বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আসন্ন জাতীয় কাউন্সিল-তৃনমূলের ভাবনা--- ______________________________________ রোজার পর জুলাইয়ের ১০/১১ তারিখে ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতিয় কাউন্সিল এর তারিখ নির্ধারীত হয়েছে।আওয়ামীলীগ- এর কাউন্সিল অধিবেশন মানেই সংস্কার, গতিশীলতা, নতুনত্ব, আধুনিকতা, প্রগতি। প্রত্যেকবারেই চমক সৃষ্টির ধারাবাহিকতা থেকে দলটি বিচ্যুত হয়নি। গঠন তন্ত্রের সংস্কার করে যুগ উপযোগি রাজনীতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করা থেকেও পিছু হটেনি দলটি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুল প্রচলিত একটি কথা প্রায়শ: শুনা যায়, "আওয়ামীলীগ আজ যাহা চিন্তা করে অন্য রাজনৈতিক দল তা দশ বছর পর চিন্তা করে।আওয়ামী লীগ শ্রষ্টার ভুমিকা পালন করে,অন্যরা তা ভোগ করে।" বর্তমান আওয়ামী লীগ এবং জাতির জনকের আদর্শের আওয়ামী লীগের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ বিকশিত হয়েছিল ৬ দফা কেন্দ্রিক স্বাধীনতার আখাংকার বহি:প্রকাশ এবং পশ্চিম পাকিস্তানীদের শাষন শোষনের বাস্তব চিত্রের প্রতিবাদের বীজ থেকে।পক্ষান্তরে বর্তমান আওয়ামী লীগ পুন:জীবিত হয়েছে স্বৈরশাষকদের অগনতান্ত্রিক ফ্যাসিস্ট শাষনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামের ভিত্তি রচনার সফল নেতৃত্বের গুনে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন আওয়ামী লীগের সভাপতি তখন তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিপুল বিজয় অর্জন করেছিল দলটি। তখনই আওয়ামী লীগ দেশের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলের মর্যাদা ও স্বীকৃতি লাভ করেছিল । সত্তরের নির্বাচনের ঐতিহাসিক বিজয় ছিল আওয়ামী লীগের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। এর মধ্য দিয়ে দলটি মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার নৈতিক ও আইনগত ভিত্তি অর্জন করেছিল। ইতিহাস এর অংশ নয়, ইতিহাস তৈরিতে একক এবং অসাধারণ ভূমিকা রেখেছিল আওয়ামী লীগ। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের শাষনভার গ্রহন করে, রাষ্ট্রের সমূদয় কাঠামো গঠন করার প্রাক্কালে সময়ের প্রয়োজন ছিল অবশ্যম্ভাবি। সসস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে দেশের অভ্যন্তরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, শিল্পকলকারখানা, রাস্তা ঘাট,পুলকালভার্ট,ব্যাংবীমা, বাড়ীঘর সবকিছুই ছিল বিধ্বস্ত লন্ডভন্ড।উপরিন্তু যুদ্ধের ফলে সাধারনের নিকটেও মারানাস্ত্রের মজুদ গড়ে উঠেছিল।নয়মাসের যুদ্ধফেরৎ মুক্তিযুদ্ধা, প্রায় পাঁছ লক্ষের কাছাকাছি বিরঙ্গনা মা বোনের পুণ:বাসন, রাজাকারের অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেড়ে নেয়া ইত্যাদি সহজ ব্যাপার ছিলনা কিছুতেই। এরই মধ্যে যোগ হয়েছিল প্রকট খাদ্য ঘাটতি। সব কিছু মিলিয়ে নতুন দেশের নতুন সরকার তড়িৎ সব সামাল দেয়ার সক্ষমতা অর্জনের আগেই যুক্ত হতে থাকে দেশী ও আন্তজাতিক চক্রান্ত।মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি নানাভাবে নতুন সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই আওয়ামী লীগের ওপর চরম বিপর্যয় নেমে আসে। জাতির জনকের জাতিয় ও আন্তজাতিক উজ্জ্বল ভাবমুর্তি থাকা সত্ত্বেও শাসক দল হিসেবে সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে এগিয়ে চলছিল দলটি। সেটা কোনো অস্বাভাবিক ঘটনাও ছিল না। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের শাসনকালটা কোনোভাবেই ভালো সময় ছিল না, থাকার কথাও নয়। ক্ষমতাসীন হয়ে ফুল বিছানো পথে হাঁটার সুযোগ কিংবা সৌভাগ্য আওয়ামী লীগের হয়নি। জাতীয় ও আন্ত: র্জাতিক ক্ষেত্রে বিরোধী ও বৈরী শক্তিকে মোকাবেলা করে, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দেশীয় ও আন্তজাতিক শক্তির গোপন-প্রকাশ্য ষড়যন্ত্র, অন্তর্ঘাত-নাশকতা মোকাবেলা করে জাতীয় পুনর্গঠনের কঠিন কাজটি তখন আওয়ামী লীগকে করতে হচ্ছিল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে। সাফল্য ব্যার্থতার খতিয়ান টানার সময়ের আগেই নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারকে সম্পুর্ন অবৈধ বিপদগামী সামান্য সংখ্যক সেনাসদস্যের সামরিক অভ্যুত্থানে উৎখাত করে একতরফা অপ-প্রচারের মাধ্যমে জাতির জনকের পরিবার ও আওয়ামী লীগের ভাবমুর্তি জাতিয় ও আন্তজাতিক পয্যায়ে ক্ষুন্ন করতে থাকে কুচক্রি মহল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে ইতিহাসের চাকা উল্টোপথে ঘোরানোর অপচেষ্টা শুরু হয়। বঙ্গবন্ধুর পর তার চার রাজনৈতিক সহযোগীকে জেলখানার ভিতর হত্যা, জেলা-থানা পয্যায় গুপ্ত হত্যা, সেনাবাহিনীতে মুক্তিযুদ্ধা সেনাকর্মকর্তা নিধন, প্রশাসনের অভ্যন্তরে আওয়ামী ভাবধারার কর্মকর্তা কর্মচারিদের বিনা অজুহাতে চাটাই, প্রগতিমনা লেখক সাহিত্যিক সাংবাদিকদের নিগৃহিতের ফলে সর্বস্তরে আওয়ামী শুন্যতার সৃষ্টি করে।জাতির জনকের বিশ্বস্ত সহচরদের হত্যা, মামলা ব্যতিরেকে জেলে প্রেরনের কারনে চরম নেতৃত্ব সংকটে পড়ে আওয়ামী লীগ। দলটি আবার কোনো দিন একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে কিনা, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে আসবে কিনা, পুন:রায় রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে পারবে কিনা– ইত্যাদি চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল জনমনে। পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে ষড়যন্ত্রিরা খুব জোরেশোরেই প্রচার করতেন আওয়ামী লীগ মুসলিম লীগের চেয়েও খারাপ অবস্থায় পৌছে গেছে। পকিস্তান প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিয়েছিল মুসলিম লীগ কিন্তু পরে পাকিস্তানের রাজনীতিতে দলটি ক্রমাগতই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই এবং মুক্তিযুদ্ধে ধারাবাহিক নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। সুতারাং আওয়ামী লীগও দেশ শাষনের সুযোগ পাবেনা, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অপাংক্তেয় হবে দলটি। স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এএইচ এম কামারুজ্জামান এবং মনসুর আলীর মতো নেতাদের হত্যা করে নেতৃত্বের যে শূণ্যতা তৈরি করা হয়েছিল তা পূরণ করা কীভাবে সম্ভব হবে তা নিয়ে শঙ্কা ও সংশয় দেশব্যাপিতো ছিলই, খোদ মধ্যম সারির আওয়ামী নেতাদের মধ্যেও ছিল। উধ্বতন নেতারা যদিও দল ছেড়ে যাননি কিন্তু দলীয় শীর্ষ পদের নেতৃত্ব নিয়ে কয়েকভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। মধ্যম ও তৃনমুলের নেতারা, এবং কি মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশও দলে দলে দলত্যাগ করে জাতির জনকের হত্যাকারিদের সাথে হাত মিলায়। ফলে আওয়ামী লীগের নি:শেষের ধারনাটি জনমনে পোক্ত আকারই ধারন করেছিল। কালক্রমে সব শঙ্কা, সংশয় দূর হয়েছে। আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের সম্ভাবনা নিয়ে যারা সন্দেহ পোষণ করতেন তাদের সব অনুমান ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ভুল প্রমাণ করেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জৈষ্ঠকন্যা শেখ হাসিনা। তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহন করা প্রসঙ্গে বিস্তারিত ব্যাখ্যায় না গিয়ে সংক্ষেপে শুধু এটাই বলি, "শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নবজীবন লাভ করেছিল, শক্তি সঞ্চয় করেছিল, ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ১৯৯৬ ইং সালে শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিল।" তাঁর পরবর্তি ইতিহাস ১৫ ই আগষ্টের বিয়োগান্তক ঘটনাক্রমের চেয়ে কোন অংশেই কম নয়।৯৬-২০০১ ইং সালের সরকার পরিচালনায় আওয়ামী লীগ শতভাগ সফল আমি বলবনা। সফলতার উদাহরন যেমন অনেক দেয়া যায় বিফলতার তেমনি শত অভিযোগ আনা যায়। কোন সরকার শতভাগ সফলতার কৃতিত্বের দাবী করতে পারেনা।বিশ্বের কোন রাষ্ট্রের রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিত রাজনৈতিক দল কোন কালেই শতভাগ সফল এমন দাবী করেওনি। কিন্তু ২০০১ ইং সালে ক্ষমতা পরিত্যাগের ঘন্টা খানেকের মধ্যে তথাকথিত তত্বাবধায়ক সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনে, 'যে ন্যাক্কার জনক নির্য্যাতনের উদাহরন সৃষ্টি করা হয়েছিল,তাঁর তুলনা শুধুমাত্র ৭১এর হানাদার বাহিনীর অত্যাচার নির্য্যাতনের সঙ্গেই তুলনা করা যায়।আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে তৃনমুলের নেতাকর্মীও নির্য্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘরছাড়া করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে চারদলীয় জোট একরকমের প্রতিরোধহীন একতরফা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যা গরিষ্টতা নিয়ে সরকার গঠন করে।সরকার গঠন করেই আর একদফা নিগৃহিতের উদাহরন সৃষ্টি করে জোট সরকার।প্রথম দফায় জামাত বিএনপি -শিবির মিলিত নির্য্যাতন করলেও দ্বিতীয় দফা নিয্যাতন শুরু করা হয় সরকারি পৃষ্টপোষকতায়। ক্ষমতায় বসেই জোট সরকার যার্ব গঠন করে সাথে 'পুলিশ ও বিডি আরের সংযোগ' ঘটিয়ে নাম দেয়া হয় 'যৌথ অভিযান'। নতুনত্বের কারনে জনমনে উল্লেখীত অভিযানের ব্যাপারে ভীতির সঞ্চার করে।শুরু করে আওয়ামী নিধন, তথাকথিত 'ক্রস ফায়ারের 'নতুন শব্দ" আবিস্কৃত করে জোট সরকার। সরকার কতৃক জনগনকে হত্যা করার আইনসিদ্ধ অভিনব একনাম 'ক্রস ফায়ার'। তাঁর আগে ৯১ইং সালে বিএনপি জামায়াতের সমর্থনে সরকার গঠন করার তিন মাসের মাথায় কোন প্রকার ইমার্জেন্সি ঘোষনা ছাড়াই তথাকথিত "ক্লিন হার্ট অপারেশনের" নামে সেনাবাহিনী নামিয়ে অকাতরে হত্যা, গুপ্ত হত্যা, এনকাউন্টারের অজুহাতে হত্যা করে আওয়ামী শুন্য করার চেষ্টা করা হয়। সেনাবাহিনী কতৃক ধৃত হওয়ার সাথে সাথে মৃত্যু নিশ্চিত করে বলা হতে থাকে 'হার্ট এটাকে' মৃত্যু হয়েছে।কত সংখ্যক নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল তার পরিসংখ্যান আদ্যবদি সরকারি তরফ থেকে জানানো হয়নি।'৭১ এর ২৫ শে মার্চ রাতে বাংলার মানুষের উপর এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপর পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কতৃক পরিচালনা করা হয়েছিল --"অপারেশন সার্চ লাইট"। স্বাধীন দেশের সরকার কতৃক পরিচালনা করা হয় 'অপারেশন ক্লিন হার্ট।' আওয়ামী নিধনের স্বাধীনতা বিরুদ্ধ শক্তির দ্বয়ের মধ্যে কি অদ্ভুত মিল --!! আজকে যারা জঙ্গিদমনে যৌথ অভিযানের বিরুধিতা করছেন-তাঁদের দ্বারাই 'আইন সিদ্ধ রাষ্ট্রীয় মানুষ হত্যা'র তথাকথিত 'ক্রস ফায়ার' সংস্কৃতি চালু হয়েছিল। বর্তমান সরকারের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে 'কান্নাকাটি 'শুরু করেছেন বেগম জিয়া এবং তাঁর নেতৃত্বের অন্যরা।পাঁপ বাপকেও ছাড়েনা, তিনি যে তাঁদের 'রক্ষক' নীজেই প্রমান করে দিলেন।এই কারনেই জনগন অনেক আগেই তাঁর নাম রেখেছেন 'জঙ্গীমাতা খালেদা'।" মুলপ্রসঙ্গে আসি, ২০০১ ইং সালের পর কয়েকদফা শেখ হাসিনাকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়।বাংলাদেশের কোথাও আওয়ামীলীগকে মাঠেঘাটে দাঁড়াতেও দেয়া হয়নি।এবং কি জননেত্রী শেখ হাসিনাকেও প্রত্যেক জেলা উপজেলা সফরে বাধা প্রদান করা হয়েছিল।তাঁর নীজ জেলায় জনসভাস্থলে পয্যন্ত ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল তাঁকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে। বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে শেখ হাসিনার বিচক্ষনতায়, "গনতান্ত্রিক দেশে অগনতান্ত্রিক রীতি, "তত্বাবধায়কে'র নীতি পুর্নাঙ্গ বাস্তবায়ন করে 'খালেদা জিয়ার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চক্রান্ত'কে রুখে দিতে সক্ষম হন।খালেদা জিয়ার ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখাকে প্রতিহত করতে গিয়ে আন্তজাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয় বাংলাদেশকে। মাত্র নির্বাচনের জন্য গঠিত তিন মাসের সরকার- দুই বছর বাংলাদেশের জনগনের উপর চেপে বসে,শুধু তাই নয় ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার বহুবীদ ষড়যন্ত্রেও লিপ্ত হয়।শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের মানুষের অনড় অবস্থানের কারনে আন্তজাতিক ষড়যন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য হয়, শেষাবদি সাধারন নির্বাচন ঘোষনা করে শেখ হাসিনাকে 'জেলমুক্তি'দিতে বাধ্য হয়। জননেত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষনতা,অপরিসিম ধৈয্য, রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ঘোষিত নির্বাচনে নিরঙ্কুস সংখ্যা গরিষ্টতা পেয়ে সদর্পে বাংলাদেশের ক্ষমতায় ফিরে আসে। ৭০এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগের উত্থান ছিল দেশপ্রেমের আবেগের উত্থান। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০০৮ইং সালের আওয়ামীলীগের উত্থান বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বুঝাপড়ার উত্থান।সুতারাং বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগকে পতন ঘটানো যতই সহজ হয়েছিল- শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগকে পতন ঘটানো ততই কঠিন হবে। ইহা একান্তই সত্য যে,' আবেগের মৃত্যু হতে পারে-আদর্শের মৃত্যু হয়না'। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্ব দল এবং দেশকে যে উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল- তাঁর কন্যা দেশরত্ম শেখ হাসিনার নেতৃত্ব-সে উচ্চতার মাত্রা কোন অংশেই কমেনি। বরং অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামীলীগ কতৃক সরকার পরিচালনা দৃশ্যত উন্নত, আধুনিক ধ্যান ধারনায় পরিপুষ্ট। জাতিয় ও আন্তজাতিক পয্যায় দল এবং দেশ স্বাধীনতার পরে যে কোন সময়ের চেয়ে ভাল অবস্থানে আছে। উপসংহারে বলতে পারি, এবারের আওয়ামী লীগের জাতিয় কাউন্সিল- অন্য যে কোন সময়ের কাউন্সিল অধিবেসনের চেয়ে গুনগত, রাজনৈতিক, সরকার পরিচালনা, দলের নেতৃত্ব পরিবর্তনে আলাদা আবেদন সৃষ্টি করবে।দলের গঠনতন্ত্রেও আসবে সুদুর প্রসারী চিন্তাচেতনায় পরিপুষ্ট অধিকতর গনতান্ত্রিক সংস্কার। যা দলের নেতাকর্মী ও দেশবাসি আশা করে, "জাতির জনকের কন্যার গতিশীল নেতৃত্বের নিকট"। পরিশেষে দলের কাউন্সিল অধিবেশনের সফলতা কামনা করছি কায়মনে-- 'জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু'

নি:সন্দেহে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বৃহৎ গনতান্ত্রিক সংগঠন।দলটি গনতন্ত্রের চর্চা প্রতিষ্ঠাললগ্ন থেকেতো করছেই,অন্যান্য অগনতান্ত্রিক সংগঠন গুলিকেও ধাক্কা দিয়ে দিয়ে গনতন্ত্রের পথে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে।ফলে দলটিতে অসংখ্য ত্যাগী নিবেদিত নেতাকর্মীর সমাহার ঘটেছে এবং গনতন্ত্র মনা রাজনীতিবীদদের শিক্ষালয়রুপে দলটি  অস্তিত্ব ধরে রাখতে পেরেছে।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg