উত্তরায় বিপুল অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা,ডিএমপির সংবাদ সম্মেলন--জনমনে মেজর জিয়ার ক্ষমতা গ্রহনকে মনে করিয়ে দিল। _______________________________________ ঢাকার উত্তরা থেকে উদ্ধারকৃত অস্ত্র গোলাবারুদের বিশাল চালানটি বিএনপি-জামায়াত-শিবির-জঙ্গীদের বলে অনেকটাই নিশ্চিত তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। দেশে ভয়াবহ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতেই অস্ত্রের চালানটি আনা হয়েছিল। এরসঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত। চক্র দুটি ২০১৩ সাল থেকেই আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে মরিয়া হয়ে আছে। দেশী ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের অংশ হিসেবে অস্ত্রের চালানটির যোগান এসেছে ভারতের নিষিদ্ধ সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব অসমের (উলফা) কাছ থেকে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলে উলফা যাতে আবার বাংলাদেশে তাদের ঘাঁটি ঘাড়তে পারে, তার অংশ হিসেবেই অস্ত্রের চালানটি সরকার বিরোধীদের কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা হয়েছিল। বড় ধরনের অস্ত্রের চালান ধরা পড়ায়, বড় ধরনের নাশকতার হাত থেকে দেশ রক্ষা পেয়েছে। ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন। বলেছেন, এতবড় অস্ত্রের চালান আনার সঙ্গে কোন সাধারণ বা কোন অস্ত্র ব্যবসায়ী চক্রের জড়িত থাকার সম্ভবনা নেই বললেই চলে। স্বাভাবিকভাবেই এতবড় অস্ত্র গোলাবারুদের চালানের সঙ্গে দেশী-বিদেশী চক্র জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট। ধারণা করা হচ্ছে, ২০১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত যারা দেশে নাশকতামূলক কর্মকা- চালিয়ে সরকার উৎখাতের চেষ্টা করছে, তারাই এমন অস্ত্রের চালান আনতে পারে। প্রসঙ্গত, বিএনপি-জামায়াত-শিবির ও জঙ্গীরা দেশব্যাপী তান্ডব চালিয়ে দেশে পরিকল্পিত ভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় দেশে একের পর এক শিক্ষক, ব্লগার, প্রকাশক, লেখক, পুরোহিত, ধর্মযাজক ও পুলিশসহ নারী শিশুদের হত্যা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর বর্বর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের চেষ্টার সঙ্গে যারা জড়িত তারাই দেশে বড় ধরনের নাশকতা চালাতে চালানটি এনেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। অস্ত্রগুলো একেবারেই নতুন। পুরোপুরি প্যাকিং করা। এসব অস্ত্র গোলাবারুদ কোন সময়ই ব্যবহৃত হয়নি। পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেসব অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে উদ্ধারকৃত পিস্তল গুলোর সঙ্গে তার মিল রয়েছে। তবে একটি অদ্ভুত বিষয়, অস্ত্রের গায়ে সিরিয়াল নম্বর থেকে শুরু করে অনেক কিছুই স্থায়ীভাবে খোদাই করে লেখা রয়েছে। শুধু অস্ত্রগুলো কোন দেশের তৈরি তা লেখা নেই। এ থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, অস্ত্রের চালানটির সঙ্গে আন্তর্জাতিক চক্র ও চক্রান্ত জড়িত।কোন সময় অস্ত্র গোলাবারুদ ধরা পড়লে যাতে তৈরিকারক দেশ সম্পর্কে কোনদিনই কোন দালিলিক প্রমাণাদি না থাকে এজন্যই ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরিকারক দেশ অস্ত্রের গায়ে তাদের দেশের নাম লেখেনা। এটি তৈরিকারক দেশের কৌশল। এযাবত ঘটিত নৃশংস হত্যাকান্ডের অধিকাংশ ঘটনারই রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। চালানো ধারাবাহিক অভিযানে এখন পর্যন্ত যে সমস্ত জঙ্গী গ্রেফতার হয়েছে। তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু অস্ত্র গোবারুদ উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র গোলাবারুদের সঙ্গে উত্তরা থেকে উদ্ধারকৃত পিস্তল ও পিস্তলের বুলেটের মিল পাওয়া গেছে। প্রসঙ্গত, কলাবাগানে জুলহাস মান্নান ও তার বন্ধু তনয় হত্যার পর পালানোর সময় পুলিশ এক জঙ্গীকে ঝাপটে ধরে। ওই জঙ্গী তার ব্যাগ ফেলেই চলে যায়। ফেলে যাওয়া ব্যাগে সেভেন পয়েন্ট সিক্স ফাইভ বোরের বিদেশী পিস্তল উদ্ধার হয়।সেই পিস্তল ও বুলেটের সঙ্গে উত্তরা থেকে উদ্ধারকৃত পিস্তল ও বুলেটের মিল রয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর পরই উলফার তৎপরতা বন্ধে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাঁড়াশি অভিযান চলে। বাংলাদেশের মাটি কোন বিদেশী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বা জঙ্গী গোষ্ঠীকে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না বলে ঘোষণা দেয় সরকার। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উলফার ঘাঁটির সন্ধানে সাঁড়াশি অভিযান চালানো অব্যাহত রেখেছে। অভিযানে গুঁড়িয়ে যায় অনেক উলফার ঘাঁটি। একের পর এক আটক হতে থাকে উলফা নেতারা। আবার অনেক উলফা নেতা অভিযানের মুখে পালিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় সেদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়। অভিযানের পাশাপাশি সর্বশেষ গত বছর বাংলাদেশ থেকে উলফার সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেটিয়া ওরফে গোলাপ বড়ুয়াকে তার দুই সহযোগী লক্ষ্মী প্রদীপ গোস্বামী ও বাবুল শর্মাকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করে বাংলাদেশ সরকার। এছাড়াও বিভিন্ন সময় উলফা চেয়ারম্যান অরবিন্দ রাজখোয়া, সামরিক শাখার উপ-প্রধান রাজু বড়ুয়া, পররাষ্ট্র সচিব শশধর চৌধুরী, অর্থ সচিব চিত্রবন হাজারিকা, সংস্কৃতি সচিব প্রণতি ডেকা ও শীর্ষ নেতা পরেশ বড়ুয়ার পরিবারের সদস্যসহ অন্তত ২৮ জনকে ভারত সীমান্ত দিয়ে পুশব্যাক করা হয়। উলফা নেতাদের ভারতে পূশব্যাকসহ বাংলাদেশে উলফার ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিতে আওয়ামীলীগ সরকারের কড়া অভিযানে বাংলাদেশে উলফার নিরাপদ আস্তানা ও নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়ে। এতে উলফা আওয়ামী লীগ সরকারের উপর চরম ক্ষিপ্ত। উলফা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ভারতীয় এই বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনটি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। তারা আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টাকারী বিএনপি-জামায়াত-শিবির ও জঙ্গীদের সঙ্গে হাত মেলায়। বাংলাদেশে ব্যাপক জঙ্গী তৎপরতা ও নাশকতামূলক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের অস্ত্র গোলাবারুদ দিয়ে সহায়তা করতে তৎপর হয়ে পড়ে। যাতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলে উলফা আবার বাংলাদেশে তাদের নিরাপদ ঘাঁটি গাড়তে পারে। এমন আশায় উলফা আন্তর্জাতিক মদদে বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের ব্যাপক উত্থান ঘটানোর চেষ্টা করতে থাকে। তারই অংশ হিসেবে উলফা তাদের সংগ্রহে থাকা জব্দকৃত অস্ত্রের বড় চালানটি তাঁদের চিহ্নিত লোকদের দেয়ার জন্য সেখানে রেখে যায়। এসব অস্ত্রের পুরোটাই জামায়াত-শিবির ও জঙ্গীদের হাতে হস্তান্তর করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে সার্বিক পর্যালোচনায় এবং প্রাথমিক তদন্তে মনে হয়েছে। যেসব অস্ত্রগোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে, এর চেয়েও ভারি অস্ত্র গোলাবারুদ ইতোপূর্বে জামায়াত-শিবির ও জঙ্গী গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়ার নজির রেকর্ড আছে। উদ্ধারকৃত পিস্তলগুলো পেশাদার সন্ত্রাসী ও জঙ্গী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। তবে পেশাদার সন্ত্রাসীদের কাছে এতবড় অস্ত্রের চালান আসার ন্যূনতম কোন সম্ভাবনা নেই। এছাড়া উদ্ধারকৃত বেয়োনেটগুলো নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন জেএমবি সদস্যদের মধ্যে কমান্ডো নাইফ (গেরিলা চাকু) হিসেবে ব্যবহারের নজির আছে। "অভিযানে খালের পানিতে ডুবে থাকা সাতটি ট্রাভেল ব্যাগ উদ্ধার হয়। সেই ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু বোরের ৯৫টি ও ২টি দেশীয় পিস্তল, সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু বোবের ১৯২টি ম্যাগজিন, ১০টি ম্যাগজিন গ্লোক পিস্তল, ২৯৫টি এসএমজির (সাব মেশিন গান) ২৬৩টি ম্যাগজিন, ১০টি বেয়োনেট, ১০৪টি ছোট সিলিন্ডার আকারের বুলেট তৈরির বাক্স, নাইন এমএম (নয় মিলিমিটার) পিস্তলের ৮৪০টি তাজা বুলেট, চীনের তৈরি সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু বোরের ২১৭টি তাজা বুলেট ও অস্ত্র পরিষ্কার করার ক্লিনিং রড ১৮৮টি উদ্ধার হয়।" সম্মানীত পাঠকদের একটু পেছনে যাওয়ার অনুরুধ করছি। ৭৫' এ বঙ্গবন্ধুকে নৃসংশভাবে হত্যা করার পর এদেশ মুলত: স্বাধীনতা বিরুধী দল ও জোট কতৃক শাষিত হতে থাকে।তাঁদের সকলের আমলেই ভারতের সেভেন সিস্টার খ্যাত বিচ্ছিন্নতাবাদি সংঘঠন গুলী বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা এবং টেকনাফ, সিলেট এলাকায় তাঁদের ঘাঁটির সৃষ্টি করে।বার্মার বিচ্ছিন্নতাবাদি নেতার ঘাঁটিও গত কিছুদিন আগে কক্সবাজার এলাকা থেকে আবিস্কৃত হতে দেখা গেছে।প্রতিবেশি দেশ সমুহের বিচ্ছিন্নতাবাদিদের আশ্রয় দেয়ার কারনে সেই দেশগুলিও এযাবৎকাল বাংলাদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদি গোষ্টি গুলিকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে প্রতিশোধ নেয়ার একরকম কৌশল দেখা গেছে। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এই দেশটির জম্মদাতা। জম্মদাত্রী মা'য়ের আন্তরীকতায় আর পালিত মা'সীর আন্তরীকতায় ব্যবধান বুঝিয়ে বলার দরকার হয়না। সুতারাং এই দেশটিকে নিয়ে আন্তজাতিক মহলকে খেলার সুযোগ আওয়ামী লীগ দিতে পারেনা। সঙ্গত কারনে সীমান্তের পার্বত্য এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিশাল বিশাল কয়েকটি ঘাঁটি বাংলাদেশ সরকার ঘুটিয়ে দেয় এবং বিপুল অস্ত্রও গোলাবারুদ উদ্ধার করে। বাংলাদেশের সরকার প্রধান প্রকাশ্য ঘোষনা দিয়েই বিদেশী সন্ত্রাসী গুষ্টি গুলীকে বাংলাদেশের ভুখন্ড থেকে উচ্ছেদ করে।ফলও লাভ করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সঙ্গে তালমিলিয়ে ভারতীয় সরকারও তাঁদের সীমান্ত এলাকায় উপয্যপুরী অভিযান পরিচালনা করা শুরু করে।ফলত: পার্বত্য এলাকার অস্ত্রধারী সন্তু লারমা সহ অপরাপর সন্ত্রাসী গ্রুপ গুলী ভারতে বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থান করতে না পেরে- আওয়ামী লীগের গতবারের শাষনে আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয়।এবারও সুন্দরবন কেন্দ্রিক বেশ কিছু জলদুস্যু গ্রুপ ভারত মহাসাগরে এবং সুন্দরবনের ভারতীয় অংশে অবস্থান করতে না পেরে আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয়েছে। তাছাড়াও বড় একটি রাজনৈতিক বিজয় সম্পর্কে আমি আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।বিজেপি ভারতের মৌলবাদি সংগঠন।শিবসেনা সহ আরো কয়েকটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন উগ্র হিন্দু জাতীয়তা বাদি সংগঠন।ভারতের কংগ্রেস অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল।দলীয় দৃষ্টিকোন থেকে বিজেপি বাংলাদেশের দৃশ্যমান রাজনৈতিক দল সমুহের মধ্যে আওয়ামী লীগের কখনই বন্ধু ছিলনা।তাঁদের দলীয় কাউন্সিল এবং আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন সমুহেও ডেলিকেট পাঠিয়ে তেমন বন্ধুত্বের নিদর্শন রাখার তোড়জোড় কখনই দেখা যায়নি। কমিউনিষ্ট আন্দোলনে বা সমাজতন্ত্রীদের আন্দোলনে আন্তজাতিকতা স্পষ্ট অনুভব করা যায়। তেমনি মৌলবাদিদের আন্দোলন সংগ্রামেও ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে আন্তজাতিকতার রেশ স্পষ্ট দৃশ্যমান।পাকিস্তানের জামায়াত,ভারতের শিবসেনা,বার্মার বোরোদের মধ্যে যোগসাজস মাঝে মধ্যেই টের পাওয়া যায়। পাঠক লক্ষ করেছেন কিনা জানিনা, বিজেপি সর্বশেষ সংখ্যাগরিষ্টতা পেয়ে সরকার গঠন স্পস্ট হতে না হতে বাংলাদেশে বিএনপি জামায়াত সহ আরো কতিপয় দলের কেন্দ্রীয় অফিস সহ সারা দেশব্যাপি মিষ্টি বিতরন এবং মিষ্টিমূখের বন্যা বয়ে যায়।তাঁরা এতবেশি উৎফুল্ল হয়েছিল যে, "মনে হচ্ছিল বিজেপি দিল্লির মসনদ দখল করার আগেই- বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা বিএনপি জামায়াতই পেয়ে গেছে।" তাঁদের আনন্দের এই মহোৎসব অমূলক নয়। ভারতের কংগ্রেসের সাথে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভাল সম্পর্কের অতীত ইতিহাস রয়েছে।কংগ্রেস ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার পর সঙ্গত কারনে তাঁদের বন্ধুদলের যেহেতু ক্ষমতা গ্রহন নিশ্চিত দেখা যাচ্ছিল তখন তাঁদের আনন্দ হওয়ারই কথা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কখনই কংগ্রেসের খমতায় থাকা না থাকার মধ্যে এইরুপ উল্লাস বা বেদনার লক্ষন দেখা যায়নি।ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটেই ভারতীয় জনগনের সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিসমুহের নিবিড় বন্ধন রয়েছে।আওয়ামীলীগের উল্লাস বা বেদনা প্রকাশ করা না করায়, 'এই বন্ধন কখনই চিহ্ন হওয়ার নয়।'ভারতের বিজেপি এবং বাংলাদেশের বিএনপি জামায়াত বিষয়টি সম্পর্কে 'জানেনা বা ধারনায় নেই 'এইরুপ চিন্তা যারাই করেন তাঁরা বোকার স্বর্গেই বাস করেন।' বর্তমানের ভারতীয় খমতাসীন দল বাংলাদেশের আওয়ামীলীগ সরকারকে নি:শর্ত সমর্থন দেয়ার একমাত্র কারন শান্তিতে ভারতের শাষনকায্য পরিচালনা করা। নির্ভেজাল শাষনকায্য পরিচালনায় বিজেপিকে আগামী সংসদ নির্বাচনেও খমতায় আনতে সাহায্য করতে পারে।আর তাই বিজেপি সরকার তাঁদের দলের অভ্যন্তরে মতবেদ থাকা সত্বেও বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।সমর্থনের বিনিময়ে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদি শক্তিসমুহকে নিস্তেজ করে ভারতকে খন্ড বিখন্ডের হাত থেকে রক্ষা করতে পেরেছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের বর্তমান সরকারের ঠিক এই দুর্বলতাকেই বেশ সুন্দর কৌশলি ভাবে কাজে লাগিয়ে সীমান্ত সমস্যা সহ আরো কতিপয় যুগযুগান্তরের বিরাজমান সমস্যা সমাধান করে নিয়েছেন।এক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেয়ানেয়ার কুটনীতি অনুসরন করে শতভাগ স্বার্থ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। বিনাযুদ্ধে সীমান্ত সমস্যার সমাধান কোন দেশ করতে পেরেছে, এইরুপ উদাহরন না থাকা সত্বেও বাংলাদেশ -ভারত হাজার বছরের ঐতিহ্য ভেঙ্গে তাও সম্ভব করতে পেরেছে। ভারত এবং বার্মার নিকট থেকে বিশাল সমুদ্র এলাকা দখলে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। এইক্ষেত্রে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদিদের চেয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থীতিশীলতা ও জঙ্গী গোষ্টি, পাহাড়ি সসস্ত্র গোষ্টি,বঙ্গোবসাগরে জলদুস্যু, সুন্দরবন কেন্দিক সসস্ত্র বাহিনী সমুহের অপ-তৎপরতা বন্ধ করাই আওয়ামী লীগ সরকারের একমাত্র উদ্দেশ্য। তথাকথিত বঙ্গদেশ প্রতিষ্ঠা বা আরাকান সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারকেও এক্ষেত্রে উড়িয়ে দেয়া যায়না।ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উচ্ছেদ করে সরকার বাংলাদেশের সমূহ দুটি বড় বিপদ সংকেত থেকেও দেশকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু কন্যা তাঁর সুদুরপ্রসারী চিন্তাচেতনার ফলপ্রসূ বাস্তব পদক্ষেপ সমুহের উৎকৃষ্ট বাস্তবায়নে শতভাগ সফলতা অর্জন করতে পেরেছেন। সঙ্গত কারনেই বাংলাদেশের উগ্রজঙ্গীগোষ্টি, ভারতীয় জঙ্গীগোষ্টি, যুদ্ধাপরাধী জামায়াত শিবির, ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি,বাংলাদেশের বিচ্ছিন্নতা বাদী শক্তি সমূহের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই অলিখিত ঐক্য হতে বাধ্য।তাঁদের পরস্পরকে সাহায্য সহযোগিতা করার ইতিপুর্বে একাধিক উদাহরন চোখের সামনেই বিদ্যমান রয়েছে।এক্ষেত্রে বিএনপি জামায়াতের ২০০১ইং সালে সরকার পরিচালনার সময়ে দশট্রাক অস্ত্র চট্রগ্রাম বন্দরে আটকের সংবাদ বিস্মৃত হওয়ার কথা নয়।তাঁদের সম্মিলিত সম্যক উপলব্দি স্পষ্ট, "আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকাবস্থায় তাঁদের কারো স্বপ্ন বাস্তবায়ন হওয়ার সুযোগ নেই।বাংলাদেশের ভুখন্ড ব্যবহার ব্যতিরেকে ভারত ও বার্মায় কোনপ্রকার সসস্ত্র আন্দোলনের চিন্তা করা বাতুলতা মাত্র।" সুপ্রীয় পাঠকগন, আপনারা একটু গভীরভাবে চিন্তা করলেই একটা বিষয় পরিস্কারভাবে অনূধাবন করতে পারেন।বিএনপির নেতারা যখনই সরকার উৎখাতের প্রকাশ্য হুমকি প্রদান করে তার কয়েকদিন পরেই- হয় বড় রকমের নাশকতার ঘটনা ঘটে, নয়তো বড় জঙ্গী গোষ্টির অস্তিত্ব ধরা পড়ে।সর্ব শেষ হান্নান শাহর সাতদিনের মধ্যে সরকার উৎখাতের ঘোষনার দুইদিন পরেই এই বিশাল অস্ত্রের চালান দৃশ্যমান হল। তাঁদের অদ্য পয্যন্ত কোন হুমকিই অমূলক নয়-প্রত্যেকবারের হুমকিতে কিছুনা কিছু বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। এই সমস্ত অশুভ শক্তির চক্রান্তের সম্মুখভাগে থেকে বিএনপি রাজনৈতিক সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।জন সম্পৃত্ত আন্দোলন-সংগ্রামে ব্যর্থ হয়ে দলটি অশুভ শক্তির কাঁধে ভর দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসতে চায়। অবশ্য দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানও ঠিক এমন কৌশলি ভুমিকা গ্রহন করেই রাষ্ট্র ক্ষমতায় দৃশ্যমান হয়েছিলেন।তাঁর ব্যতিক্রমতো হতেই পারেনা। ' জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু'

বিএনপি জামায়াত আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন অগ্রগতিতে খেই হারিয়ে জনবিচ্ছিন্ন দলে রুপান্তরীত হয়েছে।তাঁদের অশুভ শক্তির উপর নির্ভর করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।এমতবস্থায় তাঁদের মদদে অশুভ শক্তি দানবাকার ধারন করে জনমানসে ভয়ংকর ভীতি সঞ্চার করেছে।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg