সর্বগ্রাসী দূর্নীতির উৎপত্তি--টি আইবি'র ভূমিকা--বর্তমান সরকারের দূর্নীতি বিরুধী মনোভাব। (পঞ্চম  কিস্তি)

    রুহুল আমিন মজুমদার:-- '৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙ্গালী জাতি শুধুমাত্র পাকিস্তানী শাষক শ্রেনীর ৯৩ হাজার আধুনিক অস্ত্রে সু-সজ্জিত সেনাসদস্যকে পরাজিত করে স্বাধীনতার লাল সূর্য্য চিনিয়ে আনেনি।তাঁর সঙ্গে পরাজিত করেছিল--'পাকিস্তান সরকার কতৃক গৃহিত রাষ্ট্র পরিচালনা সংক্রান্ত সকল 'নীতি আদর্শ'কেও।পাকিস্তান সরকারের অনূসৃত নীতি আদর্শের উল্লেখযোগ্য দিক সমূহের মধ্যে--(১) ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাজনীতি (২)সাম্রাজ্যবাদের উদ্ভাবিত শোষন শাষনের গনতন্ত্র (৩) লুটপাটের পূঁজিবাদী অর্থনীতি (৪)ধর্মবর্ণ, জাতিগোষ্টি শ্রেনী ভেদাবেদের শাষন শোষন পদ্ধতি।

    উল্লেখিত নীতি আদর্শের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৩ বছর সর্বাত্মক আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে জাতির জনক 'বঙ্গবন্ধু' বাঙ্গালী জাতিকে সংগঠিত করেন। পরিশেষে অনিবায্য মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানী শাষক শোষক, তাঁদের তল্পিবাহক সর্বোপরি তাঁদের অনূসৃত নীতি আদর্শকে চিরতরে পরাজিত করেন।অত:পর সঙ্গতকারনে তাঁদের অনূসৃত নীতির বিপরীতে বাঙ্গালী 'জাতিসত্বা ভিত্তিক,শোষন শাষন মুক্ত, সমতাভিত্তিক সমাজ বিনির্মান, জনগনতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, ধর্মবর্ণ, সম্প্রদায় নিরপেক্ষ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন।

     জাতির জনক বঙ্গবন্ধু নতুন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হাতে নিয়ে,  উল্লেখিত পরাজিত শক্তির নীতি আদর্শের বিপরীতে, 'দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের অনিবায্য পরিণতি মহান মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গিকার অনুযায়ী' স্বল্প সময়ের মধ্যে নীতিনৈতিকতা পরিপূর্ণ রাষ্ট্রপরিচালনার একটি পূর্ণাঙ্গ লিখিত দলিল 'সংবিধান' রচনা করেন।

         ''বঙ্গবন্ধু" শোষনহীন সমাজ বিনির্মানের নিমিত্তে গৃহিত সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির আলোকে সামাজিক শোষনহীন, সমতা ভিত্তিক গনতান্ত্রিক অর্থনীতির ধারার প্রবর্তন করেন। উক্ত নীতির আলোকে বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষে--রাষ্ট্র, রাজনীতি সহ মানব জীবনের সর্বক্ষেত্রে তিনি অধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন---"জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিক্ষা, আবিস্কার, উদ্ভাবন, শিল্প, সংস্কৃতি, নীতি, আদর্শ সর্বোপরি নৈতিকতার উপর।

    খুনিচক্র বঙ্গবন্ধুকে নৃসংশভাবে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তির অনুসৃত অর্থনৈতিক নীতি পূণ:রায় জাতির ঘাঁড়ে চাপিয়ে দেয়। তাঁদের চাপিয়ে দেয়া পুঁজিবাদী অর্থনীতি'র কল্যানে ব্যাক্তি, পরিবার, সমাজের--নীতি-নৈতিকতা, সম্মান, ব্যাক্তিত্ব অনায়াসে  দখল করে নেয় অনৈতিকতায় ভরপূর  সমাজের ঘৃনিত, নিন্দিত, নিকৃষ্টতম ব্যাক্তি কাল টাকার মালিক দূর্নীতিবাজ গন।

   জাতির জনক বঙ্গবন্ধু "দূর্নীতিবাজ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে  প্রচন্ড ঘৃনা  করতেন। বিষয়টি দিব্যচোখে উপলব্দি করা যায় যখন তিনি তাঁর আ-জীবনের সংগ্রাম সাধনা 'পশ্চিমা লুটপাটের গনতান্ত্রিক ধারা' পরিত্যাগ করে 'শোষনমুক্ত সামাজিক ন্যায়নীতি ভিত্তিক জনগনতান্ত্রিক ধারায়' তাঁর শাষন ব্যাবস্থা প্রবর্তন করেন। সমসাময়িক কালের বিভিন্ন দেশের ক্ষমতাসীন সরকারের প্রধানদের মধ্যে একমাত্র বঙ্গবন্ধুই  প্রকাশ্য জনসভায় 'দূর্নীতি"র স্বীকারোক্তি  দিয়েছিলেন।  বিশ্ব ইতিহাসে দূর্নীতির মূল উৎপাটনে রাষ্ট্রীয় শীর্ষপদে থেকে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষনাও করেছিলেন একমাত্র 'বঙ্গবন্ধু।'  রাষ্ট্রীয় শীর্ষ পদে থেকে  সর্বপ্রকার দূর্নীতি অস্বীকার করে "সাধু সরকার পরিচালনার' সংস্কৃতি  পূর্বেও ছিল এখনও আছে। প্রচলিত রীতিনীতি উপেক্ষা করে "বঙ্গবন্ধু" দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুধু যুদ্ধ ঘোষনাই করেননি-- সামাজিক বিপ্লব সংগঠন এবং জাতিকে উদ্ভোদ্ধ করার জন্যে বিদ্যমান সকল শ্রেনীপেশার জনগনকে সম্পৃত্ত করে "বাকশাল জাতীয় সরকার" প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

      'বাকশাল' শাষন ব্যাবস্থা প্রবর্তনের আগে পরে দেয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষন  মনযোগ দিয়ে শ্রবন করলে--'যে কেউ আমার কথার সত্যতা পাবেন'। বাকশাল' গঠনের কারন উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন--"দুর্নীতি আমার কৃষক করেনা, দুর্নীতি আমার শ্রমিক করেনা।দুর্নীতি করে আমার কৃষক, শ্রমিকের টেক্সের টাকায় যারা ইঞ্জিনিয়ার হয়েছেন, ডাক্তার হয়েছেন, অফিসার হয়েছেন তাঁরা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করে তিনি আরো বলেন--"প্রয়োজন হলে আমি লাল ঘোড়া দাবড়াবো।"

     বঙ্গবন্ধুর মূল আদর্শ ছিল দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে সততা,ন্যায়পরায়নতা, আইনের শাষন, সমতা ভিত্তিক ন্যায়নীতির সমাজ প্রতিষ্ঠা, সামাজিক সমতা সর্বোপরি সর্বস্তরে নৈতিকতার সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। আর সেই ন্যায়নীতির সমাজ, আইনের শাষন প্রতিষ্ঠার মূল দর্শন ছিল "বাকশাল" অর্থাৎ "বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ"। মূলত: "বাকশাল দর্শন" ছিল  দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতি সহ সকল অনৈতিকতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান মারাণাস্ত্র। বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন দুর্নীতিমূক্ত ব্যাক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র ও সরকার ব্যাতিত তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশের কাংখীত উন্নয়ন, অগ্রগতি, সমৃদ্ধি, জনগনের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন কোন অবস্থায় সম্ভব হবেনা। তাই তিনি তাঁর "রাজনৈতিক পরিপক্কতায় সর্বোচ্চ  স্তরে পৌঁছে তাঁর মেধায় দীর্ঘকাল সঞ্চিত অভিজ্ঞতার আলোকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক চিন্তাচেতনা দর্শনাকারে প্রকাশ করেছিলেন।বঙ্গবন্ধু তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মানের  লক্ষে "কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ"কে  সংক্ষিপ্ত করে 'বাকশাল' নামে দর্শনভিত্তিক ''জাতীয় সরকার ব্যাবস্থা" প্রবর্তন করেছিলেন।
 
 বঙ্গবন্ধুকে শুধুমাত্র নতুন বাংলাদেশের শাষক পরিবর্তনের ইচ্ছার বশবর্তি হয়ে দেশীয় ও আন্তজাতিক  ষড়যন্ত্রে হত্যা করা হয়নি। বঙ্গবন্ধুর "বাকশাল জাতীয় সরকারে"র ঘোষনা--'পুজিবাদী শোষন,শাষন,তাঁদের  তল্পিবাহক, ধর্মীয় মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তি, সর্বোপরি সাম্রাজ্যবাদী শক্তির শোষনের বিরুদ্ধে প্রচন্ড আঘাত সৃষ্টি করেছিল। পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী গোষ্টি "বাকশাল জাতীয় সরকার"কে তাঁদের রক্ষিত পুঁজিবাদী অর্থনীতি ভিত্তিক শোষনশাষন, লুটপাটের প্রতিষ্ঠিত সমাজের বিপরীতে শোষনমূক্ত, সমতা ভিত্তিক, ন্যায়নীতির সমাজ প্রতিষ্ঠা" হিসেবে বিবেচনা করে।" এবং এও মনে করে যে-- 'বাকশাল" ব্যবস্থা পূরিপূর্ণতা পেলে দ: পূর্ব এশিয়ায় তাঁদের লূটপাটের বৃহত্তর বাজার হাতছাড়া হবে।'' উক্ত বিবেচনায় 'সর্বকালের সেরা বাঙ্গালী দার্শনিক, বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রনায়ক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সকল অশুভ শক্তি মিলিত হয়ে নৃসংশভাবে হত্যা করে।  

      উল্লেখিত দূর্নীতি বিরুধী "বঙ্গবন্ধু"র অবস্থান সম্পর্কে আমার বক্তব্যের সত্যতা নির্ণয়ের জন্যে বেশীদূর যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা জানি "টিআইবি'র জন্ম হয়েছিল ১৯৯৬ সালে।এবং অবশ্যই ক্ষমতাসীন "আওয়ামী লীগ সরকারে"র প্রত্যক্ষ সহযোগীতায়। কিন্তু জম্ম থেকে সংস্থাটি সকল সরকারের রোষানলের আগুনে দগ্ধ। অবশ্য টিআইবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল "বঙ্গবন্ধুর আদর্শ"কে ধারন করে, এবং তাঁর আদর্শকে লালন করার মানষে।উল্লেখিত বক্তব্য কোনমতেই আমার মনগড়া নয়--"টিআইবি'র প্রতিষ্ঠাতা কর্ণধারদের অন্যতম  জনাব  ড. ইফতে খারুজ্জমান' সাহেবের কথা। অতিসম্প্রতি তাঁর একটি নিবন্ধে বিষয়টির বিশদ বর্ণনা দিয়ে  অবলীলায় "দূর্নীতি'র বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবস্থান"  স্বীকার করে "বাকশাল জাতীয় সরকারের উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন।

    তিনি একপয্যায় বলেন---"টিআইবির কার্যক্রমের ধারণাগত কাঠামোর অন্যতম উৎস ১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চ দেওয়া বঙ্গবন্ধুর  ভাষণ। যেখানে তিনি বলেছিলেন-- "দুর্নীতিবিরোধী আইনের কথা, দুর্নীতিবাজ কাউকে ছাড় না দেওয়ার কথা, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার কথা, রাজনৈতিক সদিচ্ছার কথা, আর বলেছিলেন ছাত্র-তরুণ-বুদ্ধিজীবী সহ সব নাগরিকের সংঘবদ্ধ গণ-আন্দোলনের কথা।"

   জনাব ড. ইফতেখারুজ্জমান সাহেবের নিবন্ধের বক্তব্যের প্রেক্ষিত বিবেচনায় নিলে দেখা যায়---'১৫ আগষ্ট কালরাতে খুনীরা শুধুমাত্র বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেনি।তাঁরা হত্যা করেছিল দুর্নীতির  বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াইয়ের "প্রধান সেনাপতিকে। খুনীরা দুর্নীতি বিরুধী লড়াইয়ের প্রধান সেনাপতিকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি ; কেড়ে নিয়েছিল--নীতি নৈতিকতায় সমৃদ্ধ পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক সাম্য, নীতিনৈতিকতা বিকশিত করার  আবশ্যকীয় পাঠ, প্রধান মারাণাস্ত্র  "বাকশাল জাতীয় সরকারে"র দর্শন।  (চলমান পাতা:-৫)
           ruhulaminmujumder27@gmail.com

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg