এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মা'য়ের প্রতিক্ষা--ছেলে অনেক মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে এসে ভাত খাবে।
  (রুহুল আমিন মজুমদার)

      ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ--হাজারো, লাখো  হৃদয়স্পর্ষী কাহিনী বাংলার আনাছে কানাছে অ-প্রকাশিত রয়ে গেছে।অনুমান করাটা আসলে কঠিন ব্যাপার। বিজাতীয় পাকিস্তানী শাষনশোষনের যাঁতাকলে পিষ্ট বাঙ্গালীকে শেকলমুক্ত করতে, বঙ্গবন্ধুর আহব্বানে সাড়া দিয়ে, লাখো লাখো তরুন, যুবক, আবাল, বৃদ্ধ, বণিতা কতজন কতভাবে জীবনের সর্বস্ব তুচ্ছ করেছিল। কাংক্ষিত স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষে অবদান রাখতে গিয়ে, করুন, মর্মস্পর্ষী, হৃদয়হীনভাবে মৃত্যুমূখে নিজেকে সঁপে দিয়েছিল--তাঁর কোন ইয়াত্তা নেই। হৃদয়স্পর্ষি সমূদয়  ঘটনার শিকারে পরিণত পাত্র, পাত্রীর  তথ্য, উপাত্ত  রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে অদ্যাবদি সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষিত হয়নি। যদিও জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ গৌরব মুক্তিযুদ্ধের খুঁটিনাটি তথ্য উপাত্ত সংরক্ষনে রাখা রাষ্ট্রের নৈতিক, আইনগত, মানবিক দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং আবশ্যই পালনীয় ছিল।

       বর্তমান সরকার ২০০৯ইং সালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পাওয়ার পর সমম্বিত কিছু উদ্যোগ লক্ষ করা গেছে। এর আগে সময়ে সময়ে কিছু কিছু বেসরকারি সংস্থা মুক্তিযুদ্ধের এই সমস্ত স্মৃতি, বাঙ্গালী জাতির ত্যাগ, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ অবদান সংরক্ষনের উদ্যোগ নিয়েছিল সত্য--মাঝপথে বাঁধাগ্রস্ততার কারনে  উদ্যোগ বাতিল অথবা থেমে গেছে। ঢাকা ইউনিভারসিটি কেন্দ্রিক একদল নতুন প্রজম্মের মেধাবী তরুন ২০১৩/১৪ সালে নীজেদের উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাঁথা সংরক্ষনের উদ্দেশ্যে কাজ শুরু করে অনেকদুর অগ্রসর হতে পেরেছেন। মুক্তিযোদ্ধা আর্কাইবসও এক্ষেত্রে তাঁদের কাজের অগ্রগতি লক্ষনীয়ভাবে তুলে ধরেছেন। 

'৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ অশুভশক্তি বাঙ্গালী জাতিকে উলটো দিকে অনেকদূর পয্যন্ত নিয়ে গিয়েছিল। ফলে বহু মুক্তিযোদ্ধা তাঁদের নীজেদের বিরত্বগাঁথার সংবাদ, ত্যাগের মহিমা প্রকাশতো দুরের কথা--মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিতেও ভীত ছিলেন। অনেকেই নিজকে মুক্তিযুদ্ধা ভাবতেও গ্লানীতে আত্মহননের ইচ্ছা জেগে উঠার পরিবেশ বিরাজমান ছিল।

     মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামীলীগ এবং তাঁর নেতা বঙ্গবন্ধুর স্বল্পকালিন শাষনকালে উদ্যোগ নিয়েছিলেন কিন্তু তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর অন্যসব ইতিহাসের ন্যায় ইহাও হারিয়ে যায় হিংস্রতার আগুনে।  মুক্তিযুদ্ধের লাখো লাখো আত্মত্যাগের কাহিনী, বীরত্বের কাহিনী বিগত চল্লিশ/বিয়াল্লিশ বছরে অনেকের স্মৃতির পাতা থেকে মুছে গেছে। মুছে যাওয়া ঐ সমস্ত স্মৃতি, ত্যাগ, বিরত্বের কাহিনী ইতিহাসের পাতায়  আসার কথা নয়। এখনও এমন হাজারো অজানা আত্মত্যাগ, কিংবদন্তির বীরত্ব গাঁথা বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে লোক মুখে জীবন্ত রয়েছে---সদিচ্ছা নিয়ে হাত বাড়ালেই পাওয়া যেতে পারে।  এখনও কুড়িয়ে পাওয়া হৃদয় বিদারক, মর্মস্পষী কাহিনী গুলীও যদি কখনও প্রকাশিত হয়-- নিশ্চিত আরব্য রজনীর রুপকল্পকে হার মানাবে। বাঙ্গালীর মুক্তিযুদ্ধের সত্য ও বাস্তবতা সর্বস্ব এতসব লোমহর্ষক কাহিনী যথাতথা চড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

      মূলত: মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগ, বীরত্বগাঁথা, মুক্তিযোদ্ধাদের শৌয্যবিয্য, সাধারন মানুষের অসীম সাহষী কর্মকান্ডের শতভাগের একভাগও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পাতায় শেষ পয্যন্তও  স্থান হবেনা। ইতিহাসে স্থান না পাওয়া এখনও অজস্র আত্মত্যাগ, বীরত্বগাঁথা বাংলার হাটেঘাটে, পথেপ্রান্তরে  পরিবার, সমাজ, পাড়াপড়শী, বন্ধুমহলের চোখের পানিতে স্বরনীয়, বরনীয় হয়ে জীবন্ত রয়েছে। সময়ে ইতিহাসের অতলগব্বরে অধিকাংশ হারিয়ে যাবে ; ইতিমধ্যে যেমনি ভাবে হারিয়ে  গেছে হাজারো কাহিনী।

           কত হাজারো বিকৃত উপায়ে, পাষন্ডতায়, শৃগাল কুকুরের মানষিকতায়, বিকৃত, ধিকৃত, পাশবিকতায়, অচিন্তনীয় রুচিতে এদেশের মা, বোনদের উপর অত্যাচার, নিয্যাতন, নিস্পেষন চালিয়েছিল---অধিকাংশের খোঁজখবরও হয়নি। হাজারো বিকৃত প্রক্রিয়ায় বাঙ্গালী মা, বোন ভাইদের  জীবন  কেড়ে নিয়েছিল---সেই সমস্ত হৃদয় নিংড়ানো অব্যাক্ত কাহিনী, শতভাগের একভাগ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই পাবেনা শত চেষ্টার পরেও।হাজারো অমরত্বের বিরত্বগাঁথা লোকের মূখে মুখে অনেক বছর প্রচলিত ছিল কিন্তু রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ছিলনা বিধায় সংগৃহিত হয়নি। অনেক ঘটনা পরিবেশ পরিস্থীতির কারনে ইচ্ছাকৃত হারাতে বাধ্য হয়েছে। হাজারো হৃদয়স্পর্ষী ঘটনা প্রথম থেকেই লোক লজ্জায় অ-প্রকাশিত থেকে গেছে---সেই সমস্ত ঘটনা কেউ কোন দিন জানবে না।

  তেমনি এক ভিডিওচিত্র 'ফেইছবুক বন্ধু অন-লাইন পোর্টাল বাংলাদেশ প্রেসের সম্পাদক জনাব Asrarul Huq Mahmood Rumy ভাইয়ের মাধ্যমে আমার হাতে এসেছে।' সত্যি ভিডিওটি দেখে চমৎকৃত, হতবিহব্বল, হৎচকিৎ, শিহরীত হলাম। এমনও কি হয়!! হতে পারে!!!

     ফিরোজপুরের এক মুক্তিযোদ্ধার মায়ের হৃদয় নিংড়নো, নাড়িচেড়া ধনের ফিরে আসার অপেক্ষায় দীর্ঘ ৪৬ বছর প্রতিক্ষার বাস্তব তার অম্লান, মর্মস্পর্ষী উপাখ্যান। মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক পাকবাহিনীর নিয্যাতনে শহিদ হন।তাঁর নাড়িচেড়া মা বিগত ৪৬ বছর ছেলের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।তিনি কিছুতেই বিশ্বাস করতে চাননা তাঁর ছেলে আর কখনও ফিরে আসবেনা।পাকবাহিনীর চরম শারিরীক নিয্যাতনে আজ থেকে ৪৬ বছর আগে তাঁর মর্মান্তিক  মৃত্যু ঘটেছে।

 ফিরোজ পুর সদর উপজেলার শহর মাজিম পুর গ্রামের এক নিবৃত পল্লি। রাঁতের আধাঁরে সবাই ঘুমিয়ে পড়ে, জেগে থাকে এক মা কুলসুম বেগম। তাঁর ছেলে ( মায়ের আদূরে নাম ফারুক সাহেব) বাড়ী থেকে বের হওয়ার সময় বলেছিল--"মা আমি সন্ধ্যা নাগাদ বাড়ী ফিরে আসব"। ছেলের এই একটি বাক্যই 'জননী মা'কে রেখেছে ৪৬ বছর নির্ঘুম প্রতিক্ষায়।

      মায়ের ফারুক সাহেব আর আসেননি। আজও মা তাঁর ফারুক সাহেবের অপেক্ষায় দরজা খোলা রেখে ঘুমান। ঘুমের ক্লান্তি যদি কখনও এসে যায় ঘরের সবাইকে সজাগ করে দেন প্রত্যহ, দরজায় খেয়াল রাখতে, যাতে তাঁর ফারুক সাহেব দরজা খোলা না পেয়ে ফেরৎ চলে না যায়।  প্রতিদিন মা' ভাতের চাল দিয়ে রাখেন, অনেক সঙ্গি মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে ভাত খেতে আসবে তার সাহেব ! ফারুকের বোন অঝোরে কেঁদে বলছিল--কোনদিন যদি আমরা চালের পরিমাণ কম দেই, মা খুব রাগ হয়ে যায় এবং কি মেয়ের জামাই বাড়ীতে বা কোথাও বেড়াতে গেলেও একই নিয়ম সবাইকে পালন করতে হয়।

 মো: ওমর ফারুক। বয়স সবেমাত্র ২১ বছর। সরকারি শহীদ সরওয়াদী কলেজ ছাত্র সংসদের ভি,পি। ৭১ এর উত্তাল দিনগুলীতে লুকিয়ে লুকিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করার মূল দায়িত্ব ছিল ছাত্রনেতা ওমর ফারুকের উপর। শুরুতে জড়িয়ে পড়েন 'স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস গ্রুপে'র সঙ্গে।১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ ফিরোজপুর টাউন হল চত্বরে  প্রথম 'স্বাধীন বাংলাদেশের' পতাকা উত্তোলন করেন ওমর ফারুক। সেদিন তাঁর নেতৃত্বে পুড়িয়ে ফেলা হয় সব পাকিস্তানী পতাকা। সঙ্গীয় মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে পিরোজপুর ট্রেজারী ভেঙ্গে লুট করে নিয়ে আসেন সব অস্ত্র। প্রথম তিনমাস দেশের অভ্যন্তরে থেকে মুক্তি যুদ্ধ করলেও পরবর্তীতে ভারত চলে যাওয়ার প্রয়োজনীতা দেখা দেয়।
 
   ২৯ মে, স্বরুপ  আটঘর কুরিয়ানা থেকে ভারত যাওয়ার পথে কির্তনখোলা নদীর তীরে ধরা পড়ে যায় এই অকুতোভয় বীর সেনানী পাকবাহিনীর হাতে। ধরাপড়ার সময় তার কাছে রক্ষিত ছিল সাতটি স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। তার একটি পতাকা নিষ্ঠুর,পাশবিক কায়দায় হাতুড়ি পেটা করে ডুকিয়ে দেয়া হয় তার মাথার মগজে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়--পাকিস্তানী সেনারা বারবার বলেছিল "পাকিস্তান জিন্দাবাদ বললে ছেড়ে দেবে। তেজস্বী যুবক নিয্যাতনে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে থাকা সত্বেও গাঁয়ের সমস্ত শক্তি উজাড় করে চিৎকার করে বলে উঠেছিল "জয়বাংলা"।

সেদিনই ওমর ফারুককে মৃত্যু নিশ্চিত করে কির্তন খোলা নদীতে তাঁর লাশ ভাসিয়ে দেয়া হয়।অনেক খুঁজাখুঁজি করেও সঙ্গীয় মুক্তিযোদ্ধারা তাঁর লাশের কোন সন্ধান পাননি। সমসাময়িক সময়ের এক মুক্তিযোদ্ধা বলেন--ফারুক ভাই ছিলেন অগ্নিঝরা বক্তা।প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিনিই সংগঠিত করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের। পিরোজপুর কালেক্ট্রোরিয়েট মাঠে তিনিই প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেন।অথছ আজও আমরা তাঁকে জীবিত মুক্তিযোদ্ধারা সেই সম্মানটুকুও দিতে পারিনি।

     তানবীর আহম্মদের তথ্য ও ছবি নিয়ে মাকসুদুর নবীর প্রতিবেদনটি বেসরকারি টিভি  'চ্যানেল ২৪'' এ প্রচারিত হয়। বোনের চোখের পানি এখনও ঝর ঝর করে পড়ছিল।তাঁর বৃদ্ধ মা আজও বিশ্বাস করেন না তার ছেলে আর কখনও ফিরে আসবেনা। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযূদ্ধ চলাকালিন দশম শ্রনীর একছাত্রের সাক্ষাৎকারও সংযোজিত রয়েছে ভিডিও চিত্রটিতে।
ruhulaminmujumder27@gmail.com
https://www.youtube.com/watch?v=NfSA3qsRQg0&sns=em

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg