ইসলামের সহজ সৌন্দয্যের অনুসন্ধান---ইসলাম বলে কি আমরা করি কি?
(রুহুল আমিন মজুমদার)

         ইসলাম শান্তি, সমতা, আধুনিক এবং সার্বজনীন শ্রেষ্ঠ ধর্ম।নবীজি তাঁর জীবদ্দশায়  ব্যাক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র, সরকার পরিচালনার সকল নজীর মানব সমাজের জন্যে রেখে গেছেন।তিনি ছিলেন হিংসা বিদ্বেস, রিয়াহীন মহামানব।তিনি তাঁর জীবদ্দশায় যাহাই করেছেন সব কিছুই মহান আল্লাহর হুকুমপ্রাপ্ত  হয়ে করেছেন। লক্ষ করলে দেখবেন-আল্লাহ বার বার বলেছেন 'কেয়ামতের মাঠে তিনি 'জ্বিন এবং এনসানে'র বিচার করবেন'।
     নবীজি ইসলাম ধর্মের মহত্বের বড় নজির স্থাপন করেছেন আধুনিক শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করে।তৎসময়ে সর্বদিক থেকে উন্নত ছিল চীন; বর্তমানেও উক্ত রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিদ্যমান রয়েছে।তিনি তাঁর সাহাবিদের উদ্দেশ্যে বলেছেন --জ্ঞান অর্জনের জন্যে প্রয়োজনে চীন দেশে যাও।"অর্থাৎ শিক্ষার জন্যে কোন ধর্মকে বা ধর্মের অনুসারিকে তিনি বাধা মনে করেননি। ইসলাম ধর্ম এত ক্ষুদ্র নয়, সংকীন্ন নয় বা আংশিকও নয় যে, " কারো কবিতা, গল্প, ধর্মগ্রন্থ পড়েই ইসলাম ধর্মচ্যুত হওয়ার আশংকা থেকে যাবে।এইরুপ বর্তমান সময়ে যারাই মনে করুন না কেন তাঁদের "ইমান আকিদা"র উপর যথেষ্ট সন্দেহ সৃষ্টির অবকাশ থেকে যাওয়া স্বাভাবিক, আমি মনে করি।
     "এনসান" শাব্দিক অর্থ "মানব জাতি"।আল্লাহ তাঁর হুকুমে দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন, আর এক হুকুমে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ কি,আর একটা হুকুমে সকল মানব জাতিকে ইসলামের অনুসারি করে নিতে পারতেন না ? অবশ্যই পারতেন-- কিন্তু তিনি তা করেননি। বিচার মানে দুষ গুনের বিশ্লেষন পুর্বক তিরস্কার অথবা পুরস্কার নির্ধারনের আয়োজন। আল্লাহ যেহেতু মানব জাতির বিচার করবেন বলেছেন সেহেতু ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, নির্বিশেষে সকল মানব জাতির জন্যে তিনি 'পুরস্কার এবং তিরস্কার' নির্ধারিত রেখেছেন।
  ইসলাম সার্বজনীন মানে সকল মানব জাতির কল্যানে আল্লাহ তাঁর পছন্দের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মকে নবীজির মাধ্যমে দুনীয়াতে পাঠিয়েছেন।যারা এই ধর্ম অনুসরন করবে তারা প্রকৃত ইমানদার হিসেবে আল্লাহ এবং তার নবীর প্রিয় হবেন।প্রিয় বন্ধু যদি কোন অপরাধ করে তবে বড় কষ্ট লাগে এবং ইহাই স্বাভাবিক।তাই ইসলামের অনুসারিদের বিচার কড়া হওয়াই স্বাভাবিক। এতে নিশ্চয়ই অন্যধর্মালম্ভিদের বিচারে ছাড় দেয়া হবে মনে করা যায়না।
   ইসলাম যেহেতু সার্বজনীন সেহেতু মদীনা সনদের প্ররম্ভে কোরানের আয়াত' এবং ইসলাম ধর্মের অনুসারিদের প্ররম্বিক বাক্য 'বিছমিল্লাহ' নবীকতৃক প্রতিষ্ঠিত সদ্য আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনায় সৃষ্ট সংবিধান 'মদিনাসনদে'র প্রারম্ভে সংযুক্ত করে অন্যধর্মালম্বিদের বিরুপ ধারনা পোষন করার সুযোগ দেননি।আল্লাহ কোরানের আয়াত নাজেলের মাধ্যমে কারন ব্যাখ্যা করে বলে দিয়েছেন--"যার যার ধর্ম তার তার জন্যে বড়'। অন্যকোন ধর্ম পালনে নিষেদাজ্ঞাজারি করেননি ইসলাম ধর্ম শ্রেষ্ঠ ধর্ম বলেছেন এবং ইসলাম ধর্ম অনুসরন করার জন্যে বলেছেন।
  নবীজি সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মহামানব, রাষ্ট্রনায়ক, সমাজ সংস্কারক। তাঁর আবির্ভাবের আগে কোন যুৎসই রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি বা কাঠামো ছিলনা। ছোট ছোট গোত্র, বংশ, নগর কেন্দ্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা চালু ছিল।তিনি প্রথম  বিজিত অংশে আধুনিক রাষ্ট্র কাঠামো প্রস্তুত করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্যে অধিক ব্যাক্তি সম্ন্বয়ে সরকার গঠন করেন, রাজধানীর পত্তন করেন, সরকার পরিচালনার জন্যে নির্দিষ্ট মসজিদ বা অফিস বা সংসদ বা গনভবন সৃষ্টি করেন।তিনিই প্রথম রাষ্ট্র পরিচালনার জন্যে সুনির্দিষ্ট নীতি লিপিবদ্ধ করেন।লিখিত সেই নীতিকে তিনিই নাম দিয়েছেন "মদিনা সনদ" ।যাহা আজও আধুনিক রাষ্ট্রপরিচালনার জন্যে বিশ্বের দেশে দেশে অনুকরনীয় হয়ে জীবিত আছে।
    যেহেতু ইসলাম সার্বজনীন মানবতার ধর্ম সেহেতু তাঁর নবীও সার্বজনীন মানবতার নবী।তিনি মদিনা সনদে মুসলমান ধর্মের পবিত্র কালামের অংশ বিছমিল্লাহ তাঁর রচিত বিশ্ব মানবতার সনদে সংযুক্ত করে তাঁর প্রচারীত আল্লাহ প্রেরীত ধর্মের এবং মানবকল্যানে প্রেরীত গ্রন্থ কোরানের সার্বজনীনতার মহিমাকে খাটো করতে চাননি এবং একক ইসলাম ধর্মকে 'রাষ্ট্রধর্মে'র  মায্যদা অধিষ্ঠিত করে ইসলাম ধর্ম এবং পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল-কোরানের সার্বজনীনতার মহিমাকে অন্য ধর্মালম্বিদের নিকট প্রশ্নবিদ্ধ করেননি।
 যেহেতু তিনি সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মানব সেহেতু তাঁর আচার,আচরন,খাওয়া,চলাফেরা, নেতৃত্ব, যুদ্ধবিগ্রহ, জয় পরাজয়, কথা বলা, কথা শুনা, কর্ম ভাষন ইত্যাদি মহান আল্লাহর অপার মহিমাগুনে সর্বকালের  সর্বমানব জাতির অনুসরনীয়, অনুকরনীয় হয়ে থাকবে--"পৃথিবী ধ্বংস হওয়া পয্যন্ত।" তিনি বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর প্রয়োজন আল্লাহর নিকট ফুরিয়ে এসেছে এবং তাঁকে আল্লাহ উঠিয়ে নেয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে।তাই কিছুটা রোগমুক্তির পর এবং তাঁর ওফাতের অল্প সময়ে আগে মানব জাতির উদ্দেশ্যে নীতি নির্ধারনী মূলক বক্তব্যটি দিয়ে আবহমান মানবজাতি সুখে শান্তিতে বসবাস এবং তাঁর সৃষ্টিকর্তাকে স্মরন করার নীতি আদর্শ তুলে ধরার জন্যে তাঁর "বিদায়ী ভাষনে"র প্রয়োজনীতা অনুভবে "বিদায় হজ্বের ভাষন" দিয়েছেন। আল্লাহর নির্দেশে ইসলামের প্রারম্ভিক বাক্য বা বরকতের বাক্য " "বিছমিল্লাহ" বিদায়ী ভাষনে বলেননি কারন তাঁর ভাষন একক ধর্মের অনুসারিদের জন্যে হতে পারেনা।
      ইসলাম যেহেতু ততদিনে সর্বাঙ্গীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে  সেহেতু নবী মোহাম্মদকে পৃথিবীতে রাখা সমচিন মনে করেননি আল্লাহ। আল্লাহর হুকুমেই তিনি ভাষনটি রচনা করেছেন,আল্লাহর নির্দেশেই তিনি তার বিদায়ী হজ্বের ভাষনে প্রত্যেক যতিতে "হে মানব জাতি" বলে সম্ভোধন করে "ইসলাম ধর্ম সমগ্র মানব জাতির কল্যানে একমাত্র আল্লাহ প্রেরিত ধর্ম এবং তাঁর প্রেরীত কিতাব সমগ্র মানবের কল্যানে একমাত্র শেষ আসমানী কিতাব, বহনকারি মানব  বা নবী মহামানব বা শেষ নবী"র দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কোরানে পা''কে একাধিকবার ঘোষনা দিয়ে "আল্লাহ তার উম্মতের জন্য সকল প্রকার জীবন বিধান' আসমানি কিতাব' নবী বা রাসুল' প্রেরনের  ইতি ঘটিয়েছেন"।
   উল্লেখিত আলোচনায় যদি ভুল বা অতিরঞ্জন নাহয় তবে আমি বিশ্বাস করি নবীজির জীবনাদর্শ, রাষ্ট্রপরিচালনা, বক্তব্য ইত্যাদি ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সমগ্র মানবব্জাতির কল্যানের  সেহেতু তিনি সকল ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের  জন্যে মায্যদাশীল, অনুসরনীয়, অনুকরনীয়-- এবং তিনি নিরপেক্ষ।
এই বিশ্বাসের বাহিরে যারা বা যিনি আছেন তিনি কি প্রকৃত নবীজির অনুসারি অর্থাৎ প্রকৃত মসুলমান দাবি  করতে পারেন--??  না- কি যারা উল্লেখিত নীতি আদর্শ বিশ্বাস করেন, অনুসরন করেন তারা বা তিনি নবীজির অনুসারি অর্থাৎ প্রকৃত মসুলমান দাবি করতে পারেন--???

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg