সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
১৫/২১ই আগষ্ট একই মুদ্রার এপিট ওপিট।উদ্দেশ্য অভিন্ন----!!
=======>=>=========>===
আজ রক্তাক্ত ২১ আগস্ট। ২০০৪ সালের এই দিনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। ভয়াবহ এই হামলায় শেখ হাসিনা অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী আইভি রহমানসহ ২৪ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী নিহত হন। আর আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেছে কয়েকশ' আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী। আজ ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ১১ বছর পূর্ণ হলো। চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি বর্তমানে ঢাকার দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল-১এ বিচারাধীন রয়েছে। মামলার এখন সাক্ষ্য নেয়া হচ্ছে। ৪৯১ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৭৬ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী তারিখ আগামী ২৪ ও ২৫ আগস্ট। মামলায় ৫২ আসামির মধ্যে গ্রেফতার হয়েছে ২৬ জন। এদের মধ্যে জামিনে আছে ৭ জন। এখনও পলাতক রয়েছে ১৯ জন।আদালতের স্পেশাল পিপি আবু আবদুল্লাহ ভূইয়া মামলার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানান, মামলার এখন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। গত ১৯ আগস্ট এই মামলার ১৭৫ ও ১৭৬তম সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা শেষ হয়েছে। আগামী ২৪ ও ২৫ আগস্ট মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। মামলাটি দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে-১এ বিচারাধীন আছে। ২০১১ সালের আগস্ট মাসে মামলাটি দ্রুতবিচার ট্রাইবুন্যাল-১এ বিচারের জন্য পাঠানো হয়েছিল।জানা গেছে, জামিনে আছে আসামি খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলাটির তিন তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, এএসপি আবদুর রশীদ ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম। অন্যদিকে সাবেক মন্ত্রী জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ২৬ জন কারাগারে রয়েছে।বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপির সাবেক এমপি কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ,তাজ উদ্দিনসহ ১৯ জন আসামি পলাতক আছেন।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট দিনটি ছিল শনিবার। সেদিন বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সন্ত্রাস ও বোমা হামলার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমাবেশ উপলক্ষে হাজার হাজার মানুষের ঢল নেমেছিল বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে। সমাবেশ শেষে সন্ত্রাসবিরোধী মিছিল হওয়ার কথা থাকায় মঞ্চ নির্মাণ না করে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি ট্রাককে মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সমাবেশে অন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্যের পর শেখ হাসিনা বক্তব্য দিতে শুরু করেন।
ঠিক বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে 'জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু' বলে বক্তৃতা শেষ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তার হাতে থাকা একটি কাগজ ভাঁজ করতে করতে এগোচ্ছিলেন ট্রাক থেকে নামার সিঁড়ির কাছে। মুহূর্তেই শুরু হলো নারকীয় গ্রেনেড হামলা। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হতে লাগল একের পর এক গ্রেনেড। মুহূর্তেই মৃত্যুপুরীতে পরিণত হলো জীবন্ত বঙ্গবন্ধু এভিনিউ। শেখ হাসিনাকে টার্গেট করে একের পর এক গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায় ঘাতকরা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ১৩টি গ্রেনেড বিস্ফোরণের বীভৎসতায় মুহূর্তেই রক্ত-মাংসের স্তূপে পরিণত হয় সমাবেশস্থল। রক্তগঙ্গা বয়ে যায় এলাকাজুড়ে। ঘাতকদের প্রধান লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনা। বিষয়টি বুঝতে পেরে ট্রাকে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতারা ও শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে মানব বলয় রচনা করে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেন বঙ্গবন্ধু কন্যাকে। নেতা ও দেহরক্ষীদের আত্মত্যাগ ও সৃষ্টিকর্তার রহমতে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান শেখ হাসিনা।
আরেকটি রক্তাক্ত ১৫ আগস্ট ঘটাতে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে উপর্যুপরি ১৩টি গ্রেনেড মেরেই ক্ষান্ত হয়নি ঘাতকরা, গ্রেনেডের আঘাতে প্রাণ কেড়ে নিতে না পেরে ওদিন শেখ হাসিনার গাড়িতে বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়েছিল ঘাতকরা। পরিকল্পিত ও টার্গেট করা ঘাতকদের নিক্ষিপ্ত গুলি ভেদ করতে পারেনি শেখ হাসিনাকে বহনকারী বুলেটপ্রুফ গাড়ির কাঁচ। শেখ হাসিনাকে আড়াল করে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে জীবন বিলিয়ে দেন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রহমান। নারকীয় এই হামলায় প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচন্ড শব্দের কারণে বাম কান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
লক্ষ করলে দেখা যায়, বিশ্ব ইতিহাসে এমন নজির আর একটি ও খুঁজে পাওয়া যাবে না,উপর্যপুরি একের পর এক হামলা করে একটি পরিবার এবং প্রতিষ্ঠীত কোন রাজনৈতিক দলকে বিলীন করে দেয়ার উদ্দেশ্যে এতবার হামলা করা হয়েছে।১৫ই আগষ্ট স্বপরিবারে জাতির জনকের পরিবারকে আত্মীয়,শিশু সহ হত্যা করেও ঘাতকেরা সন্তুষ্ট হতে পারেনি।জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকেও হত্যা করে।সভ্যদুনিয়ায় নিরাপদ স্থান জেল খানা,সেখানেও হত্যাকান্ড চালাতে দ্বিধা করেনি,ঘাতকচক্র।
যেদিক থেকেই চিন্তা করা যায়,সেইদিক থেকেই নির্দিষ্ট করে বলে দেয়া যায়,সাম্রাজ্যবাদি, তাঁদের এদেশীয় দোষর উভয়ের মিলিত চক্রান্তের ফসল এই ভিবৎস নারকীয় হত্যাযজ্ঞ।যখনই দেশী বিদেশি চক্রান্তকারীদের স্বার্থরক্ষার মিলন এক মোহনায় মিলিত হয় তখনি নেমে আসে প্রগতির ধারক বাহক আওয়ামী লীগের উপর নির্মম আঘাত।
২১শে আগষ্টের ঘটনার প্রতি লক্ষ করলে স্পষ্ট হতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই,রাষ্ট্রের সর্ব উচ্চ পয্যায় থেকে সেদিন ঘাতকেরা পরিষ্কার নির্দেশনা পেয়ে হত্যা কান্ডটি সংঘটিত করার জন্য চেষ্টা করেছিল।এখানে আর ও স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসন ওৎপ্রোত ভাবে জড়িত ছিল।জনগনের টেক্সের টাকায় যে প্রশাসন রক্ষনা বেক্ষন করা হয় সে প্রসাশন রাষ্ট্রের তল্পিবাহক না হয়ে, জনগনকে হত্যার জন্য ব্যবহার হয়,ব্যক্তির তল্পিবাহক হয়ে কাজ করে।
১৫ই আগষ্ট জাতির জনককের পরিবার সহ হত্যা করে সাম্প্রদায়িক গোষ্টি মনে করেছিল,অসম্প্রদায়িকের নেতৃত্বের উৎসস্থল ধ্বংশ করে দিতে পেরেছে,সুতারাং নিরবিচ্ছিন্নভাবে তাঁদের জঙ্গীরাষ্ট্র বানাবার পথে আর কোন কাঁটা নেই।যথেচ্ছভাবে তাঁরা জনগনকে শোষন শাসন অব্যাহত রেখে ধীরে ধীরে জাতিকে অন্ধকার যুগের দিকে দাবিত করে নিয়ে যাবে।কিন্তু পরক্ষনেই তাঁরা বুঝতে পেরেছে, না সম্ভব হবে না,জাতির জনকের কন্যাদ্বয় এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব যত দিন বাংলার মাটিতে থাকবে, তত দিন বাংলাদেশকে তাঁদের উদ্দেশ্যের ভাবধারায় নেয়া সম্ভব হবে না।
পৃথিবীর ইতিহাসের এতবড় ভিবৎস ঘটনাকে সে দিন রাষ্ট্রীয় পয্যায় থেকে যেভাবে অবহেলার চোখে দেখা হয়েছিল, তা আর এক নজিরবিহিন ইতিহাসের সৃষ্টি করেছে।ঘটনাস্থলের নমুনা পয্যন্ত সেদিন রাষ্ট্রীয় শীর্ষ পয্যায়ের নির্দেশে পানিদিয়ে ধুয়েমুছে পরিস্কার করে ফেলা হয়েছিল।
এতসব কিছুর পর ও প্রগতির ধারক বাহকদের মধ্যে যখন অনৈক্য পরিলক্ষিত হয় তখন আশংকিত না হয়ে পারিনা।আওয়ামী লীগ কিভাবে ভুলে যায় ৭৪/৭৫এর ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র।ঘরেই সেদিন ছিল সাম্রাজ্যবাদির এজেন্ট,তাঁর নেতৃত্বেই ঘটেছিল ইতিহাসের নির্মমতম ন্যাক্কারজনক ১৫ই আগষ্ট।আবার দেখা যায় বর্তমানেও সেই একই ধারার মোস্তাক ধীরে ধীরে দেশরত্নের কাছেই গিয়ে পৌঁছে গেছে।ষড়যন্ত্র হচ্ছে নেত্রী স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন,তারপর ও কাছেই কেন রেখেছেন জানিনা।
২১শে আগষ্ট প্রথম হামলায় যদি জননেত্রী দেশরত্নের মৃত্যু নিশিত করা সম্ভব হত ঘাতকদের,একজন নেতাও সেখান থেকে ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকতো না।সব আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যা করার জন্যই জনসভাস্থল বেছে নেয়া হয়েছিল।প্রসাশনের সর্বস্তর যেভাবে জড়িত ছিল উদ্দেশ্য তাঁদের ব্যাপক ছিল এতেও কোন সন্দেহ নেই।তাঁদের হত্যাযজ্ঞ চলতো বছর ব্যাপি।আওয়ামী লীগ ও তাঁর ঘরানার বুদ্ধিজীবি, লেখক,চিন্তক সব শ্রেনী পেশার প্রগতির ধারনায় বিশ্বাসিদের খুজে খুজে হত্যা করা হত।সমুলে উৎপাটন না হওয়া পয্যন্ত এই হত্যাযজ্ঞ থামাতো বলে আমি বিশ্বাস করি না।
আজকের দিনে যারা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে, ত্যাগি নেতা কর্মিদের উপর হামলা করতে দ্বিধা করছে না,তাঁরাই এই রুপবিপদে ৩২দাঁত বের করে হাসতো।ষড়্যন্ত্র এখন ও থেমেছে বলে যারা আওয়ামী লীগের ক্ষমতার শীখরে বসে, ক্ষমতার দাপটে মুক্তিযুদ্ধা,ত্যাগি নেতাকর্মিদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে ক্ষমতার দম্ভ দেখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন,তাঁদেরকে এখনি লাগাম টেনে না ধরলে সামনেই বিপদ অবশ্যম্ভাবি।আর তখন এই সব সুযোগ সন্ধানীরা চেহারা পালটিয়ে--বোল পালটিয়ে পুরাতন ঘরে ফিরে যেতে সময় লাগবে না।
১৫ই আগষ্টের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্যই ২১শে আগষ্টের হত্যাযজ্ঞ।১৫ই আগষ্টের হত্যার দেশী বিদেশি চক্রান্তের স্ব্ররুপ আজ পয্যন্ত উৎঘাটিত হয়নি।২১শে আগষ্টের ও দেশীয় জড়িত দুষ্কৃতিকারিদেরকে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে মাত্র,পিছনের পরিকল্পনাকারী ও বিদেশী এজেন্টদের স্বরুপ উম্মোচিত হয়নি।এই দুই ইতিহাসের ন্যাক্কারজনক ঘটনার অবিলম্বে শ্বেতপত্র প্রকাশ করে জাতিকে জানানো উচিৎ, কারা এই ঘটনা সমুহে জড়িত ছিল কিইবা তাদের উদ্দেশ্য ছিল।
""জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু
জয়তু দেশরত্ম শেখ হাসিনা""
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন