"নাসিক" নির্বাচন, বিমানে নাশকতা-"বিএনপির হাসির তাৎপয্যের সাথে সম্পৃত্ত।"
(রুহুল  আমিন  মজুমদার)
রাষ্ট্রপতির সাথে আলোচনার পর বিএনপি যারপরনাই খুশীর ভাব প্রদর্শনের বহুবিদ কারন রয়েছে।রাজনীতির ধারাবাহিকতা অনুযায়ী গনতান্ত্রিক কোন দলের ভুল সিদ্ধান্তের কারনে একবার যদি জনবিচ্ছিন্ন হয় সেই দলটি ঘুরে দাঁড়াতে বহু সময়ের প্রয়োজন হয়।রাজনীতির এই সুত্রটি শুধুমাত্র বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তা কিন্তু নয়--পাকিস্তান আমলের মুসলিম লীগের ক্ষেত্রে যেমন উদাহরন টি দেয়া যায় তেমনি ভারতের কংগ্রেস দলের ক্ষেত্রেও একই ভাবে উদাহরনটি টেনে আনা যেতে পারে।
'৭৪ ইং সালে ইন্দিরা গান্ধী দেশব্যাপি জরুরী অবস্থা ঘোষনা করে যে ভুলটি করেছিলেন তাঁর খেসারত আজও বয়ে বেড়াচ্ছে দলটি।ভারতব্যাপি একক দল ক্রমান্বয়ে শক্তি হারিয়ে ক্ষমতার বৃত্তের বাইরে চলে যাওয়ার কারনে ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে হিন্দুত্ববাদি দলের ক্রমশ উত্থান ঘটাতে সহায়ক ভুমিকা পালন করেছে। হিন্দুত্ববাদি বিজেপির শুধুমাত্র বিস্তৃতি ঘটেছে বললে ভুল হবে-- ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতেও পৌছে গেছে।এবারকার নির্বাচনে সব প্রদেশে ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে তাঁদের শেকড়ের গভীরতাও প্রমান করেছে। কত গভীরে পৌছে গেছে ভারতের সব প্রদেশে উপস্থীতি জানান দিয়ে তাঁর সত্যতা বিশ্ববাসির নিকট তুলে ধরতেও সক্ষম হয়েছে।কংগ্রেস ৭৪ ইং সালের ভুলটি যদি না করতেন তবে অন্য ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলের উত্থান ঘটলেও---"হিন্দু জাতিয়তাবাদি দলের উত্থান কোন ভাবেই সম্ভব হতনা।"পাকিস্তান সৃষ্টির প্রথামার্ধে বাঙ্গালীর ভাষা কেড়ে নেয়ার প্রচেষ্টা না করলে মুসলিম লীগের পতন পাকিস্তানের পুর্বাংশে সহজেই ঘটতনা--বাংলাদেশের অভ্যুদয় অন্যকোন ইস্যুতে হলেও ভাষা রক্ষার সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে  ধর্মনিরপেক্ষতার আদলে হয়ত সংঘঠিত হ'ত না।"
 বিএনপি প্রতিনীধি দলের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক শেষে উৎফুল্লতার সবিশেষ কারন তাঁদেরকে দেখা করার সুযোগ দেয়া,সামনে অনুষ্ঠিত নাসিক নির্বাচনে নেতাকর্মীদের ভোটযুদ্ধে স্বাভাবিক অংশগ্রহন নিশ্চিত করে সাধারন ভোটারদের তাঁদের প্রতি  মুল্যায়ন কেমন হয় তা যাছাই-- "একমাত্র উদ্দেশ্য।" সারাদেশের স্থানীয় সরকারে অংশ গ্রহন নিশ্চিত করতে না পেরে তাঁরা ঠিকই বুঝতে পেরেছে সরকারের একতরফা নীতির কারনে ভোট একতরফা হয়নি--"তাঁদের অংশগ্রহন নিশ্চিত ছিলনা বলেই একতরফা  হয়েছে অনেকাংশে"।
" নাসিক" নির্বাচনকে বেছে নেয়ার অন্যতম কারন---"বিগত দিনে নারায়নগঞ্জে সাত খুনের কারন সহ সরকার দলের আরো কিছু নেতিবাচক কর্মকান্ডে আওয়ামীলীগ জনগন থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে"।এই সু্যোগে বিএনপি প্রার্থীকে বিজয়ী করে নিয়ে আসতে পারলে জাতীয় ও আন্তজাতিকভাবে বিএনপির অবস্থান জানান দেয়া যাবে এই বলে--"সুষ্ট নির্বাচন হলে বিএনপি সারা দেশে ঠিক নারায়ন গঞ্জের মতই জিততে পারবে"।তাই  সারাদিন দেখা গেছে কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের উৎসাহ দেয়ার লক্ষে ইতিবাচক বিবৃতি দেয়া হচ্ছে এবং কোন অবস্থায় এজেন্টদেরকে কেন্দ্র থেকে বাহিরে না আসার ব্রিফিং দেয়া হচ্ছে।তাঁদের ধারনা আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতিবাচক কর্মকান্ডে তাঁদের জেতার পাল্লা ভারী হয়ে আছে--"নীরবে তাঁদের পক্ষে ভোটের বিপ্লব ঘটবে।"
  তাঁদের ধারনা অমূলক হ'তনা যদিনা তাঁদের দ্বারা ২০১৪/১৫ সালে হঠকারি রাজনীতি সংগঠিত না হ'ত।এই লেখাটি যখন শুরু করতে বসেছি তখন সবেমাত্র নির্বাচন শেষ হয়ে গননার জন্য কর্মকর্তারা প্রস্তুতি গ্রহন করছেন।আশা করি স্থানীয় নেতাদের নেতিবাচক কর্মকান্ডকে নারায়নগঞ্জ বাসি খুব বেশী ধর্তব্যের মধ্যে নেয়নি।সকাল থেকে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থীতি তাই প্রমান করে। ভোটারের উপস্থীতির অর্থই হচ্ছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জয়--"সন্ত্রাসী মাস্তানের উপস্থীতির অর্থই হচ্ছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভরাডুবি"।কারন আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে ভোট দেয় সাধারন মানুষ- সাধারন মানুষের সমাগম যেহেতু ভোট কেন্দ্রে পরিলক্ষিত হচ্ছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জয়ও অনেকাংশে নিশ্চিত ভাবা অমূলক হবে না।তাঁদের সৃষ্ট হটকারী রাজনীতির কারনে দেশ ও জনগন যে ক্ষতির সম্মুখ্যিন হয়েছিল নারায়ন গঞ্জের সাতখুন এবং আইভি বনাম শামীম ওসমানের কাঁদাছোড়াছোড়ি তাঁর চেয়ে হাজার গুন কম ইহা বুঝতে বিএনপির হাই থর্টের রাজনীতিবীদদের যে ভুল হয়েছে----"রাত পোয়ালেই আমার কথার সত্যতা পাওয়া যাবে আসা করি।" যদিও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর প্রতি জনগন বিমূখ হন তাহলেও খুব বেশী ভোটে বিএনপি প্রার্থী যে জিতবেনা ইহা আমি হলফ করেই বলতে পারি। সাত খুনের ঘটনা না ঘটলে কম করে হলেও একলক্ষ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জিতে যেত নির্দ্ধিধায় বলতে পারতাম।
 সংসদ বয়কট, প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোন আমন্ত্রণ বয়কট, নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠনের আহ্বান বয়কট, নির্বাচন বয়কটের পটভূমিতে পাকিস্তানি মদদে পর পর দুইবার আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে গৃহযুদ্ধ বাধানোর চেষ্টা করার পর বিএনপির হাতে রাজপথে আসার বর্তমানে কোন ইস্যু নেই। আগেই উল্লেখ করেছি---"একবার বাস্তবতাবর্জিত গণবিচ্ছিন্ন  হঠকারী কিছু করে ফেললে বাস্তবভিত্তিক গণসম্পৃক্ত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল স্বাভাবিক রাজনৈতিক পদ্ধতিতে ফেরা খুবই জটিল কঠিন ও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার হয়ে উঠে।ততদিন ধৈয্য ধরে রাজনীতি করার নেতা বিএনপিতে একজন ও যে নেই--" ইহা বলার অপেক্ষা রাখেনা।"
 তাই দেখা গেছে নির্বাচন বর্জন করে অশুভশক্তিকে ক্ষমতায় আনার চক্রান্তে ষড়যন্ত্রমুলক অপ- প্রচার থেকে হঠকারী নাশকতামূলক কর্মকান্ড কিছুই বাদ যায়নি-- "যাহা তাঁদের দ্বারা সংঘটিত করার বাকী আছে।" সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর দেশ পরিচালনায় শীর্ষস্থানীয়দের চোরাগুপ্তা নাশকতার মাধ্যমে হত্যা করে হলেও শুন্যতা সৃষ্টির একটি লক্ষন ইতিমধ্যেই লক্ষ করা গেছে।আমি সেই দিনেই লিখেছিলাম দায়িত্ব প্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারিং দলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই প্রধানমন্ত্রীর বিমানের নাটবল্টু খুলে রাখার চক্রান্ত "নাশকতা না অবহেলা" বুঝা যাবে।অবশ্যই ইহা যে একটি বড় ধরনের নাশকতা ছিল ইতিমধ্যেই তা প্রমানীত হয়েছে। একইভাবে রাষ্ট্রপতির বিমানেও দায্য পদার্থের সংমিশ্রন ঘটিয়ে আকাশে অগ্নি প্রজ্জলনের মাধ্যমে হত্যা প্রচেষ্টা হয়েছিল--"ইহাও সত্য হয়ে দেখা দিবে কিছু দিনের মধ্যেই।"
 তাই দেশ পরিচালনায় নেতৃত্বে আসীন এক বা একাধিক নেতাকে হত্যা বা অন্য যে কোনভাবে  ভাগ্যবিড়ম্বিত পথটি লাফ দিয়ে পার হওয়ার একাধিক সুযোগের অপেক্ষার প্রহর গুনছে বিএনপি দলটি।অতি সহজে রাজনীতিতে সচল ও সক্রিয় হয়ে ক্ষমতায় যাওয়া কিংবা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে অবৈধ শক্তির হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়ার ইস্যু পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে মাথা তুলে দাঁড়ানোর ইস্যু দলটির এখন চাই-ই চাই।
        ইস্যু যদি পেতে হয় তবে দলটিকে এখন খুশি খুশি ভাব দেখাতে হবে। রাষ্ট্রপতি গার্জিয়ান, রাষ্ট্রপতি আশার বাণী শুনিয়েছেন, সংলাপ সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উষ্ণতম, সংলাপ ফলপ্রসূ প্রভৃতি বলে রাষ্ট্রপতির প্রশংসায় বিএনপি এখন গদগদ থাকা ছাড়া কোন উপায় নেই। ভেতরে ভেতরে বিএনপির  ঝুঁকে থাকা অপরিপক্ষ সুশীল সমাজও এই খুশি ভাবটা মধ্যরাতের টকসো গুলীতে সামনে আনতে তৎপর থাকবে। এখন খুশিতে গদগদ না হলে পরে সরকারকে দোষারোপ করে মাঠে নামার ইস্যু পাবে কিভাবে দলটি? জনগনের মধ্যে এখন বিএনপি তীব্র আশাবাদ সৃষ্টি করতে চাইবে --"নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির সদিচ্ছা রয়েছে। আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা কুক্ষিগত ও দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য সমঝোতা চায়না। প্রকৃতপক্ষে এই আশাবাদ আরো ব্যাপকভাবে সৃষ্টি করতেই নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে সরে এসে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবি সামনে এনেছে বিএনপি। কেননা জনগণকে তারা এই বুঝ দিতে চায় যে---"বিএনপি এখন নির্বাচন বিষয়ে যে কোনো ধরনের সমঝোতায় রাজি"।
       নির্বাচন কমিশন সংস্কার এবং সহায়ক সরকারের আলোচনায় অনির্ধারীত সময় দিয়ে সরকারের উচ্চ মহলে এক বা একাধিক হত্যাকান্ড ঘটিয়ে তাঁর প্রতিবাদে হলেও মাঠে আসাই তাঁদের এখন মূর্খ্য উদ্দেশ্য। সরকারের উচ্চ পয্যায় হত্যাকান্ড ঘটানোর কাজটি বাংলাদেশ থেকে মনিটর করা হচ্ছেনা--"ইহা মনিটর করা হচ্ছে তাঁদের কোটি কোটি ডলার ব্যায়ে নিয়োগকৃত লবিষ্ট ফার্মকে দিয়ে। বিমান কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিদেশ সফর বাতিল করে দিলে কখনই বিমানে নাশকতার চেষ্টা পরিলক্ষিত হবে না। অচিরেই ধৃতব্যাক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে দেখা যাবে--"বিদেশ সফর করে আসা কোন এক কর্মকর্তার যোগ সাজসে পর পর দুইবার বিমানে নাশকতা করার চেষ্টা হয়েছিল"।আমার এই বক্তব্য কখনই অসার হবেনা --" এই আমার দৃড বিশ্বাস"।
  ফিরে আসি বিএনপির খুশির তাৎপয্যে---" আমি মনে করি অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ বিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান বিএনপিকে বর্তমান সরকারের গনতন্ত্রের চর্চার প্রতি আগ্রহের বোধোদয় সৃষ্টি করার সর্বৈব চেষ্টা করেছেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে লক্ষ্য করেই  বলেছেন--"যে কোনো আলোচনা সমস্যা সমাধানে বহুমুখী পথ দেখায়।'’ বলাই বাহুল্য, এই বিষয়টা বুঝতেই অতীতে বিশেষত বিগত নির্বাচনের আগে চরম ভুল করেছেন বিএনপি-জামায়াত জোট নেত্রী খালেদা জিয়া। কেবল ভুলই নয়, রাজনীতিতে মাত্রাতিরিক্ত লিফট পাওয়া অর্বাচীন এবং পাকিস্তানি কানেকশনে দুর্দমনীয় হয়ে ওঠা ছেলে তারেকের পরামর্শে এর সম্পূর্ণ বিপরীত পথ বেছে নিয়েছিলেন তিনি।তাঁর খেসারত দিতে দিতেই দলটি সময়ে বিলীন হয়ে যাবে--" মুসলিম লীগ এবং ভারতের কংগ্রেসের প্রতি নজর দিলে বিএনপি কর্মীদের ভালভাবেই উপলব্দিতে আসবে।"
     " নাসিক" নির্বাচনে কোন কারনে যদি বিএনপির ভরাডুবি ঘটে তাহলে ধরেই নিতে পারি আর কোন স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি ভাল ফলাফল করতে পারবেনা বিএনপি দলটি। যদিও কখনও কোথাও জিতে যায় তল্লাসি দিলে দেখা যাবে বিজিত ব্যাক্তি বিএনপির নমিনেশন না পেয়ে-- 'স্বতন্ত্র প্রার্থী যদি হতেন আরো ভাল ভোট পেয়ে জিতে আসতেন।'প্রত্যেক এলাকায় রাজনীতির বাইরেও কিছু সাদামনের মানুষ আছেন যারা ভোটে দাঁড়ালে দলমত নির্বিশেষে সাধারন মানুষ ভোট দিয়ে জিতিয়ে দেয়-- "সময় সময় বিএনপির ক্ষেত্রেও তাই ঘটবে, এর চেয়ে বেশী নয়।"
     তবে কামনা করি বিএনপির এই হাসি অমলিন থাকুক। গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় তাঁদের অংশ গ্রহন গনতন্ত্রের মানসকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার  নিকট " নাই মামার চেয়ে কানা মামার" কাজ দিলেও কোনরকমে চালাতে পারবেন।"যেহেতু ক্ষমতা ভোগের কোন লক্ষন দেশরত্ম শেখ হাসিনার বিগত শাষনকালে ফুঁটে উঠেনি--ভবিষ্যতেও দেখা যাবেনা--এই বিশ্বাস রাখতেই পারি।
       ruhulaminmujumder27@gmail.com

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg