পোস্টগুলি
এর দ্বারা পোস্ট করা
Unknown
"৭৫এর প্রতিরোধ যুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন ১০৪ জন।তাঁদের জন্য সংসদে শোক প্রস্তাব পাশ সময়ের দাবি।বিস্তারীত ক্লিক করুন=============== ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত এলাকায় শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। সারা দেশে কারফিউ আর সেনা তৎপরতার মুখে যখন টুঁ-শব্দটি করার উপায় ছিল না, তখন একদল দামাল যোদ্ধা অস্ত্র হাতে গর্জে ওঠে। ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে তারা কাঁপিয়ে তোলে সীমান্তবর্তী জনপদ। একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাদের পরাস্ত করে যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন তাদের অনেকে। মাত্র চার বছরের ব্যবধানে পঁচাত্তরেই দেশি বাহিনীর বুলেটের টার্গেটে পরিণত হন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। প্রতিরোধ যুদ্ধের মূল নেতৃত্বে থাকা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী জানান, ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ পর্যন্ত চলমান ওই প্রতিরোধ-সংগ্রামে শাহাদাতবরণ করেন ১০৪ জন বীর যোদ্ধা। বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে তার হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের মৌলভী সৈয়দ, গাইবান্ধার মুন্না, দুলাল দে বিপ্লব, বগুড়ার সারিয়াকান্দির আবদুল খালেক খসরু, সাখাওয়াত হোসেন মান্নান, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, আলী আজম আলমগীর, নজিবর রহমান নিহার, রেজাউল করিম, ফনেস সাংমা, অ্যালসিন মারাক, সুধীন মারাকরা অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন নিজের জীবন। প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নেওয়া জাতীয় মুক্তিবাহিনী ’৭৫ গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান যুগল হাশমী জানান, ৮৩ জন শহীদ প্রতিরোধ যোদ্ধার নাম তাদের কাছে রয়েছে। তবে বাংলাদেশ প্রতিদিনের অনুসন্ধানে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে পঁচাত্তরের প্রতিরোধ যুদ্ধে শাহাদাতবরণকারী ৯১ জন বীর যোদ্ধার নাম-ঠিকানা। প্রতিরোধ যুদ্ধে গুলিবিদ্ধসহ তিন শতাধিক আহতের তালিকা রয়েছে। গুলিবিদ্ধ শাহ মুস্তাইন বিল্লাহ, ফারুক আহমদ, মো. আবদুল্লাহ বীরপ্রতীক, গৌরাঙ্গ চন্দ্র পাল, ইসাহাক মারাক, মার্তুস সাংমা, অতুল সাংমা, জিতেন্দ্র ভৌমিক, সুকুমার চন্দ্র, শেখর হাগিদক, কমান্ডার আবদুল হক, কমান্ডার দুলাল চন্দ্র সাহা, সত্যেন চন্দ্র, প্রমোদ, অমল চন্দ্র, বাবুল হক, বিজন মৃ, বিজয় রিছিল, শেলেসটিন রুগা, সাধন পালদের খোঁজও নেয়নি কেউ। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় বিএসএফ কর্তৃক আটক ও পুশব্যাক হয়ে আসা অনেক যোদ্ধা-কমান্ডারের খোঁজ পাওয়া যায়নি। যারা আহত অবস্থায় বেঁচে আছেন, তাদের জীবন কাটছে ধুঁকে ধুঁকে। কিন্তু এসব প্রতিরোধ যোদ্ধার বিষয়ে দলীয় বা সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদস্বরূপ সশস্ত্র সংগ্রামের অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় কারাগারে বন্দী থাকতে হয় আরও অন্তত ৮১ জনকে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিবাদী যুবকরা দলে দলে সমবেত হন ভারতের আসাম ও মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা গারো পাহাড় ও দুর্গম বনাঞ্চলে। তাদের প্রতিবাদ-প্রতিরোধ শুধুই প্রতীকী মেজাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা জেলা সীমান্তের বিশাল এলাকাজুড়ে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় সমর্থ হন প্রতিরোধ যোদ্ধারা। সশস্ত্র আক্রমণের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী পাঁচটি বিডিআর ক্যাম্প ও দুটি থানা দখল করে তা নিজেরাই পরিচালনা করতে থাকেন তারা। সম্মুখযুদ্ধে তারা অবতীর্ণ হন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও। যুদ্ধকালে শুধু দুর্গাপুর-কলমাকান্দা সীমান্তবর্তী জনপদে অন্তত নয়জন প্রতিরোধ যোদ্ধা এবং পাঁচজন বিডিআর-পুলিশ সদস্য নিহত হন। ক্রসফায়ারে মারা যান তিন সাধারণ গ্রামবাসী। পাবনার নিশ্চিন্তপুরে যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ১৯৭৫ সালের ১২ অক্টোবর প্রতিরোধ যোদ্ধারা ওই চরে অবস্থান করছেন এমন খবর পেয়ে সেনাসদস্যরা হেলিকপ্টার ও জলপথ ঘিরে ব্যাপক গোলাগুলি শুরু করে। প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পাল্টা প্রতিরোধে বেশ কিছু সেনাসদস্য নিহত হলে হেলিকপ্টার দল পিছু হটে। দুই দিনের এ তাণ্ডবে শহীদ হন প্রতিরোধ যুদ্ধের কমান্ডার বগুড়ার আবদুল খালেক খসরুসহ চারজন। এ সময় মৃতদেহ দাফন করা সম্ভব হয়নি বলে খসরুসহ শহীদ যোদ্ধাদের মৃতদেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয় যমুনার স্রোতে। এভাবে প্রায় ২২ মাস যুদ্ধ চালিয়ে প্রতিরোধ যোদ্ধারা টিকে থাকেন বীরত্বের সঙ্গে। একদিকে আন্তর্জাতিক সাহায্য ও সমর্থনের অভাব, অন্যদিকে জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের নিষ্ক্রিয়তায় প্রতিরোধ যুদ্ধ থেমে যায় অসমাপ্ত অবস্থায়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রতিরোধ যুদ্ধ ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে শুরু হয়ে স্থায়ী হয় ১৯৭৭ সালের জুলাই পর্যন্ত। তবে প্রতিরোধ যুদ্ধের সেক্টর হেডকোয়ার্টার ও সাব-সেক্টরগুলোয় অবস্থান নেওয়া যোদ্ধাদের শেষ দলটি অস্ত্র ত্যাগ করে ১৯৭৮ সালের এপ্রিল মাসে। শহীদ হন যারা : বাংলাদেশ প্রতিদিনের অনুসন্ধানে জানা যায়, এই সশস্ত্র আন্দোলনে জীবন দেন শতাধিক যোদ্ধা। তাদের ৯১ জনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হচ্ছেন বগুড়ার আবদুুল খালেক খসরু ও নজিবুর রহমান নিহার, গাইবান্ধার ইবনে সাউদ, রেজাউল করিম, মিজানুল হক মুকুল, মোহাম্মদ আলী, আবদুর রাজ্জাক, আলী আযম আলমগীর, মো. বাবুল, মো. সোলায়মান ও আবদুর রহিম আজাদ, কুড়িগ্রামের রেজাউল করিম-২, নূরুল ইসলাম ও নূরুল আমিন, নেত্রকোনার আবদুল খালেক, রাধারমণ রায় ঝন্টু, বামুন সরকার, রজব আলী, আবুল কাশেম, হামিদুল ইসলাম, ফজর আলী, শান্তি বিকাশ সাহা পল্টু, আবদুল হেকিম, মুসলিম উদ্দিন তালুকদার ও সুব্রত, টাঙ্গাইলের সাখাওয়াত হোসেন মান্নান ও সৈয়দ নূরুল ইসলাম, চট্টগ্রামের মৌলভী সৈয়দ আহমেদ, কুমিল্লার সুশীল ভৌমিক বেলু, সুনামগঞ্জের নিরানন্দ দাশ, মতিলাল দাশ, আখলমন মাঝি, বলরাম সরকার, শেরপুরের বিপ্লব কুমার দে দুলাল, দুলাল মিয়া, মনোরঞ্জন সরকার, হাবিবুর রহমান, বীরেন্দ্র চন্দ্র পাল, কছর আলী, আলী হোসেন, শওকত আলী, মোতালেব, ধীরেন্দ্র চন্দ্র শীল, রুস্তম আলী ও মোজাম্মেল হক, জামালপুরের নজরুল ইসলাম ও আলতাফুর রহমান, ময়মনসিংহের আবদুল হামিদ, আবদুল আজিজ, সুশীল চন্দ্র দত্ত, রঞ্জিত কুমার এস, মজিবুর রহমান খান, সুবোধ চন্দ্র ধর, আলকাস উদ্দিন সরকার, দ্বীপাল চন্দ্র দাশ, জোবেদ আলী ও সিরাজুল ইসলাম। শহীদদের ২৫ জন আদিবাসী। তারা হচ্ছেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রঞ্জিত সাংমা, অনন্ত বর্মণ, জয়েশ্বর বর্মণ, সপ্রু সাংমা, কাশেম সাংমা, নিরঞ্জন সাংমা, পিটারসন সাংমা, প্রাণবল্লভ বর্মণ, প্রটিন দিও, শ্রীদাম রিছিল ও চিত্তরঞ্জন ডালু, শ্রীবর্দী উপজেলার সম্রাট সাংমা, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ফনেস সাংমা, তপন চাম্বুগং, অ্যালিসন মারাক, গোবিনিক মারাক, সুদর্শন মানকিন, হারু সাংমা, হযরত সাংমা, জবিনাশ তেলসী, অগাস্টিন চিছিম, সুধীন কুবি ও ডমিনিক চাম্বুগং, নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার হেনরি সাংমা এবং ধোবাউড়া উপজেলার পংকজ আজিম। কাদের সিদ্দিকী বলেন : পঁচাত্তরের প্রতিরোধ যুদ্ধ প্রসঙ্গে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও আওয়ামী লীগ নেতাদের পূর্ণাঙ্গ সমর্থনের অভাবে আমরা সফল হতে পারিনি। তবু চলতে থাকে সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রাম। কিন্তু ভারতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে ইন্দিরা গান্ধীকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসেন মোরারজি দেশাই। জিয়াউর রহমান তার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং ভারতের সঙ্গে চুক্তি করে প্রতিরোধ-সংগ্রামীদের প্রতি দেশটির সমর্থন বন্ধের ব্যবস্থা করেন। শুধু তা-ই নয়, ওই সময় মোরারজি দেশাই সরকার অসংখ্য প্রতিরোধ-সংগ্রামীকে ধরে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়। শুধু আমার প্রতি বিদ্বেষপ্রসূত পঁচাত্তরে কয়েক হাজার প্রতিরোধ-সংগ্রামীকে করা হয় বঞ্চিত। বোধহয় আমার কারণে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিরোধ-সংগ্রামে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের জন্য সংসদে শোক প্রস্তাব পর্যন্ত নেওয়া যায়নি।’ (মুক্তিযুদ্ধ আর্কাইবস থেকে সংগৃহিত)
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
এর দ্বারা পোস্ট করা
Unknown
বখতিয়ার উদ্দীন চৌধুরী॥১৯৭১ সালের ১৩ আগস্ট। আন্দরকিল্লা থেকে সিরাজউদ্দৌলা রোড ধরে আমার তখনকার বাসা চন্দনপুরার হাদি মনজিলে ফিরছিলাম। সকাল আনুমানিক ১১টা। সঙ্গে দুই বন্ধু মীরসরাই’র আনোয়ার কামাল আর সাতকানিয়ার রফিকুল ইসলাম। দিদার মার্কেটের সামনে আমরা। হঠাৎ একটা মিলিটারি জিপ এসে পেছনে ব্রেক কষে। ড্রাইভারের পাশে বসা ফজলুল কাদের চৌধুরীর বড় ছেলে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। ফকার ছেলে নির্দেশ দিল- ‘তুলি ল’। দেখলাম জীপ থেকে নামছে আমাদের ছাত্রলীগের কর্মী ইউসুফ এবং তিনজন অবাঙালি মিলিশিয়া।১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ইউসুফ আমাদের সঙ্গে ভারতের আগরতলা গিয়েছিল। সেখানে অবস্থানকালে ট্রেনিংও নিয়েছিল। কিন্তু আগরতলা থেকে দেশে ফিরে আসার পর তার বাবা মুসলিম লীগের কর্মী ও ফজলুল কাদের চৌধুরীর এক অন্ধভক্ত ইউসুফকে ধরে ফকার হাতে তুলে দিয়ে আসে। ফকা তার মুরিদের ছেলেকে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে নিজেদের দলে ভিড়িয়ে নেয়। ই্উসুফের দায়িত্ব ছিল আমরা যারা আগরতলা থেকে এসে মুক্তিযুদ্ধের জন্য কাজ করছি তাদেরকে ফকা-সাকা বাহিনীর কাছে চিনিয়ে দেওয়া। সাকা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জিপ নিয়ে সারা শহর এবং আশে পাশে ঘুরে বেড়াত। সঙ্গে থাকতো এই ইউসুফ এবং পাকিস্তানি মিলিটারিকে সাহায্যকারী বন্দুকধারী মিলিশিয়া।ইউসুফের এই রূপান্তর আগেই শুনেছি। তাই ফকার ছেলে আর তাকে জিপ নিয়ে থামতে দেখে পিলে চমকে গেল। বুঝে গেলাম টার্গেট আমি, কারণ আমার সঙ্গী দু’জন আগরতলা ফেরত না। পালানোর চেষ্টা করেও লাভ নেই। তাদের হাতে অস্ত্র। আমার দুই বন্ধু দৌড়ে পালাতে সফল হল। শুধু সফল নয়, ওইদিনই নাকি তারা গ্রামের বাড়িতে চলে গিয়েছিল। আর শহরে ফেরেনি। এমনকি আমাকে তুলে নেওয়ার খবরটাও আমার বাসায় দিয়ে যায়নি। তাদের সঙ্গে দেখা হয়েছে দেশ স্বাধীনের পর।ইউসুফ বললো, ‘উঠেন আমাদের সঙ্গে।’ কোনও প্রতিবাদের সুযোগ নেই। যারা এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে তারাই অনুধাবন করতে পারবে এমন পরিস্থিতির ভয়াবহতা। শুনেছি যশোরের আওয়ামী লীগ নেতা এমপি মশিউর রহমানকে পায়ে দড়ি দিয়ে জিপের পেছনে বেঁধে টেনে টেনে হত্যা করেছে পাকিস্তানি বাহিনী ও তার দোসররা। মিলিশিয়ারা আমাকে নিয়ে জিপের পেছনের সিটে বসলো। অল্প দূরে ছিল ফকা-সাকাদের গুডস হিলের বাসা। তারা একটানে সেখানে নিয়ে আসলো।আমি কোনদিন এর আগে এই পাহাড়ে উঠিনি। উত্তরমুখি একতলা একটি বাড়ি। পশ্চিমপাশে দুটি গাড়ির গ্যারেজ। গ্যারেজের সামনে মাটিতে বসিয়ে রাখলো আমাকে। ইউসুফ, সাকা আমাকে রেখে কোথায় চলে গেছে জানি না। পুরো পাহাড়ে প্রায় ৪০-৫০ জন মিলিশিয়া। কালো ড্রেস, হাতে অস্ত্র। সবাই অবাঙালি। কিছু রাজাকারও আছে। এলাকায় বিল্ডিংটির সামনে ছোট্ট একটি গোল চত্ত্বর। এর মাঝখানে পতাকা উড়ানোর স্ট্যান্ড। এই গোল চত্ত্বরেই একটা যুবকের লাশ পড়ে আছে। চিনি না। কিন্তু লাশ দেখে ভয়ে মৃত্যুর প্রহর গোনা শুরু হল আমার। গ্যারেজ দুটির দরজা বন্ধ। কিন্তু বুঝা যাচ্ছে ভেতরে লোকে ভর্তি। গ্যারেজের ভেতর থেকে কণ্ঠ শুনলাম একটা- ‘বখতিয়ারকেও আনছে।’ গলার স্বর শুনে বুঝিনি সে কে তবে সন্দেহ নেই আমার পরিচিত লোকেরাও আছে। শুনেছি ড. সানাউল্লাহ ব্যরিস্টারের ছেলে সেলিমসহ (বর্তমান পানি সম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মামা) অনেককে তুলে এনেছে। মনে মনে চিন্তা করছি তারাই হবে। সেলিমের মামা অবসরপ্রাপ্ত সাব জজ আবুল কাশেম এরমধ্যেই সেলিমকে উদ্ধার করার জন্য ফকার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। সেলিমকে কখনো আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ করতে দেখিনি। তার বাবা ড. সানাউল্লাহ রাজনীতি করতেন। নিখিল ভারত জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ-এর জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন। ১৯৪৬ এর সাধারণ নির্বাচনে ড. সানাউল্লাহ হাটহাজারি-ফটিকছড়ি-রাউজান নির্বাচনি কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে বেঙ্গল পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সম্ভবত একই নির্বাচনি কেন্দ্রের লোক হওয়ায় ড. সানাউল্লাহর সঙ্গে ফকার সম্পর্ক কখনও ভালো ছিল না। অবশ্য স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ড. সানাউল্লাহ জীবিত ছিলেন না। সেলিমকে হয়তো এনেছিল তার বাবার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য। সেলিম মানবতাবিরোধী ট্রাইবুনালে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দিয়েছে।গ্যারেজের সামনে মাটির ওপর বসে রইলাম দীর্ঘক্ষণ। চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে অত্যাচার আর হত্যার দুটো কেন্দ্র ছিল। জামায়াত এবং ইসলামি ছাত্রসংঘের আলবদর বাহিনী ধরে নিয়ে যেত ওল্ড টেলিগ্রাফ রোডের ডালিম হোটেলে। সেখানে মীর কাশেমের নেতৃত্বে আল-বদর বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের নির্যাতন করতো। আর ফকা-সাকা ও মিলিশিয়ারের ‘কনসেনট্রেইশন ক্যাম্প’ ছিল তাদের বাড়ি এই গুডস হিল। এ যাবত পরিচিত যারা পাক বাহিনী এবং তার দোসরদের হাতে মারা গেছে তাদের কথা মনে পড়ছিল। মনে পড়ে ক’দিন আগে আমার ফুফাতো ভাই আলিমউল্লাহ চৌধুরী ফটিকছড়ির হলদিয়া পাহাড়ে পাকবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে মারা যান। পটিয়ায় রাজাকার আর পাকবাহিনী হত্যা করেছে আমাদের ছাত্রলীগের বিশিষ্ট নেতা মুরিদুল আলমকে। জুবলি রোডে তারা হত্যা করেছে আমার বন্ধু ছাত্রলীগ নেতা মাহাবুবুল আলমকে। রাঙ্গুনিয়ায় হত্যা করেছে আওয়ামী লীগ নেতা জহুর আহমেদ চৌধুরীর বড় ছেলে এবং আমাদের বন্ধু সাইফ উদ্দিন খালেদ চৌধুরীকে। শুনেছি রাউজানে আত্মগোপন অবস্থা থেকে বের হয়ে চট্টগ্রাম শহরে আসার পথে আমার বন্ধু জাহাঙ্গীর ও তার বাবা ছালারেজেলা মোজাফ্ফর আহমেদকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাহিনী পথ থেকে তুলে নিয়ে গুম করে ফেলেছে।মোজাফ্ফর আহমেদ সাহেব ঐতিহাসিক ‘বাংলার পতন’ নাটকের রচয়িতা। তিনি পাকিস্তান গণপরিষদে আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্য ছিলেন এবং চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। মনে হচ্ছিল গোল চত্ত্বরে পড়ে থাকা যুবকের মতো আমার লাশও কিছুক্ষণ পর সেখানে পড়ে থাকবে। ভাবছি আমার নেতা সিটি আওয়ামী লীগের সভাপতি জহুর আহমেদ চৌধুরী যে দায়িত্ব দিয়ে আমাকে আগরতলা থেকে চট্টগ্রামে পাঠিয়েছেন সে দায়িত্ব আমার অবর্তমানে পালন করবে কে!জুনের শেষের দিকে জহুর আহমেদ চৌধুরীর নির্দেশে আগরতলা থেকে চট্টগ্রামে ফেরত এসেছিলাম। সঙ্গে উনার তিনটি চিঠি। চিঠিতে শুধু লেখা ছিল ‘The bearer is my man, Please give him patience hearing’ – Zahur. দেশে এসে তিনটি চিঠি প্রাপকদের হাতে তুলে দেই। আমাকে যা যা বলতে বলেছেন সেটাই তাদেরকে বলেছি। তাদের একজন আশকার দীঘির পাড়ের ডা. সিরাজ, অপর দুইজন ওয়াপদার বিদ্যুত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কে কে আলতাফ হোসেন এবং অপর নির্বাহী প্রকৌশলী শামুসুদ্দীন আহমেদ। পুরো মুক্তিযুদ্ধে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। জহুর চৌধুরীর নির্দেশ অনুসারে মুক্তিযোদ্ধাদের অকাতরে সহযোগিতা করেছেন।বাংলাদেশ হওয়ার বহুদিন পর আলতাফ হোসেন ডেসার চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। শামসুদ্দিন সাহেব এক সময় চাকরি ছেড়ে ঠিকাদারী করতেন। আর ডা. সিরাজ ১৯৯৯ সালে মারা গেছেন।তিন ঘণ্টা পার হওয়ার পর দেখলাম বাসার বারান্দায় পাতানো ইজি চেয়ারে এসে বসলেন ফজলুল কাদের চৌধুরী। তার পাশে দেওয়ালে ঠেকানো একটা রাইফেল। আমার ডাক পড়লো। রাজাকার কমান্ডার রফিক যাওয়ার আগে বলে দিল- চৌধুরী সাহেবের সামনে করজোড়ে দাঁড়াতে। আমি হুকুম পালন করলাম। ফকা তার ঐতিহাসিক বিদ্রুপাত্মক স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, তোর নাম কী? আমি বললাম- বখতিয়ার উদ্দীন চৌধুরী। বরাতে দুঃখ ছিল। মুহূর্ত অপেক্ষা করলো না। পাশের রাইফেলটা হাতে নিয়ে বাট দিয়ে আঘাত করলো আমার বাম চোয়ালে। মারার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্রুপ করলো- ‘গোলামের পুত চৌধুরী হইলি কবে?’ ‘চৌধুরী’ টাইটেলটা যে ফকার রেজিস্ট্রি করা কে জানতো! কয়েকটা দাঁত ভেঙে গেল। রক্ত পড়া শুরু হল। ফকা আমাকে পিটিয়ে মেরে ফেলার জন্য মিলিশিয়াদের হুকুম দিয়ে চলে গেলেন।মিলিশিয়াদের একের পর এক আঘাতে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। এরপর কিছুই আর মনে নেই। চেতনা যখন ফেরত আসে তখন দেখি রাত। আমি পাহাড়ের নিচে। পিপড়ার কামড়ে শরীর ফুলে গেছে। রক্তাক্ত দেহ। রাজাকার রফিক আমার নাকের ওপর একটা লেবু ধরে আছে। আমি মারা গেছি মনে করে মিলিশিয়ারা নাকি আমাকে গ্যারেজের পেছনের দিকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিচে ফেলে দিয়েছিল। রফিক আমাকে আস্তে আস্তে বললো, রাত আরও গভীর হলে সে কাঁটাতারের বেড়া ফাঁক করে দিবে। আমি তখন আস্তে আস্তে জামাল খান রোডের দিকে চলে যেতে পারবো।কিছুক্ষণ পর আওয়াজ শুনলাম। আমার এক খালাতো ভাই এক মিলিটারি অফিসার নিয়ে আমাকে খোঁজাখুঁজি করছে। রফিক তাদেরকে নাকি আমার অবস্থান দেখিয়ে দিয়েছিল। আমাকে যেখান থেকে জিপে তুলেছিল সেই দিদার মার্কেটের দিদার চৌধুরীর বড় ছেলে (নামটা এই মুহূর্তে স্মরণ করতে পারছি না দুঃখিত) আমাকে চেনে এবং সাকা বাহিনী আমাকে তুলে নেওয়ার খবর সে-ই আমার মাকে বাসায় বলে এসেছে। আমার খালাতো ভাই আমাকে গাড়িতে তুলে নেন। তিনি এবং মিলিটারির সেই কর্নেল দু’জনই গাড়িতে করে আমাকে আমার খালাতো ভাইয়ের বাসায় নিয়ে আসেন।ইউসুফ স্বাধীনতার আগেই পাকিস্তান পালিয়ে গিয়েছে। আজও আসেনি। তার বিরুদ্ধে বহু খুনের অভিযোগ আছে। আমি ১৬ ডিসেম্বর গুডস হিলে গিয়েছিলাম মনের ক্ষোভ মেটাতে। গিয়ে দেখি আমার আগেই মুক্তিযোদ্ধারা তছনছ করে দিয়েছে তার বাসভবন। ওরা তাকে পেলে টুকরা টুকরা করে ফেলতো। এরপর ফকা ট্রলারে করে বার্মা পালানোর সময় ধরা পড়েছিল। মুক্তিযোদ্ধারা তাকে পেটানোর সময় ভারতীয় বাহিনী তাকে উদ্ধার করে। সাকা বিদেশে পালিয়ে গিয়েছিল স্বাধীনতার আগে আগে। ১৯৭৫ সালের পর দেশে ফিরে আসে। তার ভাইয়েরা অবশ্য দেশে আত্মগোপনে ছিল। তার ছোট ভাই জামাল ছাড়া অপর দুই ভাই সাইফুদ্দিন এবং গিয়াসউদ্দিন তার সঙ্গে অপকর্মে জড়িত ছিল। সাইফুদ্দিন দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভুগে সম্প্রতি মারা গেছে। গিয়াসউদ্দিনেরও যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচার হওয়া উচিত।আল্লাহ হাকেমুল হাকেমিন। তিনি ফজলুল কাদের চৌধুরীর মতো দাম্ভিক, খুনি, কুলাঙ্গারের বিচার করেছেন বাংলার মাটিতে। জেলখানায় তার মৃত্যু হয়েছে। মুত্যুর পর ফকাকে দেখতে গিয়েছিলাম। সেই অভিশপ্ত মুখটা বিভৎস রূপ ধারণ করেছিল। সাকার মতো খুনি, কুলাঙ্গার, জালেম এখন জেলে। তার মৃত্যুদণ্ড দেখার অপেক্ষায় আছি।লেখক: সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, চট্টগ্রাম
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
এর দ্বারা পোস্ট করা
Unknown
যারা চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ ======== বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় উত্তাল আবহাওয়া বিশ্বের অনেক মানুষকে শুধু প্রভাবিত করেনি, দারুণভাবে তাদের মনকে আন্দোলিত করে। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের শরণার্থী, মুক্তিযোদ্ধা, সাধারণ মানুষের দুর্দশা, পাকিস্তানি মিলিটারি বাহিনীর অমানবিক, নিষ্ঠুর আচরণ বিশ্বের সংবাদপত্রে ও টেলিভিশনে যেভাবে স্থান করে নিয়েছিল, সাম্প্রতিক কোনো ঘটনা এমন প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়নি। বাংলাদেশের শরণার্থীদের দুর্দশা দেখার পর ইউরোপের সাধারণ এক তরুণের তাদের সাহায্যার্থে বিমান ছিনতাইয়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের ঘটনাও অসাধারণ তাৎপর্যের অধিকারী। আমেরিকায় বাংলাদেশের বন্ধুরা আমেরিকার নীতির বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদের জন্য এমআইটির খ্যাতিমান ও প্রভাবশালী ভাষাবিজ্ঞানের অধ্যাপক নোয়াম চমস্কিকে দিয়ে অনশনের দিক চিন্তা করলেও শেষ পর্যন্ত তার বিপদের কথা স্মরণ করে আর সামনে অগ্রসর হননি। বিবেকসম্পন্ন সাধারণ মানুষ, বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় ছাড়াও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে সঙ্গীতশিল্পীরাও অগ্রসর হয়েছিলেন। তাদের অবদানও কম উল্লেখযোগ্য নয়। এ ক্ষেত্রে তিনজন বিখ্যাত শিল্পীর নামোল্লেখ করা যায়। এরা হলেন আমেরিকার সবচেয়ে খ্যাতিমান নারী ফোকশিল্পী জোন বায়াজ, ইংল্যান্ডের বিটলসদের অন্যতম জর্জ হ্যারিসন ও প্রথিতযশা সরোদবাদক ওস্তাদ আলী আকবর খান। এ তিনজনই প্রত্যক্ষভাবে গান ও কনসার্টের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সাহায্যের জন্য অগ্রসর হয়েছিলেন এবং অ্যালবাম বের করেছিলেন। জোন বায়াজ ছিলেন আমেরিকান প্রতিবাদী শিল্পী। মানবতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে তিনি ছিলেন প্রথম সারির সঙ্গীতশিল্পী। আমেরিকায় বব ডিলানও তার গানে সমাজের অন্যায়ের দিকটি প্রকাশে ছিলেন অত্যন্ত সাহসী ফোকশিল্পী। একসময় জোন বায়াজ ঘোষণা দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করেননি যে, তিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধ সমর্থন করেন না এবং তিনি কোনো আয়কর দেবেন না ভিয়েতনাম যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য। জোন বায়াজ ছিলেন আকর্ষণীয় মুখাবয়বের অধিকারী, মাথার কালো চুল তার মুখের দীপ্তি আরো বাড়িয়ে দিত। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আগেই প্রকাশিত হয়েছিল তার অটোবায়োগ্রাফি। তার গায়কী ভঙ্গির অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য ছিল, যা অন্য কোনো আমেরিকান শিল্পীর মধ্যে দেখা যায়নি। তিনি গান গাওয়ার সময় উচ্চনাদে এমনভাবে পৌঁছাতেন যা গানের শব্দের ব্যঞ্জনা অনেকাংশ বাড়িয়ে দিত। তার যেসব অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছিল তার মধ্যে প্রথম দিকের 'জোন' শিরোনামে অ্যালবামটি শ্রোতানন্দিত হয়। এ অ্যালবামে 'বি নট টু হার্ড, লাইফ ইজ শর্ট' এবং পরবর্তীকালে 'ফেয়ারওয়েল অ্যাঞ্জেলিনা'-এ গান দুটি একসময় অনেকের মুখে মুখে শোনা যেত। পরে তিনি বব ডিলানের গানে দুটো অ্যালবাম একসঙ্গে বের করেন। এরপরই প্রকাশিত হয় সম্ভবত তার শেষ অ্যালবাম, যেখানে বাংলাদেশের গানটি অন্তর্ভুক্ত হয়। তার সব অ্যালবামই প্রকাশ করত ভ্যানগার্ড রেকর্ড কোম্পানি। পরে ভ্যানগার্ড তাকে ফোকসং ও রক-এর মিশ্রণ দিতে বললে তিনি তাদের প্রস্তাবে অসম্মত হয়ে সেখান থেকে রেকর্ড প্রকাশ বন্ধ করে দেন। জোন বায়াজের বাংলাদেশ সম্পর্কিত গানের নেপথ্য একটা ইতিহাস আছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রতিবাদী শিল্পী দারুণভাবে আলোড়িত হন। প্রথম পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশের শরণার্থীদের অর্থ সাহায্যের জন্য ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যানফোর্ড ও বার্কলে ক্যাম্পাসে গান গাইতে শুরু করেন। এরপর নিজেই বাংলাদেশের ওপর গান রচনা করে প্রথমে ৪৫ আরপিএম রেকর্ড প্রকাশ করেন। এ অ্যালবাম বাজারজাত হওয়ার পর আমেরিকা ও কানাডার বিভিন্ন রেডিও স্টেশন দিনে অসংখ্যবার বাজাতে থাকে। গানটি প্রচারের পর সাধারণ শ্রোতার ওপর একটা প্রভাব বিস্তার করে। পরে জোন বায়াজের বড় অ্যালবাম বের হলে গানটি এখানে অন্তর্ভুক্ত হয়। এই নতুন অ্যালবামের বৈশিষ্ট্য হলো মানবতাবাদী আমেরিকান শিশু চিকিৎসক ডা. স্পোকের মিছিলের ছবি। অ্যালবামটির নাম ছিল 'কাম ফ্রম দি শ্যাডোজ'। জোন বায়াজের গানে তৎকালীন ইকবাল হলে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) ঘুমন্ত ছাত্রদের ওপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যদের গুলিবর্ষণ, বাঙালি শরণার্থীদের দুর্দশা ও অন্যান্য ঘটনা উপস্থাপন করা হয়। ১৯৭১ সালে স্বরচিত গানের কথায় তিনি নিজেই সুরারোপ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় প্রথম লিখিত ও প্রচারিত জোন বায়াজের এ গানের মূল্য অপরিসীম, যা সারা বিশ্বের মানুষের কাছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বাণী পেঁৗছিয়ে দিয়েছিল_ একটি দেশের মুক্তির জন্য মানুষের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। জোন বায়াজের পর বাংলাদেশ কনসার্টের জন্য যার নাম ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত তিনি সাবেক বিটলস দলের জর্জ হ্যারিসন। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন অন্য এক বিটলস সদস্য রিঙ্গো স্টার। বিটলস দল অনেক আগেই ভেঙে গিয়েছিল, দলের প্রধান জন লেলন তখন মৃত আর অন্যজনের সঙ্গে হ্যারিসনের কোনো সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু এ কনসার্টে জর্জ হ্যারিসন প্রধান হলেও এর নেপথ্যে ছিলেন খ্যাতিমান সেতারবাদক রবিশঙ্কর। বাংলাদেশের শরণার্থী, মুক্তিযোদ্ধাদের সংগ্রাম ও জনসাধারণের দুর্দশা তাকে বিশেষভাবে স্পর্শ করেছিল বাঙালি ও তার ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর সঙ্গে সংশ্রবের কারণে। প-িত রবিশঙ্কর ইংল্যান্ডে প্রথম পরিচিত হন বিখ্যাত ভায়োলিন বাদক য়েহুদি মেনুহিনের সঙ্গে। পরে তিনিই তাকে বিটলসদের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় একা রবিশঙ্করের পক্ষে কনসার্ট করা সম্ভব নয় বলে তিনি জর্জ হ্যারিসন ও রিঙ্গো স্টারের সহযোগিতা কামনা করেন। হ্যারিসনরা তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে কনসার্টের ব্যাপারে সম্মতি প্রকাশ করেন। কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয় আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্টে। কনসার্টের নাম দেয়া হয় 'দি কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'। এ কনসার্টে অংশগ্রহণ করেন রবিশঙ্কর, আলী আকবর খান, আল্লারাখা খান, কমলা চক্রবর্তী, জর্জ হ্যারিসন, রিঙ্গো স্টার, বিলি প্রেস্টন, লিওন রাসেল ও বব ডিলান। এখানে উল্লেখ্য যে, আমেরিকার খ্যাতিমান ফোকসঙ্গীত শিল্পী ও গীতিকার কবি বব ডিলান কোনো সময় অন্যের কনসার্টে অংশগ্রহণ করতেন না, শুধু বাংলাদেশের কনসার্টেই অংশগ্রহণ করেছিলেন। কনসার্টের পর প্রকাশিত সুভেনিরে বাংলাদেশ সম্পর্কে সংক্ষেপে মন্তব্য করেন ড. আলেকজান্ডার লিপসকি ও সুজেনা মার্টিন এবং রবিশঙ্কর। রবিশঙ্কর মূল অনুষ্ঠানে সেতার ও সরোদ বাদ্যযন্ত্র বাজানোর আগেও সংক্ষেপে কনসার্ট অনুষ্ঠানের মূল কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন। এখানে উল্লেখ্য যে, রবিশঙ্কর ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর মেয়েকে বিয়ে করেন। বাংলাদেশ কনসার্টে রবিশঙ্কর সেতার, আলী আকবর খান সরোদ, আল্লারাখা তবলা ও কমলা চক্রবর্তী তাম্বুরা বাজান। জর্জ হ্যারিসন তার বিখ্যাত গান ওয়া-ওয়া, মাই সুইট লর্ড, হিয়ার কামস দি সান, সামথিং ও নতুন গান বাংলাদেশ পরিবেশন করেন। বব ডিলানও তার বহুল পরিচিত হিট গান মিস্টার তাম্বুরিন ম্যান, বেস্নাইং ইন দ্য উইন্ড, জাস্ট লাইক এ ওম্যান ও অন্যান্য গান গেয়ে শোনান। এ কনসার্টের বৈশিষ্ট্য হলো এখানে স্টেরিও সিস্টেমে একদিকের স্পিকারে রবিশঙ্করের সেতার ও অন্য স্পিকারে আলী আকবর খানের সরোদ এবং একসঙ্গে দুটো স্পিকারে তবলা ও সরোদ শোনানোর ব্যবস্থা করা হয়। কনসার্ট রেকর্ডিং করার সময় ব্যবহৃত হয় ৪৪টি মাইক্রোফোন। কনসার্ট অনুষ্ঠান পরবর্তী পর্যায়ে চলচ্চিত্রের আকারে বিভিন্ন সিনেমা হলে প্রদর্শিত হয়। বাংলাদেশ কনসার্টের তিনটি অ্যালবাম বিশেষ মোড়কে ক্রেতাদের কোনো কমিশন না দিয়েই মূল্য ধার্য করা হয় ১০ ডলার। চলচ্চিত্র ও তিনটি অ্যালবাম ছাড়াও স্বতন্ত্রভাবে কনসার্টের টেপ বাজারজাত করা হয়। কনসার্ট থেকে প্রাপ্য ডলার বাংলাদেশের রিফিউজি সন্তানদের কল্যাণে ব্যয় করার জন্য ভারতে পাঠানো হয়। ডলারের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪১৮ ও ৫০ সেন্ট। এ কনসার্টে কোনো শিল্পী দক্ষিণা গ্রহণ করেননি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালি হিসেবে ওস্তাদ আলী আকবর খানও নিশ্চুপ থাকতে পারেননি। তিনি বাংলাদেশ কনসার্টে অংশগ্রহণ ছাড়াও এককভাবে সরোদের একটি অ্যালবাম প্রকাশ করেন। অ্যালবামের নাম দিয়েছিলেন 'বাংলাদেশ'। তিনি বাংলাদেশ ধুনের সঙ্গে পুরনো আরো কটি ধুন নিয়ে এ অ্যালবাম বের করেছিলেন। তবে যন্ত্রসঙ্গীতের অ্যালবাম বলে এটা তেমন প্রচার সৌভাগ্য লাভ করেনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের পাশাপাশি শিল্পীরাও যে বিরাট অবদান রাখেন তার মূল্য ছিল অসীম। এ কারণে এ দেশের মানুষের কাছে জর্জ হ্যারিসন, রবিশঙ্কর, আলী আকবর খান ও জোন বায়াজ স্মৃতির মণিকোঠায় চিরদিন ভাস্বর হয়ে থাকবেন।( সংগৃহিত)
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
এর দ্বারা পোস্ট করা
Unknown
জোটনেত্রী খালেদা প্রতিহিংসার আগুনে বেসামাল,লক্ষ ডলার পুঁজি ঢেলে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা ফাঁস। ============== দেশের অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ,দেশপ্রেমিক নাগরীক,সুশীল সমাজ,মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী,স্বাধীনতা প্রিয় জনগন আগেই বার বার বলেছিল,এবং কি আমি অভাগা নীজেও সতর্ক করে বলেছিলাম,খালেদা জিয়ার বর্তমানের সুন্দর মনভোলানো বক্তব্য আসল বক্তব্য নহে।ভিতরে কুছ কুছ কালা হ্যয়।জাতিয় ঐক্যের আহব্বান জানিয়ে গাঁটের প্যসা খরছ করে,পদ পদবীর জন্য,পরিবার রক্ষার জন্য এই প্রতিহিংসা পরায়ন মহিলা পারেনা এমন কোন কাজ নেই।যে মহিলা স্বামীর কারনে আজ বাংলাদেশের নেত্রী সেই মহিলা স্বামীর বংশের কোন লোক তাঁর ধারে পাশেও আসতে দেয়নি।অথছ নাবালক ছেলে তারেক কে দলের সিনিয়র কি একটা বানিয়ে রেখেছে।কোন আমলে ফুল গাজী থেকে চলে গেছে তাঁর দাদা প্রোদাদারা,একেবারে ফকীর বাপের বাড়ীর সবাই আজ কোটি টাকার মালিক,একাদিক বাড়ী গাড়ীর মালিক।যুদ্ধের পর স্বামীর বাড়ীর লোকজন কি না কি বলেছে, মহিলা প্রতিহিংসায় স্বামীর বাড়ীর দরজায় ও আর কোন দিন যায়নি।স্বামীর ভাই বন্ধু প্রতিবেশি কেউই তাঁর আশে পাশে নেই।যারা প্রতিষ্টিত হয়েছে তাঁরা নীজ গুনেই প্রতিষ্ঠিত হুয়েছে।প্রতিহিংসাপরায়ন মহিলার এবার আসল রুপ বেরিয়ে এসেছে।প্রত্যহ বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে যাহা বলেছেন,জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন,এইগুলী দেশের মানুষের ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে তাঁর স্বার্থ উদ্ধারের কৌশল মাত্র।এই সেই দিন অর্থাৎ গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দলের এক আলোচনা সভায় ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি বলতে চাই- ভয়ের কিছু নেই। আপনাদের অভয় দিচ্ছি; আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করব না। কারো প্রতি প্রতিশোধ নেব না।” দলের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে ওই আলোচনা সভা হয়। নির্বাচন কমিশন বাতিল করে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানেরও দাবি জানান খালেদা। তিনি বলেন, “আমরা শুধু চাই একটা অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন। বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।” একইসঙ্গে দেশকে এগিয়ে নিতে জাতীয় ঐক্যের রাজনীতির ডাকও দেন খালেদা জিয়া। “সরকার আসবে, সরকার যাবে। এদেশে কিন্তু মাত্র দুটি দলই আছে- বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। কাজেই কোনো সময় আওয়ামী লীগ কোনো সময় বিএনপি, সেটারই রদবদল হতে থাকবে। আসুন উন্নয়নের রাজনীতি করি, জাতীয় ঐক্যের রাজনীতি করি। গুম-খুন-হত্যা বন্ধ করে, মামলা-হামলা বন্ধ করে সামনের দিকে দেশটাকে এগিয়ে নিতে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দিন।” উপরের বক্তব্যটি বি,এন,পি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার।আর অনেক স্লভা সমাবেশে ও গঠন মুলক জন সম্পৃত্ত রাজনীতি করার অঙ্গিকার দিচ্ছেন।দেশের মানুষ তাঁর বক্তব্যে অনেকটা স্বস্থি বোধ ও করেছিল।তৈল,গ্যাস সম্পর্কিত সরকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের ডাকও দিয়েছিলেন।জনগন সম্পৃত্ত কর্মসূচি হওয়া সত্তেও লোক সমাগম হয়নি।সিঁধুরে গরু,মেঘ দেখলে ভয় পায়"।তেমনি ঘটেছে কর্মসুছির ক্ষেত্রেও। নকশাল ধরনের বিপ্লবী মানষিকতার অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়ে চোরাগুপ্তা পেট্রোল বোমার আগুনে শত শত মানুষ পুড়িয়ে, বেসুমার সম্পদ ধ্বংশ করে যখন ব্যর্থ হলেন,বিগত পাঁছ মাস মাঝে মাঝে বিবৃতি দিয়ে উপস্থিতি জানান দেয়া ছাড়া কোন কায্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করেননি।বিগত পাঁচ মাসে কম করে হলেও ৭বার ওয়াদা করেছেন আর প্রতিহিংসার রাজনীতি তিনি করবেননা।আছমকা গত ৮/৮/২০১৫ বুধবার ইত্তেফাক সহ সকল দৈনীক পত্রিকা সমুহে এমন একটি খবর প্রকাশিত হয়, যে কোন দেশ প্রেমিক নাগরীকের উদ্ভিগ্ন না হয়ে কোন গত্যান্তর থাকে না।দেশেরর জনমানুষের ভাগ্যের উন্নতি ঘটানোর অঙ্গিকার নিয়ে প্রতিটি রাজনৈতিক দল কাজ করে।দেশের উন্নতি ঘটান, জনগনের জীবন যাত্রার মানের উন্নতি ঘটানো প্রত্যেক নেতা নেত্রীর ধ্যন সাধনা থাকার কথা।শুধু মাত্র পরিবার রক্ষা আর পদবী রক্ষার জন্য দেশের ক্ষতি সাধন করতে পারে কেহ এটা কি ভাবা যায়?বিগত পাঁছমাস যাবৎমূখ রোচক কথা বলে ভিতরে ভিতরে লক্ষ লক্ষ ডলার ব্যয় করে দেশের ক্ষতি করার চিন্তা ভাবনা যে সমস্ত নেতা নেত্রী করতে পারে তাঁদের কি বাংলা দেশের মাটিতে রাজনীতি করার অধিকার আছে?উল্লেখ্য যে অভিযোগ উত্থাপনের ৪৮/৫২ ঘন্টা পার হয়ে গেলেও এখনও কোন বিবৃতি দিয়ে দায় অস্বিকার করা হয়নি।তাহলে ধরেই নেয়া যায় উত্থাপিত অভিযোগ সত্য? কি ছিল ইত্তেফাকে ----??আংশিক ইত্তদফাকের লহবর হুবহু তুলে দিলাম---মহাজোট সরকার কে বেকায়দায় ফেলতে এবং বাংলাদেশের ভাবমুর্তি ধুলায় মিশিয়ে দিতে নিম্নের পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করে বি,এন, পি, জামায়াত। ---- * প্রতি মাসে খরচ ৪০ হাজার ডলার * বিএনপির পক্ষে কাজ করছেন ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান * উদ্দেশ্য যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠেকানো, নির্বাচন আদায়। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও মার্কিন প্রশাসনের কাছে তুলে ধরা হবে। ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক লবিং-এ নেমেছে বিএনপি। বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একটি বড় লবিং ফার্ম নিয়োগ করেছে দলটি। একজন ব্রিটিশ আইনজীবীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মার্কিন লবিং ফার্মের সঙ্গে যোগাযোগ চুক্তি সম্পাদন ও নিয়মিত তথ্য প্রদানের জন্য। পাঁচ বছর ধরে চলমান একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া নস্যাত্ করা, সহসাই সংসদ নির্বাচন দেয়া, মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা মার্কিন প্রশাসন ও আইন প্রণেতাদের কাছে তুলে ধরার কাজ করছে মার্কিন লবিং ফার্ম। মহাজোট সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে হেয় করতে ও বেকায়দায় ফেলতেই বিএনপি এই ফার্ম নিয়োগ করে। ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক লবিং ফার্ম একিন গাম্প স্ট্রস হাওয়ার এন্ড ফেল্ডকে ফেব্রুয়ারি মাসে বিএনপির জন্য লবিং করতে নিয়োগ দেয়া হয়। বিএনপির পক্ষে মার্কিন ফার্মটির সঙ্গে চুক্তি করেন ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান। প্রাপ্ত চুক্তিপত্র ও শর্তগুলো পর্যালোচনা করে জানা যায়, ব্রিটিশ আইনজীবীর মাধ্যমে বিএনপি প্রতিমাসে মার্কিন ফার্মকে ৪০ হাজার মার্কিন ডলার দেবে। প্রথম পর্যায়ে তিন মাসের ফি এক লাখ ২০ হাজার ডলার দেয়া হয়। কাজের মাত্রা ও ধরন বিবেচনায় মাসিক ফি দ্বিগুণ বা তারও বেশি হতে পারে। ফার্মটি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের বিরুদ্ধে মার্কিন নীতিনির্ধারক, সুশীল সমাজ, থিংক ট্যাংক প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সিনেটর ও কংগ্রেসম্যানদের সঙ্গে যোগাযোগ, তথ্য প্রদান ও জনমত তৈরির কাজ করবে। মার্কিন লবিং ফার্ম ‘একিন গাম্প’ এর প্রধান কার্যালয় ওয়াশিংটন ডিসিতে। গত দুই বছরের বার্ষিক আয় (বছরে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার) বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় লবিং ফার্ম হিসেবে স্বীকৃতি পায় ‘একিন গাম্প’। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার ২১টি বড় শহরে তাদের শাখা অফিস রয়েছে। প্রায় এক হাজার আইনজীবী রয়েছে বিভিন্ন উন্নত দেশ সমুহে। একই দিন মাননীয় প্রধান মন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনা সংসদে প্রশ্ন উত্তর পর্বে দাঁড়িয়ে যে বক্তব্য দেন তাহা পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের সাথে হুবহু মিল দেখা যায়।এতবড় ষড়যন্ত্র ফাঁস হওয়ার পর ও খালেদা জিয়া এখন বহাল তবিয়তে রয়েছেন।বিশ্বের অন্যকোন দেশ হলে রাষ্ট্র দ্রোহিতার অভিযোগে তিনি এতক্ষনে শ্রীঘরেই থাকতেন। আমি গত কয়দিন আগে লিখেছিলাম,খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্যের ডাক সর্বকালের সর্ব শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক প্রতারনা।গত তিন চার মাস আগে লিখেছিলাম, খালেদা জিয়ার পরিবার রক্ষার জন্য ছেলেদের সম্পদ রক্ষার জন্য যে কোন সময় যেকোন কাজ করে ফেলতে পারবে।প্রয়োজনে তাঁকে ক্ষমতায় পৌছানোর গ্যারান্টি ফেলে দেশের কোন অংশ দিয়ে দিতেও কার্পন্ন করবে না।তাঁরই প্রতিধ্বনি পাওয়া যায় মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর বক্তব্যে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বন্ধ করেছে, পরাশক্তি নয় অপশক্তির কারণে। এই অপশক্তি দেশের বাইরের নয়, অভ্যন্তরের। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তারা অপপ্রচার চালিয়েছে, চালাচ্ছে। এরা 'ঘরের শত্রু বিভীষণ'। এদের একজন (বেগম খালেদা জিয়া) একসময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বিরোধীদলীয় নেতাও ছিলেন। এখন কোনটাই নেই। এখন তিনি একটি দলের নেতা। তিনি চিঠি দিয়ে জিএসপি বাতিলের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশে ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপপ্রয়াশে নিউইয়র্কের একটি অখ্যাত পত্রিকায় আর্টিক্যালও লিখেছেন তিনি। অপরজন (ড. ইউনূস) একটি ব্যাংকের এমডি পদ ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। তবে আদালতের রায়ে তার এমডি পদ বহাল না থাকায় তিনি এতটাই ক্ষিপ্ত। তারা বাংলাদেশের জিএসপির বিরুদ্ধে লেগেছেন। যুদ্ধপরাধের বিচার বন্ধ করতে বিএনপি-জামায়াত অর্থ দিয়ে আন্তর্জাতিক লবিস্ট নিয়োগ করেছে। এরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। গতকাল দশম জাতীয় সংসদের ৭ম অধিবেশনের ৭ম কার্যদিবসে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।তিনি আর বলেন--- জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারকে বিভিন্ন শর্তসংবলিত 'বাংলাদেশ অ্যাকশন প্ল্যান-২০১৩' বাস্তবায়নের পরামর্শ দেয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি সময়ে সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে অবহিত করা হচ্ছে। অ্যাকশন প্ল্যানের অধিকাংশ বিষয় বাস্তবায়নও হয়েছে। অবশিষ্ট বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আশা করি, অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে।যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র লবিস্ট নিয়োগের খবরের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা বিরোধিতাকারী হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি অর্থ দিয়ে লবিস্ট রেখে বিদেশে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার পরিচালিত করছে। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে বিএনপি-জামায়াত উঠে পড়ে লেগেছে। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি। রায়ও কার্যকর করেছি।অপর এক প্রশ্নের জবাবে যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদ- কার্যকরে বিরত থেকে বিদেশ থেকে ফোন পাওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, অনেক বড় বড় হোমড়া চোমড়ারাও টেলিফোন করেছিল, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় যেন কার্যকর না হয়। ?ভালো কাজে তাদের কোন ফোন না পেলেও এ কাজে ফোন পেয়েছি, কথাও বলেছি। তবে যেখানেই যত ষড়যন্ত্র হোক, যত বাধাই আসুক না কেন একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে অনড় অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি জাতির পিতার কন্যা। ন্যায়-অন্যায় বোধ আমার আছে। আপনজন সবাকে হারিয়েছি। সব হারিয়ে ?শুধু বাংলাদেশের ?মানুষের জন্য আমরা রাজনীতি। বিচার আমরা বাংলার মাটিতে করেছি। ওই বিচার চলবে এবং চলতে থাকবে, তাতে যা-ই আসুক না কেন আমি জীবনের মায়া করি না। জীবনকে বাজি রেখেই চলি। তাই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।দালালদের কোন দেশপ্রেম ও কর্তব্যবোধ নেই' মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, কেবল লুটপাট, দুর্নীতি, মানুষ খুন, ষড়যন্ত্র করা এর সাথে জড়িত তারা বাংলাদেশের বহু ক্ষতি করেছে। ইনশাল্লাহ তারা ভবিষ্যতে আর কোন ক্ষতি করতে পারবে না। কারণ বাংলাদেশের জনগণ এখন সচেতন। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারী যারা অবশ্যই তাদের বিচার বাংলার মাটিতে আমরা করব। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্পন্ন ব্যাক্তি, সচেতন দেশবাসি প্রধান মন্ত্রীর আশ্বাসে আশ্বস্থ অবশ্যই হবে।কিন্তু ষড়্যন্ত্র কারীদের এখন মুক্ত বাতাসে ঘুরতে দেয়ায় সকল দেশপ্রেমিক নাগরীকের মনের মধ্যে জ্বালা উৎগীরন শুরু হয়ে গেছে।অভিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপতার, ড:ইউনুসকে বিদেশের যে কোন স্থানে অবস্থান করুকনা কেন, বাংলাদেশে নিয়ে আসা হোক।হিলারীও তাঁ মেইল চালাচালির জন্য প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।সেখানেও শতাধিক মেইল সুদখোর ইউনুসের রয়েছে।সুতারাং তাঁকে ও বিচাররের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ষড়্যন্ত্র এমন একসময় শুরু করেছে ষড়যন্ত্র কারীরা,যখন বাংলাদেশ সকল ক্ষেত্রে উন্নতির শীর্ষ শিখরে অবস্থান নিচ্ছে।জাতিসংঘের সম্মানীয় সব পদ পদবীগুলী বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেত্রটত্বে করতল গত হচ্ছে,এমেরীকার প্রেসিডেন্ট ওবামা ও যখন শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের ভুয়সি প্রসংসায় পঞ্চমূখ,বিশ্বব্যাংক যখন ২০২১ সালে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বিকৃতি দেয়ার প্রস্তুতি এখন থেকে নেয়া শুরু করেছে,তখনই একে একে প্রকাশ হচ্ছে বাংলাদেশ বিরুদি ষড়যন্ত্রের জালের শিকড় কত গভীরে প্রথিত।এই প্রসংে প্রতিতযষা সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হকের একটা নিবন্ধ এর কথা না বলে পারছিনা। নিবন্ধটির নাম ছিল""কান্না ভুলে হাসছে স্বদেশ।"তিনি মুলত উত্তর বঙ্গের লেগে থাকা মন্দার উপর তাঁর নিজ অভিজ্ঞতার কথা বলার চেষ্টা করেছেন।দেশরত্ম কি কোশল অবলম্বন করে উত্তর বঙ্গের মঙ্গা যাদুঘরে পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন তাঁরই বিবরনী দিয়েছেন।তিনি লিখেছেন--- "শেখ হাসিনার সরকার, আগের দুই টার্মে বিশেষ তহবিল করেছেন। এনজিওগুলো তৎপর হয়েছে, কৃষি গবেষকেরা মঙ্গায় ফলে এমন ধানের বীজ আবিষ্কার করেছেন, যমুনা ও ধরলায় ব্রিজ হয়েছে, গার্মেন্টস হয়েছে, বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে, নির্মাণকাজে যজ্ঞ লেগেছে—এখন আর কেউ না খেয়ে থাকে না, উত্তরবঙ্গে মঙ্গা আর নেই। আমাকে যদি বলেন, ২৬ বছরের সাংবাদিকতা আর লেখকজীবনে কী পেয়েছেন, কী দেখেছেন? আমি বলব, আমি দেখেছি উত্তরবঙ্গের মানুষের মুখে মঙ্গা জয়ের হাসি। আমি তো গিয়েছিলাম রংপুরের তারাগঞ্জের গ্রামে, সাদেকা নামের এক গ্রাম্য নারীর তৈরি বেগম রোকেয়া নারী সমিতি দেখতে। তাঁদের পুরুষেরা বলেছেন, আমাদের গোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গরু, আমাদের সব ছেলেমেয়ে স্কুলে যায়, আমাদের গ্রামে বাল্যবিবাহ হয় না, কারণ সে রকম লক্ষণ দেখা দিলে সমিতির মেয়েরা গিয়ে বিয়েবাড়ি ঘেরাও করে, সবাই স্যানিটারি ল্যাট্রিন ব্যবহার করে এবং সবার বাড়িতে টিউবওয়েল আছে—আমরা আর কী চাই। নারীদের আমরা সহযোগিতা করি। কারণ, তারা আমাদের কুঁড়েঘরে টিনের ঘর তুলে দিয়েছে। বেগম রোকেয়ার নারীস্থান নারী-পুরুষের মিলিত স্বর্গভূমি রচনা করেছে তারাগঞ্জের গ্রামটিতে। শ্রদ্ধেয় অমর্ত্য সেন, আপনার তত্ত্বের বাস্তব প্রয়োগ দেখছি এই বাংলাদেশে, গণতন্ত্র আর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা মিলেমিশে এখানে কেবল দুর্ভিক্ষ দূর করেনি, মানুষের উন্নতি ঘটিয়েছে, নারী-পুরুষের সমমর্যাদা এখানে জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে।""
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
এর দ্বারা পোস্ট করা
Unknown
জাতীয় শোক দিবসের আজ ১০সেপ্টেম্বর শেষ দিন।হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা,শ্রদ্ধায় স্মরন করছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানকে। ============================= ১৫ আগস্ট ২০১৫ইং সর্বযুগের সর্বশ্রষ্ঠ বাঙ্গালী,বাংলাদেশের জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদাৎ বার্ষিকির, আজ ১০ই সেপ্টেম্বর ২০১৫সরকার ঘোষিত ৪০দিনের জাতীয় শোক দিবসের শেষ দিন।আশার কথা যে এবারের শোক দিবসে অল্প বিস্তর অঘটন ঘটলেও সামগ্রিক শোক পালনে গাম্ভিয্যতা পরিলক্ষিত হয়েছে।বেশ কিছু অফ-লাইনের কাগজ ইলেক্ট্রোনিক মিডিয়া ৪০দিন ব্যাপি তাঁদের কাগজের পাতায় এবং অনুষ্ঠান সুচিতে কিছু না কিছু আলোচনা করার চেষ্টা করেছে।এতে বিশিষ্ট ইতিহাসবিদেরা যেমন মতামত তুলে ধরেছেন তাঁদের জ্ঞানগম্ভির আলোচনায়, তেমনি বঙ্গবন্ধুকে যারা কাছ থেকে অবলোককন করেছেন তাঁরাও তাদের স্মৃতির পাতা থেকে টুকরো টুকরো স্মৃতি গুলী মানুষকে জানিয়েছেন অবলীলা ক্রমে।বাঙ্গালী যেমন ভালবেসেছিলেন বাঁধন ছেড়া ভাবে বঙ্গবন্ধুকে,বঙ্গবন্ধু ও বাঙ্গালীকে ভালবেসেছিলেন অন্তরের সকল প্রেমকে উজাড় করে মুক্ত আকাশসম হৃদয়ের নিংড়ানো সকল ভালবাসার অকৃত্তিম আবেগ ঢেলে দিয়ে। ১৫ আগস্ট পৈশাচিক, নৃশংস এবং পৃথিবীর সবচাইতে কলঙ্কিত হত্যাকাণ্ডে জাতির জনক সপরিবারে, শেখ ফজলুল হক মণি স্বস্ত্রীক, শেখ নাসের ও আব্দুর রব সেরনিয়াবাত পরিবারের অনেক সদস্যসহ শহীদ হন। এটি পৃথিবীর একটি ব্যতিক্রমধর্মী পৈশাচিক ঘটনা। যুদ্ধ ব্যতিরেকে কোনো জাতির জীবনেই এরকম ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে আসেনি। ঘটনাটি এতই অনভিপ্রেত এবং এতই অকস্মাৎ ও অতর্কিতে ঘটে যায় যে, যে জাতি ২৫ মার্চের পৈশাচিক আক্রমণকে শুধু প্রতিরোধই নয়, প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছিল; ঘটনার আকস্মিকতায় সেই জাতি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যায়। এবং অন্যদিকে এই ঘটনার বিপরীতে নেতৃত্বের কোনো অংশ থেকে প্রতিরোধ অথবা রুখে দাঁড়ানোর কোনো আহ্বান বিজয়ী জাতির জাগ্রত জনগণ শুনতে পায়নি। প্রসঙ্গের গভীরে আসার আগে আমি বিদগ্ধ চিত্তে কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি কর্নেল জামিলকে- তাঁর দুর্জয় সাহসী ভূমিকার জন্য। যথাসময়ে জীবনের বিনিময়ে তিনি প্রমাণ করে গেছেন তাঁর কর্তব্যনিষ্ঠা ও সামরিক শৃঙ্খলাবোধের। জামিলের মত আর দুই চার জন যদি সেদিন তাদের কর্তব্য নিষ্টার পরাকাষ্টা দেখাতে পারতেন তাহলে বাংলা দেশের ইতিহাস হয়তোবা আজ অন্যরকম হতে পারতো। পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসে ঘাতকের নির্মম আঘাতে জীবন হারানোর ঘটনা বিরল নয়। আমেরিকার গৃহযুদ্ধের নিষ্পত্তিকরণের মহানায়ক, ইতিহাসের অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব আব্রাহাম লিঙ্কন, আমেরিকার প্রথিতযশা রাষ্ট্রনায়ক জন এফ কেনেডি ও তাঁর ভাই আমেরিকার অ্যাটর্নি জেনারেল রবার্ট কেনেডি, মানবতার অগ্রদূত মার্টিন লুথার কিং, কঙ্গোর প্যাট্রিস লুমুম্বা, আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা করমচাঁদ গান্ধী, সত্তর দশকের পৃথিবীর সবচাইতে দূরদর্শী ও সফল রাষ্ট্রনায়ক ইন্দিরা গান্ধী, তাঁরই যোগ্য উত্তরসূরি রাজীব গান্ধীসহ পৃথিবীর রাজনীতির অনেক শ্রদ্ধাভাজন বিশিষ্টজন ও বিশ্বনন্দিত রাষ্ট্রনায়ক এমনকি জাতির জনক ঘাতকের গুলিতে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। কিন্তু পৃথিবীর কোথাও কখনো একই পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে নির্মূল-নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার এমন পৈশাচিক দৃষ্টান্ত আর নেই। বঙ্গবন্ধু হত্যামামলা চলাকালে সাক্ষীদের জেরা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে উঠে এসেছে- আক্রান্ত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় পেয়েছিলেন এবং সামরিক বেসামরিক ও সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ স্থাপন করতে পেরেছিলেন এবং আক্রমণটিকে প্রতিহত করারও নির্দেশ দিয়েছিলেন। একটা অসহ্য যন্ত্রণায় আমার বুকের পাঁজর টনটন করে ওঠে। মৃত্যুর আগে কি সামরিক, কি বেসামরিক, কি সাংগঠনিক- কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত শক্তিধর ব্যক্তির পক্ষ থেকে যথাযথ সাড়া না পাওয়ার মর্মান্তিক বেদনা নিয়েই তাকে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিতে হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক শক্তি ২৫ মার্চের পর বাংলাদেশের কারাগার তো দূরে থাক, কোনো ক্যান্টনমেন্টেও তাকে রাখতে সাহস পায়নি, এটা ভেবে যে, তাকে বাংলাদেশের চৌহদ্দির মধ্যে অবরুদ্ধ রাখা ছিল অসম্ভব। তাকে নাগালের মধ্যে পেয়েও পৈশাচিক সামরিক জান্তা খুব সুপরিকল্পিত চেতনার আবর্তেই জীবিত রেখেছিল এই কারণে, মুক্তিযুদ্ধে আমরা পরাজিত হলে তাকে হত্যা করবে, আর তারা পরাজিত হলে তাদের সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক অনুগতদের সঙ্গে জীবন বিনিময় করবে। গভীর বেদনাহত চিত্তে আমার এটা মনে হয়েছে যে, পাকিস্তানের কারাগার থেকে অক্ষত অবস্থায় প্রত্যাগত হওয়ার পর তাঁর চিন্তাচেতনা ও মননশীলতায় এই বদ্ধমূল ধারণা সৃষ্টি হয় যে, তাঁর প্রাণের স্বদেশবাসীরা নিজেদের জীবনের বিনিময়ে তাঁর নিরাপত্তার বিধান করবে। বাংলাদেশের ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলই তাঁর নিরাপত্তার দুর্ভেদ্য দুর্গ। তাই অনেক অনুরোধ ও নানাভাবে তাকে সতর্ক করা সত্ত্বেও ৩২ নম্বরের বাড়ি ছেড়ে তিনি গণভবনের নিরাপত্তা ছাউনির মধ্যে অবস্থান করতে রাজি হতেন না। বিষয়টি নিয়ে তাকে সতর্ক করতে গেলে অনেক সময় প্রচণ্ড ক্রোধান্বিত হয়ে তিনি বলতেন, তিনি নিরাপত্তার নামে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবরুদ্ধ জীবন কাটাতে চান না। ৩২ নম্বরের বাড়িটি এতটাই উন্মুক্ত ও অবারিত ছিল যে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের কর্মী থেকে শুরু করে যে কোনো পর্যায়ের মানুষ এমনকি ঘাতকরাও সময়ে-অসময়ে তার কাছে অনায়াসে পৌঁছতে পারত। পালিয়ে যাওয়ার বহু রাস্তা খোলা থাকা সত্বেও,তিন ঘন্টার অধিক সময় পাওয়া সত্বেও বঙ্গ বন্ধু পালিয়ে না গিয়ে নির্ভয়ে ঘাতকদের সামনে চলে এসেছিলেন।তাঁর দৃডবিশ্বাস ছিল বাঙ্গালীরা তাঁকে হত্যা করতে পারেনা। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ঘাতকরা যদি আদৌ বুঝতে পারত, বঙ্গবন্ধু ৩২ নম্বর থেকে সরে গেছেন, তাহলে তারা পোশাক ছেড়ে উলঙ্গ হয়ে দিকশূন্য হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হতো। আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি যদি পেছনের দরজা দিয়ে সরে যেতেন, তাহলেও ঘটনার চিত্রটি অন্যরকম হলেও হতে পারত। বঙ্গবন্ধু স্থির প্রত্যয়ে বিশ্বাস করতেন যে, বাঙালির ডান-বাম যে কোনো ধরনের অভ্যুত্থান এমনকি বিপ্লব হলেও তাকে হত্যা তো দূরে থাক, তাঁর নেতৃত্বকে অস্বীকার করার দুঃসাহস ও স্পর্ধা কেউ দেখাবে না। তাঁর এই চেতনাটির প্রতীতি ও প্রত্যয় মানুষের প্রতি অগাধ বিশ্বাস এবং বাংলার মাটির প্রতি তাঁর অবারিত চিত্তের নিগুড় ভালবাসা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু ভারতবর্ষের ইতিহাসের একমাত্র সফল আন্দোলনের নির্মাতাই ছিলেন না, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি উপমহাদেশের সর্বকালে সব শহীদের ঋণ শোধ করেছেন। বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন সেই মানুষ, যাঁর জীবন ও কর্ম সফল করেছে ক্ষুদিরাম-প্রীতিলতা-সূর্যসেন থেকে সালাম-বরকত-রফিক কিংবা ঊনসত্তরের শহীদ আসাদের আত্মদানকে। তিনিই তো একমাত্র নেতা যিনি একই সঙ্গে বাঙালির অতীত ও ভবিষ্যৎকে তাৎপর্যপূর্ণ করেছেন। তাই হীন-অসত্য-ইতিহাস বিকৃতিকারীদের মূর্খতা ও স্থ‚লতার জবাব দেয়াটাও অবান্তর হবে। পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টের মধ্য দিয়ে যে ইতিতহাস বিকৃতির যুগ অতিবাহিত হয়ে আসছে প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিককেই এই বিকৃতির চক্রব্যুহ ভেদ করতে হবে। বাঙালির ইতিহাসের ভেতর দিয়ে বাঙালি আপন কথা বলে। বাঙালির ইতিহাস বাঙালির অস্তিত্বের উচ্চারণ। আর বঙ্গবন্ধু সর্বকালের বাঙালির আপনতম কণ্ঠ। তাই পনেরই আগস্টের বঙ্গবন্ধু নৃশংস হত্যাকাণ্ড বাঙালির কণ্ঠরোধ করারই শামিল। আর বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম রূপকার বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ভেতর দিয়ে ভ্রান্ত-কপট এক বিষাক্ত জাতীয়তাবাদের দিকে বাঙালিকে চালিত করার পথ প্রশস্ত হয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদও বস্তুত কোনো আকস্মিক বিষয় নয়। কোনো সেনাছাউনিতে এর কলঙ্কিত জন্ম হয়নি। এর রয়েছে হাজার বছরের এক সেকুলার ইতিহাস। আমাদের মনে পড়বে বঙ্গবন্ধুকে যেদিন হত্যা করা হয় তার পরের দিন সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। এর থেকে প্রমাণ হয় যে, ধর্মনিরপেক্ষতা যে জাতীয়তার অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল বিশ্বের প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিসমূহ কোনো দিন তা সমর্থন করতে পারেনি। উল্লেখ্য, একাত্তরের ঘাতক গোলাম আযম ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা তখন পাকিস্তান ও সৌদি আরবে অবস্থান করছিল। আর তাদের দোসররা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্লোগান দিচ্ছিল ‘তোয়াব ভাই, তোয়াব ভাই, চাঁদ-তারা পতাকা চাই’। এরা বাঙালির পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীতকে পরিবর্তনেরও দাবি তুলে। কিন্তু বাঙালি স্বভাবগত সেকুলার। হিন্দু মুসলমানদের মিলনের ভেতর দিয়েই এর পূর্ণতা। বহু ধর্ম-দর্শনকে এটি নিজের উদারতা দিয়ে আপন করে নিয়েছে। বাঙালি জাতীয়তাবাদ হচ্ছে সেই সত্তা যাকে রামমোহন-বিদ্যাসাগর-বঙ্কিম-রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-সোহরাওয়ার্দীর মতো মহান ব্যক্তিবর্গ নিজের মতো করে আকার দিয়েছেন, আর সেই মৃত্তিকামূর্তির আকারে এক কঠিন সন্ধিক্ষণে তাঁকে এই দায়িত্ব নিতে হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু ছাড়া বাংলার ইতিহাস হয়তো দীর্ঘকালের জন্য অশুভ অন্ধকারে থমকে থাকত। এইবছরই বাংলাদেশের মানুষের স্মৃতিতে জাগরুক হল বঙ্গবন্ধু মুলত সার্বজনীন ব্যাক্তিত্ব।কোন একক দল বা গোষ্টির সম্পদ নন।এই প্রথম বাঙ্গালীচিত্তে স্বরুপে,স্বমহিমায়,স্বগৌরবে জাতির জনক ফিরে আসতে শুরু করেছে।ইতিহাস কোন দিন কেউ বাঁকা করতে পারেনা,যদিও পারে তা নিতান্তই সাময়িক সময়ের জন্য।জাতির জনকের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে,তিনি তিন দশক পরেই ফিরে আসতে শুরু করেছেন।তবে এই আসার পথ ও যে মসৃন নয় তা ইতিমধ্যে প্রমানীত হয়ে গেছে।অনেক প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতাও অযথা বিতর্কের ঝড় তুলে সাময়িক বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন।দক্ষতার সঙ্গেই জাতির জনকের কন্যা সামাল দিতে পেরেছেন বলেই আপাতদৃষ্টে মনে হচ্ছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুই প্রথম বাঙালি যিনি জাতিসংঘে প্রথম বাংলায় ভাষণ দেন এবং বাংলাকে জাতিসংঘের স্বীকৃত ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ভারতের সঙ্গে ২৫ বছরের মৈত্রী ও শান্তি চুক্তি, ফারাক্কার পানি বণ্টন চুক্তিতে বাংলাদেশের জন্য ৪৪ হাজার কিউসেক পানির ব্যবস্থা বঙ্গবন্ধুর শাসনামলের বিরাট সাফল্য। মাত্র সাড়ে ৩ বছরের শাসনামলে একজন সফল রাষ্ট্র নায়ক হিসেবে বিশ্ব শান্তি পরিষদ কর্তৃক সংগ্রাম, স্বাধীনতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর অমূল্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জুলি ও কুরি শান্তি পদক প্রাপ্তি আজো সব বাঙালির জন্য গর্বের এবং গৌরবের। ইতিহাস সত্যের পথে অবিরল, অবিচল। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে খুনিচক্র বঙ্গবন্ধুর নাম চিরতরে মুছে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে খুনি মোশতাক, ফারুক, রশিদ, ডালিম ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। ৩৪ বছর পরেও খুনিদের ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলতে হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তাঁর কর্মের মাঝে, সৃষ্টির মাঝে আমাদের হৃদয় মন্দিরে বেঁচে আছেন। দেশে-বিদেশে লাখ কোটি মানুষের অন্তরের মনিকোঠায় বেঁচে থাকবেন মহাকালের পথ বেয়ে অনন্তকাল।
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
এর দ্বারা পোস্ট করা
Unknown
দ্যা ইকোনোমিষ্টের দৃষ্টিতে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই--খালেদা যাচ্ছেন জেলে। ================================ সেনা চাউনী থেকে প্রতিষ্ঠিত বি,এন,পি দলের পতনের মহুর্তে দেশ বিদেশ থেকে একের পর এক শুধু প্রেসক্রিপসানই আসছে।কেউ বলছেন নেত্রীর ভুলের কারনে দলের পতন অনিবায্যতা পেয়েছে,কেউ বলছেন তারেক জিয়াকে প্রতিষ্ঠিত করার মধ্যে গলধ হয়েছে,কেউ বলছেন শংকর জাতের নেতাদের মিলন মেলার কারনে কেউ কার ও কথা শুনছে না,কেউ বলছেন ২০০১সালের নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে, দলটি তাঁর জাতীয় চরিত্রের রুপ হারিয়ে ফ্যাকাসে হয়ে গেছেন,কেউবা বলছেন সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতির কারনে জনগনের আস্থা হারিয়ে পেলেছেন।অনেকে আবার বলছেন ১/১১ সরকারের রোষানলে পড়ে দলটি দিক হারিয়ে উলটা পথে চলেছেন।কেউ আবার বলেন,দশম নির্বাচনে অংশ না নেয়ার কারনে আজকের এই দশা।অনেকেই বলেন জামাতের কারনে দলটির পতন হচ্ছে।বহু বিজ্ঞ অভিজ্ঞ রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলতে শুনা যায়,৯ম সংসদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দেয়া প্রস্তাব"সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব প্রত্যাক্ষান করে নির্বাচন বর্জনই সবচেয়ে বড় ভুল।""আবার অনেকেই আরো গভিরে পৌছে বলতে চান জনগনের সমস্যা নিয়ে আন্দোলন না করে পরিবার রক্ষা করার জন্য বিশাল জনসমর্থন পুষ্টদল কে ব্যাবহার করার কারনে দলটি ধীরে ধীরে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েছে। রোগ চিহ্নিত করা গেল,যাহাই এযাবৎ বলা হল মুলত আওয়ামী লীগ এতদিন যা বলে আসছে,তাহাই। ঐ দলের দেশী বিদেশী শুভাকাংখীদের আলোচনায় ঘুরে ফিরেই এসেছে।বাস্তবীক ভাবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পয্যায়ের নেতারাও আগে থেকেই বৃহৎ বিরুদি দলের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে,গনতন্ত্রের স্বার্থে,বার বার হুশিয়ারী দিয়ে বলার চেষ্টা করেছেন উল্লেখিত কথাগুলী।তখন বি,এন,পি কানে নেয়নি।এখন কানে নিচ্ছেন,খালেদা জিয়া নীজেই বলা শুরু করে দিয়েছেন আর হিংসাত্বক রাজনীতি করবোনা।এখন থেকে জনসম্পৃত্ত রাজনীতিই চালিয়ে যাব। ""মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দলের এক আলোচনা সভায় ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি বলতে চাই- ভয়ের কিছু নেই। আপনাদের অভয় দিচ্ছি; আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করব না। কারো প্রতি প্রতিশোধ নেব না।” দলের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে ওই আলোচনা সভা হয়। নির্বাচন কমিশন বাতিল করে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানেরও দাবি জানান খালেদা। তিনি বলেন, “আমরা শুধু চাই একটা অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন। বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।” একইসঙ্গে দেশকে এগিয়ে নিতে জাতীয় ঐক্যের রাজনীতির ডাকও দেন খালেদা জিয়া। “সরকার আসবে, সরকার যাবে। এদেশে কিন্তু মাত্র দুটি দলই আছে- বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। কাজেই কোনো সময় আওয়ামী লীগ কোনো সময় বিএনপি, সেটারই রদবদল হতে থাকবে। আসুন উন্নয়নের রাজনীতি করি, জাতীয় ঐক্যের রাজনীতি করি। গুম-খুন-হত্যা বন্ধ করে, মামলা-হামলা বন্ধ করে সামনের দিকে দেশটাকে এগিয়ে নিতে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দিন।” রাজনীতিতে ভুল করলে এমন হয়,জাতীয় সরকারে যোগ দিয়ে নির্বাচন করেননি, অথছ এখন নির্বাচন কমিশন রদবদল করলেও নির্বাচন করবেন।এখন কেন নির্বাচন দিবেন সরকার।দেশের জনগন এবং বিদেশি বন্ধু রাষ্ট্র সমুহ বাংলাদেশের ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন মেনে নিয়েছে। ""দ্যা ইকোনোমিষ্ট পত্রিকায় একটি নিবন্ধ চাপিয়ে বলেছে----অন্তহীন লড়াইয়ে জিতে চলেছে এক নারী"শিরোনামে দেশনেত্রী শেখ হাসিনার অন্থহীন প্রসংশা করে লিখেছে,--দেশের সব কিছুই শেখ হাসিনার নিয়ন্ত্রনে(২)বিদেশীরা এই সরকারের সাথে ব্যবসা বানিজ্যে আগ্রহী(৩)দেশে দারিদ্রের হার দ্রুত কমে এসেছে।(৪)বেগম খালেদা জিয়া অতীত কর্মকান্ডের কারনে জেলে যাবেন।"" গত কিছুদিন যাবৎ বলে আসছিলাম বি,এন,পি তাঁদের ভুল বুঝতে পেরেছে।এক দুইটি কর্মসুচি দিয়ে হঠকারী রাজনীতি পরিহার করেছে প্রমান করতে চাইলে, প্রমান হবে না।তাঁর জন্য জনগনের প্রত্যাশা হচ্ছে নিয়ন্তর গনসম্পৃত্ত কর্মসুচি দিয়ে রাজপথে অবস্থান নেয়া।রাজপথেই নির্ধারীত হবে বি,এন,পি,তাঁর মিত্র মানবতা বিরুদি অপরাধিদের সংঙ্গ ত্যাগ করে, জনগনের সংগে এসেছে কিনা।হঠকারী রাজনীতি ছেড়ে গনমূখী রাজনীতির চর্চা শুরু করেছে কিনা?সব কিছুর আগে গত জীবনে লাগাতার সহিংশ রাজনীতির কারনে,প্রতিহিংসার বসবর্তি হয়ে আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে মানুষ হত্যা করে,সম্পদ ধ্বংশ করে মানবতা বিরুদি অপরাধের কারনে আদালতের মাধ্যমে তিনি নীজকে নির্দোশ প্রমান করে আসতে হবে।দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ হিসেবে কোন চালচাতুরীর আশ্রয় গ্রহন না করে আদালতের মাধ্যমে রাজনীতি করার সার্টিফিকেট নিয়ে আসতে না পারলে, তিনি জনগনের নিকট গ্রহনযোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন বলে মনে হয় না।যতই সুন্দর কথা বলার চেষ্টা করুকনা কেন,জনগনের আস্থা বিশ্বাসে চিড় ধরেছে তা পুনরায় আস্থায় আসবে না আমি ব্যাক্তিগতভাবে আচায্যম্বিত হলাম,এতকাল শুনে এলাম এবং কি অভিজ্ঞতায় ও সঞ্চিত আছে--ছোট ছোট দল বড় দলকে অনুস্মরন করে।আমাদের সমাজেও দেখা যায় এবং কি তা নিয়ম ও বটে-- গ্রামের শিক্ষিত ভদ্র মানুষটিকে সবাই অনুসরন করে।রাজনীতির ক্ষেত্রেও বড় দল, আদর্শবান দলকে, ছোট দল গুলী বক্তৃতা বিবৃতিতে অনুসরন করে বা জোট বদ্ধ থেকে অস্থিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টায় ব্রতি হয়।বি,এন,পি দলটির এতই নৈতিক অবক্ষয় হয়েছে যে, জাতীয় পার্টির মত স্বৈরাচারী দল এবং এরশাদের মত পতিত সরকার প্রধানের বক্তৃতাকে ও এখন অনুসরন করা শুরু করতে হয়েছে বা হচ্ছে।কুমিল্লায় এরশাদ কি বলেছেন তা জনাব রিপন,-- সরকারকে উপলব্দি করার জন্য বলেছেন।খালেদা জিয়ার কথার প্রতিধ্বনী না করে এরশাদের বক্তৃতার প্রতিধ্বনি বি,এন,,পি দলের ক্ষয়িঞ্চুতার প্রকৃষ্ট প্রমান বলে আমি মনে করি। আমেরীকার প্রেসিডেন্ট জনাব ওবামা আফিকায় তাঁর নীজ বাড়িতে নৈশভোজের বক্তৃতায় দেশরত্ম শেখ হাসিনার ভুয়সি প্রসংশা করে যে বক্তৃতা দিয়েছেন অদ্যাবদি আওয়ামী লীগের কোন নেতা বা মন্ত্রী ও তা কোড করে কোন মন্তব্য করেনি বা বক্তৃতা বিবৃতিতেও প্রকাশ করেনি।প্রত্যহ কোন না কোন দেশ বা বিশ্ব সংস্থা বাংলাদেশ অথবা তাঁর নেতা শেখ হাসিনাকে উপলক্ষ করে বক্তৃতা বিবৃতি দিচ্ছেনা এমনতর সময় বা দিন নেই।সব কিছু কোড করে দেশের মানুষকে জানাতে গেলে শুনতে শুনতে মানুষের বিরক্তিই এসে যাবে,হীতে বিপরীত হওয়ার আশংকাই বেড়ে যাবে।বা আলাদা একটা মিডিয়ার জম্ম দিতে হবে।সাধারন স্বৈরাচার কি বলে তা কোড করতে হবে বি,এন,পির মত বৃহত একটি দলকে?? আমাদের গনতন্ত্রের জন্য,একাধিক বিরুদীদল থাকা একান্ত কাম্য।জনগনের প্রত্যাশাও তাই।দুর্ভাগ্য আমাদের তা থেকেও নেই।সর্বদলীয় সরকারে যোগ দিয়ে, পছন্দমত মন্ত্রী নেয়ার মত প্রস্তাব গ্রহন করে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত, যে নেতা নিতে পারেনি,সেই নেতার দ্ধারা আর যাই হোক, বাংলা দেশের রাজনীতিতে বিরুদীদলের ভুমিকা পালন করা সম্ভব হবে না।তাই প্রয়োজন একটা নতুন ধারার রাজনীতির উত্থান।নতুন রাজনৈতিক ধারার উত্থান, এখন সময়ের দাবি।দেশের অভিজ্ঞ রাজনীতিবীদ,সুশীল সমাজ,রাজনৈতিক বিশ্লেষকগন এই দিকে নজর দেয়ার সময় এসে গেছে।বি,এন,পি ভুল করেছে কেন,এই সম্পর্কে বিস্তারীত আলোচনা সমালোচনা হয়েছে,অভিজ্ঞরা পরামর্শ ও লাগাতার দিয়ে যাচ্ছেন,খালেদাও আকারে ইঙ্গিতে বলার চেষ্টা করে যাচ্ছেন,তিনি পরামর্শ গ্রহন করছেন এবং সেইমত ঔষদপথ্য করার উদাহরন ও রেখেছেন।দেশের চলমান সবচেয়ে জনগন সম্পৃত্ত ইস্যু তৈল গ্যাসের দাম বৃদ্ধি সক্রান্ত বিষয়ে কর্মসুচি নিয়ে মাঠে নেমেছেন।কিন্তু জনগনের সাড়া না পেয়ে হতাশ।যে কাজটি আগে করার সেই কাজটি পরে,পরের কাজটি আগে করতে গেলে যা হয় তাহাই হল।দলকে না গুচিয়ে,নেতৃত্ব বদল না করে মাঠে নামার ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে।নেতারা নেই কর্মিও নেই।এ অবস্থায় বিরুদীদল হীন ভাবে সরকার চলতে পারেনা,চলা উচিৎ ও নয়। টেলিভিশনের পর্দায় অনেকে নীতিবাক্য আওড়াতে দেখি।এমনভাব প্রদর্শন করেন,যেন তিনি ছাড়া আর কেউ কিছুই বুঝেনা,তাঁদের নিকট বিনীত অনুরুদ,দেশের বিরুদীদলহীন এই সংকট মহুর্তে দেশ আপনাকেই খুজছে,দল বানিয়ে রাজপথে নেমে পড়ুন,লক্ষ লক্ষ জনতা আপনার পেছনে সারীবদ্ধভাভাবে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় আছে।
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
এর দ্বারা পোস্ট করা
Unknown
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
এর দ্বারা পোস্ট করা
Unknown
খালেদা পরিবারের অতীতের লুটপাটের কাহিনী মানুষ এখনও ভুলেনি,ফলে সক্ল আন্দোলন কর্মসূচি ব্যর্থ হচ্ছে!! ===================== গতকাল ছিল বি,এন,পি জোটের ডাকা বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসুচি।হাতেগোনা কয়েকটি জায়গায় স্বল্প সংখ্যক নেতা কর্মির উপস্থিতিতে পালিত হলেও সুখী ঢাকা শহরে কোন মিছিল চোখে পড়েনি।কেন্দ্রীয় কোন নেতা বরাবরের মত এবার ও মাঠে নামেনি।অবশ্য বি,এন,পি,ও এবার মিথ্যা বলেনি।কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে কয়েকটি জায়গায় মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশের কারনে তাও সম্ভব হয়নি।নিম্নে বি,এন,পির ভাষ্য হুবহু তুলে দিলাম-;--- কেন্দ্রীয় বিএনপি দাবি করেছে, আজ নোয়াখালী, রাঙামাটি, পিরোজপুর, মাগুরা, রংপুর মহানগর, রংপুর জেলা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, শরিয়তপুর, নওগাঁ, নড়াইল, এবং ময়মনসিংহ সদরে পুলিশের বাধার কারণে কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হয়নি। আমার কথা হচ্ছে ৬৪টি জেলা সম্বলীত বর্তমান বাংলাদেশ।কয়েক জায়গার নাম উল্লেখ করে পুলিশ বাধা দিয়েছে বলা হল,কিন্তু অন্য জেলা বা উপজেলা গুলিতে সুন্দর ভাবে করতে পেরেছেন কিনা তা বলেননি।বাংলাদেশের কোথাও স্বতস্পুর্তভাবে কর্মসুচি পা--লি--ত-- হ--য়--নি। আমি এর আগেও একাধিক বার বলেছিলাম বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার দল, তথা জামাত বি,এন,পি আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না।যতই চেষ্টা করুকনা কেন জনগন পরের কথা, তাঁদের নেতা কর্মীরাও ঘর থেকে বের হবে না।জনগনের মনে আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে জ্যান্ত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে, যে ভীতির সঞ্চার করেছে,সেখান থেকে বের হতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হবে।ততদিন পয্যন্ত দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।জনগন আর আগের মত বোকা আছে বলে ও মনে হয় না।জিয়া পরিবারের লুট পাট, হাওয়া ভবন সৃষ্টি করে প্যারালাল সরকার পরিচালনা,অর্থপাচার,জাতির জনকের পরিবারের উপর হত্যার উদ্দেশ্যে একাধিক হামলায় সরাসরি রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা,খালেদা জিয়ার বিলাস বহুল জীবন যাপন ইত্যাদি জনমানষে গভীরভাবে রেখাপাত করেছে।বিশ্বের এমন কোন দেশের পতিত বিলাসী সরকার প্রধান পাওয়া যাবেনা, যে সরকার সেই দেশের রাজনীতিতে আবার ঘুরে দাঁডাতে পেরেছে।বাংলাদেশে কিভাবে পারবে?তাছাড়া বিশ্বের যে কোন দেশের চাইতে বাংলাদেশের মানুষ অধিকতর রাজনৈতিক সচেতন।বাংলাদেশের মানুষ খুব ভাল ভাবেই অবগত আছে,জিয়াকে যখন হত্যা করা হয় তখন বার বার ইলেক্ট্রিক মিডিয়া সহ দেশ বিদেশের সকল সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার হয়েছিল, জিয়ার বাসায় একটা ভাঙ্গা স্যুটকেস এবং ছেঁড়া গেঞ্জী ছাড়া আর কিছুই ছিলনা।সংগত কারনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতির পরিবারের ভরন পোষন,ছেলেদের লেখা পড়া,ঢাকা শহরে বসবাস করার জন্য বাড়ী,রাষ্ট্রীয় ভাতা ইত্যাদির যথাযথ ব্যাবস্থা করেছিল তৎকালীন সরকার।একাদিক বাড়ী সরকার দিলেও খালেদা জিয়া সেনা বাহিনী থাকা অবস্থায়, জিয়া ক্যান্টনমেন্টে যে বাড়ী পেয়েছিলেন,মেজর জিয়ার মৃত্যুর পরেও খালেদা, সেখান থেকে বের হওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি।শেষ পয্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৮সালে ক্ষমতায় এসে সেনাবাহিনীর প্রয়োজনে বেগম জিয়াকে সেই বাড়ী থেকে বের করার পদক্ষেপ গ্রহন করেন।খালেদা জিয়া বাড়ীথেকে বের না হওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে ফন্দি ফিকির করতে থাকেন।এতে সরকারী সম্পদ অবৈধ ভাবে দখলে রাখার ক্ষেত্রে তাঁর প্রচন্ড লোভ জনগনের নিকট পরিষ্কার ভাবে ধরা পড়ে।শেষ পয্যন্ত সরকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে তাঁকে বাড়ী থেকে বের করতে বাধ্য হয়।সরকারী বাড়ীর জন্য খালেদা জিয়ার কান্না দেশ বিদেশের মিডিয়া গুলীতে বার বার দেখানো হয়।বিশ্বের সকল মিডিয়ায় উক্ত ছবি বেশ গুরুত্ব দিয়ে কয়েক দিন প্রচার করে,।সংগত কারনে দেশে বিদেশেও তাঁর লোভের লেলিহান জিব্বার ব্যাপক সমালোচিত হয়।বাড়ী থেকে বের করার পর তাঁর নিজস্ব ব্যাবহারীত মালামালের তালিকা প্রস্তুত করতে গেলে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষতো বটেই,দেশী বিদেশী সংবাদ কর্মিরাও তাজ্জব বনে যান।একটা গরিবদেশের সরকার প্রধানের বিশাল বাড়ীতে, বেশুমার বিলাসী আসবাবপত্র ও বিলাস সামগ্রি থাকতে পারে, কেউ কোন দিন কল্পনায়ও আনেননি।এই সংবাদ ও দেশ বিদেশের মিডিয়া গুরুত্বের সাথে বেশ কিছু দিন প্রকাশ করে।এইসব সামগ্রী ফিলিফিন্সের পতিত মার্কোস দম্পতির চাইতেও কয়েক গুন বেশী।কি ছিল বাড়ীতে তাঁর একটা তালিকা দেয়া প্রয়োজন মনে করি--+- খালেদার নিজের ব্যাবহারী জিনিষের তালিকাই এখানে তুলে ধরা হল।কারন তারেক জিয়া ও কোকো আলাদা আলাদা সরকার কতৃক বরাদ্ধ করা বাড়ীতে থাকতেন। তাঁর ঘরে যে সব জিনিস পাওয়া গেছে তা এক বিশ্ময়কর----!!! (এক)৫৪ টি ফ্রিজ, ২৫ টি এয়ারকন্ডিশন।,ফ্রান্স থেকে আমদানী। (দুই) করা ২৫ টি ঘুমানোর জন্য খাট, (তিন) চীন থেকে আমদানী করা ২০ টি ড্রেসিং টেবিল। (চার) তৈজসপত্র, ১৫ টি টয়লেট ছিল,টয়লেটের সরঞ্জাম সবই বিদেশ থেকে আমদানী করা। (পাঁছ) খাটের উপর ব্যাবহায্য সব কিছুই তুর্কি থেকে আমদানী করা কম্বল,বিছানাপত্র,জাজিম,তোষক ও ফোম। (ছয়) ৬৪ জনের বিশাল বহর ছিল বাসার কাজের লোক। (সাত) প্রত্যেক ফ্রিজে ভর্তি ছিল বিদেশী মদের বোতল,খদ্য সামগ্রীতে। (আট) বাথ্রুমে ছিল অত্যাধুনীক ব্যবহায্য সামগ্রী। (নয়) রুপ চর্চার জন্য ফিলিফাইনের ছয়জন বিউটিশিয়ান (দশ) কেশ বিন্যাসের জন্য ছিল আলাদা আরও তিন জন হেয়ার স্টাইলিষ্ট। (এগার)পরিধেয় কাপড়,জুতার ভান্ডার গুনে দেখার মত নহে। তাছাড়াও সর্বজনবিদিত যে,ডান্ডিডাইং থেকে আরাম্ভ করে কোকো জাহাজ পয্যন্ত সম্পদের পাহাড়।খুলনার ক্যারু মদের কারখানার মালিকানাও বেনামে তারেক জিয়ার।বিশাল অর্থ ভান্ডার যাহা সম্পুর্নই কালো টাকা।উক্ত কাল টাকা ফকরুলের তত্বাবধায়কের সময়ে সরকারী তহবীলে যথাযথ কর দিয়ে সাদা করে নিয়েছেন। খালেদা এবং তাঁর পরিবারের রক্ষার আন্দোলনে জনগন কেন শামিল হবে? কি ছিল জিয়া পরিবারের?এত সম্পদের মালিক দুইবার ক্ষমতায় থেকে আহরন করা যায়??অগনতান্ত্রীক মানুষ পুড়িয়ে মারার আন্দোলনে সামিল হয়ে নেতা কর্মিরা বাড়ীছাড়া।আন্দোলনের প্রাপ্তিছাড়া অফিস ছেড়ে ঘরে চলে যাওয়াতে খালেদা জিয়ার প্রতি কর্মিদের আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে বলে আমি মনে করি।যার ফলে দীর্ঘ পাঁছমাস বিরতির পরে ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসুচি দেয়ার পর ও কর্মিরা তা পালন না করে ঘরেই বসে রয়েছেন।ঢাকা শহরে শুধু নেতারা মিছিল বাহির করলেও দশ হাজার নেতার মিছিল হওয়ার কথা,কিন্তু নেতারাও কেউ বের হননি।দশ হাজার নেতা একযোগে মিছিল বের করলে পুলিশ নয়, সেনাবাহিনীও বাঁধা দিবে বা দিতে পারবে বলে আমি মনে করি না। বারে বারে ব্যার্থতার কারন খালেদা জিয়া বুঝেননা।জনগন ঠিকই বোঝেন এবং কি নেতা কর্মিরাও বোধগম্য।আমি মনে করি জিয়া পরিবারের রাজনীতি বাংলাদেশের মাটিতে করা আর সম্ভব হবে না।বেগম জিয়ার হাতে পেট্রোল বোমার আঘাতে মৃত মানুষের গন্ধ লেগে আছে,গায়ে লুটের টাকার ঘামের গন্ধ,চলাপেরায় অনৈতিকতার চাপ স্পষ্ট।দেশের মানুষকে তাঁদের নীজেদের স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে সামিল করতে গিয়ে, মানবতা বিরুদি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি,মৌলবাদী জঙ্গী গুষ্টির সাথে হাত মিলাতে কুন্ঠাবোধ করেননি।বাংলা দেশের মানুষ ৭১ এর খুনী, দর্শক,রাজাকার,আলবদরদের বিচার চায়।খালেদা জিয়া তাঁর পরিবারকে নির্গাত শাস্তি থেকে রক্ষার হীন উদ্দেশ্যে জঙ্গী,৭১ এর ঘাতকদের সাথে হাত মিলিয়েছেন।জনগন ও জঙ্গীরানী খালেদার আগুন সন্ত্রাস থেকে বাঁচার জন্য একজোট হয়েছেন।জনগনের সমস্যা নিয়ে আন্দোলন করার চেষ্টা করে ও ব্যর্থ হয়েছেন,এই থেকে তাঁর শিক্ষা নেয়া প্রয়োজন। যে নেতা জনগনের নাড়ীর কথা বুঝে না তাঁর রাজনীতি করার কোন অধিকার আছে বলে আমি মনে করি না। হাসানুল হক ইনুর সাথে সুর মিলিয়ে আমিও বলতে চাই, খালেদা জিয়ার সর্বস্ব শেষ না হওয়া পয্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব ইনশাল্লাহ। গত কাল হাসানুল হক ইনু একটি যুক্তি পুর্ন কথাই বলেছেন-- ‘২১ আগস্ট পরিকল্পনাকারী, জঙ্গিবাদী ও আগুন সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো আপস হতে পারে না। খালেদা জিয়া মাফ চাইলেও তাঁকে মাপ করা হবে না। তারেক রহমান ও খালেদা জিয়াকে শেষ ধাক্কা দেওয়ার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। হয় তাঁরা থাকবে না হয় আমরা থাকব।’ এর পর সুযোগ সন্ধানী বেঈমান এরশাদের পালা আসবে।এরশাদ জাতির পিতার হত্যার বেনীফিসিয়ারী পাকিস্তান ফেরৎ সেনা কর্মকর্তা।ভারতে থেকে মদদ দিয়েছিল এরশাদ।জিয়ার সাথে চুক্তি ছিল,এরশাদের মুখের কথা।খালেদা জিয়া কি কথা রাখেননি,তাঁকে এই মহুর্তে গ্রেপতার করে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন।গতকাল এর শাদ কুমিল্লায় দলীয় মিটিং করতে এসে বি,এন,পি কে অবিশম্পাত দিয়ে গেলেন।বি,এন,পি নাকি কথা রাখেননি।কি কথা রাখেননি? এতে বুঝা যায় সব ইদুর এক গর্তেই ছিল,হঠাৎ জলোচ্ছাসে সব ইদুর বানের পানির সাথে ভেসে গেছে। স্বৈরাচার এরশাদের নিজের মুখেই বলেন+--বিএনপির মিথ্যা আশ্বাসে আমি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছিলাম, বিএনপি আমার সঙ্গে ও আমার দলের সঙ্গে বেঈমানি করেছে। বিএনপি এখন সেই বেঈমানির ফল পাচ্ছে। গতকাল স্বৈরাচারী এরশাদ কুমিল্লার তাঁর দলীয় মিটিং এ বক্তব্যে বলেন,দেশ কোথায় আছে—এমন প্রশ্ন রেখে এরশাদ বলেন, কেউ প্রতিবাদ করলে তাঁকে পরের দিন আর পাওয়া যায় না। রাস্তায় নিথর দেহ পড়ে থাকে। মানুষ গুম হয়ে যাচ্ছে। মানুষ কথা বলতে পারে না। লেখার অধিকার নাই। ভোটের অধিকার নাই। বাঁচার অধিকার নাই। দেশে সুশাসন নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। মানুষের মনে ভয়। এখন এই ধরনের অত্যাচার থেকে মানুষ রক্ষা পেতে চায়।‘ স্বৈরাচার কিভাবে এম,পি হল সেই কথাটি বলেনি।কুমিল্লায় কি করে জনসভা করে তাও বলেনি।এত কথা বলার পর সে কেন গুম হয়না তাও বলেনি।সুযোগের সন্ধানী স্বৈরাচার এরশাদ,বিএন,পির পতনের আভাস পেয়েে দল বড় করার ফিকিরে আছে।বুড়াও আবার জোয়ান হয়?পতন হয়েছে হয়েছেই--উত্থান আর হবে না। উত্থান হবে নতুন প্রজর্ম্মের,যেই প্রজম্ম বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধের প্রজর্ম্ম।যেই প্রজর্ম্ম স্বাধীনতার মহা নায়কের উত্তরসুরী,ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনকের দৌহিত্র,দেশরত্মের সুযোগ্য পুত্র জনাব সজিব ওয়াজেদ জয়ের হাত ধরে। জয় আমাদের হবেই,জয় হবে মুক্তিযুদ্ধের,জয় হবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের স্বমহিমায়, স্বগৌরবে জাতীয় চেতনায় ফিরে আসার।
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
এর দ্বারা পোস্ট করা
Unknown
খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্যের আহব্বান সর্বকালের সর্বশেষ প্রতারনা। ============================= জাতীয়তাবাদী দলের নেত্রী তথা ২০দলের নেত্রী জাতীয় ঐক্যের আহব্বান জানিয়েছেন।তিনি এই আহব্বান জানালেন আওয়ামী লীগ সহ সারা জাতী যখন জাতির জনকের ছল্লিশতম শাহাদাৎ বার্ষিকি উপলক্ষে চল্লিশ দিন ব্যাপি শোক উৎযাপন করছে।গত পনেরই আগষ্ট ছিল জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানকে বর্বরতম হত্যার চল্লিশতম শাহাদাৎ দিবস।বেগম খালেদা জিয়া১৯৯৬ ইং থেকে ঐ দিন রাত ১২'০১মিনিটে তাঁর ভুঁয়া অনেক জম্মদিনের মধ্যে একটি দিন পালন করে আসছেন।এইবার সময়টাকে ১০ঘন্টা পিছিয়ে পালন করে কয়দিন পরেই জাতিয় এক্যের আহব্বান জানালেন।তিনি স্বজ্ঞানে এই আহব্বান জানিয়েছেন, না নাবুঝেই জানিয়েছেন তা এখনও বোধগম্য নয়।তিনি আরও বলেছেন "হিংসা,হানাহানী আর নয়।" ব্যাপারটা কেমন যেন মনে হচ্ছে নেত্রী স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন না। জাতীয় ঐক্য আমাদের ছিল,এবং সুদৃডই ছিল।সে জাতীয় ঐক্যকে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় জাতীর জনক এবং তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যা করে, কারা বিনষ্ট করেছিল।নামে বেনামে,আমেরীকার তল্পিবাহক হয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বন্ধক রেখে,স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে দেশকে পরিচালিত করে,মিনি পাকিস্তান বানিয়ে,জঙ্গী বাদের পৃষ্টপোষকতা করে, জঙ্গী রাষ্ট্র বানাতে ব্যর্থ হয়ে,বিয়াল্লিশ দিন পয্যন্ত আন্দোলনের নামে, অবরোধের নামে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে,এখনও অবরোধ প্রত্যাহার না করে, জাতিয় ঐক্যের আহব্বান করা সুধীজনের নিকট হাস্যকর ব্যাপার ছাড়া, আর কিছুই নহে। বিগত সাত বছর হানা হানি,বোমাবাজি,মিথ্যাচার,অশুভ শক্তির সাথে আঁতাত করে সরকার উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ার পর এখন বোধদয় হয়েছে,আর হানাহানীর প্রয়োজন নেই। হিংসা এখন ও পরিত্যাগ না করে, হিংসা পরিত্যাগের কথা বলা একরকম প্রতারনা ছাড়া আর কি বলা যায়? এই সেই দিন বি,এন,পি দলের যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহাজাহান সাহেব বি,এন,পি দল পুর্নগঠন সম্পর্কে অন্য সব নেতার মুল্যায়নের সাথে তাঁর দেয়া মতের খন্ডিতাংশ জনগনের অবগতির জন্য হুবহু তুলে দিলাম--- "সেনাসমর্থিত বর্তমান সরকার জিয়া পরিবারের প্রথম থেকে কনিষ্ঠ সদস্যকেও মামলার জালের বাইরে রাখেনি। উচ্ছেদ করেছে ভিটেমাটি থেকেও। শুধু তাই-ই নয় দেশে থাকার মতো পরিস্থিতিটুকুও জুটেনি শহীদ জিয়ার উত্তরাধিকারদের কয়েকজনের। শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করতে হয়েছে বিদেশ বিভুয়েই। কাক্সিক্ষত স্থানে কবরস্থ করবার মতো আবদারটুকুও পুরণ হয়নি এই পরিবারের। সংগঠনের বর্তমান অবস্থা : সারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক কমিটিগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে আছে দীর্ঘ সময় ধরেই। পুরনো কমিটির দায়িত্বে চলছে সংগঠন। দলের কেন্দ্রীয় কাযার্লয়ের দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এই মুহুর্তে ৭৫টি জেলা কমিটির মধ্যে ৬০টি জেলা কমিটিই মেয়াদ তামাদি হয়ে গেছে।""-===> কি আর মন্তব্য করবো এই আহম্মকের বক্তব্যের।একদিকে সরকারী সম্পদ ভোগ করতে না পারার ক্ষোব,হাওয়া ভবন সৃষ্টি করে লূটপাটের কারনে, তত্বাবধায়ক সরকারের দেয়া মামলায় নিশ্চিত জেল থেকে বাঁচার জন্য, চিকিৎসার নাম করে তাঁদের সাথে আঁতাত করে বিদেশে পাড়ি জমিয়ে-- বর্তমান সরকারকে দুশি সাব্যস্ত করে হিংসার আগুনে দেশ জালিয়ে পুড়িয়ে চারখার করে দিতে ব্যর্থ হয়ে, হিংসা হানা হানি বন্ধের আহব্বান জানানো প্রতারনার কোন পয্যায় পড়বে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা চুলচেরা বিচার বিশ্লেষন করে যা বলার বলবেন। আমি ব্যক্তিগত ভাবে যতটুকু বুঝি জাতিয় ঐক্য সর্বসাধরনের একান্ত কামনা ও বাসনা।তবে সেই জাতীয় ঐক্য রাজপথ থেকে না হলে বিবৃতির মাধ্যমে টেকসই হবে না। তথ্যভিত্তিক সমাধানের পথে অবশ্যই দেশকে অগ্রসর করে নেয়ার দায়িত্ব জাতীয় নেতাদের,তাঁর জন্য চাই দেশপ্রেমিক,নির্লোভ,সাহষী,তেজদিপ্ত জাতিয় নেতার। ১৯৭৫ ইং এর পর নামে বেনামে সেনা শাষন ছিল নাকি বর্তমান সরকার সেনা সমর্থিত সরকার তার বিচার ও ইতিহাসবিদেরা অবশ্যই করবেন।ইতি মধ্যেও বিচার শুরু হয়েছে বলে আমি মনে করি।এই প্রসঙ্গে সদ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক জরিফের ফলাফল প্রনিধানযোগ্য বলে আমি মনে করি--- রাজনীতি ও গণতন্ত্রবিষয়ক মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গত ২৩ মে থেকে ১০ জুন ১৮ থেকে বেশি বয়সের ২ হাজার ৫৫০ জন নারী-পুরুষ এই জরিপে অংশ নেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেক নারী এবং অর্ধেক পুরুষ। বাংলাদেশের সাতটি বিভাগে পরিচালিত জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৭৪ শতাংশ গ্রামে এবং ২৬ শতাংশ থাকেন শহরে। গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ ও কনসোর্টিয়াম ফর ইলেকশনস অ্যান্ড পলিটিক্যাল প্রসেস স্ট্রেনদেনিংয়ের সহায়তায় আইআরআই নিয়েলসন-বাংলাদেশকে দিয়ে জরিপটি চালিয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশে জরিপ চালিয়ে আসছে আইআরআই। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নির্দলীয় সংস্থা আইআরআই ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করে। মার্কিন সিনেটর এবং ২০০৮ সালে সে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী রিপাবলিকান পার্টির সদস্য জন ম্যাককেইন এখন আইআরআইয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৭৫ ইং সালের ১৫ই আগষ্ট জাতির জনক, সর্বকালের সসর্বশ্রেষ্ট বাঙলী বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান কে স্ব-পরিবারে নৃশংষভাবে হত্যা করে দেশকে সাম্রাজ্যবাদের ইশারায় একের পর এক সেনা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে বর্বর, জঙ্গী রাষ্ট্র বানানোর উদ্দেশ্যে, অবৈধ সেনাপতি শাসকরা কিংবা তাদের হাতে গড়া হঠাৎ গজানো রাজনীতিবিদরা। এ সময়ে বাংলাদেশে এক নতুন পূর্ব পাকিস্তান তৈরির আপ্রাণ চেষ্টা হয়েছে। এসব শাসকদের হাতে রাষ্ট্রের স্থপতি চরমভাবে উপেক্ষিত হয়েছেন, উপেক্ষিত হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা ও আদর্শ। ফলে গজিয়ে উঠেছে নানা পরগাছা, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি খুঁটি গেড়ে বসেছে, ধনেজনে তারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এসবই করা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে, যাতে বাংলাদেশ রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়, ব্যর্থ হয় লাখো মানুষের আত্মদানের মুক্তিযুদ্ধ, যে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান বাহিনী ও তাদের দেশীয় দোসররা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পরাজিত হয়েছিল। নানা পালাবদলের পর ১৯৯০ থেকে রাষ্ট্রের আশাজাগানিয়া গণতান্ত্রিক নবযাত্রা শুরু হয়। কিন্তু সে যাত্রা মসৃণ হতে পারেনি তাঁদেরই চক্রান্তে।পৃথিবীর তাবৎ জরীপের ফলাফলে আওয়ামী লীগের সরকার গঠনের শতভাগ সম্ভাবনা থাকা সত্বেও সুক্ষ কারচুপির মাধ্যমে ভোট ডাকাতি করে,জনরায়ের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের নজির বিহীন উদাহরন সৃষ্টি করা হয়।সেই যাত্রায় সরকার গঠন করে ইতিহাসের চরমতম উপহাসের পথে যাত্রা শুরু করে বি,এন,পি এবং তাঁর মিত্রশক্তি।জাতির জনকের শাহাদাৎ দিবসে খালেদা জিয়ার জম্ম উৎসব পালনের মাধ্যমে।তাঁর পরে ও আমি মনে করি বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থে,অগ্রগতির স্বার্থে,মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ পরিচালনার স্বার্থে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই আছে।তবে তাঁর আগে বেগম খালেদা জিয়াকে আর ও কিছু কাজ করে জনমনের বিভ্রান্তি দূর করার প্রয়োজন আছে। বিশ্বের কোন দেশে স্বাধিনতা,রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব,জাতির জনক নিয়ে কোন বিতর্ক আছে,আ এমনটি শুনা যায় না।দীর্ঘ চল্লিশ বছরের অধিক কাল এমনতর বিতর্ক সৃষ্টি করে জাতিয় ঐক্যে ফাটল ধরিয়ে স্বাধীনতার বিরুধী পক্ষ তাঁদের স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছিল।এই ভাবে একটা রাষ্ট্র তাঁর কাংখিত লক্ষে পৌছাতে পারে না। রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে, সে কারণেই, একটা গুণগত পরিবর্তন হওয়া বাঞ্ছনীয়। পুরনো ব্যর্থতা ও কলঙ্ক থেকে বেরিয়ে আসা বাঞ্ছনীয়। আমার বিশ্বাস, পরিবর্তনের এ ধারাটির সূচনা করে বিএনপি দেশের রাজনীতিতে সমূহ সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে, জাতীয় ঐক্যের পথে বড় বাধাটি দূর করতে পারে। এ পরিবর্তনের মূল শর্ত- অতীতের কলঙ্ক ঝেড়ে ফেলে নিঃশর্তভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রের জনক হিসেবে তাঁর ঐতিহাসিক মহিমায় গ্রহণ করা, তাঁর হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জ্ঞাপন করা, মহান মুক্তিযুদ্ধের অবিকৃত ইতিহাসকে পরিপূর্ণ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা এবং একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী তস্করদের ঐতিহাসিক বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি আকণ্ঠ সমর্থন দান করা। রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা বা বিরোধিতা করা অপরাধ কিছু নয়, যদিও ঐতিহাসিক সত্য এই যে, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছে এবং চার যুগ পর, আজো, নানা সীমাবদ্ধতার পরও, অসাম্প্রদায়িক সমাজশক্তির নেতৃত্ব দান করছে। কাজেই অপরাধ হচ্ছে, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরোধিতার নামে জাতির জনককে অবজ্ঞা করা, তাঁরই মুখ্য নেতৃত্বে সংগঠিত জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে উপেক্ষা করা, বিতর্কিত করা এবং রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতার প্রত্যক্ষ বিরোধিতাকারীদের সঙ্গে আঁতাত করে, জাতির অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও রক্তস্নাত ইতিহাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মানার প্রধানতম শর্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর স্বমহিমায় মান্য করা, মুক্তিযুদ্ধকে তার অবিকৃত ইতিহাসে মান্য করা- কোনো সন্দেহ নেই আমার এ উচ্চারণে। এ রাষ্ট্রে এর ব্যতিক্রম গ্রহণযোগ্য হতে পারে না কখনই। বঙ্গবন্ধুর যারা অনুসারী, তাদেরও উচিত হবে জাতির জনককে গণ্ডিবদ্ধ না করা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এই বাঙালিকে সার্বজনীন করা। জাতির জনককে সার্বজনীন করার স্বার্থে আওয়ামী লীগ সরকারের ও দায়িত্ব রয়েছে বলে আমি মনে করি।জাতির জনকের জম্ম বার্ষিকীও শাহাদাৎ বার্ষিকি রাষ্ট্রীয় পয্যায় গুরুত্ব সহকারে পালনের সিন্ধান্ত সাংবিধানিক ভাবে করা।সকল জাতিয় দিবস রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় করার পদক্ষেপ গ্রহন।জাতীয় দিবসকে উপলক্ষ করে চাঁদাবাজি বন্ধ করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহন।পুর্নাঙ্গভাবে বা অবিকৃত ভাবে ৭২ এর সংবিধান অনুসরন করে রাষ্ট্র পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন কাঠামো সংশোধন,নতুন আইন সংসদে অনুমোদনের ব্যাবস্থা গ্রহন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান এক দিনের চিন্তায় বা এক দশকের চিন্তায় বাংলাদেশ স্বাধীন করেননি।১৯৪৭সালেই বেকার হোষ্টেলে যখন ছিলেন তখন বন্ধুদের ডেকে বলেছিলেন, পাকিস্তানের সদ্য স্বাধিনতা স্বাধীনতা নয়।আমাদের জাতিয়তার ভিত্তিতে বাঙ্গালীদের আলাদা স্বাধীনতার প্রয়োজন আছে।তাঁর জন্য আমাদেরকে দেশে যেতে হবে। আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। ১৯৪৮ সালেই ভাষা আন্দোলন শুরু করে জেলে গিয়ে তিনি সেই কাজ শুরু করে দেন। বছরের পর বছর ধরে এই দেশের মানুষকে স্বাধীনতার স্বপ্নে উজ্জীবিত করে তোলেন। রুমী, আজাদ, বদি, বাকের, জুয়েলের মতো ৩০ লাখ মানুষ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালার ডাকে সাড়া দেয়। আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আমাদের আরেকটা স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে সাহায্য করছে—উন্নত দেশ, আলোকিত সমাজ, মানবিক রাষ্ট্র। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র আর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা একে অপরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়, পরস্পরের সহায়ক।তাঁরই প্রমান রেখেছেন জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ম শেখ হাসিনা। সদ্য প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের জরিপ ফলাফলে বাংলাদেশকে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে স্বিকৃতি দিয়েছে।বছরব্যাপি জ্বালাও পোঁড়াও না হলে মধ্য আয়ের দেশেই রুপান্তরীত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্ছ আয়ের দেশে রুপান্তরীত করার স্বপ্ন কল্প তৈরী করে ইতিমধ্যে দেশব্যাপি কর্মযজ্ঞ শুরু করে দিয়েছেন।নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ নির্দিষ্ট সময়ের আগেই শেষ হবে বলে আশা করা যায়।গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মানের কাজ এগিয়ে চলেছে।পারমানবিক চুল্লির কাজ প্রায় শেষ পয্যায়,উন্নতির প্রধান শর্ত বিদ্যুৎয়ায়ন।আশা করা যায় রুপপুর পারমানবিক চুল্লি থেকে আশানুরুপ বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।রেল ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করার লক্ষে বৃটিশের রেল কোপমানীর রেখে যাওয়া রেল লাইনের পাশাপাশি আর ও একটি রেল লাইনের পুনস্থাপনের কাজ দ্রুত শেষ হওয়ার পথে।প্রত্যেক মহাসড়ককে চার লেনে উন্নিত করার কাজ এগিয়ে চলেছে সমান তালে। এই কর্মযজ্ঞের মধ্যে যদি নুন্যতম জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে সোনায় সোহাগা।তবে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি, স্বাধীনতা বিরুধীদের নতুন চক্রান্ত হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের আহব্বান।নুন্যতম সহানুভুতি পাওয়ার কৌশল।সরকারের ট্রাইবুনাল করে আগুন সন্ত্রাসের বিচার প্রক্রিয়া থেকে বাঁচার অপচেষ্টা।পরিবারের অথর্ব ছেলের জীবন রক্ষা করার সর্বশেষ নমনীয়তা।সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ার পর জাতীয় ঐক্যের আহব্বান জানিয়ে বিশ্ববাসীকে ধোঁকা দেয়ার নতুন আবিষ্কৃত ফর্মুলা।দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে সহানুভুতি আদায় করার নয়া কৌশল ছাড়া আর কিছুই নহে।
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
এর দ্বারা পোস্ট করা
Unknown
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার বড়ভাই শেখ সেলিম,স্নেহধন্য হানিফ সাহেবকে অনতিবিলম্বে থামান--- ============>=>=<==>====<<<<<<<<>=>>><====_=[=========== পনেরই আগস্টের ঘাতকরা এ কথা জানত, পেশিশক্তি প্রয়োগ না করলে বাংলাদেশ ও বাংলার জনগণের বুক থেকে আওয়ামী লীগকে উপড়ে ফেলা যাবে না। তাই একুশ বছর হীন চক্রান্ত করে ঠেকিয়ে রাখা হয় আওয়ামী লীগকে। আবার কারচুপির নির্লজ্জ নির্বাচনের মাধ্যমে ২০০১ সালে অগণাতান্ত্রিক উপায়ে খমতায় বসে পঁচাত্তরের ঘাতকের পৃষ্ঠপোষকরা। বঙ্গবন্ধুর হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়াকেও তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিলম্বিত করেছে। একাত্তরের ঘাতকদের বসানো হয়েছে রাষ্ট্রক্ষমতায়। তাই পনেরই আগস্টের হত্যাকাণ্ডকে বাংলাদেশকে হত্যা বলা চলে, বাংলাদেশের মূলনীতিগুলোকে হত্যা করার অপচেষ্টা।এই বর্বর হত্যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান ইতিহাসের মহোত্তম ঘটনাসমূহের একটি অন্যতম ঘটনা। মানব ইতিহাসে এটি হয়ে থাকবে সবচেয়ে শক্তিশালী দৃষ্টান্ত, যাতে একজন মানুষকে আমরা দেখি একটি জাতিগত স্বপ্নের অবয়ব নিতে, সেই মানুষের ব্যক্তিত্বের প্রভাব এতটাই গভীরে ছিল যে, তাঁর উদ্দীপক উপস্থিতি মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেও রোধ করা যায়নি।যদিও শারিরীক উপস্থিতি তাঁর ছিল না। পৃথিবীর ইতিহাসের এ ধরনের জাতীয় আন্দোলন অনেক হয়েছে, কিন্তু এরকম বাঁধন ছাড়া ভালোবাসা আর কোনো নেতা পাননি। জার্মান দার্শনিক ফ্রেডরিখ হেগেলের (১৮৭০-১৮৩১) ভাষায় ‘মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হচ্ছে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা’। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় বাঙালির কোনোদিন কোনো রাষ্ট্র ছিল না। বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দেয়ার কৃতিত্ব সাধারণ বাঙালি কৃষক সন্তান মুজিবের। এটা নিশ্চিতভাবেই সত্য যে, স্বাধীনতাবিরোধী আন্তর্জাতিক শক্তির এদেশীয় এজেন্টরাই ১৯৭৫ সালে পরিবারের সদস্যসহ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যা করেছে। আরো স্পষ্ট করে বলা যায়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হেনরি কিসিঞ্জার এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ভুট্টো_ বাংলাদেশের মোশতাক, জিয়া, এরশাদ, ফারুক, রশিদ, নূর, ডালিম চক্রের মাধ্যমে ১৫ আগস্টের হত্যাকা- ঘটিয়েছে। সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান জে. জিয়াউর রহমান ছিলেন ঘাতকচক্রের আসল মদদাতা, প্রশ্রয়দাতা ও আশ্রয়দাতা। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী মোশতাক, ওবায়দুর রহমান, তাহের ঠাকুরসহ আরো অনেকেই ওই হত্যা-ষড়যন্ত্রে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর মতো কন্যা শেখ হাসিনাকেও দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক ধরে ঘরে-বাইরের শত্রুর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হচ্ছে। অতি সম্প্রতি আওয়ামী লীগের ২/৩ জন নেতা-পাতিনেতা জাসদবিরোধী বক্তব্য নিয়ে মাঠে নেমেছেন। জাসদ ১৪ দলীয় জোটের একটি ছোট্ট দল। ওই দল থেকে মন্ত্রী মাত্র ১ জন। অথচ জাসদ সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইন্যু যেভাবে বিএনপি-জামায়াত ও তাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে সোজাসাপ্টা বক্তব্য দিয়ে আসছেন, তেমনিভাবে আর কোনো নেতাকে খুব একটা বলতে দেখা যায় না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের ২/৩ জন নেতা বর্তমানে একই সুরে জাসদবিরোধী বক্তব্য নিয়ে মাঠ গরম করছেন। এই মুহূর্তে জাসদের এবং জাসদ সভাপতির বিরুদ্ধে কথা বলা যে প্রকারান্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেই কথা বলা, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ, জাসদ সভাপতি শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার একজন সদস্য এবং জাসদ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম একটি দল। আওয়ামী লীগের ২/৩ জন ব্যক্তি কেন এই আত্মঘাতী প্রকল্প হাতে নিয়েছেন, তা কেবল তারাই বলতে পারেন।দীর্ঘ ৪ দশক পর বঙ্গবন্ধু হত্যায় জাসদের দায় নিয়ে চলমান বিতর্ক অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। মিডিয়া এবং দলের নেতাকর্মীদের বর্তমান বিতর্ককে রাবারের মতো টেনে লম্বা না করার আহ্বান জানিয়ে প্রবীণ এই নেতা বলেন, "জঙ্গিবাদবিরোধী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য জাসদের সঙ্গে আমাদের এই মেলবন্ধন। কে কোথায় কবে কি করেছে তা নিয়ে না ভেবে আমাদের সামনের দিকে এগোতে হবে। জাসদ নিয়ে চলমান বিতর্ককে অনভিপ্রেত, অপ্রাসঙ্গিক ও অরাজনৈতিক। পক্ষের বিপক্ষের সকল রাজনৈতিক বিশ্লেষক ভাল ভাল ভাবেই জানেন,নতুন করে কাউকে ইতিহাসের তালিম দেয়ার দরকার আছে বলে মনে করি না।তাছাড়াও আরো পরিস্কার করে বলতে চাই-- 'জাসদের ইতিহাস দেশরত্ম জননেত্রী শেখ হাসিনার নখদর্পনে,আওয়ামী লীগের ইতিহাস বর্তমান জাসদ(ইনু)অংশের নখদর্পনে। বর্তমান কেন্দ্রীয় পলিটব্যুরুর সব সদস্যই তৎকালীন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় অথবা জেলার গুরুত্বপুর্ন নেতা ছিলেন।আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বেশীর ভাগ নেতাও সেই সময় ছাত্র নেতা বা যুব নেতা ছিলেন।বাদ বাকী সকল নেতাই বঙ্গবন্ধুর একান্ত সান্নিদ্ধ পাওয়া নেতা।বলতে পারেন নতুন প্রজর্ম্মের জানার জন্য বলা,তবে তা এই মহুর্তে কেন?স্বমহিমায় বঙ্গবন্ধুর প্রত্যার্পন সমাপনের পরে ইতিহাসবীদেরাই বলবে কার ভুমিকা কি ছিল।মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির হাতে যে বৃহৎ প্রকল্প তার সবে মাত্র প্রস্তুতি কাজ চলছে,প্রকল্প শতভাগ বাস্তবায়নের পরে, এমনি ইতিহাস তাঁর নিজস্ব দায়ে কার কি ভুমিকা ছিল তা নির্ধারন করতে বাধ্য হবে। "জাসদ নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত করেছেন আওয়ামী লীগের আরেক প্রভাবশালী নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি। শেখ সেলিম অনেক ক্ষমতাবান মানুষ। তিনি শুধু দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বা নিছক একজন সংসদ সদস্য বা একজন সাবেক মন্ত্রী নন। তিনি যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান, এশিয়ার প্রখ্যাত যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মনির ছোট ভাই, জাতির জনকের ভাগ্নে_ সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বড় ভাই। কাজেই মন্ত্রিসভার সদস্য না হয়েও তিনি মন্ত্রীর চেয়ে বড় কিছু, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ২৩ আগস্ট জাতির জনকের বাসভবনে অনুষ্ঠিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় শেখ সেলিম বলেন, 'জাসদই বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ক্ষেত্র তৈরি করেছিল। স্বাধীনতাবিরোধীরা কখনো বঙ্গবন্ধুর ওপর আঘাত হানতে পারত না, যদি গণবাহিনী, জাসদ বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করে বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতি করে, মানুষ হত্যা করে, এমপি মেরে পরিবেশ সৃষ্টি না করত। জাসদের গণবাহিনীর প্রধান কর্নেল তাহের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সুতরাং বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল রহস্য বের করতে হবে। কারা কারা জড়িত ছিল।' শেখ সেলিমের জাসদবিরোধী বক্তব্য শুধু আওয়ামী লীগবিরোধী মিডিয়া এবং বিএনপি লুফে নেয়নি, আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতা-পাতিনেতাও ওই অসময়োচিত বক্তব্য নিয়ে মাঠে নেমেছে। বিএনপি-জামায়াত মার্কা টিভি চ্যানেল জাসদবিরোধী বক্তব্যকে কেন্দ্র করে টকশো'র নামে প্রায় প্রতিদিনই ১৪ দলীয় জোটকে ভাঙার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শেখ সেলিমের অভিযোগের দু'দিন পর ২৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ শোক দিবসের আলোচনা সভায় বলেন, 'বাম সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিলেন। জাসদ ও ন্যাপসহ যারা বাম রাজনীতি করতেন, বায়াত্তর থেকে পঁচাত্তর তারা বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরোধিতা করেছিলেন। কেন করেছিলেন, তারাই ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। তাদের ঔদ্ধত্য এমন পর্যায়ে ছিল যে, একটা সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য যা যা করণীয়, তা-ই করেছিলেন। আর তারাই ওই সময় তৈরি করেছিলেন জাতির পিতাকে হত্যার প্রেক্ষাপট। বঙ্গবন্ধু সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য হাট-বাজারে লুটপাট, ডাকাতি, ব্যাংক ডাকাতি, সাধারণ মানুষকে হত্যা_ এমনকি ঈদের নামাজের জামায়াত শেষে আওয়ামী লীগের এমপিদের হত্যা পর্যন্ত করেন তারা। এ সময় বর্বরোচিত হত্যাকন্ডের লক্ষ্য ছিল একটাই, বঙ্গবন্ধুর সরকারকে অস্থিতিশীল করা। সে কারণেই কিন্তু একাত্তরের পরাজিত শক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পেরেছিল।'" এরই মধ্যে টকশোতে বাসা থেকে টেলিফোনে মন্ত্রীত্ব বঞ্চিত ক্যাপ্টেন (অব) তাজুল ইসলাম তাজ জাসদবিরোধী কোরাশে বেশ ভালোভাবে সুর মিলিয়েছেন। ক্যাপ্টেন তাজ সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিককে বলেছেন, 'বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্রের সময় জাসদের বিভিন্ন নেতা ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল। আজ তাদের সঙ্গে আমাদের রাজনীতি করতে হচ্ছে, এটা খুবই মর্মান্তিক।'আওয়ামী লীগের নেতা-পাতিনেতাদের জাসদবিরোধী বক্তব্যে বর্তমানে জীবন্মৃত বিএনপি যেন কিছুটা প্রাণ ফিরে পেয়েছে। শেখ সেলিমের প্রথম বক্তব্যের পর বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন এক সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সময় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ভূমিকা স্পষ্ট করার দাবি জানান।" বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এক সময় জাসদ করতেন। গয়েশ্বর ২৬ আগস্ট প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বলেন, 'তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র রাজনীতি শুরু করেন। এটা ঐতিহাসিক সত্য, হাসানুল হক ইনু ও কর্নেল তাহেরের ভাই অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে ১৯৭৪ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এম মনসুর আলীর বাড়িতে গুলিবর্ষণ করতে দেখেছিলেন বলে দাবি করে গয়েশ্বর বলেন, গুলিটা প্রথম আনোয়ার হোসেন ও ইনুর নেতৃত্বেই শুরু হয়। আমার সামনেই তারা গুলি করেন।"গায়েশ্বর বাবুর বক্তব্যে স্পষ্টতই প্রমান করে তিনি ও ঐদিনের ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। 'আওয়ামী লীগের ২/৩ জন নেতা-পাতিনেতা যখন বিএনপির সুরে কথা বলেছেন, তখন জাসদ শিবিরও চুপ করে থাকতে পারেনি। আওয়ামী লীগ নেতার অভিযোগের পরদিন জাসদের কার্যকরী সভাপতি মঈনউদ্দিন খান বাদল ও সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া ২৪ আগস্ট এক বিবৃতিতে শেখ সেলিমের বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সত্যের অপলাপ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, 'বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে দেয়া অভিযোগপত্র, সাক্ষীদের জেরা, আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণের কোথাও বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জাসদের সংশ্লিষ্টতার সামান্যতম বিষয় আসেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের জনগণ ও ১৪ দলের নেতাকর্মীরা যখন বঙ্গবন্ধুর খুনি ও খুনের সুফলভোগী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম করছে, তখন শেখ সেলিমের এ বক্তব্য ঐক্যের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে। শেখ সেলিম আর বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন যখন একই ভাষায় একই সময়ে জাসদের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে,এ অভিন্ন ভাষার যোগসূত্র কি?' শেখ সেলিমের অভিযোগের জবাবে জাসদের দুই নেতার দেয়া বিবৃতির দু'দিন পর মুখ খুলেছেন দলের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু স্বয়ং। ২৬ আগস্ট সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'বঙ্গবন্ধু হত্যার পর আওয়ামী লীগের জাতীয় চার নেতাসহ হাতে গোণা কয়েকজন ত্যাগী নেতা ছাড়া,অনেকেই সেদিন খন্দকার মোশতাকের করুণা ভিক্ষা এবং হালুয়া রুটির ভাগাভাগির জন্য তার চারপাশে ভিড় করেছিল। জাসদ সেদিন নির্যাতন ভোগ করেছে। বর্তমানে তাকে এবং জাসদকে ঘিরে বিতর্কে বিএনপি-জামায়াতই লাভবান হবে। সাম্প্রতিককালে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির কতিপয় নেতা হঠাৎ করেই জাসদের বিরুদ্ধে বিষোদগার অথবা সমালোচনা শুরু করেছেন।' মন্ত্রী বলেন, 'বিএনপি ও আওয়ামী লীগের যারা একই সুরে জাসদের বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু করেছেন, তাদের সঙ্গে আমি কোনো বাকযুদ্ধে লিপ্ত হতে যাচ্ছি না।'শেখ সেলিমের বক্তব্যে বিএনপির খুশি হওয়ার আরো কারণ রয়েছে। ঐদিন তাঁর বক্তৃতার মূল টার্গেট হচ্ছে জাসদ এবং তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল কেএম শফিউল্লা। ধরে নিলাম, জে. শফিউল্লাহর বিরুদ্ধে শেখ সেলিম যে অভিযোগ করেছেন, তার শতভাগই সত্য। কিন্তু গত ৪০ বছরে বঙ্গবন্ধু হত্যা ষড়যন্ত্রে জে. শফিউল্লাহ সামান্যতম জড়িত ছিলেন এমন কোনো তথ্য প্রমাণ কেউ হাজির করতে পারেনি। এমনকি শেখ সেলিমও বলতে পারেননি। অন্যদিকে জিয়াউর রহমান যে বঙ্গবন্ধু হত্যা ষড়যন্ত্রে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন এর হাজারটা প্রমাণ রয়েছে। ২৪ আগস্ট দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত বক্তব্যে শেখ সেলিম এক পর্যায়ে বলেছেন, 'জিয়াউর রহমান আর্মির ডেপুটি চিফ ছিল। সেও হত্যাকান্ডে জড়িত ছিল। এখন বিস্তারিত কিছু বলব না। জিয়াউর রহমান, শাফায়াত জামিল, খালেদ মোশাররফ কী করেছিল, এ প্রশ্নের জবাব একদিন দিতে হবে। এ জন্য একটা তদন্ত কমিশন গঠন করা হোক।'ঘাতক ফারুক, রশিদ, ডালিম চক্রের বক্তব্য অনুযায়ী জিয়াউর রহমানসহ সেনাবাহিনীর বড় বড় কর্মকর্তারা প্রায় সকলেই হত্যা ষড়যন্ত্রের কথা জানতেন। শুধু সেনাপ্রধান শফিউল্লাহ জানতেন না। এরশাদসহ পাকিস্তান প্রত্যাগত সেনা কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধু সরকারের বিপক্ষে ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাদের দু'বছরের সিনিয়রিটি দেয়া পাকিস্তান প্রত্যাগতরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সেনাবাহিনীর তৃতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি সিজিএস ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের ভাবটা ছিল,যা হবার হয়ে গেছে।' ১৫ আগস্ট ভোর রাতে ফারুক গং গোলাবিহীন ট্যাংক নিয়ে আক্রমনে বাহির হয়। গোলার দায়িত্বে ছিলেন সিজিএস। ১৫ আগস্ট দিনের বেলা ঘাতকদের গোলা সরবরাহ করেন খালেদ।তাছাড়া ফারুক-রশীদ তাদের মুক্তির পথ গ্রন্থে লিখেছেন, খালেদ মোশারফ বরাবরই তাদের সমর্থক ছিলেন। খালেদ মোশাররফ জীবিত থাকলে এসব অভিযোগের সত্যাসত্য জানা যেত। বঙ্গবন্ধু হত্যার ৯ দিন পর ২৪ আগস্ট সেনাপ্রধান কেএম শফিউল্লাহকে অপসারণ করে উপপ্রধান জিয়াউর রহমানকে পদোন্নতি দিয়ে সেনাপ্রধান নিযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে ভারতে প্রশিক্ষণরত ব্রিগেডিয়ার এরশাদকে মে. জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে উপসেনা প্রধান করা হয়। জিয়া ও এরশাদের পদোন্নতি এবং শফিউল্লাহর বরখাস্তই কি প্রমাণ করে না, জিয়া-এরশাদ জুটি বঙ্গবন্ধু হত্যা ষড়যন্ত্রে বিশাল ভূমিকা পালন করেছে? আর শফিউল্লাহর ক্ষমতাচ্যুতি প্রমাণ করে, উনি আর যাই হোন, বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের পক্ষের লোক ছিলেন না। বঙ্গবন্ধু হত্যার সুফলভোগী হলেন জিয়া, এরশাদ ও খালেদা। জে. শফিউল্লাহ নন।শেখ সেলিম বলেছেন, ১৫ আগস্ট কোন সামরিক অভ্যুত্থান ছিল না। কিন্তু ঘটা করে সামরিক অভ্যুত্থান না হলেও সেনাপ্রধান ছাড়া উপসেনা প্রধান জিয়া থেকে শুরু করে বড়কর্তারা প্রায় সকলেই জানতেন। সিনিয়র অফিসারদের মধ্যে ঢাকাস্থ ৪৬ ব্রিগেড কমান্ডার কর্নেল শাফায়াত জামিল এবং রক্ষীবাহিনী প্রধান ব্রিগেডিয়ার নুরুজ্জামান ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ড-কে কোনভাবেই মেনে নিতে পারেননি। ৩ নভেম্বর অভ্যুত্থান ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে হলেও এতে শক্তিশালী ভূমিকায় ছিলেন নুরুজ্জামান ও শাফায়াত জামিল। পাকিস্তান প্রেমিক এরশাদের ১৫ আগস্টের ঘাতকদের সাথে যে বিশেষ সখ্যতা ছিল, কর্নেল শাফায়াত জামিল তার লেখা গ্রন্থে তা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। জাতির জনকের হত্যাকান্ড ছিল আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র।প্রেসিডেন্ট নিক্সন-পররাষ্ট্র মন্ত্রী কিসিঞ্জার গং ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশের সৃষ্টি মেনে নিতে পারেননি। মুজিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সৃষ্টিকে কিসিঞ্জার তার ব্যক্তিগত পরাজয় মনে করতেন। কিসিঞ্জারের তিন বিদেশি শত্রুর অন্যতম ছিলেন বাংলাদেশের শেখ মুজিব। মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সদ্য অবমুক্ত হওয়া দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, মুজিব হত্যা ষড়যন্ত্রে কিসিঞ্জারের দুষ্কর্মের কথা। মোশতাক-জিয়ার লেলিয়ে দেয়া নূর, হুদা, মহিউদ্দিনরা যখন ৩২ নম্বর বাসভবনে ১৫ আগস্ট ভোরে অভিযান চালায় সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিসিঞ্জার জানতে চায়" 'মুজিবুর কি জীবিত না মৃত্য?' এর কিছুক্ষণ পরেই দোতলা থেকে নিচে নামার সময় সিঁড়িতে মানুষরূপী জানোয়ার নূর বঙ্গবন্ধুর বুকে গুলি চালায়।রাজনীতি সম্পর্কে যাদের সাধারণ সেন্স আছে, তারাই জানেন একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। কিসিঞ্জার-ভুট্টোর মদদে মোশতাক-জিয়া চক্র, ফারুক-রশীদদের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যসহ জাতির জনককে হত্যা করিয়েছে। জিয়া-এরশাদ জাতির জনক হত্যার প্রধান সুফলভোগী। সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই জিয়ার পর এরশাদকে এবং এরশাদের পর খালেদাকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে হত্যার জন্যই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। জিয়া-এরশাদ-খালেদা তাদের আড়াই দশকের শাসনামলে স্বাধীন-অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে পরাজিত পাকিস্তানের আদলে মিনি পাকিস্তানে পরিণত করেছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। এ জন্যই যারা বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে, সেই তারাই বঙ্গবন্ধুকন্যাকে হত্যার জন্য একটার পর একটা ষড়যন্ত্র করে আসছে।আজকে স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতীক হচ্ছেন শেখ হাসিনা। আর একাত্তরে পরাজিত নিক্সন, কিসিঞ্জার, ইয়াহিয়া, ভুট্টো, গোলাম আযম, নিজামী, সাঈদীদের প্রতিনিধিত্ব করছেন জামায়াতের অঘোষিত আমির এবং বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়া। রাজনীতিতে চিরশত্রু-চিরমিত্র বলে কোন কথা নেই। পরাজিত পাকিস্তানের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়াকে চিরজীবনের জন্য পরাজিত করার লক্ষ্য নিয়েই বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা মেনন, ইনুদের নিয়ে জোট করেছেন। শেখ হাসিনার ওপর কারো মাতব্বরী বা খবরদারি করার দরকার নেই। বঙ্গবন্ধু হত্যা ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন না, এটা নিশ্চিত হয়েই শফিউল্লাহকে বঙ্গবন্ধুকন্যা সংসদ সদস্য পদে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু সরকারকে জাসদের যারা বিপর্যস্ত করেছে, সেই সিরাজুল আলম খান, মেজর জলিল, কর্নেল তাহের আজকে রাজনীতিতে দৃশ্যপটে নেই।শেখ হাসিনাকে শুধু আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বা গতানুগতিক একজন রাজনীতিবিদ মনে করার কোন কারণ নেই। খালেদার পেট্রোল বোমার রাজনীতি এবং এরশাদের নির্বাচনকলীন সময়ের হঠকারিতা এবং বেঈমানীকে দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করে, একজন লৌহ মানবীর চেয়েও দৃডতা প্রদর্শন করে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় এনেছেন শেখ হাসিনা। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন না হলে আজকে কোথায় থাকতো গণতন্ত্র? আবার মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দীন স্টাইলের সরকার ক্ষমতা দখল করতো। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন একদলীয় হলেও এই নির্বাচন গণতন্ত্র রক্ষা করেছে, দেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠানের একক কৃতিত্ব শেখ হাসিনার। পঁচাত্তর পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা জাসদকে আওয়ামী লীগের কাছাকাছি এনে দিয়েছে। বিগত এবং বর্তমান সংসদে এবং বিভিন্ন টকশোতে জাসদ নেতা মঈনুদ্দীন খান বাদল যে যুক্তিনিষ্ঠা ও দৃঢ়তার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত ও মুক্তিযুদ্ধের শত্রুদের বিরুদ্ধে বক্তব্য উপস্থাপন করেন তাতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিরই লাভ হয়। আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে হাতেগোনা দু-চারজন মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে বরাবর আপসহীন, প্রত্যয়দৃঢ় ও সত্যনিষ্ঠ বক্তব্য রাখলেও অধিকাংশ নেতাই যুক্তিসিদ্ধ ও লাগসই জবাব দিতে সক্ষম হন না। যা খুবই দুঃখজনক। বিভিন্ন সময়ে টকশোতে বিএনপি-জামায়াতপন্থী 'টকারদের' বক্তব্য খন্ডন করতে ক'জন আওয়ামী লীগের এমপি বা নেতা সক্ষম হন? এ ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বুদ্ধিজীবী-শিক্ষাবিদ-সাংবাদিক-আইনজীবীরা অকুতোভয়ে ভূমিকা পালন না করলে আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত মিথ্যাচারে দেশ এতদিন তলিয়ে যেত। সবশেষে, বর্তমানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা এসেছে। ইতিমধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। অযথা জাসদ ও শফিউল্লাহকে নিয়ে টানাটানি করলে খুনি জিয়ার পরিবার এবং এরশাদ লাইমলাইটে চলে আসবে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার হাত দুর্বল হবে। আল্লার দয়ায় বঙ্গবন্ধুকন্যা আর কয়েকটা বছর সরকার পরিচালনায় থাকতে পারলে দেশের চেহারা যেমন পাল্টে যাবে, তেমনি স্বাধীনতাবিরোধীদের নেত্রী খালেদা জিয়া এবং তার দোসররা নির্মূল না হলেও মাথা তুলে আর দাঁড়াতে পারবে না। এই অবস্থায় স্বাধীনতাবিরোধীচক্রকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাধীনতার পক্ষের সকল শক্তিকে একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।যে অবস্থায় এখন সরকার আছে,দেশরত্ম যেমন ভাবে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন,এই ধারাবাহিকতা আগামী সাধারন নির্বাচন পয্যন্ত যদি ধরে রাখা যায়,আমার বিশ্বাস শুধু জাতির জনকের হত্যাকারীরা নয়,সকল অশুভ শক্তি যুগ যুগান্তরেও আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি না। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী দেরত্ম শেখ হাসিনার নিকট আকুল আবেদন, কালবিলম্ব না করে আপনি আপনার বড়ভাই শেখ সেলিম,আপনার স্নেহধন্য জনাব হানিফ,ক্যপ্টেন তাজ সাহেবদের থামান।কোন কারনে জোটে ভাঙ্গন দেখা দিলে আওয়ামী লীগের বিশাল কর্মী বাহিনী তাঁদের ক্ষমা করবেনা। " জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখ হাসিনা"
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
এর দ্বারা পোস্ট করা
Unknown
একুশ বছর খালেদা নিজামী যে গনতন্ত্রের ভাষায় কথা বলেছে সেই ভাষায় তাঁদের সাথে কথা বলতে হবে,নাহয় তাঁরা বুঝেনা। ===================================================== তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, আগুনসন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের পাল্টা আঘাত হানার কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না। বরং আগুনসন্ত্রাসের নেত্রী খালেদা জিয়াকে দম ফেলার সুযোগ না দিয়ে তাঁকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত ও আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে হবে। এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত ও ধ্বংস করাই এখন একমাত্র কাজ। পশিমাদের থেকে শেখা ভোটের গনতন্ত্রের সুত্র মত একমাত্র হাসানুল হক ইনুই বক্তৃতা বিবৃতি দিতে পারেন।অবশ্য মাঈনুদ্দিন খাঁন বাদল ও কম যান না।আমাদের মন্ত্রী এম,পি রা শুধু মিঁউ মিঁউ করে।২১ বছর তাঁরা কোন ভাষায় কথা বলেছে, তাও কি ভুলে বসে আছেন? বেশি দূর যাওয়ার প্রয়োজন নাই,শুধু মাত্র ২০০১--২০০৬ পয্যন্ত সময়ের আজকের দিনের যেকোন তিনটি খবরের কাগজ নিয়ে বসেন,বুঝতে পারবেন তাঁদের গন্তন্ত্রের ভাষা কি মধুর ছিল। আমাদের নেতাদের মধ্যেও অনেকে আকারে ইঙ্গিতে বলার চেষ্টা করেন,আইন শৃংখলার অবনতির কারনে নাকি বিচার বহিভূত হত্যা সঠিক সিন্ধান্ত!!আইন শৃংখলার অবনতি কোথায় দেখেন তাঁরা? তাঁর জন্য আমি বলবো পত্রিকার পাতা নিয়ে বসেন।গত সাত বছরে যা ঘটেছে তা তাঁদের সময়ের একবছরে দ্বিগুন এর চাইতে বেশী হবে।শুধু ২০০১ ইং সালে যা ঘটেছে, গত সাত বছরে তার সিকি ভাগ ও ঘটেনি।দালাল পেইড সুশীলেরা যা বলবে তাই বিশ্বাস করে র্যাব লেলিয়ে দিতে হবে ছাত্র লীগ যুব লীগের নেতা কর্মিদের উপর?? আপনাদের জ্ঞাতার্থে ২০০১ সালের সংখ্যা লুঘু নির্য্যাতনের শ্বেত পত্রের হিসেব তুলে দিলাম।শাহরীয়ার কবীরের সম্পয়াদনায় এই শ্বেত পত্রের একক বই অন লাইন অপ-লাইনে পাওয়া যাচ্ছে।সন্দেহ হলে প্রকাশকের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে পারবেন। [সকল খন্ড একত্রিত করে এই বইটি অনলাইনে সর্বপ্রথম আমরা আপলোড করি] ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ধর্মীয় ও এথনিক সম্প্রদায়ের উপর শুরু হয় নজিরবিহীন নির্যাতন। এই নির্যাতন তৎকালীন ক্ষমতায় থাকা বিএনপি-জামাত জোট সরকারের ছত্রছায়ায় চলে ১৫০০ দিন অতিক্রান্ত হবার পরেও। ১৫০০ দিনের ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনা পর্যালোচনা করলে এর প্রধান কারণ ক্ষমতাসীন চারদলীয় জোটের রাজনৈতিক লক্ষ্যের ভেতরেই পাওয়া যায়। সেটি হল বাংলাদেশকে তালেবান শাসিত আফগানিস্তানের মতো একটি মনোলিথিক মুসলিম রাষ্ট্রে পরিণত করা। প্রথম খন্ডে ১৬ টি ভিন্ন ভিন্ন দৈনিকের ২৭৮৬ টি আলাদা রিপোর্টের পর্যালোচনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয় খন্ডে রয়েছে ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংখ্যালঘু নির্যাতন সম্পর্কিত নির্বাচিত উপসম্পাদকীয় ও কলাম, ৪০৯২ টি সংবাদ শিরোনাম, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সরজমিন প্রতিবেদন ও পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের নির্বাচিত আলোকচিত্র সংকলন। এই শ্বেতপত্রে সংখ্যালঘু বলতে ধর্মীয় ও এথনিক সম্প্রদায়কে বুঝানো হয়েছে। বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু হচ্ছে প্রধানত হিন্দু, খৃষ্টান ও বৌদ্ধ এবং এথনিক সম্প্রদায় হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সমতলে বসবাসকারী চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো, রাখাইন, সাঁওতাল প্রভৃতি ৪০টি ক্ষুদ্র-জাতিসত্তার অধিবাসী। এই ১৫০০ দিনে অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাথে সাথে আহমাদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের উপরেও চলে নজিরবিহীন নির্যাতন। আপাতদৃষ্টিতে আহমাদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতনও একই ধরনের নির্যাতন মনে হতে পারে তবে এই ধরনের নির্যাতনসমূহকে ইসলামী মৌলবাদ অর্থাৎ কট্টরপন্থী ওয়াহাবি ইসলামের সঙ্গে উদারনৈতিক ইসলামের দ্বন্দ্ব-প্রসূত নির্যাতন বিবেচনায় এই শ্বেতপত্রের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। "[{মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ অনুসন্ধান করুন মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভের সদস্য হোন}]" এই উদাহরনের অর্থ এই নয়্যে আমি অপরাধ বা অপ্রাধীর পক্ষে।তা কখনও নয়।সন্ত্রাসী সে যত বড়ই হোক,আইনের চোখে সে কিছুই না।তাঁকে আইনে সৌপার্দ করে দেন।সে বাকি জীবন জেলেই কাটিয়ে দিক।তাঁকে গুলী করে মেরে পেলতে হবে কেন?সে কি মায়ের পেট থেকে আসতেই সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ হয়ে জম্ম নিয়েছেন?সমাজ, রাষ্ট্র,রাজনীতি,অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাই তাঁকে সন্ত্রাসি বানিয়েছে।সেই গুলীর প্রতি দৃষ্টি না দিয়ে শিকার কেন মারা হবে?শীকারীর কেন কোন সাজা হয় না? যেই যাই বলুক বর্তমানে বাংলাদেশের আইন শৃংখলা গত জীবনের যে কোন সময়ের চাইতে ভাল আছে।ক্ষমতাধর লূটেরাদের,ছাত্র লীগ,যুব লীগ এদের দমন করুন,তবে তা হতে হবে রাজ নৈতিক ভাবে।তারা সরকারী দলের রাজনীতি করে বিধায় লুটপাট, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি করার সাহস পায়।তাঁদের রাজনীতি দিয়ে ব্যস্ত রাখার বহু কৌশল আছে।তাঁদের কে দর্শনগত শিক্ষা দিয়ে সৎ পথে আনা সম্ভব।যে ছাত্রটি রাজনৈতিক জ্ঞান সম্পন্ন সে কখনই চাঁদা বাজি করতে পারেনা।তাঁদেরকে ব্যাবহার করে টেন্ডার বাজি, জমি দখল করবেন,আপনার কথার অবাধ্য হলে ক্রস ফায়ারে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন, এটা হতে পারে না,হতে দেয়া যায় না। কোন এলাকার সংসদ সদস্য কয়দিন ছাত্র লীগ নেতা কর্মীদের নিয়ে আদর্শিক ক্লাসে বসেছেন।এক ঘন্টার জন্য্ব বসেননি।আপনার এলাকায় পর্দাপনে আগে ফোন দিয়ে বলে দেন কয়টা গাড়ী নিয়ে আপনাকে এগিয়ে আনতে হবে।দায়িত্ব দেন সম্বধনার খরছ কার কার থেকে নিয়ে আসতে,কয়টা কাজের টেন্ডার হচ্ছে,কত পার্সেন আপনার জন্য রাখতে হবে, কোন কাজটি আপনার ভাইকে দেয়া লাগবে,এই গুলী তাঁদের দিয়ে যখন করান তখন মনে থাকে না একদিন আপনাকেও সে চেড়ে যাবে?চেড়ে যাওয়ার উপক্রম হলেই সে সন্ত্রাসী হয়ে যায়,যখন আপনার পরমায়েশ শুনেছে তখন সে ত্যাগী নেতা ছিল? এই প্রসংগে দৈনীক সংবাদের আংশিক মতামত তুলে ধরা প্রয়োজন মনে করি।লিখাটা বর্তমান সময়ের জন্য প্রনিধান যোগ্য বলে আমী মনে করি। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের আদর্শগত ভাবে আজ কতটা অধঃপতন ঘটেছে তা বোঝা যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আওয়ামী নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের দলে দলে আওয়ামী লীগে যোগদান করতে দেখলে। এতে আবার নাকি ঐ আওয়ামী লীগ নেতারা আনন্দে আত্মহারা হন। এ কি আশ্চর্য অবক্ষয় ও মূঢ়তা! জামায়াত-কর্মী কখনো আওয়ামী লীগার হবে? আলবদর তার খাসলত বদলাবে? বিএনপিকে জামায়াত যেভাবে গিলে ফেলেছে এই অনুপ্রবেশকারী জামায়াত-বিএনপি ঠিক তেমনিভাবেই আওয়ামী লীগের সর্বনাশ সাধন করবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সাধারণ সম্পাদক এমন ক্ষেত্রে দয়া করে কঠিন হউন। বসন্তের কোকিলগুলোকে চিহ্নিত করুন। আগডালে-মগডালে বসে থাকা সুযোগসন্ধানী ও হাইব্রিড বা নব্য আওয়ামী লীগারদের খপ্পর থেকে দলকে মুক্ত করতে সোহরাওয়ার্দী-বঙ্গবন্ধুর মতো দৃঢ়তার সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রম গ্রহণ করুন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিষয়ে কারা বিগত কয়েক দশক যাবৎ মৃত্যুঝুঁকিকে মাথায় নিয়ে মাঠে মাঠে কাজ করেছেন তা কি সরকারের অজানা? আমরা বুঝতে পারি না যে, সেসব লোককে কেন কাজে লাগানো হয় না! যারা রাতারাতি ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগার বনে গেছে কিংবা স্বজনপ্রীতির বদৌলতে দলের কাছ থেকে নানাবিধ সুবিধা আদায় করে নিয়েছে বা নিচ্ছে তাদের দিক থেকে অতি অবশ্যই মুখ ফিরিয়ে নিতে হবে। ভুললে চলবে না যে, কোন ব্যক্তি দলকে কিছুদূর এগিয়ে নিতে পারেন বটে, কিন্তু দলের স্থায়ী আসনের জন্য চাই আদর্শবাদিতা ও ত্যাগ। এর কোনই বিকল্প নেই। এর সঙ্গে থাকতে হবে দলের ইতিহাসের সত্যনিষ্ঠ পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর ১৯ বার হামলা হয়েছে। আরও হামলার জন্য অশুভ মহল সদা তৎপর। জঙ্গিদের নতুন নতুন তৎপরতার খবর প্রতিদিনই পাওয়া যায়। আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে বলতে গেলে ভয়ংকর সব জঙ্গিই স্থায়ী জামিন লাভ করছে ও করেছে। জঙ্গিদের পাকড়াও করতে র্যাব প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে। আবার কোন আগ-পিছ না ভেবে সেই র্যাবের বিরুদ্ধেই সরকারি দলের প্রভাবশালী কেউ কেউ বাক্যবান নিক্ষেপ করে বর্তমান পরিস্থিতিতে জামায়াত-বিএনপির হাতকে শক্তিশালী করছেন। এমতাবস্থায়, কে জানে কবে আওয়ামী নেতাদের হুঁশ হবে। একদিকে পরিক্ষিত নেতাকর্মি নিধন করবেন, আর একদিকে বি,এন,পি,জামায়াতের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দলে ভিড়াবেন এ কেমন কথা।সেই সন্ত্রাসীর এত ক্ষমতা আপনি কখন দেখেছিলেন।যখন আওয়ামী লীগের কথা নিয়ে জনগনের কাছে যেতে চেয়েছিলেন,তখন এই ক্ষমতাধর সন্ত্রাসী কি বাধা দিয়ে প্রমান করেছিল,আপনার দলের অন্য আর দশজনের চাইতে তাঁর শক্তি বেশি? জনাব এম,পি মহোদয় ঐ সন্ত্রাসীর মোকাবেলা করেই ২০০৮সালে বিপুল ভোটে জিতিয়ে এনেছিল রোগা ছাত্রলীগ ভাইটিই।কি ভাবে ভুলে গেলেন আপনি?? কি কাজ করেছেন,জনগনের উপর আস্থা রাখা যাচ্ছেনা,জামায়াত বি,এন,পির সন্ত্রাসীরা লাগবে আপনাকে জিততে হলে? আমি আবারও বিশেষভাবে অনূরুধ করতে চাই, স্ব স্ব এলাকার এম,পি, জেলা নেতা, থানা নেতাদের আপনারা নতুন প্রজর্ম্মের ছাত্রলীগ যুব লীগ নেতাদের নিয়ে বসেন,তাঁদেরকে আদর্শগত শিক্ষায় শিক্ষিত করুন,আজ আপনার কাজে আসবে, আগামীতে সে নীজের কাজে এই জ্ঞান লাগাতে পারবে।দয়া করে তাঁদের পথভ্রষ্ট করবেন না, তাঁদের মা বাবার অনেক আশা তাঁদের উপর। "জয়বাংলা জয়বাংলা" "জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা ""
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ