সর্বগ্রাসী দূর্নীতির উৎপত্তি; টি আই বি'র ভূমিকা--বর্তমান সরকারের দূর্নীতি বিরূধী মনোভাব। (সপ্তম কিস্তি)


রুহুল আমিন মজুমদার:--কালক্রমে দূর্নীতির বিষবৃক্ষ ডালপালা ছড়িয়ে সারা দেশকে আচ্ছন্ন করে পেলেছে। দূর্নীতির শিকড় ছড়িয়ে পড়েছে বাঙ্গালী জাতীর রক্ত প্রবাহের সঙ্গে।অনৈতিকতা, দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি সর্বক্ষেত্রে নীতিহীনতা জাতীয় পয্যায় পাথরসম শক্ত হয়ে জাতীকে  আষ্টে পৃষ্টে বেঁধে নিয়েছে।সর্বক্ষেত্রে বাঙ্গালী জাতির বোধদয় লোপ পেয়েছে, চেতনা লোপ পেয়েছে, নীতিনৈতিকতা লোপ পেয়েছে। বর্তমান সময়ে এসে কোন কাজটি দূর্নীতিযুক্ত, অবৈধ--কোনটি নয় অনুধাবন করার শক্তি জতি হারিয়ে পেলেছে।চোট কয়েকটি উদাহরণ দিলে পাঠকদের বুঝতে আরো সহজ হবে। অনে করি। যেমন:--

     মান্ধাতার আমলের 'মহাজনী সূদের ব্যবসা' হাল আমলে চেয়ার টেবিল সাজিয়ে অফিস দখল করে 'মাল্টিপারপাস' ব্যাবসা নামধারন করেছে। ডিজিটাল সাইনবোর্ডে নামের আগে 'আল' শব্দযুক্ত অথবা ইসলামী শরিয়া ভিত্তিক খোদাই করে ধর্মীয় নিম্নতম প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে  চড়া সুদের রমরমা ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে।উক্ত ব্যাবসার একচেটিয়া মালিক 'জামায়াতের ইসলামী বাংলাদেশ' দলের অনুসারী নেতাকর্মীদের।আমরা সবাই বলি 'জামায়াত' একটি ইসলামী আদর্শ অনুসরনকারী 'রাজনৈতিক দল'।

        দারিদ্রতা বিমোচনে কতিপয় এনজিও বাংলাদেশব্যাপী ব্যাপৃত রয়েছে। কাগজে কলমে দরিদ্র মহিলাদের ঋন দিয়ে স্বাবলম্বিতা অর্জনে  সহযোগীতা করাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য। যেমন--'গ্রামীন ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক, আশা ব্যাংক' সহ আরো কতিপয় এনজিও।স্বল্পসূদে দরিদ্র মহিলাদের ঋন দিয়ে তাঁরা সাপ্তাহিক কিস্তিতে পরিশোধের  সময় সীমা নির্ধারন করে দেয়। নির্দিষ্ট দিনে কিস্তির টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে 'ঋনগ্রহিতার গরু, ছাগল হাড়িপাতিল' নিয়ে টানাটানি শুরু করে। স্বল্প সুদের ঋনের আড়ালে সুদের হার ৬০/৭০ টাকা পয্যন্ত হয়ে থাকে এই সমস্ত এনজিও গুলীর।এই এনজিও মালিকদের আমরা সবাই বলি বুদ্ধিজীবি--এদের মধ্যে অনেকেই দেখা যায় আন্তজাতিক পয্যায় সবচেয়ে দামি নোবেল প্রাইজেও ভূষিত হয়।লক্ষনীয় বিষয়টি হচ্ছে--'তিনি কাজ করেন কথিত দারিদ্র বিমোচনে ক্ষুদ্র ঋন নিয়ে, নোবেল পুরস্কার পান 'তথাকথিত শান্তিতে'। আমরা সবাই তাঁদের বলি আন্তজাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ব্যাক্তিত্ব!!

     এই একটিমাত্র ঘটনাও যদি চিন্তা করা যায়--তাহলেও অনূধাবন করা যায়, মূলত: বাংলাদেশে বহুজাতিক সংস্থাগুলী কি চায়।বহুজাতিক সংস্থার নিয়ন্ত্রক সাম্রাজ্যবাদী শক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার প্রয়োজন পড়েছিল।

     ঘুষকে নতুন নামে ডাকি পরিশ্রমের উপরি পাওনা(খোদ বর্তমান সরকারের মন্ত্রীর মূখেও শুনেছি)। চাঁদাবাজি, মাস্তানী, প্রভাব বিস্তারকে বলি রাজনীতি। চুরি, ডাকাতি, রাহাজানী, চিনতাই মামলায়  জেলে গেলে বলি 'জেলফেরৎ দলের ত্যাগী নেতা'! ঐসমস্ত পাড়া মহল্লার ত্যাগী নেতার 'জেলমূক্তিতে সম্বধনার আয়োজন চলে আবারও চাঁদার টাকায়। আমরা তাঁদের বলি দলের প্রভাবশালী নেতা!!

     দখলবাজি, টেন্ডারবাজীকে বলি নেতা বহু গুনে গুনাম্বিত---"টাকা পয়সা, ধন  সম্পদ অর্জনে সফল নেতা। কালবাজারীকে বলি এপার ওপার  প্লাইং ব্যবসা। বড় পুঁজিদার ব্যাবসায়ী হলে বলি--"আমদানী-রপ্তানী জগতের 'ম্যাগনেট'!! সফল ব্যাবসায়ী!! ঐ সমস্ত দূর্নীতিবাজের অনৈতিক অহরনের টাকায় মসজিদ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে অনন্তকাল কবরে নেকী যুক্ত করার চেষ্টাকারীকে বলি দানবীর!! আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে গগন বিদির্ণ করে মাঠজুড়ে হুজুরের সাথে তালমিলিয়ে "মারহাবা"য় শরিক হতেও দ্বিধা করিনা!!

     ভাবতে অবাক লাগে--"বাঙ্গালীর  বিবেচনা বোধ, চেতনাবোধ, সততার অহংবোধ "পুঁজিবাদী অর্থনীতির কল্যানে তথা খোলা বাজার অর্থনীতির কল্যানে কোথায় নেমে গেছে"--রুচিবোধ, ধর্মীয় চেতনাবোধ কত নিম্ন পয্যায়ের অস্ত্রে ভোঁতা করে দিয়েছে!!
 
       কেউ যদি বলে 'বর্তমান সরকারের সফলতা রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে উধ্বমূখী, তথ্যমন্ত্রনালয় তথ্য প্রকাশ করেছে--আপনি কি একমত? আপনি কি মনে করেন সরকারের কোন খাতেই ব্যার্থতা নেই? আমি সোজা   তাঁকে উত্তর দিতে কুন্ঠিত হবনা-"অবশ্যই ব্যার্থতা  আছে--"সেই ব্যার্থতা সরকারের সফলতার যতগুলী খাতের সূচক উধ্বমূখী চিহ্নিত করে তথ্য প্রকাশ করেছে;ঠিক ততগুলী উধ্বমূখী খাতের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, শিরা উপশিরায় ''দূর্নীতি নামক অনৈতিক ব্যাধির জার্ম''   প্রবাহিত হচ্ছে। সরকার বাৎসরিক খাত ওয়ারী উধ্বমূখী  সূচকের রেখচিত্র প্রদর্শন করেছে--"দূর্নীতির "এক্স-রে" রিপোর্ট প্রকাশ করেনি"!!

      সরকারের উন্নয়ন বাজেটের অতিসহজ একটি উদাহরণ দিয়ে উল্লেখিত বক্তব্যের সত্যতা তুলে ধরছি-- "দূর্নীতি"র ধরন কত ব্যাপক, নিলজ্জ, সর্বব্যাপি যে কেউ হতভম্ব না হয়ে উপায় থাকেনা।  উন্নয়ন প্রকল্পের বছর বছর ব্যায়বৃদ্ধির দিকে তাকিয়ে দেখুন--কি পরিমান অর্থ সরকারের উন্নয়ন বরাদ্ধে দুর্নীতি হয়। এমন সব প্রকল্পের নাম  বলা যায়--'শুরুতে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্ধ দেয়া হয়েছিল শেষ পয্যন্ত কাজের পরিধি না বাড়িয়ে ব্যয় বরাদ্ধ  তিন চার গুন বাড়ানোর পরও উক্ত প্রকল্পের কাজ হয়তোবা এখনো সমাপ্ত করা যায়নি।"

       বিশেষ ভাবে  উল্লেখ্ করতে চাই--প্রকল্প গ্রহন করার সময় আনুষাঙ্গীক খরছ সহ ১০% হারে ঠিকাদারের লভ্যাংশ যুক্ত করে ব্যয়বরাদ্ধ নির্ধারন করা হয়েছিল।বছরান্তে তিন চার বার ব্যয় সংশোধনের কি কারন থাকতে পারে-? বলতে পারেন মূল্য স্ফীতির কারনে ব্যয় বরাদ্ধ বাড়াতে হয়েছে-- অবান্তর নয়, এক্ষেত্রে অর্থনীতিতে কত পার্সেন্ট মূল্যস্ফীতি ঘটলে  প্রকল্পব্যায় দ্বিগুন হতে পারে? আপনি কি কখনও শুনেছেন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কোন অর্থবছর মূল্যস্ফীতি দ্বিগুন আকার ধারন করেছিল?

     এই প্রসঙ্গে ১১ই ডিসেম্বর ২০১৬ ইং সালে দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার উপ সম্পাদকীয় কলামে জনাব আবু নোমান বিস্তারীত এক নিবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন।নিবন্ধে দূর্নীতির ভয়াবহতা এবং ক্ষমতাসীন সরকারের উদাসীনতার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।  উক্ত নিবন্ধের দুটি চরন পাঠকদের উদ্দেশ্যে হুবহু কপি পেষ্ট তুলে দিলাম।

  তৎসময়ের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান 'নজিবুর রহমান' একটি পরিসংখ্যানে বলেছেন, রফতানিকারকদের দেয়া বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৫৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ যে পরিমাণ বন্ড সুবিধার অপব্যবহার হয় তা ঠেকানো গেলে বছরে ২টি পদ্মা সেতুর সমপরিমাণ অর্থায়ন করা সম্ভব। ড. ইফতেখারুজ্জামানের মতে, রাষ্ট্রের সব খাত মিলিয়ে দুর্নীতির পরিমাণ কমপক্ষে জিডিপির ৫ শতাংশ। যাতে ক্ষতির পরিমাণ ৬৫ থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকার কম নয়।

       বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, নীতিনির্ধারকদের দুর্নীতি সম্পর্কে উদাসীনতার কয়েকটি উদাহরন পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা প্রয়োজন মনে করি। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন-- ‘নিজেদের লোকদের সমর্থনের কারণে সোনালী ও বেসিক ব্যাংক অর্থ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি পারেননি’। শেয়ার কেলেঙ্কারির কারণে ৩৪ লাখ বিনিয়োগকারী পথে বসলেও অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন-- ‘আমি শেয়ারবাজার বুঝি না’। হলমার্ক কেলেঙ্কারি নিয়ে হইচই করার কিছু নেই বলে মনে করছেন অর্থমন্ত্রী। এমনকি তিন বা চার হাজার কোটি টাকা Its Nothing  বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরির ব্যাপারে এফবিসিসিআই সভাপতি সরকারের আস্থাভাজন আবদুল মাতলুব আহমেদ বলেছিলেন, ‘এটা কোন বিষয় না--‘অত বড় চোর নয়, ছেঁচড়া চোর’।

   এবার বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগ এই সম্পর্কীত বিষয় কি বলেছিল-- সেদিকে নজর দিয়ে দেখি। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন--''সবাই পায় সোনার খনি, তেলের খনি--আমি পেয়েছি চোরের খনি"। যারেই যেখানে দায়িত্ব দেই--"সে কেবল চুরি করে’।
(চলমান পাতা:--৭)
      ruhulaminmujumder27@gmail.com

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg