ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি কাজী গোলাম মাহমুদ সাহেবের মৃত্যু--তৃনমুল আওয়ামী লীগে বঞ্চনার শংকা প্রতিষ্ঠিত।
(রুহুল আমিন মজুমদার)

        গত ৩/১২/০০১৬ ইং রোজ শনিবার বিকেল সাড়ে চার ঘটিকায় কাজী গোলাম মাহমুদ সাহেবের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ফুল গাজী থানা পরবর্তীতে উপজেলার দুইবার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। আপোষহীন, ত্যাগী,নিবেদিত আওয়ামী লীগার হিসেবে তিনি সুপরিচিত ছিলেন। যদিও দুইবার নির্বাচিত হন -রাজনৈতিক টানাপোড়নের কারনে প্রায় ২০০০ ইং সাল পয্যন্ত তাঁকে উক্ত সভাপতি পদ বহন করতে হয়েছিল।প্রায় বিশ বছর ফুলগাজী থানা আওয়ামী লীগের মায্যদাপুর্ণ সভাপতির দায়িত্ব পালন করলেও নির্লোভ নেতা কোন স্তরেই জনপ্রতিনীধিত্ব করার জন্য খুব বেশী বাড়াবাড়ি করেননি।গত শনিবার এই অকতোভয় বীর সেনানী ৭৮ বছর বয়সে ঢাকার শমরীতা হাসপাতালে পরলোকগমন করেন।তাঁকে তাঁর নীজবাড়ী ফুলগাজী উপজেলার মুন্সির হাট ইউনিয়নের শ্রিপুর গ্রামে কাজী পরিবারের নীজস্ব কবরস্থানে দাপন করা হয়।
      শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মরহুম কাজী গোলাম মাহমুদ যে বছর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন ঠিক সেই বছরই আমি সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হই।  আমার পরম সৌভাগ্য হয়েছিল খুব অল্প বয়স হলেও  নিবেদিত নেতার সাথে একত্রে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছিলাম। আমি আমার  ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক থাকা অবস্থায় ঐ কমিটিরই সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দু'টি গুরুত্বপুর্ণ পদ দীর্ঘবছর বহন করি। ঐ একই সময়কালে বসন্তপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের গুরুদায়িত্ব আমার উপর ছিল।পরবর্তী কাউন্সিলে 'দুই জন যুগ্ম সম্পাদকের' পদ সৃষ্টি হলে আমি এক নম্ভর যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত  হই।উল্লেখ্য যে ফুলগাজীর মাটি ও মানুষের নেতা,উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক জনাব আজিজুল হক মজুমদার ১৯৯৬ ইং সালে আওয়ামী লীগ জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার জন্য গেলে ফকিরা পুল আবাসিক হোটেল কক্ষে তাঁর মৃত্যু ঘটে। তাঁর অকাল মৃত্যুতে ফুলগাজী বাসির উপর  বিনামেঘে বজ্রাঘাত তুল্য,  কিংকর্তব্যবিমূঢ হয়ে পড়ে।চতুর্দিকে হতাশার চাদরে ঢেকে পড়লে সভাপতি কাজী গোলাম মাহমুদ শক্ত হাতে পরিস্থীতি নিয়ন্ত্রনে মনযোগী হন।
     একদিকে ২১ বছরে দল ক্ষমতা পাওয়ায় সংগত কারনে নেতাকর্মীরা অসংযত,অধৈয্য হয়ে পড়ে। অন্যদিকে জনাব আজিজুল হক মজুমদার সাহেবের হঠাৎ অনুপস্থীতি দলে বিশৃংখলা চরম আকার ধারন করে।এমনতর মহুর্তে পদাধিকার বলে আমাকে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক এর দায়িত্ব দিয়ে তিনি শক্তভাবে হাল ধরে বিশৃংখলা মোকাবেলা করার উদ্যোগ গ্রহন করেন।স্বল্প সময়ে রাজনৈতিক বিচক্ষনতার গুনে তিনি দলকে নিয়মাতান্ত্রিক পয্যায় নিয়ে আসেন। যদিও আমাকে তিনি সঙ্গী হিসেবে নিয়েছিলেন তের/ চৌদ্দটি মামলা এবং বসন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের গুরুত্বপুর্ণ পদে দায়িত্বরত: থাকায় আমি রানিংমেট হিসেবে তাঁকে তেমন উল্লেখযোগ্য সময় দিতে পারিনি।২০০০ ইং সালের কাউন্সিলে বাধ্যক্যজনীত কারনে তিনি সভাপতি পদ নীজ থেকে ত্যাগ করেন।২০০১ ইং সালের দলীয় বিপয্যয়ের মহুর্তে নির্বাচিত সাধারন সম্পাদক পালিয়ে গেলে আবারও ভারপ্রাপ্তের দায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন দল পরিচালনায় সার্বিক সহযোগীতা পেয়েছিলাম আমি মরহুম জনাব কাজী গোলাম মাহমুদ সাহেবের নিকট থেকে।২০০৯ ইং সাল পয্যন্ত যদিও আমি ফুলগাজীর রাজনীতিতে পুর্বের পদবি নিয়ে সক্রিয় ছিলাম কিন্তু যাদের নেতৃত্বে রাজনীতিতে ছিলাম তাঁদের দু'জনের কেউই ছিলেন না।
       কাজী গোলাম মাহমুদ সাহেব প্রথম জীবনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আর্টিলারী কন্টিজেন্সে যোগদান করে স্বাধীনতা উত্তর চাকুরী পরিত্যাগ করে চট্রগ্রামে ঠিকাদারি ব্যবসা শুরু করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের ঢামাডোল বেজে উঠলে তিনি তাঁর এলাকা ফুলগাজীর মুন্সির হাট  চলে আসেন। এলাকার যুবক ভাইদের সংগঠিত করে আলী আজম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করেন এবং তিনি নিজেই প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন।মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মাতৃভুমি শত্রুমুক্ত করার মহান লক্ষে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসমসাহষিকতা এবং বিরত্বপুর্ণ অবদান এলাকাবাসি এখনও স্মরণ করেন।
      তিনি  যুদ্ধশেষে কর্মস্থল চট্রগ্রাম চলে গেলেও তাঁর মন সেখানে স্থীত হয়নি। তিনি ফিরে এসে ফুলগাজী উচ্চ বিদ্যালয়ে ইংরেজী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘদিন ফুলগাজীতে শিক্ষকতার সুবাদে সর্বশ্রেনীর মানুষের নিকট সৎ, ব্যাক্তিত্বশীল, মায্যদাবান মানুষ হিসেবে তাঁর ইমেজ গড়ে উঠে।পরবর্তীতে তাঁর এলাকার আলী আজম হাইস্কুলে চলে গেলেও ফুলগাজী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ অলংকৃত করতে তাঁকে তেমন বেগ পেতে হয়নি।
     তিনি ছিলেন অত্যান্ত ব্যাক্তিত্ববান, স্বল্পবাসি, অসাধারন বাগ্মিতার অধিকারি ত্যাগি নেতা। খালেদা জিয়ার কথিত বাড়ীর দরজায় উপজেলা আওয়ামী লীগের একটানা বিশ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করা সহজ ব্যাপার নয়।তিনি উক্ত কঠিন বিষয়টিকে ব্যাক্তিত্বের প্রভাবে সহজ করেছিলেন এবং সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
     তিলে তিলে সংসার, অর্থ সম্পদ ধ্বংস করে যেই সমস্ত নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের পতাকাকে আগামী প্রজম্মের হাতে তুলে দিতে নিবেদিত ছিলেন, সারাজীবন আন্দোলন সংগ্রামে লিপ্ত ছিলেন, তাঁদের অধিকাংশ  আজ আর জীবিত নেই। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য---'সর্বজনাব আজিজুল হক মজুমদার(চেয়ারম্যান, সাধারন সম্পাদক),আজিজুল হক(ছোট্র মিয়া,ভেন্ডার,ফুলগাজী),সফিকুর রহমান ভুইয়া(ভেন্ডার, মুন্সির হাট) আবুল মজুমদার(ফুলগাজী, শ্রিপুর, খালেদা জিয়ার কথিত বাড়ীর একমাত্র আওয়ামী পরিবার) আবুল কালাম আজাদ (হাজী হুদামিয়া,ফুলগাজী), আবুল মিয়া(ফুলগাজী,বরইয়া) বিষু চৌধুরী( ফুলগাজী, বরইয়া) হাজী ইব্রাহীম মজুমদার ( চেয়ারম্যান, আমজাদ হাট), মোশারফ হোসেন মজুমদার (আমজাদ হাট) মোশারফ হোসেন মজুমদার( ফুলগাজী), ডাক্তার আফাজ উদ্দিন  মজুমদার (আমজাদ হাট) আবদুল মন্নান( দরবার পুর) সামছু উদ্দিন মজুমদার( চেয়ারম্যান বক্সমাহমুদ)সহ আরো অনেকেই চলে গেছেন পরপারে।
          জীবিতদের মধ্যে তেমন কাউকে আজ আর চোখে পড়েনা। নাইয়ের মধ্যে সর্বজনাব আজিজ আহাম্মদ চৌধুরী (বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান) হাবিবুর রহমান মজুমদার (সাবেক সভাপতি, আনন্দপুর, বন্ধুয়া, ভেন্ডার) আবদুল মন্নান ভুঁইয়া (বক্সমাহমুদ) হাবিলদার জহির উদ্দিন ভুইয়া(সভাপতি, জিএম হাট) রুহুল আমিন মজুমদার( সাবেক সভাপতি, ফুলগাজী থানা), আবুল কাশেম মাষ্টার( চেয়ারম্যান, আমজাদ হাট) দুলাল মজুমদার(সাবেক সাধারন সম্পাদক, আনন্দপুর ইউনিয়ন) কাজী গিয়াস উদ্দিন ( সভাপতি, দরবারপুর) আবদুস ছালাম ভুঁইয়া(সাবেক সাধারন সম্পাদক, ফুলগাজী থানা)হাজী জামাল উদ্দিন ( বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ফুলগাজী থানা) সবার চেয়ে কম বয়সের মাষ্টার রুহুল আমিন মজুমদার এখনও বেঁচে আছেন।
     প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, নিশ্চয়ই আপনাদেরকে অযথা বিরক্ত করছি--'মনের জ্বালা নিবারনের গত্যান্তর খুঁজে না পেয়ে অদ্য আপনাদের  বিরক্তির কারন হয়ে দাঁড়িয়েছি।' উপরে উল্লেখিত জীবিত এবং মৃত সম্মানিত ব্যাক্তিবর্গ সহ আরো অনেকেই জনাব মরহুম কাজী গোলাম মাহমুদ সাহেবের একান্ত রাজনৈতিক বিশ্বস্ত সহচর ছিলেন।শুধু সহচর বললে আংশিক বলা হয় ; দীর্ঘদিনের আন্দোলনে সংগ্রামে জড়িত থেকে একে অপরের পুরিপূরক হয়ে উঠেছিলেন।দলীয় গণ্ডির সীমারেখা অতিক্রম করে  ব্যাক্তিগত এবং পারিবারিক বন্ধুত্বে রুপ নিয়েছিল উল্লেখিত ব্যাক্তিবর্গের মধ্যে।
        "মরহুম কাজী গোলাম মহামুদ সেনাবাহিনীতে দশবছর চাকুরীর কারনে একদল চৌকস সেনাদল 'মুক্তিযোদ্ধা সৈনিকের জানাজা পুর্ব গার্ড অব অনার দিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করেছেন।' মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন স্বীকৃতি স্বরুপ একদল পুলিশ গর্ড় অব অনার প্রদান করে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের পর সমাহিত করে। ফুলগাজী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার কারনে স্বরণ সভার আয়োজন করেছে।শেষ কর্ম স্থল আলী আজম স্কুল এন্ড কলেজ সৃতিচারন সভার আয়োজন করে তাঁর বনাঢ্য কর্মজীবন নিয়ে আলোকপাত করার উদ্যোগ গ্রহন করেছেন।"
      "মরহুম জনাব কাজী গোলাম গোলাম মাহমুদের জানাজায় সর্বস্তরের শিক্ষক,ছাত্রছাত্রী, আত্মীয়স্বজন উপস্থীত থেকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে নয়মাস যুদ্ধের ময়দানে সাথীদের সঙ্গদানের প্রতিদানে জেলা মুক্তিযোদ্ধা এবং থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড  কাউন্সিল জানাজা পুর্ব নেতৃত্ব প্রদান করে জনগনের দৃষ্টি আকর্ষন করতে সক্ষম হয়েছেন।"
          অত্যান্ত পরিতাপের বিষয়, সকল একত্রিত লাভজনক পেশার চেয়ে দীর্ঘতম সময় (প্রায় পয়তাল্লিশ বছর)যে কাজে নিয়োজিত ছিলেন, যে আদর্শ ধারন করে সোনালী দিনগুলী হেলায় হারিয়েছেন, অসংখ্য ভক্ত অনুরাগী সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের সম্মান শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন, যাদের সাথে কর্মজীবনের বেশীরভাগ সময় অতিবাহিত করেছেন ; সেই মুজিব আদর্শের উধ্বতন নেতা একমাত্র জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, ফেনী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব আবদুর রহমান  (বিকম) ছাড়া আর কোন উল্লেখযোগ্য নেতাকে জানাজায় উপস্থীত দেখা যায়নি।হাজার হাজার মানুষের উপস্থীতির মধ্যেও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থীতির হার ছিল অত্যান্ত নগন্য, মাত্র হাতে গোনা কয়জন।
             তাঁর রাজনীতির বিচরন ভুমি ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে হয়তো স্মৃতি চারণ মূলক সভার আয়োজন করা হবেনা। অতীতের প্রতিতযসা অনেকের মৃত্যুতে যেহেতু কোন স্বরণসভার আয়োজন করা হয়নি; মরহুম কাজী গোলাম মাহমুদের ক্ষেত্রেও ব্যাতিক্রম হবে বলে মনে হয়না।যদিও দীর্ঘতম সময় বিনাবেতনে,পরিবার পরিজন বিমুখ করে মুজিব আদর্শ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে বিভোর হয়ে আওয়ামী লীগ সংগঠনে শ্রম মেধা, অর্থ সম্পদ, মুল্যবান সময় সবকিছুই উজাড় করে ঢেলে দিয়েছিলেন। সেই প্রানের সংগঠন যদি একটা স্মৃতিচারন সভার আয়োজনও না করে--এর চেয়ে বড় দু:খ্যজনক ঘটনা তাঁর পরিবার,ভক্ত অনুরাগীদের জন্যে আর কি হতে পারে। প্রসিদ্ধ ব্যাক্তিবর্গের বেলায় এমন অনিহা পোষন করা হলে ; আমাদের ন্যায় যৎসামান্য অবদান রাখা মুজিব প্রেমিকদের বেলায় জানাজায়ও কেউ অংশ নিতে আসবেন না।
       "এমন হওয়ারতো কথা ছিলনা- দলের শীর্ষনেতা বিবৃতি দিয়ে শোক প্রকাশ করার কথা ছিল তদস্থলে আঞ্চলিক নেতারাও যদি শোক প্রকাশ না করেন, বিবৃতি না দেন -এই দু:খ্য কি তাঁর পরিবার, বন্ধুমহল,শুভাকাংখীরা ভুলতে পারবে?"
     আমি মহান শিক্ষাগুরু, মুজিবাদর্শের লড়াকু সৈনিক কাজী গোলাম মাহমুদ সাহেবের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে দেশব্যাপি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আদর্শবান, ত্যাগি, মুজিবাদর্শের প্রকৃত সৈনিক, সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের--'বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আকুল আবেদন জানাচ্ছি।'
       ruhulaminmujumder27@gmail.com
          "জয়বাংলা    জয়বঙ্গবন্ধু"

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg