সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
বিচার বর্হিভূত হত্যা কি একান্ত প্রয়োজন সরকারের জন্য??
============>===========
বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ড সুফল ভয়ে আনে না।আইন শৃংখলা উন্নয়নের জন্য প্রথাটি কোন দেশে চালু হয়েছিল প্রথম তা সঠিক বলা মুস্কিল।বাংলাদেশে এই প্রথা প্রথম ব্যাপক চালু হয় ১৯৯১ ইং সালে।বাংলা দেশ জাতিয়তা বাদি দল সংখ্যা গরিষ্টতা পেয়ে সেইবার সরকার গঠন করার পর, আইন শৃংখলার উন্নতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মত জরুরী অবস্থা ঘোষনা ব্যতিরেকে, সেনাবাহিনী নামিয়ে দেয়।অপারেশন "ক্লিনহার্ট" নামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিচার বর্হিভূত হত্যাকান্ড শুরু করে।কথিত আছে তখন পিটিয়ে বেশির ভাগ হত্যা করে। মারা যাওয়ার পর বলা হত হার্ট এটাকে মারা গেছে।আইন শৃংখলা বাহিনী কতৃক প্রথমবারের মত হত্যাযজ্ঞ চালানোর কারনে সকল শ্রেনীর সন্ত্রাসি চাঁদাবাজদের মনে ভিতির সঞ্চার করতে সক্ষম হয়।ফলে স্বল্প সময়ে আইন শৃংখলার ব্যাপক উন্নতি হয় বটে,দেশে নজির হিসেবে এহেন কর্মকান্ড সকল সরকার অনুসরন করা শুরু করে।
বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদেও এই হত্যাকান্ডের প্রতি আগ্রহ কমেছে বলে মনে হয় না।অতিষ্ট জনগনের সমর্থন সরকারের যে কোন কাজের চাইতে বেশি ইহা সত্য।তারপরেও বলা যায় মানুষ হত্যা করে কি সমস্যার সমাধান করা যায়?সমাধান যদি হত ১৯৯১---২০১৫সময় কি একান্তই কম বলে মনে হয়।এই সময়ের মধ্যে দেশ সর্বক্ষেত্রে বহুগুন এগিয়ে গেলেও আইনশৃংখলা বাহিনি কতৃক মানুষ হত্যা বন্ধ হয়নি।আমি মনে করি সমাজে এই সমস্ত দুষ্ট চক্র সৃষি এবং বংশ বৃদ্ধির জন্য,যেই লোক টি হত্যার স্বিকার হল তার দায় একেবারেই নেই।কারন কেহই মায়ের পেট থেকে জম্ম নিতে সন্ত্রাসী হয়ে জম্ম নেয় না,সন্ত্রাসি তাকে বানানো হয়।এই সমাজ,রাষ্ট্র,ব্যাক্তি,চলমান অসুস্থ্য রাজনীতি,অর্থের অসম বন্টন ব্যবস্থাপনা,পুঁজির প্রতিযোগিতা ইত্যাদি কারনে স্কুল কলেজের মেধাবী ছেলেটি মাস্তান হতে বাধ্য হয়ে যায়।
ক)আমাদের সমাজ স্বাধিনতার ৪৫বছর পর ও যেখানে ছিল সেখানেই রয়ে গেছে।গোষ্টি বৈষম্য ,ধনী গরীবের ব্যবধান, ইংরেজদের ফেলে যাওয়া সমাজ যেমন ছিল তেমন রয়ে যাওয়ার কারনে, তরুনদের সমাজ ব্যবস্থার প্রতি ক্ষোবতো কমেইনি,বরঞ্চ বৃদ্ধি পেয়েছে।
খ)তরুন বয়সের ধর্মই বেপরোয়া জীবন যাপন।পরিবার বা সমাজ বেপরোয়া ভাবকে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে বিদ্যালয়মুখি না করে,শাস্তির আওতায় নিয়ে আসে।এতে দুই একবার লজ্জার সম্মুখীন হওয়ার পর ছেলেটি অস্বাভাবিক হয়ে যায়।বন্ধু বান্ধবদের বৈরী আচরনে,নিজকে হিরু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে বিপদগামিতার শেষ পয্যায় চলে যায়।তখনি সমাজের একশ্রেনীর শোষক নীজেদের স্বার্থসিদ্ধির কাজে মাস্তান হিসেবে ব্যবহার শুরু করে।হাতে তুলে দেয় অগ্নেয়াস্র।।
গ) রাষ্ট্রের নীতি আদর্শ এক্ষেত্রে বেশী দায়ি বলে আমি মনে করি। আমাদের মত উন্নয়নকামী দেশ সমুহে মধ্যস্বত্ব ভোগীর নিয়মনীতি---যথারীতি প্রতিপালিত হয়ে আসছে।এই তৃতীয় ধারাটির উপস্থিতি ব্যতিরেকে কোনকায্য সম্পাদিত হয়না। সমাজের অভ্যন্তরে দুষ্টক্ষতটির কারনে মাস্তানের দৌরাত্ব অপিরিহায্য।মধ্যস্বত্ব শ্রেনীকে আবার রাষ্ট্র যথারীতি পৃষ্টপোষকতা করে থাকে।যেহেতু রাষ্ট্রীয়কাঠামো শোষনের হাতিয়ার হিসেবে তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্টে পরিবর্তন আসেনি,চলতি নিয়মের ব্যত্যায় ঘটানো রাষ্ট্রের সম্ভব নহে।রাষ্ট্র তাঁর চিরায়ত বৈশিষ্ট পরিবর্তনের পদক্ষেপ নিতে গেলেই একশ্রেনীর মানুষের আঁতে গা লাগে।তাঁরা সমাজে তৎক্ষনাৎ অশান্তি সৃষ্টি করে শুভ উদ্যোগ বানচাল করে দিতে ঊঠে পড়ে লেগে যায়।
ঘ)সামান্তপ্রথার উচ্ছেদ যদিও আইনগত ভাবে নেয়া হয়,তাঁর অবশিষ্টাংশ সমাজে এখনও বিদ্যমান রয়ে গেছে।আইন টি জমিদার প্রথা উচ্ছেদ এবং প্রজাস্বত্ব কায়েম ছাড়া আর কোন অগ্রগতি সম্পন্ন করতে পারেনি।সুদক্ষ নেতৃত্বের অভাবই ইহার একমাত্র কারন।জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যথারীতি পদক্ষেপ নিয়েও বাস্তবায়নের আগেই কায়েমি স্বার্থবাদিদের হাতে স্বপরিবারে নিহত হন।জাতির জনকের উদ্যোগ কিছুটা সময়ক্ষেপনের কারনে ,কায়েমী স্বার্থবাদিরা সংগঠিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়।এতে পরিবারের সকলেই প্রান বিসর্জন দিয়ে, সমাজ পরিবর্তনের বিপ্লবের হাতিয়ার রেখে গেছেন আগামী প্রজর্ম্মের ধারক ও বাহকদের কাছে।নীজে পরিবর্তনের ধারা সুচনা করে যেতে পারেননি।ঘুনে ধরা সমাজ ভেঙ্গে নতুন সমাজ গড়ার মত সাহসি নেতৃত্ব সৃষ্টি হওয়া পয্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোন পথ খোলা নেই।
(ঙ)সমাজে চলমান অসম প্রতিযোগিতা,ধনী আরো ধনী হওয়ার নিয়ন্তর প্রচেষ্টা যুব সমাজকে সাংঘাতিক প্রলুব্দ করে বলে আমি মনে করি।সৃজনশীল কাজের উপহার দেয়া যাদের নিকট ন্যস্ত,তাঁরা সর্বদা শোষনের ফিকিরে থাকে।কোন কাজটির প্রকল্প হাতে নিলে মধ্যস্বত্ব ভোগী অংশকে উপঢৌকন দিয়ে নিজেদের ক্ষমতার মেয়াদ বাড়ানো যাবে, সেই চিন্তায় অস্থির সময় কাটে।সৃজনশীল,উৎপাদন মূখী প্রকল্প হাতে নিয়ে সার্বিক বেকার সমস্যার সমাধানের প্রতি তাদের নজর থাকে না।এমত অবস্থায় মানষিক ভাবে বেকার ছেলেটি মা বাবার বোঝা হিসেবে নীজেকে চিন্তা করে। একসময় তাঁকে হতাশায় গ্রাস করে পেলে।গত্যান্তর না দেখে এলাকার বড়ভাইয়ের নিকট ধর্না দিতে বাধ্য হয়। বড় ভাই তাঁর স্বার্থসিদ্ধির মোক্ষম সুযোগ হাতছাড়া না করে কাজে লাগিয়ে দেয়। ইহা একান্তই বিদ্যমান আমাদের রাজনীতির ধারাবাহিকতার ফসল।
(চ) আমাদের রাজনীতিতে বিদ্যমান রীতির বাহিরে যাওয়া কার ও পক্ষে সম্ভব নহে।বর্তমান গনতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা পশ্চিমাদের আমদানী করা পেশী শক্তির বহুদলীয় ভোটের গনতন্ত্র।এখানে নির্বাচিত হওয়াটাই প্রধান বিবেচ্য।সংসদে সংখ্যাগরিষ্ট আসন পেতেই হবে।এক রাজনৈতিক দল আর এক রাজনৈতিক দলের উপর প্রভাব বিস্তার করে, শক্তির মহড়ার প্রদর্শন করে একে অপরকে নিস্তেজ করে মসনদ দখল করাই মূখ্য।নীতি নৈতিকতার প্রয়োজনীয়তা আছে বলেই মনে করেনা।প্রত্যেক দলেই গনসংগঠন হিসেবে বিবেচিত।দলে লোক সমাগম প্রধান বিষয়।নীতি নৈতিকতা শিক্ষা দেয়া বা আদর্শ ধারন করার কোন বিষয় বিদ্যমান নেই বলে, পথভ্রষ্ট লোক ও দল করার সনদ সংগ্রহ করা দুষ্কর নহে।তাই দেখা যায় মুক্তি যুদ্ধের চেতনার বিরুদিতা কারি দলের মধ্যেও
বহু মুক্তিযুদ্ধাই রাজনীতির শীর্ষ পয্যায় অবস্থান নিতে।আবার মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদান কারি দলের মধ্যেও বহু রাজাকার শীর্ষ পদে রাজনীতি অবলিলায় করছে।আদর্শ গত দিক বিবেচনা করতে গেলে যাহা কখনও সম্ভব নহে।
দেখা যায় রাষ্ট্র, সমাজ,ব্যক্তির সম্মিলীত প্রয়াসের ফসল একজন সন্ত্রাসী।তাঁকে একক ভাবে জীবনহানী করে বাদবাকি সবাইকে খালাস দিয়ে সমস্যার কি সমাধান হবে?এই রুপে যদি সমাধান করা যেত রাষ্ট্রের অন্যসব বিষয় বিস্ময়কর উন্নতি হলেও, এই বিচার বর্হিভুত হত্যার ভুক্তিভুগিদের মধ্যে সামান্যতম উন্নতি কি সাধিত হল? তাঁদের ব্যবহার করে অর্থবিত্তের মালিক হব,ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে যাব,সমালোচনার মুখে তাঁদেরই বলি দেব?যারা এই অসৎ ব্যাক্তিদের সমালোচনা করে বিচার বর্হিভুত হত্যায় উস্কানি দিল,তাঁদের স্বার্থে যখন ঐ সন্ত্রাসীকে ব্যবহার করে, তখন তা কি জায়েজ হয়?
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে তাঁর অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মিরা পথে ঘাটে বেওয়ারীশ লাশ হবে তাও কি সম্ভব!দেশের আইন কি অচল হয়ে গেল?যদি অচল হয়ে যায় সবাইকে নিয়ে তা কি সচল করার কোন উপায় নেই?।ভুক্তভুগি দুই দলইতো ক্ষমতায় আসে আর যায়,দুই দলের কর্মিরাইতো হত্যার শিকার হয়,তাঁরপর ও কেন ঐক্যমতে আসতে পারবেনা?আমাদের রক্তের উপর পা দিয়ে ক্ষমতায় যাবেন,আবার আমাদের রক্তের হুলিখেলে ক্ষমতার মসনদ পাকাপুক্ত করবেন,ইহাই কি অধম রাজনীতির চালিকাশক্তি হত্যার শিকার যুবকের নিয়তি?
আর কোন যুবকের প্রান সংহার না করে উল্লেখিত কাঠামো পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহন করুন,তাই যদি না হয় যে বড় ভাইয়ের কারনে মাস্তান হলাম ,তাঁকে নিদেনপক্ষে দল থেকে বহিস্কার করুন,দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহন করে প্রমান করুন,আপনারা সন্ত্রাস,চাঁদাবাজি,টেন্ডারবাজী চান না। জনগন বুঝতে পারবে সন্ত্রাস দমনে আপনাদের সদিচ্ছা যথেষ্ট আছে।
একদিকে শহিদ পরিবারের সন্তান হাতকড়া পড়ে কোর্টে যাবে,আর এক দিকে যুব লীগ,ছাত্রলীগ বেওয়ারিশ লাশ হবে তা চলতে দেয়া যায় না।সরকারের অভ্যন্তরে কোন দুষ্ট চক্র এহেন কর্মে জড়িত তা চির্হিত করার এখনি সময়।
দলের অভ্যন্তরীন কোন্দলে মারা যাবে উদিয়মান তরুন নেতারা,তথাকথিত ক্রসফায়ারে যাবে দলের প্রেসার গ্রুপের অন্যতম সদস্যরা,বুদ্ধিজীবিরা যাবে দলের মধ্যে লুকিয়ে থাকা মোস্তাকের বংশের ষড়যন্ত্রে। রাজনীতি করবে কে?
অথবা প্রত্যেক ইউনিটে দলের আদর্শ উদ্দেশ্য সম্বলীত বিষয়ে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহন করে আদর্শবান চারিত্রিক বৈশিষ্ট সম্পন্ন নেতৃত্ব গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহন করা হোক,আর চাইনা ভাইয়ের রক্তের হলিখেলা।আর চাইনা পেশী শক্তির মহড়া,আর চাইনা বড়নেতা হওয়ার প্রতিযোগিতা,আর চাইনা অধিপত্য বিস্তারের রাজনীতির বিকাশ।
জয় বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু
জয়তু দেশরত্ম শেখ হাসিনা
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন