খালেদার জাতীয় ঐক্যের আহব্বান-ভোটহীন হাইপ্রোফাইল রাজনীতিবীদদের কাঁধে ভর করে রাজনীতিতে ফিরে আসার কৌশল।

খালেদার জাতীয় ঐক্যের আহব্বান--রাজনীতি, রাজপথ, নির্বাচনে ফিরে আসার কৌশল।
_____________________________________

জাতীয় ঐক্য বললেই তো আসবে জাতি প্রশ্নটি। পাকিস্তানের উম্মেসলগ্ন থেকে জাতি প্রশ্নে বিতর্ক শুরু হয়। বিতর্কের মুলকারিগর ছিলেন পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী (জিন্নাহ)। পুর্ব-পশ্চিমের বিশাল বাংলা ভাষাবাসিদের দুইটি স্বাধীন রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য মহান নেতা এ,কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী সহ প্রতিযসা বাঙ্গালী নেতৃবৃন্দ ভঙ্গবঙ্গ প্রস্তাব উত্থাপন করে অনেকটা পথ অতিক্রম করার পর, কায়দে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নার নেতৃত্বে হিন্দু এবং মসুলমান দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের দুটি রাষ্ট্র কাঠামোর প্রাস্তাব উত্থাপন করেন।
"প্রস্তাবনার নাম দেয়া হয় " দ্বিজাতিতত্ব। "

     বাঙ্গালীরা সেদিনও ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িকতার জাতীয়তাবাদ মেনে নিতে পারেননি। অবস্থার প্রেক্ষাপটে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে পাকিস্তানের জম্ম লাভ করে। বছর না ঘুরতেই পশ্চিম পাকিস্তানীদের চেহারায় পুর্ব পাকিস্তানকে শোষন করার জন্য কলোনী হিসেবে পেতে ধর্মকেই হাতিয়ার করেছিল তাঁর প্রমান মেলে।১৯৪৭এ দেশভাগের পরের বছরই ১৯৪৮ ইং সালেই সরকারের নীতিনির্ধারক পয্যায় থেকে বলা হতে থাকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা উর্দু হবে। অথছ বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামোতে উর্দুতে কথা বলে মাত্র শতকরা সাত ভাগ মানুষ।বাংলায় কথা বলে শতকরা চাপ্পান্ন ভাগ মানুষ।পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যেই সংখ্যা লগিষ্ট মানুষ তখন উর্দুতে কথা বলে।রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার আগেই শুরু হয় বাংলাকে খতনা পড়ানোর কাজ।একমাত্র বঙ্গোবসাগর ছাড়া আর কিছুই বাকি রাখেনি খতনাবিহীন।

      তাঁর পরবর্তি ইতিহাস পাকিস্তানের পুর্বাংশে মাতৃভাষা রক্ষার দাবিতে গড়ে উঠে ভাষা আন্দোলন।ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের বাঙ্গালীরা মহৎ এই সাংস্কৃতিক আন্দোলনে যুক্ত হয়, তাঁর ইতিহাস আমাদের সকলেরই জানা।

    উক্ত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষাবাসীদের মধ্যে গড়ে উঠে অসাম্প্রদায়িক ভাষাভিত্তিক বাঙালী জাতীয়তাবোধের চেতনা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ৬দফা ঘোষিত হলে ধীরে ধীরে গড়ে উঠে বাঙ্গালীদের মধ্যে জাতীয় ঐক্য। সেই জাতীয় ঐক্যের পরিনতি লাভ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের। ঐক্যবদ্ধ জাতি দীর্ঘ নয়মাস রক্তক্ষয়ী সসস্ত্র যুদ্ধে জয়লাভ করে "দ্বিজাতিতত্ব ভিত্তিক" সাম্প্রদায়িকতার কবর দিয়ে ভাষাভিত্তিক "অ-সাম্প্রদায়িক বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ " প্রতিষ্ঠিত করে।

     স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়ের অব্যবহিত পরেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান নতুন দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হন।তিনি প্রথমেই দীর্ঘ সংগ্রাম,ত্যাগ, সর্বপরি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি সম্মান রেখে নতুন স্বাধীন  বাংলাদেশের শাষনতন্ত্রে গনতন্ত্র,  শোষনহীন সমাজ কায়েমের লক্ষে 'সমাজতন্ত্র' ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদকে' রাষ্ট্রের মুলভিত্তি ধরে অপরিবর্তনীয়, অমোচনীয়কারে প্রস্তাবনার শীর্ষে ঠাঁই দেন।

      বাঙ্গালী জাতী , ত্যাগ, সংগ্রামের, সাগরসম রক্ত, প্রায় পৌঁনে পাছ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনীময়ে অসাম্প্রদায়িক বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠায় স্বস্থিবোধ করে এবং সহমর্মীতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরে নীজেদেরকে বীরের জাতী হিসেবে অবিহীত করে।

  এবার বর্তমানের দেশব্যাপি আলোচনার বিষয় বস্তুতে ফিরে আসি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অখন্ড পাকিস্তানের দীর্ঘ তেইশ বছরের সংগ্রাম, ত্যাগ, তিতিক্ষার ফসল অসাম্প্রদায়িক বাঙালী জাতীয়তাবাদ। অন্যদিকে শোষন বঞ্চনা আর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উৎপত্তি ভুয়া ধর্মীয় চেতনায় বিশ্বাসী সাম্প্রদায়িক দ্বি-জাতিতত্ব ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ।
"জাতীয় ঐক্য কি হতে পারে?"

     মুলকথা হল বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্য সংগঠিত হওয়ার জন্য এই আহব্বান জানায়নি।একাধিক দলের মধ্যে সমাঝোতা হলেই জাতীয় ঐক্য হয়ে গেছে ধারানাটা নিতান্তই ভুল।আবার একদলের ডাকেও জাতীয় ঐক্য হয়না এই ধারনাটিও ভুল।বহুদলের মিলনে জোটবদ্ধতার উদাহরন আছে-জাতীয় ঐক্যের কোন উদাহরন নেই। একদলের ডাকে জাতীয় ঐক্য হতে পারে প্রকৃষ্ট উদাহরন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মুজিবের--
      "৬দফা কেন্দ্রিক শিষাঢালাই জাতীয় ঐক্য।"

   এখন প্রশ্ন হচ্ছে বিএনপি নেত্রী কোন জাতীর 'জাতীয় ঐক্য চাইলেন? 'দ্বিজাতিতত্ত্বভিত্তিক সাম্প্রদায়িক জাতীয়তার নাকি অসাম্প্রদায়িক  বাঙালী জাতীয়তার।'
 
     এই কারনেই বলছিলাম জাতীয় ঐক্য হওয়ার জন্য আহব্বান করা হয়নি,এই আহব্বান ষড়যন্ত্রের আহব্বান।এই আহব্বান ষড়যন্ত্রীদের মেধা থেকে বের হওয়া সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে প্রান দেয়ার জাতীয় ঐক্যের আহব্বান।

     বিধ্বস্ত বিএনপি অগনীতবার চেষ্টার পরও যখন রাজপথে আসতে পারেনি-ষড়যন্ত্রীদের মিলনও ঘটেনি। দীর্ঘ চেষ্টার পর গুলশান হামলা তাঁদের ষড়যন্ত্রকে সফল করার সুযোগ দিয়েছে।

      এই ষড়যন্ত্রে জড়িত বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের রচয়িতা দাবিদার ড. কামাল হোসেন, বঙ্গবন্ধুর স্নেহতুল্য, পুত্রতুল্য কাদের সিদ্দিকি সাহেব, অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিদার সমাজতন্ত্রের বাংলাদেশী প্রবক্তা মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম গং এবং তদীয় বুদ্ধির জাহাজ সমতুল্য গভীর রাতের টকশো বুদ্ধিজীবিগন।
 
উল্লেখিত ব্যাক্তিগন এবং তাঁদের সংগঠনকে বিশদলীয় জোটের অন্তভুক্ত করার মহাপরিকল্পনার অংশই হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের আহব্বান।এতে যদিও দীর্ঘদিনের পরিক্ষীত সমমনা বন্ধু জামায়াতকে কিছু সময়ের জন্য ভল্টে রাখার প্রয়োজন হয়, তাতেও রাজী উভয় দল এবং তাঁদের নেতাগন।বৃহৎ স্বার্থে ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করার সুত্র ধরেই জামায়াত উক্ত প্রস্তাব বিশদলের নেত্রীর উপর ছেড়ে দিয়েছেন,আপাতদৃষ্টে মনে হচ্ছে।

      পঁচাত্তরে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যা-ক্যুয়ের ভেতর দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে কবর দেয়া যে বিতর্ক ফিরিয়ে এনেছিল মেজর জিয়া। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা বিতর্ককে কবর দেয়ার জন্য জাতির জনকের কন্যা একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌছে গেছেন। ঠিক চুড়ান্ত সফলতার আগেই সাম্প্রদায়িকতার প্রভুর পায়ে পানি ঢেলে প্রান ফিরিয়ে দেয়ার চক্রান্তে লিপ্ত হলেন কথিত অসাম্প্রদায়িক চেতনার আলখেল্ল্যা পরিহীত কিছু বেঈমান কুলাংগার।

      এই চক্রান্তের সুত্রপাত হয়েছিল বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল থেকে। শেষ দিন তিনি দেশের বিশিষ্টজনদের প্রয়োজনে সরকারের অংশিদারিত্ব দেবেন ঘোষনা করেছিলেন।বর্তমান প্রধান বিচারপতিকে প্রেসিডেন্ট করার ওয়াদাও করেছিলেন ভারতের প্রধান মন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে। মুলত: তাঁদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভুলের কারনে তাঁদের দল বিপযস্তায় পড়ে রাজপথ, নির্বাচন থেকে চিটকে পড়েছে।, তাঁদেরকে আবার রাজপথে আনার ঠিকাদারী গ্রহন করেছেন আমাদের দেশের তথাকথিত ভোটবিহীন হাই- প্রোফাইল রাজনীতিবীদগন। যাদের জনসমর্থন. `০০১ পার্সেন্ট আছে কিনা সন্দেহ। তবে তাঁদের  বিএনপিকে রাজপথে আনার ক্ষমতা অবশ্যই আছে, অস্বিকার করিনা। জাতি হিসেবে এখানেই আমাদের শংকরতার প্রমান মিলে।

এই বেঈমানের দল কতবড় বিপদ বাংলাদেশের মাথার উপর আবার তুলে দিতে উদ্যত হয়েছে জাতির বিশিষ্টজনেরা হয়ত অনেকে লক্ষও করতে পারেননি। একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে যতবেশি বাড়ছে পবিত্র ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতা, ততই ব্যবহার বেড়ে যাচ্ছে জাতীয় ঐক্য শব্দটির ব্যবহার।পাকিস্তানি শাষকেরাও শব্দটির বারংবার ব্যবহার করেছেন।

 ষড়যন্ত্রীদের জাতীয় ঐক্যের প্রধান ভিত্তি হলো স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করে নীজ স্বার্থ চরিতার্থ করা। চার দলীয় জোট খমতায় থাকাকালে সাম্প্রদায়িক গোষ্টির ষড়যন্ত্রের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে ভারতের সেভেন সিস্টারের বিচ্ছিন্নবাদী তৎপরতাকে সাম্প্রদায়িক গোষ্টি ‘স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বলে বাংলাদেশের মাটিতে তাঁদের অবস্থানের সুযোগ দেয়া। তার পরিণতি  চট্রগ্রাম বন্দরে ধৃত দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের ঘটনা।

সর্বশেষ উৎকন্টার বিষয়টি হচ্ছে- বিএনপি নেত্রী বাংলাদেশের বর্তমানের উগ্র জঙ্গি তৎপরতাকে-ভারতের সঙ্গে যুক্ত করে দেয়ার চেষ্টা। এই চক্রান্তের পরিণতি হতে পারে আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিপন্নতা। যারা এই বিপদ বাড়িয়ে চলার অবস্থান ও নীতি নিয়ে পূর্বাপর অগ্রসর হচ্ছে, তাদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য কখনো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তির হতে পারে না, হবে না।

     বস্তুতপক্ষে যে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হয়েছিল ৬দফা ভিত্তিক মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে,সেই চেতনায় সব মহল ফিরে এলে জাতীয় ঐক্য হতে আপত্তি থাকার কথা নয়। অসাম্প্রদায়িক চেতনার আলোকে জাতীয় সমঝোতার ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য স্বয়ংক্রিয় ভাবে ফিরে আসতে পারে। যদি জাতীয়ভাবে সবাই বাংলাদেশের  জন্মলগ্নের  অসাম্প্রদায়িক আদর্শকে মেনে নিতে পারে। জাতির জম্মের শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যদি জাতীয় ঐক্য গড়া হয়, তবে তা হবে জাতির আত্মহননেরই নামান্তর।

     অখন্ড পাকিস্তানের শাষনতন্ত্র রচনাকল্পে বহুবার চেষ্টা করা হয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলীর মধ্যে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করার, কিন্তু হয়নি।৬৫সালের ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধকে সামনে রেখে পাকিস্তানের বৃহত্তর স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে সমাঝোতার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।সব দল মিলে বিবৃতিতে স্বাক্ষরও করেছিল। পরবর্তিতে দেখা গেছে সেই জাতীয় ঐক্য মরিচিকায় পরিনত হয়েছে।মাত্র পাঁছ বছরের মাথায় নতুন জাতি সৃষ্টি হয়েছিল বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়ের মধ্য দিয়ে।

      স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র-উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য জঙ্গিবিরোধী জাতীয় ঐক্য আমাদের জাতির জন্য একান্ত প্রয়োজন ছিল।  জাতি হিসেবে আমাদের  দুর্ভাগ্য বিদ্যমান বাস্তবতায়  কোন অবস্থায় তা সম্ভব নয়।

    জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যেমনি ভাবে ৬ দফাকে তৃনমুল থেকে সংগঠিত করে জাতীয় ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের অনিবায্যতায় জাতিকে ঠেলে দিয়েছিলেন  ঠিক তেমনি ভাবে তাঁর জৈষ্ঠ কন্যা বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাও জঙ্গীবাদ রোধে  তৃণমূল অর্থাৎ ইউনিয়ন পয্যায় থেকে জঙ্গীবিরোধী ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বস্তরের জনগনকে নিয়ে কমিটি করার নির্দেশনা দিয়েছেন। জঙ্গীরোধ করে উন্নয়ন অগ্রগতির চাকাকে সচল রাখতে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রয়াস গ্রহন করেছেন।
 
       অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী মুলধারার রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে যথাপোযুক্ত সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে পেরেছেন জাতির জনকের কন্যা। এটাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল এবং তাঁর নেতার দায়িত্ব এবং কর্তব্য ছিল। তিনি তাই করেছেন।

     সরকারি দলের অন্যান্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ঘোষনার মত প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষনাও যদি শুধু ঘোষনায় সীমাবদ্ধ রাখেন আওয়ামী নেতারা, তাহলে জাতীয় জীবনে আবারও নেমে আসবে ঘোর অন্ধকারের অমানিশা। জেলা উপজেলা পয্যায়ের নেতাদের মনে রাখতে হবে চলমান ষড়যন্ত্র পুর্বের ষড়যন্ত্রের চাইতে চারিত্রিক বৈশিষ্ঠগত দিক থেকে একেবারেই ভিন্ন। পুর্বেকার ষড়যন্ত্র গুলী ছিল বলপ্রয়োগে ক্ষমতা দখল করার নিমিত্তে পরিবেশ সৃষ্টি করার অপকৌশল। এবারকার ষড়যন্ত্রের রুপ হচ্ছে মেধার ভিত্তিতে রাজপথে,  রাজনীতিতে, নির্বাচনে ফিরে আসার কৌশল। জাতীয়তাবাদের দ্বান্ধিকতাকে কাজে লাগিয়ে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত করা। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অর্থই হচ্ছে জঙ্গী উত্থানকে ত্বরান্বিত করা। জঙ্গী উত্থান নিশ্চিত হওয়ার অর্থই হচ্ছে অকাতরে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিস্বাসী লেখক সাহিত্যিক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতাদের জীবনহানী, সম্পদ বিনষ্ট।দেশ ও জাতিকে নিয়ে যাওয়া অন্ধকার যুগের পাকিস্তানী ধারায়।

    পরিশেষে বলতে চাই, পাওয়া না পাওয়ার ক্ষোভ দু:খ্যকে ভুলে গিয়ে জাতির এই চরম সংকট কালে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের দগতভাবে জনগনের দ্বারে দ্বারে গিয়ে জঙ্গী উত্থানের কুফল সম্পর্কে বলতে হবে। সমাজের সকলকে জঙ্গীরোধে সামিল করার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।এরই মধ্যে যে সমস্ত নেতৃবর্গ দল ও জনগনের উপর প্রভুত্ব কায়েম করেছেন, তাঁরাও প্রভুত্ববাদ ভুলে জনগনের সঙ্গে মিশে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে প্রভুত্ববাদ, কতৃত্ববাদ গনতন্ত্রে বিজয়ী করতে পারেনা। জনগনই বিজয়ী করার একমাত্র মালিক। সুতারাং জঙ্গীবিরোধী এই গুরুত্বপুর্ণ ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে জনগনের সঙ্গে মেশার বড় সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। দেশ, জাতি, জনগনের ক্ষতির পাল্লাভারী করবেন না।কারন আওয়ামী লীগ মেহনতি মানুষের প্রানের সংগঠন।

    আওয়ামী লীগের তৃনমুলে জঙ্গীরোধের কায্যক্রমের সফলতার উপর নির্ভর করবে উল্লেখীত ষড়যন্ত্রীদের সফলতা বি-ফলতা। উল্লেখীত ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে  জাতির জনকের কন্যার উন্নয়ন অগ্রগতির ধারাকে সচল রাখতে পারলেই জাতির জনকের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার আক্ষাংকা বাস্তবে রুপায়িত হবে।গড়ে উঠবে  সুখী, সমৃদ্ধশালী, উন্নত, বিজ্ঞান ভিত্তিক সমাজ, জাতি পাবে সমৃদ্ধ, উন্নত দেশ।

            'জয়বাংলা     জয়বঙ্গবন্ধু'

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg