খালেদা জিয়ার ধংসস্তুপে দাঁড়িয়ে "শেখ হাছিনার" সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মান---
          (রুহুল  আমিন  মজুমদার)
বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোট বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেহাল দশা ও অপাক্তেয় হওয়ার পিছনে বহু কারনের মধ্যে দু'টি কারন অন্যতম----
(১)২০০৯ ইং সালের অবাধ ও সুষ্টু নির্বাচনের অব্যবহিত পর হ'তে অদ্যাবদি খালেদা জিয়া এবং তাঁর পরিবারের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ রক্ষার অপচেষ্টায় দল ও জোটকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যবহার।
(২) মুক্তিযুদ্ধে স্বীকৃত বিরুধীতাকারী এবং মানবতা বিরুধী অপরাধে জড়িতদের  রক্ষায় বিএনপি দল ও  জোটকে অ-ঘোষিত ভাবে ব্যবহার।জনগনের উপর আস্থা না রেখে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলে মনযোগি হওয়া। প্রকাশ্যে, অপ্রকাশ্যে, ঘোষিত-অ-ঘোষিত অপ-রাজনীতির কারনে--'দল ও জোটে একদিকে অধিকতর সৎ ও ত্যাগি রাজনীতি মনস্ক নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ব্যাক্তিও দল রাজনীতি বিমূখ হয়েছে অন্যদিকে সরকার বিরুধী মনোভাবাপন্ন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ব্যাক্তি ও দল সরকার বিরুধী আন্দোলনে সমর্থন দেয়নি বা শীর্ষ নেতার অদুরদর্শিতায় আদায় করতে ব্যার্থ হওয়া।
অবশেষে খালেদা জিয়া নিজমূখে স্বীকার করতে বাধ্য হলেন---"বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে-"নেতাকর্মীরা কেউ মাঠে নামেনি।" গতকাল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৩৮তম প্রতিষ্ঠার্ষিকী উপলক্ষে ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিউটে আয়োজিত আলোচনা সভার একপয্যায়ে নেতাকর্মীদের--'খালেদা তোমার ভয় নাই- রাজপথ ছাড়ি নাই, খালেদা তোমার ভয় নাই--আমরা আছি লাখ ভাই" শ্লোগান দিতে থাকলে তাঁদের থামিয়ে--'মুল সত্যটি স্বীকার করে নিলেন'।
তিনি এই প্রসংঙ্গে আরো একটি কঠিন সত্য স্বীকার করে বলেন--"এখন আন্দোলনের কোন প্রয়োজন নেই, এখন কাজ হচ্ছে ভাল ছেলেদের ছাত্র দলে নিয়ে আসা। বস্তির ছেলেপেলে দিয়ে ছাত্রদলের সংখ্যা বাড়িয়ে কোন লাভ হবেনা। আমি নির্বাচন কমিশন সংস্কারে কি প্রস্তাব দিয়েছি--"তোমরা কেউ পড় নাই, মেজর শহীদ জিয়ার জীবনী কেউ পড় নাই।" ছাত্র দলে কোন ছাত্রই নেই--
      একই মঞ্চে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের বিষয়ে আমি শুধুমাত্র একটি কথাই বলতে চাই--"দেরীতে হলেও বেগম খালেদা জিয়া মধ্যরাতের টকবাজদের মুখে চুনকালি মেখে দিয়ে 'সূর্য্যালোকের ন্যায় সত্য কথাটি দল ও জোটের পতনোম্মুখ সময় প্রকাশ করেছেন"। তিনি অকপটে বলেন-'বিগত তিনমাসব্যাপি জোটের ঘোষিত 'হরতাল', 'অবরোধ' আন্দোলন কর্মসূচি প্রতিপালনে মাঠে কোন নেতাকর্মীই ছিল না'। ছাত্রদলে সৎ, ত্যাগি, মেধাসম্পন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া কোন নেতাকর্মীই নেই।যারা আছেন তাঁরা সবাই দুই চারটা ছেলেমেয়ের পিতা। তাঁরা হয় একান্ত সংসার মূখী নয়ত ব্যবসায়ী। প্রথমত: তাঁরা বস্তির ছেলেপেলে ছাত্র দলের নেতা কর্মী পরিচয়ে পরবর্তীতে "পাঁড়া মহল্লার মাস্তান, সন্ত্রাসী,চাঁদাবাজ।"বর্তমানের ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাঁর ঘোষিত নির্বাচন সংস্কার প্রস্তাব এবং মেজর শহীদ জিয়ার জীবনী কেউ পড়ে নাই।
     এখন জাতির নিকট বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে--প্রথমত: --তাঁর স্বীকারোক্তি মোতাবেক "তিনমাস" চারদেয়ালের অভ্যন্তরে সুরক্ষিত প্রাসাদে বসে প্রতিনিয়ত,  দৈনন্দিন ডিজিটাল মিডিয়ায় বিবৃতির মাধ্যমে হরতাল, অবরোধ পালন করার জন্য কারপ্রতি তিনি বা তাঁর মূখপাত্র হুকুম জারি করেছেন?"  যেহেতু দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে ছিলনা-- "কাদের কে  নাশকতা, অরজকতা, আগুন সন্ত্রাস, আগুন বোমা, লুটপাট করার জন্য লেলিয়ে দেয়া হয়েছিল?" প্রত্যহ বিকেলে ডিজিটাল মিডিয়ায়  বার্তা/বিবৃতির মাধ্যমে কাদেরকে ধন্যবাদ জানাতেন!! কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করার জন্যে প্রতিনিয়ত জনগনকেও অভিনন্দিত করেছেন! নতুন নতুন কর্মসূচির ঘোষনা দিয়ে সরকার পতনের প্রতিজ্ঞা সহ আশ্বাস প্রদান  করেছেন তিনি অথবা তাঁর পক্ষে দলের মূখপাত্র !!        বিশেষভাবে পাঠকদের স্বরণ করিয়ে দিতে চাই--"জোটনেত্রী খালেদা জিয়া অদ্যাবদি তাঁর ঘোষিত চলমান হরতাল, অবরোধ প্রত্যাহার করেননি।"
          জাতির নিকট দ্বিতীয় সর্বোচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন--"ছাত্র রাজনীতিকে অছাত্র, মাস্তান, সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দিয়ে শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংসের অপরাধে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা মেজর জিয়াকে মরণোত্তর বিচারের আওতায় সরকার আনবে কি-না?  মেজর শহীদ জিয়া গঠিত ছাত্রদলের ধারাবাহিকতা রক্ষার অপরাধে  সংগঠন হিসেবে বিএনপি, অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল,সাংগঠনিক  নেত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে আইনের আওতায় আনা হবে কি- না? যেহেতু খালেদা জিয়া নীজের মুখে স্বীকার করেছেন-- 'ছাত্রদলে ছাত্র নেই।'
      সংগঠনটি ভুমিষ্টের পর থেকে তাঁদের হাতে লক্ষ লক্ষ ছাত্রের প্রানহানীর ঘটনা ঘটেছে।চর দখলের ন্যায় বছরের পর বছর কলেজ/ বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের হল দখল করে রেখেছে।  অ-ছাত্র কতৃক হল দখলে রেখে নিয়মিত ছাত্রদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটিয়েছে। ছাত্রদলের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টেন্ডারবাজি করেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন মার্কেট সমূহে কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি করেছে।প্রতিবছর ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দের  একাধিক বিদেশ সফর, রাষ্ট্রীয় সফর, শিক্ষা সফর, প্রধানমন্ত্রী/ রাষ্ট্রপতির সফর সঙ্গী, কলেজ/ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যান তহবিলের কোটি কোটি টাকা ছাত্রদলের নাম ভাঙ্গিয়ে বস্তির মাস্তানদের পেটে হজম হয়েছে।সম্পুর্ণ দায় খালেদা জিয়া যেহেতু নীজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন সেহেতু তাঁকে আইনের আওতায় আনা হবে কবে ?"
      মধ্যরাতের সুশীলদের নিকট জাতির জিজ্ঞাসা--"দিনের পর দিন মিথ্যা তথ্য দিয়ে, কথার চাতুয্যে জাতিকে বিভ্রান্ত করার দায় কি আপনারা নিবেন?' আন্দোলন সংগ্রামের জন্য গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সু-শিক্ষিত নেতাকর্মীর প্রয়োজন।দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলের দেশপ্রেমিক নেতাকর্মী ছাড়া কোন রাজনৈতিক দল বেঁচে থাকতে পারেনা। বিএনপি দলের অভ্যন্তরে গনতন্ত্রের অনুপস্থীতি স্বীকৃত--' খালেদা জিয়া ঘোষিত কর্মসূচি পালনের নিমিত্তে রাজপথে কোন নেতাকর্মী ছিলনা।তিনি তাঁর নেতৃত্বের ব্যার্থ্যতা স্বীকার করে পরোক্ষভাবে জাতিকে গনতন্ত্র সুরক্ষার প্রশ্নে ঘোর শংকায় ঠেলে দিয়েছেন।'
        আমরা জানি--বর্তমান আধুনিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে উঠেছে অধিকতর জন কল্যানকর, প্রত্যক্ষভাবে জনগন কতৃক নিয়ন্ত্রিত, জনগন কতৃক শাষিত, স্বচ্ছ, নির্ভেজাল, আবশ্যকীয় জবাবদিহীমূলক, আধুনিক, যুগ উপযোগী 'গনতান্ত্রিক দর্শনের ভিত্তিতে। উল্লেখিত 'গনতান্ত্রিক দর্শনে'র ধারাবাহিকতা রক্ষা,বিকশীত ও প্রাতিষ্ঠানীক ভিত্তি দেয়ার লক্ষ অর্জনের নিমিত্তে কয়েকটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান প্রত্যেক রাষ্ট্রে, সমাজে,  সরকারে থাকা একান্ত কাম্য বা পুর্বশর্ত।
              তম্মধ্যে শক্তিশালী মাধ্যম গুলীর অন্যতম একটি মাধ্যম নিয়মিত মেয়াদান্তে নির্বাচন কমিশন কতৃক সরকারের সর্বস্তরে সকলের অংশগ্রহনে নির্বাচন অনুষ্ঠান।ঘোষিত নির্বাচনে দেশের প্রচলিত আইনানুযায়ী নির্বাচন কমিশনে তালিকাভুক্ত বিদ্যমান রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের স্বত:স্ফুর্ত অংশগ্রহন নিশ্চিত থাকা বাঞ্চনীয়। উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্যে প্রয়োজন একাধিক সমশক্তি সম্পন্ন গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ও জোট।ঐ সমস্ত রাজনৈতিক দলের জন্যে প্রয়োজন সু-শিক্ষিত কর্মীবাহিনী, বুদ্ধিদিপ্ত নেতা, দলীয় মুলনীতি নির্ভর আদর্শ, দলীয় উদ্দেশ্য সাধনের বিস্তারীত বিবরণ সংকলিত গঠনতন্ত্র, নির্দিষ্ট কর্মসূচি সংবলিত লিখিত নির্বাচনী অঙ্গিকার বা মেনিফেষ্টো।
দু:খ্যজনক হলেও সত্য--"বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে আধুনিক, দেশপ্রেমিক, দেশ ও জনগনের কল্যানকামী গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের প্রকট সংকট দেখা দিয়েছে।' এই সত্যটি প্রকট ভাবে পরিদৃষ্ট হয়েছে বিগতদিনে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকারের তিনটি স্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচন সহ তাঁর আগে অনুষ্ঠানেয় জাতীয় সংসদের নির্বাচনে। স্থানীয় সরকারের তিনস্তরেই   বিদ্যমান রাজনৈতিক দল সমূহের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ব্যাতিত অন্যকোন দলের স্বত:স্ফুর্ত অংশগ্রহন পরিলক্ষিত হয়নি। অনুষ্ঠানেয় জাতীয় নির্বাচনেও একই  পরিস্থীতি বিরাজমান থাকায় গনতন্ত্র কক্ষচ্যুতির সম্ভাবনায় অভিজ্ঞমহল, বুদ্ধিজীবি, জাতীর বিবেক বলে পরিচিত সব মহল আশংকীত হয়ে পড়েছিলেন।বিদেশী বন্ধু রাষ্ট্র সমূহের সরকার ও জনগন হতাশ হয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন।
স্থানীয় সরকারের তিনটি স্তরেই সরকার বিরুধীদের হতাশাজনক অংশগ্রহনের ফলে দলহীন নির্বাচিত নির্দলীয় প্রার্থীদের অর্ধেকেরও কম ইউপিতে ও সরকার বিরুধী রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা জিতে আসতে পারেনি।স্থানীয় সরকারের অন্য দু'টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উপজেলা পরিষদে নামকা ওয়াস্তে অংশ নেয়ার কারনে ফলাফল আরো বেশী হতাশাজনক। প্রায় ৬৫ বছরের ইতিহাসে স্থানীয় সরকারের সর্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান জেলা পরিষদের পরোক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও দেশে বিদ্যমান কোন রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহন করেনি।অত্যাচায্য বিষয়টি হচ্ছে--"কোন রাজনৈতিক দল নির্বাচন প্রত্যাখ্যানও করেনি।" এতে-ই প্রতিয়মান হয়--"বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলীর মধ্যে অদ্যাবদি কোনপ্রকারের পরিপক্ষতা বা ম্যাচুরিটি আসেনি।"
জাতীয় নির্বাচনে শক্তিহীন জাতীয় পার্টি সহ আরো কয়েকটি দল অংশ নিলেও বৃহৎ বিরুধী দল ও জোট অজ্ঞাত কারনে অংশ না নেয়ায় নির্বাচন অনেক ক্ষেত্রে প্রহসনে পরিণত হয়।সরকারের বিকল্প ছায়া সরকারব্যবস্থা গড়ে তোলা সরকার বিরুধী রাজনৈতিক দলের গনতান্ত্রিক কৌশলি উপায়। সরকারের গনবিরুধী কায্যক্রমের গঠনমূলক সমালোচনা,আন্দোলন, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ। সরকার এবং সরকারি দলের-"দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দখল, অসম চুক্তি এককথায় দেশও জনগনের স্বার্থ্য বিরুধী কর্মকান্ড জনগনের নিকট তুলে ধরে তাঁদের পক্ষে জনমত সংগঠিত করাই রাজনৈতিক দলের প্রধান কাজ।
দু:খ্যজনক হলেও সত্য--'বাংলাদেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলীর অভ্যন্তরে গনতন্ত্রের উপস্থীতি না থাকায় দলীয় প্রধানের ব্যাক্তি স্বার্থেই দলকে পরিচালিত করতে দেখা যায়'। খমতায় থেকে অবাধ স্বেচ্ছাচারিতা,  দুনীতি মামলা, দখল, প্রভাব প্রতিপত্তির মাধ্যমে অবৈধ কাল টাকা আহরন ইত্যাদি অপকর্মের বিরুদ্ধে নেয়া রাষ্ট্রীয় আইনানুগ ব্যবস্থার মোকাবেলায় প্রচলীত আইনের মাধ্যমে   না করে দলকে ব্যবহার করার সুযোগের সন্ধানে থাকে।এতে জনকল্যানের পরিবর্তে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে দেশ ও জনগনের দু:খ্য দুর্দশা বাড়াতে তাঁদের বিবেকে সাড়া দেয়না।তাঁর সাথে আমাদের দেশের অধিকাংশ নেতা পদপদবি মন্ত্রীত্ব, এমপির নমিনেশনের লোভে উক্ত নেতার পায়ের নীছে পুঁজা দিতে ব্যাস্ত থাকে।
মুলত:  বিদ্যমান সরকার বিরুধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নির্বাচনের প্রতি অনাগ্রহের অনেকগুলী কারনের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি কারন--"নেতৃত্বের অদক্ষতা, রাজনৈতিক জ্ঞানসমৃদ্ধ কর্মীর অভাব, ত্যাগের চেয়ে ভোগবিলাসি নেতাকর্মীর আধিক্য, আদর্শ, উদ্দেশ্য, দর্শনহীন রাজনৈতিক দল জনগনের মানষিক পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়না।রাজনৈতিক দল গুলীর মধ্যে অধিকাংশের মতাদর্শে ভিন্নতা না থাকায়  জনমনে উক্ত দলগুলীর কোন একটির একক প্রভাব ও দৃষ্ট হয়না।যেহেতু নির্বাচক মন্ডলীর দলের প্রতি  আগ্রহ সৃষ্টি হয়না সেহেতু নির্বাচনকারি নেতাও জনপ্রিয় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হ'তে পারেনা।
 জাতীয় ও স্থানীয় নেতারা রাজনীতির গুড় তাৎপয্যের গভীরে প্রবেশ না করে হতাশায় ভোগতে থাকে।  নির্বাচনে অর্থব্যায়কে অ-পাত্রে বিনিয়োগ, অযথা অপ-ব্যায়, নির্বাচনকালীন সময় ব্যায়কে পন্ডশ্রম মনে করতে থাকে। নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দুরত্ব বজায় রাখার নিমিত্তে বিভিন্ন  কৌশল খুঁজতে থাকে। বিকল্প যেকোন ভাবে সহজ পথে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যে রাজনীতি বহির্ভুত পথ অবলম্বন করে। রাজনৈতিক দল ও জোট সমুহের নির্বাচন ভীতি বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়।দায়িত্বশীল গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল এবং সর্বগ্রাহ্য,  নিবেদিত, নির্লোভ, দেশপ্রেমিক, জ্ঞানী, জনপ্রীয় রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের অভাবে চলমান গনতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্র বিকশীত না হয়ে সংকোচিত হওয়ার আশংকা দেখা দেয়।
এমতবস্থায় বর্তমান সরকারের অভিষ্ট লক্ষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আজীবনের লালিত স্বপ্ন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নঘেরা শোষনমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ,  গনতান্ত্রিক সুখী সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ বিনির্মানের স্বপ্ন কন্টাকাকির্ণ হয়ে পড়ে। সম্মীলিত অ-শুভশক্তি রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিনিয়ত বাধার সৃষ্টি করে উন্নয়ন, অগ্রগতি থামিয়ে দেয়ার লক্ষে বিভিন্নমুখী ষড়যন্ত্রের আশ্রয় গ্রহন করে। জাতির জনকের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশররত্ম'শেখ হাছিনার' অভিষ্ট লক্ষ প্রাতিষ্ঠানিক গনতান্ত্রিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত উন্নত, সমৃদ্ধ, আধুনিক, বিজ্ঞান ভিত্তিক, তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর, কৃষি-শিল্পোন্নত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার সম্ভাবনাকে বহুলাংশে হুমকির সম্মুখ্যিন করে তোলে।
এমত:বস্থায় জাতির জনকের কন্যা 'শেখ হাছিনা' দলের অভ্যন্তরে দুষ্টচক্রকে পর্দার আড়ালে ঢেকে, জাতীয় ও আন্তজাতিক ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে, দেশও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে,নীজের এবং পরিবারের জীবন বিপন্ন হওয়ার শতভাগ আশংকাকে তোয়াক্কা না করে-- অসীম সাহষ, ধৈয্যের পরাকাষ্টা প্রদর্শন করে অশুভশক্তির বিরুদ্ধে অসম যুদ্ধে জয়ী হতে সক্ষম হন।এরফলে মানব সৃষ্ট রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক মহা দুর্দিনে তিনি গনতন্ত্রের বৈঠাকে শক্তহাতে ধরে রাখতে সক্ষম হন।
            বেগম খালেদা জিয়া কতৃক স্বীকায্য 'তিনমাস' সম্মিলীত অশুভশক্তি কতৃক পরিচালিত অপ-তৎপরতায় নেতাকর্মীশুন্য রাজপথে-বিরামহীন নাশকতা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, পবিত্র কোরানের হাজার হাজার কপিতে আগুন, ব্যাংক বীমা লুট, স্বর্ণদোকান লুট, আগুন বোমায় জ্যান্ত মানুষকে নিমিষে কাঠকয়লায় রুপান্তর, চলন্ত বাস, ট্রেনে আগুন বোমায় বেসুমার জীবনহানী ও সম্পদহানী, বোমা আগুন তান্ডব চালিয়ে জনজীবন অচল করে দেয়। তাঁদের সফলতা এক্ষেত্রে মধ্যযুগীয় বর্বতাকেও হার মানিয়েছিল।সদাশয় সরকার, বুদ্ধিজীবিগন, সাংবাদিক রাজনৈতিক মহলে উক্ত সময়কে এযাবৎকাল ৪২দিন গননা করে এসেছেন।"খালেদা জিয়া স্বরণ করিয়ে দিলেন ৪২ দিন নয় একনাগাড়ে তিনমাস"। বিস্মৃত বাঙ্গালী জাতি তাঁর উপর বর্ষিত মহাদুয্যোগের দিনগুলীও সঠিকভাবে মনে রাখতে পারেনি।
    উক্ত সময়ে   দৃড মনোবল, আসীম সাহষ নিয়ে জাতির জনকের কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  বঙ্গনেত্রী শেখ হাছিনা যদি মহাপ্রলয় মোকাবেলায় কোনকারনে ব্যার্থ্য হতেন--"তাহলে আজকের এই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, পদ্মা সেতু, পারমাণবিক চুল্লি, সাবমেরিন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, অত্যাধুনিক যুদ্ধ জাহাজ, দ্বিগুন বাংলাদেশ, উন্নয়নের রোল মডেল বাংলাদেশ, মায্যদাশীল আধুনিক বাংলাদেশ, গনতন্ত্রের রোল মডেল বাংলাদেশ যে অভিধায় অভিহীত করিনা কেন,  যে নামেই ডাকি না কেন-- বাংলাদেশ কোথায় পেত?
      বাংলাদেশ ব্যাতীত বিশ্বের অন্য যে কোন দেশের,  যে কোন নেতার ক্ষেত্রে বৈরী এই পরিবেশে এত বিশাল, অগুনতি ও পাহাড়সম কীর্তির অধিকারী হতেন---"সেই দেশ এবং জাতী আ-মৃত্যু তাঁকে মাথায় তোলে রাখতেন।" বাঙ্গালী এতই অ-কৃতজ্ঞ জাতি--"এখনও আমরা তাঁর ছিদ্রান্বসনে ব্যাস্ত থাকি।আমাদের গুটিকতক আবাল নেতা তো সর্বক্ষন চিন্তায় মগ্ন,  কখন সময় ফুরিয়ে যায়-- 'যা কিছু করার, এখনই করা প্রয়োজন'।
         তাঁদের উদ্দেশ্যে আমি একটি কথাই বলতে চাই-- "মহান আল্লাহ যতদিন বঙ্গরত্মের হায়াৎ বরাদ্ধ রেখেছেন, ততদিন ভয়ের কোন কারন নেই।" বাংলাদেশের জনগন গতজীবনে রত্ম হারিয়ে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে--''মায়ের চেয়ে আপন- পৃথিবীতে আর কেউ নেই'। 'মায়ের আদর, ভালবাসা 'মাসী' কখনই দিতে পারেনি, পারেনা।' সুতারাং তাড়াহুড়ার কিছুই নেই-- 'ধৈয্য, সহনশীলতা, একাগ্রতা রেখে জনগনের আপন হতে চেষ্টা করুন, তাঁদেরকে দেন। সময় অনেক লম্বা, পথ অনেক দুর---"পরিবারকে দিয়ে আত্মীয় স্বজন, পাঁড়া প্রতিবেশীকে দিলেও শেষ হবেনা।"
        উপসংহারে শুধু এই টুকুই বলতে চাই-- আগামী প্রজম্ম কৃতজ্ঞচিত্তে শেখ হাছিনার গনতন্ত্রের প্রতি অবিচল আস্থা ও বিশ্বাসের দৃডতা স্বীকার করবে। তাঁদের ইতিহাস চর্চায় শুধুই দেখবে একটি মাত্র নাম স্বর্ণাক্ষরে মুদ্রিত-- বাংলাদেশের জাতির পিতার কন্যা ''শেখ হাছিনা" তিনি শতবছরের ইতিহাসের পাতায় একমাত্র গনতন্ত্রের ধারক, বাহক, পুজারী।একবিংশ শতাব্দির শ্রেষ্ঠ গনতন্ত্রের পূজারী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতির জনকের জৈষ্ঠ কন্যা, গনতন্ত্রের মানসকন্যা, বঙ্গকন্যা 'শেখ হাসিনা'। যার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান নীজের জীবন বিপন্ন করে বাঙ্গালী জাতিকে দিয়েছিলেন ৫৫০০০ বর্গমাইলের স্বাধীন সার্বভৌম  বাংলাদেশ, বাঙ্গালী জাতি কৃতজ্ঞতায় বলতেন "জাতির পিতা"। তাঁর জৈষ্ঠকন্যা  শেখ হাসিনা দিয়েছিলেন--"সুখী,  সমৃদ্ধশালী, তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর,আধুনিক, বিজ্ঞান ভিত্তিক,একলক্ষ বর্গমাইলের অধিক 'ডিজিটাল গনতান্ত্রিক বাংলাদেশ।' কৃতজ্ঞ বাঙ্গালীজাতি তাঁকে সম্মান করে ডাকেন "দেশরত্ম"।
                   ruhulaminmujumder27@gmail.com
                           

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg