প্রেমিক জেনারেল ও তিনটি ছবি আসিফ জাভেদ | ২৬ মার্চ, ২০১৬ প্রথম আলো। (পাকিস্তানি শাষকদের ইসলাম রক্ষার দমবন্ধকরা এক বাস্তব চিত্র।লেখক পাকিস্তানী একজন চিকিৎসক।বর্তমান প্রজম্মের বন্ধুদের জন্য কপিপেষ্ট করার লোভ সামলাতে পারলামনা।আশা করি সব বন্ধুরা মনোযোগ দিয়ে পড়বেন প্রবন্ধটি) মার্চ ১৯৭১: ঢাকা বিমানবন্দরে নেমে ​ইয়াহিয়া খান বললেন, ‘মেরা দেমাগ মে তো কুছ নেহি আতা’। ছবি: রশীদ তালুকদার১৯৭১ সালের ২৩ মার্চের নওয়া-ই-ওয়াকত-এর সংখ্যাটি আমার মনে যে ছাপ ফেলেছিল, তা এখনো অক্ষত আছে। সেদিন এই পত্রিকায় তিনটি ছবি পাশাপাশি ছাপ হয়—মাঝখানের ছবিটি ছিল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর। ক্যাপশন: ‘পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা’। সে ছবির এক পাশে শেখ মুজিবুর রহমান। সেটির ক্যাপশন: ‘পাকিস্তানের বিশ্বাসঘাতক’। তৃতীয় ছবিটি একজন সেনা কর্মকর্তার। তাঁর বুকে বিচিত্র পদক ও স্মারক। সে ছবির ক্যাপশন: ‘পাকিস্তানের রক্ষক’। ১৯৬০-এর দশকের শেষভাগে আমার মা রাওয়ালপিন্ডিতে ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে যেতেন। আমার মামা ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদমর্যাদার একজন সেনা কর্মকর্তা। তেমন একটি সফরের পরপর আমার মা একটি কৌতূহলোদ্দীপক গল্প বললেন: একদিন আমার মামার বাসায় বেশ উত্তেজনা। বাসায় একজন ভিআইপি আসবেন, ফলে মাকে কয়েক ঘণ্টা নিজের ঘরে থাকার জন্য বলা হলো। অতিথিটি একজন নারী। তিনি কিছুক্ষণ মামার সঙ্গে সময় কাটান। আমার মামা তখন সামরিক আইনের অধীনে বেসামরিক কাজের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি চলে যাওয়ার পর মা তাঁর হাফ ছেড়ে বেঁচে যাওয়া ভাইকে অতিথি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। চাপা কণ্ঠে মামা বললেন, ভদ্রমহিলা এসেছিলেন তাঁর কাছে কিছু আনুকূল্য চাইতে। নারীটির প্রভাব-প্রতিপত্তি ব্যাপক। তাঁকে উপেক্ষা করলে বিপদের সম্ভাবনা আছে। আশা করি, এই লেখা পড়তে পড়তে পাঠকেরা সেই নারীটিকে চিনে ফেলবেন। ইয়াহিয়া খানের আরেকটি ছবি আছে, যা আমি ভুলতে পারব না: তিনি হাসিমুখে নূরজাহানের পাশে হাতে একটি গ্লাস নিয়ে বসে আছেন, গ্লাসে সম্ভবত সুরা। ছবিতে আরও কিছু মানুষ, সবাই বেশ উপভোগ করছেন। অনেক বছর পর নূরজাহান খালিদ হাসানের কাছে স্বীকার করেছিলেন, ইয়াহিয়া খান তাঁর সঙ্গ উপভোগ করতেন। তিনি তাঁকে নূরি বলে ডাকতেন। আর আমাদের মালেকা-ই-তারান্নুম তাঁকে ডাকতেন সরকার। একটি গান প্রেসিডেন্টের খুব পছন্দ ছিল। তিনি তাঁর জন্য সেই গানটি গাইতেন। খালিদ হাসানকে তিনি বলেছিলেন, ‘অতুলনীয় লেখক সাদাত হাসান মান্টো গাঞ্জে ফারিশতে বইয়ে নূরির যে বর্ণনা দিয়েছিলেন, প্রেমিক প্রেসিডেন্টের তা অবশ্যই পড়া উচিত ছিল।’ নূরজাহান যে পটভূমি থেকে এসেছিলেন, তার সব বৈশিষ্ট্যই তাঁর মধ্যে ছিল। তাঁর সবকিছুই ছিল বানানো। তিনি ছিলেন প্রেমবিলাসী, কিন্তু তাঁর মধ্যে পরিশীলন ছিল না। শওকতের মতো উত্তর প্রদেশের কেন্দ্র থেকে উঠে আসা একজন মানুষ কীভাবে তাঁর মতো ঘোর পাঞ্জাবি কৃষক মেয়ের সঙ্গে থাকল, তা বিস্ময়ের উদ্রেক করে। মান্টো এ কথা লেখার ২০ বছর পর ইয়াহিয়া খান যখন নূরির সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, জেনারেল মানেক শ তখন অপেক্ষা করছেন, তুষার পড়ে হিমালয়ের পথ কখন বন্ধ হয়ে যাবে, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে দক্ষিণের দিকে চীন আর সৈন্য পাঠাতে পারবে না। জেনারেল আতিক-উর-রহমানের অতিথি হয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজহার লাহোরের গভর্নর হাউসে একটি রাত কাটান। জেনারেল আতিককে পাঞ্জাবের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরদিন সকালে দুজন প্রাতরাশ করতে বসলেন। আতিক অতিথিকে জিজ্ঞেস করলেন, ঘুম ভালো হয়েছিল কি না। জেনারেল আজহারের ঘুম ভালো হয়নি। ওপর তলার ঘরে অনেক হইচই হয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘ওপরের ঘরে কারা ছিল?’ লজ্জিত হয়ে আতিক বলেন, ‘ইয়াহিয়া খান। তিনি বান্ধবীদের সান্নিধ্য উপভোগ করছিলেন।’ সময়টা ১৯৭১ সাল। পূর্ব পাকিস্তানের তখন পতন ঘনিয়ে আসছে। পরবর্তীকালে অনেকেই একটি ঘটনার সাক্ষ্য দিয়েছেন, কিন্তু ওই সময় তা চেপে গিয়েছিলেন। পারস্য সাম্রাজ্যের আড়াই হাজার বছর পূর্তি উৎসবে পারসেপোলিসে গিয়ে ইয়াহিয়া খান গাড়ি পার্কিংয়ে প্রস্রাব করেছিলেন। তিনি এত বেশি পান করে ফেলেছিলেন যে নিজেকে আর সামলাতে পারেননি। তাই ঝোপের আড়ালে গিয়ে নিজেকে খালি করে দেন। ইয়াহিয়া খানের প্রথম ছবিটির কথা মনে পড়লে আমার জানতে ইচ্ছে করে, নওয়া-ই-ওয়াকত-এর মাজিদ নিজামি আসলে কী ভাবছিলেন? তিনি বহন করছিলেন তাঁর কিংবদন্তিতুল্য ভাই হামিদ নিজামির উত্তরাধিকার। এই পত্রিকাটি ছিল পাকিস্তানের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ উর্দু দৈনিক, যারা দাবি করত, স্বৈরাচারকে মুখের ওপর সত্য বলতে তারা ভয় পায় না। তিনি সম্ভবত স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। নওয়া-ই-ওয়াকতই একমাত্র সংবাদপত্র নয়, আরও অনেকেই ওই সংক্ষুব্ধ সময়ে জাতিকে ভুল পথে পরিচালিত করেছে। পুরো জাতি জাতীয়তাবাদের মাতলামিতে ভেসে গিয়েছিল। সংবাদপত্র ও সরকার-নিয়ন্ত্রিত রেডিও-টিভির তথ্যে বিভ্রান্ত হয়েছিল। আরেকটি অদ্ভুত ব্যাপার হলো, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের লেখা পড়লে দেখবেন, তাঁরা বলছেন, ইয়াহিয়া খান একজন অসাধারণ কর্মকর্তা। যদিও এ কথার সমর্থনে তাঁরা কোনো প্রমাণ দেননি। ইয়াহিয়া খান মগ্ন ছিলেন নূরিদের মতো মানুষদের নিয়ে। মান্টো সরস মন্তব্য করে বলেছেন, পাকিস্তানের তরুণেরা যখন দেশের জন্য জীবন দিচ্ছে, প্রেমিক জেনারেল তখন ‘চাতাউরের দুর্গ দখলে’ ব্যস্ত। ঢাকার পতনের পর জুলফিকার আলী ভুট্টোর কাছে ইয়াহিয়া খানের ক্ষমতা হস্তান্তরের গল্পটিও রূপকথা। আসলে মংলা গ্যারিসনে অভ্যুত্থানের কথা শুনে তিনি ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। ইয়াহিয়ার কার্যক্রমের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বিবরণ দিয়েছেন পুলিশ বিভাগের রাওয়ালপিন্ডির বিশেষ শাখার সুপার সি এইচ সরদার। তিনি লিখেছেন: প্রেসিডেন্ট ভবন ছিল তখন বেশ একটা জায়গা। নানা মানুষজন আসছে। প্রেসিডেন্ট নিজে মাতাল আর রমণীমোহন।...দেহজীবিনী আর তাদের দালালেরা তো বটেই, সমাজে মর্যাদাবান অনেকেও ছিলেন। আকলিম আখতার, মিসেস কে এন হোসেন ও লায়লা মোজাফ্ফর ছিলেন অন্যতম। বহু নিন্দিত কিন্তু আকর্ষণীয় নারীও আসত। তারা প্রেসিডেন্ট হাউসজুড়ে নাচত, গাইত, পান করত। প্রেসিডেন্ট হাউসকে ওখানকার নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ বাহিনী বলত কঞ্জরখানা, আর সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর বলত ডাঙ্গরখানা। একবার ইরানের শাহ পাকিস্তানে রাষ্ট্রীয় সফরে এলে গভর্নর হাউসে ওঠেন। প্রেসিডেন্টও তখন সেখানে। শাহের বাইরে যেতে দেরি হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু প্রেসিডেন্ট তখনো শয়নকক্ষ থেকে বেরোচ্ছেন না। প্রটোকল নিয়ে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিল। কিন্তু কারও সেখানে যাওয়ার উপায় নেই। প্রেসিডেন্টের এম এস জেনারেল ইসহাক আকলিম আখতারকে বললেন, তিনি যেন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে আসেন। আকলিম জেনারেল রানি হিসেবে পরিচিতি ছিলেন—প্রেসিডেন্টের রানি, আদতে বেশ্যার দালাল। ঘরে গিয়ে দেশের সবচেয়ে খ্যাতিমান গায়িকার সঙ্গে প্রেসিডেন্টকে তিনি যে অবস্থায় দেখেন, তাতে তারই আক্কেল গুড়ুম। প্রেসিডেন্টকে তিনি নিজে কাপড় পরিয়ে নিচে নিয়ে আসেন।...ফুর্তি করার জন্য ইয়াহিয়ার বহু বান্ধবী ছিল।...এক সন্ধ্যায় তিনি চলে গেলেন মিসেস কে এন হোসেনের বাড়িতে, যাঁকে সবাই ‘কালো সুন্দরী’ বলে জানত...সবার অগোচরে প্রেসিডেন্ট সেখানে তিন দিন তিন রাত কাটিয়ে দেন। চতুর্থ দিন মিসেস হোসেনকে রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় নিয়ে তিনি তাকে অভ্যন্তরীণ সজ্জাকরের স্থায়ী চাকরি দিয়ে দেন। তাঁর স্বামীকে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত করা হয়। প্রেসিডেন্ট কেন তিন দিন তাঁর বাড়িতে ছিলেন, এ নিয়ে পরে প্রশ্ন করা হলে মিসেস হোসেন বলেন, প্রেসিডেন্টকে তিনি বাংলা গান শিখিয়েছেন। ঢাকার পতনের পর ইয়াহিয়া খান টিভিতে ঘোষণা দেন, ‘পূর্ব ফ্রন্টে সাময়িকভাবে পিছিয়ে এলেও’ পশ্চিম ফ্রন্টে যুদ্ধ চলবে। কিন্তু পরদিনই ভারতের এককভাবে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি তিনি মেনে নেন। ১৯৭১ সালে ইয়াহিয়াকে নিয়ে অাঁকা শিল্পী কামরুল হাস​ানের পোস্টার১৯৭১ সালের মার্চ মাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সরদার উইসুফ চানদিও আর ইয়াহিয়া খানের মধ্যে যে আলাপ হয়, তা নিচে তুলে দিচ্ছি। এ ঘটনার বর্ণনাও দিয়েছেন সি এইচ সরদার। দায়িত্বে নিয়োজিত এক ডিএসপির কাছে তিনি গল্পটি শুনেছিলেন। জায়গাটা ছিল করাচির কাছাকাছি একটি হ্রদ। উপলক্ষ ছিল হাঁস শিকার: ইউসুফ: এখন কী হবে? নির্বাচনে তো একদিকে জিতেছে মুজিব (কটু কথা), আরেক দিকে ভুট্টো (কটু কথা)? ইয়াহিয়া খান: বাচ্চু, চিন্তা কোরো না, তামাশা দ্যাখো। আমি এমন টোপ ফেলব যে তারা যেকোনো একজন আরেকজনকে মেরে ফেলবে। ইয়াহিয়ার কিছু ঘোষণা শুনে মার্কিন গৃহযুদ্ধের এক কৌতূহলোদ্দীপক চরিত্রের কথা মনে পড়ে যায়। চ্যান্সেলর্সভিলের যুদ্ধের আগে জেনারেল হুকার উত্তরের সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তিনি তখন অমার্জিত মন্তব্য করে বলেন, ‘আমার পরিকল্পনা একদম নিখুঁত, আল্লাহ্ জেনারেল লিকে (প্রতিপক্ষ) দয়া করুন।’ কিন্তু পরদিন হুকার মারাত্মকভাবে পরাজিত হলেন। তার জায়গায় দায়িত্ব পেলেন লিঙ্কন। ইয়াহিয়া খান নাকি কোয়েটা স্টাফ কলেজের শিক্ষক ছিলেন। তিনি কি মার্কিন গৃহযুদ্ধের ওই অধ্যায়টি পড়েননি? টিক্কা খান ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে অভিযান শুরু করলে লাখ লাখ শরণার্থী সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিম বাংলায় চলে যায়। পাকিস্তানের এই রক্ষক তখন কী করছিলেন, সি এইচ সরদারের বিবরণে পড়ুন: ইয়াহিয়া খান মৌজ-ফুর্তিতে মেতে ছিলেন। পছন্দের কোনো মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে প্রতি রাতে তিনি রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদের রাস্তায় ঘুরতে বেরোতেন। পাহারাদারেরা তো যথারীতি থাকতই। কখনো কখনো গাড়ির ছাদ খুলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই তিনি মৌজে মশগুল হয়ে যেতেন। রক্ষীরাও তা দেখতে পেত। ইসলামি রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এমন অসংযমী আচরণে তাদের মন তেতো হতো। এ কথা জানানো হলে পুলিশের সুপার বলতেন, ‘প্রেসিডেন্ট তো গুরুতর সমস্যা নিয়ে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত থাকেন। তার একটু বিনোদনের দরকার।’ বিনোদন বটে! ইয়াহিয়ার সহমর্মীরা কখনো কখনো বলেন, উপদেষ্টারা তাঁকে ভুল পথে পরিচালিত করেছে। কিন্তু তাদের নিয়োগ দিয়েছে কে? অনেক ভালো উপদেশও ছিল, কিন্তু সব উপেক্ষিত হয়েছে। কিছু দৃঢ়চিত্ত মানুষ তাঁকে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় সংসদের অধিবেশন স্থগিত করতে মানা করেছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি জেনারেল ইয়াকুব খান ও অ্যাডমিরাল আহ্সান তাঁকে বলেন, অধিবেশন স্থগিত করা খুবই অবিবেচকের কাজ হবে। স্ট্যানলি উলপার্ট লিখেছেন, ‘এর কয়েক সপ্তাহ আগে এস এম আহসান খুবই সাহসের সঙ্গে হরতালরত বাঙালির ওপর গুলি চালাতে অস্বীকার করেন। তাঁর জায়গায় তখন জেনারেল ইয়াকুবকে বসানো হয়। তিনিও গণহত্যার আদেশ অগ্রাহ্য করেন।’ ইয়াহিয়া যখন মদ্যপ ইয়ারদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে তাদের অনুরোধ দূরে ঠেলেন, তখন তারা হতভম্ব হয়ে যান। সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট পদগোর্নি রাজনৈতিক সমঝোতার প্রস্তাব দিলেও তিনি তা বেকুবের মতো প্রত্যাখ্যান করেন। রক্ষকের খুব তাড়া ছিল, বাঙালিদের ‘ওপর বাঘ লেলিয়ে দিতে তার আর তর সইছিল না’, সে তাতে যা হয় হোক। ক্ষমতার দম্ভে উন্মত্ত এবং চাটুকারদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে তিনি একবার গর্বভরে বলেছিলেন, তাঁর সমরাস্ত্র ভারতের চেয়ে উন্নত। ফলে জেনারেল ইয়াকুবকে পূর্ব পাকিস্তান থেকে নিয়ে এসে পদাবনতি দেওয়া হয়, এমনকি অবসরেও পাঠানো হয়। প্রেসিডেন্ট তাঁর জায়গায় জেনারেল নিয়াজিকে পাঠান। তাঁকে বরণ করতে বিমানবন্দরে এলে জেনারেল খাদিম হোসেন রাজার কাছে নিয়াজির প্রথম প্রশ্ন ছিল, ‘আমার জন্য কয়টা মেয়ে ঠিক করে রেখেছ?’ কয়েক মাস পরই দেখা গেল, নিয়াজি লেজ গুটিয়ে তাঁর নিজ ব্যাচের জেনারেল অরোরার কাছে আত্মসমর্পণ করছেন। নিয়াজি আবার নিজেকে দুনিয়ার সবচেয়ে সম্মানিত জেনারেল মনে করতেন। এই ছিল তার নমুনা। এবার দ্রুত লয়ে ১৯৭২ সালে চলে যাই। ইয়াহিয়া খানকে রাখা হয়েছিল সুরক্ষিত বান্নি বাংলোয়। হামুদুর রহমান কমিশনের কাছে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তাঁকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল শিয়ালা রেস্টহাউসে। সি এইচ সদর পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তার বিবরণ রেখে গেছেন: ইয়াহিয়া হেলিকপ্টারের বদলে সড়কপথে ফিরতে চাইলেন। ব্যাপারটাতে ঝুঁকি ছিল বলে আমি সে জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। সড়কপথে ঝুঁকি কেন, ইয়াহিয়া তা জানার জন্য পিড়াপিড়ি করতে লাগলেন। আমি বললাম, ‘কারণ লোকে আপনাকে হেনস্তা করতে পারে।’ ‘মানুষ আমার বিপক্ষে যাবে কেন?’ ‘কারণ পূর্ব পাকিস্তানে আপনি হেরে গেছেন।’ ইয়াহিয়া দেখালেন চিরাচরিত প্রতিক্রিয়া, ‘কেন, আমি কি অস্পৃশ্য? আমি কারও স্পর্শকাতর অঙ্গ কি ছুঁয়ে ফেলেছি?’ পাঞ্জাবি ভাষায় তাঁর কথা আরও রংদার শোনাল। সড়কপথে যাত্রা শুরু হলো। সিহালা রেলসড়কের গাড়ি থেমে গেল। কারণ, লোকে তাঁকে চিনতে পেরে পাথর ছুড়তে শুরু করেছে। ইয়াহিয়ার মুখ শুকিয়ে এল। যেন মৃত্যু ঘনিয়ে আসছে। অবস্থা দেখে আমি বললাম, রাজাবাজার যাওয়া যাক। তিনি তখন কাঁপছেন। অনুনয়-বিনয় করে তিনি বললেন, তাঁকে যেন বান্নি রেস্টহাউসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছে আরেক আবদার, তাঁকে অ্যাবোটাবাদে নিয়ে যাওয়া হোক। ‘কেন?’ তাঁর জবাব, ‘এ জায়গাটা আমার পছন্দ নয়। এখানে অনেক শেয়াল। রাতে খুবই চেঁচামেচি করে।’ আমি বললাম, ‘সঙ্গী হিসেবে তারা খারাপ কী?’ ঢাকা পতনের পর পাকিস্তান টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোয়েদাদ খান তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট নূরুল আমিনের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি তাঁর স্মৃতিকথায় লিখেছেন: নূরুল আমিনের মতো খাঁটি দেশপ্রেমিককে কখনোই এতটা রাগান্বিত দেখিনি। দুদিন ধরে তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করার ব্যর্থ চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। ইয়াহিয়ার সঙ্গে সবুজ ফোনে সেদিন সন্ধ্যায় সাক্ষাতের সময় নিলাম। ইয়াহিয়া আমাকে প্রেসিডেন্ট হাউস পর্যন্ত নূরুল আমিনকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য বললেন। আমরা যখন গেলাম, জেনারেল হামিদও তখন সেখানে। তাঁরা সবাই—ভেবে দেখুন—পান করছেন। নূরুল আমিন বিস্ফোরিত হয়ে বললেন, ‘ঢাকার পতন হয়েছে, পূর্ব পাকিস্তান হাতছাড়া হয়ে গেছে। আর আপনি হুইস্কি খাচ্ছেন?’...ইয়াহিয়া সব দোষ মুজিবের ওপর দিলেন। আমি জীবনে যত বৈঠক করেছি, সেটি ছিল সবচেয়ে বেদনাদায়ক। পাকিস্তানের এই রক্ষকের আরও একটি ছবি অনেকের মনে পড়বে: ভুট্টোর সামনে ইয়াহিয়া বসে আছেন। তাঁর স্বাক্ষরের জন্য টেবিলের ওপর একটি কাগজ মেলে ধরা। ইয়াহিয়ার মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, তিনি বিমর্ষ ও অপমানিত। কারও পতন আর কতটা হতে পারে! তিনি কি নিরোর আধুনিক রূপ? অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন ড. আসিফ জাভেদ: যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়ামসপোর্টে কর্মরত পাকিস্তানি চিকিৎসক।

   দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তানের সৃষ্টি যে একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল তাহাই হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যাচ্ছিল পাকিস্তানী মুসলিম বিদ্বেষী তথাকথিত জেনারেলদের ক্ষমতা গ্রহন করে বেপরোয়া জীবন যাপনের প্রতি নজর দিলে।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg