পত্রিকায় প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ময়নাতদন্ত।
   (রুহুল আমিন মজুমদার)

      বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এতদঞ্চলের একটি ঐতিহাসিক গনতান্ত্রিক সংগঠন। বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়ের ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে জড়িয়ে আছে এই দলটির এবং দলের  নেতা বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, বাঙ্গালী জাতীয়তাবোধের  জম্মদাতা, শ্রেষ্ঠবাঙ্গালী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের নাম। মুক্তিযুদ্ধের পর জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগে যোগদানের হিড়িক পড়ে। দলে দলে আওয়ামী লীগের পতাকাতলে সমবেত হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার শফথ নিতে থাকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ধর্মভিত্তিক দলের নেতাকর্মী, চীনপন্থি কম্যুনিষ্ট পার্টির তৃনমূলের নেতাকর্মীরা। আওয়ামীলীগ ছাড়া বাকি কোন দলের অস্তিত্ব খুঁজে নিতে দুরবীন যন্ত্রের সাহায্য নিলেও খোঁজে পাওয়া কষ্টকর ছিল।

     এমন পরিস্থীতিতে সাম্রাজ্যবাদি চক্রের কূটচালে ছাত্রলীগের একটি অংশ দলত্যাগ করে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কায়েমের লক্ষে সরকার বিরুধী একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে। রাতারাতি দলটি সারাদেশব্যাপি শাখা, প্রশাখা ছড়িয়ে শক্তিশালী দলে রুপান্তরীত হয়। আশু বিপ্লবের লক্ষে তৎক্ষনাৎ দলটির একটি সামরিক শাখারও বিকাশ ঘটে।সামরিক শাখাটি গনবাহিনী নাম নিয়ে আত্মপ্রকাশ করার উষালগ্নেই  অত্যাধুনিক  সমরাস্ত্রের সজ্জিত হয়ে আত্মপ্রকাশ করতে পেরেছিল। তখনকার তরুন প্রজম্ম একটুখানিও চিন্তা করেনি সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশে সামরিক বাহিনীর হাতে যেখানে অস্ত্র নেই,  তাঁদের হাতে এই সমস্ত ভীনদেশী অত্যাধুনিক অস্ত্র কোত্থেকে আসে, কেন আসে।

      ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্ট ঘাতকচক্রের হাতে বঙ্গবন্ধু স্ব-পরিবারে নিহত হলে আওয়ামী লীগের উপর চরম বিপয্যয় নেমে আসে। দলের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা মীর জাপরের বংশ তাঁদের আসল চেহারা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে। ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুর রক্তস্রোতের উপর দাঁড়িয়ে সেইদিন ভোর থেকে ঘাতক চক্র ভীরু ভীরু কন্ঠে সাধু-চলিত ভাষার সংমিশ্রনে হৎচকিতভাবে যে ঘোষনাটি বাংলাদেশ বেতারে(রেডিও বাংলাদেশ) পাঠ করেছিল বার বার, সেই ঘোষনানুযায়ী তাঁরা শুধুমাত্র সেই দিন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি---হত্যা করেছিল বাংলাদেশ, বাঙ্গালী জাতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনাবোধকে।

  তাঁর পরবর্তী ইতিহাস আওয়ামী নিধনের ইতিহাস, সংখ্যালুঘু নিধনের ইতিহাস, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি উত্থানের ইতিহাস, পবিত্র ধর্ম ইসলামকে বেচাকেনার ইতিহাস। সেদিন থেকে দীর্ঘ ২১ বছর আওয়ামীলীগ নিধন হয়েছিল ঠিকই, যাদের কাঁধে ভর দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবারে হত্যা করা হয়েছিল, সেই বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রীদের অস্তিত্ব কোনপ্রকার নিড়ানী ছাড়াই কালক্রমে নিধন হয়ে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যার আগে লক্ষ লক্ষ বিপ্লবীর মিছিল, গগনবিদারী শ্লোগান,গনভবন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ঘেরাও এর হঠকারি রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন অব্যাহত ছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর একই বিপ্লবীদল ঢাকা শহরের সববস্তির টোকাই ভাড়া করেও অদ্যাবদি একটি মফস্বল শহরে অনুষ্ঠিত সমপরিমানের জঙ্গীমিছিলও কোনদিন করা সম্ভব হয়নি।

      তদ্রুপ রাজনৈতিক পরিবেশ পরিস্থীতি আবারো উত্থান ঘটানোর চক্রান্তে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারি দল জাতির জনকের জৈষ্ঠকন্যা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনার নেতৃত্বাধীন  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে। দেশী-বিদেশী একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে ০১/০৪/২০১৭ ইং শনিবার প্রখ্যাত দুটি পত্রিকা "দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক আজকের সূয্যদয়" পত্রিকায় জনাব "আবুল খায়ের ও মেহেদী হাসানের" একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট চাপা হয়েছে। রিপোর্টের মর্মানুযায়ী সরকারের আকাশচুম্ভি উন্নয়ন অগ্রগতির রথ থামানোর উদ্দেশ্যে দেশীবিদেশী চক্রান্তে, উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে দলে দলে জামায়াত শিবির সহ অন্যান্ন স্বাধীনতা বিরুধীদের অনুপ্রবেশ সুনিশ্চিত করা হয়েছে। একাজে দলের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা মোস্তাকচক্রের সরাসরি জড়িত থাকার ইঙ্গিতও রয়েছে বলে গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে।

     গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া রিপোর্টের সত্যতা যাছাইকল্পে জনাব "আবুল খায়ের ও মেহেদী হাসান" দেশব্যাপি অনুসন্ধান চালিয়ে বর্তমান আওয়ামী লীগ এবং তাঁর নেত্রী শেখ হাসিনার জীবন নাশের উপযোগি ভয়ংকর চিত্রের সন্ধান পেয়েছেন। তাঁদের ভাষায়--"দলে দলে সরকারি দলে বিএনপি-জামায়াত। হাইব্রিডদের মাঠ দখল। গত চার বছরে ঢুকেছে ৩০ হাজারের বেশি। অর্থ-সম্পদ বৃদ্ধি, ফৌজদারী অপরাধ থেকে রক্ষা ও দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিই যোগদানের উদ্দেশ্য। হাইকমান্ডের নির্দেশনা উপেক্ষিত, উদ্বিগ্ন ১৪ দলের শরিকরাও।

      রিপোর্টের একটি ছোট একটি অংশ সম্মানিত পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা প্রয়োজন মনে করি---"জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগে যোগদানের জন্য তৃণমূল আওয়ামী লীগের উদ্যোগে যেসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল তাতে প্রধান অতিথি হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।"

     দল শক্তিশালী করতে ২০১১ সালে সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করে আওয়ামী লীগ। সারা দেশে দুই টাকা মূল্যের সদস্য ফরম পাঠানো হয়। কিন্তু পরে তা আর বেশি দূর এগোয়নি। আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, অভিযান শুরুর পর তা বাস্তবায়নে আর আগ্রহ দেখাননি দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। এ পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত দল জামায়াত ও তাদের জোটসঙ্গী বিএনপির নেতাকর্মীদের দলে ভেড়ানো হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্যরা এতে মদদ দেন। শুধু তাই নয়, স্থানীয় প্রশাসনেও অনুপ্রবেশকারীদের লোকরাই চাকরি পাচ্ছে বেশি। জামায়াতের টাকায় তারা চাকরি পাচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশকারীদের একক আধিপত্য বিরাজ করছে।"

     উল্লেখিত রিপোর্টে সামান্যতম অংশও যে বাতুলতা নয়, তাঁর চাক্ষুস প্রমান সহকারে---আমার বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে, আমার অনেক লেখায় তুলে ধরেছিলাম। এবং কি আমার নীজ ইউনিয়নে কিভাবে আওয়ামী নিধন পরিবারের সন্তান, আওয়ামী লীগে যোগদান ব্যাতিরেকে একলাফে দলের ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি পদ সহ ইউ,পি চেয়ারম্যান মনোনয়ন পেয়েছে"---তাঁর সম্পূর্ণ বিবরণী তোলে ধরেছি। চাকুরী ক্ষেত্রেও আমার এলাকার ইউনিয়ন বিএনপি নেতার ছেলে, ঢাকা ইউনিভারসিটির শিবির নেতা কিভাবে, কার মাধ্যমে, কতটাকার বিনিময়ে পুলিশ সার্জেন্টের ন্যায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকুরী লাভ করেছিল--তাঁর বিশদ বিবরনী সহ উল্লেখ করেছিলাম। অত্যান্ত পরিতাপের বিষয়--আওয়ামীলীগের নীতিনির্ধারক পয্যায়ের কারো নজরেই আমার লেখা গুলি কখনও পড়েনি।

       এমনতর ঘটনা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘটেছে তাঁর প্রমানাদি সহ গোয়েন্দাদের একাধিক রিপোর্ট, দলের উধ্বতন কতৃপক্ষের নিকট জমা দেয়া হয়েছে। দলের সাধারন সম্পাদক একাধিকবার ঐসমস্ত ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন ঘোষনাও দিয়েছেন। তিনি তাঁদেরকে তৃনমূল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের "হাইব্রিড" উপাদিকে চাপিয়ে আরো নিগূড় তাৎপয্যপূর্ণ উপাদি "কাউয়া" বলে সম্বোধন করে তাঁর অন্তরে জমানো ক্ষোভের বহি:প্রকাশও ঘটিয়েছেন।

    ব্যাক্তিগতভাবে আমি একজন ক্ষুদ্র বঙ্গবন্ধু প্রেমি হিসেবে যতটুকু বুঝি-- বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে সদ্য স্বাধীন মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে আওয়ামীলীগের অভ্যন্তর থেকে জাসদ সৃষ্টি করা হয়েছিল। নতুন দল জাসদের  কাঁধে ভর দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল সাম্রাজ্যবাদি মূৎসুদ্ধি গোষ্টি এবং তাঁদের এদেশীয় দোসরেরা। উদ্দেশ্য ছিল সমৃদ্ধ অত্রাঞ্চলকে তাঁদের পদানত রেখে শাষনশোষন অব্যাহত রাখা। তাঁদের উদ্দেশ্যের প্রধান প্রতিবন্ধকতা ছিল ''একমাত্র এবং একমাত্র'' 'বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ' এবং তাঁর অবিসংবদিত নেতা, জাতির জনক, বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।

     বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে একঢিলে দুই পাখি শিকার সম্ভব করেছিল সাম্রাজ্যবাদি চক্র।একদিকে ব্যাক্তি মুজিবকে হত্যা করে তাঁর আদর্শের কবর রচনা এবং তাঁর সোনার বাংলা গড়ার ক্ষেত্রে অত্রাঞ্চলে প্রতিবন্ধকতার দেয়াল তোলে দেয়া অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বকারি দল আওয়ামীলীগকে চিরতরে বাংলার মাটি থেকে উচ্ছেদ করে, পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন করে কনফেডারেশন গঠনের পথ পরিস্কার করা। ইতিমধ্যে আমেরিকার গোপন নথি প্রকাশের পর বিশ্বব্যাপি ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড নিয়ে ব্যাপক  আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং বিশ্বনেতৃত্বে নতুন সমীকরনের পথ প্রসস্ত হয়েছে। উল্লেখ্য দেশী--বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা কমপক্ষে ছয়মাস আগে বঙ্গবন্ধুকে সতর্ক করেছিলেন হত্যা পরিকল্পনাকারিদের সম্পর্কে কিন্তু তিনি উক্ত সতর্কবাণী হেলায় হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর অগাধ বিশ্বাস ছিল বাঙ্গালীরা তাঁকে কোনদিনও হত্যা করতে পারেনা।
   
      গত ০১/০৪/২০১৭ ইং তারিখের 'দৈনিক ইত্তেফাক ও আজকের সুর্য্যদয় পত্রিকায় জনাব ''আবুল খায়ের ও মেহেদী হাসানের" অনুসন্ধানী রিপোর্টটি চোখে পড়ার পর নিজকে আর সংযত রাখতে পারিনি। বাংলা নাটকের দৃশ্যের ন্যায় চোখের তারায় শুধুই ভেসে উঠছে একের পর এক ২১ আগষ্ট বোমা হামলা থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র পুত্রসন্তান "সজিব ওয়াজেদ জয়" হত্যা পরিকল্পনা। অখ্যাত অজ্ঞাত চট্রগ্রামের ব্যাবসায়ীর বিএনপি দলের যুগ্ম মহাসচিব পদ প্রাপ্তি এবং তাঁর ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা "মোসাদ" কানেকশান। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারি বিমানে নাশকতার চেষ্টা, দেশব্যাপি জঙ্গী উত্থান, হেফাজতে ইসলামের উত্থান এবং তাঁদের ইসলাম রক্ষার নামে শাফলা চত্বরে অবস্থান।ইসলাম রক্ষার নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার তৎক্ষনাৎ নেতাকর্মীদের প্রতি হেফাজতের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ, ঢাকাবাসিকে রাজপথে নেমে আসার আহব্বান, সেনাবাহিনীকে ক্ষমতা দখলের জন্যে প্রকাশ্য উস্কানী ইত্যাদি সরকার বিরুধী দল সমূহের মঞ্চায়ীত নাটকের দৃশ্যাবলী।

     গোয়েন্দা রিপোর্ট যতটুকু আঁচ করতে পেরেছি---এতে মনে হচ্ছে যেন অবিকল '৭২--৭৫' এর ষড়যন্ত্রের সাথে বর্তমান সময়ের ষড়যন্ত্রের হুবহু  মিল রয়েছে। তখন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ষড়যন্ত্রকারিদের রাজপথে থাকার জন্যে একটি রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করতে হয়েছিল। বর্তমান সময়ে তাঁর আর দরকার হয়নি। তাঁদের ৭৫ এর ষড়যন্ত্রের ফসল মেজর জিয়ার বিএনপি দীর্ঘবছর তাঁদের পরিচয্যায় বাংলাদেশের জনগনের একটি বিরাট অংশের মনে ঠাঁই করে নিয়েছে। নি:সন্দেহে সদ্য স্বাধীন দেশের নবগঠিত জাসদের চেয়ে বর্তমানের, তাঁদের ষড়যন্ত্রে সৃষ্ট বিএনপি অনেক বেশি বিশ্বস্থ, জনসম্পৃত্ত, নেতৃত্ব গুনে রাজপথের কায্যকর রাজনৈতিক শক্তি।

    '৭২--৭৫ এ জামায়াতে ইসলাম ৭১ এ স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরুধীতার কারনে লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিল। শীর্ষনেতারা বিদেশে পালিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ষড়যন্ত্রে ইন্দন যুগিয়েছিল। মাঝারি মাঠপয্যায়ের নেতাকর্মীগন দলে দলে আওয়ামীলীগ ও নতুন জম্মনেয়া জাসদের ছাতার তলায় মুখ লুকিয়েছিল। ছাত্রসংঘের প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত ক্যাডার বাহিনী গনবাহিনীতে যোগ দিয়ে গনবাহিনীকে অ-প্রতিরোধ্য বিপ্লবী রণবাহিনীতে রুপান্তর করেছিল।

      বর্তমান সময়েও তাঁরা মুক্তিযুদ্ধে মানবতা বিরুধী বিচারের কাঠগড়ায় থাকায় লোকচক্ষুর অন্তরালে তাঁদের অবস্থান। '৭২--৭৫ এর ন্যায় এবারও তাঁদের অনেকে বিদেশে পালিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।মাঝারি পয্যায়ের নেতাকর্মীরা আওয়ামীলীগ ও বিএনপিতে বিলীন হয়ে আছে।তাঁদের অপ্রতিরোধ্য ছাত্র শাখার অধিকাংশ মেধাবিরা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে চাকুরীর সুযোগ করে নিয়েছে। একাংশ জঙ্গিদলে মিশে গেছে। জামায়াতের শীর্ষ কয়েকজন দলের ব্যানারে থেকে শুধুমাত্র সময়ে সময়ে তাঁদের উপস্থীতি জানান দিচ্ছে। বাদবাকীরা হেফাজতে ইসলাম সহ অন্যান্ন সমমনা দলের সাথে মিশে আছে। ফলে বিশদলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল হওয়া সত্বেও জোটনেত্রী জামায়াতকে ডাকার প্রয়োজন অনুভব করেন না।       অ-প্রয়োজনের একমাত্র কারন--বিএনপি নেত্রী জানেন তাঁরা অধিকাংশই ইতিমধ্যে বিএনপিতে মিশে আছে।

      উল্লেখিত গুপ্ত কাজটি তাঁদের বিদেশী প্রভুদের পরামর্শে এবং কেন্দ্রীয় মজলিশে সূরার অনুমোদন ক্রমেই ঘটেছে। কৌশলটি স্বাধীনতার পরবর্তী পয্যায় তাঁদের বিলুপ্ত দলের ক্ষেত্রে খুব ভাল রাজনৈতিক ফায়দা দিয়েছিল।বিলুপ্ত দলকে স্বল্প সময়ের মধ্যে দ্বিগুন শক্তির সমাহারে উজ্জিবীত করতে পেরেছিল। এবারও বিলুপ্ত প্রায় দলের স্বল্পসময়ে পুর্ণজ্জীবনের লক্ষে---তাঁদের নেতাকর্মীদের আওয়ামীলীগে  অনুপ্রবেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন।উদ্দেশ্য পুরাতন-- একদিকে আওয়ামী লীগ দলের মধ্যে বিশৃংখলা সৃষ্টি অন্যদিকে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত ছাত্র শাখার নেতাকর্মীদের জঙ্গীদলে অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে  দেশব্যাপি হত্যাকান্ড, নাশকতা, অরাজকতার সৃষ্টির কৌশল বাস্তবায়ন। শুধু তাই নয়--তাঁদের দলের ছাত্র শাখার বড় একটি অংশকে দলীয় অর্থসাহায্যে আওয়ামী নেতা, এমপি, মন্ত্রীদের নগদ টাকার প্রলোভনে, কেউবা আত্মীয়তার সুত্রে সরকারের গুরুত্ব পুর্ণ ক্যাডার ভিত্তিক পদপদবি দখল, অতিশয় কম শিক্ষায় শিক্ষিতদের সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ, বিজিবিতে স্থান করে দিয়েছেন।উদ্দেশ্য পরিস্কার--সরকারি কাজে বিভ্রান্তি ঘটানো। দলের অতিক্ষুদ্রাংশ বিভিন্ন সরকার বিরুধী ক্ষেত্র বিশেষ সরকারি দলে মিশে 'পবিত্র কোরান অবমাননা সহ নানাহ সাম্প্রদায়িক উস্কানি মূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছে।যার গণ্ডা চারেক উদাহরনের স্মৃতি "মুজিব ভক্তদে"র মনোপীড়ার কারন হয়ে চোখের জলে আত্মাহুতি দিতে বাধ্য হয়েছে।

    লক্ষ করলে দেখা যায়--বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করার পর দেশব্যাপি পাইকারি হারে জামায়াত শিবির, বিএনপি নেতাকর্মীদের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে।কোন ককোন স্থানে এখনও তা অব্যাহতই রয়েছে। তার আগে "অ-শুভশক্তি এবং তাঁদের দোসর প্রেতাত্বা বিএনপি" এর ধারনা ছিল সরকারের গৃহিত উন্নয়ন কর্মকান্ড যেহেতু দৃশ্যমান হয়নি ; সেহেতু স্বল্প সময়ে ধর্মকে সামনে রেখে দেশব্যাপি নাশকতা, হত্যা, সাজানো গুমখুনের কল্পকাহিনী প্রচারের মাধ্যমে আইনশৃংখলার অবনতি ঘটিয়ে সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব হবে। তাঁদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি--সরকার নাশকতা, জঙ্গিপনা, আগুনবোমায় মানুষ হত্যার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রশক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তাঁদের চক্রান্ত রুখে দিতে সক্ষম হয়েছে। এ-ক্ষেত্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সদ্য স্বাধীনদেশে অপ্রতুল পাকিস্তান ফেরৎ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দিয়ে যাহা পারেননি তাঁর কন্যা স্বাধীন দেশের স্বাধীনতাপ্রেমি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে শতভাগ সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।
   
      অ-শুভশক্তিবিহীন সাধারন নির্বাচন সফলভাবে অনুষ্ঠানের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করেন। পুর্ব সরকারের গৃহিত "ভিষন ২০২১" অনুযায়ী "ডিজিটাল বাংলাদেশ" গড়ার লক্ষে নেয়া মেঘা উন্নয়ন কর্মকান্ড একে একে দৃশ্যমান হতে থাকে। এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে "নিম্নমধ্য আয়ে"র দেশ হিসেবে ঘোষনা প্রদান করে। জাতিসংঘ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী 'শেখ হাসিনা'কে সর্বাধিক সম্মানিত উপঢৌকন "ধরিত্রীর মানষকন্যার" উপাদিতে ভুষিত করে।দেশের অভ্যন্তরে ব্যাবসায়ী, শিল্পপতি, রাজনৈতিক দল,শুসীল সমাজও পিছিয়ে থাকেনি--তাঁরাও জাতির জনকের কন্যাকে "দেশরত্ম" উপাদিতে ভূষিত করে সম্মান জানায়। বিদেশী বন্ধুরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘ বাংলাদেশ  সরকারের গানিতিক উন্নয়ন অগ্রগতিকে তৃতীয় বিশ্বের "রোল মডেল" হিসেবে অভিহীত করে অন্যান্ন দারিদ্রপীড়িত দেশ সমুহকে অনুসরনের পরামর্শ দিতে থাকে।
   
    এমত:বস্থায় অ-শুভশক্তি তাঁদের কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন এনে '৭২--৭৫ এর অবিকল কৌশল কাজে লাগানোর চেষ্টায় আংশিক সফলতা অর্জন করেছে বলে মনে করি। পূর্ণাঙ্গ সফলতার আগেই তাঁদের ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা দেশীবিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা সমূহের নজরে চলে আসে।
       এককথায় বলা যায় কাকতালীয়ভাবে বঙ্গবন্ধুকে যে সমস্ত দেশী-বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা হত্যা পরিকল্পনার বিশদ বিবরন সহ পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট কমপক্ষে ছয়মাস আগে দিয়েছিলেন, তাঁর কন্যাকেও একই দেশী-বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা, তাঁর সরকার উচ্ছেদ ও পরিবার নাশের বিশদ বিবরনী সহ পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রদান করে। উক্ত রিপোর্টের আলোকে জনাব 'আবুল খায়ের ও মেহেদী হাসানের' অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দৈনিক 'আজকের সুয্যদয় ও দৈনিক ইত্তেফাক' পত্রিকায় গুরুত্বের সঙ্গে ছাপানো হয়েছে।

     তবে আশার কথা বঙ্গবন্ধুকন্যা জাতির পিতার মর্মান্তিক হত্যাকান্ড অক্ষরে অক্ষরে স্মরণ রেখেছেন, প্রতিনিয়ত জাতিকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। গোয়েন্দা রিপোর্ট দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর দলের নবনির্বাচিত সাধারন সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের কঠোর হুমকি দিয়ে বলেছেন--"জামাত- শিবির অনুপ্রবেশে সহায়াতাকারি নেতাদের পরিণতি ভাল হবেনা।"শেখ হাসিনা মহান সংসদে দাঁড়িয়ে দ্ব্যার্থ্যহীন কন্ঠে ঘোষনা দিয়ে বলেছেন--"বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বিপন্নকারি অ-শুভশক্তির সকল চক্রান্ত বাংলাদেশের জনগনকে সাথে নিয়ে তিনি প্রতিহত করবেন। দেশ ও জনগনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারি কাউকেই তিনি রেহাই দেবেন না----সকল অ-পশক্তিকে তিনি সময়ে আইনের আওতায় নিয়ে আসবেন।
    বঙ্গবন্ধুপ্রেমী অগনিত কর্মী জাতিরজনকের কন্যার ঘোষনায় নি:সন্দেহে আশ্বস্ত হতে পারি। তিনি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সম্যক ওয়াকিবহাল আছেন।
   
               মহান আল্লাহ তাঁর জীবন হেফাজতকারী-----
            ruhulaminmujumder27@gmail.com
   
   
   

 

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg