যারা বলে আওয়ামী লীগই বঙ্গবন্ধুকে সার্বজনীন হতে দেয়নি তাঁরাই বর্ণচোরা। ========================= আগষ্ট মাস প্রায় শেষ পয্যায়।আর মাত্র কয় দিন পরই চল্লিশ দিনের জাতিয় শোক দিবসে কর্মসুচি ইতি ঘটবে।এবারের শোক দিবস বিভিন্ন দিক থেকে ইতি বাচক কিছু দিকের যেমন প্রস্ফুটিত হয়েছে আবার কিছু নেতিবাচক বাড়াবাড়ি ও লক্ষ করা গেছে।সর্বিক বিবেচনায় আমি মনে করি ইতিবাচক ঘটনাবলীর চাপায় নেতিবাচক ঘটনাবলী জনসম্মুখ থেকে হারিয়ে গেছে।এই বছরের শোক দিবসের সব ইতিবাচক-নেতিবাচক ঘটনার মুল্যায়ন পুর্বক আগামী বছরের শোক দিবসের কর্মসুচি প্রনয়ন করা নৈতিক ভাবেই সরকারের উচিৎ হবে বলে আমি মনে করি। আজ স্বাধীনতার ঘোষনা নিয়ে অনেকে বিতর্ক করার চেষ্টা করেন।৭ই মার্চের ভাষন তারা ভাল করে না শুনে বিতর্ক করার চেষ্টা করেন।মেজর জিয়া নিজেই যেখানে তাঁর বিচিত্রায় দেয়া নিবন্ধে লিখেছেন,বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষনেই বাঙ্গালী অফিসারেরা স্বাধীনতার গ্রীন সিগনাল পেয়ে গিয়েছিলাম।পাকিস্তান পুর্ববাংলা আক্রমন করে ন্যায্য দাবী ধুলিসাৎ করার জন্য আলোচনার নামে সময় ক্ষেপন করছেন তা কি বঙ্গবন্ধু বুঝতে পারেননি?না পারলে তিনি কেন বলবেন,"তোমাদের যা কিছু আছে,তা নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে"।তিনি থাকবেন না,বা কারাগারে দেয়া হবে ,তাও তিনি বুঝতে পেরেছিলেন,তাইতো সেই দিনই বলে দিলেন,"আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি।"তাঁর পর ও জ্ঞান পাপিরা বিতর্কে লিপ্ত হতে সামান্যতম দ্বিধাবোধ করেন না।তাঁরাই আবার অনেকে এখন দেখা যায় বঙ্গবন্ধু পয্যন্ত বলা শুরু করেছে।আশা করা যায় আগামী বছরের মধ্যে জাতির জনক ও বলা শুরু করতে পারে। দেশকে, দেশের মানুষকে যতখানি ভালোবাসা যায়, তার চেয়েও হয়তো বেশিই ভালোবেসেছিলেন বঙ্গবন্ধু। অথচ, জাতি তার প্রতিদান দিল নির্মমভাবে তাকে হত্যা করে! বাঙালি জাতির তো বটেই গোটা বিশ্বের ইতিহাসে এর চেয়ে জঘন্য, কলঙ্কজনক হত্যাকাণ্ড আর ঘটেছে বলে আমার মনে হয় না। ঘৃণ্য সেই ষঢ়যন্ত্রের এত বছর পর আজ আমার মনে হয়, ঘাতকরা আসলে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, বঙ্গবন্ধু কেবল একজন ব্যক্তি ছিলেন না। দেশ-কাল-সময়ের সীমানা পেরিয়ে তিনি যেন কিংবদন্তির এক মহানায়ক। আপনি ব্যক্তিকে হত্যা করতে পারেন। কিন্তু আদর্শকে? কখনো নয়। জাতীর জনকের, অসিম সাহস, দৃড়চেতা মনোবল ,দূরদৃষ্টি সম্পন্ন, তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা, প্রখর জ্ঞান, সমস্যা মোকাবেলা করার অভাবনীয় মনোবল, মাটি ও মানুষের প্রতি অসিম ভাল বাসা ,বাঙ্গালি জাতীয়তার প্রতি আস্হা ও বিশ্বাস,ধর্ম বর্ণ, ছোট বড় সব মানুষের প্রতি গভীর ভালবাসা ছিল বলেই টুঙ্গীপাড়ার দামাল ছেলে "খোকা "ক্রমান্বয়ে কলকাতা রেসিডেনসিয়ালের শেখ মুজিবর রহমান,ছাত্র জনতার বঙ্গবন্ধু,সর্বশেষ মহান মুক্তিযোদ্ধের মহা নায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রষ্ঠ বাঙ্গালী, বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান হতে পেরে ছিলেন।যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন জ্বল জ্বল করে জ্বলবে প্রতিটি বাঙ্গালীর হৃদয়ের মানসপটে। ৭৫ পরবর্তি আওয়ামী লীগের দুরদর্শি নেতারা বুঝতে পেরেছিলেন,জীবিত বঙ্গবন্ধুর চাইতে মৃত বঙ্গবন্ধুকে যত বেশী আন্দোলন সংগ্রামের প্রেরনায় ফিরিয়ে আনা যাবে তত বেশী আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ফেরার পথ প্রসস্থ হবে। ইতিমধ্যে অনেকে বলে বেড়ান,বঙ্গবন্ধুকে আওয়ামী লীগই সার্বজনীন হতে দেয় নাই।আওয়ামী লীগের একক দখলে থাকার কারনে বঙ্গবন্ধু সার্বজনীন হতে পারেনি।এরাই আসলে বর্নচোরা।৭৫থেকে '৯১ইং পয্যন্ত অঘোশিত ভাবে সরকারী সকল অনুষ্ঠানে তখন তাঁরা একবার ও বলেন নাই, বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রীয় পয্যায় অবহেলা করা হচ্ছে।'৭৫ এর পর আওয়ামী লীগ স্বল্প পরিসরে যদি অন্তরে ধরে না রাখতেন, তাহলে আজকে স্বমহিমায় ফিরে আসতো কিভাবে।ফিরে এসেছে বলেই আজ সর্বমহল থেকে দাবী উঠেছে সার্বজনীন করার। বঙ্গবন্ধু আসলে কতবড় মাপের নেতা সেটা সর্ব প্রথম বুঝতেই পারেনি, দলের নেতাকর্মীরা।বিশ্ববরেন্য ব্যাক্তি,বিশ্বের স্বাধীনতা কামী নিপিড়িত মানুষের যখন বনঙ্গবন্ধুকে স্বরন করে বই লিখা শুরু করেছেন,আন্দোলনের শ্লোগানের প্রেরনায় দিক্নির্দেশনায় নিয়ে এসেছেন তখননি কেবল বুঝা গেল বঙ্গবন্ধু আসলে কে ছিলেন,তাঁর আদর্শই বা কি ছিল।বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরেও আওয়ামী লীগের নেতারা তাঁর উদ্ভাবীত বাকশাল সম্পর্কে কোন চিন্তা বা গভেষনাও করেন নাই।বিদেশীরা ঠীকই গভেষনা করে প্রমান করেছেন, মুলতই বঙ্গবন্ধু শোষিত নীপিড়িত মানুষেরই নেতা।আদর্শবাদী নেতা।সামাজতান্ত্রীক দুনিয়ায় যদি সামাজতন্ত্রের ধ্বস না নামতো,রাশিয়ার ক্ষমতায় ব্রেজনেব,সংস্কার প্রক্রিয়া সাধনের নামে পুঁজি বাদের ধারনাকে প্রাধান্য না দিতেন,আমি বিশ্বাশ করি লেলিন,মাও সেতুং এর নামের পাশে বাংলা দেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হতেন, আধুনিক ধ্যান ধারনা সম্পন্ন,ধর্মীয় মুল্যবোধ সম্পন্ন,বিজ্ঞানের আধুনীক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের প্রবক্তা।ধর্ম কর্ম করেও সমাজতন্ত্র এর ধ্যান ধারনা পোষন করা যায়, তাই বঙ্গবন্ধু নির্দেশনা দিয়ে গেছেন।আমরা গভেষনা করে তথ্য উৎঘাটন করতে পারিনি,বিদেশীরা পেরেছে।১৬ই আগষ্ট বি,বি,সি, সংবাদ মাধ্যমে যেই ভাবে বঙ্গবন্ধুকে, তাঁর দর্শনকে মুল্যায়ন করেছিল, তাঁর আশেপাশেও আমাদের দেশের গভেষকেরা পা মাড়াননি।বিদেশীদের মুল্যায়নের পর আমাদের দেশেও ইদানিং অনেকের চিন্তাচেতনায় বঙ্গবন্ধুকে পিরিয়ে আনার চেষ্টায় আছেন।তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ শুরু করেছেন।কোন কোন ইতিহাসবিদ বিখ্যাত হওয়ার স্বপ্নেও বিভোর হয়ে আছেন,কখন তথ্য বহুল বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস রচনা করে জাতির মনিকোঠায় স্থান নিতে পারেন। মৃত্যুর এত বছর পর এসে আবার মনে হচ্ছে- জীবিত মুজিবের চাইতে মৃত মুজিব অনেক বেশি শক্তিশালী ও ব্যাপক। '৭৫ পরবর্তীতে আমাদের প্রত্যয় ছিল মৃত মুজিবই বেশি শক্তিমান হবেন ইতিহাসের পাতায়। আজকে দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি- মৃত মুজিবকে এক শ্রেণীর আওয়ামী লীগ নেতারা ভাগ্য গড়ার দৃষ্টিতে অবলোকন করা শুরু করেছেন।তাঁদের বেশির ভাগ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে আমবশ্যার চাঁদ হয়ে যান।আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে এমন ভাব প্রদর্শন করেন যেন,বঙ্গবন্ধু দেবতার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও পুঁজনীয় । এটা যে নেতার প্রতি কতবড় অসম্মানের ব্যাপার তা বোঝার মতো জ্ঞান বুদ্ধিও এক শ্রেণীর মানুষের লোপ পেয়েছে। লোভী,ধান্ধাবাজ,কপট,ব্যক্তি ও সংগঠনের মুজিব চরিত্র হননের হাত থেকে রক্ষা পেতে কিছু সুনির্দিষ্ট কাজ করা দরকার আমি মনে করি। (ক) স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নিয়ে জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান এখনি প্রয়োজন। যার সরাসরি তত্ত্বাবধান করবে আওয়ামী লীগ বা যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখন সেই দল বা সরকার। (খ)বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক লেখার একটি জাতীয় লেখক প্যানেল তৈরি করার সময় হয়ে গেছে।বঙ্গবন্ধুর নানাহ দিক নিয়ে লিখা বই, রচনা, প্রবন্ধ ইত্যাদি লেখার পর রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে তা প্রকাশের ব্যবস্থা করতে হবে। (গ) স্বনামধন্য বঙ্গবন্ধুর অনুরক্ত ইতিহাসবিদদের নিয়ে একটা জাতীয় কমিশন গঠন করতে হবে, যারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে মূল্যবান উন্নতমানের ইতিহাস পুস্তক রচনা করবে। (ঘ)আগামী ১৫ আগষ্ট আসার কমপক্ষে তিনমাস আগে শোক দিবস পালনের সুনির্দিষ্ট নীতি মালা সরকারী ভাবে ঘোষনা করার ব্যবস্থা করতে হবে। (ঙ) সর্বোপরি শোক দিবসসহ অন্যান্ন দিবস সমুহের পালনের জন্য একটি নীতিমালা সরকারী ভাবে তৈরি করে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে আইনে রুপ দেয়া যায় কিনা ভেবে দেখার এখনি সময়। (চ)সকল জাতীয় দিবস রাষ্ট্রীয় অনুকুল্লে পালন করা যায় কিনা তাও ভেবে দেখা দরকার। সবকিছু একটা নিয়মতান্ত্রিক পথে পরিচালিত করতে পারলেই বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসার মৌলিকত্ব আসতে বাধ্য হত। নিয়মের মধ্যে না এনে, নেতারা দায়িত্ব পালন না করে বঙ্গবন্ধুকে এখন হাটবাজারে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ফলে এখন কেউ মিষ্টির প্যাকেটে বঙ্গবন্ধুকে ব্যবহার করছে, কেউবা আত্মপ্রচারে ব্যবহার করছে। ভবিষ্যতে যদি অশ্লীল আরও কোন স্থানে তার ছবি ব্যবহার করা হয় তাতেও আশ্চর্যের কিছু থাকবে না। আগস্ট মাস শেষ হচ্ছে। পরের মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শোক দিবসের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। লেখার বিষয় তাই শোক পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলাম। ব্যতিক্রম শুধু- মহান নেতার এই মহাপ্রয়াণ দিবস পালনে যেসব বিচ্যুতি-ভ্রান্তি ও ক্ষতিকর বিষয় সে সম্পর্কেই কিঞ্চিৎ আলোকপাত। এখনও সময় আছে, যদি আমরা বঙ্গবন্ধুকে যথার্থ ভালোবাসি তাহলে তাকে খন্ডিত, বিকৃত, ব্যবসা, ভাগ্য গড়ার হাতিয়ার না বানিয়ে প্রকৃত সার্বজনীন সমাদরে আকৃষ্ট ও সমুজ্জল করে তোলার মহাপরিকল্পনা নিতে হবে দূরদর্শী দেশরত্ম জননেত্রী শেখ হাসিনাকে। ""জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা।"

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg