বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক--"রাজনৈতিক শিষ্টাচার বিবর্জিত একটি অনা-কাংক্ষিত ঘটনা।"
 (রুহুল আমিন মজুমদার)

     বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নব নির্বাচিত সাধারন সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদেরের গতকাল রাতে একটি অনাকাংক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যম, অপ-লাইনের পত্র-পত্রিকা, রাজনৈতিক মহল সহ দেশব্যাপি ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। দলের সাধারন সম্পাদক হিসেবে একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের গায়ে হাত তোলা কোন অবস্থাই সমূচিন হয়নি--"ইহা বলার অপেক্ষা রাখেনা।" আমাদের দেশে উধ্বতন নেতানেত্রীর আচার আচরন নিয়ে দলীয় নেতাদের আলোচনা সমালোচনা করার রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেনি বিদায় এক্ষেত্রেও ভুক্তভূগি সাংসদ ঘটনাটিকে হালকা করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করছেন।সংশ্লিষ্টদের বিবৃতি লক্ষ করলেই অনুমান করা যায়।

      প্রত্যেক ব্যাক্তির কর্মক্ষমতার নির্দিষ্ট সীমারেখা আছে।উক্ত সীমারেখার বাহিরে বেশী দিন চলতে থাকলে বিষয়টি তাঁর শারিরীক মানষিক, স্নায়ু যন্ত্রের উপর অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।স্নায়ুবিক চাপ সামলাতে না পেরে অনেক সময় ইচ্ছার বাহিরেও বিরুপ আচরন করা অস্বাভাবিক নয়।এক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে বলে আমি মনে করি।

  লক্ষ করলে দেখা যায়--ঘটনার ব্যাখ্যায় উক্ত ঘটনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ কেউই অস্বীকার করেননি। তবে আমরা  আমজনতা সন্দিহান--"ঘটনার মূলে অন্য কোন বিষয় জড়িত রয়েছে কি-না।"

          লক্ষনীয় বিষয়টি হচ্ছে যার দাওয়াত খেতে গেলেন মন্ত্রী সেই গৃহস্তই বাড়ীতে উপস্থিত নেই- বাদবাকি আশপাশের সবাই সেখানে উপস্থীত।উনি রাস্তায় আছেন, আসছেন যতক্ষন বলা হয়েছে তাঁর "সিকি পরিমান সময়েরও কম সময়" লাগার কথা এমপি মহোদয়ের আবাস্থল থেকে যমুনা রিসোর্টে আসতে।নিশ্চয়ই মন্ত্রী মহোদয় তাঁর এলাকার কোন একটি আবশ্যকীয় ঘটনার বিবরণ উক্ত সাংসদের নিজমূখে শুনার জন্যই উনাকেই খবর দিয়ে রেখেছিলেন--"তিনি রাতের খাবার তাঁর সঙ্গেই খাবেন।" মন্ত্রী খানা ঠিকই পেয়েছেন কিন্তু যার উদ্দেশ্যে রাত্রী যাপন করার কথা ছিল তিনি নেই--কেন নেই? এখানেই অনাকাংখিত ঘটনার রহস্য লুকিয়ে আছে দেশব্যাপি আমজনতার উপলব্দি।

    সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, 'আমি এমপি মো. ছানোয়ার হোসেনকে শাসন করেছি। এটা আমাদের আওয়ামী লীগ পরিবারের বিষয়। দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এটা আমি করতেই পারি।'
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেনকে চড় মারা-সংক্রান্ত খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর  এক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন তিনি।অভিযোগের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'চড় মারার বিষয়ে গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশ হয়েছে, সেই এমপি তো অভিযোগ করেননি। তিনি কি অভিযোগ করেছেন কাউকে? না, তিনি করেননি।'

এদিকে টাঙ্গাইলের এমপি মো. ছানোয়ার হোসেনও জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের হাতে তার লাঞ্ছিত হওয়ার খবর সঠিক নয়।যুগান্তরকে তিনি বলেন, 'মন্ত্রী নেতা-কর্মীদের ভিড় আর স্লোগানে বিরক্ত প্রকাশ করে একটু রাগারাগি করেছেন।'এ নিয়ে যারা মিথ্যে সংবাদ প্রকাশ করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলেও জানান ছানোয়ার হোসেন।

উল্লেখ্য, নাটোর থেকে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের টাঙ্গাইলে যমুনা রিসোর্টে শনিবার যাত্রাবিরতি করেন। এ সময় তার রাতের খাবারের আয়োজন করেন টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের নবনির্বাচিত এমপি হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী।কিন্তু হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী এমপি উপস্থিত না থাকায় ওবায়দুল কাদের নেতা-কর্মীদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে রাতের খাবার না খেয়েই চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন।

এ সময় টাঙ্গাইল-৫ সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে খাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন এবং হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী রাস্তায় রয়েছেন, কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আসবেন বলে জানান।

এ সময় মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে এমপি ছানোয়ার হোসেনকে চড়-থাপ্পড় মারেন বলে একটি খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।অবশ্য পরে ওবায়দুল কাদের রিসোর্ট ত্যাগ করার আগে এমপি ছানোয়ার হোসেনের মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে সান্ত্বনা দেন বলেও জানা গেছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম, টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের সংসদ সদস্য অনুপম শাজাহান জয়, যুগ্ম সম্পাদক খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, নাহার আহমেদ, কালিহাতী উপজেলা চেয়ারম্যান মোজহারুল ইসলাম তালুকদার, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন মানিক, টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সম্পাদক খান আহম্মেদ শুভ এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

       ঘটনার বিষয়ে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন শনিবার রাতেই সংবাদ মাধ্যমকে বলেন----"মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলের সাধারণ সম্পাদক, তিনি আমার বড় ভাই। তিনি শাসন করতে পারেন এবং তিনি আমাদের আদরও করবেন। তার বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। তিনি যাওয়ার আগে মাথায় হাত বুলিয়ে আমাকে আদর করেছেন।'ঘটনার বিষয়ে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী যুগান্তরকে বলেন, 'ওবায়দুল কাদের ভাই আমাদের অভিভাবক। তিনি আমাদের শাসন করেন, আবার আদরও করেন। এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।'

এদিকে, রোববার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের মির্জাপুরে চার লেনের কাজ ওবায়দুল কাদেরের পরিদর্শন করার কথা থাকলেও ওই ঘটনার পর রাতেই ঢাকা ফিরে গিয়ে তিনি এ কর্মসূচি বাতিল করে দেন।

     জনাব ওবায়দুল কাদের একজন কর্মঠ মন্ত্রী সকলেরই জানা আছে।দেশের অত্যান্ত স্পষ্যকাতর মন্ত্রানালয়ের দায়িত্ব পালনরত: অবস্থায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ইচ্ছায় দেশে বিদেশে আলোচিত "পদ্মাসেতু" যথাসময়ে কায্যদেশ সমাপ্ত করার দায়িত্ব দিয়েছেন।উক্ত কাজটিও কোনপ্রকার কেলেংকারি ছাড়াই চল্লিশ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে সমাপ্ত করেছেন। সড়ক ও সেতু মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে থাকাকালিন সময়ে দেশের মানুষ দেখেছে তাঁর কর্মতৎপরতা।রাতবিরাত, যখন তখন সরকারি কাজে যত্রতত্র ঘুরে বেড়ানো এবং মাঝপথে নেমে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি ও বিষয়ের খোঁজখবর নেয়া তার রুটিন কাজের মধ্যেই অন্তভূক্ত ছিল। এনিয়ে সামাজিক মাধ্যম সহ পত্র-পত্রিকা, ইলেকট্রিক মিডিয়ায় হরহামেশাই আলোচনা সমালোনার মধ্যমণিতে তিনিই ছিলেন।

    দীর্ঘদিন যাবৎ দলের বিভিন্ন পয্যায় দাবি ছিল সরকার থেকে দলকে আলাদা করার।বিগত সম্মেলনে সর্বস্তরের দাবির প্রেক্ষাপটে সভানেত্রী সেই আলোকেই দলের নেতা নির্বাচন করার প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হয়ে উঠায় দেশব্যাপি নেতাকর্মীদের মধ্যে  বিশেষ চাঞ্চল্যতা পরিলক্ষিত হয়।দলের বিশেষ গুরুত্বপুর্ণ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে থাকাবস্থায় সারাদেশের নেতাকর্মীদের মনোভাবের প্রতি দৃষ্টি রেখে জনাব ওবায়দুল কাদেরকে সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত করেন।
   
    এর আগে বিগত সরকার সমূহে লক্ষ করা গেছে দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ন  পদের অধিকারি অধিকতর দপ্তর কেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয় স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে রাখা হ'ত।মন্ত্রনালয়টি দেশের জন্যে গুরুত্বপুর্ণ হলেও কর্মকান্ড ছিল একান্তই দপ্তর কেন্দ্রিক।ফলে দল ও সরকার পরিচালনায় খুব বেশী সমস্যা দেখা দেয়ার সম্ভাবনা ছিলনা।তদপোরি বিভিন্ন সময়ে দলের কায্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিলে দেশব্যাপি আলোচনার ঝড় বয়ে যেতেও আমরা দেখেছি।
   
    জনাব ওবায়দুল কাদেরের সড়ক মন্ত্রনালয় এবং বাড়তি দায়িত্ব 'সেতু মন্ত্রনালয়' নিশ্চয়ই তাঁর কর্মক্ষমতার অতিরিক্ত ছিল আগেই পরিলক্ষিত হয়েছে। তার উপর দেশের সর্ববৃহৎ দলের দলীয় দায়িত্ব তুলে দেয়া হয়েছে। গুরুত্বপুর্ণ মন্ত্রনালয়দ্বয় ও দলীয় দায়িত্ব উভয়ের অস্বাভাবিক ভারে ন্যুজ হওয়াই তাঁর  স্বাভাবিক, বয়সও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি ফ্যাক্টর।তিনি কোনকাজ ফেলে রাখার পাত্র নন, সময়ের কাজ সময়ে করাই তাঁর অভ্যেস ছিল আগে থেকে। সময়ানুবর্তিতা, কর্মদক্ষতা, নিয়মানুবর্তিতা, প্রজ্ঞা, নিষ্টা তাঁকে উচ্চ শিখরে নিয়ে গেছে।
   
     এমনিতেই আমাদের দেশের লক্ষনীয় রাজনৈতিক দিক-যিনি যতবেশী কাজে ব্যাস্ত থাকেন তার সমালোচনাও ততোধিক বেশী হয়। তাঁর ক্ষেত্রেও ব্যাতিক্রম হবেনা জানি। কিন্তু উদ্ভুত ঘটনা তদ্রুপ কোন কাজের আওতায় পড়েনা- "ইহা সম্পুর্ণ রাজনৈতিক শিষ্টাচারের আওতায় পড়ে বিধায় রাজনৈতিক সচেতন মহল কোন অবস্থায় মেনে নিতে পারছেন না"। এইরুপ রাজনৈতিক কালচার ভবিষ্যতে দলকে চলমান 'বিগবসের' তুলনায় আরো গভীর ভাবে "বিগবস" এর খপ্পরে নিয়ে যেতে পারে।যেখান থেকে দলকে আর হয়ত মুক্ত করা আদৌ সম্ভব হবে না।
            "জয় বাংলা        জয়বঙ্গবন্ধু"
          ruhulaminmujumder27@gmail.com
     

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg