শেখ হাসিনার ভারত সফর----"বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্ব  বহুমাপাক্ষিক সহযোগীতায় রুপান্তর।"
(রুহুল আমিন মজুমদার)

      বাংলাদেশের রাজনীতির একটি অংশের ধারা প্রবাহিত হচ্ছে অদ্ভূত যুক্তিহীন বাগাড়ম্বরতার স্রোতের মধ্য দিয়ে। এই গোষ্টিটি বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়ের আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রটিকে টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভারত বিদ্বেসী মনোভাব উদ্ভব ঘটিয়েছিল।পাকিস্তানী শাষকগোষ্টির পরিকল্পিত পরিকল্পনায় এই মনোভাব সৃষ্টি এবং লালন করা হয়েছিল।তাঁদের পরিকল্পনার হোমওয়ার্ক সম্পন্ন করা হয়েছিল অখন্ড ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলকে  অন্তভূক্তির উদ্দেশ্যে অত্রাঅঞ্চলে " হিন্দু --মুসলিম" দাঙ্গা সৃষ্টি করে একিভূত পাকিস্তান সৃষ্টির দাবিকে ত্বরান্বিত করার  উদ্দেশ্য সাধন করতে।
            পরবর্তীতে জাতিগত ভাবে পাকিস্তান- হিন্দুস্তান দুটি রাষ্ট্র উদ্ভব হয়েছে সত্য কিন্ত্যু হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় সৃষ্টি হওয়া বৈরিভাব আর কখনও দূর করার চেষ্টা হয়নি। বরঞ্চ পাকিস্তানীদের শাষন শোষন দীর্ঘায়ীত করার লক্ষে অত্রাঞ্চলের উন্নয়ন অগ্রগতির চাবিকাঠি অমিমাংসীত রেখে ক্ষেত্র বিশেষ অনুচ্ছারিত রেখে সময় সময় বৈরিতাকে উস্কে দেয়ার নীতি গ্রহন করেছিল। পাকিস্তানী শাষক গোষ্টির অ-প্রকাশিত উক্ত নীতি অত্রাঞ্চলে লালন করার জন্যে একটি মুৎসুদ্ধি গোষ্টি, রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় তাঁরা  উদ্ভব ঘটিয়েছিল।উদ্ভব হওয়া কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্টিটি ''দ্বিজাতি তত্বের" ছদ্ধাবরনে 'পবিত্র ধর্ম ইসলাম'কে ব্যবহার করে অত্রাঞ্চলের মুক্তিকামী জনগনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে অস্ত্রধারন করতেও দ্বিধা বোধ করেনি।
        জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত বাংলাদেশের স্বাধীনতার  উদ্দেশ্যে পরিচালিত বাঙ্গালীর মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরীর প্রাক্কালে প্রচন্ডভাবে বিকশীত করেছিল।এদেশীয় সেই সমস্ত অনুচরেরা শেষপয্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে অস্ত্রহাতে সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে দখলদার পাকিস্তানী সেনাদের সহযোগীতায় অকাতরে বাঙ্গালী হত্যা, বাঙ্গালী নারী দর্শন, অসহনীয়, অবর্ননীয় মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত হতেও কুন্ঠিত হয়নি।' ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে বাঙ্গালী দামাল ছেলেরা পাকিস্তানী সেনাদের সঙ্গে তাঁদেরকেও  পরাজিত করে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয় ঘটিয়েছিল।
            পাকিস্তান সৃষ্টির প্রারম্ভেই বাঙ্গালী জাতির জনক বুঝতে পেরেছিলেন পশ্চিমারা তাঁদের শোষন শাষন অব্যাহত রাখার স্বার্থে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে অত্রাঞ্চলের সম্পদরাজীর আহরন করবেনা। সম্পদ ছাড়া অত্রাঞ্চলের জনগনের জীবনমানও উন্নয়ন হবে না। ভারতের প্রয়াত নেত্রী "প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি"ও একই ভাবে বুঝতে পেরেছিলেন পশ্চিমাদের শাষন শোষন অব্যাহত রাখার স্বার্থেই পুর্বাঞ্চলের বিপুল সম্পদ আহরনে পশ্চিমারা নিত্য বাধা হয়ে দাঁড়াবে। সীমানা চিহ্নিতকরন জটিলতার অজুহাতে ভারতকে এককভাবে সম্পদ আহরন করতেও দিবে না। এমনিতেই সিমান্তে অহেতুক জটিলতার পক্ষেই ছিল পশ্চিম পাকিস্তান। অথছ সমৃদ্ধ অত্রাঞ্চলের  বিপূল  পরিত্যাক্ত সম্পদ আহরন ও সূষম ব্যবহার ছাড়া  ঘনবসতিপূর্ণ জনগোষ্টি সমৃদ্ধ অত্রাঞ্চল অর্থনৈতিক উন্নতি ও অগ্রগতি কোনভাবেই সম্ভব হবেনা।
        বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে-- দুই দেশের সুদুরপ্রসারী দৃষ্টিসম্পন্ন দুইনেতা ভারত বিভাগ ও অভ্যন্তরীন ষড়যন্ত্রের রাজনীতির প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন।বিশ্ব সভ্যতার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্ন জাতিগোষ্টি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সম্পদ আহরন ও বিপনের মাধ্যমে সম্পদশালী জাতিতে রুপান্তরিত হয়ে জ্ঞান বিজ্ঞানেও এগিয়ে গেছে। একই সময়ে স্বাধীনতা পেলেও ভারতীয় উপমহাদেশের কোন দেশেই স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রহেতু বিপুল সম্পদ থাকা সত্বেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব হয়নি। অথছ বিশ্বব্যাপি কর্মশক্তির অধিকাংশই ভারতীয় উপমহাদেশেই  বসবাসরত ছিল।
           দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর বিশ্ব নেতৃবৃন্দের তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে এবং সম্মিলীত জাতিপুঞ্জের ব্যার্থতা সম্যক উপলব্দিতে  স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের সংজ্ঞা নির্ধারন সহ "জাতিসংঘ" প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।ষড়যন্ত্রকারিরা তথায় মনযোগ দেয়ার সুযোগ না দিয়ে দখল ও আধিপত্য বিস্তারের কাল্পনিক গল্প ছড়িয়ে ভারত বিদ্বেসী মনোভাব সৃষ্টিতেই মনযোগী ছিল। এহেন ষড়যন্ত্র সম্পর্কে দুই দেশের দুই নেতার উপলব্দি সময় উপযোগি ও সমপয্যায় হওয়ায় মুলত: বাংলাদেশের স্বাধীনতার লক্ষে পরিচালিত বাংলার মুক্তিকামী মানুষের মুক্তিযুদ্ধ ভারতের সহযোগিতায় পরিপূর্ণতা পেতে বিপুল ভুমিকা পালন করেছিল।
       তাই দেখা যায়--একাত্তরে স্বাধীনতার প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই বাংলাদেশের নিত্য প্রতিবেশী ভারতের সহযোগিতার যাত্রা শুরু হয়। ভারত কয়েক লাখ শরণার্থীকে মাসের পর মাস লালন করেছে, এককোটি শরনার্থী আশ্রয় দিয়েছে, তাঁদের খাবার দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধা ছাত্র জনতাকে  প্রশিক্ষণ দিয়ে শত্রু মোকাবেলার উপযোগী করে গড়ে তোলেছে। প্রবাসী মুজিব নগর সরকারের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে মুলত: ভারত থেকে। স্বাধীনতা যুদ্ধের চরম পর্যায়ে  তাঁদের সেনাবাহিনী পাঠিয়ে দেশকে পাক হানাদারমুক্ত করায় সহযোগীতা করেছে। মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধের মাঠে ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। অত্রাঞ্চলের দূরদর্শী রাজনীতির দুই প্রভাবশালী নেতা বঙ্গবন্ধু ও ইন্দিরা গান্ধীর ভবিষ্যত প্রজম্মের উন্নতি, অগ্রগতির প্রতি সুদুর প্রসারী দৃষ্টি ভঙ্গি অটুট,ও ঐক্যমত্য ছিল বলেই সম্ভব হয়েছে।
           পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভারতীয় সরকারের আস্থা থেকেই ক্রমাগত সহযোগিতার ক্রমবর্ধমান ধারারও বিস্তৃতি ঘটেছিল।স্বাধীন বাংলাদেশের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির সামগ্রিক উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু সরকারের প্রতি প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও ছিল সে আস্থারই প্রতিবিম্ব। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই ‘ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী চুক্তি’ ছিল পারস্পরিক আস্থাপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনন্য এক সংযোজন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সে সময়ের ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭২ সালের ১৯ মার্চ চুক্তিটি স্বাক্ষর করেছিলেন। উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, উন্নয়নে সহযোগিতা, সম্পদ আহরন, সম্পদের কায্যকর ব্যবহার, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা,  অমিমাংসীত ভুখন্ড হস্তান্তর, উভয় দেশের জল ও স্থল সীমানা চিহ্নিতকরন, অভিন্ন নদীর পানি সুষম বন্টন, চিটমহল বিনিময় সহ বহুমাত্রিক আঞ্চলিক সহযোগীতাপুর্ণ ২৫ বছর মেয়াদি "ভারত ---বাংলাদেশ মৈত্রী চুক্তি " সম্পাদিত হয়েছিল। চুক্তিটি শেষাবদি "মুজিব-- ইন্দিরা" মেত্রী চুক্তি নামেই খ্যাতি অর্জন করেছিল।
 প্রীয় পাঠক লক্ষ করুন-- উল্লেখিত চুক্তিটি আজ থেকে ৪৩ বছর আগে কায্যকর হলে এই সময়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক অবস্থান কোথায় পৌঁছাত।মুজিব--ইন্দিরা মৈত্রী চুক্তির ধারাবাহিকতায় জাতির জনকের কন্যার এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী মৌদির নেতৃত্বে চিটমহল ও সমুদ্র সীমানা নির্ধারীত হওয়ার পর বাংলাদেশের আয়তন দাঁড়িয়েছে দ্বিগুনেরও বেশী।প্রাপ্ত ভুখন্ড ও সমুদ্র সীমানার সম্পদরাজী পাহারা দেয়ার জন্যে সামরিক সরঞ্জামের উপস্থীত প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। উদ্দেশ্য সাধনকল্পে গনচীনের সংজ্ঞে সামরিক চুক্তির আওতায় অত্যাধুনিক সাবমেরিন সহ যুদ্ধজাহাজ ও  সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রাহ করেছেন হাসিনা সরকার। "ভারত- বাংলাদেশ মৈত্রী চুক্তির" আওতায় ৪৩ বছর আগে উক্ত সম্পদের মালিকানা হস্তগত হলে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে কত বছর আগে নেতৃত্ব দেয়ার সক্ষমতা অর্জন করতো একবার ভাবুনতো।
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ৩০ বছর মেয়াদি ‘গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন বঙ্গবন্ধু তনয়া দেশরত্ম শেখ হাসিনা। পরের বছর ১ জানুয়ারি থেকে চুক্তিটি কার্যকর হয়ে আজও বলবৎ রয়েছে।তখন থেকেই শুরু হয় পুর্বতন মৈত্রীর বন্ধন পুণ:দ্ধারের আয়োজন।দীর্ঘবছর পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের মধ্য দিয়ে উক্ত আক্ষাংকা বাস্তবায়নের পথ সুগম হল।
          জাতির জনকের কন্যা ২০০৯ সালের পর দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করে চীনসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে  প্রযুক্তি সহায়তা, সামরিক সরঞ্জাম, অবকাঠামো উন্নয়ন, সম্পদ আহরন, পারমানবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সহ নানা ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এসব সমঝোতায় সাধারণত তথ্যবিনিময়, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি ক্ষেত্রে নানামুখী সহযোগিতার উল্লেখ আছে। অন্যান্ন দেশের চাইতে ভারত প্রতিবেশি দেশ হিসেবে উক্ত সহযোগিতার ক্ষেত্র সামরিক খাতের চাইতেও অন্য অনেক ক্ষেত্রে এখন অনেক বড় হয়ে উঠছে। বিশ্বব্যাপি সাতশত কোটি মানুষের বাস, তম্মধ্যে  ভারতেই বসবাস করে প্রায় দেড় শত কোটি মানুষ। বাংলাদেশ ও ভারতে বসবাস করে দুই শত কোটির কাছাকাছি মানব সন্তান। বিপুল পরিমান জনসংখ্যার দৈনন্দিন চাহিদা পুরণকল্পে নেয়া সহযোগিতায় বৈরিতার প্রশ্ন অবান্তর নয় কি?
       দুই দেশের সমুদ্র সম্পদ, অভিন্ন নদীর পানি, ভুগর্স্থ খনিজসম্পদ, প্রাকৃতিক সম্পদ, অর্থনৈতিক অবকাঠামো, সামরিক সরঞ্জাম, যোগাযোগ অবকাঠামো, সমুদ্র বন্দর, সমুদ্রের বিশাল সম্পদরাজীর অনুসন্ধান ও উত্তোলন ইত্যাদি অর্থনৈতিক উন্নতির চাবিকাঠি সমূহ একযোগে করা গেলে দুই দেশই অর্থনৈতিক উন্নতির শিখরে উঠতে পারবে বলে বিশেষজ্ঞরা অনেক আগে থেকে মতামত ব্যাক্ত করে আসছে। বিশেষজ্ঞগন এও মনে করেন বিদ্যমান সম্পদ সঠিকভাবে আহরন ও ব্যবহার করা গেলে অত্রাঞ্চলের জনচাহিদা পূরণ সাপেক্ষে অবশ্বাম্ভাবি বহি: বিশ্বকেও সহযোগীতা করা সম্ভব হবে। উভয় দেশের জনগনের উপলব্দিতে যখন  সকল প্রকার বৈরিতাকে পরিহার করে উন্নতি, অগ্রগতির অর্থনৈতিক বিষয় সমূহ সমাধানকল্পে সম্পর্ক নিবিড়তর করে তোলার প্রয়োজনীতা দেখা দিয়েছে--তখনই কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহলের জাতীয় ও আন্তজাতিক ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।
        উল্লেখ্য যে ---দুই দেশের পরস্পরের বিশাল বাজার, ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির বর্ধিত চাহিদা পূরনকল্পে আন্তজাতিক সম্পর্কের ফায়দা নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত যখন বিশ্ববাজারে একটি বড় আর্থিক অঞ্চল হিসেবে দাঁড়ানোর জন্যে  প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন নানা বিতর্ক উত্থাপন করার অন্তহীন চেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে। উল্লেখিত সমস্ত বিতর্ক অর্থহীনভাবে উত্থাপন করে অত্রাঞ্চলকে অগ্রসরমান বিশ্ব থেকে পিছিয়ে দিতে উদগ্রিব হয়ে উঠে পড়ে লেগেছে স্বার্থান্বেষী মহলটি। বাংলাদেশ তাঁর নিজস্ব প্রযুক্তিতে কারো উপর নির্ভরশীল না হয়ে-- বিদ্যমান সম্পদ আহরন  সম্ভব কিনা, আলোচনা না করে অযাচিত অন্যের সহযোগিতায়ও বাঁধা প্রদান করে চলেছে। তাঁরা কার উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করছে? জনগনই সময়ে বিচার করবে--- ইনশাল্লাহ।
            বিশ্বব্যাপি উন্নত দেশসমুহের পাস্পারিক সহযোগীতার আলোকে অত্রাঞ্চলেও  "বাংলাদেশ-ভারত" পরস্পরের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাঁধা অপসারন কল্পে অমিমাংশীত এবং দীর্ঘ যুগের অনুচ্ছারিত বিষয় সমূহ যেমন---" সমুদ্র সীমানা নির্ধারন, গঙ্গা চুক্তি, চিটমহল সমস্যা সহ অনেকগুলী সমস্যা  ইতিমধ্যে সমাধান করেছে। অন্যান্ন বিরাজমান সমস্যা সমূহ চিহ্নিত করনের উদ্যোগ গ্রহন করেছে। তিস্তা সহ সকল সমস্যা সমাধান করে দুটি দেশ উন্নয়ন অগ্রগতির লক্ষে পরস্পর সহযোগীতার হাত সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। জাতির জনকের কন্যা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমৌদি বদ্ধপরিকর--এতদাঞ্চলের উন্নতির লক্ষে প্রয়োজনীয় যা যা করার দরকার তাই তাঁরা দুই নেতাই করবেন।ইতিমধ্যে দুই দেশের মধ্যে বহুপাক্ষিক ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত হয়েছে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র চিহ্নিত করার কাজও চলছে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সহযোগিতার ধারাবাহিকতা রক্ষা করার দৃড অঙ্গিকারও ব্যাক্ত করেছেন দুই নেতা।
                 এতেই স্বার্থান্বেষী মহলের বুকে চিন চিন ব্যাথা শুরু করেছে। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের পরিক্ষিত প্রতিবেশি  দুইবন্ধু দেশ পারস্পারিক সহযোগীতায় উন্নয়নের মহাসড়কে উঠে গেলে ষড়যন্ত্রকারিদের যুগ যুগান্তরের ষড়যন্ত্রের কালবিড়াল বেরিয়ে পড়বে। বাংলার পথে প্রান্তরে ঘুরে বেড়ানো পরসম্পদে বলিয়ান উক্ত কাল বিড়াল অবশ্যাম্ভাবি গোষ্টিগত চোরের সুস্বাধু উপাদেয় খাদ্যে পরিণত হবে।কাল বিড়ালের সুস্বাধু মাংস চোরের মাত্রাতিরিক্ত প্রহারের ক্ষেত্রে অত্যান্ত প্রয়োজনীয়--খনার বচন থেকেই জানি।
     ruhulaminmujumder27@gmail.com

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg