেশে উৎযাপন করবে।
(রুহুল  আমিন  মজুমদার)

      রাত পোহালেই ভাষার মাস। এই মাসটিকে এক অর্থে বলা যায় সৃজন শীলতার মাস, বাঙ্গালী সংস্কৃতি বিকাশের মাস, প্রগতিশীলতার ধারাবাহিকতার মাস। মাসব্যাপি শুরু হবে দেশব্যাপি বই উৎসব।সারা বছর বই পড়া এবং কেনার প্রতি যদিও আগ্রহ না থাকে উৎসব, আমেজের কারনে এই মাসটিতে বই পড়ায় অনভস্ত ব্যাক্তিরাও মেলায় বেড়াতে গেলে দুই একটা বই কেনার চেষ্টা করে করবেন।লেখকগনও সারা বছর বসে থাকলেও এই মাসটিতে একটি বই মেলায় নিয়ে আসার চেষ্টা করবেন। বই সংশ্লিষ্ট সব মহলের ব্যাস্ততার পারদ মাসটিকে ঘিরে বেড়ে সর্ব উচ্চ স্থানে পৌঁছে যাবে।

   বাঙালীর এই মাসের বইমেলা এক অর্থে প্রাতিষ্ঠানিকতা পেয়েছে তাঁদের মননে, চিন্তায়, চেতনায়। অশুভশক্তির নানারুপ হামলা, হত্যা, বিশৃংখলা বইমেলার আগ্রহে সামান্য চিড় ধরাতে পেরেছে বলে আমি মনে করিনা। কারণ ২০১৫ সালের বইমেলায় অভিজিৎকে হত্যা করা হয়েছে। যখন প্রকাশকরা ২০১৬’র বইমেলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন, তখনই জাগৃতির প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে হত্যা করা হয়। একইদিন শুদ্ধস্বরের প্রকাশক টুটুলের ওপরও হামলা করা হয়। বইয়ের পাতায়, পাঠকের চোখে, লেখকের মননে, প্রকাশকের দোরগোড়ায় সেই রক্তের দাগ এখনও স্পষ্ট। প্রতিবার একটি জমজমাট মেলা হবে এই ভাবনা নিয়ে সবাই যখন মেলার মাঠে সমাগত হয়, তখনই রাজনৈতিক অস্থিরতায় মেলায় মৌনতা নেমে আসে। তখনও কোন নেতিবাচক প্রভাব বইমেলায় ছায়া ফেলতে পারেনি, মানুষ বই কিনেছে তবে মুখে হাসি ছিলনা, ছিল ঘৃনার বহ্নিশীখা।

এবার অবশ্য রাজনৈতিক দিক থেকে পূর্বাভাস অনেকটাই পরিচ্ছন্ন  ও স্থিতিশীল। বইমেলার ইতিহাসে এমন সুবাতাস আর কখনও ছিলনা।পাকিস্তান শাষনামলে বইমেলার মুল উদ্দেশ্য ছিল বাংলা ভাষার আলাদা স্বাতন্ত্রতাবোধ, সর্বত্র বাঙ্গালী চেতনাবোধ ফুটিয়ে তোলা,বাঙ্গালী সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে তুলে ধরার প্রানান্তকর চেষ্টা।বাঙ্গালী জাতিকে সকল প্রকার কুসংস্কার থেকে টেনে তুলে প্রগতির ধারায় সম্পৃত্ত করার প্রতিই লক্ষ ছিল সর্বস্তরের লেখক প্রকাশক, কবি সাহিত্যিক সর্বপোরি রাজনৈতিক, সামাজিক শক্তি সমুহের।

      মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলে উল্লেখিত ধারা পরিবর্ততিত হয়ে ভাষা, সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে সমৃদ্ধ, সুরক্ষিত করার দিকেই মনযোগী ছিলেন সর্বস্তরের সংশ্লিষ্ট মহল।'৭৫ এর ১৫ ই আগষ্ট পটপরিবর্তনে প্রগতিশীল মননে বিরাট এক ধাক্কা অনুভুত হয়।ফলশ্রুতিতে প্রগতির ধারায় চিড় ধরার আশংকা অনুভুত হয়।এমন সময়ে সমাজের বিভিন্ন অঙ্গিনা থেকে একদল প্রগতিশীল লেখক, সাহিত্যিক, কবি, কলামিষ্ট জীবনের মায়া ত্যাগ করে বের হয়ে আসেন।

        শুরু হয় বাংলা নাটক, সিনেমা সহ পত্র পত্রিকায় কিঞ্চিত ধারা পরিবর্তনের সুচনা। হুমায়ুন আহাম্মদের নাটকে পাখির মুখে উঠে আসে "তুই রাজাকার" মত সাহষী সংলাপ। আমজাদ হোসেনের চলচিত্রে উঠে আসে একাধিক বাঙ্গালী, বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচিত্র। মঞ্চ নাটক এই সময় যুগান্তকারি কতিপয় নাটক মঞ্চায়নের মাধ্যমে প্রগতির ধারাকে সামনে নিয়ে আসতে ব্যাপক  ভূমিকা পালন করে।সাপ্তাহিক আজকের সুয্যদয়ের "গেদুচাচার খোলা চিঠি" সাপ্তাহিক "যায় যায় দিন" সহ বেশ কয়েকটি ছোট ছোট প্রগতিশীল পত্রিকা সমাজের অন্যায়, অনাচার কুস্মুন্ডতা নিয়ে লেখালেখির মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে জনমনে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়। টেলিভিশন নাটকের মধ্যেও এসেছিল যুগান্তকরি এক বিপ্লব।এক্ষেত্রেও ধারাবাহিক নাটক "এই সব দিন রাত্রী" সহ বেশ কিছু নাটক ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জনের মাধ্যমে তরুন সমাজকে সংগঠিত করার কাজে ভুমিকা রাখতে দেখা গেছে।

  '৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতায়-মুক্তিযুদ্ধে পরিণতির মাধ্যমে প্রগতিশীলতার ধারায় যে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছিল ত্রিশলক্ষ তাজা প্রান, প্রায় পৌণে চার লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে সেই রাষ্ট্রটি প্রতিক্রিয়াশীল, সাম্প্রদায়িক গোষ্টির খপ্পরে আটকে পড়ে। সর্বত্র অশুভ শক্তির আস্ফালনে সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি কলুষিত হতে থাকে।দেশে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ভুলুন্ঠিতত হতে থাকে। সেনা শাষক, স্বৈরশাষকদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগীতায় প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠি, স্বাধীনতা বিরুধী শক্তি এবং তাঁদের প্রতিপালিত অ-শুভচক্র বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ভাষাআন্দোলন, স্বাধীনতা, জাতিরজনককে নিয়েও বিরুপ মন্তব্য করতে সাহষ দেখিয়েছিল। জাতির জনকের মর্মান্তিক শোক দিবসকেও ব্যাঙ্গ করতে কার্পন্য করেনি তাঁরা। মহান নেতাকে হত্যা করে সেই দিনটিকে জম্ম উৎসবের নামে আনন্দ উল্লাস করতেও তাঁদের বিবেকে সামান্যতম বাঁধা দেয়নি।

   নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরুধী আন্দোলনের মাধ্যমে গনতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসার মহৎ অর্জনকে কালিমালিপ্ত করার উদ্দেশ্যে অশুভ শক্তির প্রেতাত্বা বিএনপি সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় নব্বইয়ের দশকে সাম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের সসস্ত্র উত্থান পরিদৃষ্ট হয়। রাজশাহীতে কথিত বাংলা ভাই প্রকাশ্য অস্ত্র হাতে প্রশাসনের পাহারায় মিছিলের মাধ্যমে তাঁদের উপস্থীতি জানান দেয়।' '৯৬ ইং এর সাধারন নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাছিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সাময়িক উত্থান প্রক্রিয়া স্তিমিত হলেও গোপনে সংগঠিত হয়ে শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে। আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানের ধারা অনুযায়ী শান্তিপুর্ণ ক্ষমতা ত্যাগের  পরক্ষনেই ব্যাপক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশি বিদেশী শক্তির সহযোগীতায় তাঁরা মাঠ দখল করে নেয়। ক্ষমতা ছাড়ার অব্যবহিত পর পরই দেশব্যাপি নারকীয় তান্ডবের মাধ্যমে আওয়ামী নেতাদের দেশত্যাগে বাধ্যকরে সাধারন সমর্থক ও সংখ্যালুঘুর উপর মধ্যযুগীয় বর্বতা চালায়। বিদেশী শক্তির মদদপুষ্ট "ষড়যন্ত্রকারি তত্বাবধায়ক সরকারে"র সার্বিক পৃষ্টপোষকতা এক্ষেত্রে তাঁদের অত্যাচারের মাত্রাকে কয়েকগুন বাড়িয়ে দেয়।

  ২০০১ ইং সালের সাধারন নির্বাচনে আওয়ামী শুন্য মাঠে চার দলীয় জোট একক সংখ্যা গরিষ্টতা পেয়ে সরকার গঠন করলে দেখা যায়--সেই সরকারের ভিতরে এবং বাহিরে অশুভশক্তি তাঁদের প্রকাশ্য উপস্থীতি নিশ্চিত করে ফেলেছে। একদিকে অশুভ শক্তির প্রকাশ্য প্রেতাত্বার প্রধান শক্তি বিএনপি সরকার গঠন করে মুক্তিযুদ্ধের বিরুধীতাকারি জামায়াতের হাতে মুক্তিযুদ্ধের অর্জন লাল সবুজের পতাকা তুলে দেয় অন্যদিকে দেশের ৬৪ জেলায় একই দিন একই সময়ে বোমা হামলার মাধ্যমে অশুভ শক্তির উত্থানের স্থীরতা এবং সাংগঠনিক ব্যাপকতার শক্তি প্রদর্শন করে জানিয়ে দেয় প্রগতিশীলতার দিনশেষ, অন্ধকারের যুগের শুভ সুচনা।

      অত্যাচায্য বিষয়টি হচ্ছে  রাষ্ট্রীয় শক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অশুভ শক্তির এতবড় "দুবৃত্তায়নে"র পরেও সরকারি পয্যায় উক্ত বোমা হামলার কারন, শক্তি চিহ্নিতকরন, উদ্দেশ্য অনুসন্ধানে কোনপ্রকার রাষ্ট্রীয় তদন্ত দল গঠন করা হয়নি। আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরীয়া হত্যা সহ বৃটিশ রাষ্ট্র দূতের উপর বোমা হামলা,২১ শে আগষ্ট শেখ হাছিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে বোমা হামলায় আইভি রহমান সহ ২৯ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করা হলেও, হত্যার মোটিভ গায়েব সহ রক্ত, মাংসের স্তুপ পয্যন্ত ধুয়ে মুছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে 'সকল প্রকার প্রমানাদি সরকারি ভাবে মুছে দেয়া হয়।' ৯০ ইং সাল হতে ২০০৬ ইং সালের মধ্যে কম করে হলেও তেরবারের উপর শেখ হাছিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়--"কোন হামলারই তদন্ত করা হয়নি বরঞ্চ উপহাস করা হয়েছে আওয়ামী লীগের অন্তদলীয় কোন্দলের ফসল হিসেবে দেশে বিদেশে প্রচার প্রপাগান্ডের মাধ্যমে।"

     ২০০৬ ইং সালের সাধারন নির্বাচন ঘনিয়ে এলে ষড়যন্ত্রকারিরা তাঁদের পতন অনিবায্য আঁচ করতে পেরে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার একপয্যায়ে শেখ হাছিনার নেতৃত্বে মহাজোটের আন্দোলনের মুখে সেনাবাহিনীকে ক্ষমতা দিয়ে সরে যাওয়ার প্রাক্কালে বিদেশী ষড়যন্ত্রের ফাঁদে আটকে যায় খালেদা জিয়া। সেনা বাহিনী ক্ষমতা গ্রহন না করলেও তাঁদের সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নিয়ে তিনমাসের সরকারকে দুইবছর টেনে নিয়েও উদ্দেশ্য সাধন করতে না পেরে নির্বাচনের ঘোষনা দিতে বাধ্য হয়। ঘোষনা মোতাবেক সাধারন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট ভুমিধ্বস বিজয়ের মাধ্যমে শেখ হাছিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে।

    শেখ হাছিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে সরকার কতিপয় সাংবিধানিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ৭২ এর সংবিধানে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। নির্বাচনী ওয়াদা এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে মুক্তিযুদ্ধে মানবতা বিরুধী অপরাধের বিচারের উদ্যোগ নিলে সরকার অশুভ শক্তির টনক নড়ে উঠে। তাঁরা ৭২ -'৭৫ এর চিহ্নিত সকল অপশক্তি একজোটে দেশব্যাপি অস্থীরতা, হত্যা, সন্ত্রাস, ঘুম খুনে মেতে উঠে। ইতিপুর্বে একাধিকবার প্রমানিত ষড়যন্ত্রী তত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে উপলক্ষ করে ধর্মকে সামনে রেখে রাষ্ট্রের ভিতরে বাহিরে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে। এক্ষেত্রে '৭৫ এর ষড়যন্ত্রের মুল হোতা মেজর জিয়া নির্দেশিত পথে তাঁর পত্নি খালেদা জিয়া নেপথ্যের কারিগরের দায়িত্বে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকায় নামে। পরিশেষে প্রকাশ্য আগুন সন্ত্রাসের নেতৃত্ব পয্যন্ত তোলে নেয় হাতে "বিশদলীয় জোটনেত্রী" বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।খালেদা জিয়ার প্রকাশ্য নেতৃত্বে ২০১৪ ইং সালের নভেম্বর হতে জানুয়ারী ২০১৫ ইংপয্যন্ত  অশুভ শক্তির চরম উত্থান এবং আস্ফালন দেশবাসিকে আশংকিত করে তোলে।

     দেশ ও জনগনের ঘোর অমানিষায় অতীতের ন্যায়  এইবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক প্রগতিশীল ধারার তরুন প্রজম্মের লাখ লাখ তরুন  মানবতা বিরুধী বিচারের পক্ষে অবস্থান গ্রহন করে সাম্প্রদায়িক গোষ্টির মুখে চুন লাগাতে সক্ষম হয়।তাঁরা দিবারাত্র গনজাগরন মঞ্চ মিছিলে শ্লোগানে সরগরম করে তোলে। অল্প সমময়ের মধ্যে সর্বস্তরের আবাল বৃদ্ধবণিতা, লেখক, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিককর্মী, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির মিলনমেলায় পরিনত হয়ে মহাশক্তি রুপে আবিভুত হয়। তাঁদের অবস্থান দেশব্যাপি সাড়া জাগিয়ে বিদেশী ষড়ড়যন্ত্রীদের ভীত কাঁপিয়ে দিতে সক্ষম হয়।

অশুভশক্তি তাঁদের অবস্থা বেগতিক দেখে ছাত্রদের শান্তিপুর্ণ অবস্থানকে নাস্তিকতার অপবাদে বিনাশ করার উদ্দেশ্যে ইসলামী জোটের অন্যতম শরিক হেফাজতের আমীর মাওলানা শফি সাহেবের নেতৃত্বে মতিঝিল শাফলা চত্বরে একদিনের অবস্থানের অনুমতি নিয়ে লাগাতার অবস্থানের ঘোষনা দিলে চরম সংকট দেখা দেয়।তাঁরা শাফলা চত্বরের আশেপাশে ব্যাপক লুটতরাজ, ব্যাংক বীমায় আগুন, পবিত্র কোরানে আগুন দিয়ে বিভেষিকাময় পরিস্থীতির সৃষ্টি করে জনজীবন অচল করার হঠকারি পদক্ষেপ গ্রহন করে।

 এরই মধ্যে বিশ দলীয় জোটনেত্রী খালেদা জিয়া বিএনপি নেতাকর্মীদের হেফাজতের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ এবং ঢাকার জনগনকে রাজপথে নামার আহব্বান জানিয়ে প্রকাশ্যে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করেন।সেনা বাহিনীকেও প্রকাশ্য উস্কানী দিয়ে সম্পৃত্ত করার চেষ্টা চালান,।সেনাবাহিনীর  একটা ক্ষুদ্র অংশকে সম্পৃত্ত করেছিলেনও। পরিস্থীতি সরকার নিয়ন্ত্রন করলে সেই অংশটি নিজেদেরকে গুটিয়ে নেয়।পরবর্তীতে খালেদা জিয়া কতৃক প্রকাশ্য সেনাবাহিনী সম্পর্কে অশালীন বক্তব্য থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে। উক্ত সময়ে সুরক্ষিত স্থানে অবস্থান গ্রহন করে জোটনেত্রী খালেদা জিয়া সরকারকে টেনে নামানোর মত উগ্র, অশালীন বিবৃতির মাধ্যমে নেতাকর্মীদের মনোবল দৃড করার কৌশল গ্রহন করে।এরশাদ তাঁর আগেই পানি, শুকনা খাদ্য নিয়ে হেফাজতিদের পাশে অবস্থান গ্রহন করেছিলেন।

এমনতর পরিবেশে জাতিরজনকের কন্যা মহাজোটের নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার উপয্যপোরি অনুরুধ জানিয়ে অনিবায্য গৃহযুদ্ধের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার প্রয়াস গ্রহন করেন। মানব সৃষ্ট দোর্য্যোগ রাষ্ট্রীয় শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মোকাবেলা করে দেশও জনগনের মনে স্বস্তি ও স্থীরতা আনার প্রয়াস গ্রহন করে সফল হন। অ-শুভশক্তির হোতা জামায়াত, উত্থিত এবং দীর্ঘবছর রাষ্ট্রীয় আনুকুল্যে পরিপুষ্ট জঙ্গী গোষ্টির বিরুদ্ধে সাঁড়াষি রাষ্ট্রীয় আইনানুগ শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার তাঁদেরকে ইতিমধ্যে অনেকটা নিস্তেজ করে দিতে সক্ষম হন।

'৫২এর পর বাঙ্গালী তাঁর মননশীলতার উৎসব বইমেলা এইবারই প্রথম কোন প্রকার হুমকি ছাড়া আনন্দ উল্লাসের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত করার সুযোগ পেল। বর্তমান সরকারের সফল রাষ্ট্র পরিচালনার কারনে এইবারই বৃহত্তর পরিসরেই শুধু নয় বিজয়ী বেশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে এবং ভাষা শহিদদের স্মরণ করবে জাতি। সামাজিক মিডিয়া পেইজবুক, গুগুল, টুইটার সহ অন্যান্ন সকল মাধ্যমে আনন্দের জোয়ার আসার লক্ষন ইতিমধ্যে ফুটে উঠেছে। ভাষাপ্রেমি সকল প্রগতিমনা ভাইবোন তাঁদের প্রোফাইল ছবি এবং কভার ফটো পফিবর্তন করবেন। ভাষা শহিদদের স্মরনে অখ্যাত অজ্ঞাত সকলেই শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে তাঁদের শ্রেষ্ঠ পুর্ব পুরুষ ভাষা শহিদদের সম্পর্কে কমবেশি লিখবেন।সামাজিক মিডিয়া সমুহে নিসংশয়ে বইমেলার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রতিষ্ঠিত লেখক সাহিত্যিক সাংবাদিক, শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীগন তাঁদের অভিমত তুলে ধরার প্রয়াস নেবেন।

         বাংলা একাডেমিও এইবার মেলার পরিসর বাড়িয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই শিশুচত্বর রাখা হচ্ছে এবার। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দেয়ালের পাশ থেকেই মেলা শুরু হয়ে যাচ্ছে। অনেকটা হেঁটে গিয়ে দর্শনার্থীদের মেলায় প্রবেশ করতে হচ্ছে না। প্রবেশের গেইটের সংখ্যা যেমন বাড়ানো হচ্ছে তেমন প্রশস্থ রাখা হচ্ছে মূল প্রবেশদ্বার। বলা হচ্ছে পাঠক, লেখক, প্রকাশকরা নিরাপত্তা নজরদারীর মধ্যেই থাকবেন। তবে এই আশ্বাস জারি করেই মেলা কর্তৃপক্ষের থিতু থাকার সুযোগ নেই।

  বাঙ্গালীর মননশীলতার বইমেলাকে উপলক্ষ করে অশুভশক্তি তাঁদের কুড়ানো শক্তিকে কাজে লাগিয়েও অঘটন ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে।অতিমাত্রায় অশুভশক্তির নিস্তেজতার উচ্চ ধারনা পোষন বিপদ বয়ে নিয়ে আসতে পারে। আজকের নির্মল পরিবেশে বই উৎসবের পরিবেশ নিশ্চিতকরনে জাতি  ইতিমধ্যে অনেক মুল্য পরিশোধ করেছে।কোনপক্ষের অবহেলায় যেন এই অর্জিত সাফল্যের গায়ে আচড় না লাগতে পারে তজ্জন্য সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে সজাগ থাকার আহব্বান জানাই।
        masterruhulamin@gmail.com
"জয়বাংলা     জয়বঙ্গবন্ধু"

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg