সর্বগ্রাসী দুর্নীতি, টিআইবি--সরকারের দূর্নীতি বিরূধী মনোভাব।
(দ্বিতীয় কিস্তি)

   রুহুল আমিন মজুমদার:--দূর্নীতি" শব্দটি তিন অক্ষরের অত্যান্ত নগন্য শব্দ সত্য, কিন্তু সাধারনে যত সহজে শব্দটির পরিধি, বিস্তৃতি, তাৎপয্য বোধগম্য হয়--বাংলা ভাষায় তদ্রুপ আদৌপান্ত বুঝার মত 'শব্দ' দ্বিতীয়টি চোখে পড়েনা।  দূর্নীতির মাধ্যমে অর্থবিত্তের মালিককে সমাজ দুর্নীতিবাজ ব্যাক্তি বলে। শব্দটি আক্ষরিক অর্থে বাংলাদেশের সর্বমহলে অত্যান্ত ঘৃনিত, নিন্দিত এবং রাষ্ট্রীয় আইনে  দুর্নীতিবাজ ব্যাক্তি ও গোষ্টি শাস্তিমূলক  অপরাধী। ধর্মীয়, সামাজিক, পারিবারীক দিক থেকেও অনৈতিক।
      লক্ষ করলে দেখা যায় শব্দটি আপাত:দৃষ্টে তিন অক্ষরের হলেও আরো কতক বর্ণরাজী উহার ভিতরে রয়েছে।  সাধারনে কয়টি বর্ণ এবং বর্ণগুলির কি নাম--আদৌ বুঝে উঠার ক্ষমতা রাখেনা। 'শব্দটি'র আকারে প্রকারে যেমন বিভিন্ন অক্ষরের সংযুক্তি রয়েছে তেমনি সমাজ, রাষ্ট্র, পরিবারে ইহার উপস্থীতিতেও রয়েছে বহুবিদ রকমফের।'এমন অনেক কর্মকান্ডে দূর্নীতি আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে,যাহা সাধারনে নির্ণয় করা আপাত:দৃষ্টে আদৌ সম্ভব নয়।'

    বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর সকলেরই আশা ছিল--নতুন দেশটি দুর্নীতিমূক্ত,শোষনমুক্ত, স্বজন প্রীতিমুক্ত হবে। কিন্তু কালের পরিক্রমায় নতুন দেশের প্রশাসন  থেকে শুরু করে সর্বত্র দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতি, দখলবাজি, ঘোষ, সূদের সাগরে ডুবে যেতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে  সাহিত্যিক, সাংবাদিক, কলামিষ্টগন তাঁদের নিবন্ধে, কবিতায়, লেখনীতে ঘৃনিত ও' নিন্দিতকারে  প্রতিনিয়ত প্রকাশ করে যাচ্ছেন।

         দুর্নীতি আগে কখনই ছিলনা এমন নয়। সর্বক্ষেত্রে দূর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিকতা বা ব্যাপকতা পেতে শুরু করে '৭৫ পরবর্তী অবৈধ ক্ষমতা দখলকারি সেনা সরকার সমূহের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার মানসে অ-রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের নানা প্রলোভনের মাধ্যমে দলে টানার প্রক্রিয়া  শুরু হলে।তখন থেকে দুর্নীতি এবং দূর্নীতিবাজ ব্যাক্তি সমাজে তাঁদের অবস্থান ধীরে ধীরে পাকাপোক্ত করে নেয়া শুরু করে।
 পরিশেষে এমন একটি অদ্ভূত দূর্নীতিগ্রস্ত সমাজ তাঁরা প্রতিষ্ঠা ককরতে সক্ষম হয় বিজ্ঞজনের লেখনীতে দূর্নীতিবাজ যতবেশী ঘৃনীত, নিন্দিতকারে প্রকাশ পেয়েছে; বাস্তবতায় রাষ্ট্র, সরকার, সমাজ, ব্যাক্তির অন্তরে বিষয়টি ততবেশী  গ্রহনীয়, অহংকারী, প্রতিযোগী, সম্মান, মায্যদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে।

         অস্বীকারের উপায় নেই  দূর্নীতিবাজ ব্যাক্তিবর্গ বর্তমান সময়ে এসে রাজনীতি, সমাজনীতি,অর্থনীতির চালিকাশক্তির ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়েছে এবং হচ্ছে। রাষ্ট্র কতৃক প্রকাশ্য এহেন দূর্নীতিবাজদের পৃষ্টপোষকতা দেয়া শুরু হলে  জনগনের ভক্তি শ্রদ্ধায়ও দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে থাকে। সর্বমহলের নিন্দা, ঘৃনায় 'লজ্জিত দুর্নীতিবাজ' ব্যাক্তি ধীরে ধীরে  সমাজের সর্বক্ষেত্রে ভূষনে পরিণত হতে থাকে। দূর্নীতিবাজ ব্যাক্তি ও গোষ্টির সীমাহীন স্পর্ধা বর্তমান সময়ে এমন পয্যায়ে এসে পৌছে গেছে--'স্বয়ং 'মহান আল্লাহ'কেও ঘুষ দিয়ে বশিভূত করার প্রক্রিয়ায় তাঁরা সামিল হতে লজ্জা অনূভব করছেনা।

  দূর্নীতিবাজগন  দূর্নীতির টাকায় পরকালে আল্লাহর দরবারে  সুখে শান্তিতে কোটি বছর অতিবাহিত করার বিশেষ অবলম্বন--'যত্রতত্র 'মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, গির্জা নির্মানে মনযোগী হয়ে পড়েছেন।একাজে তাঁরা সহযোগী হিসেবে কিনে নিতে পেরেছেন, আমাদের স্বল্প বেতনে তুষ্ট গরীব 'আলেম ওলামাদেরকে'। ফলে গ্রামের অধিকাংশ বাড়ীঘর বসবাস অনূপযোগী থাকলেও বেশীর ভাগ মসজিদ, মাদ্রাসা,মন্দির, গির্জা শ্বেত পাথরের শুভ্রতায় ঝক ঝক করছে। অথছ কোন কোন মসজিদ মাদ্রাসায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক মূসুল্লি, মাদ্রাসায় ছাত্র ছাত্রী, মন্দিরে পূজারীও নেই। আপাত:দৃষ্টে অসংলগ্ন  বক্তব্যটি অনেকের নিকট  বিতর্কিত, অগ্রহন-যোগ্য মনে হতে পারে ; চতূদিকে খোলা চোখে তাকালে ইহার সত্যতা  পাওয়া যাবে।

           মূলত: '২০০১-২০০৬' ইং সালে চারদলীয় জোটের নেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার পরিচালনাকালীন সময়ে  দূর্নীতি সর্বগ্রাসী রূপ পরিগ্রহ করে। উক্ত সময়ে '২০০২--২০০৬' ইং সালের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের দূর্নীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনে, বিশ্বের ১৭৩টি রাষ্ট্রের মধ্যে বাংলাদেশ পর পর ৪বার দূর্নীতিতে শীর্ষস্থান দখল করে। তখন পয্যন্ত বাংলাদেশের বিশ্বদরবারে গর্ব করার তেমন কোন উপযোগিতা না থাকলেও লজ্জিত হওয়ার উপযোগীতায় বিশ্বব্যাংকের ইতিহাসে বিরল এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

   সঙ্গত কারনে বিষয়টির প্রভাবে বিদেশী বিনিয়োগ, দেশীয় ব্যবসা বানিজ্য, আন্তরাষ্ট্রীয় যোগাযোগ, চুক্তি ইত্যাদি ক্ষেত্রে হতাশা নেমে আসে। বাংলাদেশ সর্বদিক থেকে একটি ব্যার্থ রাষ্ট্রের দিকে দাবিত হতে থাকে। উক্ত সময়ে রাষ্ট্রীয় উচ্চপদে অধিষ্ঠিত ব্যাক্তিবর্গের অবাধ লুন্টন, অর্থপাচার, বিদেশে অর্থলগ্নি, বিদেশী সরকার কতৃক তদীয় দেশের ব্যাংকে জমানো বাংলাদেশের লুটের টাকা জব্দ, বিদেশে ক্রয়কৃত সম্পত্তি তদীয় সরকার কতৃক বাজায়াপ্তের নানাবিধ কাহিনী দেশী--বিদেশী মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারিত হয়।দেশের স্বনামধন্য লেখক,বুদ্ধিজীবি,সমাজের নানাস্তরের ব্যাক্তিবর্গ-- "খালেদা পরিবারের দুর্নীতি, লুটপাটের নানাচিত্র তুলে ধরে, তাঁর  কূফল ও নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কীত বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করা হলেও অকুন্ঠ দূর্নীতিতে নিমজ্জিত জিয়া পরিবার কারো কথাই কানে তুলেনি।
 
     বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষস্থানীয় ব্যাক্তি হিসেবে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রধানমন্ত্রী  খালেদা জিয়া নিজেই নিজের পরিবারের দূর্নীতি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে সামান্য লজ্জিত বা বুক কাঁপেনি। তাঁর পরিবারের তিন সদস্যই 'মঈন ইউ আহম্মদের সেনা সমর্থিত ফখরু উদ্দিনের তত্বাবধায়ক সরকার'কে যথারীতি 'কালটাকা সাদা করার ধায্য কর' পরিশোধ  করে সাদা টাকায় রুপান্তর  করার মাধ্যমে। দেশবাসী এবং বিশ্ববাসি অবাক, স্তম্ভিত হয়ে পড়ে খালেদা জিয়ার উক্ত নিলজ্জ ঘটনার প্রেক্ষিত বিবেচনায়।বাংলাদেশের সদ্য সর্বোচ্চ নির্বাহী কি করে আয় বহির্ভূত কাল টাকার মালিক হতে পারে! উক্ত অনৈতিক উপার্জনের বিরূদ্ধে সঠিকভাবে রাষ্ট্রীয় ব্যাবস্থা আজো নেয়া হয়নি।ব্যবস্থা না নেয়ার কারন মজ্জাগতভাবে এতদিনে বাঙ্গালী চরিত্রে দূর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ বৈধতা পেয়ে গেছে।রাষ্ট্রীয় ভাবে আইনী ব্যবস্থা নিতে গেলে হয়তো বা দেশটাই অনির্দিষ্ট কালের জন্যে অচল করে দিতে পারে।

 চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী--রাষ্ট্রপরিচালনায় শীর্ষ ব্যাক্তিত্রয়(মা+দুইছেলে)  দূর্নীতিতে জড়িত, সেখানে মনিষীদের উপদেশ মূখরোচক কাহিনী হয়ে জনগনের মূখে মূখেই থেকে গেছে।

  মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তি সবমহলের আশা ছিল-- স্বাধীন সাররবভৌম  বাংলাদেশে বসবাসকারী সকলেই যেহেতু একই জাতিসত্বার  অধিকারী;সেহেতু সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি সহ সর্বক্ষেত্রে অধিক মূল্য, গুরুত্ব, প্রভাব থাকবে--'জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিক্ষা, সংস্কৃতি, আবিস্কার, উদ্ভাবন, শিল্প, সর্বোপরি আদর্শ, নীতি-নৈতিকতার'।সেখানে---(চলমান-২)
ruhulaminmujumder27@gmail.com

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg