অশুভ চক্রের উত্থান রোধে বঙ্গবন্ধুর অবিনাশী উচ্চারন "জয়বাংলা"কে  "জাতীয় শ্লোগানে"র মায্যদা প্রদানের কোন বিকল্প নেই।
(রুহুল  আমিন  মজুমদার)

জয় বাংলা:---
জয় বাংলা এমন একটি স্লোগান যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে তাদের মুক্তিসংগ্রামে প্রবল ভাবে প্রেরণা যুগিয়েছিল। এর আগে বাঙালি কখনো এত তীব্র, সংহত ও তাৎপর্যপূর্ণ স্লোগান দেয় নি, যাতে একটি পদেই প্রকাশ পেয়েছে রাজনীতি, সংস্কৃতি, দেশ, ভাষার সৌন্দর্য ও জাতীয় আবেগ [১] । জয় বাংলা স্লোগান ছিল মুক্তিযুদ্ধকালীন বাঙালির প্রেরণার উৎস। সফল অপারেশন শেষে বা যুদ্ধ জয়ের পর অবধারিত ভাবে মুক্তিযোদ্ধারা চিৎকার করে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে জয় উদযাপন করত[২]
উদ্ভব:--
কখন কীভাবে এই স্লোগানটির উৎপত্তি হয়েছিল তা সুনিশ্চিতভাবে জানা যায় না। একসূত্রে বলা হয়েছে যে ১৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৬৯ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর মধুর ক্যান্টিনে শিক্ষা দিবস (১৭ মার্চ) যৌথভাবে পালনের জন্য কর্মসূচি প্রণয়নের সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ-এর আহুত সভায় তৎকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আফতাব আহমেদ ও চিশতী হেলালুর রহমান "জয় বাংলা" স্লোগানটি সর্বপ্রথম উচ্চারণ করেন।[৩] তবে ১৯ জানুয়ারি ১৯৭০-এ ঢাকা শহরের পল্টনের এক জনসভায় ছাত্রনেতা সিরাজুল আলম খান তাঁর ভাষণে সর্বপ্রথম "জয় বাংলা" স্লোগানটি উচ্চারণ করেছিলেন বলে প্রচলিত আছে।[৪] বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজে প্রথম "জয় বাংলা" স্লোগানটি উচ্চারণ করেন ৭ মার্চ ১৯৭০-এ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের বিশাল জনসভার ভাষণে।[৫
        "আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চ ১৯৭১ তারিখে প্রদত্ত তাঁর বিখ্যাত সাতই মার্চের ভাষণ সমাপ্ত করেছিলেন "জয় বাংলা" উচ্চারণ করে। এই ভাষণের পর থেকে এটি সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করতে শুরু করে। "[  তথ্য সুত্র:--বিডি উইকিপিডিয়া]

       বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের মুখে প্রথম উচ্চারিত হয় ‘জয় বাংলা’ শব্দটি ১৯৪২ সালে। তার বক্তৃতা এবং লেখায়। আর ১৯৫৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের কর্মীরা প্রথম শ্লোগান হিসেবে তা ব্যবহার করে। যা ছাত্র সমাজের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায় এবং নানাভাবে দেশব্যাপি ছড়িয়ে পড়ে। জয় বাংলার জনপ্রিয়তা তখন অবিসংবাদিত হয়ে উঠে প্রতিটি বাঙ্গালীর মনে প্রাণে।

  আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৭১ সালে।  মুক্তিযুদ্ধের মহা শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এই জয় বাংলা শ্লোগানটি। লাখো শহীদেরা মৃত্যুর আগে শ্লোগানটি উচ্চারণ করে গেছেন-নির্ভয়ে “পাকিস্তান জিন্দাবাদ” শ্লোগানের বিপরীতে।'জয়বাংলা শ্লোগান" রক্ত দিয়ে লেখা ইতিহাসের পাতায় পাতায়। মুক্তিযুদ্ধের প্রবাসী সরকার নিয়ন্ত্রিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্বিকৃত শ্লোগান 'জয়বাংলা'।স্বাধীনতা পরবর্তি চলচ্চিত্র, নাটক, গল্প ও কবিতায় স্বিকৃত 'জয়বাংলা শ্লোগান"। বাংলাদেশের জম্মে জয়বাংলা শ্লোগান, উন্নয়ন অগ্রগতির মহিসোপানে জয়বাংলা শ্লোগান ইনশাল্লাহ সমৃদ্ধ দেশেও উচ্ছারিত হবে মুক্তিযুদ্ধের প্রেরনাদায়ি "শ্লোগান' জয়বাংলা'।

      সম্মানীত পাঠক এবং আজকের প্রজম্মকে আমি শুধুমাত্র একটি বিষয় দৃষ্টি আকর্ষন করে বলতে চাই---"বঙ্গবন্ধুর আগে ব্যাক্তিগত, সংগঠনগত ভাবে বহুবার উচ্ছারিত হয়েছে জয়বাংলা শ্লোগান কিন্তু আপামর বাঙ্গালী সার্বজনীনভাবে উক্ত শ্লোগান গ্রহন করেনি। উল্লেখিত  সুত্রালোকে আপনারাও দেখতে পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধু ' জয়বাংলা "শব্দটি যেদিন মুখে উচ্চারন করেছেন সেদিন থেকেই শব্দটি জনপ্রীয়তা পেতে থাকে। শেষ পয্যন্ত ছোট্র এই শব্দটি এত বেশি প্রেরনাদায়ক হয়ে উঠেছিল সমগ্র জাতির মননে--"মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমন, শত্রুর আঘাতে মৃত্যু, আক্রমনের বিজয়, শত্রু নিধন, শত্রু সেনা কতৃক আক্রান্ত হলে তৎক্ষনাৎ শক্তির উৎসে পরিণত হয়ে পালটা আঘাতের 'মারাণাস্ত্রের চেয়েও বহুগুন শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এককথায় বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদি চেতনার সর্ব বিষয়ের উৎসে পরিণত হয়েছিল জয়বাংলা।"

        কোন সে মহাশক্তি ছিলো "জয় বাংলা" শ্লোগানে? কোন সে মূলমন্ত্র ছিলো মহান স্বাধীনতার সেই কালজয়ী "জয় বাংলা" উচ্চারণে? কবে এবং কোথায় কীভাবে ‘জয় বাংলা’ শব্দটির উৎপত্তি হলো? যারা রাজনীতির নামে দলবাজি করেন, দেশ প্রেমের কথা বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক হয়েছেন, ভবিষ্যতেও হবেন, দেশ পরিচালনা করেছেন বা করবেন; তাদের মধ্যে যাদের ভাবনায়  ‘জয় বাংলা’ শব্দটির প্রতি অনীহা ছিল, আছে বা  থাকবে,  অবহেলা ছিল আছে বা থাকবে তাঁরা সবাই মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ বিরুধী, পাকিস্তানের প্রেতাত্বা।
     সাগরসম রক্ত ঢেলে "পাকিস্তান জিন্দাবাদে"র কবর রচনা করে "জয়বাংলা" শ্লোগান প্রতিষ্ঠিত করেছিল সাড়ে সাতকোটি বাঙ্গালী। "জয়বাংলা শ্লোগান সমগ্র বাঙ্গালী জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। জয়বাংলা শ্লোগান শত্রু নিধনের ক্ষেপণাস্ত্র ছিল।পরিশেষে "জয়বাংলা শ্লোগান" মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ গড়ার জাতীয় ঐক্যের প্রতিকে পরিণত হয়েছিল।

     যে মহান ব্যাক্তির মুখে উচ্ছারিত একটি মাত্র শব্দ(জয়বাংলা) ধ্বনি প্রতিধ্বনীত হয়ে সাড়ে সাতকোটি মানুষের রক্তে অনুরণ সৃষ্টি করতে পারে, মুক্তির প্রেরনা খুঁজে পেতে পারে, হাসিমুখে জীবন বিলিয়ে দিতে পারে; সেই মহান ব্যাক্তি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান প্রশ্নে বিতর্ক; মানবসৃষ্ট সকল মারাণাস্ত্রের চেয়ে কোটি গুন শক্তি সম্পন্ন "ক্ষেপনাস্ত্র জয়বাংলা স্লোগান" নিয়ে বিতর্ক----'ইহাও কি প্রজর্ম্ম থেকে প্রজর্ম্মান্তরে মেনে নিতে হবে?'
 
   ' বর্তমান প্রজন্ম তাঁদের উত্তরসূরিদের স্বাধীন দেশের মাটিতে বাঁচার মত  বাঁচতে দেয়ার,স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়ে বিশ্বদরবারে মাথা উচু করে দাঁড়াবার ক্ষেত্র  সৃষ্টি করে দিতে নৈতিকভাবে এবং  প্রথাগত,   দায়বদ্ধ।যেমনি আমাদের সুখ শান্তি, সমৃদ্ধির জন্যে, অনন্তকালের পরাধীনতা  থেকে মুক্ত করার লক্ষে আমাদের পুর্ব প্রজম্ম বিশ্বের এযাবৎকালের শ্রেষ্ঠ "বিসর্জন"  দিয়ে, বাঙ্গালী জাতিকে অনন্তকালের জন্যে গৌরবের অধিকারি করে দিয়ে গেছেন।বাংলাদেশ, বাঙ্গালী জাতিকে অনন্ত, অসীমকালের  ঋনের জালে বন্দি করে গেছেন। তাঁদের রচিত বাংলাদেশের আবহাওয়ায় মুক্ত নি:শ্বাস নিতে পারায় আমরা বর্তমা প্রজর্ম্মও উত্তর প্রজম্মের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি, উন্নত জীবনের ভিত্তি রচনা করে, শহীদের রক্তের ঋন শোধের নৈতিক দায়িত্বে আবদ্ধ হয়ে গেছি।
      বর্তমান প্রজম্মের উক্ত ঋনশোধের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের নিমিত্তে প্রয়োজন ঐ আদর্শই অনুসরন। "যাতে মৃত্যুর পুর্ব মুহুর্তেও  বলতে পারি---"আমার সমগ্র জীবন, শক্তি, মেধা, মনন ব্যয় করেছি  এমন একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্যে যে আদর্শ ধারন করে সাড়ে সাতকোটি মানুষের মুক্তির জন্য আমার পুর্ব প্রজম্ম জাতির শ্রেষ্ঠ গৌরব "মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করেছিল।" সেই আদর্শটি হচ্ছে মুজিবাদর্শ। যে আদর্শ ধারন করে প্রায় অর্ধশত বছর আগে ১৯৭১ ইং সালে  সাড়ে সাত কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল।ফলশ্রুতিতে ত্রিশলক্ষ মানুষ অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিল, পৌণে চার লক্ষ মা-বোন তাঁদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ "নারীত্ব" বিসর্জন দিয়েছিল, নির্যাতীত হয়েছিল।

       অশুভ শক্তি ৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট শুধুমাত্র ব্যাক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে নাই। তাঁরা সেদিন বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতাকে হত্যা করেছিল।মুক্তি যুদ্ধকে হত্যা করে পাকিস্তানী প্রেতাত্বার জম্ম দিয়েছিল।  ১৫ই আগষ্ট  সেদিনটিতে আর একটি শ্লোগান জম্ম দিয়েছিল অশুভ শক্তির ভাড়াটিয়া ঘাতক চক্র  "বাংলাদেশ জিন্দাবাদ"।

      ১৫ই আগষ্টের আগে হাজার বছরের বাঙ্গালী ইতিহাসে "বাংলাদেশ জিন্দাবাদ" শব্দটি ছিলনা, পাকিস্তান জিন্দাবাদ ছিল। যদিও বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলতে বাংলাদেশের গুণগানই গাওয়া হয়। তবে এ শ্লোগানের উৎপত্তি হয় খুনী, বদমাইশ কালো সানগ্লাস পরিহিত মীর জাফরের উত্তরসূরি মেজর জিয়া, মোস্তাকদের হাতে। এ শ্লোগানের উৎপত্তি হয় জয় বাংলা শ্লোগানের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টির লক্ষে। এ শ্লোগানের উৎপত্তি হয় বাংলাদেশের প্রতি ঘৃণা জম্ম দিতে। এ শ্লোগানের উৎপত্তি হয় মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টির লক্ষে। এ শ্লোগানের জন্ম হয়েছে নষ্টামির মধ্য দিয়ে।এই শ্লোগানের জম্ম হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের রক্তের হোলিখেলার মাঠে।'পাকিস্তান জিন্দাবাদের' সাথে হুবহু সামঞ্জস্য রেখে 'বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, ভুট্রোর স্থলে জিয়া, টিক্কার স্থলে ডালিম, ইয়াহিয়ার স্থলে মোস্তাকের নেতৃত্বে।

        ১৫ই আগষ্ট ১৯৭৫ ইং সালের ভোর রাতে বাংলাদেশ বেতার শব্দের পরিবর্তন হয়ে রেডিও বাংলাদেশে বার বার খুনী চক্রের ডালিম, ফারুক, মোস্তাক গং দের মুখে "সাধু ও চলিত ভাষার ভীতিকর এলোমেলো ঘোষনা শেষে "বাংলাদেশ জিন্দাবাদ" জাতিগত বিভক্তির শ্লোগান শুনতে পেয়েছে বাংলাদেশের মানুষ। জম্মেই যে শ্লোগান রক্তের বন্যার স্বাদ নিয়ে জম্মেছিল বিভক্তির প্রতীক হিসেবে, বিভেদের চিহ্ন হিসেবে আজ তা দানবের রুপ ধারন করেছে।
   
      আজকের অনৈক্য, অপসংস্কৃতি, নীতি-আদর্শহীন দল, দলনেতা, জঙ্গীবাদের উত্থান, হত্যা, ঘুম, আগুন সন্ত্রাস সবকিছুর মূলে "বাংলাদেশ জিন্দাবাদ শ্লোগান"।"বাংলাদেশ জিন্দাবাদ রক্তে ভেজা দেশদ্রোহি চেতনা'র প্রতি মীর জাফরের বংশধরদের যতটুকু প্রেম, প্রীতি ভালবাসার উৎগীরন  ঘটে ঠিক  ততটাই স্বাধীনতার মূলমন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের মহাশক্তি ‘জয় বাংলা’ শব্দটির অপমান, অবহেলা, অবজ্ঞা, পরিত্যাজ্যতার নিম্নমূখি হতে থাকে।

     একটি স্বাধীন দেশের "জাতীয় শ্লোগান" সে দেশের ঐক্য ও সার্বভৌমত্বকে সমুন্নত রাখে। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে, উজ্জীবিত করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। প্রগতি ও কল্যাণের পথে, উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে,  দুয্যোগ, দুর্বিপাক পাড়ি দিতে, ভয়কে জয় করার সাহস যোগাতে সাহায্য করে। স্বাধীনতা অর্জনের ৪৬ বছরের যাত্রায়ও আমরা সেই মহাশক্তি ‘জয় বাংলা’ কে বুকে ধারণ করতে পারিনি? পারিনি আজও "জয়বাংলা শ্লোগান"কে "জাতীয় শ্লোগান" হিসেবে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে এবং প্রতিষ্ঠা করতে।

       প্রিয় পাঠক বন্ধুগন, "মুজিব আদর্শ প্রতিষ্ঠায় নতুন করে শফথ নিতে হবে বর্তমান প্রজম্মকে।'নতুন করে এই জন্যই বলছি---"দীর্ঘ একুশ বছর জাতিকে অশুভ শক্তি মুজিবাদর্শ অনুসরনে বিচ্যুত রেখে বিভ্রান্ত করেছে। বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞান ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার যুগেও অশুভশক্তির সম্মিলীত জোট তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে জাতিকে পিছনের অন্ধকার যুগে টেনে নিতে"।

      অশুভ শক্তির উত্থান রোধে এইমহুর্তে প্রয়োজন--"বাঙ্গালী জাতিসত্বার উম্মেষকারি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান এবং "জয়বাংলা" স্লোগান রাষ্টের সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠার চলমান  "সংগ্রামের তিব্রতা' বৃদ্ধি করা। মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণার উৎস, শক্তির উৎস, অমর, অবিনাশী জাতীয় ঐক্যের মুলমন্ত্র "জয়বাংলা" পবিত্র সংবিধানে সংযোজন করে "জাতীয় শ্লোগান" এর মায্যদায় অধিষ্ঠিত করার নিয়ন্তর সংগ্রামে বর্তমান প্রজম্মকে অবতিন্ন হওয়া।"

     জাতিয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে জাতির পিতার সমান্তরালে অর্থাৎ  "জয়বাংলা----জয়বঙ্গবন্ধু" হোক জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার মুলমন্ত্র। মহান নেতার অবিনাশী আদর্শ অনুসরন এবং রাষ্ট্রীয় সর্বস্তরে বাস্তবায়ন করার সংগ্রামের দৃড সংকল্প গ্রহনই কেবলমাত্র ইহা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রকে বাধ্য করা সম্ভব।
ruhulaminmujumder27@gmail.com
"জয়বাংলা         জয়বঙ্গবন্ধু"

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg