বিচার বর্হিভূত হত্যা কি একান্ত প্রয়োজন সরকারের জন্য?? ============>=========== বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ড সুফল ভয়ে আনে না।আইন শৃংখলা উন্নয়নের জন্য প্রথাটি কোন দেশে চালু হয়েছিল প্রথম তা সঠিক বলা মুস্কিল।বাংলাদেশে এই প্রথা প্রথম ব্যাপক চালু হয় ১৯৯১ ইং সালে।বাংলা দেশ জাতিয়তা বাদি দল সংখ্যা গরিষ্টতা পেয়ে সেইবার সরকার গঠন করার পর, আইন শৃংখলার উন্নতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মত জরুরী অবস্থা ঘোষনা ব্যতিরেকে, সেনাবাহিনী নামিয়ে দেয়।অপারেশন "ক্লিনহার্ট" নামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিচার বর্হিভূত হত্যাকান্ড শুরু করে।কথিত আছে তখন পিটিয়ে বেশির ভাগ হত্যা করে। মারা যাওয়ার পর বলা হত হার্ট এটাকে মারা গেছে।আইন শৃংখলা বাহিনী কতৃক প্রথমবারের মত হত্যাযজ্ঞ চালানোর কারনে সকল শ্রেনীর সন্ত্রাসি চাঁদাবাজদের মনে ভিতির সঞ্চার করতে সক্ষম হয়।ফলে স্বল্প সময়ে আইন শৃংখলার ব্যাপক উন্নতি হয় বটে,দেশে নজির হিসেবে এহেন কর্মকান্ড সকল সরকার অনুসরন করা শুরু করে। বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদেও এই হত্যাকান্ডের প্রতি আগ্রহ কমেছে বলে মনে হয় না।অতিষ্ট জনগনের সমর্থন সরকারের যে কোন কাজের চাইতে বেশি ইহা সত্য।তারপরেও বলা যায় মানুষ হত্যা করে কি সমস্যার সমাধান করা যায়?সমাধান যদি হত ১৯৯১---২০১৫সময় কি একান্তই কম বলে মনে হয়।এই সময়ের মধ্যে দেশ সর্বক্ষেত্রে বহুগুন এগিয়ে গেলেও আইনশৃংখলা বাহিনি কতৃক মানুষ হত্যা বন্ধ হয়নি।আমি মনে করি সমাজে এই সমস্ত দুষ্ট চক্র সৃষি এবং বংশ বৃদ্ধির জন্য,যেই লোক টি হত্যার স্বিকার হল তার দায় একেবারেই নেই।কারন কেহই মায়ের পেট থেকে জম্ম নিতে সন্ত্রাসী হয়ে জম্ম নেয় না,সন্ত্রাসি তাকে বানানো হয়।এই সমাজ,রাষ্ট্র,ব্যাক্তি,চলমান অসুস্থ্য রাজনীতি,অর্থের অসম বন্টন ব্যবস্থাপনা,পুঁজির প্রতিযোগিতা ইত্যাদি কারনে স্কুল কলেজের মেধাবী ছেলেটি মাস্তান হতে বাধ্য হয়ে যায়। ক)আমাদের সমাজ স্বাধিনতার ৪৫বছর পর ও যেখানে ছিল সেখানেই রয়ে গেছে।গোষ্টি বৈষম্য ,ধনী গরীবের ব্যবধান, ইংরেজদের ফেলে যাওয়া সমাজ যেমন ছিল তেমন রয়ে যাওয়ার কারনে, তরুনদের সমাজ ব্যবস্থার প্রতি ক্ষোবতো কমেইনি,বরঞ্চ বৃদ্ধি পেয়েছে। খ)তরুন বয়সের ধর্মই বেপরোয়া জীবন যাপন।পরিবার বা সমাজ বেপরোয়া ভাবকে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে বিদ্যালয়মুখি না করে,শাস্তির আওতায় নিয়ে আসে।এতে দুই একবার লজ্জার সম্মুখীন হওয়ার পর ছেলেটি অস্বাভাবিক হয়ে যায়।বন্ধু বান্ধবদের বৈরী আচরনে,নিজকে হিরু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে বিপদগামিতার শেষ পয্যায় চলে যায়।তখনি সমাজের একশ্রেনীর শোষক নীজেদের স্বার্থসিদ্ধির কাজে মাস্তান হিসেবে ব্যবহার শুরু করে।হাতে তুলে দেয় অগ্নেয়াস্র।। গ) রাষ্ট্রের নীতি আদর্শ এক্ষেত্রে বেশী দায়ি বলে আমি মনে করি। আমাদের মত উন্নয়নকামী দেশ সমুহে মধ্যস্বত্ব ভোগীর নিয়মনীতি---যথারীতি প্রতিপালিত হয়ে আসছে।এই তৃতীয় ধারাটির উপস্থিতি ব্যতিরেকে কোনকায্য সম্পাদিত হয়না। সমাজের অভ্যন্তরে দুষ্টক্ষতটির কারনে মাস্তানের দৌরাত্ব অপিরিহায্য।মধ্যস্বত্ব শ্রেনীকে আবার রাষ্ট্র যথারীতি পৃষ্টপোষকতা করে থাকে।যেহেতু রাষ্ট্রীয়কাঠামো শোষনের হাতিয়ার হিসেবে তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্টে পরিবর্তন আসেনি,চলতি নিয়মের ব্যত্যায় ঘটানো রাষ্ট্রের সম্ভব নহে।রাষ্ট্র তাঁর চিরায়ত বৈশিষ্ট পরিবর্তনের পদক্ষেপ নিতে গেলেই একশ্রেনীর মানুষের আঁতে গা লাগে।তাঁরা সমাজে তৎক্ষনাৎ অশান্তি সৃষ্টি করে শুভ উদ্যোগ বানচাল করে দিতে ঊঠে পড়ে লেগে যায়। ঘ)সামান্তপ্রথার উচ্ছেদ যদিও আইনগত ভাবে নেয়া হয়,তাঁর অবশিষ্টাংশ সমাজে এখনও বিদ্যমান রয়ে গেছে।আইন টি জমিদার প্রথা উচ্ছেদ এবং প্রজাস্বত্ব কায়েম ছাড়া আর কোন অগ্রগতি সম্পন্ন করতে পারেনি।সুদক্ষ নেতৃত্বের অভাবই ইহার একমাত্র কারন।জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যথারীতি পদক্ষেপ নিয়েও বাস্তবায়নের আগেই কায়েমি স্বার্থবাদিদের হাতে স্বপরিবারে নিহত হন।জাতির জনকের উদ্যোগ কিছুটা সময়ক্ষেপনের কারনে ,কায়েমী স্বার্থবাদিরা সংগঠিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়।এতে পরিবারের সকলেই প্রান বিসর্জন দিয়ে, সমাজ পরিবর্তনের বিপ্লবের হাতিয়ার রেখে গেছেন আগামী প্রজর্ম্মের ধারক ও বাহকদের কাছে।নীজে পরিবর্তনের ধারা সুচনা করে যেতে পারেননি।ঘুনে ধরা সমাজ ভেঙ্গে নতুন সমাজ গড়ার মত সাহসি নেতৃত্ব সৃষ্টি হওয়া পয্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোন পথ খোলা নেই। (ঙ)সমাজে চলমান অসম প্রতিযোগিতা,ধনী আরো ধনী হওয়ার নিয়ন্তর প্রচেষ্টা যুব সমাজকে সাংঘাতিক প্রলুব্দ করে বলে আমি মনে করি।সৃজনশীল কাজের উপহার দেয়া যাদের নিকট ন্যস্ত,তাঁরা সর্বদা শোষনের ফিকিরে থাকে।কোন কাজটির প্রকল্প হাতে নিলে মধ্যস্বত্ব ভোগী অংশকে উপঢৌকন দিয়ে নিজেদের ক্ষমতার মেয়াদ বাড়ানো যাবে, সেই চিন্তায় অস্থির সময় কাটে।সৃজনশীল,উৎপাদন মূখী প্রকল্প হাতে নিয়ে সার্বিক বেকার সমস্যার সমাধানের প্রতি তাদের নজর থাকে না।এমত অবস্থায় মানষিক ভাবে বেকার ছেলেটি মা বাবার বোঝা হিসেবে নীজেকে চিন্তা করে। একসময় তাঁকে হতাশায় গ্রাস করে পেলে।গত্যান্তর না দেখে এলাকার বড়ভাইয়ের নিকট ধর্না দিতে বাধ্য হয়। বড় ভাই তাঁর স্বার্থসিদ্ধির মোক্ষম সুযোগ হাতছাড়া না করে কাজে লাগিয়ে দেয়। ইহা একান্তই বিদ্যমান আমাদের রাজনীতির ধারাবাহিকতার ফসল। (চ) আমাদের রাজনীতিতে বিদ্যমান রীতির বাহিরে যাওয়া কার ও পক্ষে সম্ভব নহে।বর্তমান গনতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা পশ্চিমাদের আমদানী করা পেশী শক্তির বহুদলীয় ভোটের গনতন্ত্র।এখানে নির্বাচিত হওয়াটাই প্রধান বিবেচ্য।সংসদে সংখ্যাগরিষ্ট আসন পেতেই হবে।এক রাজনৈতিক দল আর এক রাজনৈতিক দলের উপর প্রভাব বিস্তার করে, শক্তির মহড়ার প্রদর্শন করে একে অপরকে নিস্তেজ করে মসনদ দখল করাই মূখ্য।নীতি নৈতিকতার প্রয়োজনীয়তা আছে বলেই মনে করেনা।প্রত্যেক দলেই গনসংগঠন হিসেবে বিবেচিত।দলে লোক সমাগম প্রধান বিষয়।নীতি নৈতিকতা শিক্ষা দেয়া বা আদর্শ ধারন করার কোন বিষয় বিদ্যমান নেই বলে, পথভ্রষ্ট লোক ও দল করার সনদ সংগ্রহ করা দুষ্কর নহে।তাই দেখা যায় মুক্তি যুদ্ধের চেতনার বিরুদিতা কারি দলের মধ্যেও বহু মুক্তিযুদ্ধাই রাজনীতির শীর্ষ পয্যায় অবস্থান নিতে।আবার মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদান কারি দলের মধ্যেও বহু রাজাকার শীর্ষ পদে রাজনীতি অবলিলায় করছে।আদর্শ গত দিক বিবেচনা করতে গেলে যাহা কখনও সম্ভব নহে। দেখা যায় রাষ্ট্র, সমাজ,ব্যক্তির সম্মিলীত প্রয়াসের ফসল একজন সন্ত্রাসী।তাঁকে একক ভাবে জীবনহানী করে বাদবাকি সবাইকে খালাস দিয়ে সমস্যার কি সমাধান হবে?এই রুপে যদি সমাধান করা যেত রাষ্ট্রের অন্যসব বিষয় বিস্ময়কর উন্নতি হলেও, এই বিচার বর্হিভুত হত্যার ভুক্তিভুগিদের মধ্যে সামান্যতম উন্নতি কি সাধিত হল? তাঁদের ব্যবহার করে অর্থবিত্তের মালিক হব,ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে যাব,সমালোচনার মুখে তাঁদেরই বলি দেব?যারা এই অসৎ ব্যাক্তিদের সমালোচনা করে বিচার বর্হিভুত হত্যায় উস্কানি দিল,তাঁদের স্বার্থে যখন ঐ সন্ত্রাসীকে ব্যবহার করে, তখন তা কি জায়েজ হয়? আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে তাঁর অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মিরা পথে ঘাটে বেওয়ারীশ লাশ হবে তাও কি সম্ভব!দেশের আইন কি অচল হয়ে গেল?যদি অচল হয়ে যায় সবাইকে নিয়ে তা কি সচল করার কোন উপায় নেই?।ভুক্তভুগি দুই দলইতো ক্ষমতায় আসে আর যায়,দুই দলের কর্মিরাইতো হত্যার শিকার হয়,তাঁরপর ও কেন ঐক্যমতে আসতে পারবেনা?আমাদের রক্তের উপর পা দিয়ে ক্ষমতায় যাবেন,আবার আমাদের রক্তের হুলিখেলে ক্ষমতার মসনদ পাকাপুক্ত করবেন,ইহাই কি অধম রাজনীতির চালিকাশক্তি হত্যার শিকার যুবকের নিয়তি? আর কোন যুবকের প্রান সংহার না করে উল্লেখিত কাঠামো পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহন করুন,তাই যদি না হয় যে বড় ভাইয়ের কারনে মাস্তান হলাম ,তাঁকে নিদেনপক্ষে দল থেকে বহিস্কার করুন,দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহন করে প্রমান করুন,আপনারা সন্ত্রাস,চাঁদাবাজি,টেন্ডারবাজী চান না। জনগন বুঝতে পারবে সন্ত্রাস দমনে আপনাদের সদিচ্ছা যথেষ্ট আছে। একদিকে শহিদ পরিবারের সন্তান হাতকড়া পড়ে কোর্টে যাবে,আর এক দিকে যুব লীগ,ছাত্রলীগ বেওয়ারিশ লাশ হবে তা চলতে দেয়া যায় না।সরকারের অভ্যন্তরে কোন দুষ্ট চক্র এহেন কর্মে জড়িত তা চির্হিত করার এখনি সময়। দলের অভ্যন্তরীন কোন্দলে মারা যাবে উদিয়মান তরুন নেতারা,তথাকথিত ক্রসফায়ারে যাবে দলের প্রেসার গ্রুপের অন্যতম সদস্যরা,বুদ্ধিজীবিরা যাবে দলের মধ্যে লুকিয়ে থাকা মোস্তাকের বংশের ষড়যন্ত্রে। রাজনীতি করবে কে? অথবা প্রত্যেক ইউনিটে দলের আদর্শ উদ্দেশ্য সম্বলীত বিষয়ে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহন করে আদর্শবান চারিত্রিক বৈশিষ্ট সম্পন্ন নেতৃত্ব গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহন করা হোক,আর চাইনা ভাইয়ের রক্তের হলিখেলা।আর চাইনা পেশী শক্তির মহড়া,আর চাইনা বড়নেতা হওয়ার প্রতিযোগিতা,আর চাইনা অধিপত্য বিস্তারের রাজনীতির বিকাশ। জয় বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখ হাসিনা

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg