সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
দেশরত্মকে সব দায় নিতে হবে কেন,অন্য সবাই কি ভোগেই মত্ত থাকবে==??
===========================
সরকার পরিচালনা,জোট ঐক্যবদ্ধ রাখা,ছাত্র লীগের অপকর্ম সামাল দেয়া,বিদেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন,সেনাবাহিনীর প্রতি দৃষ্টি,জেলা আওয়ামী লীগের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রক্ষা,র্যাবকে সামাল দেয়া,দলের প্রভাব শালী নেতাদের লোভ লালসা নিয়ন্ত্রন,ত্যাগী নেতাদের মুল্যায়ন,যথার্থ লোককে যথাস্থানে অবস্থান নিশ্চিত করন,নীপিড়িত নেতাদের আর্থিক সাহায্য প্রত্যেক কাজ যদি প্রধান মন্ত্রীকেই করতে হয় তাহলে দলের বাঘা বাঘা নেতাদের মন্ত্রীত্ব দিয়ে কি লাভ?সব কাজ একজনের উপর চাপিয়ে দিয়ে নেতারা ভাল মানুষ সাজার কৌশল নিয়ে প্রকারান্তরে নেত্রীর কর্মক্ষমতাকেই বিনষ্ট করার চক্রান্তে লিপ্ত আছেন আমি মনে করি।
অশোভন আচরন,অযাচিত বক্তব্য,ক্ষতিকর বিবৃতি দিতে শেখ হাসিনার প্রয়োজন হয়না,দলের একান্ত প্রয়োজনীয় কাজ গুলী করার সময় হলে নেত্রীর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়ার কি কারন থাকতে পারে।দলের নিয্যাতিত নেতা কে কোথায় অবস্থান করে,কে কি করে ঐ এলাকার সংসদ সদস্য অবশ্যই জানেন।তাদের সামান্য দলের পক্ষ হয়ে সরকার থেকে সাহায্য করতে সংসদ সদস্যরাই যথেষ্ট।প্রধান মন্ত্রীকেও সেখানে ব্যবহার করতে হবে কেন?
জেলা ওয়ারী কিছু কেন্দ্রীয় নেতাকে রাজনৈতিক বিষায়াবলী দেখা শুনার জন্য দায়িত্ব আগেই থেকেই দেয়া আছে।আমি জানিনা তাঁরা দলের মৌলিক দায়িত্ব গুলীও কেন পালন করেন না।দলের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা নতুন ছাত্রলীগে আসা কর্মীদের কি প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করেছেন তা বোধগম্য নয়।দলে দলে মিছিল করালে দলের উদ্দেশ্য আদর্শ্য শিক্ষা হয়ে যাবে।প্রত্যেক নেতাই যদি মন্ত্রী হওয়ার তদবীরেই ব্যাস্ত থাকেন আগামী দিনের জ্ঞান সম্পন্ন নেতা আসবে কোথা থেকে? দল চালাবে কে?ক্ষমতায় থেকেও যদি বুঝ জ্ঞান সম্পন্ন কর্মি সৃষ্টি করতে না পারে ক্ষমতার বাহিরে গেলে তখনতো পালানোর জন্যও সময় করতে পারেন না।ঢাকা শহরে নাই কথা নিয়ে গলাবাজি করার সময় কোথায় পান তাঁরা?।আমাদের সাংবাদিক সমাজের একটা বড় দুষ পরিলক্ষিত হয় যে সমস্ত নেতা উদ্ভট কথা বলে তাঁদের চারপাশে অহেতুক ঘুর ঘুর করা।মুখ থেকে কিছু বের করলো এমনি পত্রিকা অফিসে দৌঁড়।যে সমস্ত নেতা ইতিবাচক কথা বলে তাঁদের কে মনে ধরে না।তোফায়েল,ওবায়দুল কাদের,আমীর হোসেন আমু,,সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত তাঁরা কি বলে সারাদিন তাঁদের পিছনে থাকুক।পত্রিকার ব্যবসার উদ্দেশ্যে তাঁরা বেফাঁস কথা যারা বলে, তাঁদের কাছেই ঘুর ঘুর করে।এমনিতে ষড়যন্ত্র হচ্ছে প্রতিনিয়ত,কিভাবে সরকারের পতন ঘটানো যায়।জনগনের ভোটে আওয়ামী লীগকে আর পরাজিত করা যাবে না, সম্যক ধারনা তাঁদের হয়ে গেছে।আওয়ামী লীগের উত্থানের পর্বে কি ভাবে বিনাশ করতে চেয়েছিল?আমাদের নেতারা বেমালুম ভুলে গেছে।এখন প্রতিষ্ঠা লগ্ন।এই সময় বেফাঁস কথা বলে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্য কি বোধগম্য নয়।
সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ একটি অত্যন্ত দামি কথা বলেছেন। সম্প্রতি শ্রমিক লীগের এক সভায় তিনি সকলকে এই বলে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, 'বিএনপি-জামায়াত প্রতি মুহূর্তেই সচেষ্ট রয়েছে দেশে আরেকটি ১৫ আগস্ট ঘটানোর জন্য।' সুতরাং, এর বিরুদ্ধে অবিলম্বে দেশে আদর্শভিত্তিক গণঐক্য গড়ে তোলার কোনই বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগ মনে হয় বিএনপি-জামায়াত আপাতদৃষ্টে খানিক কোণঠাসা হয়ে পড়ায় ধরেই নিয়েছে যে, তাদের চলার পথ এখন সম্পূর্ণভাবেই নিষ্কণ্টক। কিন্তু এমন ভাবনা যে রীতিমতো আহাম্মকি তা বলাই বাহুল্য! সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগ যে অনেক অসংগঠিত বা এলোমেলো এতে কোন সন্দেহ নেই। অভিযোগ আছে যে, সিজনাল বার্ড বা মৌসুমী পাখিদের ভিড় ও দাপটে আওয়ামী বৃক্ষের সকল ডাল-পালা সয়লাব। প্রকৃত ত্যাগী, একনিষ্ঠ ও পরীক্ষিত নেতা কর্মীরা হালে পানি পায় না। ফলে কোন বিপর্যয় দেখা দিলে ঐ ধান্দাবাজ পাখিগুলো এক উড়ালে সাইবেরিয়ায় চলে যাবে, আওয়ামী দুর্গটি অরক্ষিত রেখে। আর সুযোগ বঞ্চিত ত্যাগী কর্মীরা বেঘোরে প্রাণ হারাবে। তাই প্রথমত শেখ সেলিমদের এ জাতীয় আত্মঘাতী কথাবার্তা বন্ধ করার পাশাপাশি ত্যাগী-নিবেদিত-পরীক্ষিত কর্মীদেরকে আবারও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য ময়দানে অবতীর্ণ হতে হবে। গণজাগরণ মঞ্চের প্রয়োজনীয়তা আজকের পরিস্থিতিতে আশাকরি সকলেই অনুভব করছেন। যা হোক, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে শক্তিশালী করার জন্য সততা, সাহস এবং কর্মীদের প্রতি সত্যিকারের আন্তরিক দরদের কোন বিকল্প নেই। চারদিকে শোনা যায় যে, ৬৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন আওয়ামী লীগে আদর্শের কোন চর্চা নেই, আছে কেবল চাটুকারিতা। দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের চর্চা, কর্মীমহলে দলের ইতিহাস পর্যালোচনামূলক নিয়মিত আলোচনা, আওয়ামী লীগ ও স্বাধীনতাকে বেগবান ও সফল করতে যারা যারা ভূমিকা রেখেছিলেন তারা আজ যে যেখানেই থাকুক না কেন দলীয় এবং সরকারিভাবে তাদের সে অবদানের স্বীকৃতি প্রদান করাটা আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ শক্তিশালী করার জন্য অত্যন্ত দরকার। আওয়ামী লীগ শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানী, মানিক মিয়া, সিরাজুদ্দীন হোসেন, ইত্তেফাক এবং এমন আরো অনেকের গৌরবজনক ভূমিকা বিষয়ে কোন প্রকার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও আলোচনার আয়োজন করে না, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। স্বাধীনতা যুদ্ধ, ছয়-দফা আন্দোলন, '৬২-এর শিক্ষা কমিশনবিরোধী আন্দোলন, ১১-দফা আন্দোলন এবং ভাষা আন্দোলনে যাদের (ছাত্র-শিক্ষক-সাংবাদিক-রাজনীতিক) স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে অবদান রয়েছে তাদের সে অবদানের বিষয়গুলো গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব।নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনে।
বিএনপি-জামায়াতের বর্তমান নীরবতা-দৃষ্টে এমনটা ভাবার কোনই কারণ নেই যে, আমরা এখন সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ। বরং বর্তমানে চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে সদা সতর্ক এবং ঐক্যবদ্ধ থাকা সবচাইতে জরুরি। এ সত্য উপলব্ধিতে ব্যর্থ হলে এবং এ লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে মহাপ্রলয় ঘটে যাওয়া অসম্ভব নয়।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের আদর্শগতভাবে আজ কতটা অধঃপতন ঘটেছে তা বোঝা যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আওয়ামী নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের দলে দলে আওয়ামী লীগে যোগদান করতে দেখলে। এতে আবার নাকি ঐ আওয়ামী লীগ নেতারা আনন্দে আত্মহারা হন। এ কি আশ্চর্য অবক্ষয় ও মূঢ়তা! জামায়াত-কর্মী কখনো আওয়ামী লীগার হবে? আলবদর তার খাসলত বদলাবে? বিএনপিকে জামায়াত যেভাবে গিলে ফেলেছে,এই অনুপ্রবেশকারী জামায়াত-বিএনপি ঠিক তেমনিভাবেই আওয়ামী লীগের সর্বনাশ সাধন করবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সাধারণ সম্পাদক এমন ক্ষেত্রে দয়া করে কঠিন হউন। বসন্তের কোকিলগুলোকে চিহ্নিত করুন। আগডালে-মগডালে বসে থাকা সুযোগসন্ধানী ও হাইব্রিড বা নব্য আওয়ামী লীগারদের খপ্পর থেকে দলকে মুক্ত করতে সোহরাওয়ার্দী-বঙ্গবন্ধুর মতো দৃঢ়তার সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রম গ্রহণ করুন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিষয়ে কারা বিগত কয়েক দশক যাবৎ মৃত্যুঝুঁকিকে মাথায় নিয়ে মাঠে মাঠে কাজ করেছেন, তা কি সরকারের অজানা? আমরা বুঝতে পারি না যে, সেসব লোককে কেন কাজে লাগানো হয় না! যারা রাতারাতি ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগার বনে গেছে কিংবা স্বজনপ্রীতির বদৌলতে দলের কাছ থেকে নানাবিধ সুবিধা আদায় করে নিয়েছে বা নিচ্ছে তাদের দিক থেকে অতি অবশ্যই মুখ ফিরিয়ে নিতে হবে। ভুললে চলবে না যে, কোন ব্যক্তি দলকে কিছুদূর এগিয়ে নিতে পারেন বটে, কিন্তু দলের স্থায়ী আসনের জন্য চাই আদর্শবাদিতা ও ত্যাগ। এর কোনই বিকল্প নেই। এর সঙ্গে থাকতে হবে দলের ইতিহাসের সত্যনিষ্ঠ পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ।
'৭৫ পরবর্তি দুসময়ের ছাত্র নেতারা কে কোথায় আছে,কি অবস্থায় আছে খবর নিন।তাঁদের কে দায়িত্ব দিয়ে দল গোছানোর কাজে লাগানো যায়।অবহেলায় অযত্নে হয়তো অভিমান নিয়ে দলের জন্য নীরবে চোখের পানি ফেলছে,নেত্রী যদি স্মরন করেন সব অভিমান ভুলে তাঁরাই আবার ঝাপিয়ে পড়বে দলের কাজে।তাঁদের সরকারী সুযোগের দরকার নেই,দলের দায়িত্ব ফেলেই তাঁরা খুশি।অনেক ত্যাগী নেতা বিভিন্ন কারনে অকারনে,দলীয় কোন্দলের শিকার হয়ে অন্য দলে চলে গেছেন,বঙ্গবন্ধুর প্রতি অবহেলা সহ্য করতে না পেরে সেখানকার রাজনীতি থেকেও নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন,এমনতর নেতা কর্মি অনেকেই আছেন।
আমি আর ও এক লেখনীতে বলেছি,আজ আবার সেই লেখনীর আংশিক হুবহু আপনাদের জ্ঞাতার্থে তুলে দিচ্ছি--
জাসদ যদি আওয়ামী লীগে ফিরে যায়, সেটা হবে ‘ঘরে ফেরা’। আলাদা দল রেখে নাম বদল করলে, অর্থাৎ দলের নাম থেকে ‘সমাজতান্ত্রিক’ শব্দটি বাদ দিলে আলাদা রাজনীতির মাজেজাটাই থাকবে না। সিদ্ধান্ত নেওয়াটা খুব সহজ হবে না। আগামী ডিসেম্বরে জাসদের কাউন্সিল সভা। সেখানে জোর বিতর্ক হবে। সাধারণ সম্পাদক আম্বিয়া বেশ ঝুঁকি নিয়েছেন। কাউন্সিলে তিনি সাধারণ সম্পাদকের পদটি হারাতে পারেন। একটা বিষয় অবশ্য দলের ভেতরে-বাইরে বেশ চাউর হয়েছে। ‘বি-টিম’ হিসেবে থাকার চেয়ে ‘এ-টিমে’ যোগ দেওয়াই ভালো। এখন সবাই যখন ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’, তখন আলাদা থাকারই বা প্রয়োজন কী। এর উত্তর পেতে জাসদের আগামী কাউন্সিল সভা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
জাসদ ইনু অংশ যদি জোটে থেকে একাদিক মন্ত্রীত্ব পেতে পারে,সংসদ সদস্য পদ পেতে পারে,দলে এসে গেলেই বা ক্ষতি কি?জাসদের আওয়ামী লীগের সাথে লীন হওয়া বাঞ্চাল করার জন্যই আজকের এই বিতর্কের উদ্ভব বলে আমি মনে করি।
জামাতের লোক, মুসলিম লীগার পরিবারের সদস্যরা,বি,এন,পি,এর সন্ত্রাসী মাস্তানেরা যদি আওয়ামী লীগে ঠাঁই পেতে পারে,তাহলে জাসদের মত প্রগতিশীল দলের আওয়ামী লীগের সাথে লীন হলে বাঁধা আসবে কেন।আসার আগেই ষড়যন্ত্র করে আসার পথ রুদ্ধ করার কি প্রয়োয়োজন তা আমার মত সাধারন এক সমর্থকের মাথায় আসে না।
জেনারেল জিয়া ক্ষমতায় আরোহণ করেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিনাশী যেসব নির্মম-নৃশংস উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে স্বৈরাচারী এরশাদ ও খালেদা-নিজামীদের সরকারগুলো যা আরো বর্বরোচিতভাবে বাস্তবায়ন করেছিলো তার বিপরীতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ আর জাসদসহ আরও কিছু প্রগতিশীল দল এগিয়ে এসেছে সকল প্রকার ঝুঁকি মাথায় নিয়ে। পঁচাত্তর পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা জাসদকে আওয়ামী লীগের কাছাকাছি এনে দিয়েছে। বিগত এবং বর্তমান সংসদে এবং বিভিন্ন টকশোতে জাসদ নেতা মঈনুদ্দীন খান বাদল যে যুক্তিনিষ্ঠা ও দৃঢ়তার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত ও মুক্তিযুদ্ধের শত্রুদের বিরুদ্ধে বক্তব্য উপস্থাপন করেন তাতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিরই লাভ হয়। আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে হাতেগোনা দু-চারজন মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে বরাবর আপসহীন, প্রত্যয়দৃঢ় ও সত্যনিষ্ঠ বক্তব্য রাখলেও অধিকাংশ নেতাই যুক্তিসিদ্ধ ও লাগসই জবাব দিতে সক্ষম হন না। যা খুবই দুঃখজনক। বিভিন্ন সময়ে টকশোতে বিএনপি-জামায়াতপন্থী 'টকারদের' বক্তব্য খন্ডন করতে ক'জন আওয়ামী লীগের এমপি বা নেতা সক্ষম হন? এ ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বুদ্ধিজীবী-শিক্ষাবিদ-সাংবাদিক-আইনজীবীরা অকুতোভয়ে ভূমিকা পালন না করলে আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত মিথ্যাচারে দেশ এতদিন তলিয়ে যেতো!
যাহোক, যে বাস্তবতার কারণে পঁচাত্তর পূর্বে আওয়ামী লীগ বিরোধী ভূমিকা পালনকারী জাসদ আজ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ছাতার নিচে একত্রিত হয়েছে সে বাস্তবতাকে সর্বাগ্রে বুঝতে হবে ও মূল্যায়ন করতে হবে। আমাদের সকলের অস্তিত্বের ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে। ভুললে চলবে না যে, রাজনীতিতে অসময়োচিত বক্তব্য বা বিবৃতি প্রাধান্য পেলে ক্ষতি হয় দেশের, ক্ষতি হয় জনগণের! শেখ সেলিম সুদীর্ঘকাল রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পঁচাত্তরে তার আপন ভাই শেখ ফজলুল হক মনিও নৃশংসভাবে নিহত হন। সেদিন সেই হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে আপন রক্ত সম্পর্কিত ব্যক্তিবর্গ কেউ কি প্রতিবাদ বা প্রতিশোধ গ্রহণে উদ্যোগী হতে পেরেছিলেন? শেখ সেলিম নিজে কি পেরেছিলেন? কেন পারেননি তা সকলেই বোঝে। সেদিনের শৃঙ্খলিত পরিবেশে তা পারা সম্ভবও ছিলো না। তবে যারা রাজনীতি করেন তাদের ক্ষেত্রে সত্য, সততা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
এখন তো আর সেই আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া যাবে না। আজ বিরোধী দল বলতে তেমন কিছু নেই। এই অবস্থায় আওয়ামী লীগের হাতে একচ্ছত্র ক্ষমতা। এই ক্ষমতা তো তারা দেশের অগ্রগতির জন্য ব্যবহার করতে পারে। বাধা দেওয়ার কেউ নেই। এই আপাত শূন্যতার সুযোগ নিয়ে সরকার যদি সত্যিই মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যাগুলো সমাধানের পথে এগিয়ে যেতে পারে, তাহলেও তো একটা কিছু হয়। এই যে প্রতিবছর দেশে প্রায় ২০ লাখ লোক কর্মজীবনে প্রবেশের বয়সে পা রাখছে, আর তাদের মধ্যে ১৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে ও বাকি সাত লাখের হচ্ছে না, তাদের জন্য যদি একটা সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, তাহলেও তো একটা কাজের কাজ হয়। কিন্তু সে রকম লক্ষণ এখনো তেমন চোখে পড়ে না।
অথচ আমাদের চোখের সামনেই তো মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড দাঁড়িয়ে গেল। ভিয়েতনাম এগিয়ে যাচ্ছে। এসব দেশেও গণতন্ত্রের একই হাল। আছে আবার নেই। নির্বাচন হয়, আবার প্রশ্নও থাকে। পার্লামেন্ট আছে, বিরোধী দলও আছে, কিন্তু সেটা না থাকার মতোই।
এ রকম মডেল আদর্শ নয়। আমরা কেউই চাই না। কিন্তু দেশের রাজনীতির ডামাডোলে যখন এ রকম একটা অবস্থায় আমরা পড়ে গেছি, মন্দের ভালো একটা কিছু হলে দোষ কী? মানুষের ভাগ্য খুলে দেওয়াই তো আসল কথা। এখানেই সমস্যা। যখন সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যেই গোলাগুলি চলে, ভাগ-বাঁটোয়ারার রাজনীতি মুখ্য হয়ে ওঠে, তখন তো ভরসার আর কোনো জায়গা থাকে না।
জননেত্রী জনগনকে যে ভাবে আশা জাগানীয়া কথা শুনিয়ে আস্বস্ত করতে পারেন,তেমন্টি আর কোন দলের নেতা নেত্রী পারেন।আওয়ামী লীগ যখনই সুযোগ পেয়েছে জনগন তখন কিছু না কিছু পেয়েছে।এই দেশের যাহাই অর্জন চোখে পড়ে সবইতো আওয়ামী লীগের অবদান।তাই এই দলের প্রতি মানুষের আশা আখাংকার মাত্রাও একটু বেশী এটাই স্বাভাবিক।যে বাড়ীতে ভিক্ষুক বেশী ভিক্ষা পায়,সে বাড়ি প্রত্যহ সফর চাড়া ভিক্ষুক বাড়ী পেরে না।তেমনি আওয়ামী লীগ ত্যাগে যেমন মহিমাম্বিত তেমনী ভোগে নিস্পৃহ থাকা উচিৎ বলে আমি মনে করি।অর্থ ছাড়াই যদি সম্মান পাওয়া যায়, তবে অর্থ আহরনের প্রতিযোগীতা কেন? মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধার বাহকেরা যদি আওয়ামী লীগে আসতে চায় তবে রাজাকার জামাত শিবিরের প্রয়োজন কি?
শোকের মাসে অর্জন যেমন আনন্দদায়ক উৎফুল্ল করেছে, তেমনি অযাচিত বিতর্কে মন ও খারাপ করেছে।সব মিলিয়ে পাওয়ার পাল্লাই ভারী এই ভেবে আনন্দের জোয়ারে কিছুক্ষন অবগাহন করলে ক্ষতি কি.?
"জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু"
"জয়তু দেশরত্ম শেখ হাসিনা"
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন