বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালী জাতির গর্বিত সম্পদ-- "তিনি কোন রাজনৈতিক দল, ব্যাক্তি বা গোষ্টির একক সম্পদ নন।                                  
(রুহুল  আমিন  মজুমদার)

     বঙ্গবন্ধু ধর্ম বর্ণ, ধনী গরীব, সামাজিক, রাজনৈতিক, সরকারি বেসরকারি, প্রাতিষ্ঠানিক,অ-প্রাতিষ্ঠানিক সর্বত্র, সর্বস্তরে,মত ও পথ নির্বিশেষে সকলের। তিনি নির্দিষ্ট কোন রাজনৈতিক দলের অবশ্যই  নন ; তিনি বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের এবং তিনি সার্বজনীন ।এতে কোনপ্রকার বিতর্ক, যুক্তি, তুলনা, সাদৃশ্যতা, উদাহরণ আসতে পারেনা,আসা উচিৎ নয়।
        "যারা সেদিন বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে, ছোট্ট শিশু রাসেল হত্যার সাথে প্রত্যক্ষ বা  পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিল , হত্যার পর ইনুর সাথে যাদের ট্যাঙ্কের উপর দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে উল্লাস করেছিল,এরশাদসহ যারা খুনীদের পূর্নবাসিত করেছিল--" তাদের ও বিচারের আওতায় আনার বিষয়টি নতুন করে ভেবে দেখা দরকার।" আইনের শাষন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গিকারাবদ্ধ বর্তমান সরকার--" চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক  হত্যাসহ সকল হত্যার বিচার ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ গ্রহন করেছে।"জাতিকে বিচার হীনতার সংস্কৃতি থেকে রক্ষা করার শুভ সুচনা করে সরকার সর্বস্তরে স্বস্তি ও শান্তির বাতায়ন প্রবাহমান রাখতে সক্ষম হয়েছে।
           সভ্য দুনীয়ার কোথাও বিচারহীনতার দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া না গেলেও বাংলাদেশে যুগ-যুগান্তর উক্ত সংস্কৃতি রাষ্ট্রীয় পয্যায় লালন করা হয়েছে।এই পঙ্কিলতা থেকে জাতীকে মুক্ত করা ছাড়া সভ্য সমাজ প্রতিষ্ঠার বিকল্প কোন পথ নেই। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা রাজনৈতিক হত্যা হতে পারে কিন্তু তাঁর পরিবারের অন্যান্ন সদস্য সহ কাজের লোকদের হত্যা --'কস্মিনকালেও রাজনৈতিক হতে পারেনা'।
আইনের শাষন প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে শুধুমাত্র হত্যাকান্ডে অংশ নেয়া কতিপয় ব্যাক্তির বিচার অনুষ্ঠিত হলে--'ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলা যায়না'। হত্যার সাথে প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ জড়িত, উস্কানিদাতা, হত্যাকারিদের পুর্ণবাসনকারি, হত্যাকান্ডের বিচার রহিত করে আইন প্রনয়নকারি সহ গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্ন বিষয়গুলিও ভেবে দেখা দরকার। আইনসিদ্ধ তদন্তে যার বা যাদের নাম আসবে তাঁর বা তাঁদেরও বিচার অনুষ্ঠান করা প্রয়োজন---"তবেই বলা যাবে বিচার বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ, আইনের শাষন প্রতিষ্ঠিত।"
      এক্ষেত্রে অনুমিত বিতর্ক এড়াতে প্রয়োজনে দেশীয় তদন্তদলের সমান্তরালে      স্বনামধন্য বিদেশী তদন্তদলকেও সম্পৃত্ত করা যেতে পারে।ঐতিহাসিক সত্য প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে বিস্তৃতকারে তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা গ্রহন বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থেই প্রয়োজন।দেশী বিদেশী সাংবাদিক, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফাঁস হওয়া কুটনৈতিক দলিল দস্তাবেজ, ভারতের পররাষ্ট্র দফতরের সম্প্রতি প্রকাশিত দলিল পত্র ইত্যাদি এখনই একিভূত পুস্তকারে প্রকাশ ও সংরক্ষনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
    বিশ্বের কোন স্বাধীন জাতির একক রাষ্ট্রে জাতির জনক বিরুধী রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব নেই, স্বাধীনতা বিরুধী ব্যাক্তি বা গোষ্টিরও নাগরিক অধিকার নেই।বহু জাতি-গোষ্টি, ভাষাবাসির বিচরন থাকা সত্বেও একিভূত পাকিস্তানে জাতির জনক 'কায়দে আযম মহাম্মদ আলী জিন্নাহ'কে সর্বস্তরে যথাযথ ভক্তি শ্রদ্ধা করার রেওয়াজ প্রচলিত ছিল।
              অথছ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে বাঙ্গালী, বাংলা ভাষাবাসির একক অধিপত্য এবং কি ভুখন্ডগত ভাবে একিভূত দেশ হওয়া সত্বেও জাতিসত্বার উম্মেষকারি, স্বাধীনতার মহা নায়কের নাম বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলীর গঠনতন্ত্রে সংযোজিত নেই।সিংহভাগ রাজনৈতিক দল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফিস কক্ষে জাতির জনকের ছবি শোভা পায়না। এহেন বৈসাদৃশ্যতা জাতি হিসেবে  আমাদের অত্যান্ত হীনমন্য, নিম্নমনা, তাঁবেদার সদৃশ, বিকলাঙ্গ, শংকরতারই  পরিচয় বহন করে। বিশ্বের বিদ্যমান শ্রেষ্ঠ জাতি গোষ্ঠিসমূহের ইতিহাসে এহেন বৈপরিত্য কস্মিনকালেও পরিদৃষ্ট হয়না।
   '৭৫ এ পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ বিরুধী শক্তির রাজনীতিতে পূর্ণবাসন, 'বঙ্গবন্ধু' নামের উপর শাষকশ্রেণীর অ-ঘোষিত সেন্সরশীপ, জাতির জনক ও তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে একতরফা অপ-প্রচার করা হয়েছে। দীর্ঘবছর অর্থনৈতিক বন্ধ্যাত্বের কারনে হতাশাগ্রস্তের সংখ্যা বৃদ্ধিও অন্যতম একটি কারন। বাংলাদেশ এবং বাঙ্গালী জাতির অভ্যুদ্বয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য সম্পর্কে প্রজম্মান্তরে অন্ধকারে রাখার উদ্দেশ্যে সমৃদ্ধ বাঙ্গালী সংস্কৃতি ও কৃষ্টি সম্পর্কীত ছায়াছবি, পত্রপত্রিকা, স্কুলকলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যবইতে স্থান দেয়া হয়নি।গল্প, প্রবন্ধ, কবিতায় এবং কি ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রেও স্থান হয়নি। সম্পুর্ণ রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের  বিকৃত ইতিহাস চর্চায় উদ্ভোদ্ধ করা সহ  উল্লেখিত নানাবিধ কারনে জাতিয়তাবোধ সম্পর্কীত  গর্বের অনুষঙ্গগুলি বিস্মৃত, ম্লান, অ-স্পষ্টকার ধারন করেছে।
      বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি দল কতৃক  গঠিত সরকার। তারচেয়েও বড় কথা জাতির জনকের প্রতিষ্ঠিত দলের নেতৃত্বে গঠিত এবং তাঁরই জৈষ্ঠকন্যার নেতৃত্বে পরিচালিত সরকার। সুতারাং বর্তমান সরকারের নৈতিক দায়িত্ব সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানকে সার্বজনীন করার ক্ষেত্রে অনুমিত বাধাসমূহ দূরীভূত করা।
   শুধুমাত্র অর্থনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে মায্যদাশীল জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করা যাবেনা।অর্থনৈতিক শ্রেষ্ঠত্বের সমান্তরালে জাতীয় কলংক সমূহ দুরীভূত করার পদক্ষেপ গ্রহন ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন।মায্যদাহীন প্রতাপশালী ব্যাক্তি বা গোষ্টিকে সর্বদা মায্যদাবান ব্যাক্তি ও গোষ্টি ভয় করে কিন্তু 'সম্মান, শ্রদ্ধা, ইজ্জত,সমীহ কিছুই করে না'। তদ্রুপ বিশ্বের বিদ্যমান বলদর্পী ধনী রাষ্ট্রকে বিশ্বব্যাপি বিস্তৃত মায্যদাশীল দেশ ও জাতি সমুহ ভয় করে কিন্তু সম্মান, শ্রদ্ধা, ইজ্জত, সমীহ কিছুই করেনা।
       জাতির জনকের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গকন্যা শেখ হাছিনার একান্ত  ইচ্ছা ও স্বপ্ন ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করা।এতদ্বদ্দেশ্যে যথাসাধ্য চেষ্টা ও দিবারাত্র পরিশ্রমের বিনিময়ে দেশব্যাপি উন্নয়নের মহাকর্মযজ্ঞ শুরু করে ইতিমধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নিত করতে পেরেছেন।চেষ্টা ও পরিশ্রমের গুনে দেশ হয়তোবা  উন্নত, সমৃদ্ধ হবে ঠিকই কিন্তু মায্যদাশীল দেশের তালিকায় ঠাঁই পাবে কিনা সময় বলে দিবে।বঙ্গবন্ধু হত্যা,জাতীয় চার নেতা হত্যা, যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্নে জাতি আংশিক কলংকমুক্ত হলেও পূর্ণাঙ্গ কলংক মুক্ত হয়েছে বলা যাবে না।বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার সম্পন্ন হলেও 'বাংলাদেশ ও বাঙ্গালী জাতিকে হত্যা প্রচেষ্টার' বিচার আদৌ সম্পন্ন হয়নি।ব্যাক্তি, পরিবার, সমাজ যেমন কলংক মোচন ব্যাতিরেকে ভদ্র,শুসিল, সভ্য  হয়না তেমনি 'রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রযোজ্য।'
masterruhulamin@gmail.com
  "জয়বাংলা         জয়বঙ্গবন্ধু"

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg