সব "সম্ভবের" দল বিএনপি 'নাসিক' নির্বাচনী বৈতরনী পার হওয়ার "শঠতাপুর্ণ কৌশলে"র অংশ---"জামায়াতকে বাদ দিয়ে কমিটি ঘোষনা।"
      (রুহুল আমিন মজুমদার)

         রাজনীতিতে সব 'সম্ভব' এর দল 'বিএনপি'  একটি গুরুত্বপুর্ণ ষড়যন্ত্র 'সম্ভবে'র পথে হাঁটার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এইবারের  'সম্ভব' কারো নিকট 'বেঈমানী' কারো কাছে 'বাস্তবতা', কারো নিকট 'রাজনীতিতে শেষ কথা নেই' এর 'পূরাতন বৃত্তে' ফিরে যাওয়া।  আমি মনে করি-- 'বিএনপি হয় জনগনের মনোভাব  দেরীতে অনুভব করেছে অথবা জনমতকে প্রভাবিত করার নতুন 'শঠতাপূর্ণকৌশল' অনুসন্ধানের 'টেষ্টকেস' হিসেবে 'নাসিক' নির্বাচনকে বেছে নিয়েছে।
       প্রথমোক্ত কারন যদি হয় তাহলে বলতেই হয়--'সময়ক্ষেপনের মুল্য ইতিমধ্যে দলটি 'পাওয়ার চেয়ে শতগুন না পাওয়ার' মুল্যে পরিশোধ করেছে'। আড়াইবারের ক্ষমতা উপভোগকারী দলটি মাত্র দশ বছর ক্ষমতার বৃত্তের বাহিরে থেকে জাতীয় রাজনীতি থেকে বিলুপ্তির পথে অনেকদুর এগিয়ে গেছে।
       দ্বিতীয় কারনটি যদি উদ্দেশ্য হয় তাহলে বলতে হয়-- 'নাসিক নির্বাচনে 'জামায়াতে ইসলামী'কে বাদ দিয়ে নির্বাচন সমন্বয় কমিটির নাম প্রকাশ করে জনগনকে বার্তা পৌঁছাতে চায় -'জামায়াত'কে ছাড়াই জোটগত রাজনীতি করতে বিএনপি আগ্রহী-!! "অবিশ্বাস্য বিষয়টি কি "সম্ভব"--!! রাজনীতিতে শেষ কথা নাই যারা "সম্ভব" করে তুলেছিল "শঠতাপূর্ণ" ষ্টান্টবাজি তাঁদের দ্বারাই শুধু নীজেদের মধ্যে এমন আচরন "সম্ভব"!! আমি মনে করি--'পতনম্মোখ দল এবং জোটকে অন্ধকার গব্বর থেকে টেনে তোলা "সম্ভব" প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে 'নাসিক নির্বাচন'কে সামনে রেখে জনগনের দৃষ্টি ফেরানো "সম্ভব" করে তুলতে 'শঠতাপুর্ণ কৌশলের আশ্রয়' গ্রহন করেছে বিএনপি।অথবা হ'তে পারে সরকারকে অভয় দেয়ার নতুন 'শঠতাপুর্ণ কৌশল'--'তাঁদের দ্বারা মানবতা বিরোধী' সংগঠনের সঙ্গ ত্যাগ করা "সম্ভব" হবে--'ইহা বুঝাতে প্রাথমিক উদ্যোগ গ্রহন করেছে।
    অতীতে সরকারের সায় পেলে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ ঘোষনা দেয়া "সম্ভব"--'তাঁর আগে দলটি ঘোষনা দিয়েছিল।পরক্ষনেই খালেদা জিয়া কতৃক মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা বিতর্ক উত্থাপন অকল্পনীয়ভাবে "সম্ভব" হওয়ায় সরকার এবং  দেশের মানুষ তাঁদের ঘোষনা বিশ্বাস করতে পারেনি। নাপারার যথেষ্ট "সম্ভাব্য" কারন জনগনের ঝুঁড়িতে রক্ষিত ছিল।
         মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার বানচালের উদ্দেশ্যে 'আগুন সন্ত্রাস থেকে শুরু করে জাতীয় নির্বাচন বর্জন পয্যন্ত "সম্ভাব্য" এমন কোন রাজনৈতিক, অপ-রাজনৈতিক, মিডিয়া ষড়যন্ত্র, জঙ্গীতোষন, অপ-প্রচার, মিথ্যা প্রপাকাণ্ড, বিদেশী লবিষ্ট ফার্ম' নিয়োগ ইত্যাদি অপকর্ম নেই যা করেনি বা করার "সম্ভাবনায়" না রেখেছে। মধ্যরাতের গোটা পঞ্চাশেক "সম্ভাব্য" 'পেইড সুশিল' রাতের ঘুম হারাম করেই যথা'সম্ভব' চেষ্টা করেছে--অশুভচক্রের 'সম্ভব" সকল অপ-কর্মের বৈধতা সম্পর্কে জনগনকে মোটিভেসন "সম্ভব" করে তোলায়। উল্লেখিত "সম্ভাব্য শুসিলগন" যিনি যেখানেই কর্মরত: রয়েছেন সেখানে খোঁজ নিলে দেখা যায় তাঁদের  'দায়িত্ব এবং কর্তব্য' কাজে অবহেলার হাজারো ন্যাক্কারজনক অ-'সম্ভব" সব উদাহরণ।অথছ রাতের পর রাত জেগে 'বেসরকারি ইলেকট্রোনিক মিডিয়ার স্বাধীনতার সুযোগ'কে অপব্যবহার করার "সম্ভব" কর্তব্যকাজে কোন গাফলতিই লক্ষ করা যায়নি বা এখনও নেই, ভবিষ্যতেও থাকবেনা।
        গত কিছুদিন আগে বেগম জিয়া কতৃক নির্বাচন কমিশন সংস্কারের প্রস্তাবে 'স্বাধীনতার পর থেকে এই পয্যন্ত' কমন বাক্যটির আড়ালে শুধুমাত্র 'জামায়াত' নয় 'ফ্রিডম পার্টি'কেও অন্তভুক্ত করে সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন।  উক্ত প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সর্বস্তরে 'বিরুপ প্রতিক্রিয়া' দেখা দিলে নিম্নস্তরের 'বিএনপি স্থায়ী কমিটির নেতা'গন নেত্রীর প্রস্তাব 'সংশোধন করা যাবে' উল্লেখ করে বিবৃতি দেন।এতে হীতে বিপরীত ঘটে--'নেত্রী বড় না স্থায়ী কমিটির সদস্য বড়' জনমনে প্রশ্নের উদ্রেক করে।বিতর্কিত স্বাধীনতা বিরোধী ও জাতিরজনক হত্যাকান্ডের স্ব-ঘোষিত দল ফ্রিডম পার্টির অন্তভুক্তি থাকায় উক্ত প্রস্তাবনা জনমনে প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। নাসিক নির্বাচনে জামায়াতের অন্তভূক্তি ভোটের বাজারে 'নেতিবাচক' প্রভাবের আশংকায় জামায়াতকে 'নির্বাচনী সমন্বয় কমিটি' থেকে বাদ দিয়ে শঠতার ন্যাক্কারজনক উদাহরন সৃষ্টি করে ভোটাদের সঙ্গে চরম প্রতারনার আশ্রয় গ্রহন করেছে।
      লক্ষনীয় আরও একটি বিষয় খুববেশি উদ্ভিগ্ম করেছে সচেতন মহলকে--'বেগম জিয়া' কতৃক মুক্তিযুদ্ধে শহিদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেয়ার পর দেশে বিদেশে সমালোচনার ঝড় উঠে। খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে অনুসরন করে বিএনপির অন্যান্ন নেতারা মুক্তিযুদ্ধ, জাতিরজনক, বীরঙ্গনা ইত্যাদি মুক্তিকামী মানুষের স্পষ্যকাতর বিষয়াবলী নিয়ে লাগাতার নেতিবাচক বিবৃতি দিয়ে জনমনে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দেয়। চতুর্দিক থেকে প্রতিবাদের ঝড় উঠে--'খালেদা জিয়ার বাসভবন অভিমূখেও প্রতিবাদী মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়' বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনগনের নিকট ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে।
    তখন কিন্তু উক্ত বক্তব্য পত্রিকায় 'অতিরঞ্জিত, ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে' চাপানো হয়েছে --কথাটি বিএনপির কোন স্তরের নেতা বলেননি। মানুষ যখন স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে খালেদা জিয়া এবং বিএনপির অন্য নেতাদের দেয়া বক্তব্য ভুলতে বসেছে; তখনই বিষয়টিকে আবার অস্বীকার করে বলা হচ্ছে পত্রিকায় ভুল চাপানো হয়েছিল।খালেদা জিয়া বক্তব্য গুলী ঐভাবে দেননি-কিন্তু কি বলেছিলেন সেই বিষয়টি বরাবর এড়িয়ে যাচ্ছেন। এই মহুর্তে বিষয়টিকে নতুন করে জনসমক্ষে কেন নিয়ে এলেন ভাবনার বিষয় আছে। আরো বড় কৌতহলের বিষয়টি হচ্ছে--'উল্লেখিত বিবৃতি দেয়ার একদিন পরেই জামায়াতকে বাদ দিয়ে 'নাসিক নির্বাচনের সমন্বয় কমিটি' ঘোষনা করেছে দলটি।'
      "গনতন্ত্র মুক্তি দিবসে" আলোচনা সভায় নতুন এক তথ্য উপস্থাপন করে বিএনপি মহাসচিব বলেন-'সরকার পাকিস্তানের পতাকা পুণ:স্থাপনের জন্যই জিয়ার মাজার সরানোর পরিকল্পনা করেছেন।' আনুষ্ঠানিক ভাবে জামায়াতে ইসলামিকে পরিত্যাগের পর হয়তোবা বলবেন-"শেখ হাসিনার সরকার পাকিস্তানের নিকট দেশই বিক্রয় করে দিচ্ছে--!!" বাংলাদেশের মানুষ আজ যেমন তাঁদের বক্তব্য শুনে আশ্চায্য হয়নি ; পাকিস্তানের নিকট বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উত্থাপন করলেও আশ্চায্য হবেনা। সব 'সম্ভবে'র দল সবকিছুই বলতে পারে সব কিছুই করতে পারে। 'লুই কানে'র নকশা যখন দেশে এসে পৌঁছে গেছে-"তখন তাঁদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে-"। এবার বুঝি জিয়ার কবর আর রক্ষা করা যাবেনা"।
     মুলত: তাঁরা যতটুকু না জিয়ার কবর সরানোর কারনে উদ্ভিগ্ন; তাঁর চেয়ে শতভাগ বেশি উদ্ভিগ্ন---"কবরে যে কিছুই নাই ; জনগন জেনে যাবে এবং সচিত্র প্রতিবেদনে দেখবে। কবরে লাশ না রেখে এতদিন আনুষ্ঠানিক জিয়ারত করে জনগনকে ধোঁকা দেয়া "সম্ভব" করেছিল--"সেই জারিজুড়ি ফাঁস হয়ে যাওয়ার "সম্ভাবনায়" তাঁরা উদ্ভিগ্ন"। খন্দকার মোশারফ হোসেন সাহেব তো বলেই দিয়েছেন-"কবর খুঁড়তে গেলে হাতই কেটে ফেলবেন।" তাও হয়ত সম্ভব করতে পারবেন-" শতশত জ্যান্ত মানুষ আগুন বোমায় পুঁড়ে কয়লায় রুপান্তর করতে যাদের হাত কাঁপেনি- তাঁরা মানুষের শরীরের সামান্য একটা অঙ্গ 'হাত' তাও কেটে বিচ্ছিন্ন করা "'সম্ভব" হবেনা,কেউ তাঁর বক্তব্য অবিশ্বাস করতে পারেনা--!!' সন্ত্রাস, নাশকতা, ষড়যন্ত্র, হত্যা, গুম, খুন, আগুন বোমায় মানুষ হত্যা তাঁদের দ্বারা আগেও 'সম্ভব' হয়েছে আগামীতেও 'সম্ভব' হবে---'জনগনের সেই বিশ্বাস অবশ্যই আছে।'
     জামায়াতকে যেমন সমন্বয় কমিটি থেকে বাদ রাখা "সম্ভব হয়েছে তেমনি সময়ে সসম্মানে মাথায় তোলে রাখাও তাঁদের দ্বারাই 'সম্ভব' হবে। সেই সম্ভাবনাও জিইয়ে রেখেছেন "জামায়াত নাম দেয়নি"--সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলে রেখেছেন জনাব 'ফখরুল ইসলাম'। মুলত: তাঁদের দ্বারা 'সম্ভব' নয় এমন কোন বিষয় নেই, বিশ্বে প্রবাহমান রয়েছে।  
       উল্লেখিত বিষয়ে সত্যতা প্রমানে কিঞ্চিত উদাহরন প্রয়োজন মনে করি--"একদিকে হিন্দু বিদ্বেসী মনোভাবকে উসকে দেয়া অপরদিকে বর্তমান সরকারের প্রতি ভারতের অনুকুল মনোভাবকে প্রতিকুলে নেয়ার অপকৌশল সম্ভব করার উদ্দেশ্যে নাসির নগরের পরিকল্পিত ঘটনা সংঘটিত করা হয়েছে; সর্বমহলে বিষয়টি এখন দিবালোকের মতই পরিস্কার হয়ে উঠেছে। স্থানীয় যুব দলের সভাপতি কতৃক "পবিত্র কাবা ঘরের উপর দেবী মুর্তি" স্থাপন করে হিন্দু নিয্যাতনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা--তাঁদের দ্বারাই সম্ভব হয়েছে। এমন ঘৃন্য পাপাচার "বিএনপি জামায়াত" ছাড়া অন্যকোন দলের নেতাকর্মীদের কখনই করা সম্ভব নয়,ইহা প্রমানের আর কোন যুক্তির প্রয়োজন আছে? লক্ষ করলে দেখা যায়---"যতক্ষন আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম প্রচারে এসেছে; ততক্ষন পত্র পত্রিকায় ক্ষোভের বহ্নিশিখা দাউ দাউ করে জ্বলেছে।" যখন প্রমান হয়েছে যুবদলের সভাপতিই ঘটনার নায়ক তখন সব মহল বরফ গলে হিমশিতল আকার ধারন করেছে। মনে হচ্ছে নাসির নগরে কিছুই ঘটেনি কিছুই হয়নি--নাসির নগর কোথায় কেহ-ই জানেনা। হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের বন্ধুদের লাগাতার আন্দোলনের কর্মসূচিও আর শুনা যায়না।"
        আমি দৃডভাবে বিশ্বাস করি, বিএনপি জামায়াত তাঁদের উদ্দেশ্য সাধনে এমন কোন কাজ নেই--'তাঁদের দ্বারা করা সম্ভব নয়'। এমন কোন বিষয় বিশ্বব্রম্মান্ডে এখনও উদয় হয়নি--'যেখানে বিএনপি জামায়াতের কালছায়া পড়ার বাকি আছে।' এই অশুভচক্রটির উধ্বতন নেতানেত্রীগন যেমন ষড়যন্ত্রে পাষান্ড তেমনি তৃনমুলের নেতাকর্মীরাও ততোধিক  পাষান্ড হতে দেখা যায় বিশেষ বিশেষ মহুর্তে। বর্বতায়--"সে তো অনেক অনেক বেশি আগোয়ান, জালেম ইয়াজিদকেও হার মানায়"।
উপরে উল্লেখিত আমার এই বিশ্বাসের সত্যতা নিরুপনের নিমিত্তে বেশী দূর যাওয়ার প্রয়োজন নেই-'৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের বর্বরতার দিকে তাকান-শুধুই দেখতে পাবেন তৃনমূলের কর্মীদের বর্বরতা আর পাষন্ডতা। '৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট কালরাত সহ  পরবর্তী ২১ বছরের ইতিহাস পয্যালোচনা করেন-- "দেখতে পাবেন শুধু হত্যা ঘুম, হামলা, মামলা, উচ্ছেদ, সংখ্যালুঘু বিতাড়ন।" ২০০১ ইং সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ত্যাগের প্রতি নজর দিন--"আধা ঘন্টা পর হতে পরবর্তী ১৫০০দিন কল্পনায় নিয়ে আসেন---"দেখা যাবে মায়ের সামনে মেয়ে ধর্ষনের সচিত্র প্রতিবেদন, আগুনের লেলিহান শিখা আর বোমা গুলীর তান্ডবতা।"
শুধু মাত্র এইটুকু চিন্তা করে দেখেন--"স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ইসলামের শত্রু ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের নিমিত্তে অখ্যাত ব্যাবসায়ীকে বিএনপির ন্যায় বৃহৎ দলের 'যুগ্ম মহাসচিব' করতেও দ্বিধা না করার ব্যাপারটি--!! বিএনপি বন্ধুরাই বলেন--"এর আগে চট্রগ্রামের রাজনীতিতে আসলামের নাম কোন দিন কেউ শুনেছেন কিনা"--!!
মোট কথা এই বিএনপি জামায়াত শিবিরের অশুভ চক্রটি যখনই সুযোগ পেয়েছে তখনই আওয়ামী লীগ, দেশপ্রেমীক জনগন, বুদ্ধিজীবিদের ধ্বংসের চক্রান্ত কায্যকর করার চেষ্টা করেছে। প্রয়োজনীয় মহুর্তে ধ্বংস প্রক্রিয়ায় সবমহল একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগ যখনই দেশ উন্নয়নের সুযোগ পেয়েছে--"তখনই তাঁরা কচ্ছপের রুপ ধারন করে মাথা লুকিয়ে ঘাপটি মেরে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে দেখা গেছে"। ষড়যন্ত্রে তাঁরা এতই নৃসংশ, হৃদয়হীন, অমানবিক, অধার্মীক যে---দুই চারটি প্রমানীত সত্যের প্রতি চোখ ফেরালেই অনুমান করা আপনাদের সহজ হতে পারে---
 আমি সাম্প্রতিক সময়ের দুই চারটি উদাহরন আপনাদের বোধগম্যতার জন্যে স্মরণ করে দিতে চাই। মসজিদে শিবির নেতার কোরানে আগুন দেয়ার খবর আমরা সবাই কি  জানিনা? কোরান অবমাননার ছবি আপলোড় করে রামুতে বৌদ্ধদের উপর হামলার দৃশ্য আমরা কি দেখেনি? পবিত্র কা'বা ঘরের উপরে দেবীকে বসিয়ে সংখ্যালুঘু নিয্যাতনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে সাম্প্রদায়িক সম্পৃতি ধ্বংসের ষড়যন্ত্র কিভাবে বাস্তবায়ন করেছে ইতিমধ্যে সবার নিকট পরিস্কার হয় নাই?
সরকারকে অ-জনপ্রীয় করার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের লক্ষে বার বার ধর্মকে কত নিকৃষ্ট উপায়ে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে ;তাঁর জ্বলন্ত উদাহরন প্রতিটি নাগরিকের সামনেই রয়েছে। অশুভ চক্রটি ইসলাম ধর্ম রক্ষার নিয়মাতান্ত্রিক আন্দোলনের ওয়াদা করে দেশব্যাপি কি তান্ডব চালিয়েছিল শতবছরেও কেউ ভুলতে পারবে কিনা জানিনা। শাফলা চত্বরে অবস্থান নিয়ে কায়েমি স্বার্থ উদ্ধার করার চক্রান্ত সফল করার জন্যে দেশব্যাপি আগুন সন্ত্রাস, লুটপাট, হাজার হাজার কোরানের কপিতে আগুন দেয়ার দৃশ্য ইলেকট্রোনিক্স মিডিয়ার গুনে দেশ বিদেশের সকলেই অবলোকন করেছে।  নির্দিষ্ট সময়ের ওয়াদা ভঙ্গ করে লাগাতার অবস্থানের ঘোষনা দেয়া, বিএনপি নেত্রীর নেতাকর্মীদের প্রতি হেফাজতের পাশে থাকার  নির্দেশ, ঢাকা বাসির প্রতি রাজপথে নেমে আসার আহব্বান কোন মহল কি অস্বীকার করতে পারবে?
সবচেয়ে বড় মিডিয়া প্রপাগান্ডাটি করেছিল সেদিন রাতে সরকারের আইন শৃংখলা বাহিনী কতৃক হেফাজতিদের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে। তাঁদের নিয়ন্ত্রিত ইলেকট্রোনিক্স মিডিয়া, পত্র পত্রিকা, হাজার হাজার ওয়েব সাইট, পোর্টাল, অনলাইন পত্রিকা, লক্ষ লক্ষ ফ্যাক আই, ডি থেকে একযোগে হেফাজতের লক্ষ লক্ষ আলেম হত্যা করে শতশত ট্রাকে বোঝাই করে অজানা গন্তব্যে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ব্যাপক প্রচার করতে দেখা গেছে। সারাদেশ সরকারের নির্মম কর্মকান্ড অবলোকন করে তৎক্ষনাৎ হতভম্ব, বাকরুদ্ধ, কর্তব্য বিমূঢ হয়ে গিয়েছিল। অশুভ চক্রের অমানবিক ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্য শতভাগ সফল ছিল। সরকার প্রধানের অনড় মনোভাব, তাৎক্ষনিক মাদ্রাসা, মসজিদ তল্লাসি করে প্রকৃত হতাহতের তথ্য প্রকাশ--"ষড়যন্ত্রকে নিমিষেই ধূলায় মিশিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল বিধায়; আজও মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখা সম্ভব হচ্ছে।
 দেশী বিদেশী তদন্ত দল বার বার 'মৃত আলেম ওলামাদে'র তথ্য চাওয়া সত্তেও কোন মহল আজব্দি সরবরাহ করতে পারেনি। লক্ষ লক্ষ আলেম হত্যার প্রমান আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি। দেশের কোন মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষক নিখোঁজের তথ্য আজও মিলেনি। তাহলে ট্রাক ভর্তি লাশগুলী কার-কোত্থেকে এল-??
       মুলত: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘটে যাওয়া অতীতের লোমহর্ষক দৃশ্যগুলী তাঁরা পুর্বেই সংগ্রহ করে ধারন করে রেখেছিল। যেমনি ঘটছে বর্তমানে রোহিঙ্গাদের হাজার হাজার ভুয়া আপলোড ছবি অন-লাইনে ছড়াছড়ি। বর্তমানের অনেক ছবি তখনও তাঁরা ব্যবহার করতে দেখা গেছে।এই থেকেই বুঝা যায় ষড়যন্ত্র ছিল পুর্ব পরিকল্পিত, শেকড় ছিল গভীরে এবং তাঁদের সবার শেকড় এক জায়গায় প্রোথিত। সুতারাং বলতে পারি---"জামায়াতকে বাদ দিয়ে নাসিক নির্বাচন সমন্বয় কমিটি ঘোষনা : জনগনকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়ে নির্বাচনি বৈতরনী সফলভাবে উত্তরনের "শঠতাপুর্ণ কৌশল" সম্ভব করে তোলা  ছাড়া আর কিছুই নয়।
অশুভ চক্রটি গনতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজপথে টাকা খরছ না করে ষড়যন্ত্রের পিছনে টাকা খরছ করতে বেশি আগ্রহী। একারনে ত্যাক্ত বিরক্ত হয়ে বিএনপি মহাসচিব নীজেই বলেছেন--বিএনপিকে বাহিরের কোন শক্তি ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়ে যাবে চিন্তা করা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।এই অবস্থায় চলতে থাকলে আগামী ৫/৭বছরের মধ্যে বাংলাদেশের মানচিত্রে বিএনপি নামক দলটিকে খুঁজেই পাওয়া যাবে না।"
         ruhulaminmujumder27@gmail.com
         "জয়বাংলা      জয়বঙ্গবন্ধু"

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg