সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
আওয়ামী লীগের কতিপয় দুবৃত্ত বঙ্গরত্মের মানচিত্র পরিবর্তনের সাফল্যকেও ম্লান করে দিল----
_____________________________________________
কোন দেশের জনসম্পৃত্ত রাজনৈতিক দলের একমেয়াদে একটি সাফল্যই দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে যথেষ্ট।অতিব দু:খ্যের বিষয় বর্তমান সরকারের শত সাফল্য জাতির ললাটে যুক্ত করেও জাতির জনকের পরিবারের বিরুদ্ধে হত্যা চক্রান্ত রুখতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়ের হত্যা পরিকল্পনার বিরুদ্ধে জনগনের স্বত:স্ফুর্ত গনজাগরন সৃষ্টি হয়নি , প্রতিবাদ হয়নি, প্রতিরোধ হয়নি। আমি ব্যাক্তিগতভাবে মনে করি- 'তার একমাত্র কারন আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে অতি অল্প সংখ্যক দুবৃত্তের দুবৃত্তায়নে সরকারের সকল সাফল্যকে ম্লান করে দেয়া।' বঙ্গরত্ম শেখ হাসিনার সর্বচ্ছ আন্তরিকতা দিয়ে দেশকে উন্নতি ও অগ্রগতির শীর্ষে নিয়ে গেলেও জনমানসে তাঁর প্রভাব পরিদৃষ্ট হচ্ছেনা-' ঐ সমস্ত জেলা উপজেলায় দায়িত্বরত দলীয় দুবৃত্তদের অপকর্মের কারনে"।
জাতির জনকের কন্যার দুরদর্শী নেতৃত্বে তেমনি এক শ্রেষ্ঠ সাফল্য 'মানচিত্র পরিবর্তন'।বিশ্বের একটি দেশও খুঁজে পাওয়া যাবেনা, যে দেশ একটি সাইমানা পিলারের অবস্থান দুই ইঞ্চি পরিবর্তনের জন্যেও যুদ্ধ বিগ্রহ করা লাগেনি।সেই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বর্তমান সীমারেখার প্রায় সমপরিমান সীমারেখার ভুখন্ড একটি গোলা বারুদের কণা খরছ ব্যতিরেকে শুধুমাত্র দুরদর্শিতা দিয়ে অর্জন করেছেন জাতির জনকের কন্যা। এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি একটি দেশ ও জাতির জন্য আর কি হতে পারে?
বাংলাদেশের বর্ধিত ভূখন্ডের নতুন সীমানা অংকিত মানচিত্র সর্বত্র প্রকাশ এবং বহুল প্রচার ও হয়নি।সবাই সবার কাজ নিয়ে ব্যাস্ত,এতবড় সাফল্য তুলে ধরে জনগনকে সংগঠিত করার সময় কোথায়?
অথছ বর্তমান সরকারের সাফল্যের এবং নানাবিধ অর্জনের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হল বাংলাদেশের 'নতুন সীমানা' বা সদ্য প্রকাশিত 'নতুন মানচিত্র'। এটা এখন সূর্য্যালোকের মত সত্যি যে, এ অর্জন কোন সাধারণ অর্জন নয়। একটি স্বাধীন দেশের পুরো মানচিত্রে নতুন ভূ-খন্ড এবং জলাভুমি সংযুক্তি সাধারন ব্যাপার নয়। মানচিত্র বদলের সাথে সাথে বদলে গেছে ৪৫ বছরের পুরাতন মানচিত্রের সীমানা রেখা, বদলে গেছে পুরো জাতীর ভবিষ্যৎ।
ভারতের সাথে ছিটমহল বিনিময়, অ-দখলীয় জমি একে অপরের কাছে হস্তান্তর, সাড়ে ছয় কিলোমিটার সীমান্ত চিহ্নিত হওয়ার পর এখন দুই দেশের নতুন করে মানচিত্র তৈরি করার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে নব সূচনা। তবে এখনো সর্বত্র প্রকাশ এবং বহুল প্রচারের অভাবে সাধারণ জনগণ জানতে পারেনি সীমানায় নতুন করে পাঁকাপিলার বসানোর ভারত-বাংলাদেশ এর সর্বশেষ সীমান্ত রেখা সম্পর্কে। তেমন ভাবে জানতে পারেনি জমি বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের চার রাজ্য- আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গের সীমানারেখায় পরিবর্তিত সীমারেখা সম্পর্কেও।
১৯৪৭ সালের ভারত ও পাকিস্তানের সীমানার একটি খসড়া দিয়ে বাংলাদেশ তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্তরেখা করা হয়েছিল। এরপর ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করে স্বাধীন হওয়ার পরও বাংলাদেশের সীমান্ত সমস্যা রয়েই যায়। এ সমস্যা নিরসনে ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ইন্দিরা গান্ধী একটি চুক্তি করেছিলেন।সেই বিখ্যাত চুক্তির নাম ভারত -বাংলাদেশ মৈত্রী চুক্তি যাহা 'ইন্দিরা-মুজিব মৈত্রী চুক্তি' হিসেবে খ্যাত।
তবে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ওই চুক্তি কার্যকরের সব প্রক্রিয়া সেরে উঠতে পারেনি ভারত কিন্তু ২০১৫ সালে নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরে এ চুক্তি অনুসমর্থনের দলিল হস্তান্তর হয় দুদেশের মধ্যে। এরপর জানানো হয় গত বছর ৩১ জুলাই মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময়। যার ফলে বিরাট পরিবর্তন এসেছে দুই দেশের মানচিত্রেও।
বাংলাদেশ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অবশ্য এই প্রসঙ্গে ২০১৫ সালে বলেছিলেন , "দুদেশের মধ্যে স্থল সীমান্ত চুক্তি বিনিময়ের ফলে কোথাও ভারতের সীমানারেখা বাংলাদেশের বর্তমান সীমানার ভেতর ঢুকে যাবে। আবার কোথাও বাংলাদেশের আগের জমি ভারতে চলে যাবে। " এবং হয়েছে ও ই, আর এই পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের আয়তন কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে এটা এখন কমবেশী সকলেই আন্দাজ করছে। তবে কিছু সংখ্যক সচেতন মানুষ ছাড়া, ব্যাপক প্রচারণার অভাবে এখনো দেশের অনেকেই জানেনা সেই নতুন ভাবে আঁকা মানচিত্রের সম্পর্কে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ইন্দিরা-মুজিব মৈত্রী চুক্তির আলোকে চিটমহল বিনিময় চুক্তি সংগঠিত হয় মৌদি-হাসিনার হাত ধরে।এই মৈত্রী চুক্তি বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশের সর্বমহল হতে দেশরত্ম উপাধি পেলেও মুল কারিগর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা বিরুধীদের অপপ্রচারের শিকার হয়ে স্বপরিবারে নিহত হয়েছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর সাফল্যগাঁথা, সুদুরপ্রসারি চিন্তা চেতনার ফসল 'মৈত্রীচুক্তি" অংশবিশেষ' চিটমহল বিনিময়'।
তারই সুযোগ্য কন্যা বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সাফল্যে রচিত সম্পুর্ণ নতুন করে আঁকা সোনার বাংলার মানচিত্র দেখলে গর্বে বুক ফুলে উঠবেনা এমন বাঙ্গালী একজনও পাওয়া যাবেনা।অতিব দু:খ্যের সংগে বলতে হচ্ছে নিরানব্বই শতাংশ মানুষ এখন পয্যন্ত নতুন অঙ্কিত মানচিত্র দেখেনি, শুনেনি, জানেওনা। শুধু মাত্র ব্যাপক প্রচার প্রচারণার অভাবেই এমনটি হয়েছে মনে করি।
বড় একটি অর্জন 'সমুদ্রসীমা' মামলায় নেদারল্যান্ড এর স্থায়ী সালিশি আদালতের রায়ে বঙ্গোপসাগরে ভারতের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ ২৫ হাজার ৬০২ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে ১৯ হাজার ৪৬৭ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা পায় বাংলাদেশ। বাকি ছয় হাজার ১৩৫ বর্গকিলোমিটার পেয়েছে ভারত। গত ২০১৪ সালের ৭ জুলাই এই ঐতিহাসিক রায় পাওয়া যায়।অখন্ড পাকিস্তান স্বাধীন বাংলাদেশের কোন সরকার আদৌ কোন দিন যা চিন্তাও করেনি সমুদ্রে বাংলাদেশের এত বিশাল পরিমান জলাশয় বেহাত হয়ে আছে যুগের পর যুগ।
তার আগে মিয়ানমারের সঙ্গে রায়ে বাংলাদেশ পায় ৭০ হাজার বর্গ কিলোমিটার নতুন জলাশয়।
"" সবসাকুল্যে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তন সমৃদ্ধ নতুন যুক্ত বাংলাদেশের মানচিত্র।১৯৭১ ইং সালের সার্বভৌম বাংলাদেশের যাহা দ্বিগুনের কাছাকাছি।""
অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশের মানচিত্রে যোগ হয়েছে আরো নীট ১০ হাজার ৫০ একর জমি।
বাংলাদেশের নতুন মানচিত্র যুদ্ধবিগ্রহ ছাড়াই অর্জন। এই নতুন মানচিত্র কতবড় বিশাল অর্জন তা সকলের অনুধাবন করার যোগ্যতাও হয়ত নেই। সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের নতুন মানচিত্রের ছবি এবং তথ্য ব্যাপক ভাবে খবরের কাগজ, ইলেকট্রোনিক মিডিয়া এবং অনলাইন মাধ্যমে দেশবাসিকে জানানোর জন্য সদাশয় সরকার, দায়িত্বরত: তথ্য মন্ত্রনালয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার সেলকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
স্বাধীনতার ৪৫ বছর বহু আন্দোলন,সংগ্রাম, অসংখ্য স্বাধীনতা প্রীয় মানুষের আত্মত্যাগের পর আজ বাংলার মানুষের প্রাণের দাবী রাজাকার মুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ প্রাপ্তির শুভক্ষনে--নতুন মানচিত্র পাওয়ার আনন্দ নতুন প্রজর্মকে বদলে দিতে পারে তাঁদের ৪৫বছর স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার, জাতির জনকের খুনীচক্রের ধোলাই করা মননকে। অদ্যাবদি যারা বাংলাদেশের সকল মৌলিক সুবিধা গ্রহন করে,সার্বিক নাগরিক সুযোগ গ্রহন করেও প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্রের নতুন নতুন দিক উম্মোচন করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। মুক্তিযুদ্ধের অর্জিত বাংলাদেশের আবহাওয়ায় হৃষ্টতা পেয়ে,স্বাধীন বাংলাদেশের ভাত হজম করে বেড়ে উঠে যাদের পরাজিত করে স্বাধীনতা এনেছিল বীর মুক্তিযোদ্ধারা সেই পাকিস্তানী হায়নাদের নীতি আদর্শ, স্বপ্ন বাস্তবায়নে এখনও অহরাত্র ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। জাতির পিতার বদন্যতায় মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের সমনাগরিক সুবিদা সহ অন্যান্য সকল প্রকার বাড়তি সুবিধা নিয়েও প্রতি মুহূর্তে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টি করে চলেছে।বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরণের অপপ্রচারে সদা সর্বদা লিপ্ত রয়েছে। আজ সময় এসেছে নতুন করে ষড়যন্ত্রকারিদেরকে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ সম্পর্কে অর্জিত তথ্য সহ মানচিত্র সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দেয়ার, নতুন প্রজর্ম্মকে নতুন মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ সম্পর্কে জানানোর।
সদাশয় জাতির জনকের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আবেদন থাকবে, 'গুটি কতক দুবৃত্তের কারনে আপনার সরকারের যুগান্তকারি সাফল্য সমুহ বানের জলে ভেসে যাবে,কোনভাবেই মেনে নিতে পারছিনা।বহু রথি মহারথি আওয়ামী লীগ ছেড়ে, আপনাকে একা পেলে চলে গেছে,আপনার অগ্রযাত্রা থেমে থাকেনি।গুটি কতক দুবৃত্তকে দলছাড়া করলেও আপনার সরকারের তেমন কিছুই হবে বলে মনে করিনা।অভিলম্বে অপরাজনীতি, সন্ত্রাস, মাস্তানী, দুবৃত্তায়ন বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহন করুন।বাংলার জনগন আপনার পাশে থাকবে ইনশাল্লাহ।
জয় বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন