২০১৮সালের নির্বাচন সকল মহলের প্রচারণায় মুক্তিযুদ্ধের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণের পক্ষে গনবিস্ফোরণ ঘটেছে।

  ২০১৮ সালের শেষপ্রান্তে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ষাটোর্ধ বয়সের প্রায় সকল বাঙ্গালীকে অবচেতন মনে হলেও ১৯৭০ এর অখন্ড পাকিস্তান সরকারের শেষলগ্নের জাতীয় নির্বাচনের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটের সাদৃশ্য,বৈসাদৃশ্য বিবেচনায় প্রায় অবলুপ্ত স্মৃতি উস্কে দিতে পেরেছে। উভয় নির্বাচনের পারিপাশ্বিক অবস্থান, আদর্শিক লড়াই, শত্রু-মিত্র চিহ্নিতকরণ প্রায় অভিন্ন। উভয় নির্বাচনে বাংলাদেশের সকল 'শ্রেনী-পেশা'র জনগনের অংশগ্রহনে সৃষ্ট সর্বাত্মক গনজোয়ারে সাদৃশ্য থাকলেও সৃষ্ট লড়াইয়ের ধরণ, ভেসে যাওয়া জনগোষ্টি এবং শক্তির মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।
  ২০১৮ সালের গনতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় গনমানুষের সুসংগঠিত লড়াই  বিদেশী কোন শক্তি, দখলদার বাহিনী বা জনগোষ্টি'র বিরুদ্ধে ছিলনা।এই লড়াই ছিল একান্ত বাঙ্গালী জাতির গর্ভে ধারনকৃত--'পরাজিত শক্তি পাকিস্তানী ভাবধারায় পরিপূষ্ট, সাম্প্রদায়িক শক্তির লালীত, সাম্রাজ্যবাদী শোষক শক্তির আদর্শে অনুপ্রানীত প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য বাংলাদেশ বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে।
 যারা দীর্ঘবছর কখনও ধর্মের দোহাই, কখনও বা পাশ্ববর্তি দেশের দখলদারিত্বের দোহাই দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে ভিক্ষুকের দেশ, ভিক্ষুক জাতীর পরিচয়ে বেঁচে থাকার অপচেষ্টায় ব্রতি ছিল। তাঁরা সর্বতো অপশাসন, অপসংস্কৃতি, অনৈতিকতা'র বেড়াজালে জাতিকে নিমগ্ন রেখে তাঁদের কোঠারী শাসন শোষন, লুটপাট বহাল রেখে সার্বিকভাবে ব্যার্থরাষ্ট্রে পরিণত করে, বিদেশী শক্তির হাতে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে তুলে দেয়ার প্রানপণ চেষ্টায় লিপ্ত ছিল।
  ৭০এর জাতীয় নির্বাচনে পাকিস্তানী শাসক-শোষক গোষ্টি ছিল চিহ্নিত।তাঁরা প্রায় দুই হাজার মাইল দুরের ভিন্ন জাতিগোষ্টি। তাঁদের শাসন-শোষনের বিরুদ্ধে  বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ৬৯ এর গনভ্যুত্থানের ফসল ছিল ৭০ এর জাতীয় নির্বাচনে সৃষ্ট গনজোয়ার। জাতীয় নির্বাচনে সর্বাত্মক পরাজয় হলেও কাংক্ষিত লক্ষে পৌঁছার উদ্দেশ্যে অবশেষে  সংগঠিত সসস্ত্র লড়াইয়ের প্রয়োজন অবশ্যাম্ভাবি হয়ে উঠেছিল। দীর্ঘ ৯ মাসের জীবনপণ লড়াইয়ের মাধ্যমে বাঙ্গালী জাতী তাঁদেরকে পরাজিত করে এদেশ থেকে বিতাড়িত করে স্বাধীন,সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছিল।শত্রু মিত্র চিহ্নিতকরণ ও বিতাড়নে সময় নিয়েছিল ২৩ বছর।
    পাকিস্তানী শাসকগোষ্টির এদেশীয় বাঙ্গালী দোসর প্রেতাত্বা'রা ছিল বাঙ্গালী জাতীর গর্ভে জম্ম নেয়া। এদেশের আবাহাওয়ায় বেড়ে উঠা কতিপয় দেশবিরুধী সংগঠন ও ব্যাক্তি।তাঁদের প্রভূরা পরাজিত হয়ে এদেশ ছেড়ে গেলেও তাঁদের দোসরেরা বাঙ্গালী জাতীর চিরায়ত বদন্যতার গুনে বাংলাদেশের সমাজে মিশে যেতে পেরেছিল। সাপ দুধ কলা দিয়ে পুষে রাখলেও সাপই থাকে।৭৫ এ দেশী বিদেশী পরাজিত শত্রুদের সহযোগীতায় কতিপয় দিকভ্রান্ত সেনা কর্মকর্তার যোগসাজসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করে বাংলাদেশের সমাজে তাঁদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ পূণঃত্থান ঘটে।
    দেশ বিরোধী অশুভশক্তি প্রতিনিয়ত মিথ্যা, অপপ্রচার, গুজব, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ট মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের আপামর জনগনকে বিভ্রান্ত করে দীর্ঘ ৩০ বৎসরের অধিক বাংলাদেশের সমাজে অধিপত্য বিস্তার করে রাখে। '৭৫ এ বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, বাঙ্গালী জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু'কে স্বপরিবারে হত্যা করে,বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী অশুভশক্তি তাঁর স্বপ্নের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের বাংলাদেশকে সর্বক্ষেত্রে পরাজিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের আদর্শিক ধারায় ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টায় ব্রতি হয়।
  তাঁরা একাজে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের বৃহৎ একটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের জনগোষ্টিকে পরিকল্পিত অপপ্রচার, মিথ্যা, ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত এবং সর্বাত্মক রাষ্ট্রিয় পৃষ্টপোষকতায় বিভ্রান্ত,অন্ধ করে রেখেছিল।এবং কি তাঁদেরকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও অঙ্গিকারের বিরুদ্ধে সুদৃড় অবস্থান গ্রহনে উৎসাহিত করতে পেরেছিল।
  বাংলাদেশ বিরুধী অশুভশক্তি বিভিন্ন কলা কৌশলে জাতিকে বিভ্রান্ত করে লুটপাট, দখলবাজী, অপসংস্কৃতি, অনৈতিকতা, ঘূষ দূনীতি, অপশাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল। তাঁদেরকে বাংলাদেশের সমাজ থেকে আলাদা করে চিহ্নিত করা ছিল একপ্রকার দুঃসাধ্য কাজ। কিভাবে করবে? তাঁরাও দেখতে বাঙ্গালী, কথাও বলে বাংলা ভাষায়।
  সেই দুঃসাধ্য কাজটিই জাতির জনকের জৈষ্ঠকন্যা দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম, কখনও বা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থান করে--একাগ্রচিত্তে, ধৈয্যের পরকাষ্টায় আরোহন করে সাহষিকতার অন্যন্ন নজির স্থাপন করে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন।আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দেশবিরুধী শক্তি চিহ্নিত করতে পেরেছেন বলেই২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির গনজাগরণের মুখে সকল দেশবিরুধী শক্তি লেজ গুটিয়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
   মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির একমাত্র আশাভরসার স্থল জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু'র জৈষ্ঠকন্যা শেখহাসিনা দেশবিরোধী অশুভশক্তি চিহ্নিতকরণে একদল দেশপ্রেমিক সাথীকে সঙ্গে নিয়ে' অসীম সাহষিকতা, চরম ধৈয্যের পরাকাষ্টায় একটানা ২১ বছর একাগ্রচিত্তে নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলন, বিরামহীন সংগ্রাম চালিয়েছেন। তাঁর বিচক্ষন নেতৃত্বে অসংগঠিত, ছিন্নভিন্ন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি সঙগঠিত শক্তিতে আত্মপ্রকাশ করে।
   তিনি ভোট ও ভাতের অধিকার আন্দোলন,  শ্বৈরাচারের পতন আন্দোলন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারকায্য সমাপন, '৭১ এর মানবতা বিরুধী অপরাধের বিচার অনুষ্ঠান, অশুভ দেশবিরুধী শক্তির প্রধান প্রেতাত্বা জিয়া পরিবারের বিচার প্রক্রিয়া সমাপন করেন।সমস্ত প্রক্রিয়া তিনি প্রতিষ্ঠিত আদালতে, প্রচলিত আইনে মানবতা বিরুধী অপরাধের বিচার, লুটপাটের বিচার অনুষ্ঠান ও শাস্তি প্রদান করে বাংলাদেশের জনগনকে জাগ্রত করার মহতি প্রচেষ্টা গ্রহন করে সর্বতো সফল হন। তাঁর সামগ্রিক প্রচেষ্টা বাংলাদেশের জনগনের নিকট "দেশবিরুধী অশুভ শক্তি চিহ্নিত করণের অন্যতম বিশ্বস্ত মাধ্যম হয়ে উঠে।
   তাইতো দেখা যায়--'৭০ এর নির্বাচনে বাঙ্গালী জাতির আদর্শিক লড়াই এবং গনজাগরণের পারিপাশ্বিক স্মৃতি এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনের পারিপাশ্বিক প্রেক্ষাপট এবং সাদৃশ্য অবলোকন করে--অনেকেই আবেগপ্রবন হয়ে চোখের পানি ঝর ঝর করে ছেড়ে দিতে দেখা গেছে।
  '৭০ এর জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে ২০১৮ সালের নির্বাচনে সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়--দেশের বরেন্য শিক্ষক, সাহিত্যিক, সরকারী অবসরপ্রাপ্ত আমলা,অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, শিল্পি সহ  সকল শ্রেনী-পেশার মানুষ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের পক্ষে নৌকা জেতাতে নির্বাচনী প্রচারাভিযানে সর্বাত্মক ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।সমসাময়িক কালের বিশ্ব রাজনৈতিক ইতিহাসে কোন একটি দেশের অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে এমনটি আর দেখা যায়নি।
  নির্বাচনী প্রচারযজ্ঞে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহনকারী দেশের বিভিন্ন পেশার শীর্ষ সম্মানীত নাগরীকগনের মধ্যে বেশীরভাগ আওয়ামীলীগের দলীয় আদর্শ ধারন করেন না। তাঁরা শুধুমাত্র দেশবিরোধী অশুভশক্তির কালছায়া থেকে তাঁদের প্রানপ্রিয় দেশমাতৃকা মুক্ত রাখতে বাংলাদেশের পক্ষে নৌকা জেতাতে এবারের নির্বাচনী কর্মযজ্ঞে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।
 আমার স্মৃতি উল্লেখ করে পাঠকসমাজের বোধগম্যতায় গনজাগরণের সাদৃশ্য তুলে ধারছি। '৭০এর নির্বাচন প্রাক্কালে আমি ছিলাম স্কুল পড়ুয়া এক দুরন্ত কিশোর।পশ্চিম পাকিস্তানের শাসন শোষনের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে আমার এলাকা সহ বর্তমান বাংলাদেশের বহু অঞ্চলের গরীব,নিপীড়িত মানুষের সন্তানেরা কিশোর বয়সে পানির জাহাজে পাকিস্তানের সমৃদ্ধ শহরের ধনী পরিবারের বাসায় "চাকর বাকরের কাজ" করার জন্য যেত।এতদাঞ্চলের বহু বয়স্ক মানুষ এবং যুবকগন পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে কলকারখানায় কাজেও জড়িত ছিলেন। ৭০ এর নির্বাচনের আগে আমার প্রতিবেশী অনেকের মা বাবার নিকট লেখা চিঠি আমাকে পড়ে দিতে হত, অনেকের চিঠির উত্তরও আমার লেখার সৌভাগ্য হতো।আমি তখন তাঁদের  প্রতিটি চিঠির ছত্রে ছত্রে খুঁজে পেতাম আকুল কান্না, বুকভরা ব্যাথার সুর।তাঁরা লিখতেন--"মা, মাগো--"তোমার ছেলেকে যদি জীবন্ত পেতে চাও, বঙ্গবন্ধুর নৌকায় ভোট দিও। বাবাকে বলিও নৌকায় ভোট দিতে, বাড়ীর ছোট বড় সকলকে বলিও নৌকায় ভোট দিতে।
  ২০১৮ ইং সালের নির্বাচনেও ব্যাতিক্রম হয়নি--বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী, দেশের সিংহভাগ বৈদেশীক মুদ্রার যোগানদাতা,পরিশ্রমী বাঙ্গালী জাতীর গর্ভের প্রবাসী লক্ষ লক্ষ ভাই, বন্ধু এবার দেশে এসেছেন, তাঁরাও নৌকা জেতাতে নির্বাচনী কর্মযজ্ঞে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। এককথায় সর্বমহলের পদচারণায় নির্বাচনী মাঠ হয়ে উঠে নৌকার একক প্রচারের নির্বাচনী মাঠ।
    উল্লেখ্য--'৭০ এর নির্বাচন ছিল ২৩বছরের পাকিস্তানী শাসক-শোষকগোষ্টির বিরুদ্ধে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে শোষনহীন, অসাম্প্রদায়িক স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অবচেতন মনে ঐক্যবদ্ধ বাঙ্গালী জাতীর গনবিস্ফোরন। ২০১৮ সালের শেষপ্রান্তে'র ক্ষনগণনায় স্বাধীন বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় নির্বাচন ছিল--বঙ্গবন্ধুর জৈষ্ঠকন্যার নেতৃত্বে অশুভ সাম্প্রদায়িক শক্তির লালীত প্রেতাত্বা,সামাজ্যবাদের দোসর এবং পাকি প্রেতাত্বাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির সচেতন মনের আপামর জনগনের সর্বতো গনবিস্ফোরণ।
    ইহা একান্ত সত্য যে--সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয়  নির্বাচনের ফলাফলের উপর নির্ভরশীল ছিল প্রায় অর্ধশতবছর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারকারী  স্বাধীনতা বিরোধী, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী, অশুভ সাম্প্রদায়িকশক্তি এবং তাঁদের  প্রেতাত্বাদের নগ্ন আস্ফালন আরো বহুকাল মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে অব্যাহত থাকবে? নাকি সর্বস্তরের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির গনজাগরণে তাঁদের চিরতরে বাংলার মাটিতে কবর রচনা হবে। 
   শেষ বিচারে বাংলাদেশের সকল শ্রেনী পেশার জনগন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখহাসিনার নেতৃত্বে বৈশম্যহীন, দূর্নীতিমুক্ত, অ-সাম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের পক্ষে সচেতনতার সঙ্গে অবস্থান গ্রহন করেছে। জাতির জনকের স্বপ্নের সুখী, সমৃদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ বিনির্মানের পক্ষে জেনে, বুঝে, স্বজ্ঞানে, স্বইচ্ছায় অঘোষিত জনবিস্ফোরণ ঘটেছে। জনককন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগন সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের আইন, রীতিনীতি, বিচার অনুষ্ঠান করে দেশবিরুধী শক্তির উৎস, শক্তি চিহ্নিত করেছে।অতঃপর  গনতন্ত্রের প্রতিটি ধারা উপধারার প্রতি সম্পূর্ণ অবিচল,নেতৃত্বের প্রতি অনুগত থেকে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে জনভারে অশুভশক্তির প্রেতাত্বাদের সকল ঘাঁটি সর্বাত্মক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল।বাংলাদেশের জনগন সর্বাত্মক সচেতন মনে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের পক্ষে গনরায় প্রদান করেছে।
  অতএব নিঃসন্দেহে বলা যায়--জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে '৬৯ এর গনভ্যুত্থান পরবর্তি '৭০ এর গনজাগরণ ছিল পশ্চিমাদের শাসন-শোষনের বিরুদ্ধে অনেকাংশে ভাবাবেগ জনীত গনবিস্ফোরণ।২০১৮ সালের গনজাগরণ তাঁর কন্যার নেতৃত্বে একটানা ১০বছর সফল রাষ্ট্র পরিচালনা এবং উক্ত সময়কালে রাষ্ট্রের প্রচলীত আইন ও বিধি প্রয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে দেশবিরোধী অশুভশক্তি নির্ভুল শনাক্তকরণের ফসল। অশুভ দেশ বিরুধী শক্তির প্রমানীত লুটপাট, ব্যার্থরাষ্ট্র বানাবার অপপ্রয়াশের লক্ষ অর্জনে তাঁদের দ্বারা সংগঠিত প্রমানীত অপকর্মের উপর আপামর জনগনের বিশ্বাস স্থাপনের বাস্তব ফসল ২০১৮ সালের নির্বাচনের বাস্তব গনজাগরণ। ফলে ৭০ এর আবেগপ্রসূত গনজাগরণের রেশ সহসাই জনগনের মন হতে মূছে যাওয়ায় প্রাপ্ত ফসলের প্রতি বাংলাদেশের জনগন একপ্রকার উদাসীন ছিল। সুযোগ বুঝে অশুভ দেশবিরোধী শক্তি  মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় উক্ত ফসল লুটে নিতে পেরেছিল। ২০১৮ ইং সালের গনজাগরণ সম্পূর্ণ সচেতনভাবে, দীর্ঘ ৩০ বছরের অধিক ভুক্তভূগীর কষ্টার্জিত ফসল।এই ফসল বাংলাদেশের জনগন প্রয়োজনীয় মহুর্তে সর্বক্ষন পাহারায় রেখে রক্ষা করবে।
 এই জয় বাংলাদেশ আর কখনও হারিয়ে যেতে দিবেনা, হারাবে না।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg