সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
শোকের মাস আগষ্ট।বাঙ্গালি তাঁর বাঙ্গালিত্বের ইতিহাসে চরম সত্যকে বুকে ধারন করে অনন্তকাল বয়ে বেড়াতে হবে।মাহভারতে বাঙালীর উপস্থিতি ছিল আবহমানকাল থেকেই, কিন্তু স্বাতন্ত্রতা ছিল না।স্বাধীনতা ছিল না,ছিল না কোন সার্বভৌম রাষ্ট্র।তিলে তিলে নিজের এবং পরিবারের জীবন বিপন্ন করে, যে বাঙ্গালী সব কিছুই এনে দিলেন,তাঁকেই হত্যা করা হল, তাঁরই সৃষ্ট বাংলাদেশে।তাই আগষ্ট মাস এলে জাতি শোক পালনের পাশাপাশি তাঁর জীবনের উল্লেখ্যোগ্য ঘটনাবলী নিয়ে আলোচনায় মেতে উঠেন।স্বরন করেন প্রত্যেক নাগরিক,তবে বিশ্লেষনে পার্থক্য আছে বিস্তর।
অনেকেই বলতে শুনা যায়,বা লেখনীতে প্রকাশ করেন,'৭৫ইং সালে একদলিয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার জন্য বা গনতন্ত্র হত্যা করার জন্য @১৫ই আগষ্টের নির্মম হত্যাযজ্ঞটি সংগটিত হয়েছিল।আমি মনে করি তাঁরা হয় না জেনে বলছেন, নয় তারা ভাল করে জানেন বিধায় বংগ বন্ধুর মহত্বকে খাট করে উপস্থাপন করার হীনমন মানষিকতায় ভোগার কারনেই কথাটা বলেন।বাকশাল প্রতিষ্ঠার ঘোষনা দেয়ার এক বছর আগে বংগ বন্ধুকে হত্যা করার চেষ্টা হয়েছিল,তখন কেন হত্যা করার চেষ্টাটি হল?দু::খ্যজনক হলেও সত্য যে, তারাই বলার চেষ্টা করেন বাকশাল একদলিয় শাষন,একনেতার শাষন।তারাই বলেন গনতন্ত্র হত্যা করা হয়েছিল বাকশালের মাধ্যমে।এই প্রসংগে তাঁরা সংবিধানের অন্যতম ভিত্তি গনতন্ত্রের কথাটা উল্লেখ করতে চান।
জ্ঞানপাপিরা গনতন্ত্রের উল্লেখ সংবিধানে ঠিকই দেখেন,গনতন্ত্রের সাথে সমাজতন্ত্র এবং এই দুইয়ের সংজ্ঞায় কি সুনির্দিষ্ট আছে বেমালুম দেখেন না।
চিরন্তন সত্য হচ্ছে বঙ্গবন্ধু একদিনের জন্য ও সংবিধানের বাহিরে গিয়ে দেশ শাষন করেননি।কোন অবস্থায় বাকশাল একদলীয় শাষন ছিল না।একনেতার শাষনও ছিল না।বাকশাল ছিল সব রাজনৈতিক দল,পেশাজীবির, রাজনীতিবিদের সম্বনয়ে গঠিত জাতিয় উন্নয়নের জন্য সংবিধান স্বিকৃত জাতীয় দল।
বাকশালের উদ্দেশ্য ছিল সংবিধান স্বিকৃত, মুক্তিযুদ্ধের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিক,যে কারনে যে স্বপ্ন নিয়ে আপামর জনগন ১৯৭১সালে মুক্তি যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল,শোষন মুক্ত, ধর্মনিরপেক্ষ,গনতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা,তাঁরই বাস্তব রুপায়ন হচ্ছে "বাকশাল"।
আমি নিবিড়ভাবে পয্যবেক্ষন করে দেখেছি,আওয়ামী লীগের বহু বড় বড় নেতাদের আলোচনায় অংশ নিয়েছি,আওয়ামীঘেষা বহু বুধিজীবির লিখা পড়ে দেখেছি,বিরুদিরা এনিয়ে বিনিয়ে আওয়ামী লীগের শাষনে যে দুষ বড় করে দেখাতে চান "বাকশাল" এই বুঝি হয়ে গেল,তুলনা মুলক আওয়ামী নেতারা বাকশালের মহত্ত প্রচার ও প্রসারে বা লেখালেখি বিরুদিদের তুলনায় একেবারে নগন্য বলা চলে।এই বাকশালেই জাতির জনকের সকল মহত্ত নিহিত।একতরফা প্রচারের কারনে জনমনে হয়ত বাকশাল সম্পর্কে প্রচুর বিভ্রান্তি তাঁরা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে,তবে বর্তমানের শিক্ষিত জনগোষ্টির সামনে যদি ইতিবাচক ভাবে বাকশালের তখনকার সময়ের পরিবেশ পরিস্থিতি তুলে ধরা যায়,, বঙ্গবন্ধুর জীবনের একটি গুরুত্ব পূর্ণ অংশ সম্পর্কে নতুন প্রজর্মের বহু ভুল ধারনার অবসান হত বলে আমার বিশ্বাশ।তাছাড়াও জাতীয় দল গঠনের ধারনা নতুন কোন আবিস্কার নয়,বিশ্বের দেশে দেশে সংকটে রাজনৈতিক ভাবে এই প্রকৃতির সরকার গঠনের উদ্যোগ সব সময়ে সব কালেই দেখা যায়।বঙ্গবন্ধু ও একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে বাকশাল যে একটি সাময়িক রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যবস্থা তাঁর উল্লেখ করেছেন।
বর্তমানের গনতন্ত্রের যে চর্চা অনুশীলন করা হচ্ছে এই গনতন্ত্র পশ্চিমা ইহুদীদের গনতন্ত্র।ইসলামে এই গনতন্ত্রের কোন স্থান নেই।খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়ে যে গনতন্ত্রের চর্চা করে ইসলামের সৌন্দয্য, সকল জাতির নিকট উপস্থাপন করে ইসলাম প্রচার ও প্রসার করেছিলেন,বাকশালের গনতন্ত্রের রুপরেখা সেই আদলেই সৃজন করে,বাংলাদেশের স্বাধিনতার স্বাদ প্রত্যেক নাগরীকের ঘরে ঘরে পৌছে দেয়ার লক্ষে বঙ্গবন্ধু বাকশাল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।আর ও সহজ ভাবে বলতে পারি, আমাদের দেশের বর্তমানে ও বিদ্যমান সমবায় সমিতি গুলি যে রুপ রেখায় পরিচালিত হয়ে, সমিতি ভুক্ত সদস্যদের জীবন মান উন্নয়ন করতে পেরেছে সেই একই ধারায় বাকশালকে একটি বৃহত্তর সমিতি আকারে চিন্তা করলেও ভুল হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।সমবায় সমিতির নির্বাচনে যদি গনতন্ত্রের বেয়াঘাত ঘটে থাকে তাহলে ধরে নিতে পারি বাকশাল নির্বাচনেও গনতন্ত্রের ব্যাঘাত সৃষ্টি হত।
বিরুদিদের ভয়ের কারন বাকশাল নয়,অন্যকোন জায়গায়।বাকশাল মতবাদে দেশ পরিচালিত হলে স্বাধীনতার বিরুদিতাকারি রাজাকারের রাজনৈতিক অধিকার থাকে না।কথায় কথায় নাস্তিক বলতে দ্বিধা করে না,অথছ ইসলামে যে গনতন্ত্রের সমর্থন করে না সেই গনতন্ত্রের চর্চায় নিজেদের নিমগ্ন রাখে,নাস্তিক কে তা যারা বলেন তাদেরকেই বিচার করার আহব্বান জানাই।
প্রথম জীবনে রাজনীতিতে ভুল করেননি জাতির জনক।নিখিল ভারত মুস্লিম লীগের ছাত্র রাজনীতি করার সময়ে পাকিস্থান সৃশটিতে গুরুত্ব পূর্ণ ভুমিকা রেখেছিলেন। ১৯৪০সালের লাহোর প্রস্তাবের ৩নং ধারায় পরিষ্কার উল্লেখ ছিল,ভারতবর্ষকে এমন ভাবে ভাগ করতে হবে,উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলে একাধিক মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা সমুহে,একাধিক স্বতন্ত্র স্বাধীন রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে।এই ধারাটিকে বাস্তবে রুপ দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু ছাত্র থাকা অবস্থায় পাকিস্থান সৃষ্টির পক্ষে জোরালো ভুমিকা রেখে ছিলেন।তাঁর সমসাময়িক নেতা কাস্মিরের শেখ আব্দুল্ল্যা কংগ্রেসের পক্ষে থাকায় স্বাধীনতাতো দুরের কথা,জীবনের সবচেয়ে মুল্যবান সময়টুকু তাঁরই বন্ধু নেহেরুর শাষন আমলেই জেলে কাটাতে হয়েছে স্বাধীনতা দাবি করায়।
১৯৪৫ ইং সালে দিল্লি কনভেনশনে কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ যদি উক্ত প্রস্তাব সংষোধন না করতেন তাহলে ১৯৪৭ ইং সালেই পুর্ববঙ্গ-পশ্চিমবঙ্গ মিলে একটি,অথবা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্রই সৃষ্ট্রি হত।জিন্নাহ পরবর্তিতে তাঁর ভুল বুঝতে পেরে মৃত্যুর আগে আফসোস ও করে গেছেন।তাঁর প্রমান পাওয়া যায় তাঁর ব্যাক্তিগত চিকিৎসক কর্নেল এলাহী বক্সের নিকট।বিশিষ্ট সাংবাদিক মোহাম্মদ মোদাব্বের করাচিতে সম্পাদকদের সম্মেলনে তা প্রকাশ করেন।(সাংবাদিকের রোজনামচা).।
ছাত্র মুজিব বাঙ্গালীর স্বাতন্ত্রতা বুঝতে তখন ভুল করেননি,পরিপক্ষ মুজিব দেশ গড়ায় ভুল করেছেন,যারা বলেন তাঁরা বোকা অথবা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধ
ি ছাড়া আর কিছুই নয়।নির্বাচিত সরকার উৎখাতের পাপ মোচন করার জন্য তাঁরা না হয় অপপ্রচার করেছেন,বর্তমানের লিখক বুদ্ধিজিবিরা কেন বঙ্গবন্ধুর জীবনের সবচেয়ে স্ব্রণালী সময়,আজীবনের লালিত স্বপ্ন,বঙ্গবন্ধুর মৌলিক রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে আলোকপাত করেন না, তা বোধগম্য নয়।যে আদর্শকে কায়েমি স্বার্থান্বেষি মহল এখনও তাঁদের গলার ফাঁস মনে করে ঘুমের ঘোরেও বলে উঠে,ঐ আসছে আসছে বাকশাল, পালাও পালাও।
জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু
জয় বঙ্গবন্ধু
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন