নব্য আইএস আই কে মোকাবেলায় নতুন প্রজর্মকে উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রশিক্ষনের বিকল্প নেই--- ----------------------------------------------- ----------------------------------------------- এই কয়দিনের ধারাবাহিক আলোচনায় আমরা একটি সত্যে উপনিত হতে পারি,সত্যটি হচ্ছে '৭৫ এর পট পরিবর্তনের পর দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামে অর্জিত এই দেশটা যে স্বপ্নের বাস্তবায়নের আখাংকায় জাতির জনকের ইস্পাত কঠিন দৃডচেতা নেতৃত্বে স্বাধীন করেছিলেন বাংলাদেশের আপামর জনগন--,সেই স্বাধীনতার স্বাদ প্রাপ্তির আগেই বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবারে হত্যা করে ৭১এর আগের অবস্থায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয় পরাজিত শত্রুরা। মুক্তিযুদ্ধের মুল চেতনার রাজনৈতিক ধারা, অসামপ্রদায়িকতা, গণতন্ত্র ও শোষণহীন, ধর্ম নিরপেক্ষ সমাজ বিনির্মান। দেশটিকে তার জন্মের অঙ্গীকারে দৃঢ়তার সঙ্গে স্থাপন করতে চায় বর্তমান সরকার। বিপরীত একটি পক্ষ স্পষ্টতই পাকিস্তানপন্থি, সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদী ধারায় অর্থাৎ পাকিস্তানের ভাবাদর্শ প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। অসাম্প্রদায়িক,প্রগতিশীল,বিজ্ঞান সম্মত আধুনিক ধর্ম নিরপেক্ষ ধারার প্রতিষ্ঠাতা জাতির জনক সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।অন্য দিকে কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে ভুলুন্ঠিত করে সাম্প্রদায়িক মধ্যযুগীয় রাষ্ট্র ব্যাবস্থা ফিরিয়ে আনার নেতৃত্বের ধারক বাহকের ভুমিকায় উলঙ্গভাবে অবতিন্ন হয়েছিলেন জাতির জনকের খুনি মরহুম জিয়াউর রহমান।তিনি স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুদের রাজনীতিতে পুনপ্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব নিয়ে ক্ষমতা গ্রহন করেই তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করেন।অন্য অর্থে বলা যায়, মরহুম জিয়া দেশে পাকিস্তানপন্থি রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। তিনি যে কেবল গোলাম আজমকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করেন তাই নয়, জামায়াত, মুসলিম লীগসহ অন্য সব পাকিস্তানপন্থি রাজনৈতিক দলকে তিনি পুনর্বাসিত করেন, তাদের ক্ষমতার অংশীদার করেন এবং সেই পরাজিত শত্রুদেরকেই রাজনীতিতে মহীরূহে পরিণত হতে সহায়তা করেন। সেই ধারাবাহিকতায় তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতির সেই পতাকাটিকে দৃঢ়ভাবে বহন করে চলেছেন অদম্য স্পৃহায়। এমনকি তার পুত্র তারেক জিয়া লন্ডনে বসে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা "আইএসআই-"এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠিত করার মানষে আন্তজাতিক জঙ্গি সংগঠন সমুহের সাথে সম্পর্ক করার চেষ্টা নিয়ন্তর করে যাচ্ছেন কোন কোন ক্ষেত্রে সফলও হচ্ছেন। শুধু তাই নয় বিশ্বখ্যাত সন্ত্রাসী দাউদ ইব্রাহীমের সাথেও কয়েক দফায় বৈঠকে মিলিত হয়ে বাংলাদেশে সন্ত্রাসের জাল বিস্তারে প্ররোচিত করে যাচ্ছেন।এই গুরুত্বপুর্ন সংবাদটি গোয়েন্দাদের অবহিত করেছেন তাঁদের সরকারের সাবেক স্ব -রাষ্ট্রমন্ত্রী বাবর। বৈঠকের সচিত্র প্রতিবেদনও পত্রিকা সমুহে ছাপানো হয়েছে।তারই ধারাবাহিকতায় বিপুল পরিমান ডলার খরছ করে আন্তজাতিক ভাবে খ্যাতি সম্পন্ন লবিষ্ট ফার্ম নিয়োগ দেয়ার খবর বিশ্বখ্যাত পত্রিকা সমুহে প্রমান সহ ছাপানো হয়েছে।এই ঘরানার রাজনীতির অতীতটাও এই ধারার। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম জিয়াউর রহমান বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল তাহেরকে হত্যা করাসহ স্বাধীনতার পক্ষের জাসদ ও তার সহযোগী সব রাজনৈতিক শক্তিকে নির্মুল করার মহাপরিকল্পনা ঠান্ডা মাথায় বাস্তবায়ন করে ক্ষমতা নিষ্কন্টক করেছিলেন। বেগম জিয়া ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে একই ছকে কাজ করতে ২১শে আগষ্ট সহ আওয়ামী লীগ ও তাঁর অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের বহু নেতা কর্মিকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় হত্যা করেছিলেন।তাঁদের বিপরীত ধারার প্রধাননেত্রী জাতির জনকের কন্যা বর্তমানের প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্যই ২১শে আগষ্ট কলংকময় দিনের সৃষ্টি করা হয়েছিল।বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০০৮ ইং সালে বিপুল জয় নিয়ে মহাজোট ক্ষমতায় আসে।বিভাজনের রেখামুছে দিতে, জাতিকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে উপায়ন্তর না দেখে একাত্তরের ইস্যুটিকেই রাজনীতির প্রধান ইস্যু হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করেই প্রথমে জাতিকে বিভক্ত করার জন্য স্বৈরাচারদের প্রনিত সংবিধানের ধারা উপধারা সমুহ বাতিল, সকল কালাকানুন এবং অগণতান্ত্রিক বিধানগুলোর পরিবর্তন করে ৭২ এর মুল চেতনায় দেশকে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া সফলতার সংগে সমাপ্ত করেন। শুধু তাই নয় জাতিকে দ্বিখন্ডিত করার মুল কারিগর একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করার জন্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সফলতার সাথে দন্ডকায্যকর করে চলেছেন। বস্তুত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অনুষ্ঠান দুটি রাজনৈতিক ধারার বিভাজনকে ঘুমন্ত অবস্থা থেকে জাগ্রত করেছে এবং বিভক্তি যে তাঁদের সৃষ্ট তা আরও স্পষ্ট করেছে। বিএনপি নেত্রী বেগম জিয়াসহ একটি পক্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করার দাবি করে সফল হতে না পেরে সহিংসতার আশ্রয় গ্রহন করে জাতিকে অন্ধকারের দিকে টেনে নেয়ার মানষে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছেন । তিনি হুমকি দিয়ে নিলর্জ্জভাবে বলেছেন যে, মুক্তিযোদ্ধারাও গণহত্যা করেছে,,তিনি ক্ষমতায় এসে তাঁদের বিচার করবেন। তাঁরা সবসময়ে বলতেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়া মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তাঁর অসারতাই প্রমানীত হল।আওয়ামী লীগ সহ এই ধারার মানুষ সব সময়ে বলে আসছিলেন, বহু মুক্তিযোদ্ধাই পাকিস্তানের দালাল আবার বহু রাজাকার যে মুক্তিযোদ্ধাদের চাইতে কোন কোন ক্ষেত্রে আরও বেশী অবদান রেখেছেন তারই সত্যতা প্রমানীত হল। মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কারনে খালেদা জিয়ার মত অশিক্ষিত রন্ধনশালার বউ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছিলেন,অঢেল লুটের টাকায় ভাঙ্গা স্যুটকেস ভর্তি করতে পেরেছিলেন,ছেঁড়া গেঞ্জীর স্থলে হাল ফ্যাসনের ডান্ডিডাইং এর মালিক হতে পেরেছিলেন, রাজধানী ঢাকায় একাধিক বিশাল বিশাল সরকারি বাড়ির মালিকানা নিতে পেরেছিলেন।শুধু তাই নয় কোকো নামের ১২ টি জাহাজ এবং ক্যারো নামের মদের কারখানার মালিক ও জিয়া পরিবার হতে পেরেছিলেন।সেই মুক্তিযোদ্ধাদের বিচারের কাঠগড়ায় উঠাবেন বলে তিনি তাঁর পাকি প্রেমের পুরাতন ইতিহাসই বাংলার জনগনকে স্মরন করিয়ে দিলেন। বেগম জিয়া স্পষ্টতই মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে তার অবস্থান দৃড করে প্রকাশ করেছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও একই কথা বলেছেন। এটি এখন স্পষ্ট যে, বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত দেশটিকে একটি ইসলামী-জঙ্গিবাদী-তালেবানি রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। একাত্তরে এই চিন্তা-চেতনাটি যাদের ছিল তারা পাকিস্তানের দোসর।পাকিস্তান ও তাঁদের ভুমিকা ইদানিং পরিস্কার করেছেন বিশ্ববাসির সামনে তাঁদের সংসদে বাংলাদেশের মানবতা বিরুধি অপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপন এবং তা পাশের মাধ্যমে।দন্ড পাওয়া ব্যাক্তি বর্গ তাঁদের দেশের মহান বন্ধু বলে তাঁরা অভিহিত করেছেন।তার পর ও কি বলতে হবে বা সাক্ষ দিতে হবে পাকিস্তানের মহান বন্ধুরা যুদ্ধ অপরাধি নয়?? বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত জোটের এই রাজনীতি শেষ পয্যন্ত তালেবান দমনের পর আইএস আই এর ভুমিকায় অবতির্ন্ন হয়েছে। তাঁরা বাংলাদেশকে একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করে অন্ধকার যুগের দিকে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সারা দেশব্যাপি হত্যা গুপ্তহত্যা,,বিদেশি নাগরিক হত্যা ইত্যাদি অশুভ কাজ সমানে চালিয়ে যাচ্ছে।মুলত তারা বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়ের পর থেকেই হত্যাকান্ড সমুহ সংঘটিত করে আসছে।বর্তমান বিশ্ব আইএস আই আতংকে কম্পমান বিদায় সেই নামটি ব্যাবহার করে দায় তাঁদের ঘাড়ে রেখে বাংলাদেশকে অস্থির করে বিদেশি প্রভুদের বাংলাদেশ আক্রমন করার পথ প্রসস্ত করাই লক্ষ। পাকিস্তানের জামাতে ইসলাম তাঁদের সরকারকে বাংলাদেশ আক্রমন করে তাঁদের বন্ধুদের জীবন রক্ষার দাবী থেকে আরো স্পষ্টতা পেয়েছে। দেশটি এখন মূলত আবার সত্তর-একাত্তরের রাজনীতিতে দাঁড়িয়ে পড়েছে।মহাজোট ও তার সমর্থকরা দেশটিকে একাত্তরের মূল নীতির কাছাকাছি নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে দাঁড় করাতে চায়। আওয়ামী লীগ সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রেখে ধর্মনিরপেক্ষতা প্রশ্নে কিছুটা সরে দাঁড়ালেও বা সমাজতন্ত্র শব্দটি স্পষ্টভাবে না বললেও বাংলাদেশকে অন্তত একটি তালেবানি রাষ্ট্রে পরিণত করতে দিতে চায় না। তাদের জন্য গোড়ামি, কুসংস্কার, জঙ্গিবাদ ও প্রগতিবিরোধী একটি রাষ্ট্রের কথা ভাবাও কঠিন। খুব সাম্প্রতিককালে জামায়াত-হেফাজতকে মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক মহলে অন্তত এটি প্রমাণ করতে পেরেছে যে, তারাই একটি মধ্যপন্থি উদার অসাম্প্রদায়িক অথচ মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম। ২০ দলীয় জোট ও হেফাজত পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য নয় সেটিও আওয়ামী লীগ সরকার কূটনৈতিক মহলে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তারা ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধায় উন্নত প্রশিক্ষন নিয়ে এবং নীজেদের আইএস আই দাবী করে বাংলাদেশ- পাকিস্তান অর্থাৎ সাম্প্রদায়িক-অসাম্প্রদায়িক চেতনার লড়াইটাকে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিতে চায়। আমরা যারা প্রগতির ধারায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে গড়ে তোলার নিয়ন্তর সংগ্রামে ব্যাপৃত রয়েছি তারা কেবলমাত্র বক্তৃতা বিবৃতি সমাবেশ বা মানববন্ধন করে এই চরম অবস্থা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তাঁদের সংঙ্গে পাল্লা দিতে একাত্তরের বন্দুকের লড়াইটাকে ডিজিটাল লড়াইতে রূপান্তর করতে হবে। আসুন ফেসবুক, ভাইবার, হুয়াটসঅ্যাপ বন্ধ করে নয় এইসব ডিজিটাল প্লাটফরমকে ব্যবহার করেই একাত্তরের পরাজিত শক্তিকে মোকাবিলা করি। আর সেই কাজটি করার জন্য এই ধারার নতুন প্রজর্মকে উন্নত প্রশিক্ষন দেয়ার কোন বিকল্প নেই।কলমের ধারে বিভ্রান্ত হয়েই তাঁরা মুক্তমনা লেখক, সাহিত্যিক সাংবাদিক হত্যার মিশন হাতে নিয়েছে।একাত্তরেও তাঁরা এই ধারায় বুদ্ধিজীবিদের হত্যা করে স্বাধিনতার পর রাজনীতি তাঁদের নিয়ন্ত্রনে নিতে সক্ষম হয়েছিল।সেই একই ধারায় পরাজয়কে জয়ের ধারায় ফিরিয়ে নেয়ার শেষ চেষ্টার অংশ হিসেবেই তাঁরা হত্যামিশন পরিচালনা করছে।তাঁদের ভয়ে বিদেশ পালিয়ে গিয়ে বা কলম বন্ধ করে সামাজিক দায় এড়ানো যাবেনা।তারা যা চাইছে তাঁর ফাঁদে পড়ার অর্থই হচ্ছে জাতিকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়া।ভয় পেলে ভয়ই চেপে বসে,সাহষ করে মুখোস উম্মোচনের মিশনে সবাই এক যোগে ব্রতি হলে জয় অবশ্যই আমাদের হাতচানি দিয়ে ডাকবে।আসুন বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে ডিজিটাল প্রযুক্তির সাথে সম্পৃত্ত করে অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করার শফথ গ্রহন করি। দেশ ও জাতির আশা আখাংকার প্রতি নীজেদেরকে নিবেদিত রেখে- প্রত্যেকের স্ব-স্ব অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করি।বিজয়ের মাসে লাখো শহিদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গিকার বাস্তবায়নে জাতির জনকের কন্যা দেশরত্ম শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করি। " জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখ হাসিনা"

ফেসবুক সহ অন্য সামাজিক  মিডিয়া বন্ধ রেখে নব্য আইএস আই কে প্রতিহত কিরার সিদ্ধান্ত সঠিক নহে,নতুন প্রজর্মকে উন্নত প্রযুক্তির প্রশিক্ষনের মাধ্যমে অশুভ শক্তির মোকাবেলায় প্রস্তুত করাই লক্ষ হওয়া উচিৎ।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg