শেখ হাসিনার বর্তমানে বাংলাদেশ দর্শনের ধারনা পরিস্কার হওয়া উচিৎ।
(রুহুল  আমিন  মজুমদার)

     মহান বিজয়ের মাস শেষ, সাথে নিয়ে যাচ্ছে পুরাতন একটি বছরকেও। ক্ষমতাসীন দলের দ্বিতীয় মেয়াদের শাষনের দ্বিতীয় বর্ষফুর্তি হতে মাত্র আর কয়টা দিন বাকি। এরই মাঝে বিশেষ কয়েকটি দিক জাতির সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।দেশী বিদেশী উন্নয়ন সহযোগি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতির আশাব্যাঞ্জক উক্তি,উন্নয়ন সুচকের ব্যাপক উধ্বগতি, বিশাল বিশাল উন্নয়ন প্রকল্প ইত্যাদি নিয়ে---"বিশেষজ্ঞরা তাঁদের ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে জনগনকে নিশ্চয়ই অবগত করছেন এবং আরো করবেন।যে বিষয় গুলীর প্রতি কারো দৃষ্টি নিবন্ধিত হবেনা;তেমন কিছু বিষয় পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা প্রয়োজন মনে করি।তম্মধ্যে উল্লেখযোগ্য দু-তিনটি বিষয় আমি পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

(১)২০১৬ ইং সালের বিজয় দিবসের উৎসাহ উদ্দিপনায় স্ব-প্রনোদিত ভাব গাম্ভিয্যতা ফিরে আসা
(২) দীর্ঘ ক্ষমতা উপভোগের পরেও আওয়ামী লীগ এবং তাঁর প্রার্থীর জনপ্রিয়তায় ধ্বস না নেমে বরঞ্চ উচ্চতায় পৌঁছা।
(৩) বাংলাদেশকে বর্তমানের মুক্তিযুদ্ধের সরকার কতটুকু স্বাধীনতাযুদ্ধের মুল চেতনায় ফিরিয়ে নিতে পেরেছে।

     (আমি মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে বিশেষ ভাবে বলে রাখতে চাই---"সম্মিলীত অ-শুভ শক্তির মূল কাজ গোয়েবলসীয় কায়দায় মিথ্যা, অপ-প্রচার গুজবাকারে বাজারে ছেড়ে দেয়া--সত্যতা থাক বা নাথাক কিছুই আসে যায়না, বাজারে ঘুরলেই বক্তব্যটি হল।"ইতিমধ্যে তাঁর হাজারো প্রমান আমরা পেয়েছি।)

       ২০০৮ইং এর ২৯ই ডিসেম্বর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর গড়া দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ‘মহাজোট’ ভূমিধ্বস বিজয়ের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা 'শেখ হাসিনা' দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর পরবর্তী একবছরের মাথায় ২০০৯-এর ১৯ নভেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এক সর্বসম্মত রায়ে, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফাঁসির চূড়ান্ত রায় দিয়েছে।জাতির জনকের হত্যার বিচার প্রক্রিয়া সমাপ্তিতে দেশ ও জনগনকে পিতা হত্যার দায়মুক্ত করেছে সর্ব উচ্চ আদালত। পিতৃহত্যার দায়ে বিদেশী রাষ্ট্র সমূহের কটাক্ষপুর্ণ চাহনি থেকে বাঙ্গালী জাতি মুক্ত হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবারের হত্যার পর ৩৫ বছর (মাঝে ৫ বছর আওয়ামী লীগ শাসন ছাড়া) তাঁর সৃষ্ট দেশে তাঁকেই অপাঙ্ক্তেয় করে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় স্বাধীনতা দিবস বা বিজয় দিবস উদযাপন ছিল আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।এই সময়কালে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা আওয়ামী লীগ, প্রতিবেশী মিত্র দেশ ভারতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে এবং সাম্প্রদায়িকতাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উসকে দিয়ে নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। তারা কথায় কথায় ভারতকে বাংলাদেশের সব সমস্যার জন্য দায়ী করে জনগণকে বিভ্রান্ত করে তাদের স্বার্থ হাসিল করার প্রয়াস পেয়েছে।

         জিয়া-এরশাদ এবং খালেদা জিয়ার জোট সরকারের আমলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকালের বন্ধু প্রতিবেশী ভারতকে হেয় করার জন্য সর্ব বিষয়ে "ভারত বিদ্বেস" ছড়ানোর উদ্দেশ্যে মিডিয়াকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের সঙ্গে চলতে স্বস্তিবোধ করে। তাদের শাসনামলে পাকিস্তানের কুখ্যাত 'আইএসআই' রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করেছে। ভারতকে অস্থিতিশীল করার জন্য আইএসআইকে বাংলাদেশ ভূখণ্ড ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে। ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফাকে ট্রেনিং, অস্ত্র ও অন্যান্য সাহায্য-সহযোগিতা দিয়েছে। ভারতের বিরুদ্ধে অকারণে কুৎসা রটনা করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে।

     ভারত ৯ মাস বাংলাদেশের ১কোটি শরণার্থীকে খাইয়ে-পরিয়ে অতুলনীয় সহযোগিতা করেছে। লাখ লাখ মুক্তিবাহিনীর সদস্যকে ট্রেনিং ও অস্ত্র দিয়ে হানাদার পাক বাহিনীর মোকাবেলা করতে সক্ষম করে গড়ে তুলেছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের হাজার হাজার সেনাবাহিনী সদস্য রক্ত দিয়েছে।  অপ-প্রচার বাজারে চালু আছে--ভারতীয় সৈন্য ফিরে যাওয়ার সময় আমাদের সব সম্পদ নিয়ে গেছে। সেগুলো ফলাও করে প্রচার করতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী এ দেশীয় পাকিস্তানি দালালরা কখনো বিবেকের দংশন অনুভব করেনি।

      শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতাসীন না হয়ে অন্য কেউ ক্ষমতাসীন থাকলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সাফল্য আসতে কত যুগের প্রয়োজন হত তিব্বতের দালাইলামার দিকে তাকালেও অনুমান করা যেতে পারে। অথবা পাকিস্তানের অন্য দুই প্রদেশের দিকে তাকালেও বিবেকবানদের বুঝা কষ্ট হয়না। যুগ যুগ ধরে দালাইলামা যে অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্ট ভোগ করছেন, আমাদেরও তেমন অবস্থা হওয়ার আশঙ্কা ছিল। মহান নেত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধী নিজের দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন করে, পরাশক্তি আমেরিকা ও চীনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে, ভারতকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিয়োজিত করেছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতি দিতে মিত্রবাহিনী গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নেত্রীকে খাটো করতেও পাকিস্তানি মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিরা পিছ-পা হয়নি। এর চেয়ে অকৃতজ্ঞ জাতি হিসেবে বাঙ্গালী--'আর কি হতে পারে'?

      যে রেসকোর্স ময়দানের মঞ্চ থেকে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন। ইন্দিরা গান্ধী স্বাধীনতার পর--ঢাকা সফরকালে বঙ্গবন্ধুসহ ভাষণ দিয়েছিলেন রেসকোর্সের ময়দান থেকে। পাকিস্তানের তিরানব্বই হাজার সু-সজ্জিত সৈন্য আত্মসমর্পন করেছিল রেসকোর্স ময়দানে।রেসকোর্স ময়দানকে মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধু ঘোড়া দৌড়ানীর নামে বিশাল অংকের 'জুয়া' নিষিদ্ধ করে গাছের বাগান করে  নাম রেখেছিলেন 'সরওয়ার্দী উদ্যান।' সেই সরওয়ার্দী উদ্যানকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে উদ্যোগ নিয়েছিল স্বৈরচারি সরকার সমুহ।   তাঁদের মিত্রের মাথানিছু করে আত্মসমর্পনের গ্লানিমুক্ত করতে ‘ইন্দিরা মঞ্চ’ ভেঙে শিশু পার্ক নির্মাণ করেছিলেন সামরিক শাসক জেনারেল জিয়া। অথছ উদার মনোভাব প্রদর্শন করে ভারতের জনগণ কলকাতা শহরে দুটি সড়কের নামকরণ করেছে --"শেরেবাংলা ও বঙ্গবন্ধুর নামে।" বাংলাদেশ আজ পর্যন্ত মহাত্মা গান্ধী বা ইন্দিরা গান্ধীর নামে কোনো সড়ক বা স্থাপনার নামকরণ করতে পারেনি।

    বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিখা চিরন্তন, পৃথিবীর সর্বোচ্চ টাওয়ার ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ধারণ করে জাদুঘর স্থাপিত হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট, শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউট, বিশেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকাজুড়ে সাংস্কৃতিক বলয় গড়ার প্রচেষ্টা চলছে।মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক আরো অনেক স্থাপনা সেখানে নির্মাণের পরিকল্পনা সরকার নিয়েছে।সর্বপেক্ষা ভাল হত যদি 'ইন্দিরামঞ্চ'কে আবার পুন:প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হত।অহিংস দর্শনের জনক 'মহাত্মা গান্ধীজির' নামে কোন স্থাপনা নির্মান করা সম্ভব কিনা তাও ভেবে দেখা দরকার।বিশ্বের দেশে দেশে মহত্মা গান্ধীজির নামে স্থাপনা রয়েছে--বাংলাদেশ ব্যাতিক্রম হতে পারেনা ঐতিহাসিক কারনেই।ভারতীয় উপমহাদেশ ইংরেজ শাষন শোষন মুক্ত করতে গান্ধীজির ভুমিকা অ-স্বীকারের কোন উপায় নেই, আমরাও তাঁরই অংশ।ইতিহাসের পরতে পরতে তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখা হয়ে গেছে।

      বর্তমানে যুদ্ধাপরাধী রাজাকার, আলবদরদের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।যুদ্ধাপরাধীদের পরিবার পরিজনদের দ্বিতীয় শ্রনীর নাগরিক করার উদ্যোগ এখনই নেয়া উচিৎ।সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা থেকে তাঁদের বঞ্চিত করার তড়িৎ পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারের বিভিন্ন পয্যায় কর্মে নিয়োজিতদের ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু করা সময়ের দাবি।তাঁদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান-সন্ততিদের উচ্চশিক্ষায় ব্যবহার করা যেতে পারে।

 লক্ষ করলে দেখা যায়--অশুভ শক্তিসমূহের বিচার প্রক্রিয়া যতই ত্বরান্বিত হচ্ছে জাতিয় দিবস সমূহের প্রানচাঞ্চল্যতা ততই ভাবগম্বিরতা নিয়ে ফিরে আসতে শুরু করেছে।এবারের বিজয়দিবসে স্ব-প্রনোদিত প্রানচাঞ্চল্যতা তাঁরই প্রমান বহন করে।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা অনুযায়ী অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের চক্রান্তে পরিচালিত 'আগুন সন্ত্রাসের' বিচারকায্য সম্পন্ন করা হলে তাঁদের অস্তিত্ব বাংলার মাটিতে আর খোঁজে পাওয়া যাবেনা।

     অশুভশক্তি নিচ্ছিন্ন হতে চলেছে তাঁর ঈঙ্গিত বহন করে ; কিছুদিন আগে অনুষ্ঠানেয় 'নাসিক' নির্বাচনের ফলাফলের দিকে দৃষ্টি দিলে। বাংলাদেশের জনগন দুইবার কোন প্রার্থীকে নির্বাচিত করার নজির খুব কম। দুইবার সরকার পরিচালনা করার সুযোগ দেয়ার নজির এযাবৎ কালের বাংলাদেশের( পাকিস্তান আমল সহ) ইতিহাসে নেই। নারায়ন গঞ্জের নির্বাচনে উভয় নেতিবাচক দিক বিদ্যমান থাকা সত্বেও সর্বকালের অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনে সরকার দলীয় প্রার্থীর বিশাল বিজয়--"মুক্তিযুদ্ধের মুলচেতনায় ফিরে যাওয়ার জনগনের ইচ্ছার বহিপ্রকাশই-- আমি মনে করি"।

     বাংলাদেশের সংবিধানকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ফিরিয়ে আনার এবং বঙ্গবন্ধু সরকারের অনুসৃত পররাষ্ট্রনীতিকে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির আলোকে পুনর্বিন্যাস করার সময় হয়ে গেছে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ফেব্রুয়ারি (২০১৭) মাসে ভারতে রাষ্ট্রীয় সফর করবেন, এই সুযোগে ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর (বিশেষ করে ভিসা জটিলতা, তিস্তাসহ অন্যান্ন অভিন্ন নদীর পানি বন্টন) মীমাংসা এবং ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী ও সহযোগিতার নবযুগের সূচনা হবে। পঁয়তাল্লিশতম বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত জনগণের সামনে যে সুযোগ উপস্থিত হয়েছে তা কাজে লাগিয়ে একাত্তরের চেতনায় জেগে ওঠার সময় এসেছে।

     যে তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭১ ইং সালে, সেই তত্ব জনগণের কাছে সঠিকভাবে এককেন্দ্রিকভাবে হচ্ছেনা। বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের উচিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ এবং স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য সমুহকে নিয়ে সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ বক্তব্য উপস্থাপন করা। এখানে কোনো প্রকার অ-স্বচ্ছতার স্থান নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে একেকজন একেক রকম উক্তি করবেন এটা একেবারেই অবাঞ্ছনীয়। জাতীয় চার মূলনীতি সম্পর্কে  ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলেই মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল এবং জাতি হিসেবে আমরা স্বাধীন হতে পেরেছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধের যারা বিরোধী তারা তো  বাংলাদেশের শত্রু। তারা বাংলাদেশ বিশ্বাস করে না। তাঁরা চায় জাতি রাষ্ট্রকে ধর্মরাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে।

 স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর এই বিতর্কের অবসান হওয়া খুবই প্রয়োজন।  রাষ্ট্রীয় আদর্শকে উহ্য রেখে তাঁর দর্শনকে ভুলুন্ঠিত করে জাতি হিসেবে আমরা অগ্রসর হতে পারবনা।এবারের বিজয় দিবসে স্ব-প্রনোদিত আনন্দ উল্লাস এবং নাসিক নির্বাচনে বিশাল জয়--"সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের মুলচেতনায় ফিরে যাওয়ার জনইচ্ছাকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের মুল্যায়ন করা উচিৎ বলে আমি দৃড়তার সঙ্গে বিশ্বাস করি।

বাঙালী জাতীয়তাবাদের প্রধান নেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার অবস্থান অদ্বিতীয়। জাতির জনকের কন্যা হিসেবে শেখ হাসিনা যতটুকু জাতীয়তাবাদের ধারনা ধারন করতে পেরেছেন তাঁর সিকিভাগও অন্যকোন নেতানেত্রী ধারন করতে পারেননি। বাংলাদেশ সৃষ্টির মূল দর্শনের সত্যিকার অর্থে বিশ্বাসের কারণে অশুভ শক্তি এখনও শেখ হাসিনাকে হত্যার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তাঁরা জানে শেখ হাসিনা নেই--"বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নেই, বাংলাদেশের দর্শন নেই"। স্ব-পরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তাঁদের ধ্যানে জ্ঞানে শেখ হাসিনা হত্যা ছাড়া আর কিছুই নেই।শেখ হাসিনা ছিল বলেইতো বঙ্গবন্ধু সদর্পে, স্বমহিমায়,আরো উজ্জল আলোকচ্ছটায় ফিরে এসেছে--তাঁদের বিধ্বংসি মনোভাব অমূলক নয়, বরঞ্চ আমাদের বিশ্বাসে ফাঁকা রয়েছে যথেষ্ট।
       masterruhulamin@gmail.com

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg