তিস্তা শেষাবদি ভারতের শতবছরের ঐতিহ্যে আঘাত সৃষ্টি করতে পারে,যৌথবিবৃতিতে মমতার প্রস্তাব অগ্রাহ্য।
(রুহুল আমিন মজুমদার)

      মায়ের দুধের অধিকার একমাত্র বাচ্চার যেমন চিরন্তন তেমনি উজানের নদীর পানিও বাংলাদেশের পাওয়ার অধিকার চিরন্তন। মা এবং বাচ্চার সম্পর্কে কোনপ্রকার খাদ আছে বলতে পারেন? না কখনও মা ছেলের সম্পর্কে খাদ থাকতে পপারেনা। তার পরেও মা যতক্ষন বাচ্চা সংগ্রাম না করে ততক্ষনে তাঁর দুধ বের করে দিতে দেখেছেন কেউ? এবং কি স্বামী স্ত্রীর একান্ত মহুর্তেও সংগ্রামের তিব্রতায় বিরক্ত হলেও ঐ মহুর্তে বাচ্চার দুধ বের করে দিতেই হয়। মা-ছেলের নাড়ির সম্পর্কে মা থেকে দুধ বাহির করার জন্যে যেখানে বাচ্চার আন্দোলনের প্রয়োজন হয়---সেখানে আজীবনের লালিত শত্রুদেশ থেকে সহজ একেবারে সহজ উপায় পানি গরগর করে চলে আসবে, এইরুপ যারা চিন্তা করে তাঁদের সুস্থ্যতা নিয়েই আমার যতসব চিন্তা। মা দুধ দেয়ার জন্যে বাচ্চাকে যখন কোলে তোলে নেয় বাচ্চা তাঁর স্বভাবজাত ভঙ্গিমায় মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।মাও তাঁর অন্তরের সমস্ত অনুভূতি দিয়ে বাচ্চাকে দুধ বের করে দেয়।তদ্রুপ কোন আচরন বিগত ৪০ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশ কি ভারতের সাথে করেছে?

      নদীর পানির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এই পয্যন্ত যত আলোচনা, সমালোচনা হয়েছে আন্দোলন কি এই পয্যন্ত কেউ একবারও  দেখেছেন? আমরা কি কখনও তাঁদের প্রতি কোন উপকারের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি? বরঞ্চ সবকাজের বিকল্প কটুক্তি ছাড়া কি দিতে পেরেছি? অনন্তকাল বলেই যাচ্ছি আমাদের গিলে খাচ্ছে, নিয়ে গেছে, নিয়ে যাচ্ছে।এর বাহিরে কোন সু-সমালোচনা আমরা কি তাঁদের উপহার দিতে পেরেছি?  এই জাতির মুক্তির জন্যে তাঁরা তাঁদের রক্ত ঢেলে দেয়নি? রক্ত ঢেলে দেয়া তাঁদের সেনাবাহিনীর কোন জোয়ানের জন্যে, আমরা কোন দিন একমিনিট স্মরণ করার উদ্দেশ্যে নিরবতা পপালনের উদ্যোগ গ্রহন করেছি? যে মহান নেতার অবদানে মাত্র নয়মাসের যুদ্ধে জয়ী হতে পেরেছিলাম, আমাদের মুক্তির দিশারীকে স্ব-শরীরে ফেরৎ পেয়েছিলাম, সেই মহান নেতা শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীকে স্মরনে রাখার কোন ব্যবস্থা করেছি? আমরা কি স্বাধীন বাংলাদেশের কোথাও একটুকরো ভুমিও কি বরাদ্ধ রাখতে পেরেছি? গঙ্গার পানিও দিয়েছে আমরা কি সম্মীলিত ভাবে আজ পয্যন্ত তাঁদের কে একটা ধন্যবাদ দিতে পেরেছি? কেন পারিনি?

      তিস্তার পানি দেয়ার আগেই বলছি তাঁদের নিকট বিক্রি হয়ে গেছি! যেহেতু বিক্রিই হয়ে গেলাম আইনত: তাঁরাই এই দেশের মালিক! তাঁদের দেশে তাঁরা পানি দিবে কি দিবেনা, তাঁদের কি সেই ইচ্ছা থাকতে পারেনা? আপনার বন্দর ব্যবহার করার জন্যে চাইলে বলবেন, তাঁরা দখল করে নিবে। পানি চান কোন চোখে।পানির উপর আপনার অধিকার যেমন সত্য, তেমনি পানির উপর প্রতিষ্ঠিত বন্দরের উপর তাঁর অধিকার কেন সত্য নয়? আপনার সব শতভাগ তাঁর বেলায় শুন্যভাগ কেন  হতে হবে? আপনার নিকট চাইলে বলবেন অভ্যন্তরিন রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমন অভ্যন্তরিন কোন ব্যাপার কি তাঁদের দেশে থাকতে পারে না?

      সুপ্রীয় পাঠক, বাংলাদেশের উজানে ৫৭টি নদী আছে।প্রত্যেকটা নদীর উপর গত চল্লিশ বছর যাবৎ তাঁরা তিলে তিলে বাঁধ গড়ে তোলে একতরফা পানি প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে। তিস্তা আলোচিত বটে বিভিন্ন কারনে কিন্ত্যু তাঁর চেয়েও প্রয়োজনীয় নদীর পানি আমরা পাচ্ছিনা। বিগত চল্লিশবছর একতরফা বাঁধ নির্মান প্রাক্কালে বাংলাদেশের কোন সরকার বা বিরুধীদল দেশে বা আন্তজাতিক পয্যায় কোন প্রতিবাদ করেনি।একমাত্র গঙ্গার উজানে ফারাক্কা বাঁধ নির্মানের সময় মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী লং মার্চের ঘোষনা দিয়ে আন্তজাতিক দৃষ্টি আকর্ষন করেছিলেন।গঙ্গার উপর আমাদের ন্যায্যতা তোলে ধরেছিলেন।তিস্তা মুখে গজলডুবা বাঁধ নির্মানের বিরুদ্ধে  আমরা কি তদ্রুপ একটা কর্মসূচি পালন করতে পারতামনা? কেন করিনি? এখনও কেন করছিনা? তিস্তার পানির অভাবে উত্তরবঙ্গের কৃষকদের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে আমরা কি কোন ডকুমেন্টারি তৈরী করেছি? ঐ ডকুমেন্টারি দিয়ে আমরা কি ভারত সহ বিশ্বের দেশে দেশে  প্রচার চালিয়ে জনমত গড়ে তুলতে পারতামনা? কেন প্রচার চালাইনি? ভাসানী ফারাক্কা বাঁধ কেটে দেয়ার উদ্দেশ্যে যে লং মার্চ করেছিলেন সেই লং মার্চ কি আসলেই বাঁধ কাটার জন্যে? না, বিশ্বজনমতের দৃষ্টি আকর্ষনের জন্যে?

     এখন পয্যন্ত ভারত সরকার বা মমতা তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে কি অপারগতা প্রকাশ করেছেন? উভয় দেশের সরকার প্রধান এবং কি মমতা এখনও কি আশাবাদ ব্যাক্ত করে যাচ্ছেন না? মমতা তিস্তার পানি স্বল্পতার কারন উল্লেখ করে তৎসংলগ্ন আরো চারটি নদীর সমীক্ষা চালানোর প্রস্তাব কি দেয়নি? মমতা এমনও তো বলেছেন--বাংলাদেশের যে পরিমান  পানির প্রয়োজন, তিস্তা তা সরবরাহ করতে পারবেনা। এই না পারার কারনও তিনি ব্যাখ্য করেছেন। তিস্তার পানি প্রবাহ বাড়ানোর বিকল্প ব্যবস্থা করা সাপেক্ষে--তোর্সা সহ আরো কয়েক নদীর পানিবন্টনের কথাই বলেছেন তিনি। যে নদীগুলী তিস্তার প্রবাহমান এলাকায় পানি সরবরাহ করা সম্ভব। তাঁর প্রস্তাবিত চার নদীতেও পশ্চিমবঙ্গকে সাথে রাখার অনুরুধ রেখেছেন বাংলাদেশ ও তাঁর সরকারের নিকট।

   তাঁর রাজনীতির স্বার্থ নিশ্চয়ই এখানে লুকিয়ে আছে। এমনও তো হতে পারে--এখন সে পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন অভিন্ন নদীর পানি প্রবাহের অভ্যন্তরে লুকিয়ে রেখেছেন। তাঁর কি সর্বভারতীয় প্রধান মন্ত্রীর হওয়ার ইচ্ছা থাকতে পারেনা? আমরা যেহেতু দেশবিক্রির স্টেন্ড নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি প্রস্তুত করতে পারি, সে পানি আটকিয়ে সর্বভারতের স্বার্থরক্ষকের ভুমিকায় অবতীন্ন হতে পারবেনা কেন? সে কি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন দেখতে পারেনা? সকলেই জানে দেশ এমন কোন পণ্য নয় সকাল বিকাল বিক্রি করা যায়, তেমনি অভিন্ন নদীর পানিও এমন কোন বিষয় নয়, যুগের পর যুগ আটকিয়ে রাখতে পারবে।

       মমতা তিস্তার বদলে নয় গ্রহনযোগ্য প্রস্তাব তুলে ধরেছেন।মৌদি সরকার কোন প্রস্তাবেই সায় দেয়নি।একটা কথা বলে রাখতে চাই--বাংলাদেশ এবং ভারতের যে সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টা গ্রহন করেছে, দুই সরকার প্রধান এবং এতে ভারতের প্রধান বিরুধীদল যে ভুমিকা পালন করছে, বাংলাদেশের বিরুধীদল তাঁর বিন্দু পরিমান ভুমিকাও পালন করতে পারলে ভারত- বাংলাদেশের বিদ্যমান সমস্যা  নিমীষেই সমাধান হ'তে পারে। ভারতের ইতিহাসে সংশ্লিষ্ট রাজ্যকে বাদ দিয়ে কোন বিদেশী রাষ্ট্রের সংঙ্গে চুক্তি হয়েছে---এমন কোন নজীর নেই। দেশটির প্রতিষ্ঠাকাল থেকে চলমান রীতি তিস্তা দিয়ে ভাঙ্গার নজীর সৃষ্টি হলেও আশ্চায্য হওয়ার কিছুই থাকবে না, আমি মনে করি।

  এই প্রসংঙ্গে ১০/৪/২০১৭ ইং তারিখের বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রীর সফর সংক্রান্ত বিষয়ে প্রখ্যাত বাংলা পত্রিকা "দৈনিক আনন্দ বাজারে"র সর্বশেষ সংস্করনে প্রকাশিত নিবন্ধ হুবহু পাঠকদের জানার জন্যে কপি পেষ্ট তুলে দিলাম---

 গ্রহনযোগ্য নয়প্রস্তাব--কোন প্রস্তাবেই কেন্দ্রের সায় নেই।
দৈনিক আনন্দবাজার।১০/০৪/ ২০১৭ ইং

কাল রাতে মমতা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কেবল মাত্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীই নন, হায়দরাবাদ হাউসের মধ্যাহ্নভোজেও তিনি ভারতীয় নেতৃত্বকে তাঁর বিকল্প প্রস্তাবের কথা জানিয়েছেন। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে সন্ধ্যায় ভারত যে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে, তাতে সেই প্রস্তাবের উল্লেখটুকুও নেই। বরং বলা রয়েছে উল্টো কথা। যৌথ বিবৃতির নথির ৪০ নম্বর অনুচ্ছেদে লেখা হয়েছে, ‘২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে দুই সরকারের ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি সই করার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অনুরোধ করেছেন। মোদী জানিয়েছেন, ওই চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে তাঁর সরকার সংশ্লিষ্ট মহলগুলির সঙ্গে কথা বলছেন।’ শুধু তাই নয়, ফেনি, মানু, ধরলা-সহ ৭টি নদীর জলবণ্টন নিয়ে চুক্তি সইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও বলা হয়েছে বিবৃতিতে। তোর্সার নামই নেই সে তালিকায়।

মুখ্যমন্ত্রী তিস্তার বদলে তোর্সার জলের প্রস্তাব দেওয়ার পর এখনও সরকারি ভাবে মুখ খোলেননি কেন্দ্রীয় কর্তারা। খোলার কথাও নয়। হাসিনার সফর এখনও চলছে। তবে বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য বলেই মনে করছে না কেন্দ্র। তার কারণ, জলের অভাবে বাংলাদেশে তিস্তা অববাহিকা শুকিয়ে জীবন-জীবিকায় বিপর্যয় নামার বিষয়টি তো রয়েছেই। নয়াদিল্লি জানে, তিস্তা নিছক একটি নদীর নাম নয়। বাংলাদেশের মানুষের আবেগের নাম। ২০১৮-র শেষে নির্বাচনে যাওয়ার আগে মুজিব কন্যার প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার হতে চলেছে এই তিস্তা চুক্তি। তিনি তা সই করে ভোটে যেতে পারলে সরকারে ফিরতে সুবিধা হবে বলে মনে করে আওয়ামি লিগ। অন্য দিকে আগ্নেয় প্রতিবেশী বলয়ের মধ্যে থাকা ভারতের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে নিরাপত্তা-সমঝোতা জরুরি। মোদীর কথায়, ‘‘হাসিনা যে ভাবে সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করছেন, তাঁর জন্য আমাদের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রয়েছে।’’ কূটনীতিকরা বলছেন, এমন নেতৃত্বকে অস্বস্তিতে ফেলাটা দিল্লির লক্ষ্য নয়। বরং প্রতিবেশী দেশের এই নেতৃত্বকে সর্বতো ভাবে সহযোগিতা করাই নীতি হওয়া উচিত।
শেখ হাসিনাকে পাশে নিয়ে কাল প্রধানমন্ত্রী কার্যত তিস্তা চুক্তি সম্পাদনের সময়সীমাই ঘোষণা করে দিয়েছেন। মোদী বলেছেন, ‘‘আমি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি, একমাত্র আমার এবং আপনার সরকারই তিস্তা চুক্তির দ্রুত সমাধান করতে পারবে।’’ তাঁর এই মন্তব্যের পর জল্পনা— আগামী বছরের মধ্যে তিস্তা চুক্তি সম্পন্ন করার কথাই বোঝাতে চেয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। আর প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার সময়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মঞ্চে তাঁর পাশেই ছিলেন।

  এর পরেও বাংলাদেশের তথাকথিত সুশীল এবং মুর্খ্য রাজনীতিবীদেরা যদি বলতে চায় ভারত একতরফা বাংলাদেশের উপর তাঁর প্রভাব বিস্তার করতে চায়, তাঁদেরকে কি বলে সমবেদনা জানাতে পারি, আমি ক্ষুদ্র একজন নাগরিক বুঝতে পারিনা।

     তিস্তার ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কোনপ্রকার আপোষ করেছেন যারা বলেন--তারা আহম্মকের স্বর্গেই বাস করছেন বলতে হয়। সকলেরই জানা আছে--শেখ হাসিনাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়ার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছিল। শেখ হাসিনা উক্ত সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন।এতেই বুঝা যায় জাতির পিতার কন্যা স্বস্তিতে নেই।দেশের স্বার্থরক্ষায় অবাঞ্চিত বাঁধায় তাঁর মনের মধ্যেও চৈতালী হাওয়া বইছে। সুতারাং এই মহুর্তে তাঁর অবস্থানকে শক্তিশালী করার কর্মসূচি দেশের সচেতন মহল এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নেয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি। তিস্তার ন্যায্যতা তুলে ধরে দেশের অভ্যন্তরে অন্তত: মহানগর কেন্দ্রিক আন্দোলনের কর্মসুচি এখনই প্রয়োজন। অযথা টিভি পর্দায় জ্ঞানগর্ব বক্তব্যের তুফান তোলে কোন লাভ নেই---তিস্তার ন্যায্যতা নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলুন, দেশে বিদেশে জনমত গড়ে তুলুন। যাতে অন্তত: সরকার আন্তজাতিক সংস্থায় তিস্তার ন্যায্যতা তোলে ধরার অজুহাত সৃষ্ট্রি করতে পারে।
আশাকরি সকল পক্ষের শুভবুদ্ধির উদয় হবে--বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবি হবে।





মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg