সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
জাতির জনক এবং তাঁর পরিবারকে অবজ্ঞা করার প্রতিদান --বিএনপি জনগন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার মুল কারন---
________________________________________
বাংলাদেশের অনেক বিজ্ঞ অভিজ্ঞজনের অভিমত, শক্তিশালী বিরুধীদলের অভাবে গনতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।সরকার ও নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপিকে মাঠে স্বক্রিয় রাখার নিমিত্তে-একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়ে আওয়ামী লীগের উপর দমন পিড়ন অব্যাহত রেখেছেন।কিন্তু কাজের কাজ কিছু হচ্ছে বলে মনে হয়না।বিএনপিকে মাঠে ধরে রাখা যাচ্ছেনা,অনেক ক্ষেত্রে তৃনমুলের নেতাদের কাঁধে জোর করে নমিনেশন তুলে দিলেও তাঁরা পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা অব্যাহতই রেখেছেন।এই থেকে অনুমান করা যায় বিএনপির রাজনীতিতে আর ফিরে আসার সম্ভাবনা-তৃনমুলের কর্মীরাও বিশ্বাস করতে পারছেননা।
শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তারের ঘটনা বিএনপির নীতিনির্ধারকদের আরো বেশী শঙ্কায় ফেলেছে। এই মামলায় বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদেরও জড়ানো হতে পারে- এমন আশংকা প্রকাশ করছেন অনেকেই।
সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও দলের স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা সেলের সমন্বয়ক মো. শাহজাহান বলেন, ‘দলীয় স্বার্থে দলে কোনো বিরোধ বা ঠেলাঠেলি দেখি না। তবে সরকারের স্বার্থ রক্ষার তৎপরতা আছে। কেউ না বুঝে, আবার কেউ কেউ বুঝেশুনে সরকারের ফাঁদে পা দিচ্ছে। এ থেকেই হয়তো দ্বন্দ্বের উৎপত্তি।’
গত বছরের শুরুতে সরকার পতন আন্দোলনে ব্যর্থতা, টানা তিন মাস হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে পেট্রলবোমা, গাড়ি পোড়ানোসহ নাশকতার অসংখ্য মামলা এবং পুলিশের গ্রেপ্তার অভিযানের মুখে অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বিএনপি।
দলের নেতা-কর্মীদের অনেকে বছর খানেক আত্মগোপনে ছিলেন। এরপর গত ১৯ মার্চ দলের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের মাধ্যমে বিএনপি দলটি আবার রাজনীতির মাঠে ফিরে আসে। নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনার সঞ্চার হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন মুখের প্রাধান্যনির্ভর কমিটি দিয়ে ধীরেসুস্থে দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করেন শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু নেতাদের অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে শুরুতেই এ পরিকল্পনা হোঁচট খায়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সুন্দর একটা সম্মেলন হলো। কিন্তু নানা কারণে দলে যে গতি আসার কথা ছিল, তা আসেনি।বরঞ্চ অনেক ক্ষেত্রে দলীয় অন্তকোন্দল শীর্ষ পয্যায়কে স্পর্ষ করেছে।
সম্মেলনের এক মাসের মাথায় তিন দফায় দলের মহাসচিবসহ ছয়টি পদে ৪১ জন নেতার নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। তাঁদের ৩১ জন নতুন মুখ, যাঁদের পাঁচ-ছয়জনের যোগ্যতা ও সামর্থ্য নিয়ে দলের ভেতরে সমালোচনা আছে। কমিটি নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভে কেন্দ্রিয় কায্যালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটেছে ইতিমধ্যে।বলা যায় লেজে গোবরে অবস্থা।
সূত্র জানায়, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে মূল সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন খালেদা জিয়া। এ কাজে যখন যাঁকে দরকার মনে করছেন, তাঁর সহযোগিতা নিচ্ছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলে অবশ্য অভিযোগ আছে। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা পরিষদ ও বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে নাম ঘোষণা বাকি আছে। এসব পদের বিষয়ে কথা বলতে গত কিছুদিন আগে লন্ডনে তারেক রহমানের কাছে গেছেন তাঁর এক ঘনিষ্ঠজন।তারেকের পরামর্শ অনেক ক্ষেত্রে পালিত না হওয়ার কারনে মা-ছেলে হট টকও সর্বজনবিদিত।যার ফলে লোক পাঠিয়ে ছেলের মান ভাঙ্গানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
দলের এমন এলোমেলো অবস্থার মধ্যে সাংবাদিক শফিক রেহমানের গ্রেপ্তার ও তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে ‘অপহরণ ও হত্যা ষড়যন্ত্রের’ মামলায় জড়ানোর ঘটনা বিএনপির নীতিনির্ধারকদের শঙ্কায় ফেলেছে। তাঁদের আশঙ্কা, শফিক রেহমানের ওই মামলায় বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ আরও নেতাকে জড়ানো হতে পারে।শফিক রেহমান যে হারে তথ্য প্রকাশ শুরু করে দিয়েছেন তাতে সুস্থির থাকার উপায় দেখছেনা কোন নেতা।কোন সময়ে কোন নেতার নাম বলে বসে তার কোন হদিস নেই,সখ্যতাতো কম বেশি সবার সাথেই তাঁর ছিল।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার ও খালেদা জিয়ার মামলার গতি বাড়ানোর উদ্দেশ্য বিএনপির স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাধার সৃষ্টি করা। আর গয়েশ্বরের দাবি, শফিক রেহমানের গ্রেপ্তার সরকারের ‘নার্ভাসনেস’। সরকারকে মনের বাঘে খাচ্ছে। তারা বাঘ খুঁজে পাচ্ছে না, তাই বনে আগুন দিচ্ছে।
বিএনপির শুভাকাঙ্ক্ষী গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসনের স্বার্থে বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোর দরকার। কিন্তু দলটি কেন জানি পারছে না। তিনি বলেন, ‘কিছু লোক আছে খালেদা জিয়াকে ঘরে আবদ্ধ করে রাখে। তারাই বলে আপনাকে সব ক্ষমতা দেওয়া হলো, আপনি সব ঠিক করে দিন। এ অবস্থার পরিবর্তন যত দিন না হবে, ততদিন এসব সমস্যা কাটবে না।’
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, মামলা, হামলা ও নির্যাতনে বিএনপি এমনিতেই কাহিল। এসবের উদ্দেশ্য বিএনপিকে আরও কাহিল করা। নেতাদের পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট করে দলকে ভেতর থেকে অস্থিরতায় রাখা।হুমকি ধমকি যাই দিক গয়েশ্বর শেষ পয্যন্ত বিএনপির পড়ন্ত বিকেলের কথাই স্বীকার করে গেলেন।
শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তারের ঘটনা বিএনপির নীতিনির্ধারকদের শঙ্কায় ফেলেছে। এই মামলায় বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদেরও জড়ানো হতে পারে। মুলত:এই আশংকাটি আসার কারন-শফিক রেহমানকে জিজ্ঞাসার আগেই অকপটে তথ্যপ্রদান করে দেয়া,যাহা জিজ্ঞাস্য নয় তেমন বিষয়েরও আবতারনা করে দল ও দলীয়নেতাদের বিব্রতকর পরিস্থীতির দিকে ঠেলে দেয়া।
ইতিমধ্যে বিএনপির নেত্রী সহ উধ্বতন নেতানেতৃদের লাগামহীন মন্তব্য ও বক্তব্য থেকে বুঝা যায় দলটি রাজনীতিতে খেই হারিয়ে যারপরনাই দিশাহীন অবস্থায় আছে।কে কি বলবে বা কি বলা উচিৎ তাও যেন বোধগম্যতায় আসছেনা।
দলের শীর্ষনেত্রী খালেদা--জয়ের তিনশত মিলিয়ন ডলার আমেরীকার ব্যাংকে জমা আছে বলে দেয়া বক্তব্যে তীব্র প্রতিবাদ চতুর্দিক থেকে শুরু হয়েছে।জয় নীজেই তাঁর পেইজবুক স্টেটাসে প্রতিবাদ করে চেলেঞ্জ চুড়ে দিয়ে বলেছেন,তিনবারের প্রধানমন্ত্রী আমেরীকার অর্থব্যবস্থা সম্পর্কেই কোন জ্ঞান রাখেননা।বৈধ আয়ের বাইরে আমেরিকার ব্যাংকে টাকা জমা রাখার কোন রীতি নেই,তাও তিনি জানেননা।
জাতির জনকের পরিবারকে যেই দলই অবজ্ঞা করার যতবেশি চেষ্টা করবে, দলটি ততবেশি জনবিচ্ছিন্নই হবে।এমনও সময় হয়ত খুব বেশি দূরে নেই, জাতির জনককে যথাযথ সম্মান না করে, কোন ব্যাক্তি বা দল বাংলাদেশে রাজনীতির করার অধিকারও বাঙ্গালী জাতি দিবেনা।জাতি অন্তত: এই বিষয়টি ইতিমধ্যে পরিস্কার ভাবে অনুধাবন করেতে পেরেছে বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালী জাতিকে স্বাধীনতা দিয়েছেন,তাঁর কন্যা বাঙ্গালী জাতিকে সমৃদ্ধ জাতিতে পরিনত করছেন,তাঁর দৌহিত্র সজিব ওয়াজেদ জয় জাতিকে বিজ্ঞান ভিত্তিক সমাজ উপহার দেয়ার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে ইতিমধ্যে তথ্য ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধশালী করে উন্নত জাতির সোপান রচনা করেছেন।
সুনির্দিষ্ট প্রমান ছাড়া জাতির জনকের পরিবারের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ উত্থাপন করা কোন মহলের কাম্য হতে পারেনা। জাতির জনক বাংলাদেশের সৃষ্টি করেছেন, দেশ স্বাধীন করেছেন। জাতি গর্বভরে বাংলাদেশের স্থপতি করে তাঁদের মনের মন্দিরে ঠাঁই দিয়ে রেখেছেন।
"সাধারন রিক্সাওয়ালা পয্যন্ত তাঁর ছেলে মেয়ের নামে সম্পদ না রেখে- জাতির জনকের কন্যার জন্য সম্পদ রেজি:করে রেখে দিয়ে গেছেন, এমন উদাহরন ও আছে। কোটি বাঙ্গালী তাঁদের সম্পদ জাতির জনকের পরিবারের জন্য দিয়ে যেতে প্রস্তুত।যেখানে অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিতে পারে সেখানে সম্পদ তুচ্ছ।বাঙ্গালী একাধিকবার নীজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে জাতির জনকের কন্যার জীবন রক্ষা করার উদাহরন ইতিপুর্বে একাধিকবার রেখেছে।অযথা প্রমান ছাড়া অভিযোগ উত্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে সকল মহল বিরত থাকা উচিৎ।কারন পরিবারটি বাঙ্গালীর অন্তরে ধারন করা,সীল গালা করে রেখে দিয়েছে বাঙ্গালী।
শুধুমাত্র নীজের পরিবারের দুর্নীতি,লুটপাটের বদনামের সমান্তরাল করার নিমিত্তে জাতির জনকের পরিবারকেও একই পাল্লায় জনমনে ধারনা দেয়ার পরিকল্পনা হীতে বিপরীত হতে পারে।জনরোশের কবলে পড়ে রাজনীতির মঞ্চ থেকে বিদায় নেয়ার সম্ভাবনাই ত্বরান্বিত হবে, ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন দুরের কথা।
জয় বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু
জয়তু বঙ্গরত্ম শেখ হাসিনা
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন