ভাগ্য গড়তে রাজনীতিতে আসিনি-জনগনের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করতে এসেছি--প্রধানমন্ত্রী। ___________________________________ জাতির জনকের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্নীতি করে ভাগ্য গড়তে আসিনি। আমি জাতির পিতার কন্যা। রাজনীতি করছি নিজের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য নয়, মানুষের কল্যাণে। বাকিটা জীবন সেটাই করে যাবো। শেখ হাসিনা বলেন, এই দেশের মানুষের জন্য আমার বাবা-মা-ভাই-বোন সবাই জীবন দিয়ে গেছেন। আমি সব হারিয়েছি, আমার তো আর হারাবার কিছু নেই। চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। এখন এদেশের মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়ায় শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখিত কথাগুলি বলেন।সমাবেশের আগে তিনি অত্যাধুনিক এই হাসপাতালের উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নকে অনেকে বিস্ময় বলেন, আমি বলি এটি বিস্ময় নয়, বিশ্বাস। জনগণের প্রতি বিশ্বাস। এই বিশ্বাস আছে বলেই দেশে উন্নতি করতে পারছি; নিয়ত ভালো বলেই যেখানেই হাত দিচ্ছি সেখানেই সাফল্য অর্জন করছি’। বিএনপি-জামায়াত পদ্মাসেতু নিয়ে যদি ষড়যন্ত্র না করতো তবে এ সেতুর কাজ এতো দিনে আরও এগিয়ে যেতো বলে মতপ্রকাশ করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির জনকের জৈষ্ঠকন্যা শেখ হাসিনা। শুধু মাত্র গোপাল গঞ্জের অত্যাধুনিক হাস্পাতালটি নয়, স্বাস্থ্য খাতে যুগান্তকারি পরিবর্তন এনেছে বর্তমান সরকার। স্বাস্থ্যখাতে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় আরও তিনটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ স্থাপনের কাজ চলছে। এছাড়া প্রতিটি বিভাগে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় পরিকল্পনা সরকারের হাতে আছে। গণমুখী স্বাস্থ্য নীতি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। নার্সদেরও পিএইছডি করার ব্যবস্থা সরকার করেছে,ফলে নার্সিং পে।শায়ও মেধাবী ছাত্রীদের আনাগোনা বাড়বে আশা করি। ‘বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায়-জেলায় সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পুরোদমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ১ কোটি ৭০ লাখ ছাত্র-ছাত্রীকে উচ্ছশিক্ষার জন্য মেধাবৃত্তি দিয়েছে সরকার চলতি অর্থবছর। বর্তমানে কোন ছাত্রছাত্রী বই-খাতা কিনতে হয় না, সরকার সরবরাহ করছে। দেশে এখন ৩ কোটি ৮৪ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য নিরাপত্তা হয়েছে। মানুষের চাহিদা বদলে গেছে কারণ পেটে খাবার আছে। এখন মানুষ বিদ্যুৎ চায়, স্কুল চায়- সরকার সেই সমস্ত উন্নয়ন কর্মকান্ডই বাস্তবায়ন করে চলেছে। জাতির জনকের কন্যা অত্যান্ত দু:খ্য নিয়ে আরো একটি কথা বলেছেন --এক সময় গোপালগঞ্জবাসী বৈরিতার শিকার ছিল। অবহেলিত ছিল। সেটি হয়েছিল একটি বিশেষ কারণে। সে সময় বাজেটে টাকা দেওয়া হতো, তবে কাজ ও উন্নয়ন হতো না। এক সময় এখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ও সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।বর্তমান সরকার সারাদেশকে বাংলাদেশ মনে করে,সারা বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ জাতির জনকের ডাকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল,সুতারাং সারা বাংলাদেশের সুষম উন্নয়নই তাঁর সরকারের লক্ষ। একশ্রেনীর রাজনৈতিক দল ও ব্যাক্তি বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিচরন করছেন, তারা দেশে উন্নয়ন চায় না, অগ্রগতি চায়না,তাঁদের ৫বছরের শাষনামলে দেশ ৫বারই দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, লুটপাট হয়েছিল সরকারের শীর্ষ পয্যায় থেকে নিম্নপয্যায় পয্যন্ত, এটাই বাস্তবতা। তারা ক্ষমতা হারিয়ে মানুষের উপর প্রতিশোধ নিচ্ছে, শুধু মানুষ পোড়াচ্ছে; গুপ্তহত্যা করছে। হত্যা আর ধ্বংস ছাড়া তারা আর কিছুই করতে জানে না । জাতির পিতার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে,তাঁর কন্যার হাতেই দেশ উন্নয়ন অগ্রগতির শীর্ষে পৌঁছে যাচ্ছে। উল্লেখ্য হাসপাতালটি নির্মানশৈলী অত্যাধুনিক এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ। স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশ অভুতপুর্ব উন্নতি সাধন করতে সক্ষম হয়েছে বর্তমান সরকারের বিগত সাত বছরে।অতীতের সরকার সমুহ রাষ্ট্রের এই গুরুত্ব পুর্ন খাতকে শুধু অবহেলাই করেনি, আধুনিকায়নের সামান্যতম পদক্ষেপও গ্রহন করেনি। বরঞ্চ গ্রামের হতদরিদ্র জনগোষ্টির স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার অধিকারের প্রতি লক্ষ রেখে ১৯৯৬ ইং সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেই প্রতি ইউনিয়নে, প্রত্যেক সাবেক বৃহত্তর ওয়ার্ডে একটি করে কমিউনিটি সেন্টার স্থাপনের প্রকল্প মাঝপথে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।২০০৮ ইং সালে জনগনের বিপুল সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে পুনরায় এই প্রকল্প বর্তমান সরকার চালু করে। গ্রামের মা-বোনদের প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিতকরনের জন্য জাতির জনকের কন্যা তাঁর নিজস্ব মেধা থেকে প্রকল্পটি গ্রহন করেছিলেন। তৃনমুলের হতদরিদ্র মা বোনদের প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার মানসে গৃহিত প্রকল্পটি প্রাথমিক অবস্থায় জনমনে তেমন গুরুত্ব বহন না করলেও সময়ের ব্যবধানে প্রকল্পটির কি প্রয়োজন জোট সরকার বন্ধকরে দেয়ার পরই টের পাওয়া গিয়েছিল। উল্লেখিত কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা, হতদরিদ্র জনগোষ্টির ভীড় লক্ষ করলে কারোই দ্বিমত করার কারন নেই প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়ত কতটুকু কায্যকরি ভুমিকা পালন করছে গ্রামীন জনপথে। দেশে বিদেশে শেখ হাসিনার তীক্ন মেধার যুগান্তকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে সর্বমহলে গৃহিত এবং নন্দিত হচ্ছে। প্রকল্পটি বন্ধ করে ৪দলীয় জোট সরকার শেখ হাসিনার প্রতি অবজ্ঞাই করেনি গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারকেই অস্বিকার করেছিলেন। অন্যভাবে বলা যায়-গ্রামীন জনগোষ্টির প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছিল শুধু তাই নয়, চিকিৎসা পাওয়ার নাগরীক অধিকার থেকে গ্রামীন জনগোষ্টিকে বঞ্চিত করে সংবিধানকেই অবজ্ঞা করেছিলেন। জাতির জনকের কন্যা ক্ষমতা গ্রহন করে গ্রামের মানুষকে তাঁদের প্রাপ্য সাংবিধানিক অধিকার আবার তাঁদের কাছে ফেরৎ দেয়ার উদ্যোগ গ্রহন করেন। তাছাড়া আরো কতিপয় গুরুত্ব পুর্ন সিদ্ধান্ত সরকার স্বাস্থ্যখাতে গ্রহন করে। ১১ টি সরকারি মেডিকেল কলেজ চালু করা হয়েছে। দারিদ্র সীমার নীছে ১লক্ষ পরিবারের মধ্যে স্বাস্থ কার্ড বিতরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পয্যায়ক্রমে দেশের সব দারিদ্র পরিবারের মধ্যে এই কার্ড বিতরন করা হবে। বার হাজারের বেশি ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হয়েছে।দুইদফায় ২৩ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশের মানুষের ২০০৬ইং সালে গড় আয়ু ছিল ৬৬.৫ বছর, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৭১ বছরের ও বেশী। কল্যান রাষ্ট্রের শর্তানুযায়ী রাষ্ট্রের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা একটি গনতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম শর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। জাতির জনকের কাংখিত সেই কল্যান রাষ্ট্রের পথেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। জাতির জনকের আজীবনের স্বপ্ন বাংলা দেশের কোন মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যাবেনা।জাতির জনকের যোগ্য কন্যা সে লক্ষ বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। জাতি আশাম্বিত অচিরেই জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কাজ দ্রুত শেষ করে তাঁর কাংখিত স্বপ্ন বাস্তবায়নে অভিষ্ট লক্ষে পৌছা সম্ভব হবে। জয় বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখ হাসিনা

অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান,  শিক্ষা,  চিকিৎসা পাঁছটি মৌলিক চাহিদা পুরন রাষ্ট্রের নাগরীকদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার।

মন্তব্যসমূহ