গনতন্ত্রের বিতর্ক এবং বাংলা দেশ। ==========================    বর্তমান সময়ে দেশে অনেকেই গনতন্ত্র নিয়ে আশংকা প্রকাশ করতে দেখা যায়।কেউ মনে করে দেশে গনতন্ত্র নেই,কেউ মনে করে গনতন্ত্রের মধ্যেই আছি।সরকারের বিরুধিতা কারিরা সকলেই একবাক্যে বলেন,কোন গনতন্ত্রই নেই,যাহা আছে তা স্বৈরাচারের নামান্তর।সরকারের সমর্থকদের ধারনা প্রকৃত গনতন্ত্রের স্বাধ জনগন এই সরকারের সম্যে উপভোগ করছে।গনতন্ত্রের বিতর্ক দেশটির উষালগ্ন তেকে বিরাজমান।এই বিতর্ক সমাপ্তির লক্ষন আদৌ কোন সময়ে হবে কিনা তা ভবিতব্যই জানে।বিরুধিদলের যাহা মন চায় তাহা করার জন্য না দিলেই বলা হয় গনতন্ত্র নেই।আসলে গনতন্ত্র কি তাই?গনতন্ত্রের কি সীমারেখা নেই?সীমারেখা নেই এমন কোন তত্ব কি বেশী দিন স্থায়ী হয়। পৃথিবীতে আবিস্কৃত,প্রকৃতির সৃষ্ট,এমন কিছু কি আছে, যাহার প্রান্ত সীমা নেই।গনতন্ত্রের ও প্রান্তসীমা আছে,প্রচলিত আইনের দ্বারা উক্ত প্রান্ত সীমা নির্ধারন করা সংবিধানেই পরিলক্ষন করা যায়। গনতন্ত্র কি?গনতন্ত্র বলতে আমরা কি বুঝি? বাংলাদেশে কি গনতন্ত্র আছে? গনতন্ত্রের সংজ্ঞাটা কি? ইত্যকার নানাহ প্রশ্ন আমাদের মনে নিত্যদোলা দিয়ে যায়।প্রশ্ন জাগাটা স্বাভাবিক।   আমি যতটুকু মনে করি,এবং যাহা স্বিকৃত হিসেবে প্রচলিত,বাকস্বাধিনতা,সংগঠন করার অধিকার,সভাসমাবেশ করার অধিকার,সবোপরি ভোটাধিকারকেই সাধারন অথে আমরা গনতন্ত্র হিসাবে ধরে নিতে পারি।     বিস্তারীত আলোচনায় যাওয়ার আগে আমি গনতন্ত্রের কেন্দ্রিকতা সম্পকে সামান্য আলোকপাত করতে চাই।গন তান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা হচ্ছে মূলতঃ গনতন্ত্রের সুফল পাওয়ার একটা কায্যকর উপায়। যেমন দশজন লোক যে কোন একটি বিষয়ের উপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।দশ জন সেখানে একমত নাও হতে পারে।ছয় জন একপক্ষে মত ব্যক্ত করলে,চারজন দ্বিমত পোষন করলো।এখানে ছয়জনের মতকেই গ্রহন করতে হবে।আমরা ইহাকে বলি গনতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত বা অভিমত।বাকি চার জন নিদ্ধিদায় ছয় জনের মতের সাথে একমত হওয়াকেই গনতান্ত্রিক কেদ্রিকতা বলে।অন্যভাবে সিদ্ধান্ত মেনে নেয়াকে গনতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা বলে।    বতমান বিশ্বে গনতন্ত্র হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচা লনার একমাত্র স্বিকৃত উপায়।যেসমস্ত দেশকে আমরা গনতন্ত্রের আবাসভুমি বা গনতন্ত্রের সুতিকাগার বা গনতান্ত্রিক দেশ হিসেবে চিনি ও জানি তম্মধ্যে ভারত ও বৃটেনের নাম সবার আগে আসে-সবার মুখে।সেই সমস্ত দেশের গনতান্ত্রিক সিষ্টেম গুলির দিকে আমরা যদি চোখ ফিরাই দেখতে পাই,নিম্নে থেকে উদ্ধস্তর পয্যন্ত সেখানে নিবাচনি ব্যবস্থা সুদৃড়। সময়ে নিবাচন হচ্ছে, ক্ষমতার রদবদল হচ্ছে।ব্যত্যায় ঘটে তবে তা কদাচিত।   এবার গনতন্ত্রের বধ্যভুমির সাথে আমা দের বাংলাদেশের মিল অমিল খুজে দেখি?বাংলাদেশেও নিম্নে স্থানীয় ইউনি য়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উদ্ধে সংসদ নিবাচন পয্যন্ত যথারীতি নিবাচনী ব্যবস্থা বহাল আছে।নিয়ম অনুযায়ী নিদিষ্ট সম য়ান্তে নিবাচন যথারীতি সকল নিয়ম অনুসরন করে অনুষ্টিত হচ্ছে।আর এক ধাপ এগিয়ে বলা যায়,পাড়ার ক্লাব থেকে শুরু করে হাটবাজার কমিটির নিবাচন ,টেক্সি টেম্পু থেকে সবোচ্ছ বিচারালয় পয্যন্ত একটি ক্ষেত্র ও পাওয়া যাবে না    যেখানে নিবাচনী ব্যবস্থা সচল নেই।  তাহলে গনতন্ত্র নেই এ কথাটা যারা বলেন তারা কি আদৌ সত্য বলেন? গন তন্ত্র কি আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়া?    গনতন্ত্র এমন একটি সিষ্টেম,যে সিষ্টেম প্রতিনিয়ত চচা করার বিষয়।ভারত এবং গ্রেটবৃটেন গনতন্ত্র কায়েম হয়ে গেছে এই কথাটা ঘুনাক্ষরেও বলে না।তারাও বলে গনতন্ত্রের চচায় নিজেদের নিবিষ্টরেখেছে। গনতন্ত্র মু্লত বহাল করার কোন বিষয় নয়।উহা একান্তই চচার বিষয়।   গনতন্ত্রকে সুচারু রুপে প্রতি পালন করতে হলে দেশের অভ্যন্তরে যে সমস্ত গনতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান আছে, সেই সমস্ত প্রতিষ্ঠানের অগ্রনি ভুমিকা পালন একটি জরুরী বিষয় বটে।একতরফা গনতান্ত্রিক চচা বা গনতন্ত্রের প্রতিপালন সম্ভব হয় না।  যেমন আমাদের দেশের প্রধান দু'টি দল যদি মিলিত ভাবে গনতন্ত্রের ধারাবা হিকতায় সামিল না হয় তাহলে একটি  দলের পক্ষে শতভাগ গনতান্ত্রিক ভাবে , গনতন্ত্রের সংজ্ঞা যথারীতি অনুসরন করা কোন মতেই সম্ভব নয়।    পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, বৃহৎ দু'টি দলের মধ্যে একটি দল সামরিক চাউনিতে জম্মের কারনে গনতন্ত্রের চচা দলের মধ্যে ওনেই, জাতীয় রাজনীতিতেও গনতান্ত্রিক চচার শুন্যতার সৃষ্টি করে রেখেছেন।মুলত দলটির মধ্যে গনতন্ত্র চচার জন্য নিয়মা তান্ত্রিক রাজনীতির চচা করার যে অবশ্যিকতা বা পুর্বশর্ত তাও তারা বিশ্বাস করে কিনা সন্দেহ্।     যদি দলটি নিয়মাতান্ত্রিক রাজনীতির চচাই করতো তাহলে লাগাতার সন্ত্রাস, নৈরাজ্য,সম্পদহানি,মানুষ জীবন্ত দগ্ধ করার মত কোন রাজনৈতিক কমসুচি দিতনা।গনতন্ত্র লালন কারী কোন দল সন্ত্রাস নৈরাজ্যে বিশ্বাস করে না করতে পারে না।    প্রশ্ন আসতে পারে বতমান সরকারের অধিকাংশ সদস্য বিনা ভোটে নিবাচিত। কি ভাবে গনতন্ত্র রক্ষিত হলো?এখানে একটা বিষয় আমাদের পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।যথারীতি সকল নিয়ম প্রতিপালন করে ভোট অনুষ্ঠিত হলো কিনা? প্রচলিত সকল নিয়ম মেনে যদি নিবাচনের প্রক্রিয়ায় কোন প্রতিপক্ষ না থাকে সংবিধান অনুযায়ি ওই ব্যক্তি নিবাচিত বলে গন্য হবে।ইহার ব্যতিক্রম যদি হয় তাহলে, ওই ব্যাক্তির নাগরীক অধিকার ক্ষুন্ন হবে।সুতারাং এই খানে আইনের কোন ব্যত্যায় ঘটানোর সুযোগ সংবিধান রাষ্ট্র কে দেয়নি।    বিশ দলীয় জোট নিবাচনে কেন এলনা তা নিয়ে ভিন্নভাবে আলোচনা হতে পারে।এলেই বা ফল কি হত তাও আমার আলোচ্য বিষয় নয়। আমার আলোচ্য বিষয় হলো গনতন্ত্র বাংলাদেশে আছে কি নেই সেই বিষয়।আমার উপসংহার হচ্ছে, বিশ্বের যে কোন দেশের তুলনায় বাংলা দেশের বতমান গনতন্ত্রের চর্চা অনুসরন যোগ্য।তৃতীয় বিশ্বের যে কোন দেশের অনুকরনীয় হতে পারে বাংলাদেশ।   জয়বাংলা      জয়বংগবন্ধু জয়তু দেশনেত্রী শেখহাসিনা। জয় হোক গনতন্ত্রের।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg