সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
মানবতার নেত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনা বিরল দৃষ্টান্ত!!
============<=======[======
২১শে আগষ্ট বোমা ও গুলীর যুগৎপৎ হামলার পর,দেশরত্মকে হত্যায় ব্যর্থ হলে, সারাদেশ স্তব্দতার মধ্যেও স্ফুলিঙ্গের মত ফুঁসে উঠার অপেক্ষায় ছিল।সর্বস্তরের আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা শুধু দেশরত্মের হুকুম আর রাজনৈতিক কর্মসূচির অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলেন।জননেত্রীও কেন্দ্রীয় নেতাদের অব্যাহত চাপের মুখে ছিলেন কর্মসূচি ঘোষনা দেয়ার জন্য।গনহত্যায় ব্যর্থ হয়ে সরকার ছিল টলটলায়মান অবস্থায়।দেশী বিদেশি সমালোচনার মূখে কোনঠাসা।।এমতবস্থায় ধাক্কা দিলে সরকার টিকে থাকার কোন উপায় ছিল না।এমনতর মূহুর্তেও মানবতার নেত্রী ক্ষমতা পাওয়ার লোভ না করে, আহতদের চিকিৎসা এবং নিহতদের লাশ দাফন করার জন্য মনোনিবেশ করেন।দলের কেন্দ্রীয় বেশ কিছু নেতাকে দায়িত্ব দিয়ে হাসপাতাল গুলোতে প্রেরন করেন।রাত জেগে খবরাখবর সংগ্রহে ব্যস্ত সময় কাটান।তিনি স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিলেন,এই হামলাটি ক্ষমতাসীন বি,এন,পি সরকারের উচ্চপয্যায়ের দিকনির্দেশনার ফসল।মানবতার নেত্রী চরম ধৈয্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়ে আগে চিকিৎসাকে প্রাধান্য দিলেন।
এতবড় ঘটনার পর ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতো দুরের কথা, কোন মামলাও করার চিন্তা করেননি।মামলার ফলাফল আশানুরুপ হবেনা ধারনা টি, নেত্রী ভুল করেননি পরবর্তিতে সাজানো তদন্ত ও জর্জমিয়া নাটক থেকেই তা প্রমানীত।খালেদা জিয়া,তারেক জিয়া,এবং স্ব্ররাষ্ট্র মন্ত্রী বাবর সরাসরী জড়িত ছিলেন,তা আরও স্পষ্ট করে যখন তত্বাবধায়ক সকার গঠন প্রশ্নে কার ও সাথে পরামর্শ ব্যতিরেকে, নীজ দলের প্রেসিডেন্টকে তত্বাবধায়ক প্রধান করে সাজানো নির্বাচন করার জন্য, একের পর এক নিলজ্জ পদক্ষেপ।যেকোন উপায় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে বিচারিক কায্যক্রম বাঞ্চালই ছিল প্রধান উদ্দেশ্য।২১শে আগষ্টের ঘটনার চরিত্রের দিকে তাকালে দেখতে পাওয়া যায়, দেশীয়ভাবে তিনটি পক্ষ হামলায় সরাসরী জড়িত ছিল।প্রথম পক্ষে সরকারের উধ্বতন মহল জড়িত ছিল, এটাতে কোন সন্দেহের অবকাশ এখন আর নেই।দ্বিতীয়ত সরকারের সেনাবাহিনীর একটা অংশ,মামলার তদন্তে তাঁর প্রমান পাওয়া যায়।,তৃতিয়ত জঙ্গিদের সম্পৃত্ততা, তাঁরা নিজেরাই স্বিকার উক্তি মুলক জবানবন্দি দিয়ে স্পষ্ট করেছে।এখন আছে শুধু বিদেশী কোন শক্তি জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা।বি,এন,পি সরকারীভাবে বিচার পতিদের সমন্বয়ে তদন্ত টিম গঠন করেছিলেন।বিচারপতি জয়নুল আবেদীন প্রধান সমন্বয়ক হয়ে একটা রিপোর্টও দিয়েছিলেন। পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল বাংলাদেশের কোন একটা বন্ধু রাষ্ট্র সরাসরি জড়িত ছিল।সেই রিপোর্ট ও অত্যাবদি আলোরমুখ দেখেনি। তিনি কিসের ভিত্তিতে বিদেশি রাষ্ট্রের সম্পৃত্ততা পেয়েছিলেন এখন ও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়।উক্ত ঘটনার সার্বিক দিক জাতিকে জানানো একান্ত প্রয়োজন।জননেত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনাকে ছোট বড় ১৯ বার জীবন হানি ঘটানোর চেষ্টা হয়েছিল।তম্মধ্যে ১৯৮১ ইং সালের ১১ই সেপ্টেম্ভর চট্রগ্রামের লালদীঘি ময়দানে পুলিশ ও বি,ডি,আরের যৌথ ব্রাস ফায়ারে হত্যার চেষ্টা ও একটা বড় ধরনের কিলিং মিশন ছিল।সেই যাত্রায় জীবন রক্ষা পায় আল্লাহর অশেষ রহমতে।লক্ষ করলে সহজেই দেখা যায় আওয়ামী লীগকে ধ্বংশ করার উদ্দেশ্যে যতবার হামলা হয়েছে তদ্রুপ অন্য কোন দলের উপর বা নেতাদের উপর তাঁর ছিটেফোঁটাও হয়নি।একমাত্র জাতির জনকের পরিবার এবং আওয়ামী লীগের নেতারাই হত্যার শিকার হচ্ছেন,অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিচ্ছেন।ইহার কারন বের করতে এখন আর বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই।বিশ্বে প্রায় রাষ্ট্রে মাঝে মধ্যেই রাজনৈতিক হত্যার খবর পাওয়া যায়,এই রুপ দল বা পরিবার শুন্য করে দেয়ার জন্য হামলা হয়েছে তাঁর নজির পাওয়া যায় না।একমাত্র জাতির জনকের পরিবার এবং তাঁর নীজ হাতে প্রতিষ্ঠিত দল আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব সমুলে বিনাস করার জন্য যে চেষ্টা স্বাধীনতার পর থেকে অদ্যাবদি অব্যাহত রয়েছে।তাঁর পর ও বর্তমান সরকার দুইমেয়াদে ক্ষমতা উপভোগ করতে পারলেও ২১শে আগষ্টের চাঞ্চল্যকর,নজির বিহীন বর্বতা,গনহত্যার মত মানবতা বিরুধি অপরাধের মামলাটি ১১ বছরেও বিচারিক পয্যায় যায়নি।
১৯৭৫ সালে তারিখ হিসেবে ১৫ আগস্ট এবং ২০০৪ সালে মাস হিসেবে আগস্টের মিলটাও লক্ষণীয়। ১৫ আগস্টের মতোই ২১ আগস্টের ঘটনাটিও ছিল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার চেষ্টা।
আমাদের প্রচলিত অপরাধে বিচার ব্যবস্থা যে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে, তার উদাহরণ হলো ৩০ লাখ মামলা জমে যাওয়ার পরেও রাষ্ট্রযন্ত্র নির্বিকার থাকতে পারছে। আমজনতা আদালত ব্যবস্থা থেকে সহজে কোনো প্রতিকার পায় না। তদুপরি এখনো এই ধারা মোটামুটি ক্রিয়াশীল যে, রাষ্ট্রপক্ষ সক্রিয় হলে এই মামলাজটের বিচার ব্যবস্থার ভেতর দিয়েও প্রতিকার ত্বরান্বিত করা সম্ভব। সামারি ট্রায়াল না করে সাধারণ আদালতে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সমাপ্তি তার একটি বড় দৃষ্টান্ত। এখন প্রশ্ন হলো, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ১১ বছর পূর্তিতে মামলার অগ্রগতি এতটা মন্থর কেন??
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেডটি যদি ট্রাকে পড়ত, তাহলে এটা শেখ হাসিনাসহ বিপুলসংখ্যক জাতীয় নেতার প্রাণ কেড়ে নিত। এটা হতে পারত পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে ঘটে যাওয়া দ্বিতীয় বর্বরতম হত্যাকাণ্ড। সুতরাং গুরুত্বের বিচারে এই মামলাটির অহেতুক দীর্ঘসূত্রতা জাতি হিসেবে আমাদের কাণ্ডজ্ঞান, দায়িত্ববোধ ও সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
গ্রেনেড হামলার পরে বিএনপি দুই বছর ক্ষমতায় ছিল। তারা বিচার শুরু দূরে থাক, সুষ্ঠু তদন্তই শেষ করতে পারেনি। আমরা অনুমান করতে পারি যে কেন আওয়ামী লীগ বিচার চায়নি। তারা ধরে নিয়েছিল যে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থেকে যে বিচার করবে, তা বিচারের নামে প্রহসনই হবে। তারা কেবল আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি তুলেছিল। ২১ আগস্ট ২০০৬ প্রথম আলোতে ‘বিচারের আশা করেন না হতাহতদের স্বজনেরা’ শিরোনামে এক প্রতিবেদন ছাপা হয়। এতে বলা হয়, আহত ও নিহতদের স্বজনদের একটাই চাওয়া, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।বর্তমান হত্যাকারীদের মদদ দাতা সরকারের কাছে তাঁদের প্রত্যাশা নেই। ঘটনার দুই দিন পর আতাউস সামাদ ‘এরপর আর বাকি থাকল কী’ শিরোনামে প্রথম আলোর প্রথম পাতায় একটি মন্তব্য প্রতিবেদন লিখেছিলেন। সেখানেও তিনি বিচারের প্রসঙ্গ টানেননি। বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া বিচ্ছিন্নভাবে একটি মন্তব্য করেছিলেন যে, সরকার বোমাবাজদের শনাক্ত করে ‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’ দিতে বদ্ধপরিকর। "।প্রয়াত নেতার ঘোষনা পত্রিকা এবং তার মুখেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেল।জাতী পরবর্তিতে দেখলো,কোন এক অজ্ঞাত নামা যুবক,খেটে খাওয়া দিনমুজুরকে ঘটনার প্রধান করে, সাজানো জবান বন্দি নেয়া হচ্ছে,তাঁকে জেলে বন্দি রেখে তাঁর পরিবারকে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে মাসে মাসে খরপোষ দেয়া হচ্ছে।এহেন তামাশা অতিতে কোন দেশে হয়েছে কিনা কেহই বলতে পারবে না।এই এক ঐতিহাসিক তামাশা বলা যেতে পারে।
আগেই উল্লেখ করেছি ত্রিধারার সংযোগে বার বার আওয়ামী লীগের উপর নেমে আসে ঘোর অমানিষা।আওয়ামী লীগই একমাত্র সংগঠন,প্রগতির ধারায় এখনও নীজেদের সম্পৃত্ত রেখে দেশ ও জনগনের ভাগ্য উন্নয়নের চেষ্টা অব্যাহত রেখে অবিচল নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে।ক্ষমতা পাওয়ার চাইতে জনগনকে সাথে রেখে প্রগতির ধারা অব্যাহত ভাবে সামনে এগিয়ে নেয়াকে কর্তব্য মনে করে।আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান এইডস জাতিকে স্বাধীন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য, বিশ্ব দরনবারে বাংলাদেশ নামক একটি দেশ আছে তা প্রতিষ্ঠার জন্য,বাঙালী বীরের জাতি তা প্রমানের জন্য,আজিবন সংগ্রাম করে গেছেন।কোন লোভ লালসা, রক্তচক্ষুকে ভয় করেননি।ইচ্ছা করলে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রধান মন্ত্রী একাধিক বার হতে পারতেন,তিনি পাকিস্তানের প্রধান মন্ত্রীর লোভ করেননি,তিনি চেয়েছেন বাঙ্গালীর মুক্তি,বাংলাদেশের স্বাধীনতা।সেই দলের উত্তরসুরী বর্তমান আওয়ামী লীগ ও ক্ষমতা পাওয়ার জন্য অদ্যাবদি কোন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন শুনা যায়নি,নিয়মাতান্ত্রিক ভাবে রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে।জনগন যখন চায়,তখন সরকার গঠন করে,জনগন যখন চায় না, তখন বিরুদি দলের ভুমিকা পালন অব্যাহত রাখে।
প্রশ্ন হচ্ছে গত দুইবার একটানা সরকার গঠন করেও বোমা হামলার বিচার ত্ব্রারান্বিত করার জন্য সকারী ভাবে কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছেনা কেন?ইচ্ছা করলে আর ও দ্রুতগতিতে মামলার বিচার কি করা যায়না?জনমনে নানাহ প্রশ্ন ইতিমধ্যেই উঁকি ঝুঁকি দিতে শুরু করেছে।আইনের শাষন প্রতিষ্ঠার জন্য স্বাধীনতার পর দ্বিতীয় বৃহত্তম মানবতা বিরুদি এই হত্যা কান্ডের বিচার দ্রুত করার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।নচেৎ বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে বিশ্বদরবারে প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক হয়ে দেখা দিতে পারে।
" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু
জয়তু দেশরত্ম শেখ হাসিনা"
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন