সর্বগ্রাসী দূর্নীতি'র উৎপত্তি, টি আই বি'র ভূমিকা--বর্তমান সরকারের দূর্নীতি বিরূধী মনোভাব। (নবম  কিস্তি)

রুহুল আমিন মজুমদার:--উল্লেখিত আলোচনায় দেখা যায় সর্বতোভাবে দুর্নীতির উৎপত্তি, বিকাশের মূলে প্রতিযোগীতামূলক "বাজার অর্থনীতি"র ধারাই দায়ী।এই বাজার অর্থনীতির প্রবর্তক সাম্রাজ্যবাদী শাষক শোষক শ্রেনীর উদ্ভাবিত 'পূঁজিবাদী অর্থনীতি'র আধুনিক সংস্করন মাত্র। প্রতিযোগীতা মূলক অর্থনীতির অনিবায্য ধারায় বাংলাদেশের  সমাজব্যবস্থায় অসম অর্থনৈতিক প্রতিযোগীতার জম্ম দিয়েছে। অধিক পূঁজি আহরনের অদম্য আক্ষাংকা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। জনগনের সেই আক্ষাংকা ইচ্ছাশক্তি সমাজকে নিয়ে গেছে অবধারিত "নৈতিকতাহীন লুটপাট, ঘুষ, সুদ, দুনীতির আবর্তে।

    আইনের শাষন প্রতিষ্ঠায় সামগ্রিক দুর্বলতা বজায় রেখে এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের কায্যকর বিভাগ সমূহকে সামগ্রিক ক্ষমতাহীন, রুগ্ন রেখে পাশ্চাত্যের একচেটিয়া পূঁজিভিত্তিক প্রতিযোগীতামূলক সমাজ বিনির্মানের অন্ধ অনুসরন জাতিকে অনৈতিকতার হিমসাগরে নিক্ষিপ্ত করেছে--ইহা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

       উন্নত দেশ সমূহের দিকে তাকালে দেখা যায় তাঁদের দেশের রাজনীতির চালিকাশক্তি তাঁরা অনেক আগে থেকেই অর্থনীতিকে বিবেচনা করে আসছে। তাঁরা একদিকে আইনের শাষন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অর্থিক খাতে সর্বচ্ছো শৃংখলা বজায়  রেখেছে অন্যদিকে জাতীয় ইস্যু সমূহ মিমাংসার মাধ্যমে সর্বস্তরে সূ-শাষন প্রতিষ্ঠিত করেছে। রাষ্ট্রের সাংবিধানিক বিভাগ সমূহ রাষ্ট্রীয় রীতিনীতি, আইনকাঠামো সুনির্দিষ্টভাবে অনুসরনের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে তাঁদের কায্যাদি নির্বাহ করার অধিকার প্রাপ্ত রয়েছে।সর্বতো ভাবে রাষ্ট্রের কাঠামো সমূহ সুদৃড করার পর বাজার অর্থনীতিকে ''রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক নীতি''তে গ্রহন করে সফলতার শীর্ষে পৌঁছেছে।

   বাংলাদেশের মত ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশে রাষ্ট্রের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সমূহ দুর্বল রেখে, আইনের শাষনকে তোয়াক্কা না করে, জাতীয় ইস্যু সমূহ নিয়ে প্রতিনিয়ত বিতর্ক উত্থাপন করে--আর যাই হোক "সুশাষন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়"। সু-শাষন প্রতিষ্ঠার অন্যতম শর্ত সর্বাজ্ঞে আইনের শাষন প্রতিষ্ঠা। আইনের শাষন প্রতিষ্ঠা ব্যাতিরেকে সমাজে নীতি নৈতিকতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।যতক্ষন না সমাজে নীতি নৈতিকতা ফেরৎ আসছে ততক্ষন  দূর্নীতির ন্যায় ব্যাধি নির্মূল করা আদৌ সম্ভব হবেনা।
সবচেয়ে বড় দূর্ভাগ্যের বিষয়টি হচ্ছে--"মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙ্গালী জাতি তাঁদের অজম্মকালের বিতর্কীত 'জাতীয় ইস্যু' সমূহ" রক্ত স্রোতের বিনিময়ে মিমাংসা করতে পেরেছিল।স্বাধীনতার অব্যবহিত পর(মাত্র সাড়ে তিনবছরের মাথায়)কুচক্রি মহল মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে মিমাংসীত বিষয় সমূহকে আবারো বিতর্কের মঞ্চে নিয়ে আসে এবং  এখনও সে প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।

    জাতির গৌরবের বিষয় সমূহকে বিতর্কীত করে জাতিকে দ্বিখন্ডিত অবস্থায় রেখে স্থীতিশীল রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব নয়।রাজনৈতিক স্থীতিশীল শুন্যবস্থায়   সুশাষন প্রতিষ্ঠা যেমন হয়না তেমনি সুশাষন ব্যাতিত আইনের শাষন প্রতিষ্ঠা কল্পনা করা বাতুলতা মাত্র। আইনের শাষন প্রতিষ্ঠা ব্যাতিরেকে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, লুটপাট, ঘুষ, সুদ সহ অন্যান্ন অনৈতিকতা নির্মূল আদৌ সম্ভব নয়।

   ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ 'দিন বদলের সনদ' নামে নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রকাশ করে। এখানে পাঁচটি অগ্রাধিকারের দ্বিতীয়টি ছিল সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। বলা হয়েছিল-- "দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে শক্তিশালী করা হবে''। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। ক্ষমতাধরদের বার্ষিক সম্পদ বিবরণ দিতে হবে। রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরের ঘুষ-দুর্নীতি উচ্ছেদ, অনুপার্জিত আয়, ঋণখেলাপি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কালোটাকা ও পেশীশক্তি প্রতিরোধ ও নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারি কর্মকাণ্ডে ব্যাপকভাবে কম্পিউটারাইজড করে দুর্নীতির পথ বন্ধ করা হবে" (সূত্র: আওয়ামী লীগের দিন বদলের সনদ ২০০৮)।

  প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের সম্পদের হিসাব ও আয়ের উৎস প্রতিবছর জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল।দ্বিতীয়ত: দূর্নীতি দমন কমিশনকে একটি স্বাধীন কমিশন হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নির্বাচনী ইশতেহারের উল্লেখিত দু'টি  গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি বিগত আট বছরে অবাস্তবায়িতই রয়ে গেছে।

তবে আশার কথা তথ্য অধিকার আইন পাস, অনলাইন টেন্ডার, সরকারি কার্যক্রমে কম্পিউটারাইজড ও ই-গভর্নেন্স চালু, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সরকার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে। দূদক কে স্বাধীন সংস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে না পারলেও তাঁদের কাজের স্বাধীনতায় যে হস্তক্ষেপ হচ্ছেনা বিগত তিন/ চার বছরের  দুদকের তৎপরতায় গতির প্রতি দৃষ্টি ফেরালে বুঝা যায়।অচল দুদকে'র সচলতায় গতিবেগ  এসেছে নি:সন্দেহে বলা যায়।

 নিঃসন্দেহে আমরা দারিদ্র্যতা জয় করতে পেরেছি, আমাদের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়েছে, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা, সামাজিক এবং মানবিক উন্নয়নেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। কিন্তু পিছিয়ে আছি সুশাসনে। গত ৮/৯ বছরে আমাদের গণতন্ত্র আরো শক্তিশালী হতে পারত। রাজনীতি থেকে সংঘাত ইতিমধ্যে  খানিকটা দুর হয়েছে।ইহা যে ক্ষনস্থায়ী তাও স্বিকায্য।ইতিমধ্যে স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, জাতির জনকের মত জাতির স্পষ্যকাতর মিমাংসীত  বিষয় সমূহ নিয়ে বিএনপি নেত্রী নতুন করে আবারো বিতর্ক মাঠে ছেড়ে দিয়েছেন। উক্ত বিতর্কের কারনে জাতি যে পূণ: সংঘাতের মূখামূখি হবে -তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

     আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাংলাদেশের রাজনীতিকে প্রতিনিয়তই পেছনের দিকে টেনে নিচ্ছে। আর তা হচ্ছে আস্থার সঙ্কট। উক্ত আস্থার সংকট ততদিনে দূর হবেনা যতদিন না স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে নির্বাসিত না হয়। পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ঘটনা স্বাধীন সার্বভৌম দেশে পরাজিত শক্তির রাজনৈতিক অধিকার রয়েছে।বাংলাদেশই একমাত্র দেশ স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তি সমাসন্নকালেও বিপক্ষ শক্তি বাংলাদেশের সমাজে দাপিয়ে বেড়ানোর সূযোগ রয়ে গেছে। উক্ত শক্তিকে নিস্তেজ করা গেলে অনেক আগেই বাংলাদেশের উন্নতি অগ্রগতিতে  সারাবিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারতো।

    ভাবতেও লজ্জা হয় স্বাধীনদেশের আবাহাওয়ায় বাস করে স্বাধীনতার দাত্রী দলের বিরুদ্ধে তাঁরা আস্ফালন করার সাহষ দেখায়। একশ্রেনীর নাগরিক সমাজের উদ্বত্বপূর্ণ আচরন এমন পয্যায় যেন শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়লে 'এক মিনিটেই' সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। একশ্রেনীর মিডিয়ার প্রাধান্যের কারনে উল্লেখিত ব্যাক্তিগন নিজেদেরকে সবজান্তা মনিষী মনে করে। এই সামান্য বিষয়টি তাঁদের মাথায় আসেনা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বাবার জম্ম না হলে আওয়ামীলীগের জম্ম হতনা--আওয়ামী লীগের জম্ম না হলে তোমার মত বুদ্ধিজীবি হয়তো বা স্কুলে যাওয়ার বা লেখাপড়া শেখার সুযোগ হতনা। শত শত মিডিয়া, উন্নত প্রযুক্তি ইত্যাদিতো পরের বিষয়।
   (চলমান পাতা --৯)
                  ruhulaminmujumder27@gmail.com

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg