সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
যারা বলে আওয়ামী লীগই বঙ্গবন্ধুকে সার্বজনীন হতে দেয়নি তাঁরাই বর্ণচোরা।
=========================
আগষ্ট মাস প্রায় শেষ পয্যায়।আর মাত্র কয় দিন পরই চল্লিশ দিনের জাতিয় শোক দিবসে কর্মসুচি ইতি ঘটবে।এবারের শোক দিবস বিভিন্ন দিক থেকে ইতি বাচক কিছু দিকের যেমন প্রস্ফুটিত হয়েছে আবার কিছু নেতিবাচক বাড়াবাড়ি ও লক্ষ করা গেছে।সর্বিক বিবেচনায় আমি মনে করি ইতিবাচক ঘটনাবলীর চাপায় নেতিবাচক ঘটনাবলী জনসম্মুখ থেকে হারিয়ে গেছে।এই বছরের শোক দিবসের সব ইতিবাচক-নেতিবাচক ঘটনার মুল্যায়ন পুর্বক আগামী বছরের শোক দিবসের কর্মসুচি প্রনয়ন করা নৈতিক ভাবেই সরকারের উচিৎ হবে বলে আমি মনে করি।
আজ স্বাধীনতার ঘোষনা নিয়ে অনেকে বিতর্ক করার চেষ্টা করেন।৭ই মার্চের ভাষন তারা ভাল করে না শুনে বিতর্ক করার চেষ্টা করেন।মেজর জিয়া নিজেই যেখানে তাঁর বিচিত্রায় দেয়া নিবন্ধে লিখেছেন,বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষনেই বাঙ্গালী অফিসারেরা স্বাধীনতার গ্রীন সিগনাল পেয়ে গিয়েছিলাম।পাকিস্তান পুর্ববাংলা আক্রমন করে ন্যায্য দাবী ধুলিসাৎ করার জন্য আলোচনার নামে সময় ক্ষেপন করছেন তা কি বঙ্গবন্ধু বুঝতে পারেননি?না পারলে তিনি কেন বলবেন,"তোমাদের যা কিছু আছে,তা নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে"।তিনি থাকবেন না,বা কারাগারে দেয়া হবে ,তাও তিনি বুঝতে পেরেছিলেন,তাইতো সেই দিনই বলে দিলেন,"আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি।"তাঁর পর ও জ্ঞান পাপিরা বিতর্কে লিপ্ত হতে সামান্যতম দ্বিধাবোধ করেন না।তাঁরাই আবার অনেকে এখন দেখা যায় বঙ্গবন্ধু পয্যন্ত বলা শুরু করেছে।আশা করা যায় আগামী বছরের মধ্যে জাতির জনক ও বলা শুরু করতে পারে।
দেশকে, দেশের মানুষকে যতখানি ভালোবাসা যায়, তার চেয়েও হয়তো বেশিই ভালোবেসেছিলেন বঙ্গবন্ধু। অথচ, জাতি তার প্রতিদান দিল নির্মমভাবে তাকে হত্যা করে! বাঙালি জাতির তো বটেই গোটা বিশ্বের ইতিহাসে এর চেয়ে জঘন্য, কলঙ্কজনক হত্যাকাণ্ড আর ঘটেছে বলে আমার মনে হয় না।
ঘৃণ্য সেই ষঢ়যন্ত্রের এত বছর পর আজ আমার মনে হয়, ঘাতকরা আসলে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, বঙ্গবন্ধু কেবল একজন ব্যক্তি ছিলেন না। দেশ-কাল-সময়ের সীমানা পেরিয়ে তিনি যেন কিংবদন্তির এক মহানায়ক। আপনি ব্যক্তিকে হত্যা করতে পারেন। কিন্তু আদর্শকে? কখনো নয়।
জাতীর জনকের, অসিম সাহস, দৃড়চেতা মনোবল ,দূরদৃষ্টি সম্পন্ন, তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা, প্রখর জ্ঞান, সমস্যা মোকাবেলা করার অভাবনীয় মনোবল, মাটি ও মানুষের প্রতি অসিম ভাল বাসা ,বাঙ্গালি জাতীয়তার প্রতি আস্হা ও বিশ্বাস,ধর্ম বর্ণ, ছোট বড় সব মানুষের প্রতি গভীর ভালবাসা ছিল বলেই টুঙ্গীপাড়ার দামাল ছেলে "খোকা "ক্রমান্বয়ে কলকাতা রেসিডেনসিয়ালের শেখ মুজিবর রহমান,ছাত্র জনতার বঙ্গবন্ধু,সর্বশেষ মহান মুক্তিযোদ্ধের মহা নায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রষ্ঠ বাঙ্গালী, বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান হতে পেরে ছিলেন।যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন জ্বল জ্বল করে জ্বলবে প্রতিটি বাঙ্গালীর হৃদয়ের মানসপটে।
৭৫ পরবর্তি আওয়ামী লীগের দুরদর্শি নেতারা বুঝতে পেরেছিলেন,জীবিত বঙ্গবন্ধুর চাইতে মৃত বঙ্গবন্ধুকে যত বেশী আন্দোলন সংগ্রামের প্রেরনায় ফিরিয়ে আনা যাবে তত বেশী আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ফেরার পথ প্রসস্থ হবে।
ইতিমধ্যে অনেকে বলে বেড়ান,বঙ্গবন্ধুকে আওয়ামী লীগই সার্বজনীন হতে দেয় নাই।আওয়ামী লীগের একক দখলে থাকার কারনে বঙ্গবন্ধু সার্বজনীন হতে পারেনি।এরাই আসলে বর্নচোরা।৭৫থেকে '৯১ইং পয্যন্ত অঘোশিত ভাবে সরকারী সকল অনুষ্ঠানে তখন তাঁরা একবার ও বলেন নাই, বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রীয় পয্যায় অবহেলা করা হচ্ছে।'৭৫ এর পর আওয়ামী লীগ স্বল্প পরিসরে যদি অন্তরে ধরে না রাখতেন, তাহলে আজকে স্বমহিমায় ফিরে আসতো কিভাবে।ফিরে এসেছে বলেই আজ সর্বমহল থেকে দাবী উঠেছে সার্বজনীন করার।
বঙ্গবন্ধু আসলে কতবড় মাপের নেতা সেটা সর্ব প্রথম বুঝতেই পারেনি, দলের নেতাকর্মীরা।বিশ্ববরেন্য ব্যাক্তি,বিশ্বের স্বাধীনতা কামী নিপিড়িত মানুষের যখন বনঙ্গবন্ধুকে স্বরন করে বই লিখা শুরু করেছেন,আন্দোলনের শ্লোগানের প্রেরনায় দিক্নির্দেশনায় নিয়ে এসেছেন তখননি কেবল বুঝা গেল বঙ্গবন্ধু আসলে কে ছিলেন,তাঁর আদর্শই বা কি ছিল।বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরেও আওয়ামী লীগের নেতারা তাঁর উদ্ভাবীত বাকশাল সম্পর্কে কোন চিন্তা বা গভেষনাও করেন নাই।বিদেশীরা ঠীকই গভেষনা করে প্রমান করেছেন, মুলতই বঙ্গবন্ধু শোষিত নীপিড়িত মানুষেরই নেতা।আদর্শবাদী নেতা।সামাজতান্ত্রীক দুনিয়ায় যদি সামাজতন্ত্রের ধ্বস না নামতো,রাশিয়ার ক্ষমতায় ব্রেজনেব,সংস্কার প্রক্রিয়া সাধনের নামে পুঁজি বাদের ধারনাকে প্রাধান্য না দিতেন,আমি বিশ্বাশ করি লেলিন,মাও সেতুং এর নামের পাশে বাংলা দেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হতেন, আধুনিক ধ্যান ধারনা সম্পন্ন,ধর্মীয় মুল্যবোধ সম্পন্ন,বিজ্ঞানের আধুনীক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের প্রবক্তা।ধর্ম কর্ম করেও সমাজতন্ত্র এর ধ্যান ধারনা পোষন করা যায়, তাই বঙ্গবন্ধু নির্দেশনা দিয়ে গেছেন।আমরা গভেষনা করে তথ্য উৎঘাটন করতে পারিনি,বিদেশীরা পেরেছে।১৬ই আগষ্ট বি,বি,সি, সংবাদ মাধ্যমে যেই ভাবে বঙ্গবন্ধুকে, তাঁর দর্শনকে মুল্যায়ন করেছিল, তাঁর আশেপাশেও আমাদের দেশের গভেষকেরা পা মাড়াননি।বিদেশীদের মুল্যায়নের পর আমাদের দেশেও ইদানিং অনেকের চিন্তাচেতনায় বঙ্গবন্ধুকে পিরিয়ে আনার চেষ্টায় আছেন।তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ শুরু করেছেন।কোন কোন ইতিহাসবিদ বিখ্যাত হওয়ার স্বপ্নেও বিভোর হয়ে আছেন,কখন তথ্য বহুল বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস রচনা করে জাতির মনিকোঠায় স্থান নিতে পারেন।
মৃত্যুর এত বছর পর এসে আবার মনে হচ্ছে- জীবিত মুজিবের চাইতে মৃত মুজিব অনেক বেশি শক্তিশালী ও ব্যাপক। '৭৫ পরবর্তীতে আমাদের প্রত্যয় ছিল মৃত মুজিবই বেশি শক্তিমান হবেন ইতিহাসের পাতায়। আজকে দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি- মৃত মুজিবকে এক শ্রেণীর আওয়ামী লীগ নেতারা ভাগ্য গড়ার দৃষ্টিতে অবলোকন করা শুরু করেছেন।তাঁদের বেশির ভাগ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে আমবশ্যার চাঁদ হয়ে যান।আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে এমন ভাব প্রদর্শন করেন যেন,বঙ্গবন্ধু দেবতার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও পুঁজনীয় । এটা যে নেতার প্রতি কতবড় অসম্মানের ব্যাপার তা বোঝার মতো জ্ঞান বুদ্ধিও এক শ্রেণীর মানুষের লোপ পেয়েছে। লোভী,ধান্ধাবাজ,কপট,ব্যক্তি ও সংগঠনের মুজিব চরিত্র হননের হাত থেকে রক্ষা পেতে কিছু সুনির্দিষ্ট কাজ করা দরকার আমি মনে করি।
(ক) স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নিয়ে জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান এখনি প্রয়োজন। যার সরাসরি তত্ত্বাবধান করবে আওয়ামী লীগ বা যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখন সেই দল বা সরকার।
(খ)বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক লেখার একটি জাতীয় লেখক প্যানেল তৈরি করার সময় হয়ে গেছে।বঙ্গবন্ধুর নানাহ দিক নিয়ে লিখা বই, রচনা, প্রবন্ধ ইত্যাদি লেখার পর রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে তা প্রকাশের ব্যবস্থা করতে হবে।
(গ) স্বনামধন্য বঙ্গবন্ধুর অনুরক্ত ইতিহাসবিদদের নিয়ে একটা জাতীয় কমিশন গঠন করতে হবে, যারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে মূল্যবান উন্নতমানের ইতিহাস পুস্তক রচনা করবে।
(ঘ)আগামী ১৫ আগষ্ট আসার কমপক্ষে তিনমাস আগে শোক দিবস পালনের সুনির্দিষ্ট নীতি মালা সরকারী ভাবে ঘোষনা করার ব্যবস্থা করতে হবে।
(ঙ) সর্বোপরি শোক দিবসসহ অন্যান্ন দিবস সমুহের পালনের জন্য একটি নীতিমালা সরকারী ভাবে তৈরি করে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে আইনে রুপ দেয়া যায় কিনা ভেবে দেখার এখনি সময়।
(চ)সকল জাতীয় দিবস রাষ্ট্রীয় অনুকুল্লে পালন করা যায় কিনা তাও ভেবে দেখা দরকার। সবকিছু একটা নিয়মতান্ত্রিক পথে পরিচালিত করতে পারলেই বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসার মৌলিকত্ব আসতে বাধ্য হত।
নিয়মের মধ্যে না এনে, নেতারা দায়িত্ব পালন না করে বঙ্গবন্ধুকে এখন হাটবাজারে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ফলে এখন কেউ মিষ্টির প্যাকেটে বঙ্গবন্ধুকে ব্যবহার করছে, কেউবা আত্মপ্রচারে ব্যবহার করছে। ভবিষ্যতে যদি অশ্লীল আরও কোন স্থানে তার ছবি ব্যবহার করা হয় তাতেও আশ্চর্যের কিছু থাকবে না।
আগস্ট মাস শেষ হচ্ছে। পরের মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শোক দিবসের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। লেখার বিষয় তাই শোক পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলাম। ব্যতিক্রম শুধু- মহান নেতার এই মহাপ্রয়াণ দিবস পালনে যেসব বিচ্যুতি-ভ্রান্তি ও ক্ষতিকর বিষয় সে সম্পর্কেই কিঞ্চিৎ আলোকপাত। এখনও সময় আছে, যদি আমরা বঙ্গবন্ধুকে যথার্থ ভালোবাসি তাহলে তাকে খন্ডিত, বিকৃত, ব্যবসা, ভাগ্য গড়ার হাতিয়ার না বানিয়ে প্রকৃত সার্বজনীন সমাদরে আকৃষ্ট ও সমুজ্জল করে তোলার মহাপরিকল্পনা নিতে হবে দূরদর্শী দেশরত্ম জননেত্রী শেখ হাসিনাকে।
""জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু
জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা।"
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন