ইসলামধর্ম সহ সকল ধর্মের প্রতিপালন বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্য।
         (রুহুল আমিন মজুমদার)

       ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ ধর্মহীনতা নয়।সকল ধর্মের সহবস্থান নিশ্চিত করে ধর্ম পালনের স্বাধীনতা, চলাচলের স্বাধীনতা, ধর্ম পালনে সরকারের পক্ষ থেকে সমসুযোগ নিশ্চিত করার অর্থই  ধর্মনিরপেক্ষতা।সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে আজান দেয়ার সময় অন্য ধর্মের বাদ্যযন্ত্র বাজানোর নাম ধর্মীয় স্বাধীনতা বা ধর্মনিরপেক্ষতা যেমন হতে পারেনা তেমনি মন্দির প্রঙ্গনে ওয়াজমাহফিল অনুষ্ঠান করার নামও ধর্মীয় স্বাধীনতা বা ধর্মনিরপেক্ষতা নয়।
    মহান আল্লাহ সীমালঙ্গনকারিকে পছন্দ করেননা।"সীমা লঙ্গন" শব্দটি শুধুমাত্র ব্যাক্তিগত আচার আচরনে সীমাবদ্ধ নয়।মানব জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য।ধর্মীয়, গোষ্টিগত, জাতিগত, বর্ণগত প্রতিটি ক্ষেত্রে একে অপরের কোনরুপ ক্ষতি সাধন না করে, স্ব স্ব অবস্থানে প্রত্যেকে প্রত্যেকের ধর্মকর্ম সম্পাদন করার নিমিত্তে স্ব-গোত্রের আওতাভূক্ত বা সীমিত থাকাই ইসলামের নির্দেশীত সঠিক পথ।
     অতিধার্মীক, সহজে বেহেস্তে বা স্বর্গে যাওয়ার জন্যে অন্য ধর্মের উপর চড়াও হওয়া,সংখ্যা গগরিষ্টতার জজোরে অন্য ধর্ম পালনে বাধাপ্রদান, জোরপূর্বক ধর্মান্তরীতকরন,আপন ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার নিমিত্তে অন্যধর্মকে হেয়প্রতিপন্ন করে বক্তব্য প্রদান বা আচার আচরন প্রকাশ, শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে অন্য ধর্মের বা গোত্রের বসতি উচ্ছেদ ইত্যাদি করা ইসলামে হারাম এবং কঠোর নিষেদাজ্ঞা রয়েছে।উপরি উক্ত কাজ গুলী যে জাতি বা গোষ্টি কতৃক করা হোকনা কেন সমষ্টিগত ভাবে ইসলামের দৃষ্টিতে ঐজাতি বা গোষ্টি  সীমালঙ্গনকারি হিসেবে বিবেচিত হয়।
   বাঙ্গালী জাতির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু তাঁর স্বল্পকালিন মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত নতুন স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশের সরকার গঠন করে ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় চার মুলনীতির অন্যতম একটি নীতি হিসেবে গ্রহন করেন।ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে অসহযোগ আন্দোলনের দীর্ঘ আন্দোলন  সংগ্রামমের মাধ্যমে ধর্মভিত্তিক পাকিস্তানী শাষকদের বিরুদ্ধে পুর্ববাংলার জনগনের মুল দাবি বা ইচ্ছাই ছিল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।মুক্তি যুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষতার অঙ্গিকার যুদ্ধ জয়ে অসামান্য অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছিল বিধায় বঙ্গবন্ধু তাঁর নতুন সরকার প্রতিষ্ঠাকালিন সময়ে উক্তনীতিকে সাংবিধানিক ভিত্তি প্রদান করেন।
   সুধী পাঠকবর্গ-আমার অনেক আলোচনায় দ্ব্যর্থ্যহীনভাবে বলেছিলাম- জাতির জনকের যুদ্ধবিধস্ত নতুন দেশের নতুন "ধর্মনিরপেক্ষতার সরকার" ইসলামের প্রচার প্রসারে প্রাতিষ্ঠানিক, অ-প্রাতিষ্ঠানিক যে সমস্ত কাজগুলি মাত্র সাড়ে তিনবছরে করেছিলেন--তাঁর শতভাগের পাঁছভাগ কাজ পরবর্তী সেনাশাষক, ধর্মীয় জোটশাষক, ইসলামীশাষক, বিছমিল্লাহর শাষক, স্বৈরশাষক গনতন্ত্রের শাষকের 'দীর্ঘ চব্বিশ' বছরের শাষনে করতে পেরেছিল কিনা? আজও আমার মনের আকুতি নিরসনে লক্ষলক্ষ বন্ধুদের মধ্যে কেউ একজনও  এগিয়ে আসেনি।
নবী করিম (স:) এর নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্র শাষন, মানব ইতিহাসের প্রথম লিখিত রাষ্ট্রপরিচালনার নীতি "মদীনা সনদ", সর্বশেষ 'বিদায় হজ্বের' ভাষন পয্যালোচনায় দেখা যায় উল্লেখিত সকল কর্মকান্ডে ধর্ম, বর্ণ গোত্র, জাতি নিরপেক্ষতার সুস্পষ্ট লক্ষন সমূহ।রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে ব্যাক্তিগত জীবনাচার সবকিছুতেই ইসলামের সার্বজনীনতা, সাম্য, শান্তির ধারাবাহিকতা রক্ষিত ছিল। তাঁর সমগ্রজীবন পয্যালোচনা, আসমানী কিতাব কোরান নাজেল ইত্যাদিও ইসলাম ধর্মের মহত্ব, সার্বজনীনত,সাম্য, শান্তি, সুন্দরের বহি:প্রকাশ পরিলক্ষিত হয়।এই কারনেই বলা হয় - ইসলাম সার্বজনীন, সাম্য, শান্তির ধর্ম।
আল্লাহ তাঁর কোরানে ইসলামকে সর্বশেষ তাঁর মনোনীত একমাত্র ধর্ম, নবী করিম(স:)কে সর্বশেষ নবী এবং "আল-কোরান" সর্বশেষ "আসমানী কিতাব" ঘোষনা করেছেন।এর পর কোন নবী পৃথিবীতে আসবেনা এবং কি কোন আসমানী কিতাবও আসবেনা। ইসলাম ধর্মকে মানবজাতির জীবন যাপনের উপযোগী পুর্ণাঙ্গ ধর্ম হিসেবে ঘোষনা করে ঐ সময়কার প্রচলিত ধর্ম, জাতি, গোত্র, বর্ণ, গোষ্টি নির্বিশেষে সকলকে ঈমান প্রতিষ্ঠিত করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। আল্লহর নির্দেশ পালন করে যারা ইমান এনেছেন তাঁরা ইসলাম ধর্মের অনুসারী "মুসলিম" হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।ইমানদার মুসলিম শেষ বিচারের হাশরের মাঠে নবী (স:) এর সুপারিশ পাবেন। অন্য কোন ধর্মের অনুসারী তাঁর সুপারিশ পাবেন না।তবে মানব জাতির সকল ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের বিচার সেদিন অনুষ্ঠিত হওয়ার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত নবী তাঁর বিদায়ী ভাষনে দিয়েছেন।
  উল্লেখিত কারনেই নবী (স:)বলেছেন--"তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করিও না।" অতীতে বহু জাতি ধর্মনিয়ে বাড়াবাড়ি করে ধ্বংস হয়ে গেছে। "যার যার ধর্ম সে সে পালন করার স্বাধীনতা" তিনিই দিয়েছেন।সুতারাং নিদ্বিধায় বলা যায়--"ইসলামের প্রথম যুগের রাষ্ট্র ব্যবস্থা এবং জীবনাচারে ধর্মনিরপেক্ষতার গুরুত্ব অপরিসীম, অলঙনীয় ছিল।"নবীজির রাষ্ট্রব্যবস্থাপনায় ধর্মনিরপেক্ষতা অনুসরন অনুমোদিত বা ধর্মহীনতা না হলে বর্তমানের ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি রাষ্ট্রপরিচালনায় ধর্মহীনতা হবে কেন--?
বর্তমান সরকার সংবিধান সমুন্নত রেখে সকল কর্মকান্ড পরিচালনায় অঙ্গিকারাবদ্ধ।জাতির জনকের অনুসৃত নীতি অনুসরনে সংখ্যাগরিষ্ট ধর্মের অনুসারি "ইসলামধর্ম" সহ অপরাপর ধর্ম, নৃজাতি, গোষ্টির উন্নয়নে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।এই প্রসঙ্গে ২০১৬--১৭ সালের সরকারের গৃহিত উল্লেখযোগ্য কিছু কর্মকান্ড তোলে ধরা প্রাসঙ্গিক মনে করি।

 ২০১৬ সালের গৃহিত প্রকল্প
---------------------------------
২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহ নিম্নরূপ:
ক্রমিক নং প্রকল্পের নাম প্রাক্কলিত ব্যয়(লক্ষ টাকায়) বাস্তবায়নকাল ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের বরাদ্দ(লক্ষ টাকায়)
বাস্তবায়নকারী সংস্থা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন
১. মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (৬ষ্ঠ পর্যায়) ১৫০৫৯৩.০০ জানুয়ারী ২০১৫ হতে ডিসেম্বর ২০১৯ ২৬০০০.০০
২. মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প-১ম সংশোধিত ১৮৭৪.০০ জুলাই ২০১২ হতে জুন ২০১৭ ৬৮৪.০০
৩. ইসলামী পুস্তক প্রকাশনা কার্যক্রম-২য় পর্যায় প্রকল্প ২৩০০.০০ এপ্রিল ২০১৬ হতে মার্চ ২০১৯ ১৯৯.৯৪
৪. ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জাতীয় পর্যায় ও জেলা লাইব্রেরীতে পুস্তক সংযোজন ও পাঠক সেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্প ১৩৭০.০০ জুলাই ২০১৬ হতে জুন ২০১৯ --
বাস্তবায়নকারী সংস্থা: হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট
৫. মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম ৪র্থ পর্যায় ৯৯৩১.০৬ জুলাই ২০১৪ হতে জুন ২০১৭ ৩৫০০.০০
৬. ধর্মীয় এবং আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে পুরোহিত ও সেবাইদের দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প ১৪৯৯.৫৫ জানুয়ারী ২০১৫ হতে ডিসেম্বর ২০১৭ ৬০০.০০
বাস্তবায়নকারী সংস্থা: বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট
৭. প্যাগোডা ভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্প ৩০২.৯৪ জানুয়ারী ২০১৫ হতে ডিসেম্বর ২০১৭ (তথ্যসুত্র:--ধর্মমন্ত্রনালয়)

    ২০১৬ ইং সালে অনুদান বা সাহায্য:---
---------------------------------
    ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে প্রতি বছরের ন্যায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশের প্রত্যেক মাননীয় সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকার মসজিদ সংস্কার/মেরামত/পুনর্বাসনের জন্য ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা ও মন্দির সংস্কার/মেরামত/পুনর্বাসনের জন্য  ৪০,০০০/- (চল্লিশ হাজার) টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং মহিলা আসনে নির্বাচিত প্রত্যেক মাননীয় সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকার মসজিদ সংস্কার/মেরামত/পুনর্বাসনের জন্য ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা ও মন্দির সংস্কার/মেরামত/পুনর্বাসনের জন্য ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া উক্ত সময়ে এ মন্ত্রণালয় হতে দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, ইসলাম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ঈদগাহ ও কবরস্থান সংস্কার/মেরামত ও পুনর্বাসন, হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান (মন্দির/শ্মশান) সংস্কার/মেরামত, বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান (প্যাগোডা) সংস্কার/মেরামত, খ্রিস্টান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান (সেমিট্টি) সংস্কার/মেরামত এবং দু:স্থ মুসলিম ও দু:স্থ হিন্দু পুনর্বাসন এর জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।(তথ্যসুত্র-ধর্ম মন্ত্রনালয়)

   এইছাড়াও যুগান্তকারি কিছু পদক্ষেপ ইতিমধ্যে সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জাতির জনকের কন্যা ঘোষনা করেছেন।তম্মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি ঘোষনা একজন ইসলাম ধর্মের অনুসারী মুসলমান হিসেবে আমাকে গর্বিত করে তুলেছে।

        (১) সরকার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ এবং কাচারাল সেন্টার করার উদ্যোগ নিয়েছে।ইসলাম ধর্মের প্রচার প্রসারের জন্যে সরকারের গৃহিত নীতির আওতায় উক্ত প্রকল্প গ্রহন ও বাস্তবায়ন করার তড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহন করার জন্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।উক্ত প্রকল্পটি সরকারের দীর্ঘ মেয়াদি মেঘা প্রকল্পের আওতায় উপজেলাব্যাপি ইসলাম ধর্মের আচার অনুষ্ঠান,শিক্ষা,গভেষনা সহ ব্যাপক কর্মকান্ড বাস্তবায়নের সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনার আওতায় করা হবে।
  (২)আলেম-ওলামাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর জন্য তাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে এমন একটি আলাদা অর্থনৈতিক জোন করার চিন্তা-ভাবনাও করছে সরকার।
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যাতে আয় বাড়ানো যায় এ জন্য শুধুমাত্র আলেম-ওলামাগণের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে ঐ অর্থনৈতিক জোন। সারা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত একশ’টি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলে কোন আলেম ওলামা যদি কোন ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান করতে চান,সে জন্যও সুযোগ দেয়ার নীতিগত সিন্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

     প্রিয় পাঠক বন্ধুরা--ধর্মভিত্তিক দলের শাষনামলে সংবিধান পরিবর্তন ব্যাতিরেকে ধর্মের উন্নয়নে কোন সুদুরপ্রসারি পরিকল্পনা নিতে পারেনি।বরঞ্চ জাতির জনকের সরকারের এবং ইসলামে নিষিদ্ধ নীতি নৈতিকতাহীন আইন কানুন পরিবর্তন করে অনুমোদন দিয়েছিল।যেমন-- মদ, জুয়া, পতিতাবৃত্তি, ভিক্ষাবৃত্তি নিষিদ্ধ করে প্রনীত আইন জিয়ার সরকার বাতিল করে অবাধ লাইসেন্স বিতরনের মাধ্যমে হালাল করে দিয়েছিল।
   বর্তমান সরকারের নেয়া ইসলাম ধর্মসহ অপরাপর ধর্মের প্রচার, প্রসারে যে সমস্ত কাজ বিগত আটবছরে সম্পন্ন করা হয়েছে সময় স্বল্পতা, নিবন্ধের আকৃতির বিশলতায় পাঠক সমাজের বিরক্তির কারন হতে পারে চিন্তায় বিধৃত করা থেকে বিরত রইলাম।আগামিতে কোন একসময়ে গুচ্ছাকারে প্রকাশ করার ইচ্ছা রইল।
   ruhulaminmujumder27@gmail.com
      "জয়বাংলা      জয়বঙ্গবন্ধু"
 
   

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg