তৃনমূলের আবিস্কৃত "হাউব্রিড" তত্ত্ব---ওবায়দুল কাদের সাহেবের "কাউয়া" তত্ত্বে বিলীন
   (রুহুল আমিন মজুমদার)

         দীর্ঘ আট/নয় বছর দল ক্ষমতায় থাকার কারনে সর্বস্তরে  কিছু আগাছা জম্মেছে তা অস্বীকারের উপায় নেই।স্থান বিশেষে আগাছার বাড়ন্তিতে তারতম্য থাকতে পারে, একেবারে নেই এমন অঞ্চল বোধকরি বাংলাদেশের  কোথাও নেই। জনাব ওবায়দুল কাদের তৃনমূল থেকে উঠে আসা পোঁড় খাওয়া এক অন্যন্ন রাজনীতিবিদ। তাই তিনি সহজে অনুধাবন করতে পেরেছেন দলের মুলত: সমস্যা কোথায়। আত্মসমালোচনা, আত্মপলব্দি গনতান্ত্রিক দলের অপরিহায্য অংশ অস্বিকারের উপায় নেই। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ একটি ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক গনসংগঠন। এইদলে সময়ে অ-সময়ে দলে দলে লোক আসবে আবার চলেও যাবে। দলের ভালকর্মে বা কর্মসূচিতে আপামর জনগনের সমর্থন বাড়বে আবার কোনকোন কর্মসূচিকে উপলক্ষ করে অনেকেই দলত্যাগ করতে পারে। এতে জনসমর্থনের ব্যারোমিটার উঠানামা করবে সত্য দলের অস্তিত্ব কখনই বিপন্ন হবেনা। কারন আওয়ামীলীগ একটি নির্দিষ্ট আদর্শ, উদ্দেশ্য সম্বলীত সুশিক্ষিত, আদর্শবান নেতাকর্মীদের অভায়ারণ্য ভিত্তিক দল। দলের দু:সময়ে আদর্শের অনুপ্রেরনায় অনুপ্রানিত নেতাকর্মীগন কখনই ঘরে বসে থাকতে পারেন না। আদর্শের টানে মাঠে তাদের ছুটে আসতেই হয় এবং আসেন।

     "৭৫ পরবর্তীতে দীর্ঘ একুশ বছরের অধিক অ-গনতান্ত্রিক সামরিক শাষন সহ বিভিন্ন মুখী ফ্যাসিবাদি   অ-রাজনৈতিক শাষনের প্রেক্ষাপটে বিবিধ ধারনার সুযোগসন্ধানী নেতাকর্মীদের সমাবেস ঘটেছে জাতির জনকের হাতে গড়া তাঁর আদর্শের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে। জাতিরজনকের নেতৃত্বে একদল ত্যাগি আদর্শবান নেতাকর্মীর বিচরনে যে দলটি বিকশীত হয়ে বিপ্লবি দল না হওয়া সত্বেও মুক্তিযুদ্ধের ন্যায় 'সামাজিক স্বসস্ত্র বিপ্লবে'র নেতৃত্ব দিতে পেরেছে। সে দলটি কালক্রমে তাঁর অকাল প্রয়ানে বিভিন্নমূখি সুযোগ সন্ধানী অনা-দর্শিক নেতাকর্মীর অনুপ্রবেশ ঘটে দলকেই গিলে খাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাঁর প্রকৃষ্ট প্রমান পাওয়া যায় এই সেইদিন কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে। সবকিছু অনুকূলে থাকা সত্বেও দেশের সর্বকনিষ্ট কুমিল্লা সিটি নির্বাচনেও জিতে আসতে পারেনি দলটি-- "তাঁর একমাত্র এবং একমাত্র কারন দলের প্রভাব প্রতিপত্তির চাইতেও ব্যাক্তির প্রভাব প্রতিপত্তি অত্যাদিক বেড়ে যাওয়ায় কুমিল্লায় ব্যাক্তি দলকেই গিলে খেয়ে ফেলেছে। শুধুমাত্র কুমিল্লা নয়--এমন অঞ্চল বাকি নেই গুনে বলা সম্ভব--বাকি আছে বোধহয় এমন অঞ্চল গোনে বলা সম্ভব নয়।

     রাজনীতির দুস্তর পথ পাড়ি দিতে '৭৫ পরবর্তীতে স্ব-স্ব এলাকার চলমান রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাসী, মাস্তান, দুবৃত্ত, কালটাকার মালিক ব্যাবসায়ী, আত্মকেন্দ্রিক লুটেরা,  অ-রাজনৈতিক দুবৃত্ত ব্যাক্তি বিশেষের হাতে আওয়ামী রাজনীতির চাবিকাঠি অনায়াসে  চলে গেছে। তাঁরা আওয়ামীলীগের অভ্যন্তরে অবস্থান করে ক্ষেত্র বিশেষ জেলা, উপজেলার নেতৃত্ব করায়ত্ব করে, দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমাজের চিহ্নিত দুস্কৃতকারি, চোর, ডাকাত, ভুমিদুস্য, সন্ত্রাসি, মাস্তান সমন্বয়ে নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করেছেন। ক্ষমতাধর উল্লেখিত  নেতা যতনা দলের আদর্শ, উদ্দেশ্য ধারন এবং তদানুযায়ি প্রচার প্রপাকান্ড এর মাধ্যমে আদর্শিক শিক্ষায় শিক্ষিত নেতাকর্মী সৃষ্টি,  দলকে শক্তিশালী করার কাজে মনযোগী--তার চেয়ে ঢের অধিক নিজের আখের গোছানো, প্রভাব বলয় বৃদ্ধি, স্বজনপ্রীতি, আত্ম প্রচারনায় মনযোগী বহুগুন বেশি।'৭৫ পরবর্তী তৎসময়ের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থীতি বিবেচনায় তাঁদেরকে অনেকক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উৎসাহীত করা হয়নি, এমন কিন্তু হলফ করে বলা যাবেনা।

    তবে আশার কথা--গত জাতীয় সম্মেলনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতিক এবং প্রার্থী বাছাইয়ের সুনির্দিষ্ট নিয়মরীতি দলীয় গঠনতন্ত্রে সংযোজিত হয়েছে। এই ধারা চলমান থাকলে অচিরেই দলের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী, মাস্তান, দখলদার, অনাদর্শিক নেতাদের প্রভাব প্রতিপত্তি বিলীন হতে বাধ্য হবে। তদস্থলে অধিকতর আদর্শবান, দলের প্রতি অনুগত, চরিত্রবান শিক্ষিত নেতাদের প্রভাব ধীরে ধীরে হলেও বৃদ্ধি পাবে।আমি নিশ্চিত করেই বলতে পারি। উল্লেখিত প্রথাটি গতবার অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সর্বস্তরে অনুসরনের কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্বেও এলাকাভিত্তিক বলদর্পি নেতাগন মানেননি। তাঁরা একতরফা নিজস্ব পছন্দের প্রার্থীর নাম জেলা, উপজেলায় বসেই অনুমোদন করে কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়েছেন।এতে লেনদেনের ব্যাপারটিও ছিল বলে লোকমূখে বলাবলি আছে। ত্যাগি নেতাদেরকে নমিনেশনের ধারে কাছে ঘেঁষার সুযোগ নাদেয়ার উদাহরন কেবল কম নয়। তথাপি বলতে পারি উল্লেখিত নিয়মের আওতায় সময়ে ঐসমস্ত অঞ্চলের নেতারাও আসতে বাধ্য হবে এবং আসবেন-ই। কারন ইহা দলীয় রীতি, বেশীদিন লংগন করা এত সহজ হবেনা।

       আওয়ামীলীগের নবনির্বাচিত সাধারন সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর বেশ কিছু সত্য এবং নিগূঢ় বক্তব্য বিভিন্ন সময়ে দেশবাসি লক্ষ করেছে। বক্তব্যগুলী অদ্যাবদি বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে---কায্যকর কোন প্রতিফলন দেখা যাচ্ছেনা।অবশ্য দীর্ঘদিনের লালিত অভ্যেস সহজে ইচ্ছে করলেই বদলানো যাবে ভাবাও অনেকটা বোকামি--রাজনীতির ক্ষেত্রে আরো বড় কঠিন বলা যায়। যেমন তিনি পারেননি আত্মপ্রচারনামূলক রাস্তায় রাস্তায় অসংখ্য বিলবোর্ড, তৌরণ, পোষ্টারের ক্ষেত্রে। যেখানে জাতির জনক এবং প্রধানমন্ত্রীর ছবি অত্যান্ত ছোটাকার (অনেকক্ষেত্রে চোখেও দেখা যায়না) করে তাঁর নিজের ছবি বিলবোর্ড ব্যাপি। (নিছে আবার বিভিন্ন ওয়ার্ড সভাপতি, সম্পাদক বা ব্যাক্তির ছবি ও নাম অংকিত, যার উৎসাহ, উদ্দিপনা, অর্থে উক্ত প্রচারকায্য) উক্তরুপ বিলবোর্ড সরানোর নির্দেশ দিয়ে কায্যকর করতে পেরেছেন? পারেননি---কেন পারেননি? কারন দলের চেয়ে দলের নেতার প্রভাব এখানে অনেকগুন বেশী ( নেতা নিজে নিজে মনে করে)।

     ঐতিহাসিক ৭ মার্চের শ্রমিক লীগ আয়োজিত সভায় ওবায়দুর কাদের সাহেবের বক্তব্যটি পড়ে চমৎকৃত হয়েছি। তিনি বলেছিলেন 'নিউজ আর ছবি ছাপালে এ সব ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা সংগঠন উৎসাহিত হয় এবং চাঁদাবাজি করে।' সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন 'এদের উৎসাহিত করবেন না'। জাতীয় শ্রমিক লীগের আমন্ত্রণে তাদেরই সভায় উপস্থিত হয়ে বলেছিলেন 'শ্রমিক লীগের যুক্তরাষ্ট্র শাখার কি দরকার? বিদেশে শ্রমিক লীগের দরকারটা কি? কৃষক লীগের ধানমন্ডি শাখার বা গুলশান শাখার কি দরকার? ধানমন্ডিতে যে ধান চাষ হয় তা তো আমি জানি না। কৃষক লীগের কাতার শাখারই বা দরকার কি? তাঁতি লীগের নাম দেখলাম কুয়েত না কাতারে তার আবার পাল্টা দুই কমিটি।' তরুণ লীগ নামের এক ভুঁইফোড় দলের নাম উল্লেখ করে বলেছিলেন 'এই লীগের হেডকোয়ার্টার কোথায়? পাঁচশ' টাকা দিয়ে একটা রাবার স্ট্যাম্প বানালেই তো দল হয়ে যায় না? এই সব দোকানদারির স্বীকৃতি আমরা দেব না। এগুলো আওয়ামী লীগের সুনাম নষ্ট করছে, ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।'

সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আগে তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার আগেও তিনি দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। তখন কি তিনি আওয়ামী পরিচয়ের ঐ সব ভুঁইফোড় সংগঠনের তৎপরতা লক্ষ্য করেননি? তখন কি তিনি দেখেননি তারই সতীর্থ অনেক নেতাই ওই সব সংগঠনের পৃষ্ঠপোষক? তাদের আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি- অতিথি হয়ে কেতাদূরস্থ সেজে সভাস্থল উজ্জ্বল করে রাখতে? একটা কথা কাদের সাহেব এখন আর অস্বীকার করতে পারবেন না--তার নিজের দলের কোন না কোন নেতার আশীর্বাদ নিয়েই ঐ সব ভুঁইফোড় সংগঠনের জন্ম।

কেন এ ধরনের সংগঠন গড়তে সহযোগিতা করা হয় সেটাও কাদের সাহেব ভালো করেই জানেন। মূলত নিজেদের উপদল বা গ্রুপ শক্তিশালী করার জন্যই এটা করা হয়। উপদলীয় কোন্দলে আওয়ামীলীগ বোধহয় এখন সবচেয়ে বেশি জর্জরিত। অতীতেও কোন্দল ছিল তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা ছিল নিয়ন্ত্রণের মধ্যে। কিন্তু এ কোন্দল, গ্রুপিং এখন সব সীমা অতিক্রম করেছে।  উপরে উপরে ঐক্যের গান গাইলেও ভেতরে রয়েছে হিংসা, বিদ্বেস, অহংকার। নিজে পাইনি অন্যকেও পেতে দেব না। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়।এক্ষেত্রে উদ্বতন নেতাদের কারসাজি,পছন্দ, অপছন্দ সর্বত্র চোখে পড়ার মত পরিলক্ষিত হয়। উধ্বতন নেতাদের আর্শিবাদ তোলে নিলে সর্বত্র সমঝোতা সম্ভব--এতে কোন সন্দেহ নেই।

 ঢাকা আইনজীবী সমিতি ও সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচন তাঁর প্রমান। অন্য কেউ না জানলেও কাদের সাহেব তা ভালো করেই জানেন। অথবা এটাই সত্য যে, ৮০-এর পর থেকে এ পর্যন্ত যত নির্বাচন হয়েছে তাতে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারতেন তাহলে সব নির্বাচনেই একজন সাধারন আওয়ামী কর্মীকেও সামনে রেখে জিতে আসতে পারতেন।

       আমি মনে করি--সমর্থক-শুভাকাঙ্ক্ষীরা দলের বাইরে থেকে যতটুকু বুঝতে পেরেছেন তার চাইতে অনেক বেশি বুঝতে পেরেছেন ওবায়দুল কাদের সাহেব। আরো অনেকেই বুঝতে পারছেন যারা দলের মধ্যে থেকে প্রতিনিয়ত এমনতর উৎকট পরিস্থিতি ভোগ করে একসময় অতিষ্ট হয়ে রাজনীতিকেই গুডবাই জানিয়েছেন। সবচেয়ে বড় ব্যাপারটি হচ্ছে দলের সংকট সম্যক এবং নিবিড়ভাবে সাধারন সম্পাদক অনুধাবন করতে পেরেছেন।এবং তা ভুক্তভোগি তৃনমূলের অনেকের চাইতে অনেক গভীরে অনুভব করতে পেরেছেন।

 অবশ্য সমস্যা শনাক্ত করা, সমস্যার গভীরে দেখার মানসিকতা থাকা এবং সংকট সমাধানের ব্যাপারে আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকার ব্যাপারটা সবার মাঝে এক ধরনের হয় না। আমাদের বিশ্বাস, নতুন সাধারণ সম্পাদক প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী বিশাল সংগঠনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার স্বার্থে সংকট নিরসনের যথোপযুক্ত পন্থা বের করার চেষ্টা সতীর্থদের সহযোগে অব্যাহত রাখবেন।
   আমরা জানি ওবায়দুল কাদেরের আন্তরিকতা রয়েছে সংকট সমাধানের ব্যাপারে। এ জন্য দরকার তার মনোবলে বলিয়ান সমমনা, ন্যায়পরায়ন, সৎসাহসী ও সৎসহযোগীর নিবিড় সমর্থন। দলীয় নেত্রী জাতির জনকের কন্যার নিশ্চয়ই এ ব্যাপারে আন্তরিক সমর্থন রয়েছে। দলের নির্বাহী প্রধানের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কাদের সাহেবের বিভিন্ন সময় যে সব বক্তব্য দেশের সচেতন মানুষ আলোড়িত, অনুপ্রানিত, আশার আলো দেখতে পেয়েছে তাতে এটা পরিষ্কার---"কাদের সাহেব বেশ ভালোই বুঝতে পেরেছেন দলের সংকট কোথায়? তবে আমরা এটাও অনুমান করতে পারি, দীর্ঘ সময় ধরে দলের বিভিন্ন স্তরে জমে থাকা সমস্যা সাধারণ সম্পাদক ইচ্ছা করলেই অল্পসময়ে খুব সহজে সমাধান করতে পারবেনা।

    আমি খুববেশি উৎফুল্ল হয়েছি নোয়াখালীর এক সভায় জনাব 'ওবায়দুল কাদের সাহেব' দলের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়া 'মৌসুমিপাখি, হাইব্রিড', আত্মীয়করন দাপুটে" জাতীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে তাঁর  আঞ্চলিক ভাষায় তাঁদেরকে 'কাউয়া' বলে সম্বোধন করেছেন। এতে তাঁর প্রচন্ড ক্ষোভ, ঘৃনাও উন্নাসিকতার চরম বহি:প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তৃনমুলে বহুল প্রচারিত, ব্যবহৃত, কথিত শব্দ "হাইব্রিডে"র চেয়ে অনেকবেশি তাৎপয্যমন্ডিত "কাউয়া" শব্দটি। হাইব্রিড উৎপাদনযোগ্য, মোটাতাজা অর্থে অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে আওয়ামী নেতাকর্মীদের ক্ষোভ প্রকাশের বহুল প্রচলিত ও ব্যবহৃত একটি শব্দ। "কাউয়া" শব্দটি সর্বার্থে অনিষ্টকারি, কুৎসিৎ, অ-খাদ্য, অপোষনীয়, অ-প্রয়োজনীয় পাখী হিসেবে অনু-প্রবেশকারিদের ক্ষেত্রে "যথাপযুক্ত, মানানসই, সময় উপযোগী" শব্দবাছাই বলেই আমি মনে করি। একারনেই আগেও বলেছি--দলের ত্যাগি নেতাকর্মী, শুভাকাংক্ষী, শুভানুধ্যায়ী, সর্বোপরি ভুক্তভোগিরা অন্তরের যতটুকু গভীর থেকে অনুপ্রবেশকারিদের অনুধাবন করতে পেরেছেন--"দলের সাধারন সম্পাদক তাঁরচেয়ে ঢের বেশীগুন গভীর থেকে উপলব্দি করতে পেরেছেন কথিত "কাউয়া"র দৌরাত্ব কোনপয্যায় পৌঁছে গেছে।"
ruhulaminmujumder27@gmail.com

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg