সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
' জাতির জনক সার্বজনীন,কোন একক দলের নয়
======================>>
অনেক সুশিল বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামের মহত্ব নিয়ে সমালোচনার খই ফুটিয়ে দেন ইলেক্ট্রিক মিডিয়া গুলিতে।তখন ইলেক্ট্রিক মিডিয়া ছিল না,যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না।সীমিত পরিসরে বনঙ্গবন্ধু একটা জাতিকে ধীরে ধীরে স্বাধীনতার দ্ধারপ্রান্তে নিয়ে গেলেন,এখনকার সুশিলগন এত সুযোগ থাকার পর ও দশ জন মানুষের সমর্থন কেন যোগাড় করতে পারেননা?,৭০ এর নির্বাচনে অংশ নেয়ার যে সিদ্ধান্ত সেই দিন বঙ্গবন্ধু নিয়েছিলেন, সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার মত সুদুরপ্রসারী চিন্তাভাবনা করার মত নেতাও তখন মুলত ছিল না।বঙ্গবন্ধু দেশ এবং জাতিকে নিয়ে যে ভাবে চিন্তা করতেন, আজ পয্যন্ত উদাহরন থাকার পর ও,একজন ও কি সেই রীতির চিন্তা চেতনার আশেপাশে যেতে পেরেছেন?
১৯৬৯ সালের মার্চে গণআন্দোলনের মুখে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের পদত্যাগ কিংবা আসলে পাক সামরিক জান্তা কর্তৃক তাঁর অপসারিত হওয়ার পর জেনারেল ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হাতে নিয়েই দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন। বলা হয় সার্বজনীন বয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত দেশের উভয় অংশের জনপ্রতিনিধিরা দেশের ভবিষ্যৎ সংবিধান প্রণয়ন করবেন। তবে নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া লিগাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার (এলএফও) বা আইনগত কাঠামো আদেশ নামে একটি আদেশও জারি করেন। সেই আদেশ জারির মাধ্যমে কার্যত সংবিধান প্রণয়নের ব্যাপারে জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়। বলা হয়, জনপ্রতিনিধিদের প্রণীত সেই সংবিধানে যেমন ইসলাম তেমনি পাকিস্তানের ঐক্য বা সংহতির পরিপন্থী কিছু থাকতে পারবে না। আর প্রেসিডেন্ট অনুমোদন পাওয়ার পরই কেবল সে সংবিধান কার্যকর হবে। তারপরই ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারটি ঘটবে, আগে নয়। কী পাকিস্তানের ঐক্য বা সংহতির পরিপন্থী আর কী তা নয়, সেটা কে বিচার বা নির্ধারণ করবে? বলা বাহুল্য, প্রেসিডেন্ট নিজেই। এভাবে নির্বাচনের পরও ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কর্তৃত্ব প্রেসিডেন্টের হাতেই রেখে দেওয়া হল। এলএফও-র ২৫নং ধারায় বলা হয়, জনপ্রতিনিধিদের প্রণীত সে সংবিধান যদি প্রেসিডেন্ট অনুমোদন না করেন তবে জাতীয় পরিষদ আপনা আপনি বাতিল হয়ে যাবে। সেদিন এলএফও জারির পর দুই ন্যাপসহ অনেকগুলো দলই তার সমালোচনা করেছিল। তারা এলএফও-র ওই ধারাগুলো বাতিল না করা পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে মত ব্যক্ত করেছিল। বিশেষ করে মস্কোপন্থী ন্যাপ ও ছাত্র ইউনিয়নের তরফ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্বাচনে না গিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার জন্য নিয়ন্তর চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছিলেন।পুর্ব পাকিস্তানের প্রায় সব দল এবং কি পশ্চিম পাকিস্তানের দুই একটি দল ছাড়া সবাই চাইছিলেন ইয়াহিয়া খাঁন কতৃক জারী কৃত আদেশ প্রত্যাহার ব্যতিত ইলেকশান করে কোন লাভ হবে না।বঙ্গবন্ধু এরই মাঝে আন্দোলন এবং নির্বাচনের দিকেই মতামত রাখলেন।মাওলানা ভাসানী ভোটের আগে ভাত চাই বলে মাঠেই নেমে গেলেন।সবাই সবাইকে পাকিস্তানের জনগনের মুল প্রতি নিধি হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টায় লিপ্ত।সবাই মনে করে জনগন তাঁর সাথেই আছে,কিন্তু কার আইনগত ভিত্তি নেই।কোন নির্বাচনের মাধ্যমে তখনও প্রমান হয়নি,জনগনের প্রতিনিধিত্ব কে করছে।
"৬৯এর গন আন্দোলনের ফসল তখন বঙ্গবন্ধুর গোলায়,তা ঠিকই বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন।কিন্তু জনগনের প্রত্যক্ষ রায়ের অভাবে একক কোন সিদ্ধান্ত দেশে বিদেশে কোথাও কায্যকর হবে না।বঙ্গবন্ধুর মুল যে উদ্দেশ্য তাতো তিনি পাকিস্তানের জম্মলগ্ন থেকেই পোষন করে আসছেন।প্রকাশ করা যাচ্ছে না রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং জনগনের প্রত্যক্ষ রায়ের অভাবে।ক্ষমতা দিবে না পাকিস্তানীরা তাও বঙ্গবন্ধু জানতেন,ভোটে না গেলে বিশ্ব বাসি তা বিশ্বাস করবে কেন?ইয়াহিয়া যে নীতি কাঠামো ঘোষনা করেছেন এর ভিতরে থেকে নির্বাচন করেও লাভ হবে না, তাও সত্য।ভার্গিন করার একক ম্যান্ডেট কোন দলের নেই।সুতারাং ভার্গিন করবে কিভাবে?বঙ্গবন্ধু সেই দিন যদি নির্বাচন করার ঘোষনা দিয়ে নির্বাচনে একক সংখ্যগরিষ্টতা না পেতেন তাহলেও কি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের মত সসস্ত্র যুদ্ধের দিক নেয়া যেত?দেশে বিদেশে কি আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের ন্যায়সংগত দাবী প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হত?
৭০এর নির্বাচনের আগে বনঙ্গবন্ধুকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আপনি চাইছেন ছয় দফার ভিত্তিতে বাংলাদেশের শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করতে। যদি মেজরিটি সিট পেয়ে তা করতে পারেনও ইয়াহিয়া খান তা মেনে নেবে না। হয়তো জাতীয় পরিষদই বাতিল করে দেবে। তাহলে নির্বাচনে জয়লাভ করে কী লাভ হবে?’
বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘লাভ আছে, আমি সমগ্র পৃথিবীকে দেখাতে পারব বাংলার মানুষ কী চায়। আজ দেশে অনেক দল, অনেক নেতা। সবাই বলে জনগণ তাদের সঙ্গে আছে। কিন্তু জনগণ কার সঙ্গে আছে তার কোনো আইনগত প্রমাণ নেই। আমি জানি, বাংলার মানুষ আমার সঙ্গে আছে। কিন্তু এই পরম সত্যেরও বিধিগত কোনো ভিত্তি নেই। যদি নির্বাচনে জয়লাভ করি, জনগণের ম্যান্ডেট পাই, সেই আইনগত ভিত্তি অর্জিত হবে। আর তখন জনগণের নির্বাচিত নেতা হিসেবেই আমি জনগণের পক্ষ হয়ে ইয়াহিয়ার সেচ্ছাচারী নীতি-পদক্ষেপ চ্যালেঞ্জ করতে পারব। বিশ্ববাসী দেখবে—শেখ মুজিব যা বলেছে, যা চাইছে, তা তার একার কথা নয়, গোটা দেশবাসীর কথা, আর এভাবেই বাঙালির স্বাধিকার সংগ্রাম বিশ্ববাসীরও সমর্থন লাভ করবে।’ এমনই ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা। এই দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার কারণেই অর্জিত হয়েছিল আমাদের মহান স্বাধীনতা।
৭০এর নির্বাচনে না গিয়ে আন্দোলনের পথে পা বাড়ালে মার্শাল ল' আরো কঠোরতর ভাবে প্রয়োগ হত।হয়ত এমন পরিস্থিতিতে দুই এক বছর পার হয়ে যেতে পারতো।ফলাফল মুলত কিছুই আসতো না।তাছাড়া ৬৯এর গন অভ্যুত্থানের রেশ তখন পয্যন্ত নাও থাকতে পারতো।স্বাধিনতার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে আরো কয়েক যুগের অপেক্ষার দরকার হত । তা কি হলফ করে বলা যায়?
ইয়াহিয়া চাইছিলেন এই ধরনের প্রজ্ঞাপন জারী করে রাজনোতিক দল গুলিকে নির্বাচনের বাহিরে রাখতে।নির্বাচনে যদিও আসে প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তাঁদের মনমত না হলে সংসদ নিয়ম অনুযায়ী ভেঙ্গে যেত,নতুন করে ঘোষনার প্রয়োজন হত না।তাঁরপরও বঙ্গবন্ধু নির্বাচনের পক্ষেই তাঁর অবস্থান নিলেন।
আজ স্বাধীনতার ঘোষনা নিয়ে অনেকে বিতর্ক করার চেষ্টা করেন।৭ই মার্চের ভাষন তারা ভাল করে না শুনে বিতর্ক করার চেষ্টা করেন।মেজর জিয়া নিজেই যেখানে তাঁর বিচিত্রায় দেয়া নিবন্ধে লিখেছেন,বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষনেই বাঙ্গালী অফিসারেরা স্বাধীনতার গ্রীন সিগনাল পেয়ে গিয়েছিলাম।পাকিস্তান পুর্ববাংলা আক্রমন করে ন্যায্য দাবী ধুলিসাৎ করার জন্য আলোচনার নামে সময় ক্ষেপন করছেন তা কি বঙ্গবন্ধু বুঝতে পারেননি?না পারলে তিনি কেন বলবেন,"তোমাদের যা কিছু আছে,তা নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে"।তিনি থাকবেন না,বা কারাগারে দেয়া হবে ,তাও তিনি বুঝতে পেরেছিলেন,তাইতো সেই দিনই বলে দিলেন,"আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি।"তাঁর পর ও জ্ঞান পাপিরা বিতর্কে লিপ্ত হতে সামান্যতম দ্বিধাবোধ করেন না।
নিদ্বিধায় বলা যায়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের জম্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হত না,বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালীর ঘরে জম্ম না নিলে বাঙ্গালীও কোন কালে মুক্তির স্বাধ গ্রহন করতে পারতো না।হাজার বছরে বাঙ্গালী জাতী পেয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে,তাই আজ বাঙ্গালী বিশ্ব দরবারে মাথা উচু করে বলতে পারছে আমি বাঙ্গালী,বাংলাদেশ আমার জম্মভুমি।
"জয়। বাংলা, জয়বঙ্গবন্ধু
জয়তূ দেশরত্ম শেখহাসিনা""
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন