সদা শংকিত, দরিদ্র, বিনিয়োগ প্রত্যাশী বাংলাদেশ--১০০কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রত্যাশায় ভুটান যাত্রা।
  (রুহুল আমিন মজুমদার)

       বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী গত কয়দিন আগে ভারত সফরে গিয়েছিলেন।ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা সাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক দল সমূহের মধ্যে বিএনপি উক্ত চুক্তি ও সমঝোতার প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছিল শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অবশিষ্ট যাহাই ছিল সমগ্রই এবারকার সফরে ভারতের নিকট বিক্রয় করে দিয়ে এসেছেন। বাংলাদেশের মানুষ দায়িত্ববান বিরুধী দল এবং একাধিকবার বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অভি্যোগের প্রেক্ষাপটে অতিশয় শংকিত হয়ে পড়ে। জনগনের শংকা দূর করার কায্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে অদ্য শেখ হাসিনা ১০০ কোটি ডলার নিয়ে ভূটান গমন করেছেন। সেখানে ভূটান সরকার বাংলাদেশের জন্যে একখন্ড জমি দান করেছেন।

       সামরিক সমঝোতা স্বাক্ষরকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী সামরিক চুক্তি অভিহীত করে ভারতের আগ্রাসনের আশংকাও প্রকাশ করেছেন । সমঝোতা স্মারককে চুক্তি অভিহীত করার পেছনে তাঁর অজ্ঞতা কাজ করেছে, নাকি অপপ্রচারের উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে দেশবাসিকে শংকিত করে তুলার অসৎ উদ্দেশ্যে?  এ বিষয় কোন প্রকার মন্তব্য দলটির পাওয়া যায়নি ।তিনি একদিকে বলছেন দেশের অবশিষ্ট যাহাই ছিল সবকিছু বিক্রি করে দিয়েছেন অন্যদিকে ভারতের আগ্রাসনের আশংকা প্রকাশ করে তাঁর প্রথম দেয়া দেশবিক্রির অভিযোগককে নীজেই মিথ্যা প্রমান করছেন। দেশ যদি আসলে বিক্রয়ই হয়ে যায়--আগ্রাসনের প্রশ্ন আসে কিভাবে? ভারতের মালিকানা দেশে ভারত সরকারের সেনাবাহিনী অবাধ যাতায়ত করবে--এখানে আগ্রাসনের বিষয়টি আসবে কেন?

   দেশ ও জনগনের মনের ভীতি দূর করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরের পরদিন সাংবাদিক সম্মেলন করেন। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন ১৯৮১ ইং সালে বাংলাদেশ সরকার চীনের সাথে একটি ৫০ বৎসর মেয়াদি প্রতিরক্ষা সামরিক চুক্তি করেছিল। চুক্তিটি বর্তমানেও বলবৎ আছে।তিনি সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসা করেন ঐ সামরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে কি আছে---আপনারা কি কেউ জানেন? চুক্তি যে করা হয়েছিল বিগত ৩৫ বছরের মধ্যে কোন সরকার কি প্রকাশ করেছে,---সেই চুক্তিতে কি ছিল? তিনি বলেন কথাটি প্রাসঙ্গিক ভাবে এসেছে নতুবা আজও ঐ চুক্তি সম্পর্কে আমি বলতামনা। চুক্তিটি অত্যান্ত ---!!! বলেই প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর কথা থামিয়ে দেন।মুখের অভিব্যাক্তিতে অনুমান করা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৈমত্বের জন্যে চুক্তিটি হুমকি স্বরুপই ছিল।

     প্রধানমন্ত্রীর উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে জনমনের ভীতি দূর না হয়ে দ্বিগুন আকার ধারন করেছে।বাংলাদেশের গৌরবের মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ বিরুধীতাকারি দেশ চীন। তাছাড়াও আবহমানকাল থেকেই আমাদের শত্রুদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে রয়েছে দেশটির একাধিক সামরিক, প্রতিরক্ষামূলক চুক্তি।সেই  গনচীনের সঙ্গেই অবৈধ ক্ষমতা দখলকারি মেজর জিয়া প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে তাও অতিসংগোপনে!! যে চুক্তির বিষয়বস্তু বিগত বছরগুলীতে সকল সরকার রাষ্ট্রীয় ভাবেই গোপন করে চলেছেন!!! প্রধানমন্ত্রী বলতে চেয়েও কথা ঘুরিয়ে নিলেন কেন!! কি আছে ঐ চুক্তিতে? বাংলাদেশের জনগন জানতে চায় ঐ চুক্তির বিষয়বস্তু কি? অবিলম্ভে চুক্তির বিষদ বিবরনী জনসমক্ষে প্রকাশ করার দাবি জানাই।

       মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রায়শ:ই একটি কথা বলেন--এবার আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় না আসতে পারলে বাংলাদেশের ইতিহাস মুছে যেত।কথাটির তাৎপয্য তখন বুঝিনি। বিগত দুই/তিন বছরের মধ্যে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাদের মুক্তিযুদ্ধের  ইতিহাস বিকৃতি এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা কতৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির তথ্য সংবলিত পুস্তক রচনা ও বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে দেয়া, তথাকথিত অজ্ঞাত ইসরাইল কানেক্টেড ব্যাবসায়ির বিএনপি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদপ্রাপ্তি, চিকিৎসার নামে সেনাসমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে আপোষ মীমাংসায়--খালেদা পুত্রদ্বয়কে বিদেশে পালায়নের সুযোগ গ্রহন, কোটি কোটি ডলার ব্যয় করে আন্তজাতিক লবিষ্ট নিয়োগ, তারেক জিয়ার উদ্যত আচরণ, আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে হত্যা,গুম, আগুন সন্ত্রাস, সাধারন নির্বাচন বর্জন, সেনাবাহিনীকে কটাক্ষ, জঙ্গিদের প্রতি মায়া দরদ ইত্যাদির যোগফল মিলাতে গেলে, রাজনীতি সচেতন যে কোনব্যাক্তি হতবিহব্বল না হয়ে পারে না।

       ষড়যন্ত্র, মিথ্যাচারেরও একটি সীমারেখা আছে। দেশ ও জনগনের সুদুরপ্রসারি সমূহ ক্ষতির সম্ভাবনাময় বিষয়াবলী নিয়ে দায়িত্বশীল ব্যাক্তি, গোষ্টি, রাজৈতিক দলের মিথ্যাচারের নমূনা বিশ্বের কোন দেশেই দেখা যায়না।বাংলাদেশই একমাত্র ব্যাতিক্রম। নি:সন্দেহে পদ্মাসেতু বাংলাদেশের  গৌরব, অহংকার, সক্ষমতার প্রতিক। পদ্মাসেতুর নির্মানের কথিত দুর্নীতির অভিযোগ শুধুমাত্র ব্যাক্তি বা সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নয়। এই অভি্যোগ ছিল বিদেশী বন্ধুরাষ্ট্র, সাহায্য সংস্থা, ঋনদাতাদেশ ও সংস্থা,  সাহায্যকারিদেশ ও সংস্থা থেকে বাংলাদেশকে বিচ্ছিম্ন করার সুদুরপ্রসারী মহাপরিকল্পনার অংশ। পদ্মাসেতুর বরাদ্ধ টাকা প্রত্যাহার শুধুমাত্র বাংলাদেশের মেঘা প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে অন্তরায় সৃষ্টির উদ্দেশ্য ছিলনা। বাংলাদেশকেই অকায্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার মহাপরিকল্পনারই অংশ ছিল।

      দেশী কুলাংঙ্গার মীরজাফর সুদি ইউনূছের সঙ্গে সুর মিলিয়ে আন্তজাতিক বেনিয়া গোষ্টির ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে দেশের দায়িত্বশীল বিরুধীদল একই সময়ে একই বিষয়ে ষড়যন্ত্র, মিথ্যাচারে লিপ্ত হতে পারেনা। সেই কাজটিও বিএনপি করেছে নিদ্বিধায়,অবলিলায়, নিশ্চিন্তে, নির্বিঘ্নে, বুকচেতিয়ে।আন্তজাতিক আদালতে বাংলাদেশের কোনপ্রকার দুর্নীতির চিহ্ন না পেয়ে গুজুব সৃষ্টি অভিহিত করে রায় দেয়ার পর--অবলিলায় আবার স্বীকারও করে নেয় ইহা তাঁদের রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল। সারা বিশ্ব থেকে বাংলাদেশকে  বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রেও কি আপনাদের রাজনীতি?  কথিত দুর্নীতি প্রমান হলে কোন দেশের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী হতেন আপনারা? কোন দেশের মিডিয়ায় রাতের অন্ধকারে শুশিলের কৌকিল হয়ে কৌহু কহু ডাকতেন?

     একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলতে চাই--একশ্রেনীর ব্যাক্তিও গোষ্টি দেশের কোন উন্নয়নই দেখে না। সারা বিশ্ব দেখে, বিশ্বব্যাংক দেখে, বন্ধুরাষ্ট্র সমূহের সরকার প্রধান, রাষ্ট্র প্রধাংন দেখেন বিএনপি এবং তাঁর মিত্রগন দেখে না।একলক্ষকোটি টাকার বাৎসরিক রাষ্ট্রীয় বাজেট চার লক্ষ কোটি টাকার অংকে পৌঁছে গেছে তারপরও কোন উন্নয়ন দেখেনা, অবকাঠামো দেখেনা, সাবমেরিন, জাহাজ, রকেট, যুদ্ধবিমান, পারমানবিক চুল্লি কিছুই দেখেনা।যাক অন্ধ হলে দেখবে কিভাবে? দেশের ঐশ্রেনীর অন্ধদের কে বস্তুগত কোন উদাহরন দিয়ে উন্নয়নের ফিরিস্তি দিতে চাইনা।অদৃশ্য শক্তির অনুভব অন্ধদের মধ্যে প্রবল থাকে জানি। আমি তাঁদের উদ্দেশ্যে অদৃশ্যশক্তির উন্নয়ন সম্পর্কে তুলনামূলক একটি আলোচনা উপস্থাপন করতে চাই।

       সকলেই জানি সভ্যতা, উন্নয়ন, অগ্রগতির মূল চাবিকাঠির অদৃশ্যশক্তির নাম বিদ্যুৎ। ইংরেজীতেও তাঁকে পাওয়ার অর্থাৎ শক্তি নামেই ডাকে সবাই।
২০০৯ সাল নাগাদ সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত মোট ৪৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু ছিল। এর মধ্যে সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত ১৮টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ৩৮২৪ মেগাওয়াট এবং বেসরকারি উদ্যোগে স্থাপিত ২৫টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা ২১০৪ মেগাওয়াট। তবে এসব কেন্দ্র থেকে প্রকৃতপক্ষে উৎপাদনক্ষমতার সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হতনা। পিক আওয়ারে সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি থেকে সর্বোচ্চ ৩৩৩১ এবং বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি থেকে ২০৪৫ মেগাওয়াটসহ মোট সর্বোচ্চ ৫৩৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হওয়ার ক্ষমতা ছিল।

   সুষ্ঠ রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে অধিকাংশ কেন্দ্রই বছরের পর বছর অকেজো হয়ে পড়ে থাকার কারনে চাহিদা মাফিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কখনই সম্ভব হয়নি।বর্তমান সরকারের ক্ষমতার প্রথমাংশে দেখা যায় অধিকাংশ উৎপাদন কেন্দ্র বিকল হয়ে পড়ে আছে,সারাদেশ অন্ধকারে  ডুবে আছে। ২০০৯-১০ অর্থ বছরে দেশে সর্বমোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ২৫,৬২২ মিলিয়ন কিলোওয়াট।২০১১ সালে পিডিবির গ্রাহকসংখ্যা ছিল ২,১৫৯.৮৭৯।দেশের মোট জনগোষ্টির ৩৩ শতাংশ বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগী ছিল।

২০০৮ সালের জানুয়ারী--মার্চ পয্যন্ত সেনাসমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল চার হাজার ৩৬ মেগাওয়াট।কালক্রমে তা কমে ২০০৯ সালের প্রথম দিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এসে দাঁড়ায় মাত্র ২৫০০ মেঘাওয়ার্টে। উক্ত সময়ে বর্তমান সরকার সাধারন নির্বাচনে ভুমিধ্বস বিজয়ের মাধ্যমে শেখহাসিনার নেতৃত্বে সরকার পরিচালনার দায়িতেওভার গ্রহন করে। সারাদেশ অন্ধকারাচ্ছন্ন থেকে কালক্রমে আলোতে নিয়ে আসার বিস্তারীত বিবরনীতে গেলামনা নিবন্ধের আকার বিস্তৃত হয়ে পাঠকদের বিরক্তির কারন হয়ে দাঁড়াবে। গত বছরের সর্বশেষ তথ্য দিয়ে লেখা শেষ করতে চাই।

 মে ২০১৬ ইং সাল  পর্যন্ত দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৪ হাজার ৫৩৯ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। আওয়ামী লীগ ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ অর্জনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে আরও ২৪ হাজার মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের।এ বছর নভেম্বরে ১৫ হাজার মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন   উৎযাপন করবে সরকার। বন্ধ উৎপাদনী বিদ্যুৎ প্লান্টের হিসেব বাদ দিয়ে সর্বশেষ ১৪/০৩/২০১৭ ইং তারিখের তথ্য নিম্নে তুলে দিলাম।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা (মেঃওঃ): ১৩,১৭৯* (মার্চ ২০১৭)
সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন (মেঃওঃ): ৯,০৩৬ (৩০ জুন ১৬)
গ্রাহক সংখ্যা: ২ কোটি ৪২ লক্ষ (মার্চ ২০১৭)
মোট সঞ্চালন লাইন (সা.কি.মি.): ১০,৩৭৭ (ফেব্রুয়ারি ২০১৭)
বিতরণ লাইন (কি.মি.): ৩ লক্ষ ৮৯ হাজার (ফেব্রুয়ারি ২০১৭)
মাথাপিছু উৎপাদন (কিঃওঃআঃ): ৪০৭ কিঃওঃআঃ (আগষ্ট ২০১৬)
বর্তমানে বিদ্যুৎ সুবিধা প্রাপ্ত জনগোষ্ঠী:( ৮০%)
নতুন সংযুক্ত বিদ্যুৎ প্লান্ট---(১০৭টি)

  প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, ইতিমধ্যে বাংলাদেশের সর্বত্র চৈত্রের দাবদাহের মধ্যেও বিদ্যুতের আসা যাওয়ার সম্মুখ্যিন হচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল।১০হাজার মেগাওয়ার্টেরব্ল বেশি বিদ্যুত উৎপাদনের পরও অতিষ্ট জনজীবন। এত বিদ্যুত যাচ্ছে কোথায়? শিল্প, কলকারখানা, অবকাঠামো কিছুইতো হয়নি!!
 ভারত সফরের প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২হাজার মে: ও: বিদ্যুৎ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।সমুদয় বিদ্যুৎ এই বছরেই যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে।এদিকে বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ভূটানের রাজধানী থিম্পুতে রাত্রিযাপন করছেন অদ্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। উন্নয়ন একেবারেই হয়নি!! এযাবৎকাল শুনে এসেছি---বাংলাদেশে বিদেশী রাষ্ট্র ও ব্যাক্তির বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে লম্বা লম্বা বক্তৃতা।, আজকের খবরে শুনলাম বাংলাদেশ বিনিয়োগ করবে ভূটানে তাও আবার জলবিদ্যুত উৎপাদনে।ভুটান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুত বাংলাদেশে নিয়ে আসার পরিকল্পনায় সরকার সেই দেশেই বিদ্যুৎ প্লান্ট করার আগ্রহ ব্যাক্ত করেছে।

      কথিত ভারতের নিকট বিক্রিত দেশ ভুটান কে কিনতে যাওয়া কততম আশ্চায্যের মধ্যে পড়তে পারে তাঁর বিচারের ভার পাঠক ভাইদের উপর ছেড়ে দিলাম।
ruhulaminmujumder27@gmail.com
 


মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg