জঙ্গী নির্মূলে সর্বাজ্ঞে প্রয়োজন জঙ্গীর উৎমুখে পাথর ঢালাই বাঁধ নির্মান--অন্য কোন উপায় কায্যকর হবেনা।

জঙ্গী উত্থান রোধে প্রয়োজন উৎসমুখে পাথর ঢালাই বাঁধ নির্মাণ- অন্যকোন উপায় সম্ভব নয়।
    ________________________________
   
    জঙ্গি উত্থান রোধে বাংলাদেশ সরকার,  সরকারি দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এবং তাঁদের জোট ১৪ দলের পক্ষ থেকে যুগৎপৎ কর্মসূচি ঘোষিত হয়েছে, পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়।
         সরকারের প্রশাসন যন্ত্রে দীর্ঘ ৪০বছরে নিয়োগ পাওয়া জামায়াত শিবিরের অনুসারীদের রেখে এবং জঙ্গির উৎসমুখ খোলা রেখে সরকার জঙ্গিবাদ নির্মুলে কতটুকু সফল হবে ভবিষ্যতেই তা বলে দেবে।
    জঙ্গীদমনের একমাত্র আইনী সংস্থা বাংলাদেশ পুলিশ। আর পুলিশেই বিদ্যমান রয়ে গেছে জামায়াত শিবিরের ক্যাডার জোট সরকার খমতায় বিদ্যমান থাকাবস্থায় পত্র পত্রিকায় আলোড়ন সৃষ্টিকারি নিয়োগ পাওয়া হাজার হাজার পুলিশ কর্মকর্তা।নামমাত্র বিসিএসে অংশ নেয়া হাজার হাজার শিবিরকর্মী প্রশাসনের সর্বস্তরে বর্তমানেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সরকারের অনেক মন্ত্রীর আত্মীয়তার সুবাদে ঐ সমস্ত কর্মকর্তাদের এখন পয্যন্ত চিহ্নিত করাই সম্ভব হয়নি। চার শত  ষাট উপজেলায় তৎসংখ্যক উপজেলা  নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগের বিরুদ্ধেও অদ্যাবদি কোন সরকারি শুদ্ধি অভিযান দুরে থাকুক, চিহ্নিতকরন প্রক্রিয়াও গ্রহন করা  হয়নি। সুতারাং সরকারের শতভাগ আন্তরীকতা বিদ্যমান থাকলেও জঙ্গী ঊত্থানের সরকারি প্রচেষ্টা ব্যার্থতায় পয্যবসিত হবে ভবিষ্যতবাণী করার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করিনা।
 বাংলাদেশে এমন একটি বেসরকারি অর্থাৎ সরকারের  নিয়ন্ত্রহীন শিক্ষা মাধ্যম গড়ে উঠেছে, যে শিক্ষাব্যবস্থাটি ইসলামের উৎসকেন্দ্র খোদ সৌদী আরবেও নেই।সভ্য সমাজে বা বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রন বহির্ভুত কোন সংস্থা বা শিক্ষাব্যবস্থা থাকতে পারে এটা ভাবাও যায়না।কিন্তু এই ধরনের একটা অলস শিক্ষা মাধ্যম গ্রামে গঞ্জে বেঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে অশুভ শক্তি জাতির জনকের হত্যাকারিদের  সুদুরপ্রসারী চিন্তাচেতনার আলোকে।  এই প্রতিষ্ঠানটির সৃষ্টির উদ্দেশ্যই হচ্ছে সাধারন বাঙালী মসুলমানদের ধর্মের বহিরাবরনের চাকচিক্যে ধর্মীয় উর্ম্মাদনায় আসক্ত করার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে।মুলত: তাঁরা ওয়াহাবী ভাবধারায় বিশ্বাসী হিসেবে প্রচন্ড ধর্মীয় গোঁড়ামীতে পরিপূর্ন। নবী করীম (স:) তাঁর জীবদ্দশায় তাঁদের সম্পর্কে সাহাবীদের সতর্ক করে দিয়ে গিয়েছিলেন।অল্প সময়ের মধ্যেই এই শিক্ষা মাধ্যমটি  কওমী মাদ্রাসা রুপে বিস্তার লাভ করেছে বাংলাদেশে। এরা মুলত: ইরানের শিয়া অনুসারীদের নেতা আয়াতুল্লা খোমেনীর ইসলামী বিপ্লবকে অনুসরন করে বাংলাদেশেও ইসলামী বিপ্লব ঘটিয়ে ওয়াহাবী ভাবধারার ইসলাম কায়েম করার আদর্শ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
    আর একটি শিক্ষা মাধ্যম জামায়াতের উদর থেকে কৌশলে  গ্রামগঞ্জে বিস্তার লাভ করেছে কিন্ডার গার্টেন নামে।শিশুকালে মগজ ধোলাই করে দেয়ার কারখানা এবং নীজ দলীয় কর্মীদের কর্মসংস্থান ও দলের অর্থ যোগান পাওয়ার সুদুরপ্রসারী চিন্তার আলোকে এই প্রতিষ্ঠানটি সৃষ্টি করা হয়েছে। ইসলামী সমাজ কল্যান সংস্থার আদলে আর একটি বিভ্রান্তিকর প্রতারনা মুলক শিক্ষা মাধ্যম হল কিন্ডার গার্টেন।যে শিক্ষা মাধ্যমে ছাত্র/ছাত্রীদের বহিরাবরনের চাকচিক্যে অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করে উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের শ্রেষ্ঠ একটি কৌশল। মুলত: স্বল্প শিক্ষিত মেধাশুন্য ইন্টামেডিয়েট, ডিগ্রি পাশ শিবির নেতাকর্মীদের কর্মসংস্থানের একটি উপযুক্ত মাধ্যম হচ্ছে জামায়াতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিন্ডার গার্টেন। প্রশিক্ষনহীন মেধাশুন্য শিক্ষকদের দ্বারা শিক্ষা কায্যক্রম চালু রেখে স্মার্টনেসকে প্রাধান্য দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিনব উপায়।সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষালয় বিদ্যমান থাকাবস্থায় নিয়ন্ত্রনহীন এই শিক্ষা ব্যবস্থাটিও দেশে নির্বিঘ্নে শিক্ষা কায্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
    আর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যায়বাহুল্যতার কারনে উচ্চবিত্ত নব্যধনীদের প্রচন্ডভাবে আকর্ষন করতে সক্ষম হয়েছে। এই সমস্ত প্রতিষ্ঠান ধনীদের অহমিকা প্রকাশের উপযুক্ত করে গড়ে তুলেছে জামায়াতি ইসলাম।ব্যায়বহুল এই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে উপলক্ষ করে আবার তাঁরাই গড়ে তুলেছে প্রতারনার আর একটি ফাঁদ বিভিন্ন বাহারি নামের কোচিং সেন্টার।এই সমস্ত শিক্ষালয়ে বাঙ্গালী জাতীয়তাবোধ, কৃষ্টি, সংস্কৃতিতে উদ্ভোদ্ধ করার কোন উপকরন রাখা হয়নি।বাংলাদেশের 'জাতীয় সঙ্গীত' যাহা কর্মস্থলের কাজ শুরুর আগে পরিবেশন করা বাধ্যতা মূলক জাতীয় 'সঙ্গীত' সেই জাতীয় সঙ্গীতও পরিবেশন করা হয়না।সুতারাং যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেশপ্রেমে জাগ্রত করার ন্যায় কোন পাঠ্যসূচি অন্তভুক্ত নেই সে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছেলে মেয়েদের জাতী, দেশ, জনগন সম্মন্ধে ধারনা বা আন্তরীকতা আছে কল্পনা করা বাতুলতা মাত্র।জাতি, ধর্ম,দেশকে  ধ্বংস করার কাজে তাঁদের উদ্ভোদ্ধ করা অশুভ শক্তির খুব কঠিন কাজ হবে কেন?তাছাড়া জাতীকে শোষন করা এই সমস্ত ধনীদের কর্মব্যাস্ততা, টাকার অহমিকায় ডালিং-ফার্লিং নিয়ে ঘন ঘন বিদেশ ভ্রমনের কারনে তাঁদের ঔরষজাত দুলারীরা পিতা- মাতার আদর স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে একপ্রকার বিষন্নতায়ও ভোগে। অশুভ শক্তি তাঁদের এই বিষন্নতাকে ধর্মের আফিমে গলাধ:করন করিয়ে অনায়াসে বিপদগামী করে তোলে।
    সুতারাং এই ত্রিধারার উৎসমুখে শক্ত পাথর ঢালাই না দিয়ে জঙ্গী উত্থান রোধ কতটুকু সফলকাম হবে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের ভাববার বিষয় আছে বলে আমি মনে করি।
      বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে বিলম্বে হলেও জেলা উপজেলায় জঙ্গিবাদ নির্মুলে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে।জেলা উপজেলা নেতৃবৃন্দ কতটুকু গুরুত্বের সঙ্গে কমিটি গঠনের নির্দেশ পালন করবে সময়েই তা বলে দেবে। বর্তমান রাজনীতিতে জনসম্পৃত্ত নেতৃত্বের সংকটকালে এইরুপ নির্দেশ পালিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকার কথা নয়। অনেক জেলা উপজেলায় পালিত হবেনা  তা আগাম বলা যায়।অনেক জেলায় উক্ত নির্দেশ পালন করা হলেও যথাযথভাবে কেন্দ্র ঘোষিত  কর্মসূচি সমুহ পালিত হবেনা তাও বলা যেতে পারে।নেতারা বর্তমানে ছাত্রলীগের ননামধারি অছাত্রলীগ সন্ত্রাসী কর্মীবাহিনী এবং পুলিশ বেষ্টনীতে চলাফেরা করতে বেশী পছন্দ করেন,জনগনের মাঝে চলতে তাঁদের সম্মান, ব্যাক্তিত্ব, রাজনৈতিক পদের মুল্যায়নে ব্যাঘাত হয়।
     কারন আওয়ামী লীগের তৃনমুলের নেতৃবৃন্দ জঙ্গি উত্থান রোধে যথাযথ মনোযোগি হলে জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী কোন সংগঠনের বিস্তৃতি লাভ করার কোন কারনই ছিলনা।
   বিষয়টি আরও পরিস্কার করে বলতে গেলে অনেকেই আমার উপর নাখোষ হতে পারেন। তারপরেও বলা প্রয়োজন দেশ ও জাতির স্বার্থে।আমরা প্রত্যেকটি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী জানি আমার এলাকায় কে জামায়াত শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল এবং অনেক দিন থেকে অনেক প্রতিবেশী জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীকে এলাকায় দেখা যায়না।আমরা কি খোঁজ নিয়ে দেখেছি বা জানতে চেয়েছি  ঐ শিবিরের দুর্দষ্য ক্যাডার বর্তমানে কোথায়? সময় কোথায় আমাদের,প্রতিযোগীতার রাজনীতি, প্রভুত্বের নেতৃত্ব,দখলবাজির প্রতিযোগীতা, টেন্ডারবাজীর কৌশল আয়ত্ত করাতেই সময় চলে যায়, খোঁজ খবর করার সময় কোথায়? খোঁজ খবর নেয়ার সময়ের যেখানে এত অভাব-সেখানে কমিটি গঠন, জনগনকে সম্পৃত্ত করার সময় থাকার কথা নয় অবশ্যই। সুতারাং আওয়ামী লীগের নেয়া জঙ্গী পপ্রতিরোধের উদ্যোগ যে ব্যর্থ হবে বুঝিয়ে বলার কি প্রয়োজন  আছে? দেখাযাক কিছুদিন পরইতো দেখব সফলতা, ব্যার্থতা।
               হাস্যকর বিষয় হলেও অশুভশক্তির পৃষ্টপোষকতাকারীদের মুখে ইদানিং জোরেসোরে জাতীয় ঐক্যের আহব্বান শুনা যাচ্ছে।তাঁদের এই জাতীয় ঐক্যের আহব্বান আগুন সন্ত্রাসের কারনে, দেশধ্বংস করার আন্দোলনের কারনে জনগন থেকে তাঁরা বিচ্ছিন্ন। তাঁদের সেই জনবিচ্ছিন্নতাকে ঢেকে- আবার জনগনের মাঝে ফিরে আসার 'জাতীয় ঐক্যের আহব্বান' অভিনব ফঁন্দি ছাড়া আর কিছুই নয়।  
    দীর্ঘবছর      নানা কৌশল অবলম্বন করেও তাঁরা জনগনের মাঝে ফিরে আসতে পারেনি।গড়ে তুলতে পারেনি আন্দোলনের প্রাথমিক ধারা।রোপন করতে পারেনি আন্দোলনের বীজ।রাজপথ একেবারেই ফাঁকা।বিদেশী রাষ্ট্র প্রধানদের চিঠি দিয়ে এই সরকারের পদত্যাগের জন্য চাপ সৃষ্টির অনুরুধ অন্যদিকে ছাগল চুরিতেও সরকারের পদত্যাগের আহব্বান হরহামেসা যাদের মুখে তাঁরা আবার সেই মুখেই জাতীয় ঐক্যের আহব্বান কতবড় প্রতারনা চিন্তার উদ্রেক করা প্রতিটি নাগরিকের প্রয়োজন। অশুভ শক্তির আধাঁর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গত্যাগ না করে তাঁদের 'জাতীয় ঐক্যের আহব্বান কতটুকু বাস্তব সম্মত বিশ্লেষনের জন্য রাজনৈতিক বিশ্লেষক হওয়ার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না।
   এই অশুভ শক্তির প্রতিরোধে অবশ্যই প্রয়োজন আছে জাতীয় ঐক্যসাধনের। প্রয়োজন আছে সেই ধরনেরই জাতীয় ঐক্যের, যে ঐক্যে অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার অটুট বন্ধন আত্মস্থ করেই মানুষ প্রচণ্ডভাবে দমন করবে অপশক্তির তীব্রতাকে। উপরে উল্লেখীত এই শিক্ষা এবং চেতনা পারিবারিক পর্যায়ে কিংবা শিক্ষাঙ্গনে কখনোই যেন বড়  হয়ে না দাঁড়ায়- আগে মুসলমান পরে মানুষ! জেনে রাখা উত্তম, 'ইসলামই  পৃথিবীর একমাত্র যুগ উপযোগী, সবচেয়ে বড়, আধুনিক, সাম্যের, মানবতার, নিরপেক্ষতায় শ্রেষ্ঠ ধর্ম। বর্বর হায়েনাদের কারনে আজকে এই মহৎ ধর্ম কলুষিত হচ্ছে,বিতর্কিত হচ্ছে বিশ্বজুড়ে।
     কোরাণে ঘোষিত সাম্য ও মানবতাবাদের মুসলমান হতে চাইলে আইসিস, আলকায়েদা, হামাস, ওয়াহাবী, হেফাজতের উৎসস্থলে পাথর ঢালাই দিয়ে অত্র অঞ্চলের   মসুলমানদের তাঁদের থেকে  বন্ধন মুিক্ত ঘটাতে হবে। নচেৎ কোনোদিনই ঘটবে না সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় জীবন থেকে জঙ্গীবাদের উত্থানরোধ। ধর্মকেও একসময়ে হয়ত রাষ্ট্রধর্ম বানিয়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। সার্বজনীন এই মহান ধর্ম তখন শুধুমাত্র মসুলমানদের একমাত্র অনুসরনযোগ্য, মসুলমানদের জীবনাদর্শে প্রয়োগযোগ্য ধর্ম হিসেবেই বিবেচিত হবে।যাহা কোন মসুলমানের কাম্য হতে পারেনা।
তখন মুক্তমনা ব্লুগাররা নৃশংসতম উপায়ে নিহত হলেও বলতে হবে বাধ্য হয়ে- হত্যা করেছে।ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করা চলবে না! সমাজের দুষ্ট জঞ্জালরা ক্রসফায়ারে নিহত হলে পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে যতবড় তীব্র রেষের ধিক্কার উঠবে ততখানি ধিক্কার খুনি অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিধ্বনিত হবে না কখনোই।
    আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন লেখক,সাহিত্যিক, সংস্কৃতি কর্মী,নেতা, বুদ্ধিজীবি একদিনে সৃষ্টি হয়না।পাঁছ দশ বছরের সাধনায় একজন লেখকের লেখা সর্বসাধারনে গ্রহন যোগ্য সুপাঠ্য হয়না। অন্যকোন সরকারের সময়ে তাঁদের হত্যার প্রয়োজন না হলেও এখন কেন প্রয়োজন হল? আমাদের আরো মনে রাখা প্রয়োজন -"কারা ক্ষমতায় থাকলে বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে পুলিশ প্রহরায় স্বসস্ত্র মিছিল হয় প্রকাশ্য রাজপথে।কারা ক্ষমতায় থাকলে রাজপথ কাঁপানো আওয়াজ শুনা যায়, বাংলা হবে আফগান। কারা ক্ষমতার মসনদে থাকলে একযোগে ৬৬জেলায় বোমা ফুঁটিয়ে জানান দিতে পারে-আমরা আসছি।কারা ক্ষমতায় থাকলে জাতির জনকের কন্যাকে হত্যার জন্য লাখ লাখ মানুষের জনসভায় বোমা গুলী বৃষ্টি হতে পারে।"
    ""তাঁদেরকে সঙ্গে রেখে জাতীয় ঐক্য!! ""
                'জয়বাংলা        জয়বঙ্গবন্ধু'

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

ছবি

বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গব্বন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।===<=========================১৯৭২ ইং ১০ই জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্হানের কারাগার থেকে মুক্তিপেয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন।সাম্রাজ্যবাদি এবং তাঁদের এদেশীয় দোষর চক্র প্রমাদ গুনলেন। মুক্তি দেয়ার আগে জনাব ভূট্রু বিভিন্ন ভাবে বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং তাদের এদেশীয় দালালদের সাথে কমপক্ষে একটা কনফেডারেশন গঠন করার যে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন।জেল গেটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাথে দেখাও করেননি।পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বিদায়লগ্নে সাংবাদিকদের এহেন এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্কার ভাবে বলে দিলেন,আমার বাঙ্গালী ভাইদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই মুহুর্তে কোন মন্তব্য আমি করতে পারি না।তাঁর আগে ইয়াহিয়া বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে ৬দফার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধকে নমনীয় করতে না পেরে সাজানো বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে ফাঁসির আদেশ দিলেন।সেনাবাহিনীর বদৌলতে ভুট্রু ক্ষমতায় আসার আগে ইয়াহিয়া সেই ফাঁসীর আদেশে শেষ অনুমোদনের সই করে দিতে পেরেছিলেন ফাসি দেয়ার সময় পাননি।এবার তারা নতুন ভাবে চক কষতে থাকে। কি করে জাতীর জনকের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টি করা যায়। যেমন ভাবনা তেমন করে শুরু হল নতুন আঙ্গিকে ষড়যন্ত্র। যুগে যুগে পরাধিন থাকা জাতি কি করে স্বাধীনতার স্বাদ বা মর্ম বুঝবে।হাজার বছর বিভিন্ন জাতি গুষ্টির শাসন শোষনে আমাদের অস্থি মজ্জাতো আগেই বিজাতীয় ভাব ধারায় পরিপুষ্ট হয়ে আছে। লোকবল সৃষ্টি করতে তাদের আর দেরী কেন। বঙ্গ বন্ধুর স্নেহভাজন চার খলিফার মধ্য হতে দুই খলিফা , বঙ্গবন্ধুর যাদের পুত্রের মত স্নেহ করতেন,মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম সিপাহশালার এম,এ জলিল সহ আরও কতেক মুক্তি যোদ্ধাকে তারা বঙ্গবন্ধু থেকে আলাদা করতে সক্ষম হলেন।বৈজ্ঞানীক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে তারা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠন করেন।"(এখানে একটা কথা বলে রাখি, সমাজ তন্ত্রের দর্শনতো বিজ্ঞান ভিত্তিক--আবার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কি? লাল পতাকাকে লাল পতাকা দিয়ে ঠেকানোর কৌশল)"শুরুতে গুটি কয়েক হলে কি হবে,অচিরে দলটি বিপ্লবী স্লোগানের কারনে, তরুনদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। দেশের বৃহৎ একটা যুবক শ্রেনী আ,স,ম রব ও শাহাজাহান সিরাজের(দাদা ভাই) কারনে নতুন দলে ভিড়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদী চক্র তাদের দাবার গুটি চালাতে আর দেরী করেনি। তাদের পুরাতন বন্ধু রাজাকার, আলবদর,আলশামস্, মুসলিম লীগের ঝানু নেতা,তল্পিবাহক বুদ্ধি বেশ্যাদের কৌশলে নতুন দলের সাথে একিভুত করে দিতে সক্ষম হয়। অচিরেই নতুন জম্ম নেয়া দলটি মহিরুহ আকার ধারন করে। নতুন দলের নতুন নেতা তো খুশিতে আটখানা। এই বুঝি সরকারের পতন ঘটিয়ে নিজেরাই সরকার গঠন করছে। বয়সের কারনে হোক বা রাজনৈতীক অনবিজ্ঞতার কারনে হোক, বুঝতেই পারেনি দেশ ও জনগনের তারা কতবড় ক্ষতি করছে। মুল নেতৃত্ব সবাই মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি যোদ্ধের চেতনা ধারনকারি মনেপ্রানে।এতে কোন সন্দেহ নাই।মূল সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট মেজর জলিল।সাম্রাজ্যবাদী চক্র এবং পরাজিত শত্রুদের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই।জাসদ ক্ষমতায় যাক তারও প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন জাতির জনকের ভাবমূর্তি দেশে বিদেশে ক্ষুন্ন করে, দেশে অরাজক পরিস্হিতি তৈরী করে ,তাদের বিশ্বস্হ মীর জাপরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, বাংলাদেশকে তাঁদের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিনত করা। রব জলিলদের ক্ষমতায় বসানো নয়। তাঁদের চক অনুযায়ী জাসদ রাজনৈতীক শক্তি হিসাবে মাঠে থেকে তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি পালন করবে।বিচ্ছিন্নতা বাদীরা দেশব্যাপি এলাকা ভিত্তিক জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের, শ্রনী শত্রু খতমের নামে হত্যা করবে।এই দায়িত্ব গ্রহন করে সিরাজ শিকদার,তোহা,আবদুল হক নিশিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাসদের নতুন সৃষ্ট গনবাহিনী।রাজাকার, আলবদর বাহীনি সারা দেশে লুটতরাজ,পাটের গুদামে আগুন,নাশকতা,ডাকাতি ইত্যাদি অপকর্ম করে জনজীবন অতিষ্ট করবে, জাসদ হঠকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বংগবন্ধুকে কঠোর প্রসাশনিক সিন্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে। সেনা বাহিনির একটা ক্ষুদ্র অংশ সুযোগ বুঝে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। জাসদ সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য। গনবাহিনী গঠন করে হাতে অস্র তুলে দিল।রাজাকারেরা লুটপাট শুরু করে দিল,বুদ্ধি বেশ্যারা অপপ্রচার শুরু করে দিল,।আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা মীর জাফরেরা খমতায় বসার জন্য ষডযন্ত্র অব্যাহত রাখলো। সেনাবাহিনী সকল শৃংখলা বঙ্গ করে ষডযন্ত্রে লিপ্ত হলো।সেনাবাহিনীর প্রধান সফি উল্লা এবং ডেপুটি চীপ মেজর জিয়া সব দেখেও না দেখার অভিনয় করে চলেছেন।বিশ্ব রাজনীতির জাদুকর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদী কুচক্রের রাজনৈতীক অভিলাস বুঝতে সামান্যতম বেগ পেতে হয়নি। তিনি যেমনি ভাবে যুদ্ধ বিধস্হ দেশকে পুর্নগঠনের জন্য দেশের শাসন ভার হাতে নিয়েই সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়ে কৃষি প্রধান দেশকে স্বনির্ভর করার প্রয়াস নিয়েছিলেন তেমনি ভাবে দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে চিরতরে নির্মুল করার মানষে এবার দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিলেন। এতে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র কারিরা প্রমাদ গুনলেন।তারা বুঝতে দেরী করেন নাই বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে কি সংকেত দিতে চেয়েছেন। জাতীর জনক বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধিনতা বিরোধী শক্তিকে শুধু রাজনৈতিক ভাবে বা নৈতিক ভাবে পরাজিত করলেই হবেনা, এদের চিরতরে নিচ্ছিন্ন না করলে যখনি তাঁরা সুযোগ পাবে বিষধর সর্পের ন্যায় ফনাতুলে দাঁড়াবে। তারা বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি,ভবিষ্যতেও নিবে না। পদে পদে বাংলাদেশেকে বিপদের সম্মুখিন করছে ভবিষ্যতে ও করতে থাকবে। এদের ছোবল থেকে রক্ষা করতে না পারলে বাংলা দেশের অস্হিত্বই তাঁরা বিলীন করে দেবে।জাতীর জনক দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে বসে রইলেন না। তিনি প্রথমেই জাতীয় ঐক্যের দিকে মনোযোগ দিলেন। দেশের সকল শ্রেনীর কৃষক,মজুর,পেশাজীবি, সাংবাদিক,শ্রমিক কুলি সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে এক কাতারে আনার জন্য একটা জাতীয় প্লাটফমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।যেই ভাবা সেই কাজ।তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পোষিত আকাঙ্ক্ষা বাঙ্গলী জাতীর অর্থনৈতিক মুক্তি সনদ মৌলিক গনতান্ত্রিক সমাজ তন্ত্রের দর্শন।পশ্চিমা শোষনের গনতন্ত্র নয় আবার সৌভিয়েত ইউনিয়নের সমাজ তান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নয়।পরিপক্ষ রাজনীতিবিদের পোষন করা একান্ত নিজস্ব মতবাদ।তিনি জানতেন সংখ্যা গরীষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের আলোকে দেশ শাষনের নীতি না হলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।তাই তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়কার নির্বাচনী রীতিকে সামান্য পরিবর্তন করে "বৈঠকের স্থলে ব্যালটের" মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান গ্রহন করেন।তৎকালীন অব্জারভার পত্রিকা তাঁর এই নতুন নীতির নাম দিলেন (বাকশাল) বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। সব রাজনৈতিক দল শ্রমজীবি পেশাজীবি ব্যক্তি ও সংগঠনকে নিয়ে গঠন করলেন ""বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামক জাতীয় দল সংক্ষেপে বাকশাল""। উদ্দেশ্য(১)স্বাধীনতা বিরুধী রাজাকার আলবদরের রাজনৈতিক উত্থানের উৎসমুখ চিরতরে বন্ধ করে সমাজ থেকে নিচ্ছিন্ন করা। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভবিষ্যত প্রজম্মের পথ মসৃন করা(২)সাম্রাজ্য বাদের কালো হাতকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে শোষন মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকারের পথে বাঁধা অপসারন(৩) সকল ধর্মের জন্য সমান সুযোগ দিয়ে স্ব স্ব ধর্ম পালনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা।(৪) ব্যক্তি মালিকানার বড় বড় শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, জাতীয়করন করে জনগনের সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করা। জনগনের মালিকানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা(৫) রাজনীতিকে এলিট শ্রেনীর কবল থেকে মুক্ত করে স্ব-স্ব শ্রেনী ও পেশা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সকল জনগোষ্টিকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতার অংশিদারিত্ব প্রদান করে প্রভুত্ব বাদী রাজনীতির চির অবসান করা। (৬)তৃনমুল পয্যায় প্রশাসনিক বিকন্দ্রিকরনের মাধ্যমে সম্পদের সুসম বন্টন নিচ্ছিত কল্পে প্রতিটি জেলায় নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা চালু করা।প্রশাসনকে জনগনের দৌড়্গোড়ায় নিয়ে এসে, সকল সরকারি সেবা, উন্নয়ন নিচ্ছিত করা।(৭)দেশের সকল কল কারখানা সেতু ব্রিজ রাস্তা ঘাট পুনগঠন পূননির্মান,নির্মান ওমেরামত করে অথনৈতিক চাকা সচল করা। স্বল্প সময়ে স্বাবলম্বি অর্থনীতি অর্জন। (৮) আটক যুদ্ধ অপরাধিদের বিচার কাজ বাধাহীন করে, পলাতক যুদ্ধ অপরাধিদের খুজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।(৯) ভোগ নয় ত্যাগের মহিমায় জাতিকে উৎবুদ্ধ করে আত্ম নির্ভর শীল বাংলা দেশ গঠন। (১০)জমির মালিকানা স্ব-স্ব মালিকের নিকট রেখে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদের ব্যাবস্থা করা,উদ্দেশ্য সমাজের প্রত্যেক কর্মক্ষম মানুষকে উৎপাদনে শরিক করে দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত এগিয়ে নেয়া। তিনি তাঁর একাদিক বক্তৃতা বিবৃতিতে "বাকশাল একটি সাময়িক ব্যবস্থা"বলে উল্লেখ করেছেন।সংবিধানের আলোকে সবাই মিলে দেশ শাষনের নীতি জাতীয় দল বাকশাল।তিনি একাদিক বার বলেছেন,আর নয় দলবাজি,এবার সবাই মিলে দেশ গড়ার পালা।দেশের উন্নতি হলে সবাই রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। দলে দলে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য হুমড়িখেয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে ৩২নম্বরে লাইন ধরে যোগ দিয়ে এলেন।নাটের গুরু জিয়া চিঠি দিয়ে আমলাদের বাকশালে যোগ দেয়ার আহব্বান জানালেন।তিনি নিজেও যোগ দিয়েছেন চিঠিতে উল্লেখ করলেন। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যা করে ঘাতকেরা বাংলার মাটি থেকে তাঁর নাম-নিশানা, আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঘাতকের ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত জাতির পিতা আজ জীবন্ত। প্রতিটি বাঙালির হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন। তিনি সার্বজনীন। তিনি অমর। তিনি আমাদের জাতির জনক।জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ আসলেই বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায়নি, আর দাবায়ে রাখা যাবেও না। পদে পদে সে চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বাংলার শত্রুদের জেনে রাখা প্রয়োজন আমাদেরকে দাবায়ে রাখার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক পথ পাড়ি দিয়ে একটি অগ্রসরমান জাতিতে পরিণত হয়েছি। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা তরুণ প্রজন্ম একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ। "" জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু জয়তু দেশরত্ম শেখহাসিনা"

মুখস্ত বিদ্যার অর্থই হল, জোর করে গেলানো---- লিখেছেন--Nipa Das ________________________________________________ দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে প্রমথ চৌধুরীর " বই পড়া " নামক একটা প্রবন্ধ রয়েছে ! প্রবন্ধ টিতে মুখস্থ বিদ্যার কুফল তুলে ধরা হয়েছিল , সেখানে বলা হয়েছিল , পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , পাঠ্যবই মুখস্থ করে পাস করে শিক্ষিত হওয়া যায় না , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অনেক কিছু শেখার আছে ! আমি সবসময় এই প্রবন্ধটা পড়তাম ! এই প্রবন্ধটি আমার প্রিয় ছিল কারণ এতে আমার মনের কথাগুলো উল্লেখ করা ছিল ! মুখস্থ বিদ্যা সম্পর্কে আমি একটা উদাহরণ দিতে চাই -- মুখস্থ বিদ্যা মানে শিক্ষার্থীদের বিদ্যা গেলানো হয় , তারা তা জীর্ণ করতে পারুক আর না পারুক ! এর ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক মন্দাগ্নিতে জীর্ণ শক্তি হীন হয়ে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে ! উদাহরণ :: আমাদের সমাজে এমন অনেক মা আছেন যারা শিশু সন্তানকে ক্রমান্বয়ে গরুর দুধ গেলানোটাই শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষার ও বলবৃদ্ধির উপায় মনে করেন ! কিন্তু দুধের উপকারিতা যে ভোক্তার হজম করবার শক্তির ওপর নির্ভর করে তা মা জননীরা বুঝতে নারাজ ! তাদের বিশ্বাস দুধ পেটে গেলেই উপকার হবে ! তা হজম হোক আর না হোক ! আর যদি শিশু দুধ গিলতে আপত্তি করে তাহলে ঐ শিশু বেয়াদব , সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ! আমাদের স্কুল - কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ঠিক এরকম , শিক্ষার্থীরা মুখস্থ বিদ্যা হজম করতে পারুক আর না পারুক , কিন্তু শিক্ষক তা গেলাবেই ! তবে মাতা এবং শিক্ষক দুজনের উদ্দেশ্যেই কিন্তু সাধু , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ! সবাই ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দিতে ব্যস্ত , পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে শেখার অনেক কিছু আছে তা জেনেও , শিক্ষার্থীদের তা অর্জনে উৎসাহিত করে না , কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষা অর্থ অর্জনে সাহায্য করে না , তাই পাঠ্যবইয়ের বাইরের শিক্ষার গুরুত্ব নেই ! শুধু পাঠ্যবই পড়ে কেবল একের পর এক ক্লাস পাস করে যাওয়াই শিক্ষা না ! আমরা ভাবি দেশে যত ছেলে পাশ হচ্ছে তত শিক্ষার বিস্তার হচ্ছে ! পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয় , এ সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই ! বিঃদ্রঃ মাছরাঙা টেলিভিশনের সাংবাদিকের জিপিএ ফাইভ নিয়ে প্রতিবেদনের সাথে আমার পোস্টের কোনো সম্পর্ক নেই ! http://maguratimes.com/wp-content/uploads/2016/02/12743837_831291133666492_4253143191499283089_n-600x330.jpg