সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
আওয়ামী লীগ আধুনিক বি,এন,পি পশ্চাদমুখীনতায় বিশ্বাষি।
========= =========
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটা যুগ উপযোগি সংগঠন।যুগের সাথে তালমিলিয়ে কর্মসূচি প্রনয়নে এই দলের জুড়ি মেলা ভার।প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিচার করলে স্পষ্ট দেখা যায়,যখন জনগন যাহা চায়, তাঁর সাথে তালমিলিয়ে কর্মসুচি প্রনয়নে দলটি অগ্রনী থেকেছে সর্ব সময়ই।নতুন নতুন দিকনির্দেশনার জন্য দলের নেতাকর্মিরা মুখিয়ে থাকার প্রয়োজন হয়নি।
দলটির উৎপত্তি এবং বিকাশের সময় থেকে আজ পয্যন্ত এটা লক্ষ করলে দেখা যায়,। পাকিস্তান সৃষ্টির পর সংগত কারনে এতদ অঞ্চলে একটা কায্যকর গনতান্ত্রীক বিরুদী দলের প্রয়োজন ছিল এটা অনস্বিকায্য।ক্ষমতাসীন মুসলীম লীগের বিপ্রীতে তেমন কোন অসাম্প্রদায়িক দলের অস্তিত্ব তখন ছিল না।যারা ছিলেন তাঁদের মানুষ ধর্মীয় দল বা কমিনিষ্ট প্রকারান্তরে নাস্তিক হিসেবেই বুঝতো।ঠিক তখনি বঙ্গবন্ধু দলের নাম থেকে মুসলিম একক সম্প্রদায়গত শব্দটি বাদ দিয়ে দলকে অসাম্প্রদায়িক রুপ দিতে কালক্ষেপন করেননি।তিনি ফলত পুর্ব পাকিস্তানে বসবাসরত হিন্দু,বৌদ্ধ,খ্রিস্টানেরা আওয়ামী রাজনীতিতে অংশ নিতে আর নিজেদেরকে সংকুচিত ভাব প্রদর্শনের প্রয়োজন হয়নি।তখনকার সময়ে হিন্দুরা লেখাপড়ায় অগ্রগামি ছিল।দলিয় প্রচার প্রপাগান্ডায় হিন্দু ছাত্র যুবকেরা সহজে সাধারন মানুষের অত্যান্ত কাছে যেতে পারতেন,যুক্তি দিয়ে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করতেও কোন অসুবিধা হত না।
'৬৫ইং সালের পাকভারত যুদ্ধে পুর্ববাংলার জনগনের চোখ কান খুলে দেয়।যদি ভাষার দাবীতে ৫২ সালেই রক্ত দিয়ে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের বীজ রোপন করা হয়ে গিয়েছিল,দিনে দিনে তা মহিরুহের আকার ধারন করা শুরু করেছিল,কিন্তু ফলভাব হচ্ছিল না।সেই ফল ধরানোর সুযোগ পশ্চিমারাই '৬৫ইং পাক--ভারত যুদ্ধে তুলে দিলেন।দুরদর্শী বঙ্গবন্ধু ৬৫ ইং সালের পুর্ব বাংলার অরক্ষিতবস্থাকে জনমনে গেঁথে দিতে সামান্য সময় ও নষ্ট করেননি।
সর্বমহলের বিরুদিতা সর্তেও তিনি পুর্ব পাকিস্তানের ন্যায্য দাবি ৬দফা নিয়ে এগিয়ে গেলেন।এতে বিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যাক্তিরা, এবং বিশিষ্ট জনেরাও বিচ্ছিনতার গন্ধ পেয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে সরে গেলেন।তাঁরা মুলত একিভুত পাকিস্তানের সমর্থকই ছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারায় ছিল অন্য আর একটি বিষয়।তিনি মনে মনে পোষন করে রেখেছেন বাঙ্গালীদের জাতিয়তার ভিত্তিতে আর একটি আলাদা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র ব্যবস্থা।মুখে কোন অবস্থায় প্রকাশ করাতো যাচ্ছে না।প্রকাশ করতে গেলেই বিচ্ছিন্নতা বাদিতার অভিযোগে ফাঁসীতে ঝুলতে হবে।দাবী মেনে নিলে পুর্ব পাকিস্তান কায্যত স্বাধীন। তাঁরপর পাকিস্তানীরা ঠিকই বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারা সম্পর্কে আঁছ করতে কোন অসুবিধা হয়নি।কিন্তু প্রমানের তেমন কোন যুক্তি সঙ্গত তথ্য প্রমান না থাকায় উপযুক্ত ব্যাবস্থা গ্রহন করতেও পারছিল না।বঙ্গবন্ধু রাজপথে বের হলেই আবার জেলে নিতে কার্পন্য করছিলনা পাকিস্থানিরা।এতে হিতে আর ও বিপরীত হয়েছে শেষ বিচারে পাকিস্তানীদের জন্য।যতই বঙ্গবন্ধুর উপর নির্য্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছিল পাকিস্তানের বিশেষ করে পুর্ব অংশের জনগনের সম্পৃতা এবং আস্থা দিনে দিনে বেড়েই চলছিল।বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা অর্জনের প্রাথমিক কাজ গুলী ধীরে ধীরে সমাপন করে চুড়ান্ত পয্যায় নিয়ে যাচ্ছিলেন।অকস্মাৎ ঘটে গেল এক চরম বিপয্যয়।আগড়তলায় যাদেরকে পাঠিয়ে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ব্যাপারে ভারতের মনোভাব জানার জন্য তাঁদের সেই ঘটুনাটি প্রকাশিত হয়ে যায়।ফলে সার্জেন্ট জহুরুল ইসলামকে ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে গুলী করে হত্যা করে।বঙ্গবন্ধুকে ওই মামলায় জড়িয়ে জেলে প্রেরন করে।এই আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলাটিই মুলত বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের শেষ পরিনতি অর্থাৎ স্বাধীনতা যুদ্ধের এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের টার্নিং পয়েন্ট বলা যায়।
কোন রাজনৈতিক নেতা প্রথমত ছয় দফা সমর্থন না করলেও বঙ্গবন্ধু পিছু হটেননি।তিনি সম্যক বুঝতে পেরেছিলেন যে, ছয় দফা বাংলার মানুষ ভাল ভাবেই গ্রহন করেছে।পাকিস্তানী শাষক গোষ্টি মেনে নিলে বাংলাদেশ স্বাধীকার পাবে বিনা রক্তপাতে, না মানলে স্বাধীনতা যুদ্ধ অনিবায্য।কারাগারে নেয়ার পর বঙ্গবন্ধুকে নানাহ লোভলালসা ছয় দফা পরিত্যাগ করার জন্য দেখিয়েছেন, কিন্তু টলাতে পারেননি।অনস্বিকায্য ভাবে বেগম মুজিবের ভুমিকা বঙ্গবন্ধুকে নীতিতে অটল থাকতে প্রচুর সাহায্য করেছিল।আগড়তলা ষড় যন্ত্র মামলায় জেলে থাকার কারনে '৬৯এ গনুভ্যুত্থান হতে পেরেছিল।বঙ্গবন্ধু ও পুর্ব পাকিস্তানের একক নেতা বা একমাত্র নীতি নির্ধারক হতে পেরেছিলেন।কিন্তু তিনি যে একক পুর্ব পাকিস্তানের জনগনের প্রতিনিধি হিসেবে,তাঁর আইনগত কোন ভিত্তি ছিল না।সবাই সবাইকে জনগনের একক নেতা ভাবতেন।কিন্তু বঙ্গবন্ধু জানতেন গনুভ্যুত্থানের কারনে পশ্চিমারা তাঁকে জেল মুক্ত করতে বাধ্য হয়েছে, সুতারাং তিনিই তখন একমাত্র একক সর্বজনগ্রায্য নেতা। এককত্বের স্বিকৃতি প্রয়োজন।
গনুভ্যুত্থানের জোয়ারে আইয়ুব খাঁন ক্ষমতা ছেড়ে পালালেও আর এক জান্তা ক্ষমতা দখল করে।তিনি ক্ষমতা দখল করেই এক অধ্যাদেশ জারীর মারপত ভোটের ঘোষনা দেন।
১৯৬৯ সালের মার্চে গণআন্দোলনের মুখে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের পদত্যাগ কিংবা আসলে পাক সামরিক জান্তা কর্তৃক তাঁর অপসারিত হওয়ার পর জেনারেল ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হাতে নিয়েই দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন। বলা হয় সার্বজনীন বয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত দেশের উভয় অংশের জনপ্রতিনিধিরা দেশের ভবিষ্যৎ সংবিধান প্রণয়ন করবেন। তবে নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া লিগাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার (এলএফও) বা আইনগত কাঠামো আদেশ নামে একটি আদেশও জারি করেন। সেই আদেশ জারির মাধ্যমে কার্যত সংবিধান প্রণয়নের ব্যাপারে জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়। বলা হয়, জনপ্রতিনিধিদের প্রণীত সেই সংবিধানে যেমন ইসলাম তেমনি পাকিস্তানের ঐক্য বা সংহতির পরিপন্থী কিছু থাকতে পারবে না। আর প্রেসিডেন্ট অনুমোদন পাওয়ার পরই কেবল সে সংবিধান কার্যকর হবে। তারপরই ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারটি ঘটবে, আগে নয়। কী পাকিস্তানের ঐক্য বা সংহতির পরিপন্থী আর কী তা নয়, সেটা কে বিচার বা নির্ধারণ করবে? বলা বাহুল্য, প্রেসিডেন্ট নিজেই। এভাবে নির্বাচনের পরও ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কর্তৃত্ব প্রেসিডেন্টের হাতেই রেখে দেওয়া হল। এলএফও-র ২৫নং ধারায় বলা হয়, জনপ্রতিনিধিদের প্রণীত সে সংবিধান যদি প্রেসিডেন্ট অনুমোদন না করেন তবে জাতীয় পরিষদ আপনা আপনি বাতিল হয়ে যাবে। সেদিন এলএফও জারির পর দুই ন্যাপসহ অনেকগুলো দলই তার সমালোচনা করেছিল। তারা এলএফও-র ওই ধারাগুলো বাতিল না করা পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে মত ব্যক্ত করেছিল। বিশেষ করে মস্কোপন্থী ন্যাপ ও ছাত্র ইউনিয়নের তরফ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্বাচনে না গিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার জন্য নিয়ন্তর চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছিলেন।পুর্ব পাকিস্তানের প্রায় সব দল এবং কি পশ্চিম পাকিস্তানের দুই একটি দল ছাড়া সবাই চাইছিলেন ইয়াহিয়া খাঁন কতৃক জারী কৃত আদেশ প্রত্যাহার ব্যতিত ইলেকশান করে কোন লাভ হবে না।বঙ্গবন্ধু এরই মাঝে আন্দোলন এবং নির্বাচনের দিকেই মতামত রাখলেন।মাওলানা ভাসানী ভোটের আগে ভাত চাই বলে মাঠেই নেমে গেলেন। ভাসানীর জনপ্রিয় শ্লোগান ছিল,ভোটের বাক্সে লাথি মার,শ্রমিক রাজ কায়েম কর।ভোটের আগে ভাত দেয়,নইলে গদি ছেড়ে দেয়। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই তিনি তখন নিজেকে পাকিস্তানের পুর্ব অংশের একক নেতা দাবি করতেন খুব দৃডতার সাথেই।
নির্বাচনের মাধ্যমে তখনও প্রমান হয়নি,জনগনের প্রতিনিধিত্ব কে করছে।
"৬৯এর গন আন্দোলনের ফসল তখন বঙ্গবন্ধুর গোলায়,তা ঠিকই বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন।কিন্তু জনগনের প্রত্যক্ষ রায়ের অভাবে একক কোন সিদ্ধান্ত দেশে বিদেশে কোথাও কায্যকর হবে না।বঙ্গবন্ধুর মুল যে উদ্দেশ্য তাতো তিনি পাকিস্তানের জম্মলগ্ন থেকেওই পোষন করে আসছেন।প্রকাশ করা যাছে না রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং জনগনের প্রত্যক্ষ রায়ের অভাবে।ক্ষমতা দিবে না পাকিস্তানীরা তাও বঙ্গবন্ধু জানতেন,ভোটে না গেলে বিশ্ব বাসি তা বিশ্বাস করবে কেন?
৭০এর নির্বাচনের আগে বনঙ্গবন্ধুকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আপনি চাইছেন ছয় দফার ভিত্তিতে বাংলাদেশের শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করতে। যদি মেজরিটি সিট পেয়ে তা করতে পারেনও ইয়াহিয়া খান তা মেনে নেবে না। হয়তো জাতীয় পরিষদই বাতিল করে দেবে। তাহলে নির্বাচনে জয়লাভ করে কী লাভ হবে?’
বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘লাভ আছে, আমি সমগ্র পৃথিবীকে দেখাতে পারব বাংলার মানুষ কী চায়। আজ দেশে অনেক দল, অনেক নেতা। সবাই বলে জনগণ তাদের সঙ্গে আছে। কিন্তু জনগণ কার সঙ্গে আছে তার কোনো আইনগত প্রমাণ নেই। আমি জানি, বাংলার মানুষ আমার সঙ্গে আছে। কিন্তু এই পরম সত্যেরও বিধিগত কোনো ভিত্তি নেই। যদি নির্বাচনে জয়লাভ করি, জনগণের ম্যান্ডেট পাই, সেই আইনগত ভিত্তি অর্জিত হবে। আর তখন জনগণের নির্বাচিত নেতা হিসেবেই আমি জনগণের পক্ষ হয়ে ইয়াহিয়ার সেচ্ছাচারী নীতি-পদক্ষেপ চ্যালেঞ্জ করতে পারব। বিশ্ববাসী দেখবে—শেখ মুজিব যা বলেছে, যা চাইছে, তা তার একার কথা নয়, গোটা দেশবাসীর কথা আর এভাবেই বাঙালির স্বাধিকার সংগ্রাম বিশ্ববাসীরও সমর্থন লাভ করবে।’ এমনই ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা। এই দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার কারণেই অর্জিত হয়েছিল আমাদের মহান স্বাধীনতা।
তখন যেমন বিচক্ষন্তার অভাবে মুসলিম লীগের অনিবায্য পতন পরবর্তিতে বিলীন হয়ে গিয়েছিল, বর্তমানেও বিচক্ষনতা ও জনগনের চাওয়া পাওয়ার সাথে তাল মিলাতে না পেরে বি,এন,পি দিনে দিনে নিষ্কৃয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে।অনেকে বলেন, নিরপেক্ষ ভোট হলে এখন বি,এন,পি জিতবে।ভোট নিরপেক্ষ হত না অন্যভাবে হত ভোটে এসেই তা প্রমান করা যেত।কারচুপি হলে সারা পৃথিবী দেখতো ভোটে কারচুপি করে বি,এন,পি কে হারিয়ে দেয়া হয়েছে।জনগন ও তখন আন্দোলনে সক্রিয় হত।আওয়ামী লীগের অধিনে ভোটে কারচুপি হয়েছে তদ্রুপ উদাহরন এর আগে যেহেতু নেই,উদাহরন সৃষ্টি করার জন্য বি,এন,পি কে ভোটে আসা উচিৎ ছিল।
বিএনপি আজ নানা সংকটে জর্জরিত। এ জন্য তারা নিজেরাই দায়ী। এই দলের নানা দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সরকারও বিএনপির নেতা ও কর্মীদের ওপর খড়্গহস্ত। কোনো বড় দলই তাদের সমান প্রতিদ্বন্দ্বী চায় না। আওয়ামী লীগও চায় না বিএনপি একটি বড়, শক্তিশালী ও জনপ্রিয় দল হিসেবে টিকে থাকুক। কিন্তু দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে দেশে একক দলের একচেটিয়া ক্ষমতা থাকা উচিত নয়।
গণতন্ত্র ও সুশাসনের স্বার্থে আমরা চাই, দেশে তিন, চার বা তারও বেশি রাজনৈতিক দল খুব সক্রিয় থাকবে। মানুষের সমর্থন তাদের ঘিরেই আবর্তিত হবে। অন্তত চারটি বড় রাজনৈতিক দল বা জোটের ওপর যেন নির্বাচন, সরকার পরিবর্তন নির্ভর করে। দুঃখের বিষয়, বহু বছর রাজনীতি করেও ক্ষমতায় যাওয়ার মতো বাংলাদেশে তৃতীয় দল বা জোট এখনো তৈরি হয়নি। কাজেই ঘুরেফিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বা তাদের নেতৃত্বের জোটই ক্ষমতায় যায় বা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে।
বিএনপি তিনবার ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। দুবার পুরো মেয়াদ ক্ষমতায় ছিল। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তাদের পক্ষে আবারও ক্ষমতায় যাওয়া কঠিন ছিল না। কিন্তু সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুপস্থিতি এবং দেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ বিএনপিকে এমন পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে যে তাদের পক্ষে আবার ক্ষমতায় যাওয়া শুধু কঠিন নয়, প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে। ক্ষমতাসীন দল বুঝতে পেরেছে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপির পক্ষে জয়লাভ করা হয়তো সম্ভব হবে। তাই নানা ফন্দিফিকির করছে। নির্বাচনে না যাওয়া ছিল আওয়ামী লীগের কৌশলের কাছে বিএনপির প্রথম পরাজয়। ক্ষমতায় যেতে হলে বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে হবে। নির্বাচন না করে ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো সুযোগও নেই। কাজেই বিএনপিকে এখন ক্ষমতাসীনদের ছকের নির্বাচন করেও কীভাবে জয়লাভ করা যায় তার কৌশল বের করতে হবে। সেই কৌশল কাজে লাগাতে না পারলে বিএনপিকে চিরকাল বিরোধী শিবিরে থাকতে হবে। এই কৌশল বের করা এখন বিএনপির জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ বা সর্বদলীয় সরকার আওয়ামী লীগ এখন আর মানার প্রয়োজন নেই।
বিএনপির দুর্বল নেতৃত্ব, ভুল কৌশল, দুর্বল বক্তব্য ও তৃতীয় শক্তির ঘাড়ে চড়ে ক্ষমতায় যাওয়ার ভুল কৌশলে দলটি গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে অনেক পিছিয়ে পড়েছে। বিএনপি এখনো তার প্রতিষ্ঠাকালের (১৯৭৮) রাজনৈতিক আবহে রয়ে গেছে। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের চিন্তাধারা, কৌশল, জনগণ সম্পর্কে তাদের ধারণা, ছাত্র ও তরুণ সম্পর্কে তাদের ধারণা—সবই প্রায় আশির দশকের। সেই চিন্তায় বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি।
সর্বশেষ টানা একচল্লিশ দিন আগুন সন্ত্রাস করে জনমনে আতংক সৃষ্টি করে দিয়েছেন।জনগন এখন জানে বি,এন,পির আন্দোলন মানে পেট্রোল বোমা,ভাংচুর,লুটপাট।এখন যেই অবস্থায় আছে তাতে আগামী নির্বাচন পয্যন্ত দলের ঐক্য ধরে রাখাই হবে বি,এন,পির জন্য বড় চেলেঞ্জ,আন্দোলন করা দুরের চিন্তা।
তাছাড়াও দলটি নির্বাচন কালীন কোন নতুনত্ব দিতে আগেও পারেনি,ভবিষ্যতেও পারবে বলে মনে হয় না।আওয়ামী লীগ যেমন রাজনীতিতে ডি,জিটাল বাংলাদেশের ঘোষনা দিয়ে বা ভিশন ২০২১এর স্বপ্ন দেখিয়ে তরুন সমাজকে আকৃষ্ট করে একক ভাবে সরকার গঠন করেছিল, তদ্রুপ নতুন চমক বি,এন,পি যত দিন উদ্ভাবন করতে পারবেনা ততদিন বি,এন,পি কে ক্ষমতার বৃত্তের বাহিরে থেকে বিরুদীদলের ভুমিকাই পালন করতে হবে।পৃথিবির প্রত্যেকটি দেশেই পশ্চিমা ভোটের গনতন্ত্রে এভাবেই এক দল অন্যদল কে ক্ষমতার রাজনীতিতে নিষ্কৃয় করে ক্ষমতা ধরে রাখে।বাংলা দেশেও এর ব্যতিক্রম আশা করা যায় না।
বি,এন,পি ক্ষমতায় থাকা কালে শেখ হাসিনাকে হত্যা করে ক্ষমতার ভিত পাকা করার চেষ্টা করেছিল।ব্যর্থ হয়ে নীজদলের প্রেসিডেন্টকে তত্বাবধায়ক প্রধান করে নির্বাচনের পায়তারা করার কারনে ১/১১ এর সৃষ্টি হয়েছিল।এখন ও আওয়ামী লীগ থেকে তদ্রুপ কোন আচরন জনগন প্রত্যক্ষ করেনি,এটাও বি,এন,পি এর জন্য কম প্রাপ্তি নয় আমি মনে করি।
পরিশেষে বলতে পারি, আওয়ামী লীগ যত সহজে জনগনের আতের খবর রাখতে পারে এবং সেইমতে কর্মসুচি প্রনয়ন করতে পারে,আন্দোলনকে যুক্তিক পয্যায় নেয়ার সফলতা দেখাতে পারে-- বি,এন,পি তাঁর ধারে কাছেও যাওয়ার মত কোন শক্তি নেই।আওয়ামী লীগ এককথায় তাঁর সকল এপ সব সময় আপডেট দিয়ে রাখে,।বি,এন,পি আপডেট না দিয়ে স্থবির করে রাখে,ফলে বাধ্য হয়ে সব জ্যামধরে বন্ধ হয়ে যায়।আওয়ামী লীগ পুরাতন সংগঠন হলেও, নেতৃত্বে নতুনত্ব আনতে পারে।বি,এন,পি নতুন হলেও নেতৃত্বে পুরাতন ধ্যান ধারনা ত্যাগ করা সম্ভব করতে পারেনা।তাই অনিবায্য পতনের দিকেই ধাবিত হওয়া ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই।
" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু
জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন