সাতখুনের মামলার রায়----" সরকারের  আইনের শাষন প্রতিষ্ঠিত করার অঙ্গিকার পূরণে যুগান্তকারি দৃষ্টান্ত"।
        (রুহুল  আমিন  মজুমদার)
-
          নি:সন্দেহে বাংলাদেশের এযাবৎ সংঘটিত লোমহর্ষক, চাঞ্চল্যকর, দেশে বিদেশে আলোচিত হত্যাকান্ড গুলীর মধ্যে নারায়ন গঞ্জের ৭খুনের ঘটনাটি অন্যতম না হলেও একটি।সরকারের প্রশাসন যন্ত্র, আইন শৃংখলা বাহিনী এবং পাবলিক সহযোগে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় হত্যাকান্ড গুলির মধ্যে ১৫ই আগষ্ট, ২১ শে আগষ্ট, জেল হত্যা, কিবরিয়া হত্যা, আহসান উল্যা মাষ্টার হত্যা, চট্রগ্রামে শেখ হাসিনাকে হত্যা প্রচেষ্টায় সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের হত্যা,  উদিচি হত্যাকান্ড, রমনা বটমুলে হত্যাকান্ড গুলি অন্যতম হলেও তখনকার সরকার প্রত্যেকটি হত্যাকান্ডকে ধামাচাপা দিয়ে ইতিহাসে কালোধ্যায় সৃষ্টি করেছিল।
   দেশের বিভিন্ন সেনাসদর সমূহে নাটকীয় অভ্যুত্থানের অজুহাতে অগনিত মেধাবি তরুন সেনা কর্মকর্তা হত্যা সংগঠিত হলেও কোন হত্যাকান্ডের অদ্যাবদি তদন্ত পয্যন্ত হয়নি।আনসার সদর দপ্তরে তাঁদের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষে সংগঠিত হলে তাঁদেরকে 'আনসার বিদ্রোহে''র নামে সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীর যুগৎপত গুলি ও বোমা হামলার মাধ্যমে নির্বিচারে হত্যার ন্যাক্কারজনক ইতিহাসও এদেশে সংগঠিত হ'তে দেখা গেছে। যদিও অনেকগুলি প্রশ্নের মধ্যে একটি প্রশ্নও করা হয়--"আনসার বাহিনীর ন্যায় গুলি,বন্দুকহীন একটি বাহিনী সত্যিকার অর্থে বিদ্রোহ যদিও বা করে থাকে- সেই বিদ্রোহ কতদিন  পয্যন্ত তাঁরা চালিয়ে যেতে সক্ষম ছিল।"

    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৭৫ ইং সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর দীর্ঘ একুশ বছর অপ-প্রচারের শিকার হয়ে দেশ ও জনগনের সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।বিরুধী দলে থেকেও সেনা শাষিত সরকারের সামরিক আইন প্রত্যাহার থেকে শুরু করে--স্বৈরাচার সরকার, আইনের শাষন প্রতিষ্ঠা, জনগনের মৌলিক অধিকার, ব্যাক্তি ও বাক স্বাধীনতা,সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা, সভা সমাবেশের স্বাধীনতা, তত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা, ভোট ও ভাতের অধিকার, সর্বশেষ চারদলীয় জোট ও তত্ববধায়ক সরকারের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার সংগ্রাম অব্যাহত রাখে এবং ২০০৯ ইং সালের সাধারন নির্বাচন দিতে বাধ্য করে। বাংলাদেশকে সত্যিকারের গনতন্ত্র, উন্নয়ন, মৌলিক অধিকার,কল্যান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, আইনের শাষন প্রতিষ্ঠা, গনতন্ত্রের ধারায় ফিরিয়ে আনতে গিয়ে বহু নেতাকর্মীকে রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে হয়েছে,অনেক নেতাকর্মী সরকারের পৃষ্টপোষকতায় হত্যা, গুমের শিকার হয়েছে।

      অবশেষে ২০০৯ইং সালের সাধারন নির্বাচনে বিপুল সংখ্যা গরিষ্টতা নিয়ে সরকার গঠন করে।সরকার গঠনের তিনমাসের মাথায় এযাবৎকালের সর্ব বৃহৎ লোমহর্ষক ঘটনা সংগঠিত হয় ঢাকা তৎকালীন  বি, ডি আর সদর দপ্তরে। "ফখরুল-মঈন আহম্মদে"র সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের শাষনামলে বি, ডি আর জোয়ানদের মধ্যে তিলে তিলে  রোপিত বীজ অবশেষে ঘৃনা আর ক্ষোবে রুপান্তরীত হয়। দেশী বিদেশী শক্তির মদদ পেয়ে উক্ত ঘৃনা ও ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ঘটায় তাঁরা সেনাবাহিনীর ৬০/৭০ জন মেধাবি কর্মকর্তাকে হত্যার মাধ্যমে।নতুন সরকারের জন্যে উক্ত বিদ্রোহ দমন এবং বিদ্রোহে অংশ নেয়া সদস্যদের বিচারের মুখামুখী করা, ষড়যন্ত্রকারি, ইন্দনদাতা  খুঁজে বের করে তাঁদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা, নি:সন্দেহে কঠিন একটি কাজ ছিল। শেখ হাছিনার সরকার সকল প্রকার রক্তপাত এড়িয়ে উক্ত ঘটনা অত্যান্ত স্বাভাবিক এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে  নিয়ন্ত্রন করেন এবং কি ঘটে যাওয়া মানবতা বিরুধী কর্মকান্ড ও সেনা কর্মকর্তা  হত্যার বিচার একাধিক দেশী বিদেশী  তদন্ত দলের দেয়া প্রতিবেদনের আলোকে দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল গঠনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়াও সমাপ্ত করে শাস্তির ব্যবস্থা করেন।

      বাংলাদেশের জনগনের আকাংক্ষীত     আইনের শাষন প্রতিষ্ঠার লক্ষে '৭১ইং সালের মানবতা বিরুধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া একাধিক আন্তজাতিক মানসম্পন্ন ট্রাইবুনাল গঠন করে বিচার ককায্য শুরু করে বর্তমান সময় পয্যন্ত চলমান রেখেছেন। ইতিমধ্যে শীর্ষ অপরাধী কয়েকজনের সাজা বাস্তবায়িত হয়েছে। '৭৫ ইং সালের বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার ৯৬ইং সালে আওয়ামীলীগ সরকার শেখ হাছিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করার পর শুরু করে নিম্ন আদালতের রায় পয্যন্ত চালিয়ে নিতে পেরেছিল।২০০১ ইং সালে সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষা না হওয়ায় উক্ত রায় কায্যকর করা সম্ভব হয়নি।চারদলীয় জোট সরকার গঠন করলে বিচারক স্বল্পতার অজুহাতে উক্ত বিচার কায্যক্রম দীর্ঘ পাঁছ বছর অঘোষিতভাবে স্থগিত করে রাখে।২০০৬ ইং সালে সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকার উচ্চ আদালতের রায় সাপেক্ষে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারিদের সাজা কায্যকর করে।'

১৯৯৬ইং সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে শেখ হাছিনা  সরকার গঠন করে শুধুমাত্র জাতির জনক এবং তাঁর পরিবারের হত্যাকান্ড নয় জেলখানার অভ্যন্তরে চার জাতীয়নেতা হত্যা সহ পরবর্তী প্রায় সকল চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের বিচার কায্যক্রম শুরু করে।অধিকাংশ মামলা নিস্পত্তি হলেও  কিছু মামলা এখনও চুড়ান্ত নিস্পত্তির অপেক্ষায় উচ্চ আদালতে রয়েছে। আশা করা যায় প্রত্যকটি মামলার বিচার সম্পন্ন হবে এবং হত্যাকারি শাস্তির আওতায় আসবে।দীর্ঘ বিরতির কারনে অনেক মামলার সাক্ষী  হয় মৃত্যু বরন করেছে নয়তোবা বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় বেশীরভাগ মামলার আলামত পয্যন্ত ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে অথবা সুরক্ষিত আদালত কক্ষ হ'তে মামলার ডকেট সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বাদী-সাক্ষী, আলামত ইত্যাদি সংগ্রহ করে মামলাগুলী প্রমান করা সত্যি এক কঠিন ব্যাপার।তারপরও আইনের শাষন প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকার পুরনে সরকার যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে প্রত্যকটি মামলা নিস্পত্তির উদ্যোগ গ্রহন করেছে।

      ২০১৪ইং সালের সাধারন নির্বাচনের পর সরকারি বাহিনী ও ষড়যন্ত্রকারিদের যোগসাজসে সবচেয়ে বড় ও চাঞ্চল্যকর হত্যা কান্ডটি ঘটে নারায়ন গঞ্জ। সরকারের সবচেয়ে  উন্নত, চৌকস বাহিনী কতিপয় দুস্কৃতিকারীর প্ররোচনায়  সাতজন বিশিষ্ট নাগরিককে ঐদিন একই সাথে অপহরন করে হত্যা করে এবং কি  লাশ ঘুম করে।সাড়া জাগানো হত্যাকান্ড দেশে বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তি সাংঘাতিক ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে। উক্ত ঘটনা তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় ষড়যন্ত্রকারিরা প্রকাশ্য অ-প্রকাশ্য বলতে থাকে-- "হত্যাকান্ডের বিচার সরকার ধামাচাপা দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।" সরকার উক্ত হত্যার বিচার করবেনা বা  করতে পারবে না।আদালত পাঁড়ার ভিতরে বাহিরে আসামী পক্ষের উদ্যত আচার আচরন বিরুধী পক্ষের অভিযোগের সত্যতা অনেকাংশে প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভুমিকা পালন করে। সাধারন মানুষও অনেকাংশে বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছিল হত্যাকারিদের নিশ্চয়ই সরকারের সাথে যোগসাজস রয়েছে।আসামীগন এতবড় ঘটনা করার পরও ছিল স্বাভাবিক কোন কোন ক্ষেত্রে প্রভাব প্রতিপত্তিও দেখা গেছে চোখে পড়ার মতই।

      নারায়ণগঞ্জের র্যব-১১-এর তৎকালীন সদস্যরা অপহৃত সাতজনকে  প্রথমে চেতনানাশক ইনজেকশন দিয়ে  অচেতন করেন। তারপর মুখে পলিথিন পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। সর্বশেষ নদীতে ফেলার সময় লাশগুলোর পেট চিরে দেন তাঁরা। জড়িত র্যব সদস্যদের জবানবন্দিতেই উঠে এসেছে ঘটনার নৃশংসতার বিবরণ।

      অবশেষে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অদ্য  ৭খুনের মামলায় র্যব কর্মকর্তা সহ ২৬ জন প্রভাবশালী হত্যাকারির মৃত্যুদন্ডের রায়ের মাধ্যমে বিচার কায্য সম্পন্ন হয়েছে।সন্দেহ প্রবন সকল পক্ষের মুখে চুনকালি মেখে চাঞ্চল্যকর হত্যার বিচারের মাধ্যমে প্রমান হল বর্তমান সরকার আইনের শাষন প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকার থেকে চুল পরিমানও বিচ্যুত হয়নি। বাংলাদেশকে সভ্য দুনিয়ায় একটি সভ্যদেশ ও জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আইনের শাষন প্রতিষ্ঠা সর্বাজ্ঞে প্রয়োজন।বর্তমান শেখ হাছিনার সরকার প্রভাবশালী রাষ্ট্রের সরকার প্রধান, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সরকার সমুহের "ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কায্যকর একটি অমানবিক শাস্তির বিধান" অজুহাতে "ফাঁসি রহিতকরনের জন্য প্রচন্ড চাপ,দেশের অভ্যন্তরে সম্মিলীত অশুভশক্তির সকল ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে আদালতের দেয়া প্রত্যেকটি সাজা কায্যকর করেছে।বাংলাদেশকে এযাবৎ কাল  চলে আসা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে মুক্ত করার লক্ষে নীজের এবং পরিবারের জীবনহানীকেও তোয়াক্কা করেননি মাননীয় প্রধান মন্ত্রী।তিনি এবং তাঁর সরকার  দৃডতার সাথে আইনের শাষন প্রতিষ্ঠায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন---"তার উৎকৃষ্ট একটি প্রমান নারায়ন গঞ্জে সংঘটিত ৭জন বিশিষ্ট নাগরিক হত্যায় জড়িত সরকারের আইন শৃংখলা বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে এবং কি বিদ্যমান আদালতের মাধ্যমে বিচারকায্য সম্পন্ন করে সাজা নিশ্চিত করেছেন।"
   অতীতের কোন সরকার দেশে আইনের শাষন প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য কোন উদাহরন সৃষ্টি করতে পারেননি যাহা বর্তমান সরকারের আজকের দিনেও একটি বড় উদাহরন স্থাপিত হল ।

            masterruhulamin@gmail.com
              "জয়বাংলা----------জয়বঙ্গবন্ধু"

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg