অবিলম্বে সাংবাদিক প্রবীর শিকদারকে মুক্তি দেয়া হোক।============================< যুগে যুগে সত্যবাদিরা নিগৃহিত হয়েছে।স্পষ্টবাদীদের বর্তমান যুগে কেহই পছন্দ করেনা। নীজের বউ ও পছন্দ করে না।এমন কোন সময়ের দেখা পাওয়া যায়না,মুখের সামনে সত্য, বাস্তব,নিরপেক্ষ কথা বলতে গিয়ে কোন না কোন ভাবে ঐ মানুষটি হেনস্তা হয়নি।তেমনি ঘটনা এবার ঘটলো বিশিষ্ট সাংবাদিক ,বীর মুক্তি যোদ্ধা (যুদ্ধাহত)প্রবীর শিকদারের বেলায়ও।তবে এইটা সত্য এই শ্রেনীর লোকেরা ,প্রভাবশালীদের দ্বারা নিগৃহিত হলেও সম্মান হানি হয় বলে আমি মনে করিনা।অপরাধীকে- অপরাধি বললে, যদি ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয়ে, সেই ক্ষতি যারা অপরাধকে ঘৃনা করে, তাঁদের ভালবাসায় পূর্ন হয়ে যায়।প্রবীর দাদা আর ও বড় বেশি অগ্রসরমান কথা বলে নিগৃহিত হচ্ছে।এতে আমি একেবারেই বিস্মিত হইনি।আমার বাবা যদি মুক্তি যুদ্ধে রাজাকার হতেন,আমি তাঁকে প্রকাশ্য ঘৃনা করতাম,জম্মদাতা বলে হয়তো বাবা ডাকতে হত।কারন জ্ঞান হওয়ার আগে, মুক্তিযুদ্ধ কি,কেন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল বাবা ডাকায় অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম তাই। প্রতিষ্ঠিত রাজাকারের বিরুদ্ধে কলম ধরার কারনে ,প্রবীর শিকদারকে র‍্যাব, ডিবি পুলিশ ধরে নিয়ে এসেছে।হয়তো বা শারিরীক নিয্যাতনের স্বীকার ও হতে হবে। ঘটনাটি কে বা কারা ঘটিয়েছে ইতিমধ্যে সচেতন মানুষ বুঝতে পেরেছে।কালে কালে লক্ষ করা যায়,মানুষ একেবারে কলংকমুক্ত হয়না।আমাদের প্রধান মন্ত্রীও ব্যতিক্রম নয়।অনেক আত্মীয় স্বজনকে ক্ষমতার বৃত্তের বাহিরে রাখতে পারলেও অনেককেই পারেননি।না পারার কারনে একজন পঙ্গু মুক্তিযুদ্ধা খেসারত দিতে হচ্ছে।প্রবীর শিকদার সেই মুক্তিযোদ্ধা, যার পরিবার মহান মুক্তিযুদ্ধে অধিকাংশ সদস্যকেই কোরবানী দিয়েছিল।তাঁদের সেই কোরবানীর বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীন দেশে বুক ভরে নিশ্বাস নিতে পারছি। যে কাজে যার যত বেশি ত্যাগ,সেই কাজই তাকে দু:খ দেয় বেশী।রাজাকারের বিরুদ্ধে কলম ধরলে হেনস্তা হতে হবে,তাও আবার মুক্তি যুদ্ধের মহানায়কের পরিবারের আসপাশ থেকে,মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারি দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়,তাও কি সম্ভব! !সব সম্ভবের দেশ বাংলা দেশ।এখানে সব হয়,হচ্ছে,হবে। আমাদের বাংলাদেশের এই একটি সংস্থা কোন সরকারের আমলে আকাম কুকাম ছাড়া ভাল কাজ করে না।এই ডি,বি সংস্থাটির কারনে সব সরকারের আমলে অর্ধেক জনপ্রিয়তা হারাতে হয় ক্ষমতাসীন দল এবং সরকারকে। বি,এন,পি আমলে নোয়াখালীর দিন মজুর জর্জ মিয়াকে ২১শে আগষ্ট বোমা হামলার প্রধান আসামী সাজিয়ে দেশ বাসির নিন্দার পাত্র হয়েছিল,এবার শ্রেষ্ঠ মুক্তিযুদ্ধা, কলমসৈনীক,সাংবাদিক প্রবীর শিকদারকে নিগৃহিত করে দেশবাসীর নিন্দার পাত্র হতে যাচ্ছে।এই সংস্থাটি একজন নিন্মশ্রেনীর কর্মকর্তাকেও যদি কোন ক্ষমতাধর ব্যাক্তি বলে, ঐ লোকটাকে মেরে বঙ্গবসাগরে পেলে দিয়ে আস কাল অফিসে যাওয়ার আগে তোমাকে ও, সি বানিয়ে দেব,তৎক্ষনাৎ সে রাজি হয়ে যাবে।বিবেচনা বোধ একেবারেই এই সংস্থাটির কাছে নেই। যে লোকটা একটা শহীদ পরিবারের সন্তান,দেশের জন্য নিজেই পঙ্গুত্ব বরন করলো,একাধিক পত্রিকা যে মানুষটি পরিচালনা করে,নিজে লিখে,অন্যের লিখার সহায়তা করে,সেই লোকটিকে হেনস্তা করার আগে চিন্তা করার দরকার ছিল,কাল সকালে কি হতে পারে।যত ক্ষমতাধর ব্যক্তিই বলুক, তোমার নিকট কি আদৌ আল্লাহ জ্ঞান দেয়নি?তুমি একজনের মন রক্ষা করতে গিয়ে, দেশের সব লোকের মন হারাবে তা কি তুমি জান না? তুমি ডি,বি কে এখন কে রক্ষা করবে?তুমি এক ডি,বি , কি অধিকার আছে, একটা সংস্থাকে সব সময় জনগনের মুখামুখি করার? সদাশয় সরকারের নিকট আবেদন থাকবে,পানি ঘোলা হওয়ার আগেই, আমাদের দেশবাসিকে রক্ত ঋনে আবদ্ধ করা ভাইকে স্ব-সম্মানে বাড়ীতে তাঁর স্বজনদের কাছে পৌছে দেয়া হোক।যদি কোন সাজানো মামলা দেয়া হয়ে যায়,তাহলে কোন প্রয়োজন নেই,ছেড়ে দেয়ার, মুক্তিযুদ্ধের স্বজন হারানো,পঙ্গু মুক্তি যোদ্ধা,মুক্তি যোদ্ধারা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্পন্ন জনতাই সিন্ধান্ত নিবে ,তাঁদের নিগৃহিত করার জন্য কি করতে হবে।রাজাকার ক্ষমতায় এলেও অপমানিত হবে,মুক্তি যুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী দল ক্ষমতায় এলেও অপদস্থ হতে হবে,এটা চলতে পারেনা,চলতে দেয়া যায় না।সময় পার হয়ে যাওয়ার আগে, সকলের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। জয় বাংলা, জয়বঙ্গবন্ধুজয়তূ দেশরত্ম শেখ হাসিনা

মন্তব্যসমূহ